আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2582

রেড জোনে দ্রুতই লকডাউনের সম্ভাবনা, ইউনিয়ন পর্যন্ত ম্যাপিং সম্পন্ন

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

কোভিড-১৯ সনাক্তের ওপর ভিত্তি করে দেশের জেলাশহরগুলোর এলাকায় সবচেয়ে বেশি রোগীর এলাকাকে লকডাউন করার মাধ্যমে নতুন পদক্ষেপে চলেছে সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই হতে পারে কার্যকর। এরই মধ্যে পুরো দেশের ইউনিয়ন পর্যন্ত ম্যাপিং করে দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। একটি এলাকার কত বর্গকিলোমিটার জায়গায় কতজন করোনায় আক্রান্ত হলে সেটি রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে, সেই মানদণ্ড ঠিক করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ এলাকাই ‘গ্রিন’ আছে। তাই প্রথমে বড় কয়েকটি শহরের সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত রোগীর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা দিয়ে লকডাউন কার্যকর করা হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারা দেশের চিত্র দেখতে পারছে। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোকে লকডাউন ঘোষণা করা হবে। তবে আবারও সাধারণ ছুটিতে ফিরতে চায় না সরকার,  বলছে বিশেষ সূত্র ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান খান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘কতটুকু এলাকায় কতজন শনাক্ত হলে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেটি নির্ধারণে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারা এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি অধ্যাপক, মহামারি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সারা দেশকে জোন বা এলাকাভিত্তিক ভাগ করার মাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার ছক চূড়ান্ত হচ্ছে। দেশের বাইরের এমন ২৫ জন বিশেষজ্ঞ দেশের বিশেষজ্ঞ কমিটিকে সহযোগিতা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, কড়া লকডাউনের মাধ্যমে চেষ্টা থাকবে রেড জোনের রোগীর সংখ্যা যাতে কোনোভাবেই না বাড়ে এবং পর্যায়ক্রমে ইয়েলো জোনে পরিণত হয়ে শেষে গ্রিন জোন হয়। অন্যদিকে ইয়েলো জোনের চিত্র যাতে রেড জোনে পরিণত না হয় এবং গ্রিন জোনকে যেন গ্রিনই রাখা যায়, তা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রেড জোনের বাসিন্দাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শুধু জীবনধারণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া আর কিছু এই এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছবে না। এখানকার কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না। ইয়েলো জোনে থাকবে কড়া সতর্কতা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না। প্রতিদিনই দেশের সব এলাকার চিত্র পর্যালোচনা করে রোগী বাড়ছে না কমছে, তা বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর গ্রিন জোনের চলাচলে তেমন কড়াকড়ি না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে বাধ্য করা হবে।

কক্সবাজারে রেড জোন চিহ্নিত করে ফের লকডাউন

:: প্রতিনিধি, কক্সবাজার::  

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  আর সেসব এলাকায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক।  রেড জোন ঘোষিত এলাকা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবেন না, আবার প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রয়োজনে লকডাউনের সময় আরো বাড়তে পারে বলে আভাস।

 বৃহষ্পতিবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। লকডাউন থাকাকালে প্রয়োজনে এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকারিভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমাতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি কাজের সাথে জড়িতরা রেড জোনে সীমিত আকারে আসা যাওয়া করতে পারবেন।’

সূত্র জানায়, কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধুমাত্র ১ নম্বর ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘ইয়োলো জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর বাইরে ১০টি ওয়ার্ডকে অতিমাত্রায় করোনা সংক্রমণের ‘রেড জোন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলরগণ কমিটির প্রধান হবেন। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে যুবক, ছাত্র, সমাজকর্মী নিয়ে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে। কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন এলাকাবাসীকে। যে দুটি ওয়ার্ড ইয়েলো জোন হিসেবে চিহ্নিত সেখানেও সবকিছু চলবে সীমিত পরিসরে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে সকলকে। কক্সবাজার পৌরসভায় কোন ওয়ার্ডকে ‘গ্রীণ জোন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলাকে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে ইউনিয়নভিত্তিক ও চারটি পৌরসভায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বিন্যাস করে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৮৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৬ জন। ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে ঝুঁকিতে। ইতিমধ্যে একজন রোহিঙ্গা মারা গেছেন, ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কর্মীদের বাসা থেকে কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব বণ্টন বা রোস্টারিং ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে করে বাসা থেকে অফিস করতে পারবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, করোনার সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত দীর্ঘ সাধারণ ছুটি শেষে গত ৩১ মে অফিস কার্যক্রম পুরোমাত্রায় চালু করা হয়। এরপর থেকে এতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছিলেন। অধিক সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী একসঙ্গে উপস্থিতি হওয়ায় অফিসের প্রধান ফটক, ভবনের ফটক, লিফট, করিডোরে মানবজট তৈরি হয়। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। তারা করোনা মহামারি চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যাপ্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং রোস্টারিং ডিউটি চালুর দাবি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগীয় প্রধান এবং শাখা অফিসের প্রধান নির্বাহী বা মহাব্যবস্থাপক অফিসের কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় ও বাস্তবতার নিরিখে সুষ্ঠুভাবে অফিস পরিচালনার নিমিত্তে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব বণ্টন বা রোস্টারিং করতে পারবেন।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার বিরতিকাল এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে এবং দৈনন্দিন কাজে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।
আদেশ অনুযায়ী, ‘যেসব কর্মকর্তা বাসায় অবস্থান করবেন, তাদের বাসা থেকে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। যেসব কর্মকর্তা অফিসে এসে কাজ করবেন তাদের দুপুরের খাবার দেয়া হবে।’

করোনার প্রভাব পোশাকখাতে, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আভাস বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানার

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্কটে দেশের পোশাক কারখানাগুলো সক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করে কাজ চালাতে পারছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ‍রুবানা হক বলেছেন, এর প্রভাবে চলতি জুন মাস থেকেই কর্মী ছাঁটাই শুরু হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এই ছাঁটাইয়ের ফলে যেসব শ্রমিক চাকরি হারাবেন, তাদের পুনর্বাসনে সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি বলেছেন।
পোশাক শ্রমিকদের জন্য একটি করোনাভাইরাস টেস্টিং ল্যাবের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ছাঁটাইয়ের এ বাস্তবতা স্বীকার করেন রুবানা।
করোনাভাইরাস সঙ্কট পোশাক খাতে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর নিবন্ধিত কারখানা ছিল ২২৭৪টি, তার মধ্যে এখন ১৯২৬টি চলছে। অর্থাৎ বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন করছেন। ছাঁটাই কিন্তু পহেলা জুন থেকে হবে আসলে। এটা একটা অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা। কিন্তু এই মুহূর্তে কিচ্ছু করার নেই। কারণ, শতকরা ৫৫ ভাগ সক্ষমতায় কারখানাগুলো চললে আমাদের পক্ষে ছাঁটাই ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
রুবানা বলেন, ‌‌‘এই ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের জন্য কী করা হবে- সেজন্য আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে আবেদন করি যে, কীভাবে সবাই মিলে এই ক্রাইসিসটাকে অতিক্রম করতে পারি। তবে ছাঁটাই আসলে হবে।’
অবশ্য পরিস্থিতি যদি হঠাৎ করেই ভালোর দিকে যায়, তাহলে ওই শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার পাবে বলে আশ্বাস দেন বিজিএমইএ সভাপতি।
ছাঁটাই প্রসঙ্গে কথা বলতে পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নিজের বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে আসেন রুবানা হক। তিনি বলেন, ‘জুনের মধ্যে ছাঁটাই হবে এমন ঘোষণা আমি দিইনি। এ ধরনের শিরোনাম পোশাকখাতে উসকানির একটি চেষ্টা। আামি বলেছি পোশাকখাতে সামগ্রিকভাবে অর্ডার কমে গিয়ে সক্ষমতার ৫৫ শতাংশ কাজ করে চলছে জুন মাসে। এর ফলে ছাঁটাইয়ের মত ঘটনা ঘটতে পারে।’
পোশাকখাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে রুবানা হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুধু মার্চ থেকে মে পর্যন্ত একটি সামগ্রিক বিবেচনায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হচ্ছে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার। কাজেই আমরা বলতে পারি শতকরা ৩০ ভাগ অর্ডার কমে আসবে আগামীতে। জুনে আছি ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে। জুলাইতে কি হবে জানি না। তবে যত যাই হোক এই অর্থবছরে একেবারে কমে গেলেও রপ্তানি হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার।’ রুবানা হক বলেন, ‘যেসব অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হয়েছিল, আলোচনা করে তার ২৬ শতাংশ ফেরত আনা গেছে। কিন্তু পেমেন্টের শর্তগুলো বদলে গেছে। যারা এখনই পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন তারা অন্তত ১৮০ দিন পরে টাকাটা দেবেন। কেউ বলছেন পণ্যগুলো আগামী বছর নেবেন। কিন্তু টাকাগুলো কখন দেবেন সেটা বলছেন না। কেউ ডিসকাউন্ট চাইছেন। অনেকে আবার পেমেন্ট নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না।’ আবার অনেক অর্ডার রয়েছে যেগুলোর বিপরীতে সুতা, কাপড় কেনা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কোনো খবর ক্রেতারা নিচ্ছেন না বলে জানান রুবানা।’ তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা আছি, কিন্তু আমাদের কাউকে আশা হারালে চলবে না। অর্ডারগুলো ফেরত আনতে হবে। ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে আমরাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো।’
এক জরিপের বরাত দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বিশ্বে ‘কনজাম্পশান’ ৬৫ শতাংশ কমে যাবে। সেটার প্রভাব অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিতেও পড়বে। আমরা আশা করতে পারি না যে অ্যাপারেলের চাহিদা বাড়বে। মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট, হেলথ টেক্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা সাংঘাতিকভাবে বাড়বে। এতে করে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলো রিটুল করতে হবে।’
দীর্ঘমেয়াদী বৈরী প্রভাব পড়লে ক্রেতারা পোশাক কেনা কমিয়ে দেবে। তবে বছরের শেষে ক্রিসমাসের দিকে কেনাকাটা আবার বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন রুবানা।

সামনে বাজেট অধিবেশন: কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে অধিবেশন সংশ্লিষ্টদের

:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাজেট অধিবেশনের আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী-এসএসএফের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ ফল এলেও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিবেশনের পুরো সময়টা কোয়ারেন্টিনে রাখা হতে পারে, যাতে তারা আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসতে না পারে।সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে তাদের; তবে কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
১০ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাজেট অধিবেশন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে যাতে বসতে পারে, সেজন্য ৮০-৯০ জন এমপি নিয়ে প্রতিদিন অধিবেশন চালানো হবে।
সংসদ অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে হুইপ ইকবালুর রহিম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এসএসএফ থেকে কিছু সুপারিশ এসেছে। আমরা তা বিবেচনায় নিয়েছি।”

দায়িত্ব পালনকারীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং ‘নেগেটিভ’ হওয়া ব্যক্তিদেরও সংসদ চলাকালে কোয়ারান্টাইনে রাখাসহ ১২ দফা সুপারিশ করে এসএসএফ।এসব সুপারিশ এবং সংসদ সচিবালয় তাদের নিজস্ব কিছু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাজেট অধিবেশনকালে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। এসএসএফের সুপারিশভুক্ত ভিভিআইপি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ছাড়াও সংসদ সচিবালয় সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অধিবেশনে অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত দুই দিনে ৯৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ এসেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বাকিদেরও সংসদ ভবনের মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ইকবালুর রহিম বলেন, অধিবেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। সংসদ সদস্যদের পরীক্ষার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় কোয়ারেন্টিনের পরিবেশ রয়েছে, তারা সেখানেই থাকবেন। আর অন্যদের সংসদ সচিবালয় থেকে একটি ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে করোনাভাইরাস সঙ্কটকালে অনুষ্ঠেয় এ বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক এমপিদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সংসদ সচিবালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, অধিবেশন চলাকালে কক্ষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে।
এক্ষেত্রে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরও এক সারি পেছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরও কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। আসন বিন্যাস এবং তালিকা করে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান হুইপের নেতৃত্বে হুইপরা একদফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কোন দিন কোন কোন সদস্যরা অংশ নেবেন তার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

ইকবালুর রহিম বলেন, ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী কে কোন দিন অংশ নেবেন, সেটা হুইপদের পক্ষ থেকে আগেই তাদেরকে মোবাইলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সাভারে করোনা টেষ্টের ভূয়া প্রত্যয়নপত্র সহ আটক-২

সাভার,প্রতিনিধি: সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদার স্বাক্ষর ও সীল নকল করে করোনা টেষ্টের ভূয়া প্রত্যয়নপত্র বিক্রির দায়ে এক সহযোগীসহ সাঈদ মিয়া নামে এক প্রতারককে আটকের পর পুলিশে সোপার্দ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকালে এক সহযোগীসহ প্রতারক সাঈদ মিয়াকে আটকের পর সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা জানান, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা ব্যক্তিদের যদি করোনা নেগেটিভ ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষথেকে করোনা নেগেটিভের একটি প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়। সম্প্রতি একটি তৈরী পোশাক কারখানার দুই শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে করোনা নেগেটিভের প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়। পরে ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচাই করতে যোগাযোগ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা নেয়া রোগীদের নামের তালিকায় ওই দুজনের নাম খুজে না পেলে দ্রুত কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ওই দুই শ্রমিককে আটক করে।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, সাভারের পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকার বাসিন্ধা সাঈদ মিয়ার কাছ থেকে তারা টাকার বিনিময়ে ভূয়া প্রত্যয়ণপত্র কিনে কারখানায় জমা দেন। পরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা ও ডা. নাজমুল হুদা মিঠু কৌশলে প্রতারক সাঈদকে হাসপাতালে ডেকে আনে। এসময় সাইদ এক সহযোগীসহ হাসপাতালে আসলে তাদের দুজনকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৫ জুন ‘২০/এসএএইচ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৬ শত মসজিদে সরকারি অনুদান প্রদান করলেন এমপি মমতাজ

মানিকগঞ্জ,প্রতিনিধি: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ৬ শত মসজিদে ৩০ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মানিকগঞ্জ -২ আসনের সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এ অনুদানের চেক স্ব স্ব মসজিদের ইমামদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। চলমান মহামারি করোনা মোকাবেলায় মসজিদে আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জীবানু নাশক সামগ্রী ক্রয়ের জন্য মসজিদ প্রতি ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চেক বিতরনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা, ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোসাঃ আনোয়ারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুর রহমান শহিদ, ইউপি চেয়ারম্যানদ্বয় মোঃ রমজান আলী, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ ওবায়দুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হাসান মিরু প্রমুখ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৫ জুন ‘২০/এসএএইচ

চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন জর্জ ফ্লয়েড

সংবাদদাতা,নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার শরীরে আফিম জাতীয় মাদকের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। তবে শ্বাসরোধের কারণেই ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার তার চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারস অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩ এপ্রিল করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল জর্জ ফ্লয়েডের শরীরে। তবে এতদিন পরও তার কোনও ধরনের উপসর্গ ছিল না। মৃত্যুর সময়ও উপসর্গবিহীন ছিলেন তিনি।
তবে ফ্লয়েডের মৃত্যুতে করোনার প্রভাব ছিল এমন কোনও প্রমাণ পাননি পরীক্ষকরা। বরং পরিবারের দাবিতে স্বাধীন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মতো এবারও বলা হয়েছে, ফ্লয়েডের মৃত্যুর পদ্ধতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিলে যায়।
তবে চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি নতুন তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জর্জ ফ্লয়েডের হৃদরোগ ছিল, তার শরীরে ফেনটানাইল ও মেথামফেটামাইনের উপস্থিতি দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লয়েডের ফুসফুস সুস্থ থাকলেও হৃদপিণ্ডের ধমণী সরু হয়ে এসেছিল। এর এক নোটে বলা হয়েছে, আফিম জাতীয় ব্যাথানাশক ফেনটানাইলের প্রভাবে শ্বাসতন্ত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এর আগে, গত সপ্তাহে প্রাথমিক ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে গত সোমবার স্বাধীন ময়নাতদন্তকারী ও ফ্লয়েড পরিবারের দুই আইনজীবী ওই দাবি উড়িয়ে দেন এবং প্রেস রিলিজে জানান, এটি পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড। তবে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও জর্জের মৃত্যুতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের দাবি, এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ে পা চেপে রেখেছিলেন। এসময় আরও দুই পুলিশ তার পিঠে ভর দিয়ে রাখেন। এর কারণেই শ্বাসরোধ হয়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। তবে স্বাধীন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের কোথাও মাদক গ্রহণের কথা বলা হয়নি।
জানা যায়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সন্ধ্যায় প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরেন জর্জের। এভাবে অন্তত আট মিনিট তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’
এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় মুহূর্তেই। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। প্রথম দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ জুন ‘২০/এসএএইচ

বগুড়ায় ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত আরও ২৬, মোট ৪৩৯

সংবাদদাতা,বগুড়া: গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন করে আরও ২৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৭৫ জনে। আজ ৪ জুন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন করে বগুড়ায় ২৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, নারী ৭জন ও ২ শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ জন, শাজাহানপুরের ২জন, গাবতলীর ২জন, শেরপুরের ২জন, দুপচাঁচিয়ার ৪জন, সারিয়াকান্দি ও ধুনটের ১জন করে রয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এর মধ্যে বগুড়ার ১৫ জনের করোনা পজিটিভ ও টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সেখানে ১১ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ গাউসুল আজিম বলেন, বর্তমানে এ জেলায় করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৫ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ৩৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ১জন। চিকিৎসাধীন আছে ৪৩৯ জন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ জুন ‘২০/এসএএইচ

রাঙ্গুনিয়ায় মনগড়া পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে জনগণের ক্ষোভ

সংবাদদাতা,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মিটার রিডিং না দেখে অনুমান নির্ভর বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (পবিস) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি – ২’র গত ৩ মাসের বিদ্যুতের প্রদানকৃত বিলের সাথে মিটার রিডিংয়ের কোন মিল নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে ২/৩ গুন বেশি বিল করা হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে দেওয়া লকডাউনে মার্চ,এপ্রিল মাসে মিটার রিডিং না দেখেই বিদ্যুৎ বিল করার কথা স্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি – ২ রাঙ্গুনিয়া অফিস কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ দশকে এ অঞ্চলে পিডিপির বিদ্যুৎ সেবা শুরু হয়। যা পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় নেয়া হয়। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সেবার কার্যক্রম চালাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (পবিস)। গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে মিটার রিডিং না দেখে একত্রে তিন মাসের ভৌতিক বিল গ্রাহকদের মাঝে প্রদান করলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগেও মিটার রিডিং থেকে কয়েকগুণ বেশি মনগড়া বিদ্যুৎ বিল সরবরাহ করার অভিযোগে উপজেলা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে গ্রাহকেরা। তাতে বিদ্যুৎ বিলের অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক গ্রাহকের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। এদিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর, লালানগর, হোচনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, পারুয়া, মরিয়ম নগর, চন্দ্রঘোনা, শিলক, কোদলা, পদুয়া, বেতাগী, পোমরা, সরফভাটা ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যুতের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে মিটার রিডিং না দেখে মনগড়াভাবে রিডিং বসিয়ে বিল তৈরি করে তা আমাদের দিয়েছেন। এতে বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।’
উপজেলার ধামাইরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘পুর্বের চেয়ে আমার ঘরের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ দেখানো হয়েছে এবং বিলের কাগজের সাথে মিটার রিডিং এর কোন মিল নেই।’ লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী আবদুল জলিলের স্ত্রী কামরুন্নাহার বলেন, আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে শহরে থাকি। করোনার কারণে আমার বাড়ি প্রায় ৩ মাস বন্ধ ছিল কিন্তু অনেক টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে।
রুবেল মার্কেটের মালিক রুবেল বলেন, ‘অনুমান ভিত্তিক বিলের কারণে আমার বাসা-বাড়ি ও মার্কেটের বিল অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে, যা অনিয়মের শামিল।’
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পৌরসভার নুরজাহান ক্লাবে অবস্থিত বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে গ্রাহকদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন গ্রাহক বলেন, মিটারে রিডিংয়ের থেকে অনেক বেশি রিডিং দেখানো হয়েছে। তাই তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ করতে আসা গ্রাহক মোশারফ আলী বলেন, ‘জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসের বিলসহ প্রতি মাসে বিল আসে ২০০-২৫০ টাকা। সেখানে মে মাসের বিল দেওয়া হয়েছে ৮০০ টাকার ওপরে।’ তাঁদের মতো আরও অনেকে একই ধরনের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিজিএম মোখলেছুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘করোনা ঝুঁকির কারণে মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাসের বিল করা হয়েছে মিটার না দেখে। কারণ বিদ্যুৎকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখতে পারেননি, তাই হঠাৎ করে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।’
‘আগের ২-৩ মাসের বিল দেখে আনুমানিক বিল পাঠানো হয়েছে। এ কারণে কোনো কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল হয়েছে। আবার কোনো কোনো গ্রাহকের বিল কম দেয়া হয়েছে। তবে মে মাসের বিল মিটার রিডিং দেখেই করা হয়েছে। তারপরও যদি কারো বিলে অতিরিক্ত ইউনিট লেখা হয় তা অফিসে নিয়ে আসলে সংশোধন করে দেয়া হবে।’ এ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করতে গ্রাহকদের অনুরোধ করেছেন তিনি।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ জুন ‘২০/এসএএইচ