গাজীপুরে ১০ বছরের শিশু ধ*র্ষণ,অভিযুক্ত বৃদ্ধ গ্রে*ফতার
পিআর পদ্ধতি চালুসহ ৫ দাবিতে কালিহাতীতে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
সাদুল্লাপুরে কীটনাশক গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তা*ণ্ড*বে বিএনপির কর্মীরা রেহাই পায়নি: রিজভী
কুমারখালীতে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু,পরে ছেলের আত্মহত্যা
প্রতিনিধি,কুষ্টিয়া:
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারছিল ছেলে। তা দেখে ঠেকাতে যান বৃদ্ধ বাবা। এ সময় ছেলের আঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবাকে বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে অসুস্থ বাবা মারা যান। আর বাবা মৃত্যুর খবর শুনে ছেলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি স্বজনদের। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের উদয় নাতুরিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের শুম্ভু চরন বিশ্বাস (৮০) ও তার মেঝো ছেলে বিজয় কুমার (৩২)। তিনি পেশায় মাছ বিক্রেতা ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শুম্ভু চরন বিশ্বাসের ছাগল বিক্রির নয় হাজার টাকা নিয়ে পূজার কেনাকাটা করে ছেলে বিজয় কুমার। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বিজয় ফের টাকা চান বাবার কাছে। এ নিয়ে স্ত্রী মিনতির সঙ্গে বিজয়ের পারিবারিক কলহ বাঁধে। এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করলে তার বাবা ঠেকাতে যান। এ সময় আঘাতে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে পল্লী চিকিৎসক ডেকে পারিবারিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর রাত ১১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শুম্ভু চরন। আর ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের বাদাম গাছ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয় স্বজনরা। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সুরতাল করে বাবা- ছেলের মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারছিল ছেলে। এ সময় ঠেকাতে গেলে বাবার শরীরে একটা আঘাত লাগে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে মারা যায় শুম্ভু। আর বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ছেলে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের বারান্দায় পাশাপাশি রাখা রয়েছে বাবা ছেলের মরদেহ। পাশেই আহাজারি করছেন স্বজনরা। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা। তারা স্বজনদের শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানে আইনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে পুলিশ। নিহত শুম্ভুর বাম হাতে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ সময় নিহত শুম্ভুর ছোট ছেলে ও বিজয়ের ভাই বিজন কুমার বলেন, টাহা নিয়ে বাঁধিছিল। এ সময় বউ মারতি গিয়ে এটুফোঁটা মুরব্বীর গায় লাগিলি অসুস্থ হয়ছিল। ডাক্তার আনে চিকিৎসা দিছিলাম। তবুও রাতে মুরব্বী মারা গেছে। সেই অনুরাগে ভাই গলাঁয় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখানে অন্যকিছু নেই। তবে নিহত বিজয়ের স্ত্রী মিনতি বলেন, পূজার চাঁদা দেওয়া নিয়ে বাবার সাথে দুই কথা বাঁধেছে। বাপ টাকার টেনশনে স্ট্রোক করে মারা গেছে। আর ওই জন্য মনের ভিতর খারাপ লাগেছে বলে ও ( স্বামী) গলায় দড়ি নেছে। তাঁর ভাষ্য, শ্বশুর মারা গেছে রাতে। আর স্বামীর মরার খোঁজ পাওয়া গেছে সকালে। রাতের স্বামী কোথায় ছিলেন তা তিনি জানেন না। আর নিহত শুম্ভুর স্ত্রী বিলাসী বলেন, একবার ছাগল বিক্রির ৯ হাজার টাকা নিয়ে পূজার কেনাকাটা করেছিল বিজয়। আবার পরদিন ছেলে ফের টাকা চাইলে স্বামী শোকে স্ট্রোক করে। পরে রাতে মারা গেছেন। আর ছেলে গলাঁয় দড়ি নিছে। কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, ঝগড়াঝাঁটির জেরে বাবা ছেলের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত নয়। আর ছেলে গলাঁয় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম
কুড়িগ্রামে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত
নেত্রকোনায় বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৯৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ
নোয়াখালীতে প্রযুক্তি দক্ষতা এবং উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘২৫ অনুষ্ঠিত
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগদানের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভাষণ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি (অধ্যাপক ইউনূস) এসব বিষয় বারবার উল্লেখ করছেন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনও সন্দেহ নেই। আমরা নিশ্চিত যে, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ভাষণে সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং জাতীয় ঐক্য উভয়ই প্রতিফলিত হয়েছে।
ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে নিঃসন্দেহে সেই উদ্দেশ্যের কথাই বলেছেন, যার ভিত্তিতে তাদের সরকার গঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তারা এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যখন গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক দল এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে তাদের সেই দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি যে ভয়াবহ অবস্থায় ছিল এক বছরের মধ্যেই সরকার আপেক্ষিকভাবে ভালো অবস্থায় আনতে চেষ্টা করেছে। এসব বিষয়ও তার ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অধ্যাপক ইউনূস ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তার সরকার কাজ শুরু করেছে এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও মোকাবিলা করেছে।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রস্তাব দিয়ে আসছি। বেগম খালেদা জিয়া প্রথম ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে কাঠামোগত ও রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, একদিকে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার না করলে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতো। এ কাজই তারা শুরু করেছেন। আজ তিনি সেই বিষয়গুলো জাতির সামনে যেমন উপস্থাপন করেছেন, তেমনই জাতিসংঘের বৈশ্বিক ফোরামেও তুলে ধরেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব খুশি, ইতিহাসে প্রথমবার তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের জাতিসংঘে সঙ্গে নিয়েছেন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতির ঐক্য প্রদর্শন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি এক অনন্য উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ জন্য আমরা পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছি এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানও এটিকে সমর্থন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ইস্যুতে আন্দোলন চালাচ্ছে– এ প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিএনপি নিম্নকক্ষে পিআরের পক্ষে নয়, এমনকি উচ্চকক্ষেও এর পক্ষে আমরা কথা বলিনি। এ ধরনের বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।
সূত্র: বাসস
আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম
ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি প্রদান মানে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরা : নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ইসরায়েলকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি প্রদানকে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সঙ্গেও তুলনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এ অভিযোগ করেন তিনি। অবশ্য তিনি ভাষণ দিতে ওঠার পর সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের অধিকাংশই মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফাঁকা মিলনায়তনে উত্তেজিত কণ্ঠে নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে আপনারা আসলে ইহুদি হত্যাকে সমর্থন করেছেন। একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাদের গলায় ছুরি ধরে থাকবে— তা আমরা কখনও মেনে নেবো না।”
ইউরোপীয় নেতাদের কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু বলেন, “নিষ্ঠুর মিডিয়া এবং ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আপনাদের নেই। তাই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আপনারা হামাসকে পুরস্কৃত করছেন, আর ইসরায়েলকে আত্মহত্যার পথে ঠেলছেন। কিন্তু আমরা এটা কখনও মানব না।”
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে গত সোমবার বৈশ্বিক সম্মেলন হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই সম্মেলনের সময় এবং তার আগে ও পরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবার্গসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে জাতিসংঘের প্রস্তাবতি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম বন্ধের দাবি উঠেছে জোরেশোরে।
তবে জাতিসংঘে প্রদান করা বক্তব্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম নিয়ে একটি কথাও বলেননি নেতানিয়াহু। তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি সরকারকে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু তার রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযান বন্ধে দুই বছরে আন্তর্জাতিক বিশ্ব বহুভাবে নেতানিয়াহুকে চাপ দিয়েছে, কিন্তু তিনি অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেননি।
নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বলেছেন, “জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর এই ভাষণ আসলে একজন পরাজিত মানুষের জবানবন্দি।”
সূত্র : এএফপি
আলোকিত প্রতিদিন/২৭সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

