ক্রীড়া প্রতিবেদক:
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলিং তোপে শুরুতে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে উদ্ধার করেছেন লিটন কুমার দাস। তার লড়াকু ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রান করে আউট হন। ৩৪ বলে ৩টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
মুমিনুল হকও ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে খুররম শাহজাদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ২২ রান করে ফিরে যান তিনি। এতে ৬৩ রানেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস দলকে কিছুটা স্থিতি এনে দেন। তবে বিরতির পর দ্রুত ফিরে যান শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩ এবং মিরাজ ৪ রান করেন।
১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে অসাধারণ ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি।
এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে লিটনের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৬ রান করেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার মিশেল। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। তাইজুল ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হন।
এরপর দ্রুত আউট হন তাসকিন আহমেদও। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন তিনি। তবে শেষদিকে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ আড়াইশ পার করেন লিটন।
দলীয় ২৭৮ রানে হাসান আলীর বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। শেষ ব্যাটার হিসেবে শূন্য রানে আউট হন নাহিদ রানা। শরিফুল ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ৪টি, মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি, হাসান আলী ২টি এবং সাজিদ খান ১টি উইকেট শিকার করেন।

