আজ শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 263

জয়পুরহাটে তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী একসঙ্গে গণ মিছিল ও লিফলেট বিতরণ

আতিয়ার রহমান রাজু,আক্কেলপুর প্রতিনিধি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে গণমিছিল ও লিফলেট বিতরণ এবং ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যাগে কালাই উপজেলার শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কালাই পৌর শহরের পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে র‍্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এতে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মোঃ সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আব্বাস আলী, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা ফজলে কাদের সোহেলসহ কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অংশ নেন। আক্কেলপুর উপজেলা থেকে গণ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল মজিদ ও ছাত্রনেতা মোঃ ইমন আহমেদ

সমাবেশে বক্তারা দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পুরো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিএনপির ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার লিফলেট সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ফুটপাত দখলদারদের দৌরাত্ম্যে নাজেহাল বগুড়া শহরবাসী; দেখার কেউ নেই

মাজেদুর রহমানঃ

ব্যস্ত শহর বগুড়ার ফুটপাত দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। দখলদারদের সার্বক্ষণিক অপতৎপরতায় পথচারীদের বিরম্বনা চরমে।প্রতিবাদ করলেও লাঞ্চণার শিকার হন পথচারীরা।ফলশ্রুতিতে  বিশৃঙ্খলার নগরীতে পরিণত হয়েছে বগুড়া শহর।শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিদ্যমান ফুটপাত  পথচারীদের ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করলেও তা এখন পুরোপুরি দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। যথাযথ তদারকি না করায় হকার, দোকানি, ঠেলাগাড়ি ও পণ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে বগুড়া শহরের ফুটপাত।এতে হাঁটার জায়গা হারিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।ফলে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতমাথা থেকে তিনমাথা রোড, শহীদ খোকন পার্ক, গালাপট্টি মোড়, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া, কাঠালতলা, রাজা বাজার ও বড়গোলা পর্যন্ত ফুটপাতের ওপর গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, ফলমূলের ঠেলাগাড়ি, শরবতের স্টল, পোশাক বিক্রেতা, এমনকি জুতা, টুপি, মোজা ও গৃহস্থালির পণ্য বিক্রেতাদের সারি।
শহরের অভিজাত জলেশ্বরীতলা ও আদালত পাড়া এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই বসে যায় স্ট্রিট ফুডের সাম্রাজ্য—প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫টি দোকান চলে গভীর রাত পর্যন্ত। একই চিত্র সাতমাথার পার্টি অফিস এলাকা এবং জিলা স্কুলের সামনেও।

ফুটপাত দখলে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক পথচারীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে হাঁটার সময় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা পরই দখলদাররা ফিরে আসছে আগের জায়গায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আশা করছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হলেই দখলদাররা ফিরে আসে। কেউ কেউ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে ‘অঘোষিত অনুমতি’ নিয়েই ব্যবসা চালায়।

শহরের সৌন্দর্য ও চলাচল নিরাপদ রাখতে নাগরিকদের দাবি—পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত পথচারীর, ব্যবসার নয়। দখল শুধু ভোগান্তি নয়, এটি জননিরাপত্তা ও নগর পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বিকল্প হকার মার্কেট ও কঠোর আইন প্রয়োগই পারে স্থায়ী সমাধান দিতে।

বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা—ফুটপাত ফিরে পাক পথচারী, বিশৃঙ্খলা নয়—শৃঙ্খল শহর হোক আমাদের বগুড়া।

ক্যাপশনঃ বগুড়া শহরের ফতেহ আলী মাজার গেট এলাকায় ফুটপাত দখলের চিত্র।ছবি: মাজেদুর রহমান।

আলোকিত প্রতিদিন/১১অক্টোবর ২০২৫/মওম

ধামরাই প্রেসক্লাবের ৭ম দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

মামুন আহমেদ জয়, ধামরাই প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির ৭ম দ্বিবার্ষিক নির্বাচন-২০২৫ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাই টিভির ধামরাই প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ তুষার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহনা টিভির ধামরাই প্রতিনিধি আব্দুল আহাদ বাবু। এছাড়া, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মনোয়ার হোসেন রুবেল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন রাসেল হোসেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নোয়াখালী পৌর ব্যবসায়ী নির্বাচনে প্যানেল পরিচিতি সভা ‘২৫ অনুষ্ঠিত 

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:

আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৫ নোয়াখালী সুপার মার্কেটের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে নোয়াখালী পৌর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের ইকরাম উল্যা ডিপটির প্যানেল পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১১ অক্টোবর ) দুপুর ১২টায় নোয়াখালী সুপার মার্কেটের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়।সভার শুরুতে পবিত্র কোরান পাঠ করেনমো: সারোয়ার কামাল।
সমিতির সদস্য ব্যবসায়ী মো: ইকবালের সঞ্চালনায় পরিচিতি সভায় সভাপতিত্ব ও প্যানেল পরিচিত করেন সমিতির কার্যকরি কমিটির সভাপতি ইকরাম উল্যা ডিপটি।এছাড়া আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী নেতা সিরাজ উদ্দিন, আবুল বাশার ফিরোজ,মর্ডান গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী নূর নবী,হাজী আবি ইউসুফ, মো: শহিদ,মো: জসিম,মো: হাসান,আজিজুর রহমান,কাজী গোলাম হায়দার প্রমুখ।
সভাপতি ইকরাম উল্যা ডিপটি তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন,আমার নেতৃত্ব মার্কেটটি আজ ৮ম তলায় রূপান্তরিত হওয়ার পথে।এটি দৃশ্যমান উন্নয়ন।আপনাদের সহযোগীতায় ব্যবসায়ীদের কল্যাণ ও মার্কেটের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তি করে অবসরে যেতে চাই।বয়স হয়েছে,আমি চাই এরপরে নতুন নেতৃত্ব আসুক।
পরে উপস্থিত একাংশ ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও বর্তমান কার্যকরি কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রায়হানকে সভায় উপস্থিত হতে সভাপতির দৃষ্টিতে আনলে তিনি মোবাইলে অনুরোধ জানিয়ে সভায় আসতে বলেন।সভায় উপস্থিত হয়ে সিরাজুল ইসলাম রায়হান,  ইকরাম উল্যা ডিপটি প্যানেল থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।এসময় সভায় উপস্থিত শতাধিক ব্যবসায়ী করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানিয়ে উক্ত প্যানেলকে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১১অক্টোবর ২০২৫/মওম

সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খানের মেয়ের সঙ্গে বাগদান সারলেন ইশরাক

আলোকিত প্রতিবেদক:
বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যারিস্টার নুসরাত খান তাঁর জীবনসঙ্গী হলেন।

১১ অক্টোবর শনিবার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান,শুক্রবার ১০ অক্টোবর রাতে পারিবারিকভাবে বাগদান এবং আংটি পরানোর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

ব্যারিস্টার নুসরাত টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া গ্রামের মেয়ে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খানের বড় মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানায়, শিগগিরই রাজধানীতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে স্বজন এবং সহকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১১অক্টোবর ২০২৫/মওম

বাংলাদেশে তরল গ্যাস বহন করে আনা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের পেট্রোলিয়াম ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রপ্তানিতে সহায়তা করার অভিযোগে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন করে পরিচালিত একটি নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কাতেও জ্বালানি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

মার্কিন অর্থ বিভাগীয় সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি)  ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এই নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করে। ওএফএসি-এর মতে, ইরানের ‘আর্থিক প্রবাহ কমানো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃক সন্ত্রাসী হিসেবে মনোনীত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার নীতির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের এলপিজি-র দুটি চালান বাংলাদেশে সরবরাহ করেছে। এছাড়া, বর্তমানে চলমান অন্যান্য পরিবহন কার্যক্রমের বিষয়টিও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই চক্রের সহায়তায় ইরান বিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করছে, যা দেশটির সরকারের জন্য একটি বড় রাজস্ব উৎস।’

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলি ইরানের ‘জ্বালানি রপ্তানি কার্যক্রমকে দুর্বল করার’ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এটি ওয়াশিংটনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতির একটি ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশে আসা চালানের বিবরণ নিম্নরূপ: নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান—স্লোগাল এনার্জি ডিএমসিসি এবং মারকান হোয়াইট ট্রেডিং ক্রুড অয়েল অ্যাবরোড কোম্পানি এলএলসি। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ইরানি এলপিজি চালান পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। ওএফএসি জানিয়েছে, এদের মাধ্যমে একাধিক চালান শেষ পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছেছে।’

মার্কিন অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘গ্যাস ডিওর’ ১৭ হাজার টনেরও বেশি ইরানি এলপিজি বাংলাদেশে সরবরাহ করেছিল। এছাড়া, ২০২৪ সালের শেষ দিকে কোমোরোসের পতাকাবাহী জাহাজ ‘আদা’ (আগের নাম ক্যাপ্টেন নিকোলাস) বাংলাদেশের কিছু ক্রেতার কাছে ইরানি এলপিজি পৌঁছে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি-এর মালিকানাধীন এই জাহাজটিকে সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিএলপিজি সোফিয়া’ নামের একটি ছোট জাহাজে এলপিজি খালাসের সময় গত বছরের ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাসে’ আগুন লাগে। প্রায় ৩৪ হাজার টন এলপিজি বহনকারী এই জাহাজটি আইনি জটিলতার কারণে কয়েক মাস আটকে থাকার পর চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় গ্যাস স্থানান্তরের অনুমতি পায়। ভেসেল-ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, জাহাজটি এখনও চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা আছে।

যদিও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার নাম নেই, তবে এই চালানের উল্লেখের কারণে বাংলাদেশকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি আওতায় দেখা হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুসারে, নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়িত বিদেশি কোম্পানিগুলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর ঝুঁকিতে থাকে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর মতো কঠিন পরিণতি হতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/১১অক্টোবর ২০২৫/মওম

ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষানবিশ আইনজীবী শ্যামল, চট্টগ্রাম সাইবার কোর্টে এখনো বহাল তবিয়তে

আদালত প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ॥ গতবছর (২০২৪) চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে উগ্রবাদী ইসকনকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ইন্ধনদাতা এবং আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট, শিক্ষানবিশ আইনজীবী শ্যামল মজুমদার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে এখনো বহাল তবিয়তে। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বিএনপি- জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মাঝে। আদালত ও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে আওয়ামীপন্থী পিপি চকরিয়ার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সহকারী ছিলেন চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি ফ্যাসিষ্ট শ্যামল মজুমদার। আওয়ামী দোসর মেজবাহ উদ্দিন পিপি পদ থেকে বিতাড়িত হলেও বিএনপি সমর্থিত পিপি সেলিম উদ্দিন শাহীনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এখনো বহাল তবিয়তে আছেন আওয়ামী দোসর শিক্ষানবিশ আইনজীবী শ্যামল। অত্যন্ত সুচতুর শ্যামল মজুমদারের ছদ্মনাম শ্যামল চৌধুরী নামেও পরিচিত। চট্টগ্রাম আদালত পাড়ার প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ একাধিক আইনজীবী আলোকিত প্রতিদিনের প্রতিবেদককে বলেন, বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে সেলিম উদ্দিন শাহীন হালিশহর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন এবং বিএনপি- জামায়াতের বিরুদ্ধে কড়াভাবে বক্তৃতা দিতেন। এ সংক্রান্ত অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশের ছবি সংগৃহীত আছে। ইসকন সমর্থিত আওয়ামী দোসর শ্যামল মজুমদারের বিষয়ে জানতে চাইলে পিপি শাহীনকে ফোন করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি যথাক্রমে এডভোকেট আবদুস সাত্তার- এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পিপি শাহীন যাকে সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তাঁকে আমরা চিনিনা। এই তিন আইনজীবী বলেন, তার বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি! আওয়ামী দোসর হলে শ্যামলের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যাবস্থা নেব। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তরুণ নেতা ইসরাফিল খসরুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলিম উদ্দিন শাহীন আওয়ামী দোসরকে সহকারী হিসেবে রেখেছে, এ সংক্রান্ত প্রমাণ পেলে শাহীনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের লালন পালন করার জন্য আমরা কাউকে নিয়োগ দেইনি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ, আওয়ামী দোসরদের যারা লালন পালন করবে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সেলিম উদ্দিন শাহীন যাকে সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সেই শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আমরা চিনিনা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

উপদেষ্টাদের প্রয়োজন নেই,বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে জাতির সেফ এক্সিট দরকার: আসিফ নজরুল

আলোকিত ডেস্ক:

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বর্তমানে অনেকেই সেফ এক্সিটের কথা আলোচনা করছেন। আসলে উপদেষ্টা হিসেবে সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই। তবে এখনকার রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে এই জাতির সেফ এক্সিট হওয়া দরকার।

১১ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (খসড়া)’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, গত ৫৫ বছর আমরা দুঃশাসন দেখেছি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখেছি, ব্যাংক লুট করে সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এটাও দেখেছি। এই ভয়াবহ অসুস্থ আত্মধ্বংসী রাষ্ট্র কাঠামো থেকে আমাদের সেফ এক্সিট প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন–পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সিগফ্রিড রেনগলি, ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আন্ডার্স বি. কার্লসেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের স্টেফান লিলার, আইন সচিব ড.হাফিজ আহমেদ প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১১অক্টোবর ২০২৫/মওম

অস্থির অর্থবাজার. সোনা নিয়ে কারসাজি ইতিহাস গড়েছে স্বর্ণের দাম

আলমগীর মতিন চৌধুরী: দেশে বিভিন্ন জিনিস পত্রের সাথে সাথে অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, গড়েছে ইতিহাস। টাকা আছে নেই ডলার। বাজার অর্থনীতি ঘিরে বাংলার বিবর্ণ আকাশ। অনিয়ম দুর্নীতির কবলে দেশ, গৌরব ঐতিহ্য হারিয়ে দিশেহারা জাতি। ষাট দশকের শেষ দিকে ১ ডলার সমান ছিল সাড়ে ৬ টাকা। ১৯৫৩ সালে ১ মন চালের দাম ছিল ১৩ টাকা, ১ ভরি সোনার দাম ছিল ৭৬ টাকা, ১৯৭০ সালে ১ মন চালের দাম ২০ টাকা, ১ ভরি সোনার দাম ছিল ১শ ৮৪ টাকা, স্বাধীনের পরে স্বর্ণের ভরি ছিল ২শ টাকা। দেশে দীর্ঘ অস্থির রাজনীতি, সীমাহীন লুটপাট, অর্থপাচারে অনিয়ন্ত্রীত হয়ে পড়েছে অর্থবাজার। রাজনৈতিক ক্ষমতার টানাপোড়নে উলঙ্গ দেশ। ভঙ্গুর অর্থনীতি নিরাপত্তাহীন বিনিয়োগ বাণিজ্য। ডলারের সাথে সাথে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি দ্রব্যের আকাশ ছুঁই ছুঁই, ব্যাপক ভাবে বেড়েছে সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম। সাধু অসাধু সবাই জানেন, বৈধ অবৈধ যেকোন অর্থে স্বর্ণ কিনে সরাসরি মালিক হওয়া ও সহজে মজুত করা যায়। ফলে যারা সরকার কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীন, তাদের কাছে স্বর্ণ জনপ্রিয় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৫০ বছরে ১ হাজার ৪৫ দশমিক ৫০ গুণ। বিগত ২০ বছরে বেড়েছে ৩০ গুণ। বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা অস্বাভাবিক হলেও মন্দার আশঙ্কা ও বাজার অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। সোনার দাম বৃদ্ধির গতি থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব বাজার যেমন তেমন বাংলাদেশে এই প্রভাব পড়েছে বেশি। দাম বাড়তে বাড়তে এখন ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ টাকা। যা এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বোচ্চ দাম। হঠাৎ বাংলাদেশে স্বর্ণের সীমাহীন দাম বৃদ্ধির কারণ বিশ্ববাজারে ডলার বিনিময় মানের ধস, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা) দাম বৃদ্ধির কথা জানা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বর্ণের দাম বেড়েছে সত্য কিন্তু দেশীয় বাজরে স্বর্ণের দাম আকাশ ছোঁয়া কেন, এমন উত্তর কে দিবে। আসলে অনেকে জানেনই না কিসের ভিত্তিতে কেনো-ই বা স্বর্ণের দাম ওঠানামা করে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়লেও ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। আতঙ্ক নয় জানা দরকার, নতুন বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ও প্ল্যাটফর্ম সুবিধা দেয় অস্ট্রেলিয়ার কেসিএম ট্রেড। অনেকসময়, অনিশ্চয়তা, অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝোকেন। এটি বহুল প্রচলিত প্রবণতা। এর কারণ হলো- অন্যান্য সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের মূল্য তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। গত দুই বছরে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যারা সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীন, তাদের কাছেও স্বর্ণ জনপ্রিয়। স্বর্ণ বাণিজ্যের দুটি প্রধান বাজার পদ্ধতি আছে। প্রথমটি হলো, বুলিয়ন সোনা বার, ইনগট, গয়না, কয়েন আকারে ক্রয়। দ্বিতীয়টি হলো, ফিউচারস মার্কেট। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট দামে স্বর্ণ কেনাবেচার চুক্তি হয়। এ ছাড়া, বড় ক্রেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বড় ব্যাংক থেকে স্বর্ণ ক্রয় করে থাকে। স্পট মার্কেটে দাম নির্ধারিত হয় তাৎক্ষণিক চাহিদা ও যোগানের গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে। মূলত, লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলবিএমএ) কারণে লন্ডন হলো স্পট গোল্ড মার্কেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী কেন্দ্র। এলবিএমএ স্বর্ণ বাণিজ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করে পাশাপাশি ব্যাংক, ডিলার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘ওভার-দ্য-কাউন্টার’ লেনদেনের জন্য কাঠামো ঠিক করে দেয়। এছাড়া চীন, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র স্বর্ণ বাণিজ্যের অসংখ্য কেন্দ্র রয়েছে। লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোল্ড ফিউচার মার্কেট হলো নিউ ইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ এর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন (কমেক্স)। চীনের সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জেও গোল্ড ফিউচারস কনট্রাক্ট কেনাবেচা হয়। এশিয়ার স্বর্ণের বাজার জাপানের টোকিও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (টোকম)। আসলে কয়েক বছরে বিনিয়োগে বাড়তে থাকা আগ্রহই স্বর্ণের দাম ওঠানামার মূল কারণগুলোর একটি। এ ছাড়া, মুদ্রা বাজারে অস্থিরতার বিপরীতে ঝুঁকি কমানোর কৌশল হিসেবেও স্বর্ণকে ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্য গতভাবেই স্বর্ণ মার্কিন ডলারের বিপরীতে অবস্থান করে। ডলারের মূল্য কমলে স্বর্ণের মূল্যও কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। তবে ডলার দুর্বল হওয়ার সময় স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হয়েছে চীনের পণ্যেও। বিশ্ব বাণিজ্যে যে উত্তেজনা চলছে, সেটি মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এতে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিও স্বর্ণের দামের গতিপথকে প্রভাবিত করে। মার্কিন ডলার যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম তাই, মন্দার পূর্বাভাস পেলে অনেক দেশ ডলার সংরক্ষণ শুরু করে। যেটা বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি লক্ষ্যকরি তা হলে দেখাযায়, গত কয়েক মাস ধরেই ডলারের মান কমছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কর্তন করায় চলতি বছর ডলারের মান ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে ডলার সংরক্ষণের বদলে অনেকে স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন। ডলারের পর আরেকটি জনপ্রিয় মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয় জাপানি ইয়েন’কে। কিন্তু এটির মানও দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচি নির্বাচিত হওয়ার খবরে দুর্বল হয়েছে। কারণ, সানায়ে রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী ব্যয়, করছাড় ও কম সুদের হারকে সমর্থন করেন। প্রায় কাছাকাছি সময়ে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সাক্ষী হয়েছে। মন্ত্রীসভা গঠনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লকর্নু। এই ঘটনাও ইউরোর মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত বছর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে চলছে অস্থির রাজনীতি, সবকিছু মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করেছেন। স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাজারের স্বর্ণের দাম বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে। স্বর্ণে বিনিয়োগের পক্ষপুষ্টরা এটিকে নিরাপদ মনে করছেন, তাই কিছু বিনিয়োগকারী দৃশ্যমান সম্পদ কিনে রাখাটা স্বস্তিদায়ক মনে করছে। তারা ভাবেন ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে। দাম কমলে কি হবে, এমন ভাবনা কারো মধ্যে দেখাযাচ্ছে না। এরপরও স্বর্ণে বিনিয়োগের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ থেকেই যায়। যদিও হঠাৎ বিশ্ববাজারে সোনার মতো মূল্যবান ধাতু অনেক বেশি অস্থির। অর্থনৈতিক উদ্বেগের ফলে এর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে অনেকে এতে বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছেন। আবার ক্ষতির মুখে পড়ার উদাহরণও আছে। যেমন গত ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্বজুড়ে পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, তখনই স্বর্ণের দাম পড়ে যায়। স্বর্ণে বিনিয়োগের আগে নিরাপদ ভাবনা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে। ধাপে ধাপে কমছে টাকার মান। লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার ৯ অক্টোবর বিনিময় হার ইউএস ডলার ১২১ টাকা ৮০ পয়সা, ইউরোপীয় ইউরো ১৪১ টাকা ৬৪ পয়সা, ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৩ টাকা ২৯ পয়সা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৪ টাকা ১ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮০ টাকা ২২ পয়সা, কানাডিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ৩১ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৮ টাকা ৮৯ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৪৬ পয়সা, কুয়েতি দিনার ৩৯৭ টাকা ৩৩ পয়সা। ৫২ বছরে ডলারের মূল্যমান বেড়ে ৭ টাকা থেকে ১শ ২২ টাকায় পৌঁছেছে। এ সময়ের মধ্যে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ১ ডলারের হিসাবে টাকার মান হারিয়েছে ১শ ১৫ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭১ সালে প্রতি ১ ডলার লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৭৬ পয়সায়। আর সবশেষ বুধবার প্রতি ১ ডলার লেনদেন হয় ১শ ২১ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে শুধু ১৯৭৯-৮০, ২০০৬-৭ সালে আগের বছরের তুলনায় ডলারের দাম কিছুটা কম ছিল। এছাড়া প্রতি বছরই কমবেশি হারে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে। বাংলাদেশে টাকার মান নিয়ে হিসাব-নিকাশ করলে দেখাযায়, ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশি মুদ্রার মান কতটা কমেছে। জিডিপি ডিফ্লেটর ভিত্তিতে হিসাব করে বলাযায় ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছরের এক টাকার ক্রয়ক্ষমতা ২০২৪ সালের ৩২ টাকা ৪৫ পয়সার ক্রয় ক্ষমতার সমান। ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ৯.৩ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। এতে সহজেই অনুমান করা যায়, সময় প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি নোট ও কয়েনগুলোর (এক পয়সা থেকে দুই টাকা পর্যন্ত) ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঐতিহ্যের স্মারক সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত মুদ্রাগুলো বাজার থেকে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ১৯৯৭ সালের ২০০ টাকার বর্তমান মূল্য নির্ধারণের জন্য, প্রথমে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার গড়ে ১০.৯%। এই হারে হিসাব করলে, ১৯৯৭ সালের ২০০ টাকার বর্তমান মূল্য হবে ২,৮৩২.৫ টাকা। তবে, মুদ্রাস্ফীতির হার একই হারে সবসময় থাকে না। কিছু বছর মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি থাকে, আবার কিছু বছর কম থাকে। তাই, ১৯৯৭ সালের ২০০ টাকার বর্তমান মূল্য নির্ধারণের জন্য, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি বছরের মুদ্রাস্ফীতির হার আলাদা আলাদা করে হিসাব করা হয়। এই হিসাবে, ১৯৯৭ সালের ২০০ টাকার বর্তমান মূল্য হবে ২,৬৭০.৭ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী, দুই টাকার কয়েন বা দুই টাকার নোট পর্যন্ত সরকারি মুদ্রা। পাঁচ টাকার নোট ও কয়েন থেকে ৫০০ টাকার নোট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন ছিল, যা বর্তমানে ১০০০ টাকার নোট পর্যন্ত রয়েছে। স্বাধীনতার পর মুদ্রাবাজারে মোট টাকার মধ্যে সরকারি মুদ্রার যে অংশ ছিল, দিন দিন তা অনেক কমে গেছে। বিগত ৪০ বছরে দেশে রাজনৈতিক কারণে হরতাল হয়েছে ৪৯৩ দিন, অর্ধদিবস হরতাল হয়েছে ৫০৯ দিন। বিভিন্ন সময়ের দৈনিক আয় হিসাবে দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩৭ লাখ কোটি টাকা। দেশ অনিয়ম দুর্নীতির শীর্ষৈ ছিল ৩ বার। দুর্নীতির সেরা তালিকার (রেডজোন) দুই থেকে সতের মধ্যে অবস্থান করছে বারবার। এসময়ে অপরিকল্পিত শাসন শোষণ দুর্নীতি হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা, অর্থপাচার হয়েছে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। এমন অপরাধের সাথে সরকারি চাকুরে ৩৮ শতাংশ, রাজনীতিক ৪৯ শতাংশ, ব্যবসায়ী ৯ শতাংশ, অন্যান্য ৪ শতাংশ মানুষ জড়িত ছিল বলে বিভিন্ন সময়ের জরিপে উঠে এসেছে। সর্বপরি বলাই যায়, রাজনীতি এই যেশের মানুষকে কিছুই দেয়নি, হতাশ করেছে বারবার। রাজনৈতিক অস্থিরতা অনিয়ম দুর্নীতি ভেঙ্গে দিয়েছে অর্থনীতির মেরুদন্ড, দেউলিয়া করেছে দেশ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাঘায় বিয়ের সকালে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উ*দ্ধার

বাঘা-রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ইসরাত জাহান সুমি (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ইসরাত জাহান সুমি বাঘা পৌরসভার পাকুড়িয়া বেলালের মোড় এলাকার জহুরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি শাহদৌলা সরকারি কলেজের এইচএসসি (আইএ) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার আগে যে কোনো সময় সুমি আত্মহত্যা করতে পারেন। সকালে তার বাবা জহুরুল ইসলাম মেয়েকে নাস্তার জন্য ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে বড় ভাই ইমদাদুল ইসলাম প্রতিবেশীদের সহায়তায় জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমির মরদেহ দেখতে পান। তারা ওড়না খুলে নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, শুক্রবারই ইসরাতের বিয়ের কথা ছিল। তবে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে সুমি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আছাদুজ্জামান বলেন, “একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।”
আলোকিত প্রতিদিন/এপি