আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 28

এবার দেশের বাইরে একম#ঞ্চে প্রীতম-জেফার-পূজা ও তমা

বিনোদন ডেস্ক: ঈদ মানেই ফিরে আসা মনের জানালায় শৈশবের কান্না, প্রিয়জনের হাসি, আর গ্রামের মেঠোপথ ধরে বেরিয়ে পড়া আনন্দের মিছিলে। কিন্তু যারা নিজের দেশ ছেড়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য ঈদ হয়ে ওঠে এক ভিন্ন অনুভূতির; যেখানে বেদনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উৎসবের আমেজ। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য এবারের ঈদ হয়ে উঠতে পারে বিশেষ স্মরণীয় দিন। কারণ, ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন ও স্মরণীয় করে তুলতে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক উৎসব; যার শিরোনাম ‘সোনালি সন্ধ্যা’।

আগামী ২৪ মে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের আকাশছোঁয়া মিনারা পিজিআরএম টাওয়ার ২-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বর্ণিল আয়োজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশ, বহুদূরে প্রবাসের মরুভূমিতে। ‘এমএস গোল্ড প্রেজেন্টস সোনালি সন্ধ্যা, পাওয়ার্ড বাই সোনালি জুয়েলস’ শিরোনামের এই আয়োজন শুরু হবে বিকেল ৫টায়, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। টানা পাঁচ ঘণ্টাজুড়ে থাকবে নাচ, গান আর আবেগের বিনিময়। আয়োজনের পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছে এনএস ইউনিক গ্লোবাল এসডিএন বিএইচডি।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যাজুড়ে দর্শকের জন্য থাকছে লাইভ মিউজিক, নৃত্য, ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন, ডিজে সেট, লাইট শো এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ পারফরম্যান্স; যা প্রবাসী দর্শকদের জন্য তৈরি করবে এক পূর্ণাঙ্গ উৎসবমুখর পরিবেশ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিকসন্ধ্যা নয়; বরং এটি প্রবাসীদের জন্য উন্মুক্ত এক মঞ্চ, যেখানে মুখর হবে বাংলাদেশের ভাষা, গান, ছন্দ আর ঐতিহ্য। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন গায়ক ও সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান, সংগীতশিল্পী জেফার এবং প্রতীক হাসান।

আয়োজনকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রীতম হাসান বলেন, ‘প্রবাসে এত বড় পরিসরে বাংলাদেশের মানুষদের সামনে পারফর্ম করা সবসময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা। এখানে আমরা শুধু গান করি না, দর্শকদের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হই। ‘সোনালিসন্ধ্যা’ সেই আবেগ ভাগ করে নেওয়ার আরও একটি সুযোগ বলা যায়।’

জেফার বলেন, ‘ঈদের আনন্দ পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের বলে আমার মনে হয়।’

প্রতীক হাসান বলেন, ‘প্রবাসে যখন দেশের গান পরিবেশন করি, তখন মনে হয় আমরা দূরত্ব কমিয়ে আনছি। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরবে।’

তমা মির্জা বলেন, ‘প্রবাসীদের ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।’ ‘সোনালিসন্ধ্যা’ আয়োজনটি উপস্থাপনা করবেন রাফসান সাবাব ও তাবাসসুম প্রিয়াঙ্কা।

তাদের উপস্থাপনায় থাকবে স্টেজ গেম, দর্শকের অংশগ্রহণমূলক সেগমেন্ট, সেলিব্রিটি ইন্টারঅ্যাকশন, কুইজ শো এবং আকস্মিক সারপ্রাইজ অ্যাক্ট; যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ভারতের রাজস্থানে দিল্লিগামী চলন্ত ট্রেনে আ*গুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাজস্থানে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৭ মে রবিবার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বি-১ নামের ওই বগিতে ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছে ট্রেনটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনা কেউ হতাহত হননি। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুন লাগা বগি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হচ্ছে। এ সময় কয়েকটি গাছেও আগুন লাগে। যাত্রীদের বগিটি থেকে নামিয়ে অন্যান্য বগিতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের কোটা পর্যন্ত এভাবে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে ট্রেনে নতুন আরেকটি বগি যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

১২৪৩১ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শুক্রবার কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে যাত্রা শুরু করে। আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এটির দিল্লির নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। আগুন লাগার আগে ট্রেনটি ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন এটি রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

আলোকিত প্রতিদিন / ১৭ মে ২০২৬ /মওম

জমে উঠেছে যশোরের শার্শার বাগুড়ি বেলতলা আমের মেলা

যশোর প্রতিনিধি:

জমতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ আমের পাইকারি বাজার যশোরের শার্শা উপজেলার বাগুড়ি বেলতলা আমের বাজার। আমের মৌসুমের শুরুতেই যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজারে আসছে নানা জাতের আম। একই সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন এই বাজারে। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে এখান থেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার মণ আম দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

জানা যায়, সাতক্ষীরা-নাভারণ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বসেছে আমের আড়ৎ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে আম কেনাবেচা। ছোট ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, করিমন ও নসিমনে করে চাষিরা আম নিয়ে আসছেন। পাইকাররা দরদাম করে আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ আম গাছ থেকে পেড়ে বাজারজাত করার অনুমতি দেয়। এরপর থেকেই জমে উঠতে শুরু করে বেলতলা বাজার। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে গোবিন্দভোগ আম। এছাড়া গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, গোলাপখাস, বৈশাখী ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী ২১ মে থেকে হিমসাগর, ২৮ মে থেকে ল্যাংড়া ও ৬ জুন থেকে আম্রপালি ও মল্লিকা বাজারে আসবে।

বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ গোবিন্দভোগ আম ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, বোম্বাই আম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, শরিখাস আম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা ও গোলাপখাস আম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমের আকার, মান এবং জাতভেদে দামের তারতম্য হচ্ছে।

আমচাষিরা জানান, এবার এক মণ আম উৎপাদন করতে খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ভালো দাম থাকায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন চাষিরা। কিছু উন্নত মানের আমে লাভ হচ্ছে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত।

কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামের আমচাষি শাহীন আলম বলেন, মুকুলের সময় অতিরিক্ত গরম পড়ায় কিছু ক্ষতি হয়েছে। তারপরও এবার আমের মান ভালো। খরচ বেশি হলেও বাজারে দাম ভালো থাকায় লাভের আশা করছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি ৫ মের আগে বাজারে আসা গুটি আম ও আঁটি আম মূলত আচারের জন্যে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আসছে পরিপক্ব এবং খাওয়ার উপযোগী আম। প্রশাসনের নজরদারির কারণে অপরিপক্ব আম বাজারে তেমন আসতে পারছে না।

বেলতলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে ফরমালিনযুক্ত বা অপরিপক্ব আম বিক্রির সুযোগ নেই। কেউ কাঁচা অপরিপক্ব আম আনলে সেটি আচারের জন্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই মানুষ নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাক।

তিনি আরও বলেন, আগে গাড়ি প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হতো। গত দুই বছর ধরে চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারছেন।

এ বাজারে আম আনলে প্রতি মণে চাষিদের ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত খাজনা দিতে হয়। এছাড়া আড়তদারদেরও প্রায় ৩ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।

রবিবার বাজারে প্রায় ২৫০ ক্যারেট আম বেচাকেনা হয়েছে। প্রতিটি ক্যারেটে গড়ে ২৫ কেজি করে আম থাকে। সে হিসেবে ওইদিন প্রায় ৬ হাজার ২৫০ কেজি বা ১৫৬ মণ আম বিক্রি হয়েছে। মৌসুমের মূল সময় শুরু হলে প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্যারেট আম ওঠে বাজারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বেলতলা বাজারে বর্তমানে ৮৬টি আমের আড়ৎ রয়েছে। বাজার কমিটির তথ্যমতে, এ গ্রেডের একজন আড়তদার প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। বি গ্রেডের আড়তদারদের বিক্রি ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং সি গ্রেডের আড়তদারদের বিক্রি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে এই বাজারে।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, বেলতলা দেশের অন্যতম বড় আমের বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশে রপ্তানির জন্যে এখান থেকে আম নেওয়া হয়। মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ আম বিক্রি হবে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, শার্শার বেলতলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বড় আম বাজার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার আমের চাহিদা পূরণ হয়। এছাড়া বিদেশেও আম রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রশাসন নিরাপদ ও পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, জেলায় এবার প্রায় ৪ হাজার ২ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হচ্ছে। যশোরের মানসম্মত আম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুকুলের সময় অতিরিক্ত গরম পড়ায় উৎপাদন কম হতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১৭ মে ২০২৬ /মওম

পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোল*নে সুবিধাভো*গী আওয়ামী ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সরব অবস্থান!

বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও একাডেমিক শাটডাউন চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের শিক্ষক হিসেবে ভিসি পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে শুরু থেকেই একটি বিভাজন তৈরি হয় তখন। শুরুতেই বিএনপির একাংশ এবং জামাতপন্থী শিক্ষকরা বাহির থেকে ভিসি নিয়োগের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছিলেন তারা।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং ভিসির একাধিক বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রোভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বাধীন শিক্ষকরা ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য ভিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তবে সেগুলো নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় ভিসি তা বাস্তবায়ন না করায় তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যে গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসির অনুসারী কতিপয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভিসিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় দুমকি উপজেলা যুবদল নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে একদল বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মী ৪/৫ জন শিক্ষক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কর্মসূচি রূপ নেয় ভিসিবিরোধী অবস্থান কর্মসূচিতে। উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে একাডেমিক শাটডাউন চালিয়ে যান আওয়ামীপন্থী একাংশের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

এই অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্বে দেখা যায় প্রফেসর মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে। তিনি ইতোপূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি ও শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি প্রফেসর ড.মো: আসাদুজ্জামান মিয়া মুন্নার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি। এছাড়া আওয়ামী সমর্থনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।

এছাড়াও ক্যাম্পাসের মব সৃষ্টির মাস্টারমাইন্ড অবস্থান কর্মসূচীর মিডিয়া কভারেজে পরিচিত মুখ প্রফেসর আবুল বাশার খান তিনি ছিলেন সাবেক জামায়াতী ভিসি লতিফ মাসুমের পালক পুত্র ও আওয়ামী লীগ আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

অবস্থান কর্মসূচির অন্যতম ব্যক্তি কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক খোকন হোসেন, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকুরিসহ বিভিন্ন সুবিধাভোগী এবং তিনি ও তার স্ত্রী আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তার ছোটভাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী কর্মকর্তা। বর্তমানে বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে খোকন হোসেন আন্দোলনে সক্রিয়।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশ নেওয়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর এস. এম. তাওহিদুল ইসলাম-যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন।প্রফেসর ড. শাহাবুবুল আলম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক; প্রফেসর ড. কাজী শারমিন আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক; এবং প্রফেসর ড. নুরুল আমিন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সর্বশেষ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা তানজিল হোসেন।

ইতিপূর্বে এরা ভিসি কাজী রফিকুল ইসলামের বাসভবনে মব সৃষ্টি করে কৃষি অনুষদের ডীন, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যহতি দিতে বাধ্য করান। এর পূর্বে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইকতিয়ার উদ্দিনকে পদত্যাগ ও বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমানের অফিস কক্ষে মব সৃষ্টি করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি পত্রে স্বাক্ষর করান। এসব আওয়ামীপন্থী শিক্ষক কর্মকর্তারা প্রোভিসি হেমায়েত জাহানের অনুসারী বিএনপিপন্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া এবং এসব ফ্যাসিস্টদের প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিএনপিপন্থী সিনিয়র শিক্ষক জানান, “ক্যাম্পাসে যা হচ্ছে তাতে আমাদের দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং প্রোভিসি ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতপন্থীদের নিয়ে গ্রুপ ভারী করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা জানান, “ভিসি বিরোধী আওয়ামী-জামায়াতীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে মূলতঃ মব সৃষ্টি করে ভিসি তাড়ানোর নীলনক্সা ছাড়া অন্য কিছু নয়।”এ ব্যাপারে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,” মব সৃষ্টি করে কেহ ভিসি তাড়ানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন.ম এহসানুল হক মিলন বলেন, কোন ভিসির বিরুদ্ধে কারো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে স্হানীয় এমপির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করতে পারেন। কোন ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অকারণে মব সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে চলতে হবে: এলজিআরডিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব এবং এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর। চুক্তি নবায়নে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই সব করা হবে।

১৬ মে শনিবার দুপুরে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সবাইকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে চলতে হবে। মাতৃভূমির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনও চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে কেউ দেশের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সেটা আমার বিশ্বাস।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পানি সমস্যা, পরিবেশ সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সমস্যাও বিরাট আকার ধারণ করছে। যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ ঘটছে, সেটি নিয়ন্ত্রণ দরকার।

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন। তারা গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগতে চায়। প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করবো না, তবে দাসত্বের শৃঙ্খলেও আটকে থাকব না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

আলোকিত প্রতিদিন / ১৬ মে ২০২৬ /মওম

২০০ বছরের ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে ঘিওরের গরু-ছাগলের হাট

মিজানুর রহমান খান কুদরত:

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর আবারও পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গরু-ছাগলের হাট। আগামী ২০ মে থেকে টানা ৭ দিনব্যাপী এই হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি এবং ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল বেচাকেনায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছামতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। বিশেষ করে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিত নদী খননের ফলে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এতে হাটের বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় হাট কর্তৃপক্ষ। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাটের জৌলুস হারিয়ে যায়।

তবে চলতি বছর স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এর সার্বিক সহযোগিতায় হাটটি আবারও নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন, জায়গা সংস্কার ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ মে হতে ছাগল হাটের পাশেই বিশাল গরু-ছাগলের হাট বসানো হবে।

ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান খান কুদরত বলেন, “একসময় এই হাটে হাজার হাজার গরু-ছাগল উঠত। নদী ভাঙনের কারণে সবকিছু প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার হাট চালু হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।”

ঘিওর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জাকির হোসেন বাপ্পি বলেন, “এই হাট ঘিরে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য জমে ওঠে। হাট পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।”

ইজারাদার সবুজ বেপারী জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন চলাচল এবং পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, আবারও দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিতি পাবে ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী গরু-ছাগলের হাট।

এ বিষয়ে এমপি এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, “ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস এবং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে হাটটিকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে আমরা কাজ করেছি। হাট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া আছে এই বছর নামে মাত্র হাসিল নেওয়া হবে এবং ঈদের পর হতে আগামী ঈদ পর্যন্ত ৩০০ টাকা হাসিল নেওয়া হবে। আশা করছি, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হবে।”

আলোকিত প্রতিদিন / ১৬ মে ২০২৬ /মওম

লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলিং তোপে শুরুতে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে উদ্ধার করেছেন লিটন কুমার দাস। তার লড়াকু ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রান করে আউট হন। ৩৪ বলে ৩টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস।

মুমিনুল হকও ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে খুররম শাহজাদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ২২ রান করে ফিরে যান তিনি। এতে ৬৩ রানেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস দলকে কিছুটা স্থিতি এনে দেন। তবে বিরতির পর দ্রুত ফিরে যান শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩ এবং মিরাজ ৪ রান করেন।

১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে অসাধারণ ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি।

এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে লিটনের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৬ রান করেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার মিশেল। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। তাইজুল ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হন।

এরপর দ্রুত আউট হন তাসকিন আহমেদও। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন তিনি। তবে শেষদিকে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ আড়াইশ পার করেন লিটন।

দলীয় ২৭৮ রানে হাসান আলীর বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। শেষ ব্যাটার হিসেবে শূন্য রানে আউট হন নাহিদ রানা। শরিফুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ৪টি, মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি, হাসান আলী ২টি এবং সাজিদ খান ১টি উইকেট শিকার করেন।

নাগরপুরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ

এস এম আনোয়ার হোসেন:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন অন্তত ৯ গ্রামের মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই বর্তমানে তাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এ অঞ্চল দিয়ে ধলেশ্বরী নদীর প্রবাহ ছিল। পরে নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে অন্যদিকে সরে গেলে এখানে সরু শাখা খালের সৃষ্টি হয়। নদীর পাশে জেগে ওঠা চরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মানুষের বসতি ও আবাদি জমি। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রায় পাঁচ বছর আগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমানে নড়বড়ে সেই সাঁকো দিয়েই পংবাইজোড়া, দেইল্লা, লাড়ুগ্রাম, স্বল্প লাড়ুগ্রাম, চৌহালীপাড়া, পংবড়টিয়া, ঘুণি ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি বৃদ্ধি পেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হয়। আর শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে মানুষ খালের নিচ দিয়ে হেঁটে চলাচল করেন। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় নৌকায় পারাপার করতে হয়। এতে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও জরুরি চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করছি। উন্নয়নের কথা শুনলেও আমাদের এলাকায় তার কোনো বাস্তব চিত্র নেই।”

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও সমস্যায় পড়তে হয়।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা জানান, স্থানীয়দের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও এখনো স্থায়ী কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। তবে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মোঃ আতোয়ার রহমান খান বলেন,“পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কের সেতু সমস্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কার্যকর উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেও সেতু নির্মাণ কাজ আলোর মুখ দেখছে না। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, “ভারী বৃষ্টি হলেই খালে পানি বেড়ে যায়। তখন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতেও ভোগান্তি হয়।”মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছি। এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব আমার সংবাদকে বলেন, পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

আগামী সপ্তাহেই আবার ই*রানে হা*মলার প্রস্তুতি ই*সরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইরানে আবারও নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য সবচেয়ে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এই হামলা শুরু হতে পারে বলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সামরিক অভিযানের অন্যতম একটি বিকল্প পরিকল্পনা হলো ভূগর্ভস্থ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক উপাদানগুলো বের করে আনতে সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন। কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, এই ধরনের জটিল অপারেশনে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, কমান্ডোদের অভিযানের এলাকাটি সুরক্ষিত রাখতে এবং চারদিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সহায়তাকারী সেনার প্রয়োজন হবে। এছাড়া ওই এলাকায় ইরানের স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি তুমুল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কাও রয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার জন্যও স্থল সেনা ব্যবহার করা হতে পারে। এর বাইরে আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে রয়েছে, যেখানে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আরও তীব্র ও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং দেশটির শীর্ষ নেতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিসহ দেশটির তৈরি করা সমস্ত হুমকি দূর করা এবং ইরানি জনগণের জন্য বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ইসরায়েলের ঘোষিত এই লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখনও পূরণ হয়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

আলোকিত প্রতিদিন / ১৬ মে ২০২৬ /মওম

রাষ্ট্র এবং সমাজকে আমাদের মেরামত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

 আলোকিত প্রতিবেদক:

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্র এবং সমাজকে আমাদের মেরামত করতে হবে। মেরামতের প্রতিটি পর্বে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল দেশপ্রেমিককে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করব।

১৬ মে শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিলনায়তনে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম কচির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নূরউল্লাহ।

তিনি বলেন, আমাদের মাতৃভূমির বয়স ৫৫ বছর। এই বয়সে আমরা যারা আছি খুবই সৌভাগ্যবান যে, পুরো পর্বটি আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। এ সকল গৌরবগাথা যেমন আমাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তেমনি প্রতিটি বিপর্যয়ের পরিস্থিতিও দেখার মতো দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চলচ্চিত্রশিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র অনেক বড় একটা মাধ্যম। এখানে দয়া করে আপনাদের মতো মানুষজন যুক্ত হয়েছেন। এতেই রাষ্ট্রের ধন্য হয়ে যাওয়া উচিত এবং যতটুকু সম্ভব ততটুকু তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া উচিত।

চলচ্চিত্রশিল্পীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আপনারা যে পরবর্তী রোডম্যাপ তৈরি করবেন.. সেই রোডম্যাপ শুধু চলচ্চিত্র আন্দোলনের জন্য না করে, সেটাকে চূড়ান্তভাবে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপান্তরিত করবেন।

আলোকিত প্রতিদিন / ১৬ মে ২০২৬ /মওম