আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2608

এবার শ্রমিকদের পাশে মেয়র তাপসের ত্রাণ নিয়ে দক্ষিণ মহানগর যুবলীগ জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মধু

:: জোছনা মেহেদী ::
টানা এক মাস ধরে সব শ্রেণির মানুষের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। পহেলা এপ্রিল থেকে টানা দশদিন হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পর তারা নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যেও খাদ্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে শুরু করেন। আজ (২৯ এপ্রিল) যাত্রাবাড়ী ও কাজলার ৫০০ পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে মেয়র তাপনের পক্ষে ত্রাণ বিতরণ করেন মধু।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়র সব সময় সবার কথা চিন্তায় রাখছেন। তার নির্দেশে আমরা রাজধানীর দক্ষিণে সব শ্রেণির অসহায় মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় তিনি সবাইকে করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান।
ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দ.যুবলীগ নেতা এমএকে আজাদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বর্তমান যুবলীগ দক্ষিণ মহানগরের নেতা ইসমাইল হোসেন তপু, হাজারীবাগ থানা যুবলীগের সাবেক নেতা আহসান উল্লাহ রাসেল, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজ প্রমুখ। এছাড়া এ সময় যাত্রাবাড়ী থানা যুবলীগের নেতাকর্মী ও সেচ্ছাসেবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রমজানের উপহার দিলেন কক্সবাজার পৌর আ.লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ সেলিম

:: আবু সায়েম, কক্সবাজার ::
অসহায় হতদরিদ্র কর্মহীন ২৫০ পরিবারের মাঝে রমজানের উপহারসামগ্রী বিতরণ করলেন কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর নুনিয়ারছড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম উল্লাহ সেলিম। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উত্তর নুনিয়ারছড়ায় তার প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জহুরা আজিজ মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে নিজস্ব অর্থায়নে এই উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পৌর আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের ন্যায় কক্সবাজার কেও লকডাউন করা হয়েছে। ফলে অনেক অসহায় হতদরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে আমাদের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ আমি নিজস্ব অর্থায়নে আমার এলাকার প্রায় ২৫০ গরীব পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছি।ইনশাআল্লাহ আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘মহামারীর এ দুর্দিনে সমাজে যারা বিত্তবান তাদের সকলের উচিত অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করা। মহান আল্লাহর কাছে এ পবিত্র রমজান মাসে বিনীতচিত্তে প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ যেন আমাদের কে এ মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেন।’

ওষুধ কিনতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন রশিদ

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ঢাকার গুলশানের নতুনবাজার এলাকায় এক ব্যক্তি ওষুধ কিনতে এসে ফার্মেসিতে গিয়ে সেখানেই মারা গেছেন। তার সঙ্গে থাকা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল এবং তার ওষুধই কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুর রশিদ (৪৫), তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। নতুন বাজার এলাকায় একটি কোম্পানিতে নিরাপত্তার কাজ করতেন তিনি।
ভাটারা থানার ওসি মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওষুধ কিনতে এসে ফার্মেসিতে মারা যান রশিদ।’ তিনি বলেন, ‘দোকানদার জানিয়েছেন ওষুধ কিনতে এসেই ফ্লোরে পড়ে মারা যান রশিদ। রশিদ হার্টের ওষুধ কিনতে এসেছিলেন, তিনি হার্টের চিকিৎসক দেখিয়েছেন, সে রকম প্রেসক্রিপশনও (ব্যবস্থাপত্র) তার সঙ্গে ছিল।’
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নতুনবাজার একশ ফিটের ‘বিগ-ফার্মায়’ রশিদের মৃত্যুর এই ঘটনাটি দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।তবে রশিদ কোভিড-১৯ আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা মোক্তারুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লকডাউন শিথিলের আভাস দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এক মাস ধরে চলা অবরুদ্ধ অবস্থা এখন কিছুটা শিথিল করার পক্ষে মত জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে সীমিত আকারে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়া যায়। তবে তা সঠিক নিয়মে ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক রেখে করতে হবে।
আজ বুধবার ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নির্মিত অস্থায়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এই মত প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের রোগী বেড়ে যাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশে অন্যতম বড় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা তাদের কনভেনশন সেন্টারকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছে। অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বহু দেশে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড তো লকডাউন তুলে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করে দিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আমরাও সামনেই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব।’
ছোঁয়াচে কোভিড-১৯ রোগের কোনো ওষুধ কিংবা টিকা না থাকায় সংক্রমণ এড়ানোই একমাত্র পথ। সে কারণে জনসমাগম এড়াতে প্রায় সব দেশই লকডাউন ঘোষণা করে। তবে সংক্রমণের হার কমে আসার পর বিভিন্ন দেশ এখন বিধি-নিষেধ তুলে নিচ্ছে।
বাংলাদেশে গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয় সরকার। এক মাস পর গত রোববার থেকে কিছু তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে, দোকান খোলার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এখনই বেশি বাড়ছে। বুধবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৬৪১ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে, একদিনে এত রোগী আগে শনাক্ত হয়নি। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দেশে এখন ২০ হাজারের মতো আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা আছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২ হাজার, ডিএনসিসি মার্কেটে ১ হাজার ৩০০ এবং উত্তরার দিয়াবাড়িতে ১ হাজার ২০০ শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব জায়গায়ও রোগী ভর্তি করা যাবে। ২০ হাজারের বেশি আইসোলেশন বেড প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থাও করা যাবে, বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

যুক্তরাজ্যই ভাসমান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে ব্রিটিশ মন্ত্রীর অনুরোধের জবাবে যুক্তরাজ্যকে পাল্টা একই আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদের সঙ্গে ফোনালাপে সোমবার এ বিষয়ে কথা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং সীমিত সম্পদ থাকা সত্বেও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ইতোমধ্যে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। ৫০০ রোহিঙ্গা সে তুলনায় অতি সামান্য। তারা এখন বাংলাদেশের সীমানায় নেই। মানবিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অনুরোধ করা হলেও এ এলাকার অন্যান্য দেশকে তা বলা হয়নি। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির জাহাজ এসেও তাদের উদ্ধার করে আশ্রয় দিতে পারে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্বনেতাদের ‘অনীহা’ নিয়েও ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে তাদের‌ দেশে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় দেওয়া। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর উচিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে এগিয়ে আসা।’
এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ‘দায়িত্ব বর্তায়’ মন্তব্য করে মোমেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, ‘মিয়ানমারে এখনও মিলিটারি অপারেশন চলছে এবং রোহিঙ্গারা মারা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা আবারও বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। তারপরও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে সোচ্চার নয়।’
পাঁচশর মত রোহিঙ্গাকে নিয়ে পাচারকারীরা সপ্তাহ দুয়েক আগে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ট্রলার এখন সাগরে ভাসছে। রোহিঙ্গাদের নৌযান ভিড়তে দেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে থাইল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের মত হিউম্যান রাইটস ওয়াচও ওই ভাসমান রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে রাজি নয় সরকার। বরং করোনাভাইরাসের কারণে চলমান বৈশ্বিক সঙ্কটে বাংলাদেশের বহু লোক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি হারিয়ে খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে জানিয়ে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বের উচিত মানবিক কারণে তাদের চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া।
যুক্তরাজ্যের ক্রেতারা যাতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনার আদেশ বাতিল না করেন, সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত সমস্যায় পড়ছে। যুক্তরাজ্য তাদের ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন করে দিলে তারা ক্রয়াদেশ বহাল রাখতে পারবে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ ‘উপহার হিসেবে’ যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাবে বলে লর্ড আহমেদকে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। জবাবে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ দেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

:: আলোকিত ডেস্ক ::
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউ পর্যন্ত যাওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সুস্থ হয়ে সরকারি কাজে যোগ দিয়েছেন। সোমবার কাজে যোগ দিয়েই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এসময় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনটি হলে শুধু যে আরেক দফা মৃত্যুর মিছিল শুরু তাই নয়, তা হবে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
মার্চের শেষের দিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার পর ৫ এপ্রিল (রবিবার) লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরদিন সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ১২ এপ্রিল (রবিবার) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। হাসপাতাল ছাড়ার পর থেকে বাড়িতেই বিশ্রাম করছিলেন জনসন।
লকডাউন প্রত্যাহারের বিষয়ে জনসন বলেন, আমি আপনাদের ধৈর্য্য হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারছি, আপনাদের মতো আমিও উৎকণ্ঠিত। আপনাদের তাড়াজুড়োর বিষয়টিও বুঝতে পারছি। সরকারও চাইছে দ্রুত। কিন্তু তবু আমাদের দ্বিতীয়বার ভাইরাসের সংক্রমণের কথা বিবেচনা করতে হবে। ভাইরাস যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় এবং পুনরুৎপাদন একের বেশিতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনটি হলে শুধু মৃত্যুর মিছিল ও রোগ আসবে তা নয়, তা হবে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও। এটি সর্বোচ্চ ঝুঁকির সময়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, কখন ও কীভাবে লকডাউন শিথিল করা হবে তা সম্পর্কে সরকার খুব সহজে কিছু বলতে পারছে না। তবে যুক্তরাজ্য ভাইরাস সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমছে। লকডাউনে অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জনসন বলেন, আমরা খুব সহজে বলতে পারছি না কত দ্রুত বা কত ধীর গতিতে এই পরিবর্তন আসবে।
জনসনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব জানান, আগামী কিছুদিনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধিনিষেধ জারি থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ৭৯৫ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৮০ জন।

সাতক্ষীরাও এখন করোনায় আক্রান্ত

:: প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ::
আজ দুপুনে করোনা নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়েও করোনামুক্ত জেলার তালিকায় ছিল সাতক্ষীরা। কিন্তু বিকেল না গড়াতেই ধরা পড়লো রোগী। ফলে সাতক্ষীরাও এখন করোনার আওতাভূক্ত হলো। সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তি একজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান। তিনি যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনেশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, সাতক্ষীরায় আক্রান্তের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির বাড়িসহ তার আশেপাশের কয়েকটি বাড়ি লক ডাউন করা হয়েছে এবং টানানো হয়েছে লাল পতাকা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জানান, একই বাড়িতে বসবাসকারী তার বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা টেস্টের জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি প্রতিদিন সাতক্ষীরা থেকে শার্শায় গিয়ে অফিস করতেন। আজ সকালে তার মেডিকেল রিপোর্ট পজেটিভ আসে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবরে জেলা শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ভালো নেই আদিবাসী মুন্ডারা, তিন দিনের ত্রাণ দিয়েই উধাও কর্তারা

:: ইলিয়াস হোসেন, সাতক্ষীরা ::
১৮০০ শতকে ভারতের র‌্যাস্যি প্রদেশ থেকে এসে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে উপকূলীয় বন জঙ্গল কেটে ভূমিতে রূপান্তরিত করে বসবাস শুরু করে আদিবাসী মুন্ডারা। বর্তমানে বসবাসের জন্য নিজস্ব কোন জমি জায়গা নেই তাদের। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদেরকে বসবাসের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় আটটি ইউনিয়নে ৪শ ৬০টি পরিবার তিন হাজারের অধিক জনসংখ্যা নিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। এদের অধিকাংশই সুন্দরবনের কাঁকড়াজেলে ও দিন মজুর। অনেকে ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতো। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসে সতর্কতামূলক হোমকোয়ারেন্টিন তাদেরকে মহাসংকটে ফেলেছে। কারন, এতদিন দিনের কাজেই দিন কেটে যেত তাদের। সারাদিনের আয় দিয়ে কোন মতে চলত তারা।
জানা যায়, মুন্ডাদের মধ্যে যে দুই চারজন শিক্ষিত ও অন্যান্য পেশার সঙ্গে জড়িত, তারা মাস দেড়েকের খাবার মজুদ করে রেখেছিল। তাদেরও এখন বেহাল দশা। সব খাবারই প্রায় শেষের পথে।
মুণ্ডা সম্প্রদায়ের কয়েকজন জানান, সরকারি-বসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় ত্রাণ পেয়েছে ২১৫ পরিবার। এটাই বেশি বেশি প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু সেই ত্রাণে কতদিন চলবে, তা কেউ খবর নেয়নি। ওতে যা ছিল তা একটি পরিবারের জন্য দুই-তিন দিনের খাবার।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জে ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের আদিবাসী মুন্ডা পল্লীর বাসিন্দা রুমা মুন্ডার বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তিনি বলেন, আমার জীবনের এত বড় মহামারী দুর্যোগ কখনো দেখিনি। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলা হয়েছে, বুলবুল হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে পেরেছি। কাজ করে খেতে পেরেছি। ঈশ্বর কি দুর্যোগ দিয়েছে ঘরের মধ্যে থেকে বের হতে পারছি না। খুবই কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে ঘরের খাদ্য পুরিয়ে আসবে। তখন না খেয়ে থাকতে হবে।
বুড়িগোয়ালিনী বসবাসরত আদিবাসী জগদিশ চন্দ্র মুন্ডার বয়স ৩৫ বছর। তিনি জানান, মহামারী করোনা দুর্যোগের কারণে সরকার ঘর থেকে বের হতে পারছি না। কাজ করতে পারছিনা। কী খাব ? ছেলেমেয়েকে কী খাওয়াবো ? সে চিন্তায় মথায় কাজ করে না। একটা ত্রাণের ব্যাগ পেয়েছি। তাতে তিন দিনের খাবার ছিলো। তা ও ফুরিয়ে গেছে। সামনের দিনগুলো কীভাবে পার করবো? ঈশ্বরই তা ভালো রকম জানেন।
দাতিনাখালী গ্রামের কনিকা মুন্ডা বলেন, কাঁকড়ার প্রজেক্টে চাকরি করতাম। প্রতিমাসে ৭ হাজার টাকা বেতন পেতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে থাকায় ঘরে বসে এক প্রকার না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এভাবে কতদিন চলবে তা কিছুই বুঝতে পারছি না।
আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে সামস নামক একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটির পরিচালক কৃষ্ণপদ মন্ডল জানান, আমরা আদিবাসী মুন্ডাদের নিয়ে কাজ করি। এখনো পর্যন্ত তাদেরকে সে ধরনের সহযোগিতা করতে পারেনি। ২১ তারিখ পর্যন্ত ২শ ১৫টি পরিবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছে। আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো অনেক দরিদ্র।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক বলেন, প্রতিনিয়ত আদিবাসীদের ত্রাণ দেয়া অব্যাহত রেখেছি। যতদিন করোনা প্রাদুর্ভাব থাকবে ততদিন আদিবাসীদের জন্য ত্রাণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। যদি কোন আদিবাসী ত্রাণ না পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এর মুঠোফোনে (০১৭……৯৫) বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

করোনায় কৃষি উৎপাদন-বিপণন অব্যাহত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী

::নিজস্ব প্রতিবেদক ::
করোনার কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, শাকসবজির বিপণন, সরবরাহ ঠিক রাখা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে শাকসবজি, বীজ ও সতেজ কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহে করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনলাইন সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
করোনা পরিস্থিতিতে শাকসবজির বাজারজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, শাকসবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্যের চলাচল নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত ত্রাণসামগ্রীতে আলু, সবজি, পেঁয়াজ ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিপণ্যের ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনা শুরু করেছে।
পাশাপাশি লকডাউন এলাকার উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য ঘাটতি এলাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে ট্রাক চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে শাকসবজির বাজারজাতকরণ কিছুটা সহজতর হয়েছে।
তিনি জানান, সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহার, বিদেশে রপ্তানির জন্য কার্গো ভাড়া, দেশের সুপারশপ খোলা রাখার সময়সীমা বাড়ানো এবং সমন্বয়ের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনার কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএডিসি ও অন্য বেসরকারি কোম্পানির উৎপাদিত আউশ, সবজি ও পাটবীজ সরবরাহ করা হয়েছে। যা বর্তমানে মাঠে কৃষক আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়া রবি মৌসুমে উৎপাদিত আলু বীজ সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যারমধ্যে বিএডিসির আলু বীজ সংগ্রহের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। বেসরকারি কোম্পানির প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছুটি চলাকালীন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সভা শেষে কৃষিখাতে প্রণোদনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান বাজেটে কৃষকদের স্বার্থে সারসহ সেচকাজে বিদ্যুৎ বিলের রিবেট বাবদ কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সার্বিক কৃষিখাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৯ শতাংশ সুদের স্থলে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ হাজর ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনা দেবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। এর মানে হলো কৃষিখাতে মোট ৪ শতাংশ সুদে প্রণোদনা দাঁড়ালো ১৯ হাজার ৫০০ (১৪ হাজার ৫০০ ও সম্প্রতি প্রাপ্ত ৫ হাজার) কোটি টাকা।
সভায় জানানো হয়, দেশের জেলাগুলোর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ভোলা জেলাসমূহকে সবজির জন্য উদ্বৃত্ত জেলা। এসব জেলা থেকে ট্রাকে করে শাকসবজি অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখ মেট্রিক টন বোরো বীজ ধান ও ১০ হাজার মেট্রিক টন হাইব্রিড ধান বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, গত ২৯ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ৯৩টি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র এবং আমদানিকৃত টাটকা ফল ও মসলা জাতীয় পণ্যের ১ হাজার ৪০টি, কাঁচা তুলা ও ডাল জাতীয় পণ্যের ৪১৩টি এবং চাটার্ড ভেসেলে আমদানিকৃত পণ্যের ১৪৫টি ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছে।
এসময়ে বিভিন্ন আমদানি পণ্যের অনুকূলে ৪৬৭টি আমদানি অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া এ কয়দিনে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, ব্রুনাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানির ৯৩টি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে।
অনলাইন সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ এবং হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হান্নান সংযুক্ত ছিলেন।
এছাড়া অনলাইন সভায় ফল-সবজি, সতেজ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক, ফুড প্রসেসর, সুপারশপ ব্যবসায়ী, ব্যবস্থাপক ও বীজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাপা, স্কয়ার ফুড, প্রাণ গ্রুপ, তাইওয়ান ফুড প্রসেসিং, পটেটো এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, রহিমআফরোজ, মীনাবাজার, সুপ্রিম সীড, এসিআই, এমএম ইস্পাহানি, ব্র্যাক, ইউনাইটেড সীড, মল্লিকা সীড, আফতাব বহুমুখী ফার্মস, পারটেক্স অ্যাগ্রো, মেটাল সীড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

প্রতি জেলায় আইসিইউ, নিয়োগ হবে ৮ হাজার ডাক্তার-নার্স : প্রধানমন্ত্রী

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সারা দেশের প্রতিটি জেলায় আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সংকট মোকাবিলার কার্যক্রম সমন্বয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক জেলার ভালো একটা হাসপাতালে আমরা আইসিইউ স্থাপন করবো। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আইসিইউ পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।’ করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় সরকার শিগগিরই ২ হাজার চিকিৎসক এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা সেবা দেবে।’
ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।