আজ শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 268

রোহিঙ্গাদ শরণার্থীদের জন্য ২০ হাজার টন চাল পাঠিয়েছে দ.কোরিয়া

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মাধ্যমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হবে।

৮ অ‌ক্টোবর বুধবার সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য জা‌নিয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য এবং পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমএএফআরএ) গত ১ অক্টোবর গুনসান বন্দরে ২০ হাজার টন চালবাহী জাহাজের বন্দর ত্যাগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম, দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য এবং পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর মহাপরিচালক, জাতিসংঘ ডব্লিউএফপির উপ-আঞ্চলিক পরিচালক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কাউন্সেলর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কার্যক্রমে অব্যাহত সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ অক্টোবর ২০২৫/মওম

কুড়িগ্রামে তিস্তার প্লাবনে পানিবন্দী ৩হাজার পরিবার, ভাঙনে বিলীন ১৬টি বাড়ি ও ৪টি মসজিদ

জি এম রাশেদুল ইসলাম:

অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে একদিনেই বিলিন হয়েছে ১৬টি বসতবাড়িসহ ৪টি মসজিদ। হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী ৪টি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় ৭ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পরেছে। এদিকে তীব্র  স্রোতের   কবলে প্রায় ৫ একর ফসলি জমিন নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ভাঙনের মুখে রয়েছে স্থানীয় জাতের আগাম পাকাধান ক্ষেত।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত তিন ধরে উজানে ভারি ও অতি ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাব এবং তিস্তা ব্যারেজের কপাট খুলে দেয়ায় তীব্র ¯্রােতের তোড়ে হু-হু করে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আকষ্মিকভাবে একসাথে পানি প্রবাহের ফলে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ, চর নাখেন্দা, সরিষাবাড়ি ও গতিয়াসামের মাঝেরচরে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাশাপাশি গতিয়াসামের মাঝেরচর গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। গত তিনদিনে এই গ্রামের প্রায় ৫ একর ফসলি জমিন নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকীতে রয়েছে দুই শতাধিক বাড়ি ও শতশত বিঘা ফসলী জমিন।
মাঝেরচর গ্রামের খোরশেদ আলী জানান, হঠাৎ করে মাঝরাতে পানিবৃদ্ধির ফলে লোকজন আতংকিত হয়ে পরেন। নদী তীরবর্তী বাড়িগুলো রক্ষায় লোকজন বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাঙন কবলিতদের উদ্ধারে নেমে পরেন। তবে চারদিকে পানি প্লাবিত হওয়ায় ভাঙনকৃত বাড়িঘর রাখা খুব কষ্টকর হচ্ছে। ফলে যেখানে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ঘরবাড়ি রাখছে মানুষ। এছাড়াও যাদের সামর্থ রয়েছে তারা নৌকা ভাড়া করে গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যাচ্ছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রান্না চড়িয়েছেন মাঝেরচর গ্রামের আছরুদ্দির স্ত্রী রোজিনা। চাল পরিস্কার করে হাঁড়িতে বসিয়ে লাউশাক রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানালেন, রাত তিনটা থেকে পানি বাড়ছে। রান্নাবান্না করতে পারি নাই। ভর দুপুরে রান্না বসাইছি। এখন আমাদের চতুর্দিকে কষ্ট। পানির কষ্ট। খাবারের কষ্ট। গ্রামে কোন আশ্রয়কেন্দ্র নাই। ফলে কোথাও যাবার জায়গা নাই।
পাশেই চার/পাঁচটি বাড়ির পরেই সাবিনাদের বাড়ি। তাদের শোবার ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দুসন্তান আর মাকে নিয়ে বিছানায় অবস্থান নিয়েছেন তারা। সাবিনা জানান, রাত থেকে পানি বাড়ার ফলে ঘরের ভিতর পানি ঢুকেছে। ফলে রান্নার কষ্ট হচ্ছে। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, বাচ্চাদের নিয়ে খুব বিপদে আছি।
এই গ্রামের ওসমানের ছেলে সহিজল জানান, গতকাল থেকে বন্যার মধ্যে অবস্থান করছি। বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে। মানুষের দুর্গতি শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান-মেম্বার কোন খোঁজখবর নিচ্ছে না।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলাম জানান, এই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের প্রায় ৭শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। একদিকে পানিবৃদ্ধির ফলে বন্যা, অপরদিকে ভাঙনের ফলে ১৬টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে পরিবারগুলো অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি জানান খিতাব খাঁ গ্রামে ২শ’, চর নাখেন্দা গ্রামে ২শ’ সরিষাবাড়িতে ৫০ এবং চর গতিয়াসাম মাঝের চরে ২৫০টি বাড়িসহ প্রায় ৭ শতাধিক বাড়ি পানিবন্দী হয়ে পরেছে। এছাড়াও একদিনে মাঝেরচরে ভেঙেছে ১৬টি বাড়ি। বাড়িগুলি হচ্ছে, ওসমানের ছেলে সহিজল, সালমানের ছেলে সালাম, হায়দার মুন্সির ছেলে মোস্তাক, তাসলিমের ছেলে বোরহান, নুরুলের ছেলে মোকাদ্দেশ ও কুদ্দুছ, ভুট্টুর ছেলে খোরশেদ, হামিদারের ছেলে অহিজল, শুটকোর ছেলে জয়নাল তেলি, মহুবরের ছেলে জহুরুল, জহুরুলের ছেলে তাইজুল, হাবিলের ছেলে আলমগীর, আনছার তেলির ছেলে অবিরুদ্দিসহ আরও ৩টি পরিবার। এছাড়াও এই চরের ৩টি মসজিদ নদীগর্ভে চলে গেছে। আরও একটি ভাঙ্গার কাজ চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান জানান, সম্প্রতি তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে চর এলাকার বসতিগুলো পানি প্রবেশ করছে। সেখানে আমাদের পর্যাপ্ত নৌকার প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়াও ৮শতাধিক ত্রাণের প্যাকেট মজুদ রয়েছে। যে কোন সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে আমরা সহায়তা করতে পারবো। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি এবং ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করছি।
আলোকিত প্রতিদিন/০৮ অক্টোবর ২০২৫/মওম

সাদুল্লাপুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে তরুণের মৃ*ত্যু 

মোঃ ফিরোজ প্রধান: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে সাপের কামড়ে এনামুল হক (১৯) নামের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনামুল মাছ ধরার জন্য (ঠুসি বসাতে) পার্শ্ববর্তী কৃষি মাঠে যান। এ সময় তাকে বিষধর সাপ দংশন করে। প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখেন তিনি। পরে রাত ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি পরিবারকে জানান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু রংপুরে নেওয়ার পথে ভোররাত  আনুমানিক ৩টার দিকে এনামুলের মৃত্যু হয়।
নি‌হত এনামুল হক ইদিলপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের হাবিজার রহমানের পুত্র ও আজগর আলীর নাতি।
এনামুলের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বাদ আছর তার জানাজার নামাজ নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ওলামা বিভাগের নকলা ইউনিয়ন শাখার কমিটি গঠন

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসহযোগী সংগঠন ওলামা বিভাগের ২নং নকলা ইউনিয়ন শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাফেজ মাওলানা আব্বাস আলী-কে সভাপতি ও হাফেজ মাওলানা আব্দুর রশিদ-কে সেক্রেটারি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক রেজাউল হাসান সাফিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শাহ আলম (শাহজাহান) এক বছর মেয়াদী এ কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক মুন্সী, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ক্বারী মাওলানা আমিরুল ইসলাম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা উসমান আলী, অর্থ সম্পাদক হাফেজ রফিকুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিহাদ হাসান রাসেল, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাফেজ আনিস মিয়াএবং দুইজন কার্যনির্বাহী সদস্য হাফেজ আল আমিন ও হাফেজ জিয়ারুল ইসলাম। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন জামায়াতসহ স্থানীয় ওলামাদের সমন্বয়ে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সাবেক আমীর ও বর্তমান অফিস সম্পাদক মুফতী খাদীমুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নবী হোসেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত নকলা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল হাসান সাফিতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে বাসার কক্ষে পড়েছিল মরদেহ, ৯৯৯- এ কল পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জ জেলা শহরের পোড়রা এলাকার ভাড়া করা বাসার একটি কক্ষ থেকে সামায়েল হাসদা নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কক্ষের খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সামায়েল হাসদা (৩২) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের সরকার হাসদার ছেলে। তিনি বেসরকারি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বারসিকের মানিকগঞ্জ জেলার প্রধান কার্যালয়ে সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা পদে চাকরি করতেন। বারসিকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বিমল রায় বলেন, জেলা শহরের পোড়রা এলাকায় একটি বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন সামায়েল হাসদা। তিনি পুজার ছুটিতে ১ অক্টোবর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছুটিশেষে আজ তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিলো। তিনি গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে মানিকগঞ্জে তাঁর ভাড়া করা বাসায় আসেন । আজ সকালে কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাঁর বাসায় গিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। এটা বাসার মালিক সুলতান উদ্দিনকে জানালে তিনি সরকারি জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে সদর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা ওই বাসায় যান। এরপর বাসার কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে খাটের ওপর সামায়েলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা। তিনি বলেন, ‘সামায়েল গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত ছিলেন। কর্মস্থলে কাজের প্রতি তিনি খুবই আন্তরিক ছিলেন। তিনি ভালো ফুটবলও খেলতেন। আজ বেলা দুইটার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের পোড়রা এলাকার তিন তলা বাসার নিচতলার একটি কক্ষে খাটের ওপর ওই যুবকের মরদেহ পড়ে আছে। সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুর রহমান মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছেন। ওই যুবকের মরদেহ দেখতে আশপাশের উৎসুক মানুষজন ওই বাসায় ভিড় করেছেন। এ সময় কথা হলে বাসার মালিক সুলতান উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর ধরে বাসার নিচ তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সামায়েল একাই থাকতেন।এসআই আশরাফুর রহমান বলেন, কক্ষের ভেতর টেবিলে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত,আহত ১০

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া নামক স্থানে  ৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাক ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে  ঢাকায় স্থানান্তর(রেফার) করা হয়েছে।
নিহতরা হচ্ছেন- কালিহাতী উপজেলার বানিয়াফৈর গ্রামের মুক্তার আলী(৪৫) ও একই এলাকার গ্রামের জহের আলী(৪০)। হতাহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ২০ জন নির্মাণ শ্রমিক কালিহাতী উপজেলার ঘুনি-সালেংকা এলাকায় ঢালাইয়ের কাজ শেষে কালিহাতী থেকে পিআপভ্যানযেগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পিকআপভ্যানটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া নামক স্থানে পৌঁছালে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পিআপভ্যানটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপভ্যানে থাকা অন্তত ১২ জন নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক দুই জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতাবস্থায় দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহ দুটি আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম

ক্ষুদে ক্রিকেটার ঈসার পাশে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া অফিস

জি এম রাশেদুল ইসলাম:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের গোলেরহাট গ্রামের সেই বিস্ময় বালক ক্ষুদে ক্রিকেটার মোহাম্মদ ঈসার পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া অফিস।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পর জেলা ক্রীড়া অফিস ঈসাকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়।
সোমবার বিকালে ঈসা ও তার পরিবার জেলা ক্রীড়া অফিসে গেলে, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসাইন তার হাতে ফুল সেট ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। প্রদত্ত ক্রীড়া সামগ্রীর মধ্যে ছিলো দুটি ব্যাট, ছয়টি বল, তিনটি হেলমেট, তিন জোড়া প্যাড, ছয়টি স্ট্যাম্প, দুটি ব্যাটিং গ্লাভস এবং একটি ফুটবল।
জেলা ক্রীড়া অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমিনুর রহমান (ঈসার বাবা) বলেন, সন্তানের খেলার প্রতি আগ্রহ থেকেই ইউটিউব দেখে ব্যবসার ফাঁকে সকাল-বিকাল প্রশিক্ষণ দিচ্ছি ছেলেকে । আমার সন্তানকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় বানানোর জন্য আমি পরিশ্রম করে যাচ্ছি । সে যেনো দেশের হয়ে সুনাম বয়ে আনতে পারে। আর জেলা ক্রীড়া অফিসের এ সহযোগিতা আমাকে আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে। আমি ক্রীড়া কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে ক্রিকেট সম্পর্কে নতুন নতুন ধারণা দেওয়ার জন্য।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসাইন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিভাবান শিশু ঈসার খেলা আমার নজর কেড়েছে । সে একজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় । তাকে ক্রিকেট কোচের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে অনেক ভালো করবে বলে আশা করি । এসব তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পাশে জেলা ক্রীড়া অফিস সবসময় থাকবে ।
তিনি আরও জানান, বিকেএসপিতে ঈসার ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে ।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ ঈসা মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। বাবা আমিনুর রহমান ও মা মারুফা খাতুনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ঈসা। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পিতা-পুত্রের এই ক্রিকেটযাত্রা এখন কুড়িগ্রামবাসীর অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম

মুরাদনগর কোম্পানীগঞ্জ মোবাইল কোর্টের অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

নাজমুল হাসান।।
কুমিল্লার মুরাদনগরে যৌথ অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক লাখ তেইশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডার লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না কারেন্ট জাল এবং রিং জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

৭ অক্টোবর সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা মৎস্য অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন,   ১৯৯৫; ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯; এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুসারে মোট ১২টি মামলায় ১,২৩,০০০/- (এক লক্ষ তেইশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

পাশাপাশি মুরাদনগর ১৫ নং নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ জাল বাজারে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না কারেন্ট জাল এবং রিং জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমরা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখব।ৎ

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম

সবার আগে বাংলাদেশ, জনগণ ও সার্বভৌমত্ব : তারেক রহমান

বিবিসি বাংলা:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ় থাকবে, উনাদের কাজে যত বেশি দৃঢ় থাকবেন, ততই সন্দেহ আস্তে আস্তে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। ৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করা হয়– আপনি কয়েক মাস আগে একটি মন্তব্য করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আপনার মনে সেই সন্দেহ এখনো আছে?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আমি যখন এই কথাটি বলেছিলাম, এই মুহূর্তে আমার যতটুকু মনে পড়ে সেই সময় পর্যন্ত ওনারা কিন্তু নির্বাচনের ব্যাপারে সঠিক কোনো টাইম ফ্রেম বা কোনো কিছু বলেননি। রোডম্যাপ বলতে যা বুঝায়, আমরা নরমালি যা বুঝে থাকি, এরকম কিছু বলেননি। সে কারণেই শুধু আমার মনের মধ্যেই নয়, আমরা যদি সেই সময় বিভিন্ন মিডিয়া দেখি, বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দেখি যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করেন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে, প্রায় সকলের মনের মধ্যেই সন্দেহ ছিল।’

‘আমরা যখন দেখলাম যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূস উনি মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার উনি উনার যে সিদ্ধান্ত সেটির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারপর থেকেই খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সন্দেহটি বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে ধরেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, উনারা যা বলেছেন উনারা যতক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ় থাকবেন, উনাদের বক্তব্যে উনাদের কাজে যত বেশি দৃঢ় থাকবেন, ততই সন্দেহ চলে যাবে আস্তে আস্তে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন– জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি তো রাজনৈতিক। এটি তো কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা প্রথম থেকে যে কথাটি বলেছি যে, আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হোক। অর্থাৎ অনেক কিছুর মত বিভিন্ন বিষয় আছে- যেমন আমরা যদি মূল দুটো বিষয় বলি যে, কিছু সংস্কারের বিষয় আছে, একই সাথে প্রত্যাশিত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বাধীন নির্বাচনের একটি বিষয় আছে।’

‘মূলত কিছু সংস্কারসহ যেই সংস্কারগুলো না করলেই নয়, এরকম সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক সুষ্ঠু, স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। আমরা প্রত্যাশা করি যে, উনারা উনাদের উপরে যেটা মূল দায়িত্ব, সেটি উনারা সঠিকভাবে সম্পাদন করবেন। এটাই তো উনাদের কাছে আমাদের চাওয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, প্রত্যাশা করি যে, উনারা করবেন কাজটি সুন্দরভাবে। স্বাভাবিকভাবে এই কাজটির সৌন্দর্য্য বা কতটুকু ভালো, কতটুকু ভালো বা মন্দভাবে করতে পারছেন, তার ওপরেই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা যেটাই বলেন, সেটা নির্ভর করবে।’

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানে ইন্টেরিম, মানে এটা তো ক্ষণস্থায়ী বিষয়টি। তো খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশ পরিচালনা তো একটি বিশাল বিষয়। আমরা হয়তো ভূখণ্ডের ভিত্তিতে যদি বিবেচনা করি, হয়তো বাংলাদেশকে অনেকে বলবে ছোট দেশ। কিন্তু আমরা যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিবেচনা করি, বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক ভূখণ্ডের চেয়ে বড় দেশ।’

‘ইউকের (যুক্তরাজ্য) জনসংখ্যা সাত কোটির মতো, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্লাস-মাইনাস ২০ কোটির মতো এখন। কাজেই ইউকের তিন গুণ বড়। এরকম একটি দেশ পরিচালনা করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটসহ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। বিভিন্ন বিষয় থাকে, ইস্যুজ থাকে, বিভিন্ন বিষয় আছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘তো এখন নির্বাচনের বাইরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পারফরমেন্স আপনি যেটা বললেন, আমরা সকল কিছু বিবেচনা করলে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, হয়তো উনারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই তো আর সফল হতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে ওনাদের লিমিটেশনস কিছু আছে। সেই লিমিটেশনসের মধ্যে উনারা হয়তো চেষ্টা করেছেন, যতটুকু পেরেছেন হয়তো চেষ্টা করছেন।’

এক এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের সময়টাকে ঘিরে আপনার মূল্যায়নটা কি? জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘এক বাক্যে বা সংক্ষেপে যদি বলতে হয়, এক এগারোর সরকার তো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সেই সরকার আসলে কীভাবে দেশের যতটুকু যেমনই হোক বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যতটুকুই রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল ভুল-ত্রুটি সবকিছুর ভেতর দিয়েই।’

‘কিন্তু আমরা দেখেছি যে, কীভাবে তারা সবকিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। দেশকে একটি অন্ধকার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে দেখেছি যে, খুব সম্ভবত তাদেরই ভিন্ন আরেকটি রূপ; অন্যভাবে দেখেছি আমরা ‘ইন দি নেম অব ডেমোক্রেসি’।

কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতি কী হবে– জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘গুড কোশ্চেন। বিএনপির মূলনীতি একটাই- সবার আগে বাংলাদেশ। কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির নীতি সবার আগে বাংলাদেশ। আমার , আমার দেশ, আমার সার্বভৌমত্ব। এটিকে অক্ষুণ্ন রেখে, এটি স্বার্থ বিবেচনা করে, এই স্বার্থকে অটুট রেখে বাকি সবকিছু।’

এটাকে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব বলা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, ওদেরটা ওরা বলেছে, আমি ভাই বাংলাদেশি। আমার কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ বড়, আমার কাছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বড়। কাজেই কে কি বলল… সবার আগে বাংলাদেশ, সিম্পল, কমপ্লিকেট (জটিল) করার কিছু নাই, এটা সিম্পল ব্যাপার।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম

১৫ স্ত্রী আর ১০০ ভৃত্য নিয়ে আমিরাতে এসওয়াতিনির রাজা, পুরোনো ভাইরাল ভিডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ এসওয়াতিনির রাজা মসোয়াতি তৃতীয়র পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে তাকে ১৫ স্ত্রী ও সঙ্গীদের বিশাল বহরসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে পৌঁছাতে দেখা যায়। গত জুলাইয়ে প্রথম প্রকাশিত এই ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যক্তিগত বিমান থেকে নামছেন রাজা মসোয়াতি। আর তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে হাঁটছেন অভিজাত পোশাকে সজ্জিত নারীরা।

এসওয়াতিনির সাবেক নাম উল্লেখ করে ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‌‌১৫ স্ত্রী ও ১০০ জন কর্মচারীসহ আবুধাবিতে পৌঁছেছেন সোয়াজিল্যান্ডের রাজা। তার বাবা রাজা সোবুজা দ্বিতীয়র ছিল ১২৫ স্ত্রী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজা মসোয়াতি তৃতীয় ওই সফরে আবু ধাবিতে তার ৩০ জন সন্তানকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। রাজপরিবারের আগমন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কয়েকটি টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগােযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার শুরু হয়। অনেকেই রাজপরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাপন আর দেশের সাধারণ জনগণের দারিদ্র্যের ভয়াবহ বৈষম্য তুলে ধরেন।

dhakapostঅনেকেই রাজার জাঁকজমকপূর্ণ এই সফর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, দেশে জনগণ যখন বিদ্যুৎ পায় না, তখন রাজা ব্যক্তিগত বিমানে করে বিদেশ সফর করছেন। আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‌‌এসওয়াতিনি কি এত ধনী রাষ্ট্র যে রাজা ব্যক্তিগত বিমানে চড়তে পারেন?

আরেকজন লিখেছেন, এই ব্যক্তি প্রাইভেট বিমানে ঘোরেন অথচ তার দেশের মানুষ অনাহারে মারা যায়। কেউ কেউ হাস্যরসাত্মক মন্তব্যও করেছেন। একজন লিখেছেন, রাজার এত স্ত্রীর দেখাশোনার জন্য আলাদা কোনও সমন্বয়ক আছে কি না?

রাজ সম্পদ:

আফ্রিকার একমাত্র পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী রাজা হিসেবে মসোয়াতি তৃতীয় ১৯৮৬ সাল থেকে এসওয়াতিনি শাসন করে আসছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসওয়াতিনির রাজার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

অপরদিকে, দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধসে পড়েছে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সঙ্কটের কারণে নাগরিকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্থিক সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছেন এবং অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশটিতে বেকারত্ব বেড়ে ২৩ শতাংশ থেকে ৩৩.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও দেশের নির্মাণ, পর্যটন, কৃষি, টেলিযোগাযোগ ও বনজ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং শেয়ারের মালিকানা রয়েছে রাজা মসোয়াতির।

আফ্রিকার ছোট্ট এই দেশটির রাজা মসোয়াতি ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিলাসী জীবনযাপনের জন্য ব্যাপক পরিচিত। প্রতিবছর ‌‌‘‘রিড ড্যান্স’’ নামের এক প্রাচীন নৃত্য উৎসবে নতুন করে একজন স্ত্রী নির্বাচন করেন তিনি। ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নতুন স্ত্রী বেছে নেওয়ার এই আয়োজন নিয়ে অনেকে প্রশংসা করলেও দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা।

এসওয়াতিনির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এমন একটি দেশে রাজপরিবারের সীমাহীন ঐশ্বর্য আর বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর ২০২৫/মওম