আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2601

যশোরে পাঁচ বছরের শিশু কোভিড-১৯ আক্রান্ত

:: প্রতিনিধি, যশোর::
যশোরে পাঁচ বছরের এক শিশুর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে; যার দাদাও এর আগে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। তবে শিশুটির দাদা কোথা থেকে কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন সে বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহামন কিছু বলতে পারেননি।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ইকবাল কবির জাহিদ জানান, মঙ্গলবার তাদের ল্যাবরেটরিতে যশোরের ১৩টি নমুনার পরীক্ষায় হয়। তার মধ্যে এই মেয়েশিশুটির পজটিভ আসে। শিশুটির বাড়ি জেলার অভয়নগর উপজেলার পোড়াখালী গ্রামে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রহামন রিজভী বলেন, শিশুটির ৭০ বছর বয়সী দাদার গত ৩ এপ্রিল কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এরপর ওই পরিবারের সদস্য ও তার সংস্পর্শে আসা দশজনের নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন দপ্তরের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

বন্ধই থাকছে পুঁজিবাজার

::অর্থনৈতিক প্রতিবেদক::
আগামী ১০ মে থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ লেনদেন চালু করতে চাইলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি মেলেনি; ফলে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ১৬ মে পর্যন্তই বন্ধ থাকছে পুঁজিবাজার। দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে পুঁজিবাজারে লেনদেনও সেদিন থেকে বন্ধ হয়।
সম্প্রতি সরকার লকডাউনের কিছু বিধি নিষেধ শিথিল করলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ১০ মে থেকে পুঁজিবাজার খুলতে বিএসইসির অনুমতি চায়। কিন্তু সেই অনুমতি না মেলায় সরকার ঘোষিত বর্ধিত ছুটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৬ মে পর্যন্তই বন্ধ থাকছে দুই পুঁজিবাজারে লেনদেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তানিয়া বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দুই পুঁজিবাজারের সমস্ত কার্যক্রম ১৬ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে৷
বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার আপাতত খোলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ডিএসইর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিএসইসিতে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চেয়ারম্যান এবং কমিশনারসহ তিনজন সদস্য লাগে। কিন্তু কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং সরকার নতুন কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় এখন একজন কমিশনার এবং চেয়ারম্যানসহ মাত্র ২ জন সদস্য আছে। ফলে কোরাম ছাড়া সিদ্ধান্ত হবে না।’
ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কিছু শর্ত দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেন শুরু করার অনুমতি চেয়েছিলাম। এখন যদি বিএসইসি অনুমতি দেয়, তাহলে আমরা লেনদেন চালু করব।’
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা তানিয়া বলেন, তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ঈদের আগে খুলছে না শপিং মল বসুন্ধরা-যমুনা, ‘আগে মানুষের জীবন, তার ব্যবসা’ উপলব্ধি থেকেই এই সিদ্ধান্ত

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ঈদের আগে শপিং মলগুলো খোলার সুযোগ সরকার দিলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে খুলছে না রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক। ঢাকার এ্ই দুটি শপিং মলের কর্তৃপক্ষ বুধবার না খোলার সিদ্ধান্তটি জানিয়েছেন। ‘আগে মানুষের জীবন, তার ব্যবসা’ এই উপলব্ধি থেকেই আমরা শপিং মল না খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।
কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে এক মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার সরকার শপিং মলগুলো ১০ মে থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা রাখার অনুমতি দেয়। শপিং মলগুলো খুলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
কারওয়ান বাজারে বসুন্ধরা সিটি এবং কুড়িলের কাছে যমুনা ফিউচার পার্ক ঢাকার সবচেয়ে বড় শপিং মল। যেখানে ঈদের সময় ব্যাপক লোকের ভিড় হয়।
বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ‌‌‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শপিং মলটি না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ আবু তৈয়ব বলেন, ‘এই (বসুন্ধরা সিটি) শপিং মলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কেনাকাটার জন্য আসে। ঈদের আগে আরও বাড়ে। এই মহাসঙ্কটের সময়ে আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না ।’
বসুন্ধরা গ্রুপ ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য তাদের কনভেনশন সেন্টারকে দেশের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছে। আবু তৈয়ব বলেন, ‘বসুন্ধরা সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে থাকে। মানবতার কথা চিন্তা করেই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই তিনি মানুষের পাশে আছেন। শপিং মল না খোলা তার আরেকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।’
ঈদের আগে যমুনা ফিউচার পার্কেও নামে ক্রেতাদের ঢলঈদের আগে যমুনা ফিউচার পার্কেও নামে ক্রেতাদের ঢল
যমুনা ফিউচার পার্কের মালিকানা কর্তৃপক্ষ যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এই মহামারীর সময়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না আমরা। সে কারণেই এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর খুলব,’ বলেন তিনি।

মিললো শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে জামাতে নামাজের অনুমতি

:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করার ধারায় এবার মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ারও অনুমতি দিল সরকার। আজ বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জোহরের ওয়াক্ত থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব রক্ষার নিয়মসহ বেশ কিছু শর্ত মেনে সুস্থ ব্যক্তিরা দেশের মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ পড়তে পারবেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ৬ এপ্রিল দেশের সব মসজিদে বাইরে থেকে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। বলা হয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের খাদেমরা মিলে পাঁচজনের জামাত হবে। আর জুমার নামাজে থাকতে পারবেন মসজিদসংশ্লিষ্ট ১০ জন। এরপর ২৩ এপ্রিল আরেক আদেশে রমজানে মসজিদে তারাবির জামাতে সর্বোচ্চ ১২ জনের অংশগ্রহণের সীমা ঠিক করে দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেখানেও বাইরের কারও যোগ দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। কড়াকড়ি শুরুর এক মাসের মাথায় তা শিথিলের কথা জানিয়ে বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামাগণও পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর জোর দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষণার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। তৎপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাবলি অনুসরণপূর্বক ৭ মে, ২০২০ তারিখ জোহরের ওয়াক্ত থেকে সুস্থ্ মুসল্লিদের মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায়ের সুযোগ প্রদানের পরামর্শ প্রদান করেছে।’
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামার সঙ্গে পরামর্শ করে’ মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য ১২ দফা শর্ত রাখা হয়েছে।
১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে থেকে যারা নামাজে যাবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে।
২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে। মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে যেতে হবে।
৩. প্রত্যেককে নিজের বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে যাবেন এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট দূরত্ব রেখে দাঁড়াতে হবে।
৫. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
৬. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।
৭. মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ বা টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
৮. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
৯. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।
১০. এসব শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফ এর জন্য অবস্থান করতে পারবেন।
১১. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
১২. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
এসব নির্দেশনা লংঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃখলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

‘রাষ্ট্রচিন্তা’র দিদারুলকে ‌র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রাতের মধ্যে ফেরতের দাবি

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং সেল ও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে ‘র‌্যাব পরিচয়ে’ তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।বুধবার দুপুরে পুরানা পল্টনে ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র কার্যালয়ে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে রাতের মধ্যে তাকে ফেরত দেওয়া দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গতকাল ইফতারির ঠিক দুই মিনিট আগে তাকে বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দিদারুলকে রাতের মধ্যে ফেরত না পেলে আগামী কাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হবে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। এদিকে আজ রাত ১০টায় অনলাইন প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘দিদার ভুঁইয়াকে ফেরত চাই’ স্লোগানে দেশের ও দেশের বাইরের লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাগরিকদের এ সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
‘রাষ্ট্রচিন্তা’র পক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেখক রাখাল রাহা জানান, মঙ্গলবার ইফতারের আগে কয়েকজন ব্যক্তি কালো একটি মাইক্রোবাসে করে এসে র‌্যাব-৩ পরিচয়ে দিদারুলকে তার উত্তর বাড্ডার বাসা (চ-৫১/১) থেকে তুলে নিয়ে যায়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দিদারুলের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
দিদারুলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-১ এ যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু জানে না বলেও উল্লেখ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।
বাড্ডা থানায় জিডির বিষয়ে এতে বলা হয়, পুলিশ জিডি নিতে বাধ্য হলেও থানার ভেতরে শুধু দিদারুলের ভাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় এবং পরিকল্পিতভাবে জিডিতে লেখা হয়, দিদারুল ভূঁইয়া বাসার বাইরে কাজে যান এবং এরপর আর ফিরে আসেননি।
পুরানা পল্টনে রাষ্ট্রচিন্তার কার্যালয় থেকে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিদারুলের স্ত্রী দিলশান আরা অপর্না ও ছেলে দীপ্ত ইসলাম।
দিলশান বলেন, ‘আমরা কিছু বলার আগেই তারা দিদারকে নিয়ে যায় এবং বলে যে আমরা কিছু কথাবার্তা বলেই ছেড়ে দেব। ইফতারের ঠিক দুই মিনিট আগে তাকে গাড়ি তোলা হয়। আমার একটাই প্রশ্ন যে, ও (দিদার) এমন কোনো ক্রিমিনাল না, ক্রিমিনাল কাজকর্ম কখনই করে নাই। তাহলে কেন ইফতারের সময় একজন মানুষকে, একজন নাগরিককে ইফতার করতে না দিয়ে তাকে এভাবে নিয়ে যাওয়া হবে?’
স্বামীকে ফেরত চেয়ে অপর্না বলেন, ‘আমার স্বামী দিদার ভুঁইয়ার মুক্তি চাই। মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। আমি চাই অতি দ্রুত যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আমার আর বলার কিছুই নেই।’
https://web.facebook.com/watch/?v=2511690599070056
এর আগে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই সাদা পোশাকে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া, এটা বন্ধ করতে হবে। উচ্চ আদালতের পরিষ্কার নির্দেশনা আছে বিনা ইউনিফর্মে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। উচ্চ আদালতের আদেশকে কোনো রকম তোয়াক্কা না করে, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্র, সরকার জনগণের টাকায় জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যে বাহিনী তৈরি করেছে, সেই বাহিনীকে তার ম্যান্ডেটের বাইরে ব্যবহার করছে।’
দিদারুল ভূঁইয়াকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে তাহলে তার প্রমাণের অনুরোধ করছি। তাকে পুলিশের কাছে, আদালতের কাছে সোপর্দ করার অনুরোধ করছি। আইন অনুযায়ী যে ব্যবহার তার পাওয়া অধিকার আছে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘সরকাবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে র‌্যাব-৩ এর ডিএডি আবু বকর সিদ্দিক মঙ্গলবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন, তাদের মধ্যে দিদারুলও আছেন।’
দিদারুলকে গ্রেফতার করা হয়েছি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার করা হলে আপনারা জানতে পারবেন।’
ওই মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং লেখক মুশতাক আহমেদকে মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

সময়ের আলোর আরেক সাংবাদিকের মৃত্যু, উপসর্গ থাকায় নমুনা সংগ্রহ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনার উপসর্গ (জ্বর-সর্দি-কাশি) নিয়ে দৈনিক সময়ের আলোর আরেক সাংবাদিক মাহমুদুল হাকিম অপুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি পত্রিকাটিতে সিনিয়র সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে একই পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন গত ২৯ এপ্রিল রাতে মারা যান। তার স্ত্রী ও এক সন্তানও কভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে সেহরির জন্য ঘুম থেকে ডাকতে গেলে সাংবাদিক অপুকে মৃত অবস্থায় পান তার স্ত্রী।
ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও সময়ের আলোর সিনিয়র রিপোর্টার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাহমুদুল হাকিম অপু করোনার উপসর্গ নিয়ে বাসায় ছিলেন। আজ (বুধবার) ভোর রাতে তিনি মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে আইইডিসিআর। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে তার করোনা ছিল কিনা।’
প্রতিকাটির এই সিনিয়র রিপোর্টার জানান, আমাদের পত্রিকার খোকন ভাই মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন করোনা পজিটিভ বলে সনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় রয়েছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কার্টুনিস্ট কিশোর গ্রেফতার

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
‘সরকাবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে দুইজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার করেছে র‌্যাব, যাদের একজন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং অন্যজন ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদ, যিনি অনলাইনে লেখালেখি করেন। রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। তিনি বলেন, র‌্যাবের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে রিমান্ডের কোনো আবেদন নেই।
কিশোরকে কাকরাইল এবং মুশতাককে লালমাটিয়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ওসি। রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, র‌্যাব-৩ এর ডিএডি আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা দায়ের করেন। সেখানে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি আবু জাফর মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘তারা দুজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকাবিরোধী প্রচারণা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছিলেন। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আকলিমা আক্তার রাইসা’র গল্প ‘চন্দ্রার বিয়ে’

চন্দ্রার বিয়ে
আকলিমা আক্তার রাইসা
:::::::::::::::::::::::::::::

ষাট হাজার টাকা। হ্যাঁ, শেষ অবধি ষাট হাজার টাকাতেই ঠিক করা হয়েছিল চন্দ্রার বিয়ে। দরিদ্র্য পিতা মকবুলের এর বেশি সামর্থ্য নেই।
তিন মেয়ে আর রোগাক্রান্ত স্ত্রী নিয়ে কায়ক্লেশের সংসার মকবুলের। সম্পত্তির মধ্যে ভিটে বাড়িটুকুই। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের বড় মাধ্যম তার পুরাতন রিক্সাটা। রিক্সাটা পুরাতন হলেও মকবুলের পায়ের জোরে বেশ হনহনিয়েই চলে। স্ত্রী করিমন পাশের মাতব্বর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। তিন মেয়ের মধ্যে চন্দ্রাই বড়। বয়স সতেরোর কাছাকাছি। বাকি একটার বয়স নয়, আরেকটার বয়স দুই।
মোটামুটি চলে যাচ্ছিলো মকবুলের সংসার। হঠাৎই করোনা নামের এক বিশ্বমহামারী হানা দিলো দেশে। তছনছ হয়ে যেতে থাকলো জীবন। ভেঙে যেতে থাকলো অর্থনীতির কাঁটা। ক্রমশ নুয়ে পড়তে থাকলো মকবুলের সংসার। পুরো এলাকা লকডাউন। রিক্সা নিয়ে বাইরে বের হবার জোঁ নেই। করিমনকেও কাজে যেতে নিষেধ করে দিয়েছে মাতব্বর বাড়ির কর্তাবউ।
চন্দ্রার সেই হাসি হাসি মুখ এখন আর নেই, সেখানে শুধুই বিষাদের ছায়া। জমানো কিছু চাল আর হাঁড়ির ভাত যেদিন সম্পূর্ণ শেষ হলো সেদিন আকাশও যেন রেগেমেগে একাকার। আর সেই রাগে মেঘেরা কেঁদেকেটে খুন। ভাঙা চালের বারান্দা সেই কান্নায় ভিজে যাচ্ছে। চন্দ্রার চোখের এক কোণেও জল ছলছল। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যেন কোনদিন ও বৃষ্টি দেখেনি।
করিমন আর মকবুল দুই মেয়েকে নিয়ে বসে আছে বারান্দার আরেক কোণে; এই দুজনই যেন অন্য কোন গ্রহের বাসিন্দা, এ পৃথিবী যেন বড্ড অচেনা তাদের চোখে; এমন এক অসহায় দৃষ্টি নিয়ে বৃষ্টির দিকেই তাকিয়ে আছে তারা।
ঝড়ের আশঙ্কায় মা পাখি যেমন করে ডানা দিয়ে আগলে রাখে ছানা পাখিগুলোকে, ঠিক তেমনি করে নিরীহ পাখির মতো মকবুল ও করিমন মেয়েদুটোকে নিয়ে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। হঠাৎ ভীষণ বজ্রপাত হলো, মকবুলের মনে হলো- তার মাথাতেই যেন আকাশটা ভেঙে পড়লো।
সন্ধ্যার দিকে মেঘের কান্না থামলো। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এলো পৃথিবীতে, কিন্তু সে রাতের সমস্ত কালো যেন আশ্রয় নিয়েছিলো মকবুলের ছোট্ট ঘরটায়। সে-রাতে হঠাৎই করিমনের ভীষণ জ্বর। ঘরে থাকার মধ্যে ছিলো দুটো কলা, যা চন্দ্রার দুই বোন খেয়ে নিয়েছে।
চন্দ্রার শুকনো মলীন মুখ দেখে মকবুল বেদনার্ত কন্ঠে বলল, ‘ও চন্দ্রা, আয় মা, আইজ আমরা পেট ভইরা পানি খায়া লই, কাইল চেয়ারম্যানের পোলা চাইল, ডাইল, আলু আর কী কী জানি দিবো কইছিলো। কাইল পাতিল ভইরা ভাত রান্দিবি। আর হুইকন্যা মইচ দিয়া আলু বরতা করবি, পেট বইরা খামু বেহেই।’
যথারীতি সকাল হলো। মকবুল চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখে মস্তবড় লাইন। ভিড় ঠেলে নিজের জন্য খানিকটা জায়গা করে নিলো মকবুল। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর আসলো ত্রাণ নেবার পালা। প্রথমত চাল, ডাল, আলু, তেল এসবের প্যাকেট দেখে মকবুল যেন স্বস্তি খুঁজে পেলো। মনে মনে ভাবলো, আজ পেট ভরে খেতে পারবে পরিবার নিয়ে। কিন্তু তার স্বস্তি অস্বস্তিতে রূপ নিলো খানিক পরেই। চারিদিক দিয়ে ক্যামেরাবন্দি করায় ব্যস্ত চেয়ারম্যানের চামচাটাইপের লোকজন । দশটাহাত মিলে তুলে দিচ্ছে প্যাকেট; মকবুল জীর্ণ হাত পেতে আছে দশটা হাতের কাছে। হঠাৎ যেন মকবুলের সামনে ভেসে উঠলো জীবনের নির্মম ভয়াল মূর্তি! রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও সে কোনদিন হাত পাতেনি কারো কাছে। আজই প্রথম। হাত বাড়িয়েছে, আর তা কালের কঙ্কালের মতো বন্দি হচ্ছে ক্যামেরায়। কর্কশ কণ্ঠের এক ধমকে মকবুলের চেতনা ফিরে এল,‘ঠিক কইরা দাঁড়া মকবুল, মুখটা এমন ভাব কইরা রাখলে কি ফডু সুন্দর অইবো, মুখে একটু হাসি লাগা; একটু হাসি মাইরা হাতটা বাড়া।’
মকবুলের মনে হলো এই যেন জীবনের চূড়ান্ত উপহাস। চেষ্টা করেও মকবুল যখন হাসতে পারছিল না, তখন আরেক ধমকে মকবুলের সামনের দুইটা দাঁত যেন আপনাআপনিই বেরিয়ে এলো।
দুপুরের দিকে মকবুল দুহাত ভরে বাজার নিয়ে আসছিল বাড়ির দিকে; কাছাকাছি আসতেই শুনলো কানফাটা কান্নার শব্দ। মকবুলের ছোট দুই মেয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি করে কান্না করছে। ক্ষিদের যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেছে যেনো।
মকবুল ঘরে ঢুকলো। করিমন অচেতন হয়ে পড়ে আছে। কপালে হাত দিয়ে মকবুল জ্বর আন্দাজ করলো। গরমে কপাল টগবগ করছে। বুঝতেই পারা যায়- ঘিলু সিদ্ধ হয়ে আছে।
এমন সময় চন্দ্রা হাতে একটা রুই মাছ নিয়ে হাসিহাসি মুখ করে বাড়ি ফিরল। বাপকে দেখেই উৎসাহ নিয়ে দৌড়ে এলো। ‘বাজান, মাতব্বরের পোলায় এই মাছটা দিলো। কত্ত বড় মাছ দেহো। মায় তো কামে যাইবার পারে না, সেইজইন্যে খবর পাঠাইছিলো। আমি গিয়া দেহি মাতব্বরের ছুডু পোলাডা বিদেশ থাইক্যা আইছে, কত্ত খাওন রান্ধিছে চাচি, যদি দেখতা!’, একদমে যেন কথা শেষ করে চন্দ্রা।
মকবুল জিজ্ঞেস করলো ‘বিদেশ থেইক্যা তো দ্যাশে আওন না কইরা দিছে সরকার, হের বাড়ির মাইনষে কিছু কয় না?’
চন্দ্রা উত্তর দেয়, ‘মাতব্বরের পোলা যে গেরামে আইছে মাইনষে এত জানেও না, আর হে তো ঘরেই থাহে, আমারে চাচি কইছে মায়ের বদল আমি যেন যায়া কাম কইরা দেই একবেলা।’
মকবুল চুপ করে থাকে, অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা করিমনের দিকে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ‘হ, তাই যাইস।’
এভাবেই চলতে থাকে মকবুলের সংসার। এদিকে করোনার প্রকোপ বাড়তেই থাকে দেশজুড়ে। একদিন মকবুল পেটের তাড়নায় রিক্সাটা নিয়ে বাইরে গেল লকডাউন উপেক্ষা করে; একটা যাত্রীও পেয়েছিলো। চৌরাস্তার মোড়েই নামবে, বিশ টাকা ভাড়া। মকবুল চারিদিক মনোযোগের সাথে চোখ বুলিয়ে নিলো। তারপর রিক্সায় প্যাডেল ঘোরাতে শুরু করলো। কিছুদূর যেতেই রাস্তা অবরোধ করে দাঁড়ালো কয়েকটা ছেলে, বয়স চব্বিশ কি পঁচিশের। ছেলেগুলো এসেই বলতে শুরু করলো, ‘এই রিক্সা দাঁড়ান, আপনারা কি মানুষ হবেন না, দেশের এই পরিস্থিতিতেও আপনারা রিক্সা নিয়ে রাস্তায় আসেন কি করে?’
‘বাবারা, ঘরে খাওন নাই, পেটের জ্বালায় আস্তায় বাইরইছিগো বাজান’; এসব বলে অসহায় মকবুল তার দারিদ্র্যের প্রতিচ্ছবি উন্মোচন করতে যাচ্ছিলো। এমন সময় কোথা থেকে যেন এক মাঝবয়েসী নেতাগোছোর লোক আসলো। এসেই শুরু করে দিলো, ‘এই কুত্তার বাচ্চাদের এমনে বললে হবে না, নিজেরাও মরবে, আমাদেরও মারবে।’
শেষ অবধি মকবুলকে কান ধরে উঠবস করালো সেই লোকটি। মকবুলের পাথর হয়ে যাওয়া চোখে সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল সবার অলক্ষ্যে।
শুক্রবার। এইদিনই চন্দ্রার বিয়ে ঠিক ছিলো। আকস্মিক মহামারী যেন সব উলটপালট করে দিয়েছে। লকডাউনে বিয়ে নিষেধ। তাছাড়া যেখানে জীবনযাপন করাই কষ্টসাধ্য সেখানে বিয়ে তো স্বপ্নের মতো।
সকাল থেকেই চন্দ্রার মনটা বিষণ্ন। মুখ ভার করেই কাজ করতে গেলো মাতব্বরের বাড়ি। সতর্কতার সাথেই যেতে হয় কাজে। লকডাউনে কারো বাড়ি যাওয়াও নিষেধ। কিন্তু মাতব্বর বাড়ির ছেলে দেশে আসছে বলে কথা। এতসব রান্নাবান্না তো মাতব্বরের বউ একা করতে পারে না, বাধ্য হয়েই ডাকা হয় তাকে।
সেদিন সারাদিন রান্নাবান্না, ধোয়ামোছার কাজ শেষে সন্ধ্যায় যখন চন্দ্রা বাড়ি ফেরার জন্য গুছিয়ে নিচ্ছিলো। আঁধ সের চাল আর দুইটা আলু নিলো সাথে। এমন সময় মাতব্বরের বউ কাশতে কাশতে ডেকে বললো, ‘ওরে চন্দা, চা-ডা লইয়া দিয়ায় তর ছোডোভাইজানের ঘরে। পোলাড়ার কয়দিন দইরা কাশি অইছে, শইলডায় জ্বর, জ্বর, গলায় ও নাকি দুক্কু পায়।’
‘আইচ্ছা চাচি, দিতাছি’ বলে চন্দ্রা হাতের চাল আর আলু উঠোনের একপাশে রেখে চা নিয়ে গেলো মাতব্বরের বিদেশফেরত ছোটছেলের ঘরে।
‘ভাইজান, আফনের চা’ বলে হাত বাড়িয়ে কাপটা দিতেই মাতব্বরের ছেলে রমেজ তার হাত ধরে ফেললো। অদ্ভুত এক উত্তেজনা চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল রমেজের। উত্তেজনা লুকিয়ে বেশ হাসিহাসি মুখ করে বললো, ‘যা,দরজাটা দিয়া আয় চন্দ্রা, তর লগে গল্প করি, বিদেশ যে কত কি আছে!’
চন্দ্রা নিতান্ত সহজ ভাবেই উত্তর দিলো, ‘বাজান কইছে সইন্দার আগে বাইত যাইবার, বইন দুইডা মনে অয় আমার লাইগা কানতাছে, দুফুর তিগা খাওন ও পায় নাই।’
‘আরে কিছু হইবো না, বয়’, বলে রমেজ নিজেই বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা বন্ধ করে। ঘণ্টাখানেক পর চন্দ্রা বাইরে আসে। ততক্ষণে আকাশে পূর্ণচন্দ্রের আলো। চন্দ্রার সারা শরীর জুড়ে অদ্ভুত লাল লাল ছোপ, যেন এক বন্য দারিদ্র্যেরই প্রচারণা।
উঠোন থেকে চাল আর আলু নিয়ে চন্দ্রা বাড়ির দিকে রওনা দিলো পূর্ণচন্দ্রের আলোয়। এই চাঁদের আলো যেন উপহাস করে যাচ্ছে চন্দ্রার গালে, গলায় এবং শরীরে লাল লাল আঁচড়ের দাগে।
চন্দ্রার কটিদেশ যেন এক ভয়ানক জড়তায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। চন্দ্রা আনমনে পা টলিয়ে টলিয়ে হাঁটতে লাগলো শরীরে মৃত্যুর বীজ নিয়ে। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কী যেন ভাবতে লাগলো। তার মুখ থেকে মোহাবিষ্টের মতো বাক্য নির্গত হলো-
‘আইজ শুক্রবার, আমার বিয়া!’
একগুচ্ছ মেঘ কোথা থেকে যেন হঠাৎ এসে চাঁদটাকে আড়াল করে দিলো!

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
লেখক :
শিক্ষার্থী, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ,
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

কবি সাফিয়া খন্দকার রেখার দুইটি কবিতা

আঙুলের চঞ্চলতা
:::::::::::::::::::
ঐখানে থেমে যায় নিমগ্ন আঙুলের চঞ্চলতা
কেঁপে ওঠে সমবেত শোক,
মুখোশের আড়ালের চোখগুলো অবিকল সত্যের মতো।
অনিন্দ্য সুন্দর শিল্পের সংসার
পঙক্তিরা ফোঁটে সদ্যোজাত শিউলি যেনো।
অদ্ভুত আগন্তুক নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে
ঢুকে যায় নিঃশ্বাসের ভেতর
বাঁচতে হলে তার চাই ফ্রেশ অক্সিজেন।
প্রমত্ত শব্দরা নিয়ে নেয় শূন্যতার ভার ক্ষমতারও অধিক
শব্দহীন শব্দের আলিঙ্গনে।

প্রাগৈতিহাসিক শব্দের কণাগুলো ঠোঁট স্পর্শ করে বলে ওঠে
স্বপ্নরা বিপন্ন হলে কাঁদতে নেই।
অন্তর্গত সময় সাক্ষী
আমাদের সেইসব দিনরাত্রি ক্রমাগত হেঁটেই চলছে হৃদপিণ্ডের গভীর স্পর্শে
জীবন দিয়ে মৃত্যুকে ঢেকে রাখা সেই হৃদপিণ্ডের দিকেই।
বিচ্ছিন্ন হয়েও কতটা কাছে থাকা যায়
আশ্চর্য এ পরিসংখ্যান যেদিন জানবে
সেদিন কেবল অক্ষরের ভগ্নাংশ জোড়াতালি দিতেই সময় কেটে যাবে।

তৃতীয় চোখ
:::::::::::::::::::
বাতাসের বিষন্নতায়
খসে পড়ে ভেতর মহলে নীল নীল মৃত দেহ,
ধবল ধুলোর মত শব্দের ভাঙনে
অনায়াসে নদী ভাঙে
কেবল জেগে থাকে যুগলসন্দি আর চৈত্রের বোবা মেঘ।

ভ্রমণ চিহ্ন রেখে যাওয়া ঘাসের দ্বিতীয় জন্মে
ভেঙে ফেলে নষ্ট খোলস
ছলছল তৃষ্ণায় কেঁপে ওঠে যদি ঠোঁট,
একলা মানুষ তবে তুমি ফের জন্ম নিও প্রেমিক হয়ে।
ঈশ্বরের অবস্থানের ভেতরে
যে তোমার জন্ম সেই তুমি
কেন ভেঙে ফেলো আত্মার আয়না!

খোল তৃতীয় চোখ আত্মহৃদপিণ্ড,
নগ্ন বাজ পাখির মগ্ন থাবায়
পড়ে থাকে কুকুরের সঙ্গম,
ক্লেদ ভর্তি শরীরের কসরৎ
ডাস্টবিনের পঁচা ভাতের গন্ধের মতো,
জঠরের মতো নিরাপদ প্রেমিক হয়ে
ফের পৃথিবীতে এসো
তুমিও ঈশ্বরের মতো অমরত্ব পাবে ভালোবাসায়।

পুত্র সন্তানের মা হলেন কোয়েল মল্লিক

:: বিনোদন ডেস্ক::
পুত্র সন্তানের মা হলেন টালিগঞ্জের অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভোর পাঁচটায় তার সন্তানের জন্ম হয় বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
কোয়েলের বাবা রঞ্জিত মল্লিক বলেন, ‘লকডাউনে এর থেকে খুশির খবর আর কী হতে পারে। সন্তান ও মা দুজনেই ভাল আছে।’
২০১৩ সালে নিসপাল সিং ও কোয়েল মল্লিক বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন; এটিই তাদের প্রথম সন্তান। বিয়ের পর অভিনয়ে সাময়িক বিরতি নিলেও সম্প্রতি আবারো অভিনয় শুরু করেন। ‘মিতিনমাসি’ চলচ্চিত্র মুক্তির পর জানা যায় তিনি মা হতে চলেছেন। ২৮ এপ্রিল ছিল তার জন্মদিন; তার কয়েকদিন পরেই পৃথিবীতে এলো সন্তান। পুত্রের নামকরণ নিয়ে এখনও কোনো তথ্য দিতে পারেনি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নাটের গুরু’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ভাবনীপুরের মল্লিক পরিবারের মেয়ে কোয়েলের।সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘হেমলক সোসাইটি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদেরও প্রশংসা পান। ১০ এপ্রিল তার চলচ্চিত্র ‘রক্ত রহস্য’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু লকডাউনের কাছে তা পিছিয়ে গেছে।