আজ শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 277

আড়ংয়ে কাগজের শপিং ব্যাগের দাম নেওয়া বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ!

আলোকিত প্রতিবেদক, আড়ংয়ে কাগজের শপিং ব্যাগের মূল্য নেওয়া বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা আড়ং করপোরেট অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে তিনি বলেন, আমি আড়ংয়ের একজন নিয়মিত গ্রাহক। বিগত অনেক বছর ধরে আড়ং থেকে কেনাকাটা করে আসছি এবং প্রত্যেক কেনাকাটায় তাদের নিজস্ব লোগো সম্বলিত কাগজের ব্যাগ পেতাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি কেনাকাটার পর মগবাজার আউটলেটে বিল পেমেন্ট করতে গিয়ে জানতে পারি প্রোডাক্টের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে না। কারণ হিসেবে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর ২০২৫ সাল থেকে আড়ং শপিংয়ের সঙ্গে ব্যাগ দেওয়া হয় না। অর্থাৎ কেনাকাটা করলে পূর্বে কাগজের যে ব্যাগ ফ্রিতে পাওয়া যেত, সেই কাগজের ব্যাগগুলোই এখন টাকা দিয়ে কিনতে হবে এবং বিল পেমেন্ট বুথে ‘আপনার প্রিয় আড়ং ব্যাগ এখন আরও অর্থবহ’ এরকমভাবে একটি লিফলেট দিয়ে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে যে আড়ং শপিং ব্যাগের ওপর সীমিত চার্জ প্রযোজ্য এবং ব্যাগ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের পুরোটাই ব্যয় করা হবে স্থানীয় গাছ লাগানোর প্রকল্পে, সবুজ এবং টেকসই উন্নয়ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বিজ্ঞাপন সম্বলিত। নোটিশে বলা হয়, আড়ং দেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর একটি। আড়ংয়ের দেওয়া ব্যাগ, যা বর্তমানে মূল্য বসিয়ে বিক্রি করছে, সেই কাগজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্যাগগুলো রিসাইকেল পেপার, অর্থাৎ এই কাগজগুলো একবার ব্যবহৃত হওয়ার পর মেশিনের মাধ্যমে প্রসেসিং করা হয় এবং দ্বিতীয়বার ব্যবহার উপযোগী করা হয়। কিন্তু রিসাইকেল এই কাগজগুলো দিয়ে বানানো ব্যাগ, কেনাকাটার শেষে বাসায় আসার পরপরই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সুতরাং, এ মানের কাগজের ব্যাগগুলো টেকসই না হওয়ার কারণে মূল্য দিয়ে আড়ৎ থেকে কিনতে হবে, এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক এবং বিশাল গ্রাহক গ্রুপের জন্য এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি করে।

ব্যাগের মূল্যে সংযোজন করার পূর্বে আড়ংয়ের ব্যাগের আধুনিকতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটলে ক্রেতা/ভোক্তা তা মূল্য দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতো। কিন্তু আড়ং ব্যাগে রয়েছে আড়ং ব্র্যান্ডের লোগো। অর্থাৎ একজন ক্রেতা টাকা দিয়ে ব্যাগ কিনবে, তা আবার আড়ংয়ের লোগো ব্যবহৃত হবে; সৃজনশীলতার কোনো ছাপ না রেখে ক্রেতাকে এরূপভাবে একপ্রকার বাধ্য করা এবং প্রতিষ্ঠানের এরূপ প্রচারণা অনৈতিক। সম্প্রতি আড়ংয়ে Reusable Fabric Bags নামে এক ধরনের শপিং ব্যাগের প্রচারণা শুরু করেছে, যা অতি চওড়া মূল্য দিয়ে কিনতে হয়। ব্যাগগুলোর সাইজ এমন মাপের যাতে শুধুমাত্র একটি পণ্য নেওয়া যাবে; অর্থাৎ কোনো গ্রাহক যদি একাধিক পণ্য ক্রয় করে, তার জন্য উচ্চমূল্য দিয়ে তাকে একাধিক ব্যাগ ক্রয় করতে হবে বলে জানা গেছে।

আড়ং এই ব্র্যান্ড আমাদের সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। পরিবারের বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা থেকে শুরু করে, কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য আড়ং সবার কাছে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আড়ংয়ের কাগজের এই শপিং ব্যাগ টেকসই নয়, তাই কোনরূপ সৃজনশীলতার ছাপ না রেখে এ ধরনের ব্যাগের জন্য মূল্য নেওয়া বন্ধ করে, ফ্রিতে দিতে হবে। আড়ংয়ের এরূপ কার্যক্রম কখনোই পরিবেশ সচেতনতার বিষয় পরিলক্ষিত হয় না, বরং এটি সরাসরি এক ধরনের অস্বচ্ছ ব্যবসা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা। এ ধরনের সস্তা মানসিকতা ও স্বেচ্ছাচারিতা আড়ংয়ের মতো ব্র্যান্ডের কাছে থেকে অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক বলে আমি মনে করি।

নোটিশ পাওয়ার ১০ (দশ) দিনের মধ্যে ব্যাগের বিপরীতে মূল্য নেওয়া বন্ধ না করলে বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালত ও কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঘাটাইলে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসি

রাহাত সরকার:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৫ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান এবং ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন।পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয় পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে মণ্ডপগুলো ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, এবার ঘাটাইল উপজেলায় সর্বমোট ৭১ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা মনিটরিং করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ,ঘাটাইল পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা,এস আই রাজু আহমেদ ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাহাত সরকার সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোকিত প্রতিদিন/২৯সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

বিদ্যুৎ মিটারের ডিমান্ড চার্জ ও ভাড়া বাতিলসহ ৫ দাবি

বিদ্যুৎ মিটারের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলসহ ৫ দাবি জানিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতি। ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আনাউর রহমান বলেন, আমরা বর্তমানে ১ কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা দিয়ে থাকি। অন্যদিকে প্রিপ্রেইড মিটারের ক্ষেত্রে আমাদের ১৬৬ টাকা দিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চার্জের হিসাব আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগে নেই।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের মূল্য এক হতে হবে এবং স্লাপ পদ্ধতির বিল বাতিল করতে হবে। দেশে কুইকরেন্টাল ও বিদেশিদের কাছ থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করে সরকার টাকা অপচয় করছে, যার দায় সম্পূর্ণ গ্রাহকের ওপর পড়ছে। এসব চুক্তি বাতিল করে দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।

গাইবান্ধা জেলায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হলে সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক তদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই বিল সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা আজও করা হয়নি। অতিরিক্ত বিল সমন্বয় না করে প্রায় ১০০টির মতো মামলা দিয়ে গ্রাহক হয়রানি করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমি বিদ্যুৎ খাতের চুরি এবং দুর্নীতি রোধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাছে একটি কমিশন তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতে যেসব মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা গ্রহণ করা দরকার। যদি কমিশন গঠনে বিলম্ব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। এছাড়া গ্রাহকের ওপর যেভাবে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারলেও দুর্নীতি কিন্তু বন্ধ হয়নি। যে সরকারকে আমরা প্রতিনিয়ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি, এই সমর্থনকে তারা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে সামাজিক নৈরাজ্য খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই নৈরাজ্যকে যদি দমানো না যায় তাহলে তা রাজনৈতিক নৈরাজ্যে পরিণত হবে। নির্বাচন যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ গভীর বিপর্যয় পড়তে যাচ্ছে।

এ সময় যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো-

১. প্রি-প্রেইড মিটার সংযোগ বন্ধ করতে হবে।

২. ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল করতে হবে।

৩. স্লাপ পদ্ধতির নিল বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে বিল নিতে হবে।

৪. কুইকরেন্টালসহ বিদেশ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করতে হবে।

৫. পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক মনোযোগী হতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

অন্য উপদেষ্টারা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও আমি নিশ্চিত না: মাহফুজ আলম

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সহায়তা করতে চায় ব্রিটেন

আলােকিত প্রতিবেদক:

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রিটেন সহায়তা দিতে চায়। তবে তারা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যই সহায়তা করতে চায় বলে জানান তিনি।

২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর আগারগঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সারাহ কুক বলেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা দিতে চায় ব্রিটেন। এছাড়া পোলিং স্টাফদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটার শিক্ষণ কার্যক্রমেও সহায়তা দিতে চায় তার দেশ।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য বিভিন্ন স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে কমিশন। বিভিন্ন দেশের দূতদের সঙ্গেও বৈঠক করছে সংস্থাটি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

‘আপা’ শব্দটি বদলে ‘গণহত্যাকারী’ লিখলেই হতো: প্রেস সচিব

আলোকিত ডেস্ক,‘শুভ জন্মদিন, আপা।’ গতকাল রাত ৯টার দিকে সাকিব আল হাসান ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে তাকে গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। আর ছবির ক্যাপশনে লেখা ওপরের প্রথম বাক্যটি।

এরপর রাত ১০টার দিকে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘একজনকে পুনর্বাসন না করায় সহস্র গালি দিয়েছেন আপনারা আমাকে। বাট আই ওয়াজ রাইট। এন্ড অব দ্য ডিসকাশন।’ সেই একজনটা কে, ক্রীড়া উপদেষ্টা উল্লেখ করেননি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা সক্রিয়, তাদের ধারণা আসিফ মাহমুদের ইঙ্গিতটা সাকিব আল হাসানের দিকে।

সাকিব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার এই ভার্চুয়াল যুদ্ধে এবার যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি সাকিবকে সরাসরি ইঙ্গিত করে দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

শুধু “আপা” শব্দটি বদলে “গণহত্যাকারী” লিখলেই সাকিব আল হাসানের বার্তা দাঁড়ায়: “শুভ জন্মদিন, গণহত্যাকারী।” দেশের একজন শীর্ষ ক্রীড়াবিদ এমন একজনকে শুভেচ্ছা জানালেন, যিনি শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযুক্ত-এটি সত্যিই লজ্জাজনক।

সন্দেশ স্পষ্ট: শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় ফেরে, তবে সাকিবও সেই রক্তমাখা শাসনে নামতে প্রস্তুত। অতীতের মতোই সুযোগ নিয়ে সুবিধা ভোগের পথ খুঁজবেন তিনি-যেমন অভিযোগ আছে, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি থেকেও তিনি লাভবান হয়েছেন।

বিশ্ব দেখেছে, রাজনীতি কিভাবে ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছে। ব্যারি রিচার্ডস, এডি বার্লো, গ্রায়েম পোলক-সবাই হারিয়েছেন তাদের প্রাপ্য স্থান, কারণ তারা প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের। আজ সাকিবও দাঁড়িয়ে গেছেন একই ধরণের এক স্বৈরশাসনের পাশে-শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা।

অভিযোগ আছে, সাকিবের বাবা নিজেও ছিলেন হাসিনার কথিত ‘লাল বাহিনী’র অংশ। আর আজ সাকিব নিজে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন: যতই প্রমাণ জমা হোক, তিনি এই শাসনের সাথেই থাকবেন।

ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বে এ ধরনের অবস্থান-গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একজনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা-জনসমক্ষে কলঙ্ক ও আলোচ্য মঞ্চ থেকে নির্বাসনের কারণ হতো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তথাকথিত বড় বড় গণমাধ্যম অনেক সময় গণহত্যাকেও গণহত্যা বলতে দ্বিধা করে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সোনারগাঁয়ে রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত 

ফয়সাল আহমেদ:
২৮শ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়—“পর্যটন এবং টেকসই রূপান্তর” (Tourism and Sustainable Transformation)। রাজধানীসহ  দেশের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায়  আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পর্যটকদের সুরক্ষায় বক্তারা বলেন,প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। বিভিন্ন দেশ থেকে এই সোনারগাঁয়ে ঘুরতে আসে অসংখ্য পর্যটকরা। আমরা তাদের কতটুকু সম্মান দিতে পেরেছি হয়তো জানি না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত ঐতিহাসিক স্থান সোনারগাঁ জাদুঘর এবং পানাম নগর সিটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের  থাকার ব্যবস্থা, সুলভ মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সোনারগাঁবাসীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নান  বলেন, বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান যখন সোনারগাঁ পানাম নগরীতে  ঘুরতে আসেন তখন বলেছিলেন, এই পানাম নগরীতে কোন সময় কি বেগম খালেদা জিয়া আসেননি। যদি আসতো তাহলে পানাম নগরের  অবস্থা আরো উন্নয়ন হত। তিনি আরো বলেন,আগামীতে  আল্লাহ যদি আমাকে সোনারগাঁয়ের এমপি হিসেবে  নির্বাচিত করেন ,  তাহলে আমি পানাম নগরীকে উন্নত করার চেষ্টা করব এবং সোনারগাঁয়ে কাঁচপুরে এবং মেঘনা শিল্প নগরী এলাকায় দুটি গেইট স্থাপন করব। ইনশাআল্লাহ।
এসময়, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাজাহান মেম্বার  এর সভাপতিত্বে  ও পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমান  এর সঞ্চালনায়   প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, প্রদান বক্তা  হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন, উপজেলা বিএন পির  সাধারণত সম্পাদক হাজী মোঃ মোশারফ হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আলামিন তুষার,  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, তথ্য  ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের  চেয়ারম্যান মোঃ শামীম মিয়া, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন,সোনারগাঁও জনকল্যাণ যুব সংস্থার সভাপতি মোঃ ফয়সাল আহামেদ,  প্রতিবন্ধী শিশু ও যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সরদার এম এ মইন, পৌর বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক  মোঃ কবির হোসেন, বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান সোহেল, বিএনপি নেতা মোঃ মোশাররফ হোসেন, পৌর বিএনপি নেতা আবু সাঈদ, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, মোঃ ফরিদ হোসেন, মোঃ তাইজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/২৮সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

বিশ্বের সর্বোচ্চ হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতুর উদ্বোধন করলো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনে নির্মাণ কাজ শুরুর তিন বছরের বেশি সময় পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতু হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। রোববার এই সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন এই সর্বোচ্চ সেতুটি একই প্রদেশের আরেকটি সেতুর দখলে থাকা রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।

দেশটির দুর্গম দক্ষিণাঞ্চলীয় গুইঝো প্রদেশে নতুন সেতুটির অবস্থান। নদী ও বিশাল গিরিখাতের ওপর নির্মিত ৬২৫ মিটার (২ হাজার ৫১ ফুট) উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছে হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতু। এর আগে ৫৬৫ মিটার উচ্চতার বেইপানজিয়াং সেতু ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতু। আগের সর্বোচ্চ সেতুটিও একই প্রদেশে অবস্থিত।

রবিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, সেতুটির নীল রঙের বিশাল সহায়ক টাওয়ার আংশিকভাবে মেঘে ঢেকে গেছে। এমন অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী ও স্থানীয় কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন। তারা সেতুটি নিয়ে সরাসরি সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে গর্ব ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুইঝো প্রদেশের পরিবহন বিভাগের প্রধান ঝাং ইয়িন বলেন, হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতু চালু হওয়ায় দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা থেকে কমে দুই মিনিটে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, সেতুটি আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

গত কয়েক দশকে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে চীন। দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নগরায়ণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম গুইঝো প্রদেশে হাজার হাজার সেতু রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ দুটি সেতুও রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০০ সেতুর প্রায় অর্ধেকই গুইঝো প্রদেশে অবস্থিত। সিনহুয়া বলছে, হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সেতু নির্মাণে তিন বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। ১ হাজার ৪২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির প্রধান স্প্যান এটিকে ‌পাহাড়ি এলাকায় নির্মিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্প্যানের সেতু বানিয়েছে।

তবে নিজস্ব কাঠামোর উচ্চতা অনুযায়ী বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতু এখনও ফ্রান্সের মিলাও সেতুর রেকর্ডে আছে। এই সেতুর উচ্চতা ৩৪৩ মিটার।

সূত্র: এএফপি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৮সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

ভারতীয় বাধার মুখে রপ্তানি বাণিজ্য. খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশ. সংকটে বাংলাদেশ

আলমগীর মতিন চৌধুরীঃ বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভারতীয় বাধার মুখে ব্যবসা বাণিজ্য। খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন পরবর্তী একতরফা নিষেধাজ্ঞায় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ, তৈরি করেছে বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ। ভারত সম্পর্কের টানাপোড়নে থমকে গেছে আমদানি রপ্তানী। ভারত বাংলাদেশের স্থলপথে রপ্তানির ওপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দফায় দফায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পাটজাত দ্রব্য, পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফল, কোমল পানীয়সহ কয়েকটি পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের খরচ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অশুল্ক বাধার মুখে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসা যাওয়া কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনার জন্য নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা হলেও আসেনি কোনো জবাব। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। চীনের পর ভারতই বাংলাদেশের জন্য পণ্য ও কাঁচামালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ভারত তৃতীয় দেশে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত করলে বাণিজ্য সংকটের সূচনা হয়। এর এক সপ্তাহ পরেই ঢাকা ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করে দেয়। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, আসবাবসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে নয়াদিল্লি। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) বলেছে, ভারতে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শুধুমাত্র কলকাতা বন্দর এবং মুম্বাইয়ের নবসেবা বন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। স্থলপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হলেও সমুদ্রপথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে এতে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরাসরি শুল্ক বাড়ানো না হলেও কার্যত আমদানি-রপ্তানির বাস্তব পথ সংকুচিত করা হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে এসব পদক্ষেপকে অশুল্ক বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য টানাপোড়েন কমাতে চায় বাংলাদেশ। বরাবরই ভারতে রপ্তানি দ্রব্যের সিংহভাগই যেত স্থলবন্দর দিয়ে। এখন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পাঠাতে হওয়ায় পরিবহন খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ভারতীয় আমদানিকারকেরা প্রায়ই পণ্য পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করছেন। এ কারণে ভারতীয় আমদানিকারক নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এখনো কোনো বৈঠক হয়নি। খরচ বাড়ায় ভারতে রপ্তানিতে ভাটা পড়তে শুরু করেছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, অশুল্ক বাধা নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি ভারতে সচিব পর্যায়ে তিনবার চিঠি দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। বাণিজ্য উপদেষ্টা নিজেও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রীকে আলোচনার জন্য চিঠি লিখেছেন বলে তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান। বাণিজ্য সচিব বলেন, ভারতীয় পক্ষ কেন বৈঠকে আগ্রহী নয়, সে বিষয়েও কিছু বলছে না। অশুল্ক বাধার কারণে ব্যবসার খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সাধারণত প্রতিবছর সচিব পর্যায়ে বৈঠক হলেও গত দেড় বছরে দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো বৈঠক হয়নি বলেও জানান বাণিজ্য সচিব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক রপ্তানিকারক জানান, স্থলবন্দরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় তার ভারতীয় অংশীদার ২০ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বাজারের জন্য ভারতীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করছে। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) যুগ্ম মহাসচিব আবদুল ওয়াহেদ বলেন, এপ্রিল থেকে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ শুরুর পর কিছু স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য আমদানি ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আগে কিছু বন্দর দিয়ে দিনে ৪০০ ট্রাক এলেও এখন তা ১৫০টি ট্রাকে নেমে এসেছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক এখন স্বাভাবিক নেই। দুই দেশের সরকারেরই এই অশুল্ক বাধাগুলো দূর করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে যেখানে আগে ১ টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে ১০ টাকা খরচ হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, স্থলবন্দরগুলোতে বাণিজ্য কমলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩৩৮.২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মোংলা ও পানগাঁওসহ ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য চলাচল কমেছে অর্থমূল্যে ১৫ শতাংশ ও পরিমাণে ১৯ শতাংশ। বিগত ইতিহাস ঘাটলে দেখাযায়, বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর অবনতি এক গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহযোগিতার জায়গা ক্রমে প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত, যা শতাব্দীর প্রাচীন ইতিহাস, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভাষাগত যোগসূত্রে গভীরভাবে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত শুধু রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অংশীদার। বাণিজ্য কেবল অর্থনৈতিক বিনিময় নয় এটি কূটনৈতিক আস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন। ফলে বাণিজ্যে টানাপোড়েন দেখা দিলে তা দুই দেশের আস্থা, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ট্রাম্পের রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ নীতির কারণে অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য উত্তেজনা ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার। বাংলাদেশ পাট উৎপাদনে ভারতের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রপ্তানিকারক। হাজার হাজার কৃষক ও শ্রমিক পাট উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে যুক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক বাণিজ্যিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হলেও দীর্ঘ সময়ে ধাপে ধাপে সম্পর্কের বিস্তৃতি লাভ করেছে। ২০১৫ সালের বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত হাট, ট্রানজিট সুবিধা এবং বন্দর ব্যবহারের নতুন সুবিধা যুক্ত হয়। ২০১৭ সালে সীমান্ত হাট স্থাপনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি নৌপথ, রেলপথ এবং সড়কপথে সংযোগ বৃদ্ধির জন্য একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, যা আঞ্চলিক সংযোগ যোগাযোগ ও টেকসই উন্নয়নে সহায়ক। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর বাণিজ্যিক সংযোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারত ৬১টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়, যার মধ্যে ৪৬টি তৈরি পোশাক পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিবাচক অগ্রগতিই পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করে। ২০১৩ সালে দুই দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড সংযুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে। আদানি গ্রুপের ঝাড়খন্ড প্ল্যান্ট (১,৪৯৬ মেগাওয়াট), বহরমপুর (১,০০০ মেগাওয়াট) এবং ত্রিপুরা (১৬০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ছাড়া খুলনায় নির্মিত ১,৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। বাণিজ্য সহযোগিতার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তি এবং ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের পথ সুগম করেছে। ২০০০ সালের পর ভারত একতরফা ভাবে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি আসে। দেশীয় রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের সাথে ভারত সম্পর্কের চির ধরবে তা বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য উত্তেজনার অর্থনৈতিক, কূটনীতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে দীর্ঘ সুসম্পর্ক আরও মজবুত হবে এমনটাই প্রতিবেদনের প্রত্যাশা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের শহর ও উপজেলা নতুন কমিটি অনুমোদন

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা শাখার পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার টাঙ্গাইল শহর ১১ বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সময় সদর উপজেলা ১১ বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়ে। জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. জোবায়ের আহমেদ রিপন এবং সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুকী এই কমিটির অনুমোদন দেন। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সদস্য সচিব জেলা কমিটির আহ্বায়ক সদস্য সচিব ও অন্য অন্য সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নাই তাই আরাফাত রহমান কোকো সপ্ন কে বাস্তবায়ন করতে হবে এই ক্রীড়া পরিষদের মাধমে। নবগঠিত শহর কমিটিতে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মশিউর রহমান এবং মো. রাসেল রানাকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, ফরমান আলী, মোঃ সুজন চাকলাদার। সদস্য হলো মোঃ আমিনুল ইসলাম, তানভীর রহমান শাওন, মোঃ সাকিব, মোঃ নিবিড়, মোঃ আবির। নবগঠিত সদর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ আলী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইসকান্দার হোসেন সবুজ, এবং মো. আরিফ উর রহমানকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ শাহ আলম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মহির উদ্দিন। সদস্য হলো মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, শোয়াইব হাসান, নুরুল ইসলাম, মঞ্জুুরুল ইসলাম । জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আগামী দুই মাসের মধ্যে পৌর শহরের প্রতিটা ওয়ার্ড কমিটি। সদর উপজেলার অন্তর্গত সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে তার তালিকা জেলা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/২৮সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম