আজ শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 259

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বার্গার বানালো স্পেনের অভিজাত রেস্তোরাঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বার্গার বানিয়েছে স্পেনের অভিজাত রেস্তোরাঁ আসাদোর আউপা। এই বার্গারের একটির দাম ১১ হাজার ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

গত ১১ অক্টোবর থেকে বার্গারটি প্রদর্শন করেছে আসাদোর আউপা। স্পেনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কাতালানের ক্যাব্রেরা ডে মার শহরে অবস্থিত রেস্তোরাঁ আসাদোর আউপা সুস্বাদু, দামি এবং ইউরোপ ও অন্যান্য মহাদেশের এক্সক্লুসিভ ডিশ তৈরির জন্য বিখ্যাত। এক বিবৃতিতে আসাদোর আউপা’র কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের রেস্তোঁরার এক শেফের ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষনার ফসল এই বার্গার।

কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, “বার্গারটির এত দাম হওয়ার একটি কারণ এটিতে খাবারের উপযোগী স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। বার্গারটি তৈরিতে স্বর্ণের পাশাপাশি এমন কিছু মশলা উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দামি এবং বিরল।”

আসাদোর আউপার মালিক বস্কো জিমেনেজ স্পেনের অন্যতম বিখ্যাত এবং সুপরিচিত শেফ। কীভাবে বার্গারটি বানানো হয়েছে, অর্থাৎ সেটির রেসিপি প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে বলেছেন, বার্গারটি তৈরিতে বিশ্বের সেরা তিন ধরনের গরুর মাসংস,ইউরোপের সবচেয়ে বিরল ও দামি চিজ এবং প্রিমিয়াম স্পিরিটের একটি সিগনেচার সস ব্যবহার করা হয়েছে। এই উপাদানগুলো জোগাড় করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বার্গারটি রেস্তোরাঁর নিয়মিত মেন্যুতে থাকবে না। এমনকি যে কোনো ব্যক্তি আগে থেকে অর্ডার দিলে বার্গারটি পাবেন-এমনও নয়। নির্দিষ্ট কিছু অতিথির কাছে এটি সার্ভ করা হবে এবং সেসব সৌভাগ্যবান অতিথিদের অবশ্যই এই বার্গারটি খেতে হবে কোনো প্রাইভেট কক্ষে,যেখানে আসনসংখ্যা সীমিত।

“কারণ আমার দর্শন হলো— সত্যিকারের আভিজাত্য বিরল এবং সবাই সহজে তার নাগাল পায় না”, সাংবাদিকদের বলেন বস্কো জিমেনেজ।

সূত্র : গালফ নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন/১৫অক্টোবর ২০২৫/মওম

মেলোনিকে ধূমপান ছাড়তে বলেন এরদোয়ান; মেলোনি বললেন ‘মেরে ফেলব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনি দারুণ করছেন, কিন্তু আপনাকে ধূমপান ছাড়তে হবে।” জবাবে জর্জিয়া মেলোনি রসিকতার ছলে বলেছেন, যদি তাকে ধূমপান ছাড়তে হয়, তবে তিনি “কাউকে মেরে ফেলবেন”!

৪৮ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেত্রী  ১৩ অক্টােবর সোমবার মিশরের শার্ম আল শেখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় এমন মন্তব্য করেন। খবর নিউইয়র্ক পোষ্টের।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম ইহলাস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এরদোয়ানের কথায় পাশে থাকা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হাসিতে ফেটে পড়েন। এ সময় ম্যাক্রোঁ বলেন, “অসম্ভব।” তখন মেলোনি জবাব দেন, “জানি, জানি। আমি কাউকে মেরে ফেলতে চাই না!”

মেলোনি সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে জানিয়েছেন, তিনি ১৩ বছর পর আবার ধূমপান শুরু করেছেন। তার ভাষায়, ধূমপান তাকে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে “ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করেছে,” বিশেষ করে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের সঙ্গে।

সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মেলোনির প্রশংসা করেন। এর আগে ইসরায়েলি সংসদ ‘নেসেট’-এ দেওয়া বক্তব্যের পর ট্রাম্প মেলোনির সম্পর্কে মজা করে বলেন, “আমি সাধারণত এটা বলি না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নারীকে সুন্দর বললে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আমি ঝুঁকি নিচ্ছি—তিনি এক সুন্দর তরুণী!”

ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি অসাধারণ, ইতালিতে তাকে অনেক সম্মান করা হয়। তিনি অত্যন্ত সফল এক রাজনীতিক।”

২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ক্ষমতায় আসা মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হয়েছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন -বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে।

জর্জিয়া মেলোনি ২০০৬ সালের ইতালির সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (এএন) এর সদস্য হিসেবে চেম্বার অফ ডেপুটিজে নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি এর সর্বকনিষ্ঠ ভাইস-প্রেসিডেন্ট হন। একই বছর তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৮ সালে ৩১ বছর বয়সে তিনি চতুর্থ বার্লুসকোনি সরকারের যুব নীতি মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি সংযুক্ত ইতালির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালে তার দল ফোরজা ইতালিয়া (এফআই) -এর সাথে দ্য পিপল অফ ফ্রিডম (পিডিএল)-এ একীভূত হয় এবং তিনি ইয়ং ইতালি নামে পরিচিত ইউনাইটেড পার্টির যুব বিভাগের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন ।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে মেলোনি, লা রুসা এবং ক্রোসেটো একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন ব্রাদার্স অফ ইতালি (এফডিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালের ইতালীর সাধারণ নির্বাচনে তিনি বার্লুসকোনির মধ্য-ডানপন্থী জোটের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ২ শতাংশ ভোট এবং ৯টি আসন পেয়েছিলেন। তিনি লম্বার্ডির চেম্বার অফ ডেপুটিজে পুনরায় নির্বাচিত হন এবং পরে তাকে হাউসে দলের নেতা নিযুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে তিনি এফডিআই-এর সভাপতি হন এবং এপ্রিল মাসে তিনি ইতালিতে ২০১৪ সালের ইউরোপীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় এফডিআই-এর নেতা হিসেবে মনোনীত হন। ২০২২ সালের ইতালির সাধারণ নির্বাচনে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫অক্টোবর ২০২৫/মওম

শহীদ মিনারে শিক্ষকরা, দাবি আদায়ে চলছে শাহবাগ অবরোধের প্রস্তুতি

আলোকিত প্রতিবেদক:
বাড়িভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। ১৫ অক্টোবর বুধবার সকাল থেকে তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। দাবি আদায়ে শাহবাগ অবরোধের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে অবেরোধ ঠেকাতে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক বলেন, দাবি আদায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর নেতৃত্বে শিক্ষকরা শহবাগ মোড়ে অবস্থান নেবেন। শাহবাগে রাস্তা অবরোধের প্রস্তুতি চলছে। বেলা ১২টা থেকে সেখানে অবস্থান করার কথা ছিল। তবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কিছুক্ষণ পর অবস্থান নেওয়া হবে।

শিক্ষকরা জানান, বাড়িভাড়া ভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, ১ হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন এমপ্রিভুক্ত শিক্ষকরা। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন চলছে, অন্যদিকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে কর্মবিরতি। গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশি নির্যযাতনের শিকার হন শিক্ষকরা। তাদের অবস্থান কর্মসূচি সরিয়ে নেওয়া হয় শহীদ মিনারে। সেখোন থেকে  ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করলে শিক্ষকদের হাইকোর্ট মাজার গেটেই আটকে দেয় পুলিশ।   

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘বুধবার শাহবাগ ব্লকেড করবো। সারা দেশে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করবেন। প্রজ্ঞাপন হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও শিক্ষক শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরবেন না।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫অক্টোবর ২০২৫/মওম

রোম সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা!

আলোকিত ডেস্ক, ইতালির রোমে দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দর থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টাকে বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে অংশ নিতে গত রোববার (১২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রোমে পৌঁছান ড. ইউনূস। ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রোকেবুল হক।

এ সফরে প্রধান উপদেষ্টা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, জিবুতির প্রধানমন্ত্রী এবং রোমের মেয়রের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি প্রযুক্তি বিনিময় ও সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আমতলীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘরের মালামাল চুরি 

আমতলী বরগুনা প্রতিনিধি: আমতলী  মহিলা কলেজ রোডে ব্রাক অফিস সংলগ্ন বিরোধপূর্ণ ওয়ারিশান সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন ঘর থেকে, বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা  দেনং ১৯০/২০১০ চলাকালীন কাঠ, টিন সহ অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ এসেছে। ওয়ারিশান সম্পত্তির উক্ত ঘরের মালিকানার দাবিদার দেলোয়ার হাওলাদার ও মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হানিফা অর্ধ নির্মিত ঘরের কাঠ ও টিন চুরি করে নিয়ে যায়। তারা আরো অভিযোগ করেন ওয়ারিশান সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বিরোধী পক্ষের যোগসাজোশে হানিফা উক্ত চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে। সম্পত্তি নিয়ে তাদের অন্য ওয়ারিশ দেলোয়ার হাওলাদার ও পান্না হাওলাদার এর সাথে বিরোধ এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত হানিফার নির্মাণাধীন বসতঘরে চুরি যাওয়া মালের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাঠ ও টিনের আলামত পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় স্যানিটারি পণ্য ব্যবসায়ী মতিন খান বলেন, হানিফা নির্মাণাধীন ওই ঘরের পাটাতন থেকে তক্তা এনে আমার দোকানের পিছনে রাখে এবং পরবর্তীতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে, কিন্তু আমি তাকে তৎক্ষণাৎ ওখান থেকে সরিয়ে নিতে বলার পর সে তক্তা নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী দর্জি রাসেল হানিফাকে খুব ভোরে মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ঘর মালিক মমতাজ বেগম বলেন, ওয়ারিশান সম্পত্তি নিয়ে আদালতে চলমান মামলার বিরোধীপক্ষের যোগসাজোশে হানিফা ও তার অজ্ঞাত সহযোগীরা, উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আদালতের নিষেধ অমান্য করে আমাদের নির্মাণাধীন ঘড়ের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে, যাহার অসংখ্য সাক্ষী রয়েছে। আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে অভিযোগ করবো ও আদালতের নির্দেশ অমান্যের তথ্য প্রমাণ সহ আদালতে পেশ করব।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সোনারগাঁওয়ে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধ : মো: সুজন মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ৪দিন পর কসটেপে মোড়ানো সায়মা আক্তার মীম (২২) নামের এক নারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রীজ এলাকা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। নিহত সায়মা আক্তার মীম পাবনা জেলার সুজানগর থানার দয়াল নগর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। সে মোগারাপাড়া আমতলা এলাকার ফিরোজ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের আমতলা ফিরোজ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা কলাপাতা বার্গারের কর্মী সায়মা আক্তার মীম গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করে না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিকেল ৪টার দিকে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রীজ এলাকায় ঝোপের মধ্যে বড় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ব্যাগটি পানি থেকে তুললে সেখানে কালো পলিথিনে মোড়ানো কসটেপ প্যাচানো হাত,পা বাধা লাশ বের হয়ে আসে। পরে নিখোঁজ সাময়ার মামা খোকন শেখ সাগর লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত সায়মার মামা খোকন শেখ সাগর জানান, তার ভাগ্নি কুমিল্লার রায়হান নামের এক যুবকের সঙ্গে দু’বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করে। এ বিয়ে উভয় পরিবার মেনে না দেওয়ায় তারা বাসা বাড়া নিয়ে বসবাস করে। তার দাবি, স্বামী রায়হান তার ভাগ্নিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ব্যাগ ভর্তি করে লাশ ফেলে যায়। তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করলেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, কসটেপে মোড়ানো ব্যাগ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস রফিকুল ইসলাম (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল।
১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন  (পিবিআই) টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন তালুকদার এক প্রেসবিফ্রিং এর মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসময় তিনি জানান, রবিবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে টাঙ্গাইল ধনবাড়ী উপজেলার নাথের পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী মকবুল(৫৫)কে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (১৩ অক্টোবর) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে সে হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে এবং অন্যান্য আসামীদের সম্পৃক্ত করে ১৬৪ ধারা মতে বিস্তারিত দোষ স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
জানা যায়, ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারী সকালে টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার নাথেরপাড়া গ্রামের জনৈক মামুন মিয়ার জমিতে ঝোপের পাশে রফিকুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ধনবাড়ী থানা পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের মা ছাহেরা বেওয়া (৫৮) বাদী হয়ে ধনাবাড়ী থানায় ৩ ফেব্রুয়ারী হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মামার বাড়ী থেকে প্রাপ্য ওয়ারিশের সম্পত্তি ও গরু চুরির বিষয় নিয়ে রফিকুলের সাথে তার মামা ও মামাতো ভাইদের বিরোধ এবং জমি ও ঘর ভাঙ্গার বিষয় নিয়ে রফিকুলের সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী মকবুল ও হাফিজুরের সাথে বিরোধকে কেন্দ্র করে অত্র হত্যা মামলার ঘটনার কয়েক দিন আগে রফিকুলের মামা রেহানের বাড়ীতে মকবুল, হাফিজুর, রেহান, জলিল, সেকান্দার ও আলম মিলে রফিকুলের কে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে রফিকুল এর মামাতো ভাই আলম তাকে মাদক সেবনের কথা বলে তার বাড়ী থেকে ডেকে সেখানে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মকবুল, হাফিজুর, রেহান, জলিল ও সেকান্দার উক্ত ক্ষেতের দক্ষিন পার্শ্বে লুকিয়ে ছিল। তাদের হাতে বাঁশের লাঠি ছিল। রফিকুল সেখানে যাওয়া মাত্রই মকবুল, হাফিজুর, রেহান, জলিল ও সেকান্দার লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে রফিকুলের কে মারপিট করে এবং আলম মাথায় ও মুখে চা পাতি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে সকলে মিলে রফিকুলের লাশ তার বাড়ীর পাশের স্থানীয় মামুন গংদের বিরোধপূর্ণ জমিতে রেখে আসে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪অক্টোবর ২০২৫/মওম

এরদোয়ানের হুমকিতে গাজা সম্মেলনে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ বাতিল করতে বাধ্য হন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিসরের শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক গাজা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে বাধ্য হমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান হুমকি দিয়ে ট্রাম্পকে বলেছিলেন, নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ বহাল থাকলে তাকে বহনকারী বিমান শারম আল শেখে অবতরণ করবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে সোমবার সকালে ইসরায়েল থেকে নেতানিয়াহু সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মতি জানান। এই সম্মেলনটি ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এরদোয়ানের আপত্তির পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। জানা গেছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তার বিমানে বসেই মিসরের আকাশসীমা থেকে সিসিকে ফোন করে আপত্তি জানান। পরে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ বাতিলের ঘোষণা আসে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আজকের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও ধর্মীয় ছুটির কাছাকাছি সময়ের কারণে অংশ নিতে না পারার কথা জানিয়েছেন।

তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা সতর্ক করেছিলেন, নেতানিয়াহু সম্মেলনে গেলে তারা পদত্যাগ করবেন। ফলে অভ্যন্তরীণ চাপও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যদিও মিসর ওই আদালতের সদস্য নয়, তবুও নেতানিয়াহুর উপস্থিতি আরব দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারত। সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের নেতারা অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিয়ে এই বিরোধ নতুন করে দেখিয়ে দিলো, ট্রাম্প যে উপায়ে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, তা কতটা জটিল এবং সংবেদনশীল।

এরদোয়ানের জন্যও বিষয়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ছবি কিংবা করমর্দনের দৃশ্য তুরস্কে তার জন্য মারাত্মক রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। একই সঙ্গে গাজায় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠত।

এরদোয়ান বারবার ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাই একই মঞ্চে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উপস্থিত হওয়া তার জন্য রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ছিল।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪অক্টোবর ২০২৫/মওম

আ.লীগের মি*ছিলে গেলেই দেওয়া হচ্ছে ৫ হা#জার টাকা

বিশেষ প্রতিবেদক, আওয়ামী লীগের অনেক টাকা আছে। ওই টাকা খরচ করে তারা আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। ঝটিকা মিছিলে অংশ নিলেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতারা এসব স্বীকারও করেছে। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে সজাগ থাকতে হবে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এই নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। মনে যাই থাকুক না কেন, যে দলকেই সমর্থন করি না কেন সেটা প্রকাশ করা যাবে না। নির্বাচনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন।

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরু করতে হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মনিটরিং শুরু করেছে ডিএমপির সদর দপ্তর। যথাসময়ে জিডির তদন্ত শুরু না করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিশনার জানান, গত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল প্রহসনের। গত তিনটি নির্বাচনকে আসলে নির্বাচন বলা যায় না। তাই এবার সেরা নির্বাচন উপহার দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডিএমপির প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে নির্বাচনে শতভাগ কাজে লাগাতে হবে। গত কিছুদিন ধরে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ভালো। অপরাধ পরিস্থিতি ভালো। এটাকে ধরে রাখতে হবে।

সভা শেষে সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ডিএমপির অনেকগুলো গাড়ি নষ্ট হয়েছে। সেগুলোর বিপরীতে ২০টি গাড়ি মঞ্জুর করা হয়েছে। ২০টি গাড়ি হাতে পেয়েছি। বাকিগুলো শিগগিরই হাতে পাব। আশা করি, এসব গাড়ি আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, আরও গাড়ি দরকার। ডিএমপির থানাগুলোতে অন্তত ২০টি করে গাড়ি থাকা দরকার। সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে টহল কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার (অতিরিক্ত আইজি) বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, সেবাপ্রত্যাশীদের কথা বিবেচনা করে থানা ভবনগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় করা মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ফিন্যান্স, লজিস্টিকস ও প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জিললুর রহমান, আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউল হক, সব যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসাবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। সেপ্টেম্বর-২০২৫ মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে উত্তরা বিভাগ। শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে গুলশান থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদ হোসেন। শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন গুলশান থানার এসআই মো. আলীম হোসাইন ও মুগদা থানার এসআই তহিদুল ইসলাম। এএসআইদের মধ্যে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই আখতারুজ্জামান মন্ডল পলাশ ও গুলশান থানার এএসআই মো. তন্ময় ডিউ।

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ডিবি-মতিঝিল বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন ডিবি-মতিঝিল বিভাগের গাড়ি চুরি উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন। ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাত রুটে অ/স্ত্র ঢুকছে দেশে, নিরাপত্তা নিয়ে আ/শঙ্কা

আলোকিত ডেস্ক, মিয়ানমার থেকে অন্তত সাতটি সীমান্ত পথ দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রবেশ করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধকাণ্ডে অন্তত পাঁচটি চক্র জড়িত আছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি চক্রেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা জড়িত রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তিনটি পার্বত্য জেলার সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বিজিবি সূত্র বলছে- সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে আগত অস্ত্রের প্রবাহ কয়েক বছর আগেও ছিল না। এখন মাদকের সঙ্গে মিলিয়ে অস্ত্রও আনা হচ্ছে। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন জানিয়েছেন, ৫ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলায় অভিযান চালিয়ে উখিয়া থানার পুলিশ দুটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ ও দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করে। আটককৃতরা এসব অস্ত্র ও মাদক মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নিয়ে এসেছিল।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজারের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে অস্ত্র দেশে প্রবেশের পর পাচারকারীরা তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত তিন মাসে বিজিবি সদস্যরা ২২টির বেশি দেশি ও বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক করেছেন। এ ঘটনায় সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের সাতটি পথ ব্যবহার করে পাচারকারীরা অস্ত্র আনছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট হলো- নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম পয়েন্টের বালুখালী কাস্টমস ঘাট, উখিয়ার পালংখালী ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বাইশফাঁড়ি এলাকা দুর্গম, গহিন ও পাহাড়ঘেরা। এখানকার চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা নৃগোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যও অস্ত্রপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এই পথ দিয়েই অধিকাংশ অস্ত্র পৌঁছে যায় তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অরণ্যে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের হাতে। অন্য দুটি সীমান্তপথে আনা অস্ত্রের গন্তব্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে অস্ত্র পাচারে সক্রিয় রয়েছে অন্তত পাঁচটি চক্র। এর মধ্যে চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন- আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), হালিম গ্রুপ (নেতা: হালিম) এবং নবী হোসেন গ্রুপ। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের অরণ্যে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের একটি বড় চক্রও এতে জড়িত, যার সদস্য সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়, সম্প্রতি সক্রিয় হওয়া হালিম গ্যাংয়ের প্রধান কেফায়েত উল্লাহ বা আব্দুল হালিম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৭ এলাকায় ‘নৌকার মাঠ’ নামক স্থানে নিজেদের আস্তানা গড়ে তুলেছেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির একটি ভিডিওতে দেখা যায়- হালিম নিজেই মিয়ানমারের রাখাইনাঞ্চলের, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে থাকা মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ঢেকিবনিয়া ঘাঁটি থেকে লুট করা অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। এই ভিডিও থেকে মনে করা হচ্ছে যে, হালিম এবং তার নেটওয়ার্ক কৌশলে অত্যাধুনিক ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে।

এদিকে র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গত দেড় বছরে র‌্যাব-১৫-এর অভিযানে ২১টি বিদেশি অস্ত্রসহ মোট এক হাজার ২৭৯টি অস্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় ১৬৩ জন অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য বা আরাকান থেকেই এসব অস্ত্রের উৎপত্তি। ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর সেখানে আরাকান আর্মির উত্থান ঘটে। রাখাইন রাজ্যকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে আরাকান আর্মি মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে রাখাইনের প্রায় পুরো অংশ দখল করে নেয়। এ সময় তারা মিয়ানমার সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির একাধিক ঘাঁটি দখল করে নেয়। শতাধিক মিয়ানমার সেনা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সহিংসতার সেই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসওর সদস্যরা সুযোগ বুঝে বিজিপি ও মিয়ানমার সেনাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র লুট করে নেয়। পরবর্তীতে খাদ্য ও সরবরাহ সংকটে পড়া আরাকান আর্মি এসব অস্ত্র বাংলাদেশ সীমান্তের অপরাধচক্রের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা অস্ত্রের বিনিময়ে খাদ্য ও নিত্যপণ্য গ্রহণ করে। এসব অস্ত্রের বড় অংশই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করে রোহিঙ্গা চক্রগুলো।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি