আজ শুক্রবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2577

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে রাজু আহমেদের শোক প্রকাশ

প্রতিনিধি,সাভার: আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুবলীগ নেতা ও রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ। শনিবার (১৩ জুন) নিজ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক শোকর্বাতায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন। শোকবার্তায় রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিম জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। সব ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন।’ রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ আরও বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারাল। শোতবার্তায় মোহাম্মদ নাসিমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান যুবলীগ নেতা ও রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোহাম্মদ নাসিম। রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর দুই দফায় ৭২ ঘণ্টা করে পর্যবেক্ষণে রাখে মেডিকেল বোর্ড। এর মধ্যেই পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি তার শরীরে।মোহাম্মদ নাসিম সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রও ছিলেন তিনি।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ

টাঙ্গাইলে আরও ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত,মোট ২৯৬

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে নতুন করে আরও ১৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাড়ালো ২৯৬ জনে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি জানান, গত ৭ জুন করোনা শনাক্তকরণের পরিক্ষার জন্য ১৩৮টি নমুনা পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ১৩ জন রোগী করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ২ জন (টাঙ্গাইল পৌরসভাধীন কলেজ পাড়া ১ এবং পুলিশ লাইন ১) নাগরপুর উপজেলায় ১ জন (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসক ১) ঘাটাইল উপজেলায় ১ জন (শান্তিনগর ১) এবং মির্জাপুর উপজেলায় ৯ জন (মির্জাপুর বাজার ১, ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া দেওয়ানপাড়া ১, পাহাড়পুর ১, বানাইল ইউনিয়নের ভাবখন্ড ৩, গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই ২, ক্যাডেট কলেজ ১)। টাঙ্গাইলে সর্বমোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৯৬ জন। এর মধ্যে মির্জাপুর ৬৪, সদর ৪৩, নাগরপুর ৩১, কালিহাতী ২৬, দেলদুয়ার ২৬, মধুপুর ২৫, ধনবাড়ী ১৮, ঘাটাইল ১৮, গোপালপুর ১৭, ভূঞাপুর ১২, সখিপুর ১২ এবং বাসাইল ৪। একই সময়ে টাঙ্গাইলে ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে ঘাটাইলে ২, মির্জাপুরে ১, ধনবাড়ীতে ১, সদরে ১ এবং দেলদুয়ারের ১ জন রয়েছেন । এদিকে জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮৮ জন। এদের মধ্যে ভূঞাপুর ৭, নাগরপুর ১০, মির্জাপুর ১৩, মধুপুর ৪, সদর ১২, সখিপুর ৭, গোপালপুর ৭, ঘাটাইল ৪, ধনবাড়ী ৪, দেলদুয়ার ১১, বাসাইল ২ এবং কালিহাতী ৭ জন রয়েছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ

ফুলছড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানদের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা,গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন এবং পরে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে এক মানববন্ধনের কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদভূক্ত সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ফুলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল সংবাদ সম্মেলনে লিখিব বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ উপজেলার নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডকে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করছেন। এতে নদী ভাঙ্গন কবলিত এই অবহেলিত উপজেলার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, টিআর প্রকল্পের আওতায় টিন বিতরণে তিনি অন্যায়ভাবে নিজের অংশ দাবি করেন। এছাড়া টিআর কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের শতকরা ৮০ ভাগ নিজে দাবি করেন এবং বাকি ২০ ভাগ চেয়ারম্যানদের প্রদান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার এই অন্যায় দাবি না মানায় তিনি কোনো নথিতে স্বাক্ষর করবেননা মর্মে হুমকি দেয়। এছাড়া এই উপজেলার নতুন প্রায় ৭শ’ জন বয়স্ক ও বিধবা ভাতার নামের তালিকা উপজেলা পরিষদে উত্থাপন করা হলেও দীর্ঘ এক বছর অতিক্রান্ত হলেও চেয়ারম্যান তাতে স্বাক্ষর করছেন না। এতে এ সমস্ত বয়স্ক, বিধবা পরিবারগুলো সরকারি ভাতা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া এলাকার জনপ্রিয় এমপি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার সম্পর্কে নানা অশালীন মন্তব্য করেন এবং এ সমস্ত প্রকল্পের ব্যাপারে নিজে অন্যায় করে তাকে দোষারোপ করেন। ফলে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যানরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উলে¬খ করা হয়, গত ১১ জুন উপজেলা পরিষদের অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেই তিনি সভা থেকে প্রস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি বহিরাগত লোকজন দিয়ে সভায় উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানদের লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে উপজেলা পরিষদ হলরুমেই আক্রমণ করেন। এসময় চেয়ারম্যান নিজে এবং তার লোকজন মুহুর্তেই ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষ ভাংচুরের উদ্দেশ্যে চেয়ার, ফুলের টবসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ছুড়ে মারে এবং ভাংচুর করে। একজন জনপ্রতিনিধির এধরণের আচরণ অনভিপ্রেত, নৈতিক স্খলন ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করে তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে তারা জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদনও করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুকুম আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমনোয়ারা বেগম, কঞ্চিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়া, উড়িয়া চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, উদাখালী চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, গজারিয়া চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম, এরেন্ডবাড়ি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, ফজলুপুর চেয়ারম্যান আবু হানিফ প্রামানিক প্রমুখ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা পেলো অসহায় ২৯০ টি পরিবার

প্রতিনিধি,দিনাজপুর: দেশে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারন করায় দিনাজপুরের কমলপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার সামগ্রী দিনাজপুর সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি’র দিক নির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের ব্যাবস্থাপনায় ২৯০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। জানা যায়, গত (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার ১০ নং কমলপুর ইউনিয়নের ২৯০ এবং ৭নং ওয়ার্ডের ৫৯টি অসহায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কমলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাজেদুর রহমান সরকার,ইউপি সদস্য মোঃ মকবুল হোসেন চৌধুরীসহ অনেকেই। ত্রাণ সামগ্রী বিতরনকালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাজেদুর রহমান সরকার এবং ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবেন। প্রত্যেকে মাস্ক ব্যবহার করবেন। সাবান দিয়ে সর্বদা দুহাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিস্কার রাখবেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একে অপরের সাথে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা করবেন। আমরা প্রত্যেকে নিজেদের পরিবারকে সুস্থ্য রাখবো এবং অপরকে সুস্থ্য থাকার সুযোগ করে দিব। নিজে নিরাপদ থাকুন, অপরকে নিরাপদ থাকার সুযোগ দিন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ

ফরিদপুরে ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত ৪৫, মোট ৭৫৩

সংবাদদাতা,ফরিদপুর: ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় র‌্যাব ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৪৫ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় করোনা ভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৫৩ জনে। শনিবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে র‌্যাব-৮ ফরিদপুরের তিন সদস্য এবং দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীর। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মীরও করোনা শনাক্ত হয়েছে।২৪ ঘন্টায় নতুন করে যে ৪৫ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ফরিদপুর সদরে ১৬, ভাঙ্গায় ১৫, নগরকান্দায় ৯, সালথায় ২ এবং মধুখালী, চরভদ্রাসন ও সদরপুরে ১ জন করে। নতুন করে শনাক্তদের মধ্যে ১৪ জন নারী ও ৩১ জন পুরুষ।
ফরিদপুরে নতুন করে যে ৪৫ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ১ থেকে ২০ বছরের বয়সী রয়েছে ৫জন, ২১ বছর থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছেন ২৩জন, ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ১৩ জন, ৬১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন।
ফরিদপুরের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের মোট ২৭৮জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মোট পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। এর মধ্যে ফরিদপুরে পাঁচজন পুরনোসহ ৫০ জন, রাজবাড়ীর ২ জন এবং ফলোআপসহ গোপালগঞ্জের ১১ জন। আজ শনিবার পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট শনাক্ত ৭৫৩ জনের মধ্যে ভাঙ্গায় ১৯৯ জন, ফরিদপুর সদরে ১৯৬ জন, বোয়ালমারীতে ১১২ জন, সদরপুরে ৫৩, চরভদ্রাসনে ৫২, নগরকান্দায় ৫৪ জন, আলফাডাঙ্গায় ৩৮, সালথায় ২৮জন এবং মধুখালীতে ২১ জন। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুর সদর, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, সালথা, সদরপুর, মধুখালী, সদরপুর ও চরভদ্রাসনে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে যে ৪৫ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, আক্রান্তদের আপাতত বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাদের ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ

দু’একের মধ্যে সারা দেশের রেড জোনে লকডাউন, অবরুদ্ধ এলাকায় সাধারণ ছুটি

ছেলের ৬ মাস পর অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাংবাদিক নান্নুও না ফেরার দেশে

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনা নান্নু মারা গেছেন। শনিবার (১৩ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয় বলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাসায় দগ্ধ হন নান্নু। ইনস্টিটিউটে ভর্তির পরপরই ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রায় ছয় মাস আগে তার ছেলে স্বপ্নিল আহমেদ পিয়াস (২৪) একই বাসায় দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

নান্নুর মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার আফতাব নগরের বাসায় নেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে সন্তান স্বপ্নিলের পাশে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু।

নান্নুর স্ত্রী শাহীনা হোসেন পল্লবী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, যে ঘরে তাদের সন্তান স্বপ্নিল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল, সেই ঘরেই বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা ঘটে। রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরে ও নামাজ পড়ে ভাত খেল। পরে আমরা দুজনে গেলাম স্বপ্নিলের ঘরে। ও খাটে বসা ছিল, সুইচ অন করতেই বিকট শব্দ হল, পরে দেখি ঘরে আগুন, নান্নুর শরীরের পেছন দিক জ্বলছে। পরে নান্নু নিজেই বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে নিজের শরীরের আগুন নেভান। ছাদে গিয়ে পাইপ এনে ঘরে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন তখন ছুটে এসে নান্নুর শরীরের অবস্থা দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা ঘরের আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসোইন জানান, আগুনের খবর পেয়ে তারা আফতাবনগরের ওই দশতলা ভবনের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে নান্নুর বাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

নান্নুর স্ত্রী জানান, স্বপ্নীল মারা যাওয়ার পর তারা ওই ফ্ল্যাটে না থেকে বেশ কিছুদিন অন্য বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে পুড়ে যাওয়া ঘর ঠিক করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর জুনের শুরুতে আবার এই ফ্ল্যাটে ওঠার কথা জানিয়ে পল্লবী বলেন, ‘বাসায় ওঠার পর থেকে গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিলাম। বিষয়টি ডেভেলপার কোম্পানিকে জানানোও হয়েছিল। বলেছিল, শুক্রবার কোম্পানি থেকে লোক এসে দেখবে।’

দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘নান্নু আমাদের সঙ্গে আছেন বহু বছর ধরে, শুধু মাঝে কিছুদিন ছিলেন না। তখন নিজে একটি ইউটিউব চালাতেন। ছেলের মৃত্যুর পর গত মার্চ মাসে আবার যুগান্তরে যোগ দেন।’

নান্নুর মৃত্যুতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নান্নুর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুও শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যুতে পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদও শোক জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘অগ্নিদগ্ধ হয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর অকালে চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ ঘটনা।’

একই সাথে পরপর দুবার একটি বাসার একটি কক্ষে আগুন লেগে পিতা-পুত্রের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তও দাবি করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতারা।

নাসিমের মৃত্যুতে বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হারালাম: প্রধানমন্ত্রী

::নিজস্ব প্রতিবেদক  ::
মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম শনিবার সকালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, ‘পিতার মতোই মোহাম্মদ নাসিম আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। সকল ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারাল। আমি হারালাম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত নাসিমের বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

করোনা: আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়াল বাংলাদেশ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

আরও ২৮৫৬ রোগী শনাক্ত হওয়ায়  করোনাভাইরাসে আক্রান্তের নতুন পরিসংখ্যানে চীনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন। অন্যদিকে চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ২২৮ জন। বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায়  আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ রোগে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৯।
সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫৭৮ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৮৮২ জন সুস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শনিবার (১৩জুন) দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

মানিকগঞ্জে করোনায়: মৃত্যু ১,নতুন আক্রান্ত ১৭, মোট ৪০৪

প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে আরও একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির (বিজয় সরকার, ৪৫, পিতা মহেন্দ্র সরকার) বাড়ি ঢাকার ধামরাই এলাকায়। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। হঠাৎ শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ (১৩ জুন) শনিবার সকালে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান একজন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী এলাকায়।চাকুরীসূত্রে তিনি মানিকগঞ্জে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি ৭ জুন বিকেল থেকে গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের কোভিড-১৯ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁর শরীরে উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া, আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা হাসপাতালে আনার পর মায়া রাণী সূত্রধর (৫০) নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরী বিভাগের চিকিৎসক। তবে, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তাঁর বাড়ি জেলার সাটুরিয়া উপজেলার কৈট্টা এলাকায় জানান ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত ৫ ব্যক্তি মারা গেলেন।তবে, সরকারী হিসেব অনুযায়ী ৪জন। কেননা ধামরাই থেকে আসা নিহত ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছিল নিজ এলাকায়। গত ২৪ ঘন্টায় মানিকগঞ্জে নতুন করে আরও ১৭জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা হলো ৪০৪ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে সাটুরিয়া উপজেলায় ৭ জন, সিংগাইর উপজেলায় ৫ জন, ঘিওর উপজেলায় ৩ জন এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। আজ (১৩ জুন) শনিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রফিকুন নাহার বন্যা। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে ১৩৮টি নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৭টির পজিটিভ এবং ১১টির নেগেটিভ এসেছে। এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ১০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার বিভিন্নস্থানে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে তিন হাজার ৮৫৫টির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এতে পজিটিভ পাওয়া গেছে ৪০৪ জনের দেহে। এদের মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১২ জন, সিংগাইর ও সাটুরিয়া উপজেলায় রয়েছেন ৮১জন করে, ঘিওর উপজেলায় রয়েছেন ৫৫ জন, হরিরামপুর উপজেলায় ৩৩, শিবালয়। উপজেলায় ২৭ জন ও দৌলতপুর উপজেলায় রয়েছেন ১১জন। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৮জন এবং নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ২৫৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১১৫ জন এবং মারা গেছেন ৪জন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ জুন ‘২০/এসএএইচ