::নিজস্ব প্রতিবেদক ::
স্বাস্থ্যখাতে সেবাদানকারীদের কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা যখন হাজার ছাড়িয়েছে, তখন তাদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে বুয়েটের ‘যাযাবর-৯৭’ ব্যাচ। বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সদস্য প্রকৌশলী, স্থাপত্যবিদ এবং পরিকল্পনাবিদরা করোনা হাসপাতালগুলোর ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় তৈরি করেছে ভাইরাস নিস্ক্রিয়করণ চেম্বার। চেম্বারটি আজ শুক্রবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। আরেকটি কিছু দিনের মধ্যেই স্থাপন সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়েছে। ‘যাযাবর-৯৭’ ব্যাচের দাবি, ‘প্রায় পনের দিনের প্রচেষ্টায় চিকিৎসকদের জন্য এটাই দেশের প্রথম ডিসইনফেকশান চেম্বার যা ডব্লিউএইচও এবং সিডিসি নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি।’
জানা যায়, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক ‘যাযাবর-৯৭ ব্যাচ’ এর এই ভাইরাস নিস্ক্রিয়করণ রোবাস্ট ডিসইনফেকশান চেম্বার তৈরির পরিকল্পনায় আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিলে অধ্যাপক এবিএম তৌফিক হাসানের তত্বাবধানে বুয়েটের মেকানিকাল ডিপার্টমেন্টের ল্যাবে শুরু হয় হাইড্রলিক্স ডিজাইনের প্রটোটাইপ এবং অন্যদিকে বে ডেভেলপমেন্টের প্রধান প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের তত্বাবধানে ওয়ার্কশপে চলতে থাকে চেম্বার এর স্ট্রাকচার বানানোর কাজ। বিসিএল ফ্লুইড সিস্টেমের সরবরাহকৃত পাম্প এবং সামুদা ক্যামিক্যালের সৌজন্যে পাওয়া যায় ডিসইনফেক্টেন্ট। এরই মধ্যে বিভিন্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের মুল্যবান মতামত নেয়া হয়। এভাবেই সকলের সহযোগিতায় প্রায় পনের দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় তৈরি হয় চেম্বারটি।
যাযাবর’৯৭ সদস্য রাজউক ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বাংলাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে যখন ভয়াবহতা সৃষ্টি করতে শুরু করলো, একের পর এক ডাক্তার, নার্স আক্রান্ত হতে শুরু করলো, তখন যাযাবর’৯৭ তাদেরকে বাঁচাতে নানা সহযোগিতার পাশাপাশি এই ভাইরাস মুক্তকরণ চেম্বারটি তৈরির কথা ভাবতে শুরু করে। সেই ভাবনাটিই পরবর্তী রূপ নেয় রোবাস্ট ডিসইনফেকশান চেম্বার তৈরির পরিকল্পনায়। এর আগে যাযাবর’৯৭ এর উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে আসছিলেন তারা।
জানা যায়, যাযাবর’৯৭ এর কয়েকজন সদস্য বিশেষ করে আইডবিøউএম এর হেড অফ বিজনেস স্ট্রাটেজি এম সামিয়ুন নবীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. এবিএম তৌফিক হাসান ও বে ডেভেলপমেন্ট লি. এর প্রধান প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে, শাহজালাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্থপতি ইফতেখার রহমানের করা ডিজাইনে, রাজউক ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার সাইদুর রহমান কায়েস, প্রকৌশলী বখতিয়ার রহমান, সিটি ব্যাংকের ইভিপি ও ক্লাস্টার হেড প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী আরিফ ইফতেখার, প্রকৌশলী সাদী খান এবং প্রকৌশলী খান জুবায়ের সাইমনের সার্বিক সহযোগিতায় করোনারোগীদের সেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর ফ্রন্ট লাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য এই রোবাস্ট ডিসইনফেকশান চেম্বার বানানোর পরিকল্পনা গ্রহন করে। পরবর্তীতে আরেক যাযাযাবর সুমন মোহাম্মাদ মোয়াজ্জেম হোসাইনের মাধ্যমে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক তাদের এই পরিকল্পনার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে আর্থিক ভাবে সহযোগিতার ঘোষণা দিলে অধ্যাপক এবিএম তৌফিক হাসানের তত্বাবধানে বুয়েটের মেকানিকাল ডিপার্টমেন্টের ল্যাবে শুরু হয় হাইড্রলিক্স ডিজাইনের প্রটোটাইপ এবং অন্যদিকে বে ডেভেলপমেন্টের প্রধান প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের তত্বাবধানে ওয়ার্কশপে চলতে থাকে চেম্বারের স্ট্রাকচার বানানোর কাজ। বিসিএল ফ্লুইড সিস্টেম এর সরবরাহকৃত পাম্প এবং সামুদা ক্যামিক্যালের সৌজন্যে পাওয়া যায় ডিসইনফেক্টেন্ট। এরই বিভিন্ন্য ডক্টরদের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের মূল্যবান মতামত নেয়া হয়। আলাদা করে বলতে হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালের ডাইরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ এবং কুয়েত মৈত্রী হসপিটালের ডাইরেক্টর ডা. এ কে এম সারোয়ারুল আলম, হেড অফ আইসিইউ ডক্টর আসাদ, ডক্টর রহিম এবং ডক্টর ইব্রাহিমের নাম। এদিকে, সামিউন নবীর ব্যবস্থাপনায় অন্য সদস্যদের মাধ্যমে চলতে থাকে ম্যাটেরিয়াল সোরসিং এর কাজ, কেউ বা করতে থাকে ইলেকাট্রিক্যাল কন্ট্রোল প্যানেল এবং অটোমেশন ডিজাইনের কাজ ইত্যাদি। এভাবেই সকলের সহযোগিতায় প্রায় পনের দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় তৈরি হয় ডক্টরদের জন্য দেশের প্রথম ডিসইনফেকশান চেম্বার।
যাযাবর’৯৭ এর দাবি, ‘চেম্বারটি সম্পূর্ণ স্থানীয় ভাবে সংগৃহীত মালামাল দ্বারা প্রস্তুত, ডব্লিউএইচও এবং সিডিসির নির্দেশনা মেনে তৈরি, এখানে পাম্প ব্যবহার করে ডিসইনফেক্টেন্টের মিশ্রনে তৈরি করা হয়েছে বলে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, অটোমেটিক হওয়ায় ব্যবহারকারীদের সংক্রমণের কোনো ঝুঁকি নেই।
যাযাবর’৯৭ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা স্থানীয় ভাবে বানানোর কারনে সরকারের আমদানি ব্যয় নেই এবং দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমদানির তুলনায় এটা তৈরি করতে খরচ অনেক কম। ফলে দেশে এই চেম্বার বানিয়ে খুব সহজেই স্বাস্থ্যখাতকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব।
যাযাবর’৯৭ এর সদস্যদের আশা, এই চেম্বারটি করোনা যুদ্ধের ফারস্ট লাইন অফ ডিফেন্স, আমাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ডক্টরদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। উক্ত যাযাবর সদস্যগণ আরো একটি চেম্বার আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কুর্মিটোলা হাসপাতালে সরবরাহ করবেন।
যাযাবর’৯৭ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, বুয়েট ব্যাচ’৯৭ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন যাযাবর সদস্যদের নিকট থেকে ফান্ড রেইজ করছে। সেই ফান্ড থেকে বিভিন্ন দুস্থ ও মধ্যবিত্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে তা বিতরণ করছেন তানজিনা সারমীন ও কায়েস রহমান।
বুয়েট এর এই সাবেক শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের উচিত যার যা কিছু বুদ্ধি ও দক্ষতা আছে, তাই দিয়ে এই করোনা-যুদ্ধে সামনে এগিয়ে আসা। যাযাবর ৯৭ আশা করেন, এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও উৎসাহ পাবেন এবং এরকম কাজে এগিয়ে আসবেন। দেশের বিত্তবান এবং কর্পোরেট হাউজরা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসলে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সকল করোনা হাসপাতাল এর জন্য খুব কম সময়ে উক্ত জীবানু মক্তকরন চেম্বারটি তৈরি করে সরবরাহ করা যাবে। তারা বলেন, সবার এরকম সমন্বিত উদ্যোগ মিলেই আমরা ইনশাআল্লাহ জিতে যাবো এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে।
বুয়েটের যাযাবর-৯৭ ব্যাচের তৈরি ভাইরাস নিস্ক্রিয়করণ চেম্বার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে
এতো আলোচনার কিছু নেই!
::তুষার আহসান::
একদিনেই ১৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৯ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার চিত্রে আরও ৭০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন। এদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার সংখ্যাটিও ছিলো রেকর্ড
পরিমান, ১৩০ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ হলেন ১ হাজার ৯১০ জন। বিষয়টি আশা জাগানিয়া।
এরই মধ্যে সব অফিস-আদালত, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলতে চলেছে অচিরেই। বিমানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে খুব শিগগির। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিমানপথে সব ধরণের যোগাযোগের কথাও জানানো হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে অন্যান্য দেশে যাত্রী পরিবহন। তারপরও বিশেষ কারণে দুটি দেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের। এতোকিছুর পর সীমিত আকারে দোকানপাট খোলাকে কেন্দ্র করে চলছে আলোচনা সমালোচনা। যখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে, তখন কেন সীমিত করে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে শুরু করলো? কেনই বা ব্যবসায়ীরা ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন- এমনটাই প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন জনগণের মনে।
এদিকে সবই যখন খুলে দেওয়া হয়েছে তখন আর ধর্মীয় উপসনালয় বন্ধ রেখে লাভ কী, বলে প্রশ্ন তুললেন অনেকে। যদিও যারা এই প্রশ্ন তুলেছেন তারা আসলে জানেন কি না বোঝা গেল না যে, সরকার কখনোই ধর্মী উপসানলয়কে বন্ধ করেনি। বরং মসজিদে নিয়মিত নামাজ হয়েছে, মন্দির, গীর্জায় প্রার্থনা চলেছে। তবে সেখানে কড়া শর্ত ছিলো। আজ থেকে বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে মুসল্লিদের জন্য মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- সেই সব শর্তের একটি ‘নামাজের পরে মসজিদ জীবানুমুক্ত করা’ তা কি আসলে সম্ভব হবে? একদিকে শ্রম অন্য দিকে বিশাল অঙ্কের খরচ। এই যুক্তিতে অনেককেই আলোচনার ঝড় তুলতে দেখা গেছে। যখন অঘোষিত হলেও কড়া লকডাউন চলেছে, তখনই আমরা দেখেছি- জনগণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের কথার তোয়াক্কা করছে না। শাস্তি দিয়ে, ধমকিয়ে ঘরে ফেরাতে হয়েছে। এখন এই শীথিলতা কি ধরে রাখতে পারবে তাদের?
আসলে এতো সব প্রশ্নের কোন প্রয়োজনই পড়ে না, যদি আমরা সচেতন হই। দোকান খুলে দিলে এতো সমালোচনা কেন? আপনি সচেতন হয়ে দোকানে না গেলেই হলো! ঈদ শপিং ইচ্ছে হলে করবেন না- মিটে গেল। খামোখা এতো কথা বলে সময় অপচয়, মানুষে মানুষে মতবিভেদ বাড়িয়ে কী লাভ?
করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে মার্কেট-মসজিদ খোলার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ কথা সত্য। জীবন ছাড়া জীবিকা, আর জীবিকা ছাড়া জীবন- কোনটাই চলে না। দুটোর সমন্বয় দরকার। এখন একজন ব্যক্তিকে তার পকেট বুঝে জীবন, কিংবা জীবন বুঝে পকেট ব্যবস্থা করে নিলেই হয়ে গেল। তাকেই ঠিক করতে হবে কোনটা জরুরী। যেটা জরুরী, সেটা মেনে নিলেই হয়ে গেল। সরকার কখনোই কাউকে সব খুলতে ফোর্স করেনি।
তবে হ্যাঁ, এটাও সত্য- যদি সব খুলে যায় তাহলে যাদেরকে জনসেবায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যেতে হচ্ছে, বিশেষ করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ব্যাংকার, সাংবাদিক- তারা নিরাপদ থাকতে পার বেন তো?
সবাই নিরাপদে সুস্থ থাকবেন- শুভ প্রত্যাশা সব সময়।
সর্বোচ্চ আক্রান্তের দিনেই লকডাউন তোলার ঘোষণা পাকিস্তানের
:: ডেস্ক প্রতিদিন::
পাকিস্তানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যায় উল্লম্ফনের দিনই লকডাউন তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার টিভিতে এক ভাষণে ইমরান এ ঘোষণা দেন। এদিন পাকিস্তানে ১ হাজার ৫২৩ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছে। একদিনে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।
এ নিয়ে পাকিস্তানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪,০৭৩ জনে এবং মারা গেছে ৫৬৪ জন। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশটিতে পাঁচ সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে।
এবার তা তুলে নেওয়ার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, “এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে; কারণ, দেশের বিপুল সংখ্যক গরিব মানুষ এবং শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে আর তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে না। আমরা এখন লকডাউন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমরা জানি এমন এক সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে যখন আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী…কিন্তু আমরা যেমনটি আশা করেছিলাম, পরিস্থিতি আসলে তেমন হচ্ছে না।”
পাকিস্তান লকডাউনের মধ্যে আর চলতে পারছে না জানিয়ে ইমরান বলেন, “আমরা যখন লকডাউন শুরু করেছিলাম তখনই দিনমজুরদের কথা ভেবে শঙ্কায় ছিলাম যে, এই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কি হবে?”
লকডাউন ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইমরান। তবে রোগটি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেজন্যও জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছেন তিনি।
বিধিনিষেধ উঠে গেলে আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিতই বাড়বে, জটিল রোগীর সংখ্যা্ও বেড়ে যাবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন পাকিস্তানের ‘ইয়াং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সেক্রেটারি সালমান কাজমি। তিনি বলেন, “হাসপাতালগুলোতে যে চাপ সৃষ্টি হবে তা নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন।”
পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আসাদ উমর বলেছেন, প্রথমিকভাবে ছোট ছোট বাজার এবং দোকানপাট বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হবে। তবে বড় বড় মল এবং বেশি লোকসমাগম হয় এমন সব জায়গা আপাতত বন্ধ থাকবে।
আন্তনগর পরিবহন এবং রেলওয়ে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরে। স্কুলগুলোও ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে গেলে কড়াকড়ি আবার আরোপ করা হতে পারে।
কঠিন সময়ের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান কাদেরের
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
সামনের দিনগুলোতে করোনাভাইরাসের দুর্যোগ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে দলের নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা ৩৭তম। সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই চ্যালেঞ্জিং সময় আমাদের সাহসিকতার সাথে অতিক্রম করতে হবে। তাই এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য আমি আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
জনগণের জন্য যা করণীয় প্রধানমন্ত্রী তাই করে যাচ্ছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ এই মহামারী মোকাবেলায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে ধৈর্য, কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি পালন করেছে অত্যন্ত সার্থকভাবে। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ইফতার-সেহেরি, বিনামূল্য খাদ্যসামগ্রী ও সবজি বিতরণ এবং ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেলিমেডিসিন সেবা, দাফনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম নেত্রীর নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা অব্যাহত রেখেছে।’
২০০৭ সালে সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিনটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ ৭ মে, ২০০৭ সালের এই দিনে শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকণ্যা শেখ হাসিনা। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিল, তিনি যেন দেশে ফিরে না আসেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকণ্যা অসীম সাহসের সাথে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। তখনকার সরকার নেত্রী ফিরে আসার দিনও নতুন করে মামলা দিয়ে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। তিনি যেন ফিরে না আসতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে টিকেট না দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু যার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, যার প্রাণ প্রবাহে দেশপ্রেম, তাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি।’
থামছেই না ঢাকামুখী জনঢল
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত দুই দিনে ২৮ জনের মৃত্যুর খবরের মধ্যে ঢাকামুখো জনঢল দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে। বৃহস্পতিবারের এ ভিড়ভাট্টা দেখে স্থানীয়রা বলছেন-গার্মেন্টস কর্মীরা ঢাকার ফেরার সময়ের চাইতে বেশি লোকারণ্য ছিল এ দিন ঘাট এলাকা। ফেরি ঘাট আর রিকশা, আটো স্ট্যান্ডের ভিড় তাদের ঈদের ভিড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল দেখা গেছে। গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকামুখী সময়কেও হার মানিয়েছে বৃহস্পতিবার যাত্রীর চাপ। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন ছুটছে ঢাকার কর্মস্থলে। যেন ঈদ শুরু হয়ে গেছে। করোনার কোনো ভয় নেই তাদের মাঝে। মনে হচ্ছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা ছুটছে স্বজনদের কাছে।
সরকার মার্কেট খুলে দেবার ঘোষণায় এসব যাত্রীরা দক্ষিণবঙ্গ থেকে লকডাউন ভেঙে ঢাকামুখী হতে শুরু করেছে। প্রতিটি ফেরিতেই শত শত লোককে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে আসতে দেখা যায়। বাস না থাকায় অটো স্ট্যান্ডগুলোয় যাত্রীরা ঢাকা যাবার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা গেছে। গত ১০ দিনের মত বৃহস্পতিবারও আটো, টেম্পো, নসিমন, করিমন, মাইক্রো, থ্রি হুইলার, ইয়েলোক্যাব, রেন্ট এ কার এবং শত শত মোটরসাইকেলে এসব যাত্রীদের ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। তবে এ পথে ঢাকায় যেতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কয়েকজন যাত্রী।
মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই হিলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই ঢাকামূখী যাত্রীর চাপ। ঘাটে বাস না থাকলেও অসংখ্য উবার ও পাঠাও-এর মোটরসাইকেল আর গাড়ি যাত্রীদের ঢাকা নিচ্ছিল। তবে তা অফ লাইনে চলেছে। সেই সাথে নসিমন, করিমন, টেম্পো, অটো, ইয়েলোক্যাবসহ নানা ধরণের যানবাহনে যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে বিকল্প পথে ঢাকা গিয়েছে। করোনা কী সেটা বুঝেও যেন বুঝছেনা এসব যাত্রী। ঠেলাঠেলি করে কার আগে কে যানবাহনে বসবে এ রকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যাত্রীদের ঢাকামুখী চাপ ছিল বেশি বলে জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটস্থ এজিএম শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনের বেলায় ৪ থেকে ৫টি এবং রাতে ৭ থেকে ৮টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি দেখা গেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীর চাপ। ‘মনে হচ্ছে অনেকটা স্বাভাবিক হতে চলেছে মানুষের জীবন যাত্রা,’ যোগ করেন তিনি।
সীমিত আকারে গার্মেন্টস খোলার পর সম্প্রতি সরকার ঈদ উপলক্ষে সীমিত আকারে শপিং মল খোলার অনুমতি দেয়। তবে অন্যদিকে বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। এদিন সকাল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় ৭০৬ জন সহ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার জনে; আর মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের।
করোনা উপসর্গের অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলো পুলিশ
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।হাসপাতালে যেতে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় আজ বুধবার বিপাকে পড়েছিলেন ওই নারী।
তবে পুরান ঢাকার বাসিন্দা ওই নারীকে থানার গাড়িতে করে নিয়েও দুই হাসপাতাল থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছে পুলিশকে। অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় ঢাকা মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া সম্ভব হয়।
বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির বৃহস্পতিবার বলেন, “কসাইটুলীর এক ব্যক্তি জানান যে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে পারছেন না। করোনা উপসর্গ আছে শুনে কোনো অ্যাম্বুলেন্সও আসতে চাচ্ছে না। খবরটি জানার পর পুলিশের একটি গাড়ি ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে ওই নারীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।”
ওসি বলেন, “প্রথমে ওই নারীকে ঢাকা মহানগর হাসপাতালে, পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস উপসর্গ আছে এজন্য সবারই একটু…। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে ফোন করলে তিনি দ্রুত নিয়ে যেতে বলেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।”
এরপর পুলিশই কিছু খাবার দিয়ে ওই নারীকে আবার বাসায় দিয়ে আসে বলে জানান ওসি শাহীন ফকির।
আগামী ১৭ মে ওই নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “তার স্বামীকে বলা হয়েছে সেদিনও যেন পুলিশকে ফোন করা হয়।”
নভেল করোনাভাইরাসে এই পর্যন্ত ১২০০ এর বেশি পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ছয়জন।
কর্মচারীদের লেখা-ছবি, বন্ধু নিয়ে সতর্ক করল সরকার
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
সরকারি কর্মচারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এ পরিপত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু সিলেকশনেও সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদেরকে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে সরকারি কর্মচারীদের। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা যাবে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে পোস্ট দেওয়া যাবে না। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয় শেয়ার করা যাবে না।
ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্য কোনো রাষ্ট্র সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট শেয়ার দেওয়া যাবে না।
পরিপত্রে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো অপব্যবহারের জন্য কর্মচারীরা নিজে দায়ী থাকবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে নির্দেশনা জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর বিভিন্ন সময় ওই নির্দেশনা পরিমার্জন করা হয়।
সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার পরীক্ষার বুথ উদ্বোধন
::প্রতিনিধি, সাটুরিয়া::
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ স্যাম্পল সংগ্রহের বুথ খোলা হয়েছে। বুথ উদ্বোধন করেন সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার মাস্টার, নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, স্থানীয় প্রকৌশলী এস এম তৈয়বুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুন অর রশিদ, সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মতিয়ার রহমান মিয়া প্রমুখ।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাণ আইজিপির কাছে হস্তান্তর
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনা সংকটে অসহায় ও দুস্থ মানুষের সাহায্যে পাশে দাঁড়ালো বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশের মাধ্যমে অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসেবে আড়াই হাজার প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আতিকুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করে এ ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। খাদ্য সামগ্রীর প্রতিটিতে প্যাকেটে রয়েছে, ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি চিনি এবং ১ কেজি ছোলা।
আইজিপি এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিত্তবান মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন করোনাকালে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এলে তারা এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০, সর্বোচ্চ ২২০০, রাজশাহীতে ৫৫ টাকা
:: ডেস্ক প্রতিদিন::
রমজানে এবারও ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজশাহীতে তা ৫৫ টাকা। ফিতরা নির্ধারণ উপলক্ষে বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ায় জামিয়া ইসলামিয়া শাহমখদুম (রহ.) মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত আসে। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মো. শাহাদত আলীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, ওলামায়ে কেরাম, মুফতি, মুহাদ্দিস, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করে রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য এ বছর ৫৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। যদিও সোমবার (৪ মে) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০টাকা এবং সর্বোচ্চ ২২০০ টাকার সিদ্ধান্ত আসে। গম বা আটার বাজার মূল্য হিসাব করে ফিতরার এই হার নির্ধারণ করা হয়। গত বছরও ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ছিল ৭০ টাকা। তবে গত বছর সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, ইসলামী শরিয়াহ মতে, সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে। আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম; খেজুর, কিশমিশ, পনির বা যবের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রামের মাধ্যমে সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটার ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) আটা বা এর বাজার মূল্য ৭০ টাকা। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৭০ টাকা ফিতরা দিতে হবে। গমের ক্ষেত্রে (অর্ধ সা’) এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৭০ টাকা ফিতরা দিতে হবে।
এছাড়া ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৬৫০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।
জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বুধবার জামিয়া ইসলামিয়া শাহমখদুম (রহ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মো. শাহাদত আলী জানান, ফিতরাদাতা তার নিজ এলাকার বাজার মূল্য ধরে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম আটা, ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা খেজুরের দাম হিসাবে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। গত বছরও রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ৫৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

