আজ শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 280

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগদানের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি (অধ্যাপক ইউনূস) এসব বিষয় বারবার উল্লেখ করছেন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনও সন্দেহ নেই। আমরা নিশ্চিত যে, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ভাষণে সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং জাতীয় ঐক্য উভয়ই প্রতিফলিত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে নিঃসন্দেহে সেই উদ্দেশ্যের কথাই বলেছেন, যার ভিত্তিতে তাদের সরকার গঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তারা এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যখন গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক দল এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে তাদের সেই দায়িত্ব দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি যে ভয়াবহ অবস্থায় ছিল এক বছরের মধ্যেই সরকার আপেক্ষিকভাবে ভালো অবস্থায় আনতে চেষ্টা করেছে। এসব বিষয়ও তার ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অধ্যাপক ইউনূস ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তার সরকার কাজ শুরু করেছে এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও মোকাবিলা করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রস্তাব দিয়ে আসছি। বেগম খালেদা জিয়া প্রথম ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে কাঠামোগত ও রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, একদিকে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার না করলে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতো। এ কাজই তারা শুরু করেছেন। আজ তিনি সেই বিষয়গুলো জাতির সামনে যেমন উপস্থাপন করেছেন, তেমনই জাতিসংঘের বৈশ্বিক ফোরামেও তুলে ধরেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব খুশি, ইতিহাসে প্রথমবার তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের জাতিসংঘে সঙ্গে নিয়েছেন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতির ঐক্য প্রদর্শন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি এক অনন্য উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ জন্য আমরা পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছি এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানও এটিকে সমর্থন করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ইস্যুতে আন্দোলন চালাচ্ছে– এ প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিএনপি নিম্নকক্ষে পিআরের পক্ষে নয়, এমনকি উচ্চকক্ষেও এর পক্ষে আমরা কথা বলিনি। এ ধরনের বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

সূত্র: বাসস

আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি প্রদান মানে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরা : নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ইসরায়েলকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি প্রদানকে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সঙ্গেও তুলনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এ অভিযোগ করেন তিনি। অবশ্য তিনি ভাষণ দিতে ওঠার পর সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের অধিকাংশই মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফাঁকা মিলনায়তনে উত্তেজিত কণ্ঠে নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে আপনারা আসলে ইহুদি হত্যাকে সমর্থন করেছেন। একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাদের গলায় ছুরি ধরে থাকবে— তা আমরা কখনও মেনে নেবো না।”

ইউরোপীয় নেতাদের কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু বলেন, “নিষ্ঠুর মিডিয়া এবং ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আপনাদের নেই। তাই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আপনারা হামাসকে পুরস্কৃত করছেন, আর ইসরায়েলকে আত্মহত্যার পথে ঠেলছেন। কিন্তু আমরা এটা কখনও মানব না।”

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে গত সোমবার বৈশ্বিক সম্মেলন হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই সম্মেলনের সময় এবং তার আগে ও পরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবার্গসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে জাতিসংঘের প্রস্তাবতি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম বন্ধের দাবি উঠেছে জোরেশোরে।

তবে জাতিসংঘে প্রদান করা বক্তব্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম নিয়ে একটি কথাও বলেননি নেতানিয়াহু। তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি সরকারকে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু তার রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযান বন্ধে দুই বছরে আন্তর্জাতিক বিশ্ব বহুভাবে নেতানিয়াহুকে চাপ দিয়েছে, কিন্তু তিনি অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেননি।

নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বলেছেন, “জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর এই ভাষণ আসলে একজন পরাজিত মানুষের জবানবন্দি।”

সূত্র : এএফপি

আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

বিসিবির নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর

বিনোদন ডেস্ক, গানের মানুষ হয়েও আসিফ আকবরের শিকড় ক্রিকেটে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগে ইয়ং পেগাসাসের হয়ে খেলেছেন তিনি। কুমিল্লার মাঠে স্কুলজীবন থেকেই ব্যাট-বলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমনকি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধিনায়কও ছিলেন আন্তকলেজ ক্রিকেটে। গানে পথচলা শুরু হলেও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন হয়নি তার।

এবার সেই আসিফ আকবরই নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি লড়বেন বিসিবির পরিচালক পদে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে শো করতে ব্যস্ত থাকা আসিফ নিউইয়র্ক থেকে জানিয়েছেন নিজের লক্ষ্য।

‘কুমিল্লার খেলাধুলার দারুণ ঐতিহ্য ছিল। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি—সব খেলায় আমাদের দাপট ছিল। অথচ এখন কুমিল্লায় ছয় বছর ধরে ক্রিকেট লিগই হচ্ছে না! বিসিবিতে সুযোগ পেলে প্রথম কাজ হবে কুমিল্লার ক্রিকেটকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা।’

জেলা থেকে আসা অনেক পরিচালকই স্থানীয় ক্রিকেটে ভূমিকা রাখেন না। তবে আসিফ নিজেকে ব্যতিক্রম প্রমাণ করতে চান। তার ভাষায়, ‘কুমিল্লার তরুণরা মাঠমুখী হচ্ছে না। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা বেড়েছে। মাঠে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারলে তরুণদেরও সঠিক পথে রাখা যাবে। আমি চাই কুমিল্লা ও পুরো তরুণ সমাজের জন্য কাজ করতে।’

শুধু কুমিল্লা নয়, সুযোগ পেলে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেট নিয়েও কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন এই সংগীতশিল্পী, ‘নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ প্রতিটি জেলায় প্রতিভার অভাব নেই। প্রতিটি জেলার ক্রিকেট নিয়েই কিছু নতুন করার সুযোগ আছে।’

আসিফ জানান, শুরুতে তার নিজের বিসিবি কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, স্থানীয় সংগঠকদের অনুরোধেই তিনি রাজি হয়েছেন।

আগামী ৬ অক্টোবর হবে বিসিবি নির্বাচন। এরই মধ্যে পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও আসিফ আকবর ই–ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে এসে প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে ডা. সাবরিনা

আলোকিত ডেস্ক:

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন বিতর্কিত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা।  ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ডা. সাবরিনা সমাধিতে ফুল দিতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার উপস্থিতির বিরোধিতা করেন এবং তাকে ঘিরে স্লোগান দেন। এ সময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে কটাক্ষ করা হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ডা. সাবরিনা দ্রুত প্রাইভেট কারে করে স্থান ত্যাগ করেন।

গত ২৫ আগস্ট ডা. সাবরিনার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে যান? তাকে যারা সেখানে নিয়ে গেছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, ডা. সাবরিনা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত থাকাকালে ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসনের পরিচয়ে ভুয়া করোনা সনদ বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, জেকেজি প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করে বিতরণ করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে। ডা.সাবরিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রাখার অভিযোগও। একটি এনআইডিতে তার জন্মতারিখ ১৯৭৮ সাল, অন্যটিতে ১৯৮৩ সাল দেখানো হয়েছে। ভিন্ন দুই এনআইডিতে স্বামীর নামও ভিন্ন একটিতে আর এইচ হক, অন্যটিতে আরিফুল চৌধুরী।

২০২০ সালে এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ডা. সাবরিনা বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও তার অতীত কর্মকাণ্ড ও পরিচিতি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে বিভ্রান্তি এবং অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তার বিরুদ্ধে থাকা নানা দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার রাজনৈতিক উপস্থিতিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

– Advertisement –

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন সাবেক বিশ্বনেতারা

আলোকিত ডেস্ক:

বিশ্বের ১১টি দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা ড.ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ড. ইউনূসের হোটেল স্যুটে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গা উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ভিকে-ফ্রেইবার্গা নিজামী গাঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি, যা ১১ শতকের বিখ্যাত পারস্য কবির নামে প্রতিষ্ঠিত।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিয়েভ এবং পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি এবং এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আইএইএ এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা।

তারা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তার আজীবন অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা বলেন, আমরা এখানে এসেছি আপনাকে এবং বাংলাদেশের মানুষকে সমর্থন দিতে। আমরা পুরোপুরি আপনার পাশে আছি।

নেতারা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি প্রশংসনীয় হলেও ১৬ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি ও শোষণের পর দেশটি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

অনেক নেতা অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ সহায়তার আশ্বাস দেন। উপস্থিত এক নেতা বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যে কোনো পরামর্শ বা সহায়তা প্রয়োজন হলে আমাদের জানান। অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

কেরি কেনেডি, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন, দেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে আপনাদের অগ্রগতি অসাধারণ।

জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেল্যান ভারভির জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে। এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, আপনাদের যখনই প্রয়োজন আমরা আছি।

বিপুল সমর্থন পেয়ে উপস্থিত নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে আমাদের প্রতি সমর্থন দিতে দেখে আমি মুগ্ধ এবং আবেগাপ্লুত।

ড. ইউনূস তার প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলোকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এ দেশ ১৫ বছরব্যাপী একটা ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৯।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণ রাতারাতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, অথচ সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সহায়তার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের পরামর্শ, সমর্থন এবং নৈতিক শক্তি আমাদের প্রয়োজন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেলো ৫০০ পরিবার

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর ও চরপৌলী এলাকায় নদী ভাঙন রোধে আপদকালীন জরুরী অস্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামুলক কাজের অংশ হিসেবে ধলেশ্বরী নদীর বাম তীরে ৫১০ মিটার এলাকাজুড়ে জিও-টিউব ও জিও-ব্যাগ ডাম্পিং এবং প্লেসিং কাজ করা হচ্ছে।
২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে আপদকালীন জরুরী প্রতিরক্ষামূলক এই কাজের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মতিউর রহমান, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, ধলেশ্বরী নদীর বাম তীরে আকস্মিক নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙনের ফলে ঘর-বাড়ী, আবাদি জমি, গ্রামীণ রাস্তা, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকিতে পড়ে। আপদকালীন জরুরী অস্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামুলক কাজের অংশ হিসেবে ধলেশ্বরী নদীর বাম তীরে ৫১০ মিটার এলাকাজুড়ে ৯৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে জিও-টিউব ও জিও-ব্যাগ ডাম্পিং এবং প্লেসিং কাজ করা হচ্ছে। এরফলে নদীর তীরের প্রায়  ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি, আবাদি জমি, গ্রামীণ রাস্তা এবং  মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপদে থাকবে। পরবর্তীতে ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

পিআরসহ ৫ দফা দাবিতে সাদুল্লাপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মোঃ ফিরোজ প্রধান,সাদুল্লাপুর, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাদুল্লাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার চত্বরে সমবেত হন। সেখানে ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ শেষে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল রেজার চাতালে গিয়ে শেষ হয়।
প্রোগ্রামটির সভাপতিত্ব করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী থানা আমির মোঃ এরশাদুল হক ইমন।
প্রধান অতিথি ছিলেন সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।
আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি মোঃ রোকনুজ্জামান।
প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
সমাবেশে বক্তারা নিম্নলিখিত পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান।
২. সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৩. বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা ও হামলা-হয়রানি বন্ধ করা।
৪. নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধ করা।
৫. গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
প্রধান অতিথি মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু তার বক্তব্যে বলেন, “এই পাঁচ দফা দাবি শুধু জামায়াতের নয়, দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি। সমান সুযোগ ছাড়া কোনো নির্বাচনেরই গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। নির্বিচারে গ্রেপ্তার–হয়রানি বন্ধ করে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দিয়ে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সরকারকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”
তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আপনার বোন দিল্লিতে বসে আছে, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান: মোদিকে বললেন ওয়াইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিহারের নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার পরিস্থিতি। বিশেষ করে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অভিযোগ করছে বিহারে অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করেছে। যারা সেখানকার ভোটের চিত্র পাল্টে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর ওপর দায় দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করছেন বিহারে তারা বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে সুযোগ করে দিচ্ছে।

এ নিয়ে কথা বলেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেছেন, বিহারে কোনো বাংলাদেশি নেই। তবে দিল্লিতে মোদির বাংলাদেশি বোন হাসিনা বসে আছে। তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিশেষ করে বিহারের সীমাচলে কোনো বাংলাদেশি নেই বলে জানান তিনি। এই সীমাচলে তার দল সর্বশেষ নির্বাচনে জয় লাভ করেছিল।

ওয়াইসি বলেছেন, “মোদিজি বলেন বিহারে বাংলাদেশি রয়েছে। মোদিজি বিহার এবং সীমাচল অঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আপনার বোন আছে। যিনি দিল্লিতে বসে আছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। আর নয় তাকে বিহারের সীমাচলে নিয়ে আসুন। আমরা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিপ্লবের মুখে দেশ থেকে পালান সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লির একটি গোপন জায়গায় অবস্থান করছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক বৈঠকে ভারত এবং হাসিনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন হাসিনা ভারতে থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমস্যা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আলোকিত প্রতিদিন/২৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামির ৫ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মোঃ নিশাদুল ইসলাম:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামাতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পি আর পদ্ধতি ও জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে । ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এই মিছিল ও সমাবেশ করে তারা। এসময় জেলা জামায়েতে ইসলামির আমীর মোবারক হোসেন আকন্দের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সেক্রেটারী আমিনুল ইসলাম, সহ সম্পাদক অধ্যাপক জুনাইদ হাসান, সমাজকল্যান সম্পাদক আবুল বাশার, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন সভাপতি ও প্রচার সম্পাদক মোঃ রুকন উদ্দিন, যুব ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন মাস্টার, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি হাসান মাহমুদ ও সেক্রেটারী জুলফিকার হায়দার রাফিসহ প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশে শতভাগ গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করতে হলে পিয়ার পদ্ধতি নির্বাচন ছাড়া অন্য বিকল্প কোন বিকল্প কিছু নেই। ফ্যাসিবাদি প্রথাকে দূর করে গণতন্ত্র শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এদেশের মানুষ অন্য কোন পদ্ধতি নির্বাচন মেনে নেবে না। আমরা ডঃ ইউনুছ সহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আশা করব দ্রুত তার দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তিনি নির্বাচনের একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে জনগণ এটিকে প্রতিরোধ করবে।
এছাড়াও বক্তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের গণহত্যা ও দূর্নীতির বিচারের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রমের নিষিদ্ধের দাবি জানান। এর পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামীতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

নবীনগরে অটোরিক্সার- ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য: ভোগান্তিতে পৌরবাসী

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরবাসী অনুমোদনহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার জন্য ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ২৭৩টি ইজিবাইকের অনুমোদন থাকলেও প্রতিদিন চার গুণের ও বেশি ইজি বাইক- অটোরিক্সা চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে এ সব লাইসেন্স বিহীন  রিক্সার কারণে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। পৌর সদরে চলাচলকারী  অটোরিক্সার পেছনে পৌরসভার নম্বর প্লেটের পরিবর্তে দেখা যায় বিভিন্ন মালিকের নাম ও মোবাইল নাম্বার। এ সব গাড়ির অদক্ষ চালকরা যেখানে- সেখানে গাড়ি রেখে যাত্রী ওঠানামা করান।
 এ ছাড়াও রাস্তার ওপর মোটর সাইকেল পার্কিং ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকানের কারণে পুরো শহর স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন- শহরের রাস্তা গুলো এমনিতেই  সরু। তার ওপর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চার গুণ বেশি ইজিবাইক চলাচলের কারণে দিনের বেলায় শহরে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সরজমিনে পৌর শহরে দেখা  যায়- প্রতিদিনই কোর্ট রোড, সালাম রোড, থানা গেইট, লঞ্চঘাট,  ডাকবাংলোর সামনে, আলিয়াবাদ গোল চত্বর ও কোনাঘাট মোড় এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে শিক্ষার্থীসহ নবীনগর বাজারে আসা মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। মান্নান মিয়া  নামে এক অটোরিক্সার  চালক বলেন- “শহরে এখন কোনো শৃঙ্খলা নাই। যার যেখানে খুশি সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান”।
চার নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাউছার আহম্মেদ বলেন- “শহরের যানজট দিন দিন বেড়েই চলেছে। যেখানে-সেখানে ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে”। আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা কামাল মিয়া জানান- সড়কের তুলনায় শহরে যানবাহন বেশি চলাচল করে। এ ছাড়া অটোরিক্সার চালকরা যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন। এ সব কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে কয়েকজন আনসার / চৌকিদার পৌরসড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গাড়ির তীব্র চাপের কারণে তারা যানজট নিরসন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাজিব চৌধুরী বলেন- “সমস্যা চিহ্নিত করে যানজট নিরসন করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই শহরের যানজট নিরসন হবে”।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম