আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2599

ধানমন্ডির ৫০০ অসহায় পরিবারকে মেয়র তাপসের ত্রাণ পৌঁছে দিলেন যুবলীগ নেতা মধু

::জোছনা মেহেদী::
ধানমন্ডি ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরন করেছেন যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণকালে বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে মধু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের প্রতি সর্বদা নজর রেখেছেন। বিত্তবানদেরকে জনগণের পাশে থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমাদের নেতা মাননীয় মেয়র দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে সব শ্রেণিপেশার মানুষের খোঁজ নিচ্ছেন। তিনি নিভৃতিতে থেকে আমাদের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। আসুন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়।’ বিভিন্ন উষ্কানীমূলক অপপ্রচার সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘এখন সময় মানুষকে ভালোবাসার। এখন কে কী বললো তা দেখার বা বোঝার সময় না। মানুষের মুখের হানি তার ঠোঁটে ধরিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। তবে যারা অপপ্রচার চালিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যহত করতে চাইছে, তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। তাদেরকে মনে রাখতে হবে- চালচোরদের মত তাদেরও পরিণতি ঘনিয়ে আসছে। অসাদু এসব ব্যক্তিদের সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। সময় হলেই তা সবাইকে জানানো হবে।’

আজ ত্রাণ বিতরণকালে আহাম্মদ উল্লাহ্ মধুর সঙ্গে ছিলেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা এমএকে আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন তপু, ধানমন্ডি ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি হরি ও সাধারণ সম্পাদক ফারহান কবীর তন্ময় ও ১৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক হেজাজ আলম, নজরুল ইসলাম বাবু, আহসান উল্লাহ রাসেল প্রমুখ।

নিরবে ত্রাণ বিতরণ করছেন ইকবাল মাহমুদ বাবলু, উপকৃত সহস্রাধিক পরিবার

:: ফারুক হোসাইন, নোয়াখালী::
নিরবেই ত্রাণ বিতরণ করে চলেছেন যুবলীগের সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়াশন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু। ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছেন সহস্রাধিক পরিবার। অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছেন এসব পরিবার। অব্যাহত এই ধারায় আশ্বস্ত হয়েছেন আরও অনেকে।
জানা যায়, নোয়াখালীর সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি স্কুল ও একটি কলেজের প্রায় ১০৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে ইকবাল মাহমুদ বাবলু মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে উপহারসমাগ্রী বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে মধ্যবিত্তদের মধ্যে তিনি এই ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ও সমাজে চাইতে না পারা লোকজনকে চিহ্নিত করে উপহারসামগ্রী বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন এই নেতা।
ইকবাল মাহমুদ বাবলু তার বক্তব্যে বলেন, ‘এটা কোন ত্রাণ নয়, এটা আমার পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র প্রয়াস। যদি আপনারা গ্রহণ করেন তাহলেই আমি কৃর্তজ্ঞ।’ তার এমন বক্তব্যে কষ্টে থাকা উপস্থিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মাঝে নেমে আসে আনন্দ অশ্রুধারা। অত্যান্ত সুশৃঙ্খলভাবে সামজিক দূরত্ব বাজায় রেখে যার যার উপহার সামগ্রীগুলো নিয়ে যান তারা।
উপহারসামগ্রীতে জনপ্রতি ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, লবণ, তেল, সাবান, বুট, খেজুর ও ছোলাসহ সর্বমোট ১৭ কেজির একটি প্যাকেজ।

সাভারে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ

::প্রতিনিধি, সাভার::
সাভারে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ রোববার (১০ মে) দুপুরে সাভার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রসঙ্গে শতাধিক গরিব-অসহায়দের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর পাঠানো উপাহার সামগ্রী বিতরণ করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর।
সূত্র জানায়, জনপ্রতি ১০কেজি চাল ও খাদ্য সামগ্রী হাতে তুলে দেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম, সাভার ভূমি কমিশনার মাহফুজুর রহমানসহ আরও অনেকে।

একদিকে করোনা, অন্যদিকে কালবৈশাখি : সাতক্ষীরায় আমের বাজারে ধ্বস!

:: ইলিয়াস হোসেন, সাতক্ষীরা::
একদিকে করোনাভাইরাসে অঘোষিত লকডাউন, অন্যদিকে কালবৈশাখি। ফলে আমের আরেকটি রাজ্যখ্যাত সাতক্ষীরার আমবাজারে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ইতোমধ্যে ঝড়ের প্রকোপে ঝরে যাওয়া কাঁচা আমের পাইকারি দর গিয়ে ঠেঁকেছে ৫ থেকে ১৫ টাকায়। এদিকে গত কয়েক বছর ধরে এই জেলার হিমসাগর ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও রফতারি হয়ে আসছিল। কিন্তু এবার তাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে আম বাজারজাতের ব্যবস্থা করা না গেলে বিপুল লোকসানের মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন আমচাষীরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আম বাগানে আম চাষ হচ্ছে। ১৩ হাজার ৯৯ জন চাষী আম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে আরো কয়েক হাজার আম চাষী রয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
জেলার প্রায় লক্ষাধিক পরিবার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে আম চাষের সাথে যুক্ত। পরিবারিক আম চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে জেলায় আম চাষ হয়ে আসছে ঐতিহ্যগতভাবে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে সাতক্ষীরার আমের চাহিতা ব্যপক। ফলে এই জেলার অর্থনীতির অন্যতম একটি উৎস আম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এবছর আম রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় আম চাষীরা। আম রপ্তানি করা না গেলে আমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে আম চাষীরা। হ্রাস পাবে দেশের রাজস্ব।
সাতক্ষীরা পৌরসভার মিয়াসাহেবের ডাঙ্গা গ্রমের আম চাষি জালেম খা ১০টি বাগানে তার ১৫ বিঘা জমিতে ২০০-১৫০টি আম গাছ আছে। এসব আম বাগানের ইজারা ও পরিচর্যা করতে ঋণ নিয়ে খরচ করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। এখনও পরিচর্যা করছেন। আশা করেছিলেন সাড়ে ছয় লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন। কালবৈশাখি ঝড় ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার বন্ধ। বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারবেন না। স্থানীয়ভাবে যা বিক্রি হবে তাতে এক লাখ টাকার বেশি উঠবে বলে তিনি মনে করছেন না।
পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আম চাষি নূরুল আমিন বলেন, জেলার বাইরে ও বিদেশে আমের বাজার ধরতে না পারলে সবাই লোকসানে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি একটি ১৭ বিঘার আম বাগান তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। দুই সপ্তাহ পর থেকে আম উঠলে আর বাজার স্বাভাবিক থাকলে খুব সহজে তা ছয় লাখ টাকা বিক্রি করা যাবে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার খলিষখালি গ্রামের রহমান হোসেনের ২০ বিঘার আম বাগান আছে। খরচও হয়েছে অনেক। করোনা পরিস্থিতির কারণে আম বাজারজাত করা যাবে না বলে মনে করছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে লোকসান গুনতে হবে।
সাতক্ষীরা সুলতানপুর কাঁচা-পাকা বাজার সমবায় সমিতির সভাপতি রাশেদ জানান, কালবৈশাখি ঝড় ও করোনায় আমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। বাজার জাতকরণের কারণে দাম কম। আম চাষীদের পাশাপাশি তারাও আমরে ন্যার্য দাম নিয়ে শঙ্কায়।
একই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশনআলী জানান, আম চাষী, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা প্রণোদনার দাবী রাখে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাষিদের অনলাইনে আম বিক্রি করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কালবৈশাখি ঝড়ে আমরে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা হবে না।
সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে এবছর বিদেশে আম রপ্তানি করার সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশের অন্য জেলায় বাজারজাত করা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চাষিরা বিপুল টাকার লোকসানে পড়বে বলেও তাঁর আশঙ্কা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ আম বাজারজাত করতে ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ল্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম ভাঙা ও বাজারজাত করণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল আরো বলেন, সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে। এই সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যবসায়ী ও ফল চাষীদের নিয়ে নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সকলকেই সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

ষড়যন্ত্রকারী মুক্ত হোক ছাত্রলীগ

::তুষার আহসান::
কতটা ভয়ঙ্কর হলে প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতির দুঃসাহস দেখাতে পারে, সিদ্ধান্তকে উল্টে দিতে পারে! না, এটা কোন সাধারণ ঘটনা নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগে বিশেষ পদে অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বদলে ফেলার দুঃসাহস কোন ভাবেই ছোট কোন ঘটনা মনে করা যেতে পারে না। ছাত্রলীগ থেকে সদ্য স্থায়ী বহিষ্কার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনের এই স্পর্ধার উদয় কোথা থেকে তা খুব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের; অবশ্যই খতিয়ে দেখা জরুরী। এই দুঃসাহসের ইন্ধনদাতা থাকার সমূহ সম্ভাবনার গন্ধ লেপ্টে আছে। ভাবতেই হচ্ছে- কতোটা ভয়ঙ্কর এই মুমিন।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রথম কোন শীর্ষ দুই নেতার চাঁদাবাজির অভিযোগে পদ হারানোর ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে ছাত্রলীগের সে সময়ের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেয়া হয়। স্থলাভিষিক্ত হন সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লেখক ভট্টাচার্য। ঘটনার ঠিক ৮ মাসের মাথায় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিন করলো আরও বড় অপরাধ। যে অপরাধ খোদ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জের সামিল এবং রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বলেই সুধিজনরা মনে করছেন। শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজীর ঘটনার থেকেও মারাত্মক বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে এই ঘটনা ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগকে ভাবমূর্তির ফের সংকটে ফেলেছে। যদিও এই ঘটনায় মুমিনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে দলটি। গ্রেফতার হয়েছে মুমিন। কিন্তু এটাই শেষ নয়, প্রয়োজন কঠিনতম সাজা। যে সাজা পরবর্তীতে এমন কাজ থেকে বিরত রাখবে সবাইকে। এমন সাজা হতে হবে, যেন এই কঠিন অপরাধ নয়, ছোটখাট অপরাধ করতেও বুক কেঁপে ওঠে। কোন প্রলোভনেই যেন অপরাধে জড়াতে সাহস না করে কেউ।
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ থেকে মুমিনকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। ছাত্রলীগে কোনো অপরাধীর স্থান নেই। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে উদাহরণ সৃষ্টি করা হয়েছে।’ কিন্তু ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটিতে যারা উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব নিয়ে আছেন, তাদেরকে সদা সতর্ক থাকা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। এধরণের অপরাধের ইচ্ছে পোষণের আগেই যেন তথ্য এসে হাজির হয় তাদের কাছে- এমন একটি গোয়েন্দা ইউনিট তৈরি করা প্রয়োজন তাদের মধ্যে। না হলে অপরাধীর অপরাধ সংগঠিত হয়ে যাবার পর প্রমাণ মিললে পরে বা অভিযোগের পরে বহিষ্কার কোন সুফল বয়ে আনবে না, বরং বারবার কালিমায় ঢেকে যাবে। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিতদের এই অধপতন সে দিকেই আঙুল তুলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে তরিকুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে তিনজনকে আসামি করে দায়ের করা মামলার বরাতে আমরা জানতে পেরেছি- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছিল। এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন। এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। মামলায় বলা হয়, ‘এরপর সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।’
এই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়।
শোভন-রাব্বানী কিংবা বর্তমানের মুমিনের মত আর কাউকে আমরা ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দেখতে চাই না। এরা সবাই দেশের শত্রু। এরা ষড়যন্ত্রকারী। এরা দেশের জন্য, জাতির জন্য বড় অকল্যাণ ঘটাতে পারে। আমরা চাই- ষড়যন্ত্রকারী মুক্ত হোক ছাত্রলীগ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতিতে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি গ্রেফতার: সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

::প্রতিনিধি, ঢাবি::
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ শনিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হল।’
এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে তরিকুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে তিনজনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। তরিকুলকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করার পর শুক্রবার ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। ছাত্রলীগে কোনো অপরাধীর স্থান নেই। তাই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে উদাহরণ সৃষ্টি করা হয়েছে।’
মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছিল। এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন। এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা।
মামলায় বলা হয়, ‘এরপর সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।’
এই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়।

কূটনীতিকদের জটলা করে বিবৃতি শিষ্টাচার বহির্ভূত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে একই দিন ঢাকায় নিযুক্ত সাত দেশের কূটনীতিকের বিবৃতি দেওয়ার কড়া সমালাচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‌‌‌‘কোনো দিন কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতদের জটলা করে একটা বিবৃতি দিতে কখনো দেখিনি। অন্যান্য দেশেও এমন করে জটলা করে বিবৃতি দেওয়ার রীতি নাই। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি খুবই খুশি হতাম এ রাষ্ট্রদূতরা জটলা পাকিয়ে যদি বলতেন, আপনার এই মুহূর্তে রাখাইনে যুদ্ধ হচ্ছে এটা বন্ধ করা উচিত। এটা কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।’
মানবাধিকারকর্মী, কার্টুনিস্ট, ব্যবসায়ীসহ চারজনকে আটকের পর মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রেক্ষাপটে সাত রাষ্ট্রদূত পৃথক বিবৃতি দেন।
বৃহস্পতিবার নিজেদের টুইটারে আলাদাভাবে ওই বিবৃতি দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক, যুক্তরাষ্ট্রের আর্ল রবার্ট মিলার, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভেরওয়েজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা স্লাইটার এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন।
বিবৃতির দুই দিনের মাথায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘তাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তারা তা আমাদের জানাতে পারতেন প্রটোকল মেনে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তারা রাজনীতির মহড়ায় চলে গেছেন। তারা পাবলিক স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন। তারা কি এদেশে রাজনীতি করবেন? এ দেশে নির্বাচন করবেন নাকি?’
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলোর মতলব সুবিধার না। আমি আশা করব তারা তাদের প্রটোকল মানবেন এবং সেইভাবেই তারা কাজ করবেন। তারা জ্ঞানী গুণীজন, তারা জানেন, বুঝেন, তাদের এ ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশিত নয়।’

বাজেটে কৃষিসহ ৪ খাতে বাড়তি বরাদ্দ চায় সিপিডি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদী অভিঘাত মোকাবিলায় বরাদ্দে স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ চার খাতকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য বাস্তবসম্মত ও সম্প্রসারণমূলক একটি বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। শনিবার ‘কোভিড-১৯-বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাজেট ২০২০-২১’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এ প্রস্তাব রাখেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ও কর্মসংস্থান- এই চারটি বিষয় মাথায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের বাজেট ব্যবস্থায় যে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রয়েছে আগামী বাজেট থেকে সেসব ব্যয়গুলোকে কাটছাট করতে হবে।’ অপ্রয়োজনীয় ও অনুৎপাদনশীল ব্যয়গুলোকে কমিয়ে আনায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষিতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে কর জালের আওতা বাড়ানো ও কর ফাঁকি রোধের পাশাপাশি অর্থপাচার রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে হবে। কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশের উন্নীত করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমাদের অনেক সম্পদ সঞ্চালন করতে পারব। তা দিয়ে ক্রান্তিকালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলো মেটানো সম্ভব হবে।’
সরকারের প্রশাসনিক খরচ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব জানিয়ে বলেন, গাড়ির জ্বালানি ও অফিস খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এখাতে ব্যয় কমিয়ে অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। ফাহমিদা বলেন, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা যেন সুচারুভাবে করা হয়। যাচাই-বাছাই, বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকরাই যেন সেই প্রণোদনার অর্থ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে আবারও পুরোদমে সচল করতে পৃথিবীর অনেকে দেশেই ৩ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সময়ও লেগে যেতে পারে। কোনও কোনও দেশে তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সুতরাং আগামী বাজেটটাকে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ১ দশমিক ১২ শতাংশে উন্নীত করা দরকার, যা এখন জিডিপির দশমিক ৮৯ শতাংশ। এছাড়াও কোভিড-১৯ এর প্রভাবে দুস্থ মানুষের সহযোগিতা হিসেবে দেশের ১ কোটি ৯০ লাখ নিম্নবিত্ত পরিবারকে দুই মাস আট হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। হাসপাতালের চাকরিজীবি এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও আর্থিক সুবিধা প্রদানে সরকারের কাছে সুপারিশ করে সিপিডি।
কৃষি খাতে ব্যাপকভাব কর্মসংস্থান তৈরি জন্য আগামী বাজেটে এই খাতে বাজেটের ৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে বাজেটে এখাতের বরাদ্দ ৩ শতাংশের নিচে চলে এসেছে জানিয়ে তৌফিক বলেন, ‘কৃষিতে প্রণোদনার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয় তা ঠিকমতো ব্যয় করা হয় না। দেখা যায় ভর্তুকির জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা করে রাখা হয়। কিন্তু এতো টাকা খরচ হয় না। কোনও কোনও বছর এটা ৪/৫ হাজার কোটি টাকার ভেতরে খরচ হয়। এবার যে অতিরিক্ত অর্থ আছে তা যেন এই বছর এমনভাবে একটি পরিকল্পিতভাবে খরচ করা হয় যাতে আগামী অর্থবছরে আরও বড় পরিসরে খরচের সুযোগ তৈরি হয়।’
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অর্থায়নে বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের বেশি হলেও ক্ষতি নেই বলে মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়। কারণ এই সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন। এই ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ পেতে সরকার যেন সর্বোচ্চ মনোযোগী হয় সে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।আভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয় সেটা যেন বাস্তবসম্মত হয় তার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে সিপিডি। কারণ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে পরবর্তীতে প্রাধিকার খাতে অর্থায়ন করা সম্ভব হয় না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের আড়াই লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার পরামর্শ রেখেছে সিপিডি। এছাড়া যেসব ক্ষেত্রে আয়কর হার ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ ধরা হয়েছে তা কিছুটা কমিয়ে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে ক্ষুদ্র আয়ের মানুষদের ‘কিছুটা স্বস্তি’ দেওয়ার পরামর্শ রেখেছে। তবে কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়ে সাবধান হওয়ার কথা বলে এই খাতে কর না কমানোই উচিত হবে বলে প্রবন্ধে জোর দেওয়া হয়।
আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তৌফিক বলেন, এটা কোনো সুফল বয়ে আনে না। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্প অগ্রাধিকার তালিকা বাছাই করে সেগুলোতে অর্থায়ন চালিয়ে যেতে হবে। তবে কম অগ্রাধিকার বা সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে পরে শুরু করলেও হবে এরকম প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই দুঃসময়ে আমাদের নিম্নবিত্তসহ দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেজন্য রাজস্ব আহরণ অন্তত ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।’
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই অর্থবছরে রেমিটেন্সের প্রণোদনা হিসেবে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তার শতভাগ ব্যয় হবে না।’ ওই অব্যয়িত অর্থ যারা বিদেশ থেকে ফিরে আসছেন তাদের দেওয়া যায় কীনা তা ভাবতে সরকারের কাছে পরামর্শ রাখেন তিনি।

করোনা সংকটেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার, থেমে নেই অভিযানও: ৮ হাজার পিস উদ্ধার, আটক ২

::আবু সায়েম,কক্সবাজার::
করোনা সংকটেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার, থেমে নেই অভিযানও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে উদ্ধার করেছে বড় বড় চালান। গ্রেফতার হয়েছে পাচারকারীও। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিনব্যাপী সদর থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পৃথক অভিযানে মোট ৮০০০ পিস ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ৬ টায় কক্সবাজার সদর থানাধীন পুরাতন সাইমন রোডস্থ বাহারছড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে থেকে ৫৫০০ পিস ইয়াবা এবং একটি সিবিজেড ১৫০ সিসি মোটর সাইকেলসহ সাইফুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুকবককে আটক করা হয়েছে। আটককৃত সাইফুল ইসলাম চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের কোচপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। জিজ্ঞেসাবাদে সে অর্থীনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। অনেক দিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক চানঁ মিয়া বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন পৃথক অভিযানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় কক্সবাজার কলাতলী ডলফিন মোড়ে অবস্থিত সৌদিয়া কাউন্টারের সামনে হতে এরফানুল হক ( ৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত আসামি এরফান কক্সবাজার সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের মোহাঃ নুরুল হকের ছেলে। সে কলাতলী হোটেল জোন এলাকায় হোটেল বয়ের কাজ করতো। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক শেখ আবুল কাশেম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মাদকদ্রব্যনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সোমেল মন্ডল জানান, চলমান মাদক বিরোধী অভিযান এ করোনা সংকটেও অব্যাহত রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাত্যহিক অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের এ মহামারী পরিস্থিতিতে আমরা সজাগ রয়েছি। তিনি আরো জানান,কক্সবাজারকে মাদক নির্মূলসহ চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সফল করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয় বিশেষ বিশেষ অভিযানসহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ী নিহত, ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

::প্রতিনিধি,কক্সবাজার::
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মাদকের চালান খালাসকালে পুলিশী অভিযান দু’পক্ষের গোলাগুলিতে দুই অজ্ঞাত রোহিঙ্গা নিহত এবং দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল হতে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্রাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
৯মে রাতে (শনিবার) রাতের প্রথম প্রহর ২টারদিকে উপজেলার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্টে মাদকের চালান খালাসের সংবাদ পেয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মশিউর রহমানের সমন্বয়ে পুলিশের একটি ঘটনাস্থলে গেলে মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে পুলিশের এসআই মশিউর রহমান ও এএসআই আরিফুর রহমান আহত হয়। পরে পুলিশও আতœরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে মাদক কারবারী চক্রের হামলাকারী সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ১লাখ ৫৮হাজার ইয়াবা,২টি এলজি, ১০ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে।
এরপর আহতদের চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদক কারবারী গ্রæপের দুই সদস্যকে কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, এই ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে করোনাভাইরাস সংকটে সরকার ঘোষিত লকডাউনকে পুঁজি করে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এপার-ওপার নিয়ন্ত্রণকারী মাদক কারবারী সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু দূবৃর্ত্তদের ব্যবহার করে মাদকের অপতৎপরতা এখনো চালিয়ে যাওয়ায় সর্বনাশা মাদকের প্রার্দূভাব সহজে থামানো যাচ্ছেনা।