আজ শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 291

জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কিত একটি সুপরিচিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা

বিশেষ প্রতিবেদক, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কিত একটি সুপরিচিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হলো আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ। রাশিয়ার সোচিতে ১৩-২০ সেপ্টেম্বর এটি অনুষ্টিত হচ্ছে। বাংলাদেশি দল এই প্রথমবার IOCE-তে পাঁচজন তরুণ সদস্য অংশ নিয়েছে। IOCE- হলো বিশ্বমানের একটি প্রতিযোগিতা। এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ নিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করে।

বিশ্বমঞ্চের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের টিম লিডার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফারহান মাসুদ তাসিন। অংশগ্রহণকারী মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর ভাষানটেক সরকারি কলেজের মাহদি বিন ফেরদৌস, বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের তাসিন মোহাম্মাদ, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মোঃ নূর আহমেদ ও চাঁপাই-নবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ আশিকুর রহমান।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বাস্তুবিদ্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে নিজেদের নিমগ্ন করেছেন, বিশ্বব্যাপী গবেষণা থেকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে সহকর্মীদের সাথে চিন্তা-উদ্দীপক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। প্রকল্প উৎসবে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করে। সেখানে তারা অন্যান্য দেশের মেধাবী মনীদের সাথে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের নিষ্ঠার পরিচয় দেয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল : জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন (সিওআই)।

এই গণহত্যায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ অন্য নেতারা উস্কানি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিশন বলেছে গণহারে মানুষকে হত্যা, ত্রাণ প্রবেশে অবরোধ, জোর করে মানুষকে স্থানচ্যুত করা এবং শিশুদের ক্লিনিক ধ্বংসের বিষয়টিকে তারা বিবেচনায় নিয়েছেন। এতে দেখা গেছে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।

তদন্ত কমিশন জাতিসংঘের সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি সংস্থা। এটি জাতিসংঘের হয়ে কোনো কথা বলে না। গাজার গণহত্যা নিয়ে কাজ করায় সংস্থাটিকে নিয়ে ইসরায়েল ব্যাপক সমালোচনা করে থাকে। তদন্ত কমিশনের প্রধান নাভি পিল্লাই বলেছেন, “গাজায় গণহত্যা হচ্ছে এবং গণহত্যা এখনো সংঘটিত হচ্ছে। এসব নৃসংশ অপরাধের দায় ইসরায়েলের সর্বোচ্চ নেতাদের ওপর বর্তায়। যারা গত দুই বছর ধরে একটি গণহত্যার ছক কষেছেন। যেটির বর্তমান নির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো গাজার ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করা।”

ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সেনারা মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থল হামলা শুরু করেছে। ঠিক ওই সময় তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করল। গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দেড় লাখের বেশি বাসিন্দা। ইসরায়েলের বর্বর হামলার কারণে সেখানকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।

ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজার বিভিন্ন জায়গায় দুর্ভিক্ষও দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আলোকিত প্রতিদিন/১৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা টুটুল গ্রেফতার

মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মিঠাপুকুর। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল কবির টুটুলকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল কবির টুটুল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জালাদীপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের আব্দুল ফাত্তাহ’র ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রংপুর নগরীর মর্ডাণ মোড়ে ছাত্র-জনতার উপর সশস্ত্র হামলা ও গুলি বর্ষণের মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল কবির টুটুল ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত দশটায় রংপুর নগরীর আরকে রোড জনতা ক্লিনিকের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

জানা যায়,চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান রেজাউল কবির টুটুল। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। সোমবার রাতে রংপুর মহানগরীর আইডিয়াল মোড় এলাকায় তাকে হাতেনাতে আটক করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ রংপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব তানজিম আলম তাসিম ও মূখ্য সংগঠক মাহমুদুর রহমান লিওনসহ জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

দেবিদ্বারে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয়

নাজমুল হাসান:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিশেষ করে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন চাইছেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সি। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে ১৯৯১, ১৯৯৬–এর ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬–এর ১২ জুন ও ২০০১ সালে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি আবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে চান।

একইসঙ্গে বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতা, সাবেক দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও হংকং বিএনপি শাখার সভাপতি এবং বর্তমান কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ.এম তারেক মুন্সিও এবার দেবিদ্বার থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক মাঠে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে গুছিয়ে রেখেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ করছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পক্ষ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পুনর্বহালের বিরুদ্ধে যখন ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে আসে, তখন হাসনাত ছিলেন “Students Against Discrimination” আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। তার জোরালো নেতৃত্ব, নির্ভীক অবস্থান এবং ছাত্রদের স্বার্থে সরব ভূমিকা দেশব্যাপী তরুণ সমাজকে একত্রিত করে। এই আন্দোলনের ফলে সরকার ব্যাপক চাপে পড়ে এবং গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। এই ঘটনাই হাসনাত আবদুল্লাহকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে আসে।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ থেকেও মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারী ও দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সহিদ দেবিদ্বার আসনে প্রার্থী হতে চান। তিনিও রাজনৈতিক মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করে দলকে গুছিয়ে রেখেছেন।  আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার জেলে গিয়েছেন এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেবিদ্বার সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এবারও একাধিক দলের শীর্ষ নেতারা সরব হওয়ায় আসনটি হাই-প্রোফাইল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলগুলো কাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের রায় কাদের পক্ষে যায়।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে জাহাজ ভাঙা শিল্পের শীর্ষে উঠতে চায় ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বৈশ্বিক জাহাজ ভাঙা শিল্পের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে নামছে ভারত। আর এই খাতে শীর্ষস্থানে থাকা বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে দেশটি।

মূলত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে বাজার ফিরে পেতে জাহাজ ভাঙা খাতে বড় অংকের প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারত। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে এ সুবিধা দেওয়া হবে পরবর্তী দশ বছর ধরে।

১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারত তাদের জাহাজ ভাঙা শিল্পকে চাঙা করতে ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি রুপি প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কাছ থেকে বাজার অংশীদারিত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, এই আর্থিক সুবিধা ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী দশ বছর ধরে দেওয়া হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রস্তাবটি অনুমোদন করতে পারে।

প্রণোদনা প্যাকেজের অধীনে জাহাজ মালিকরা পুরোনো জাহাজ ভারতে নিয়ে এলে স্ক্র্যাপ মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ সমপরিমাণ ক্রেডিট নোট পাবেন। এই নোট তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে এবং ভারতে নির্মিত জাহাজ কিনতে তা ব্যবহার করা যাবে। মালিকরা চাইলে একাধিক নোট একত্রে ব্যবহার করতে পারবেন বা বিক্রিও করতে পারবেন।

এই আর্থিক সহায়তার মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাতে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ভাঙা জাহাজের এক-তৃতীয়াংশ এসেছে ভারতের ভাগে, যেখানে বাংলাদেশ এককভাবে দখলে রেখেছে ৪৬ শতাংশ।

তবে প্রস্তাবিত এই প্রণোদনার বিষয়ে ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো কোনো মন্তব্য করেনি।

এনডিটিভি বলছে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আলাং শিপইয়ার্ডের জন্য বিখ্যাত, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ ভাঙার স্থান। ভারতের জাহাজ ভাঙা ব্যবসার ৯৮ শতাংশই এখান থেকে আসে। কিন্তু সস্তা ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির কারণে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভারতের বাজারের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে।

তবুও সম্প্রতি ব্যবসা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তেলের ট্যাঙ্কার ভাঙা কমে যাওয়ায় দীর্ঘসময় ধরে এই খাত মন্দায় ছিল। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিভিন্ন ধরনের জাহাজের রুট পরিবর্তন ও ভাড়াও বৃদ্ধি পায়। এতে মালিকরা পুরোনো জাহাজের জীবনকাল যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও বলছে, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা সরিয়ে আনতে ভারত তার পূর্ব উপকূলে নতুন একটি জাহাজ ভাঙার ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও করছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চলতি মাসেই ২৫০ বিলিয়ন রুপি সমপরিমাণ সামুদ্রিক উন্নয়ন তহবিল অনুমোদন করতে যাচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণকে উৎসাহিত করা ও বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এর লক্ষ্য।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

দুর্গোৎসব উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত ডেস্ক:

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে মন্দির পরিদর্শনে যান তিনি। মন্দির পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় যোগ দেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিভিন্ন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। এসময় তারা আসন্ন দুর্গাপূজায় উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টাকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে সবসময় দেখা করার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ হয় না। পূজা উপলক্ষে বছরে একবার সামনাসামনি দেখা হয়, কথা বলার সুযোগ হয়।’

এসময় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা। হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ জানান, গতবছরের তুলনায় এ বছর এক হাজারের বেশি পূজা মণ্ডপ বেড়েছে। সারাদেশে পূজামণ্ডপ প্রস্তুতের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সকল পক্ষ থেকে এবারের পূজায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সচিবকে ধন্যবাদ জানান তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

ফজর নামাজ পড়ে নিখোঁজের দুদিন পর ঘিওরে নদী থেকে ইমামের লাশ উদ্ধার

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ফজর নামাজ পড়ে নিখোঁজের দুদিন পর ইমামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে লাশ ক্ষিরাই নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত রফিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহিম ও নারগিস বেগমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম গত এক বছর ধরে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের বৈন্যা প্রসাদ পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত রোববার ভোরে তিনি ফজরের নামাজ পড়ান। তবে যোহরের নামাজের সময় থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর থেকেই স্থানীয়রা ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বৈন্যা প্রসাদ পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি বিল্লাল উদ্দিন বলেন, আমাদের ইমাম সাহেব গত ররিবার ফজরের নামাজ পড়িয়েছেন। কিন্তু যোহরের নামাজে হাজির না হওয়ায় আমরা খোঁজ শুরু করি। আজ সকালে তার লাশ নদীতে ভাসতে দেখি। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) কোহিনূর ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

মিঠাপুকুরে নার্সের বাসায় নিয়ে ডেলিভারি, নবজাতকের মৃত্যু

মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা এক প্রসূতি নারীকে নার্স তার নিজ বাসায় নরমাল ডেলিভারি করার সময় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই নার্সের নাম,দুলালী বেগম। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজ বাড়িতে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াও দুলালী বেগম, মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত থাকায়, তার নিজস্ব সক্রিয় দালাল চক্র রয়েছে। এই দালাল চক্র হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রভাবিত করে হাসপাতাল থেকে ৫০০ গজ দুরে দুলালীর নিজ বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অবৈধভাবে নারীদের গর্ভপাত ঘটানো এবং প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্য পরিক্ষার নামে অর্থনৈতিক লেনদেন সহ ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি করেন। এতে বিভিন্ন সময়ে গর্ভবতী নারী এবং নবজাতকরা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সহ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, নবজাতকের মৃত্যুর ৭/৮ দিন পূর্বেও তারা উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর থেকে, পরিক্ষা নীরিক্ষার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। সেখানে সেদিন কর্তব্যরত নার্স দুলালী বেগম ছিলেন। পরে তিনি ওই নারীর স্বামী রাজু মুন্সিকে বলেন, এক সপ্তাহ পর মাতৃকালীন প্রসব বেদনা উঠলে তার বাসায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি কোনো রকমের সিজার ছাড়ায় বাচ্চা ডেলিভারি করবেন। এদিকে একসপ্তাহ পর, শনিবার সন্ধ্যায় প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠলে স্বজনরা হাসপাতালে যান। সে সময় হাসপাতালে থাকা নার্স দুলালি বেগম, নরমাল ডেলিভারির কথা বলে কৌশলে প্রসূতীকে তার নিজ বাসায় নিয়ে গিয়ে সন্তান প্রসবের চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসা জনিত ঘাটতিতে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে তড়িঘড়ি করে নার্স বিষয়টি ধামাচাপা দেন। ভুক্তভোগীর স্বামী রিয়াজুল ইসলাম রাজু মুন্সি বলেন, আমি জানতাম দুলালী বেগম আগে থেকেই এসব কাজ করেন। কিন্তু আমার বাচ্চাটি মারা যাওয়ার বিষয়টি মানতে পারছি না। ওই সেবিকা বলেছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। আমি কম টাকায় আমার বাড়িতে আপনার স্ত্রীকে নরমাল ডেলিভারি করবো। অভিযুক্ত নার্স দুলালী বেগম বলেন, আমি হাজার হাজার বাচ্চা ডেলিভারি করি। কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। হাসপাতালে যেসমস্ত রোগীরা ভরসা পায়না,তারাও এখানে আসে। আশেপাশের লোকজনকে বলে দেখেন, দিনে কত লোকজন আসে। কেউ কোনোদিন অভিযোগ করেনি। আর এবিষয়টা সমাধান হয়েছে। এখানে অভিযোগের কিছু নেই। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। দুলালী বেগম একজন সিনিয়র নার্স এবং আমাদের স্টাফ। তার দায়িত্ব ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা দেওয়া, প্রসূতিদের সেবা প্রদান করা তার কাজ নয়। উনি বাসায় এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছেন এ বিষয়েও শুনেছি। এটা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। যদি অভিযোগ পাই, অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

সাটুরিয়ায় কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে তারুণ্যের উৎসব

প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ :

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কৃষি ব্যাংক সাটুরিয়া শাখার নিজ কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সাটুরিয়া শাখার ব্যবস্থাপক এম. আই. এ ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন – বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মানিকগঞ্জের মুখ্য অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক তানভীর মেহেদী। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমহাব্যবস্থাপক তানভীর মেহেদী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আর্থিক সেবা গ্রহন করুন। ব্যাংকে হিসাব খুলুন, সঞ্চয় করুন- স্বাবলম্বী হউন। অনুষ্ঠানে নতুন ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তারুণ্যের ভূমিকা তুলে ধরেন। পাশাপাশি মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তারুণ্যের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগী হিসেবে কৃষি ব্যাংকের ভূমিকা ও কর্মপরিধি নিয়েও তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ধারণা দেওয়া হয়। একই সাথে ব্যাংকের যাবতীয় সেবা গ্রহণের জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহবান জানান। আলোচনা শেষে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আর্থিক স্বাক্ষরতা, তারুণ্য, উদ্যোক্তা, টেকসই উন্নয়ন, ব্যাংক ও বিনিয়োগ এক অপরের পরিপূরক ও সহযোগী বলে আলোচনায় তুলে ধরা হয়। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন মিষ্টান্ন তালের বড়া 

মো: আনোয়ার হোসেন:
 তালের বড়ার ইতিহাস গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে গভীর ভাবে জড়িত। এটি মূলত বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি তৈরির মূল উপাদান পাকা তালের রস। তাল দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য সংস্কৃতিতে বহু প্রাচীন। পাল এবং সেন আমলে বাংলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তালের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার শুরু করে। এর মধ্যে তালের বড়া ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্ষার শেষ দিকে (ভাদ্র-আশ্বিন মাসে) তাল পাকার সময় তালের রস সহজলভ্য হওয়ায় এটি দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করাটা গ্রামীণ মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তালের বড়া তৈরীর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়- তালের রস, চালের গুঁড়া /ময়দা, তেল এবং গুড় / চিনি । অতীতে তালের বড়া সাধারণত নবান্ন, পৌষ পার্বণ বা গ্রামীণ মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিত। অতিথি আপ্যায়নেও পরিবেশন করা হতো।
 বর্তমানে তালের বড়া শুধু গ্রামীণ অঞ্চলে নয়, মাঝেমাঝে শহরের দু ‘একটি খাবারের দোকানে চোখে পড়ে। তালের বড়া কেবল একটি খাবার নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ।
 আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে তাল খাওয়ার চল নেই। এ সময় তাল বড় হয় এবং স্বাদ হয় তিতা। ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে তাল পাকা শুরু হয়। তালের স্বাদ ও ঘ্রাণ মন ভরিয়ে দেয়। এর পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য উপকারী ।
তালের ভেষজ গুণ প্রচুর। বলা হয়ে থাকে- পাকা তাল ঘুম, মূত্র, রক্ত, কফ ও পিত্তবর্ধক। পাকা তালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদান হলো-ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও প্রাকৃতিক চিনি  ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা শরীরে শক্তি জোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বর্তমানে নানা কারণে বাড়িতে আর এ মিষ্টান্নটি তৈরি করা সম্ভব হয় না। তবে  নবীনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে সুস্বাদু এ তালের বড়াটি ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এর মধ্যে আদালত পুকুরের পূর্বপার্শ্বে রঞ্জনের (জিলাপি) দোকানে,  আদালত সড়কের ভাগ্যলক্ষ্মী দোকানে, সদর সড়কের গিরিধারীতে, জমিদার বাড়ি সড়কের ইসলাম সুইটস, বিসমিল্লাহ সুইটস, কানাইলালের শুভ মিষ্টি  বিতানে, নবীনগর লঞ্চ ঘাটের ভাই ভাই মিষ্টির দোকান ইত্যাদি।
আধুনিকতার জোয়ারে হারাতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই তালের বড়া।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম