::তুষার আহসান::
দেশে কভিড-১৯ এ আক্রান্তদের শনাক্তের সংখ্যা আজ সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বেশ কিছু দিন পাঁচশর মধ্যেই ছিল। এরপর ছয়শ থেকে আজ হঠাৎই সাতশ ছাড়িয়ে আটশ ছুঁইছঁই। বিষয়টি অনেকটাই স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। ক্রমশ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকা প্রসঙ্গে তিনি আজ বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘সব কিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যেহেতু স্বাভাবিকভাবে এখন কি না মার্কেট খোলা হয়েছে, গার্মেন্ট খোলা হয়েছে, দোকনপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে একটু বৃদ্ধি পাবে, এটা আমরা ধরেই নিতে পারি।’
তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সুধী সমাজে, ‘বিশ্লেষণটা তিনি যদি জেনেই থাকেন, তাহলে এই ভয়াবহতা কে সৃষ্টি করলো। আর যদি এভাবে ‘বাড়তেই’ থাকে, তাহলে তার দায়ভার কে নেবে?’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথাতেই যদিও কিছুটা উত্তরের আঁচ লেগে আছে। জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমাদেরকে যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন ও জীবিকা দুটিই সাথে সাথে যাবে। কাজেই সেভাবেই কাজগুলো হবে। তবে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে যাতে রোগী না বাড়ে। আমাদের দায়িত্ব হল যাতে রোগীগুলো সঠিক চিকিৎসা পায়, সঠিকভাবে রাখতে পারি।’
প্রথম বক্তব্য ও পরের বক্তব্যের মধ্যে বিস্তর ফারাকে প্রশ্ন জেগে ওঠে, ‘কোন চেষ্টায় তবে রোগী না বাড়ানোর প্রচেষ্টা সফল হবে যখন আগেই বলেছেন- সব খুললে রোগী বাড়বেই?’
যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রলালয় এক তুড়িতেই সব দায় এড়িয়ে যেতে পারেন। আর সেটা হলো- ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা না খোলাটা আমাদের দায়িত্ব নয়; বলে। আর সেটা হবে আরও বোকামি। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যখাত নির্ভর সব বন্ধ করা হয়েছে। সুতরাং খুলতে হলেও স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে পরামর্শ করেই সব করা হবে বলে আমরা মনে করি। আর যদি সেটা না হয়ে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরই দূর্বলতা রয়েছে বলে আমরা ধরে নিতেই পারি।
বাড়বেই যদি খুললেন কেন?
সব খুললে রোগী বাড়বেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশে এখন ক্রমশ করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সব কিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই।মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সংক্রমণ কিছু বাড়ছে। গত ৮-১০ দিন ধরে দেখেছি চার থেকে পাঁচশ রোগী হত, কিন্তু এখন ছয়শও ছাড়িয়ে গেছে, আজ সাতশ ছাড়িয়েছে। যেহেতু স্বাভাবিকভাবে এখন কি না মার্কেট খোলা হয়েছে, গার্মেন্ট খোলা হয়েছে, দোকনপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে একটু বৃদ্ধি পাবে, এটা আমরা ধরেই নিতে পারি।’
জাহিদ মালেক বলেন, “আমাদেরকে যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন ও জীবিকা দুটিই সাথে সাথে যাবে। কাজেই সেভাবেই কাজগুলো হবে। তবে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে যাতে রোগী না বাড়ে। আমাদের দায়িত্ব হল যাতে রোগীগুলো সঠিক চিকিৎসা পায়, সঠিকভাবে রাখতে পারি।”
সংক্রমণ যাতে বাড়তে না পারে সে বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি পরামর্শ দিয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কোভিড-১৯ রোগীদের নিয়ে যারা কাজ করছেন, যেমন চিকিৎসক নার্স ও অন্যান্য কাজ সম্পৃক্ত তাদের আরও উৎসাহিত করা যায় কীভাবে সে বিষয়েও তারা পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে ১০ মে শপিং মল খোলা জরুরি ছিল কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “টেকনিক্যাল কমিটি এই বিষয়টি সভায় তুলে ধরেছেন। কমিটি একটি প্রস্তাবনা দেবেন এবং সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ দেবেন। সেই পরামর্শটা আমরা যথাযথ জায়গায় দিয়ে দিব। খুব শিগগিরই এই মতামত ও পরামর্শ দিবেন।”
অভিচিকিৎসকদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, কেন চিকিৎসকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়েও আলোচান হয়েছে। ঈদের ছুটির সময় লোকজনের যাওয়া-আসার বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি মতামত দেবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। টেকনিক্যাল কমিটির আলোচনায়ও এই বিষয়টি উঠে আসে। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এটা একটা প্রসেসে আছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে এই কাজটি এগিয়ে নিতে পারব।”
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথম এক মাস বাইরের সব ধরনের কাজকর্ম, দোকানপাট, কল-কারখানা ও গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কিছু দিন ধরে পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। আগামী ১০ মে থেকে শপিং মলগুলোও খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা এ যাবৎকালে একদিনে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯২৯ জন। আর এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৮৩ জনের।
মেয়র তাপসের পক্ষে বাসাবো এবং শাহজাহানপুরে ত্রাণ দিলেন যুবলীগ নেতা মধু
:: জোছনা মেহেদী::
করোনাভাইরাস দুর্যোগকালীন লক ডাউন সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে গরিব অসহায় পরিবারকে নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫মে) ৪ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০০ পরিবারের মাঝে এই সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মেয়র তাপসের পক্ষে দক্ষিণ যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু বাসাবো এবং শাহজাহানপুরের ৩০০ পরিবারকে ত্রাণ ও ২০০ পরিবারকে খাদ্য বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণের সময় সামাজিক দূরত্ব ও সর্বাধিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়। ত্রান সামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, ডাল, তেল, পেয়াজ, লবণ, সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য।
ত্রাণবিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা এমএকে আজাদ, সাবেক সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসমাইল হোসেন তপু, যুবলীগ নেতা তান কাশেম দ্বীপ, মো. নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুর রহমান, এনামুল হক হিল্টন, হাজী রফিকুল ইসলাম রুবেল, নাজমুল ইসলাম রাসেল।
আরও উপস্থিত ছিলেন শাহাজাহানপুর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাবেক কাউন্সিলর হামিদুল হক শামীম, রাশেদুল আলম রিংকু, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম মিনার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম সায়মন, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ হাসান শামীম, যুবলীগকর্মী পিন্টু , মুন্না তুহিন, শামিম খান প্রমুখ।
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ত্রাণ বিতরণকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ মধু জানান, ‘আমার নেতা আমার অভিভাবক ঢাকার নব নির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সব সময় আপনাদের পাশে আছে থাকবে। তার নির্দেশে আমরা ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিত্তবাণদের উচিৎ বৃহৎ পরিসরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’
লকডাউন শিথিল করে সংক্রমণের পথ সুগম করে দিয়েছে সরকার : বিএনপি
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
আগামী ১০ মে দোকানপাট খুলে দেওয়ার মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণের পথ সরকার আরও সুগম করে দিয়েছে, বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি মনে করে, জনগণের কাছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের জবাবদিহিতা না থাকার কারণেই লকডাউন তুলে নিয়ে দেশকে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এই সিদ্ধান্তের পরিণতির জন্য বর্তমান সরকারকে এককভাবেই দায়ী থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের এসব অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব। রবিবার (৩ মে) রাতে স্থায়ী কমিটির অনলাইন বৈঠকে আলোচনার পর দলের বিভিন্ন পর্যালোচনার কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। সোমবার (৪ মে) জনগণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিং মল আগামী ১০ মে থেকে চালু রাখার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে একইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ কেনাকাটা একটু করবেই। বাজার একটু করতেই হবে। এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। মানুষকে সচেতন করে এই ব্যবস্থাটা করতে হবে।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআরের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, মে মাসের তৃতীয় এবং চতুর্থ সপ্তাহ হবে বাংলাদেশের জন্য করোনার পিক সময়। ছুটির মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী অঘোষিত লকডাউন আরও শিথিল করার যে ইঙ্গিত দিলেন, তা রীতিমতো অ্যালার্মিং। আগেই বলেছি, বাংলাদেশ সরকার এটাকে সাধারণ ছুটি আখ্যায়িত করেছে, লকডাউন নয়। ফলে মানুষও এর গুরুত্ব সেভাবে অনুভব করেনি।’
ফখরুল জানান, বিএনপি মনে করে করোনাভাইরাসের এই মহাদুর্যোগ জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সময়ের দাবি। আরও কিছু দিন সামাজিক দূরত্বের নীতি কঠোরভাবে মানা উচিত ছিল বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার রমজান ও ঈদের কথা বলে প্রথমে তাৎক্ষণিকভাবে, পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদলে ১০ মে থেকে দোকানপাট খুলে দিয়েছে দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে। এতে করোনার পিক পয়েন্টে এসে সরকার পুনরায় সামাজিক সংক্রমণের পথ আরও সুগম করে দিলো।’
গার্মেন্টস সেক্টরে সৃষ্ট ঝুঁকির সঙ্গে দোকানপাট খুলে দেওয়ার ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মতো কাজ করবে বলে দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সুইডেন মডেল অনুসরণ করে এ কাজ করা হয়েছে বলে যুক্তি দেখানো হলেও সুইডেনের জনগণের সামাজিক সচেতনতা ও স্বপ্রণোদিত দায়িত্ববোধ রয়েছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তাছাড়া সুইডেনেও তাদের স্বাস্থ্য বিভাগ উন্মুক্ত চলাফেরার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। লক্ষণীয় যে, এই সিদ্ধাস্তটি নিতেও সরকারের দোদুল্যমনতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা এহেন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাম্য নয়।’
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৬ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে সরকার দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো। এতে শত শত মানুষ সমবেত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন জানাজায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ উপেক্ষিত হয়। সরকারের অপরিপক্কতা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা ও সীমাহীন অযোগ্যতার আর কি কোনও বড় প্রমাণের প্রয়োজন আছে। পরিহাসের বিষয় হলো, সরকারের এই ব্যর্থতা জাতি হিসেবে আমাদের সবাইকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিলো।’
স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘করোনা টেস্ট কিটসহ সরবরাহকৃত মালামালের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ করায় কমপক্ষে ২টি হাসপাতালের পরিচালক দু’জন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে সরকারি অনুসন্ধানেই সরবরাহকৃত মাস্ক, পিপিই ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষমা চেয়েছে। তাহলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা চিকিৎসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ৪১৯ জন ডাক্তার, ২৪৩ জন নার্স, ৩২৪ জন অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাকর্মীসহ সর্বমোট ৯৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। দুই জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। অপরদিকে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ৩ মে’র তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৮৫৪ জন পুলিশ সদস্যের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পাঁচ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন।’
মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই ঠিক রাখতে হবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংক্রমণ যেহেতু এখনও ঊর্ধ্বমুখী সেহেতু আরও কিছুদিন অবরুদ্ধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায়ের নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচত ছিল। এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে এলে, তখন কারখানাগুলো খুলে দেওয়া ভালো হতো বলে অনেকে মনে করেন। কেননা, জীবন ও জীবিকার মধ্যে নিঃসন্দেহে জীবন প্রাধান্য পাবে। কেবলমাত্র আর্থিক দিক বিবেচনা করে জীবনের গুরুত্ব গৌণ করা সঠিক নয়।’
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনও তাদের বেতন পাননি বলে দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। সুষ্ঠুভাবে করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য সম্পদশালী রাষ্ট্র হওয়াটা জরুরি নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় ভিয়েতনাম, নেপাল-ভুটান এমনকি ভারতের কেরালা রাজ্যে তাদের আন্তরিকতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি আর্থিক-গ্রান্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছে।’
বর্তমানে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশেও আমরা এবং অন্যসব রাজনৈতিক দল জাতীয় এই সন্ধিক্ষণে ১৯৭১ সালের ন্যায় সম্মিলিতভাবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ মহাদুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এহেন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরকার একদলীয় ভিত্তিতে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সবকিছু লেজেগোবরে একাকার করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতির দায় এককভাবে বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।’
চীন বাদে সব ধরণের যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ ১৬ মে পর্যন্ত
:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার(৫মে) বেসামরিক বিমান চলচাল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এতথ্য জানিয়েছে। এনিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বাড়লো ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা। তবে চীনের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট চালু থাকবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান সমকালকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে বার বার বাড়ানো হয় বিমান চলাচল বন্ধের সময়সীমা। তিনি বলেন, এবার এ সময়সীমা ৭ মে থেকে বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।
এ ব্যপারে বেবিচকের সহকারী পরিচালক জনসংযোগ মোহাম্মাদ সোহেল কামরুজ্জামান কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের (সিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট) ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগের মতো ১৬টি আন্তর্জাতিক রুটে রয়েছে। এসব রুট হচ্ছে- বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, ইউকে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারের নির্দেশে গত ২১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। পরে কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়।
যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও বিশেষ ফ্লাইটে করে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলদেশিরা দেশে ফিরেছেন। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে বহু বিদেশি ঢাকা ছেড়েছেন। এ ছাড়া কার্গো, ত্রাণ সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
করোনায় দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের দিনে পুলিশেও রেকর্ড
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে সর্বোচ্চ। এমন দিনে পুলিশেও সর্বোচ্চ সংখ্যক; ২৩৯ জন সদস্যের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৫ মে) পুলিশ সদরদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশজুড়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের এক হাজার ১৫৩ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩৯ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। যা ২৪ ঘন্টা হিসেবে সর্বোচ্চ। এছাড়া পুলিশের ৩১৫ জন সদস্য আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন কিংবা আসতে পারেন সন্দেহে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৫০ জন সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পুলিশের পাঁচজন সদস্য জীবন দিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন ডিএমপির। একজন বিশেষ শাখার (এসবি)। তারা হলেন- ডিএমপির কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আব্দুল খালেক (৩৬), ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), পিওএম-এর এসআই সুলতানুল আরেফিন এবং এসবির এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫)।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। সর্বশেষ সোমবারের (৪ মে) তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির ৪৪৯ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের বেশির ভাগ মাঠ পর্যায়ের সদস্য হলেও এখন পর্যন্ত দুই জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা যেন সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা পান, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তি যেন অটুট থাকে সেজন্য ঊর্ধ্বতনরা খোঁজখবর রাখছেন।
নিকারাগুয়ার কবি রুবেন দারিওর কবিতা : অপঘাতের সম্ভাবনাময় অদৃষ্ট
অপঘাতের সম্ভাবনাময় অদৃষ্ট
[রূপান্তর : মঈনুস সুলতান]
সুখে আছে বৃক্ষ অতি সামান্য তার অনুভূতি
পাথরকে দেখায় সুখী-সংবেদন নেই তার একবারে,
যদিও ছড়ায় সে বর্ণাঢ্য দ্যুতি;
বেঁচে থাকার চেয়ে
নেই বড় কোনো বেদনা – নেই কোনো দহন,
কোনো বোঝাই ভারী নয় – সচেতন জীবনের চেয়ে
ঘানি টেনে টেনে করে যেতে হয় সহন।ভবিতব্য সম্পর্কে জ্ঞাত না হয়ে বেঁচে থাকা
পথ খুঁজে না পাওয়া,
কী আছে ভবিষ্যতের গহবরে,
দেহমনে লাগে আতঙ্কের অনিশ্চিত হাওয়া,
এবং আগামী দিনে মৃত্যুবরণ করার ভীতি,
সারা জনমভর বেঁচে থাকার দুর্বিষহ কষ্ট
দুশ্চিন্তার অন্ধকারে সাঁতরানোর রীতি;চলার পথে যা জানি না আমরা
এমনকী সন্দেহও করিনি কখনো,
আমাদের সাময়িক মাংস-মেদ ও মজ্জা
ধারণ করে আছে যে-সুরাময় শোণিত সঘন;
অমেত্ম্যষ্টিক্রিয়ার উপচার নিয়ে
প্রতীক্ষা করে আছে যে-কবর,
গন্তব্য কোথায় জানতে না পারা – তারপর,
কোথা থেকে এসেছি আমরা
সে-বিষয়েও তিমিরে থাকা!
অদৃষ্টের চিত্রপটে আছে কি অপঘাতের প্রতীক আঁকা?
নির্মলেন্দু গুণের কবিতা : তোমার চোখ এতো লাল কেন?
তোমার চোখ এতো লাল কেন?
– নির্মলেন্দু গুণ
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে , আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।
বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত ।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক । আমি হাতপাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী -সেবার দায় থেকে ।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক :
আমার জল লাগবে কি না, নুন লাগবে কি না,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না ।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি ।
আমি বলছি না ভলোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক । কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক ।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক : ‘তোমার চোখ এতো লাল কেন ?’
পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
রাজধানীর আদাবর থানার পুলিশের এক এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) এর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আফরিন আক্তার মুন্নির (২৮) পরিবারের দাবি স্বামী নজরুল ইসলাম রবিনে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় আদাবরের নিজ বাসা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, আলামত দেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হয়েছে।
আদাবর থানা পুলিশ জানায়, এএসআই নজরুল আদাবর থানার অদূরে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে থাকেন। পারিবারিক কলহের কারণে সোমবার ৫টার দিকে ওই বাসার একটি ঘরে আফরিন গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
আফরিনের বাবা হাজী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুলের সঙ্গে অন্য একটি মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। মোবাইলে আফরিন তা দেখে ফেলায় নজরুল তার স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত দুই বছর ধরে এগুলো নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। নজরুল প্রায়ই আফরিনকে মারধর করতো। গত রবিবারও নজরুল বেধড়ক পিটিয়ে আফরিনকে বাসা থেকে বের করে দেয়। সে পুলিশ তার কিছুই হবে না বলেও হুমকি দেয়। আফরিনকে মেরে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।’
আবুল কালামের দাবি, ‘ঘটনার পর আদাবর থানা পুলিশও বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করে। নজরুলের সহকর্মীরা বিষয়টি এখনও অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম রবিন জানান, তার বিরুদ্ধে যেই সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আদাবর থানার ওসি কাজী শাহেদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে এএসআই নজরুলের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক কলহের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। এরপরও তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়ে শিক্ষক গ্রেফতার
:: প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ::
মানবতাবিরোধী অপরাধেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী কালী নারায়ণ (কে এন) ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০) ফেসবুক পোস্ট দিলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।
ঘিওর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে. এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেক কর্মরত রয়েছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে।
শনিবার (২ মে) রাতে তিনি তার ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। রবিবার রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ওসি আশরাফুল আলম বলেন তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

