আজ শনিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2569

আমার পরিবারে কিভাবে তৈরি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ : ট্রাম্পের ভাতিজি

::আলোকিত ডেস্ক::

‘হয় খুব বেশি, নয়তো খুব কম: আমার পরিবার থেকে কিভাবে তৈরি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এক মানুষ’। ট্রাম্পের ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) ম্যারি ট্রাম্পের একটি পাণ্ডুলিপিরে এমনই নাকি শিরোনাম। ম্যারি ট্রাম্পের আত্মজীবনীমূলক বইটি ২৮ জুলাই ‘সাইমন অ্যান্ড সুস্টার’ নামক প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশ হতে চলেছে। বলছে বিবিসি বাংলা। বইটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কে নানা কেচ্ছা-কাহিনিতে ভরপুর থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ম্যারি ট্রাম্পের নামে পোস্ট করা টুইট থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের যেদিনটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন সেই দিনটিতে তিনি খুবই বিষণ্ণ ছিলেন। তার পোস্টে লেখা হয়েছিল, এটা আমার জীবনের এক কালো রাত। তার আরেকটি টুইটে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়, একজন অসাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিক।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ আগে বইটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের জন্য এই ন্যাশনাল কনভেনশন থেকেই ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে লড়ার জন্য দলীয় অনুমোদন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ম্যারি ট্রাম্পের ওই আত্মজীবনীতে বর্ণনা করা হবে কিভাবে তিনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত টাকাপয়সা সম্পর্কে গোপন দলিলপত্র তিনি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে সরবরাহ করেছিলেন।

নিউইয়র্ক টাইমস পরে ট্রাম্পের ওপর এক বিশদ তদন্ত-ভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতার সেরা পুরষ্কার পুলিৎজার প্রাইজ পায়। এতে দেখানো হয় কিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জালিয়াতি’ করে কর ফাঁকি দেন এবং তার বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে বর্তমান মূল্যে ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ লাভ করেন। অ্যামাজন থেকে এই আত্মজীবনীর যে সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, তার চাচা কিভাবে বিশ্বের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠলেন সেই ব্যাখ্যা লেখিকা তার আত্মজীবনীতে দেবেন।

প্রেসিডেন্টের বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বড় দুই ছেলে – ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়ার এবং ডোনাল্ডের অদ্ভুত এবং ক্ষতিকর সম্পর্কসহ এই পরিবারের ইতিহাসের নানা গল্প এই বইতে থাকবে বলে প্রকাশক সংস্থা জানিয়েছে। ফ্রেড ট্রাম্প আলঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ডোনাল্ড তার বাবার সাথে কিরকম দুর্ব্যবহার করেছেন সেই প্রসঙ্গও বইটিতে থাকবে বলে মনে করা হয়।

ম্যারি ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়ারের মেয়ে। ফ্রেড ট্রাম্প ১৯৮১ সালে ৪২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি মদ্যপান সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হার্ট অ্যাটাকে তার অকাল মৃত্যু ঘটে। গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তার ভাই পাইলট হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতে যোগদানের জন্য পীড়াপীড়ি করেন, যা নিয়ে তিনি এখনও অনুশোচনায় ভোগেন।

চাচা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ম্যারি ট্রাম্প অনেকটাই নিজেকে নিভৃতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে বিশ বছর আগে একটি মামলার পর থেকে। ম্যারি ট্রাম্প এবং তার ভাই তৃতীয় ফ্রেড ট্রাম্প ২০০৪ সালে ওই মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেছিলেন যে তাদের দাদার সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

তারা জানান, তাদের দাদা যখন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন তখন ১৯৯১ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বোনেরা মিলে ‘টাকা দিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে’ তার উইলটি বদলে দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ পত্রিকা এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ম্যারি ট্রাম্প সে সময় ওই পত্রিকাকে বলেছিলেন, ওই মামলা নিয়ে তার চাচা এবং ফুপুরা যেসব কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ‘সে জন্য তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। এই পরিবারটি যেমন, তাতে ওই ঘটনাগুলোর সাথে অর্থের কোনো যোগাযোগ ছিল না একথা বলা হবে বোকামির নামান্তর।’

দৃশ্যত ওই মামলার প্রতিশোধ হিসেবে ট্রাম্প কম্পানি যখন ম্যারি ট্রাম্প এবং তার ভাইয়ের মেডিক্যাল ইন্সিওরেন্স বাতিল করে দেয় তখন তারা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরেক দফা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের বাইরে মামলাটির মীমাংসা করা হয়। কিন্তু এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না।

বীরগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ মোটরবাইক আরোহী নিহত

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে শাহিনুর ইসলামঃ বীরগঞ্জ উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন মোটরবাইক আরোহী নিহত হয়েছে। (১৭ জুন) বুধবার রাত সাড়ে ৮টা দিকে উপজেলার প্রেম বাজার নামক স্থানে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরবাইক চালক অসাবধানতার বসত মোটরবাইকটির  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় অবস্থানরত ট্রাক্টরের পিছনে প্রচন্ড গতিবেগে আছড়ে পড়লে বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে করে বাইক আরোহী ২জন গুরুতর আহত হয়। বাইক আরোহী ২জনকে পরে আহত অবস্থায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃতঃ ঘোষণা করে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের কাচারী পাড়া নিবাসী মোঃ ইমাজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ আবুল হোসেন (৪২) এবং মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন  (৩৬)।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ জুন’২০/এসএএইচ

 

গাইবান্ধায় আরও ৯ জন করোনায় আক্রান্ত,মোট ১৮৮

সংবাদদাতা,গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় আরও ৯ জনের শরীরে নতুন করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যা দাড়ালো ১৮৮ জনে। গত (১৭ জুন) বুধবার নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৮ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১ জন রয়েছে। গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে এ তথ্য জানা যায়। গাইবান্ধায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৮০ জন, গাইবান্ধা সদরে ২৮, ফুলছড়িতে ৮, সাঘাটায় ১৫, পলাশবাড়ীতে ২১, সুন্দরগঞ্জে ১৬ এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ২০ জন রয়েছে। গত ১০ দিনে গাইবান্ধায় ১০৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পজেটিভ পাওয়া যায়। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২৫ জন। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫৭ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬ জন। এদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ২ জন, সাদুল্লাপুরে ১ জন,পলাশবাড়ীতে ২ এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮জুন’২০/এসএএইচ

 

কালিহাতীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৮ লক্ষ টাকার দূর্নীতির অভিযোগ

সবুজ সরকার,টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা, ডাক্তার-নার্সদের সাথে দূর্ব্যবহার ও সাধারণ রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ উঠেছে। এ যেন নিয়মিত দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এ অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিকার চেয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় টাঙ্গাইল বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় আবু মুহাম্মদ জিন্নাহ নামে এক ব্যক্তি। লিখিত অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ডা. মো. সায়েদুর রহমান গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। তার যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় রেফার্ড করা সাধারণ রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত করতে হয়। এমতাবস্থায় কালিহাতী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী খালুয়া বাড়ী গ্রামের খলিলুর রহমান (৮৫) চলতি বছরের ২ এপ্রিল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স (নং ঢাকা মেট্টো-ছ-৭১১৮৯৬) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার সময় বাংড়া ব্রিজে এসে এম্বুলেন্সে রক্ষিত অক্সিজেন সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই রোগী মারা যায়। তার অব্যবস্থাপনার কারণে ওই হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে সিরাম কিটেনিন, আলট্টা করানো হয় না। অথচ এই দুই পরীক্ষা বাবদ প্রতিমাসে কালিহাতী ক্লিনিক প্রাইভেট লি. কে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) ফান্ড থেকে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন খাত ও কোডে পিপিআর-৬ ও পিপিআর-৮ অনুসরণ না করে ঠিকাদারদের ফাঁকি দিয়ে মনগড়া নিজের ইচ্ছামত ক্রয় কমিটি করে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে উৎকোচের বিনিময়ে বিল উত্তোলণ করেছেন ডা. মো. সায়েদুর রহমান। এছাড়াও পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সের ছিট মেরামত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। অনিয়মের খাতগুলো হল- কোড ও খাত- ৩২১১১০২ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা- স্বাঃঅধিঃ/বাজেট-২০/৪২৩১, তারিখ-২১/৪/২০২০ মূলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কোড ও খাত- ৩২১১১০২ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা- স্বাঃঅধিঃ/বাজেট-২০/৩২৭৫, তারিখ-১৫/১/২০২০ মূলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কোড ও খাত- জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিষয়ক বাবদ ৩ লাখ টাকা, কোড ও খাত- করোনা উপলক্ষ্যে ৩ লাখ টাকা, কোড ও খাত- ডেঙ্গুর কিট বাবদ ২ লাখ টাকা, কোড ও খাত- ৩২৪৩১০১ সিবিএইসি, ১২৬০, তারিখ- ২/৬/২০২০ মূলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (জেনারেটর খরচ বাবদ), কোড ও খাত- ৩২১১১০২ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা (সিবিএইচসি) বাবদ ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা (আইবাস অনুযায়ী), কোড ও খাত- ৩২২১১০৬ পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা (আইবাস অনুযায়ী), কোড ও খাত- ৩২৫৫১০৪ স্ট্যাম্প ও সীল (মনোহারী) বাবদ ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহ মোট ২৮ লাখ টাকা অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে অফিস সহকারী মনছুর আলী’র সহায়তায় রাত ১০টা পর্যন্ত গোপনে কাজ করে ওই সব টাকা উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেডিকেল এন্ড সার্জিক্যাল রিকুইজিট (এমএসআর) ক্রয়ের জন্য ঢাকার একটি পত্রিকায় ১০০ ইঞ্চি একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়। ওই বিজ্ঞাপনটি পত্রিকায় নিউজ ফন্টের চেয়ে কয়েক গুণ বড় ফন্টে প্রকাশিত হয়। যার ফলে সরকারের ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মনোহারি ঠিকাদারের তালিকায় ব্লিচিং পাউডার থাকা স্বত্বেও এমএসআর তালিকায় ব্লিচিং পাউডার সিডিউলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমএসআর ঠিকাদার নির্বাচনে সর্বনিম্ন দরপত্র দাতা নির্বাচন না করে সিডিউল পরিবর্তন করে উচ্চ করদাতাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সর্বনি¤œ দেখিয়ে কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. সায়েদুর রহমান হাসপাতালের স্টাফদের মূল্যায়ন না করে নিজের ইচ্ছামত বাহিরের দুই জন লোক তার কক্ষে বসিয়ে কম্পিউটারে সরকারের কাজকর্ম করিয়ে থাকে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে ৩ জন দ্বারা ডিউটি করানো হয় বাকিরা বাইরে থাকে । কুকমশাল (বাবুর্চি) থেকে অফিস সহকারী মনছুর আলী একাই ক্যাশিয়ার, প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক ও এসএসকে’র দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যার ফলে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েদুর রহমান  অফিস সহকারী মনছুর আলী’র সমন্বয়ে এসব দূর্নীতি করে আসছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েদুর রহমান’র কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার অফিস আমি কিভাবে চালাবো সেটা আমার বিষয়। প্রয়োজনে মালি, মুচি, সুইপার দিয়ে অফিস চালাবো তাতে আপনাদের কি?

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, দুদকের অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমার দপ্তরে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই সেক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ জুন’২০/এসএএইচ

 

লকডাউনেও থেমে নেই মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ: করোনা ভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনাভ্যাস। আমাদের চারপাশে এক অদ্ভুদ অনিশ্চয়তা ভর করে বসেছে। খাদ্যের অনিশ্চয়তা, চাকরি থাকা না থাকার অনিশ্চয়তা, সন্তানের পড়ালেখার অনিশ্চিয়তা। এমন এক অনিশ্চিত বিশ্বে শিক্ষা ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিজনেস ইনসাইডারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৮৮টি দেশের শিক্ষার্থীরা করোনাকালে সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাধাগ্রস্থ হয়েছে তাদের শিক্ষাকাল। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দি। বাংলাদেশে দু’মাসেরও অধিক সময় ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কবে আবার শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করা যাবে সেটাও অনিশ্চিত। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক পর্যায়ে সংসদ টিভির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্যও একইভাবে চালু করা হয়েছে টিভিতে সীমিত আকারে পাঠদান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস চালু করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সরকারি অনুমোদন নিয়ে ‘জুম’ অ্যাপস ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সীমিত আকারে তাদের পাঠ ও পঠন চালু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষাক্রমে মানিকগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম লকডাউনেও বন্ধ নেই। মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান স্ব-উদ্যোগী হয়েও জুম অ্যাপস্ এবং হোয়াটস আপের মাধ্যমে ক্লাস নিয়ে তার সচিত্র বিবরণ পোস্ট করে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা থেকে উপকৃত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি জুমের মাধ্যমে শিক্ষকরা সরাসরি লাইভ ক্লাস করাচ্ছেন। এব্যাপারে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, করোনাকালীন এই  সংকটময় মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই। এরমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হচ্ছে তেমনি তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময়টি নষ্ট হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এই অনলাইন ক্লাসের সুবিধা হলো শিক্ষার্থীরা সারাদিনের যেকোন সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে তার বিষয়ের উপর প্রশ্ন করতে পারে আর শিক্ষকরা তাদের সুবিধামত সময় তার জবাব হোয়াটস আপে দিয়ে দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, আশা করছি আমরা এই পদ্ধতিতে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারব। ফলে এর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হবে। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দিয়েছে। অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান,মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ।

 

 

 আলোকিত প্রতিদিন/১৮ জুন’২০/এসএএইচ

 

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভিপি নূরের জিডি

::সংবাদদাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়::
হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর। বুধবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থানা করা এই জিডিতে তিনি বলেছেন, তিনিসহ তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৪০ জন নেতা-কর্মীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফেইসবুক লাইভে এসে তরুণদের নিয়ে নতুন ধারার একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় এই হুমকি বলে তার ধারণা।

জিডিতে নূর বলেছেন, ‘গত সোমবার ও মঙ্গলবার মধ্যরাতে আমার মোবাইলে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তিনটি মেসেজ দিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই মোবাইল নম্বর থেকে  বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৪০ জন নেতা-কর্মীর মোবাইলে একই মেসেজ এসেছে।’

এর আগে গত বছরের ২৬ মে বগুড়ায়, ১৪ আগস্ট পটুয়াখালীর গলাচিপায়, সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে হামলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ১১ বার হামলার শিকার হন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি। জিডিতে নুর তার নিজের এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের সহযোগিতা চান।

এ বিষয়ে নুর বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই প্রথম দিকে জিডি করতে না চাইলেও কয়েকজন আইনজীবীর পরামর্শে আজ বিকেলে নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করেছি।’ নূরের জিডির তদন্তকারী এসআই রইচ হোসেন  বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমার কাছে কপিটা এসেছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

:: নিজস্ব প্রতিবেদক::
ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বুধবার (১৭ জুন) রাতে মন্ত্রী দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নিয়ে জোন ভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ক এক অনলাইন সভায় এ নির্দেশ দেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি করোনা সংক্রমিত এলাকা পুরো লকডাউন না করে সাব জোনে ভাগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলেও জানানো হয়।
যদিও মন্ত্রী বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে রেড জোন, ইয়েলো ও গ্রিন জোন ঘোষণা করার এখতিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। জোন বা সাব-জোন ঘোষণা করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগের নয়। জোন ভিত্তিক লকডাউন ঘোষণা করার পর তা বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই সাধারণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা এবং কষ্ট নিবারণের দায়িত্ব আমাদের সবার।’ দেশে যে কোনো বিপর্যয়ে জনপ্রতিনিধিদের মানুষের পাশে থেকে করোনাসহ সব ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য মেয়রদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো একটি ওয়ার্ডে যদি এক লাখ মানুষের বসবাস হয় এবং করোনায় ২০০ জন আক্রান্ত হয় তাহলে এ ২০০ জন যে এলাকায় বাস করে শুধু সেই এলাকাকে লকডাউন করলে কাজ করতে সহজ হবে।’
সাব-জোনগুলোকে পরিচালনা করার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের ইমাম, এনজিও কর্মীসহ সমাজ সেবকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জোন বা সাব-জোন ভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘লকডাউন এলাকার সুবিধাজনক স্থানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মোবাইল নম্বর এলাকার জনসাধারণকে দিতে হবে।’পরিস্থিতি অনুসারে জনসাধারণ নিজ থেকে সচেতনতা অবলম্বন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাবুনগরী হারালেন পদ, স্বপদেই আহমদ শফী

::সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম::

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমেদকে। তিনি হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আজ বুধবার মাদ্রাসা পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিশে শুরা কমিটি’ চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাহ আহমদ শফী আমৃত্যু দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম বা পরিচালক থাকবেন।

হাটহাজারী ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজত নেতা মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে দারুল উলূম হাটহাজারীর ১১ জন শূরা সদস্যের উপস্থিতিতে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চলা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, পরিচালক ও শাইখুল হাদীস, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা। কো-চেয়ারম্যান, হাইয়াতুল উলয়া আল্লামা মুফতি নুরুল আমিন।

নায়েবে মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, ফরিদাবাদ মাদরাসা ও যুগ্ম-মহাসচিব, বেফাক। নুরুল ইসলাম জিহাদী, পরিচালক, মাখজানুল উলূম মাদরাসা খিলগাঁও ও সহসভাপতি, বেফাক। মাওলানা নোমান ফয়জী পরিচালক, আলজামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল, হাটহাজারী। মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী পরিচালক, জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুর, ফটিকছড়ি। মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী পরিচালক, ফতেপুর মাদরাসা, হাটহাজারী। এর আগে দেশের বৃহৎ এই কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরী কে হবেন তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এদের একটি পক্ষ হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর। অপরটি হচ্ছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অনুসারী। তবে এই উত্তাপ প্রশমনে বুধবার সকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় মজলিসে শূরা বৈঠক বসে।

হাটহাজারী ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজত নেতা মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্তমান মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েক দফা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেন তিনি। গত সোমবার (১৫ জুন) সুস্থ হয়ে মাদ্রাসায় ফিরেই তিনি শূরা কমিটির বৈঠক আহবান করেন। এর কারণ হিসেবে আল্লামা আহমদ শফী যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তখন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ঘোষণা করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে এ সময় এর বিরোধিতা করে আরেকটি পক্ষ পরিচালক পদে তাদের পছন্দের লোককে বসানোর চেষ্টা শুরু করে। এ জন্য মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের নামও প্রস্তাব করা হয়। ফলে মাদ্রাসার পরিচালকের পদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষ পরষ্পর মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লেখালেখি করছে দু‘পক্ষ। দু‘পক্ষের উত্তেজনা এড়াতে আল্লামা আহমদ শাহ শফী বৈঠকের আহ্বান করেন।

বৈঠকে মাদ্রাসার শূরা কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের কওমি মাদ্রাসা, ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ব্যাপক কৌতূহল চলছে। চলমান মজলিসে শূরার এ বৈঠক থেকে মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কারো নাম ঘোষণা আসতে পারে এমনটা মনে করছেন অনেকে। তবে বৈঠক শেষে মাদ্রাসার মূরা মজলিস থেকে এই তিন সিদ্ধান্ত আসে।

সূত্রমতে, হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক তিনিই হবেন পদাধিকারবলে যিনি অন্তত দুই শতাধিক মাদ্রাসার মুরব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নেতৃত্ব পেতে পারেন হেফাজতে ইসলামের মতো দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠনেরও। সে হিসেবে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম আসে বারবার। আবার অনেকের মুখে আল্লামা বাবুনগরী ছাড়াও মহাপরিচালক পদে হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস প্রবীণ আলেম মাওলানা শেখ আহমদ ও সাবেক মুহতামিম মাওলানা আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আহমদ দীদার কাসেমীসহ আরও দুয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তাদের ভাষ্য, আমরা মজলিসে শূরার সিদ্ধান্তই মেনে নেব।

এদিকে শূরা বৈঠক তথা মাদ্রাসার শীর্ষ পদে শাহ আহমদ শফীর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে তৎপরতায় প্রকাশ্যে আসা দু‘পক্ষের দ্বন্দ্বে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন আশংকায় হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল।

হাটাহাজরী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাদ্রাসার শূরা বৈঠক তথা মহাপরিচালকের পদ নিয়ে যাতে কোনো পক্ষ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা বেশ তৎপর।’

রাতের আঁধারে গৃহবধূর ঘরে মেম্বার, হাতেনাতে ধরে গণধোলাই

::সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল::
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় তিন সন্তানের জননীর ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দেয়ায় সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে (মেম্বার) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের তিরঞ্জ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মেম্বার সাইফুল তিরঞ্জ গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা এবং ফুলকি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। ভুক্তভোগী গৃহবধূ (৩৪) ওই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা।
গৃহবধূর ভাষ্য, ‘একটি মামলায় আমার পরিবারের সদস্যরা আসামি হওয়ায় সাইফুল মেম্বার ৩-৪ দিন ধরে আমাকে মোবাইলে কল দেন। রাতে কল দিয়ে পুলিশ আসবে বলে আমার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বাড়িতে থাকতে নিষেধ করতেন। এর মাঝে আমাকে বিভিন্নভাবে আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়াসহ তার সঙ্গে অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে বলেন। সম্পর্কে চাচি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে এসব কুপ্রস্তাব দিয়েছেন ওই মেম্বার। আমি তাকে এসব বাজে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করি।’ তিনি বলেন, ‘লোকলজ্জায় কাউকে এসব কথা বলিনি।’
গৃহবধূ বলেন, ‘এতে সাইফুল আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। উপায় না পেয়ে বিষয়টি স্বামী, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মহিলা মেম্বারকে জানাই। এরপরও সাইফুল মেম্বার মঙ্গলবার রাতে আমাকে ৩০ বারের বেশি কল দেন। কল রিসিভ না করায় মঙ্গলবার গভীর রাতে আমার ঘরে প্রবেশ করেন সাইফুল। এ সময় আমার স্বামী, পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মলি আক্তার বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি আমাকে জানানোর পর মেম্বার সাইফুল ইসলামকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি। কিন্তু কারও কথা না শোনে মঙ্গলবার গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তিনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য (মেম্বার) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখন হাসপাতালে।’ এলাকাবাসী কেন আপনাকে মারধর করেছে জানতে চাইলে ফোন কেটে বন্ধ করে দেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাসাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রামের চা-বিক্রেতার তিন সন্তানের জননীর ঘরে প্রবেশ করেন ইউপি সদস্য সাইফুল। পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পানি প্রবাহের ব্যাবস্থা না থাকায়,শ্রীপুরের হাওলা গ্রামে পানিবন্দি এক হাজার পরিবার

আলমগীর হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টি হওয়ায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের বাড়ী -ঘরে পানি জমে যায়। এ জলাবদ্ধতার কারণে ওই গ্রামের কৃষকেরা তাদের জমিতে ফসল ফলানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দি থেকে পরিত্রানের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার জন্য এবং তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা, বড়চালা, মইজাবাইদ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানি বন্দি হয়ে জীবন যাপন করছে। স্থানীয় গুলশান ইস্পিনিং মিল, ডার্চ বাংলা কারখানা, নাসির গার্মেন্টসসহ আশেপাশের অনেক শিল্প কারখানার পানি নীচু জমিতে নামতে না পারায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বড়চালা এলাকার আব্দুল জব্বার জানান, নাসির গ্যাসের কারখানার উত্তর পাশ দিয়ে একটি সরকারি খাল ছিলো। কারখানা হওয়ারপর স্থানীয় প্রভাশালীরা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে খালের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর থেকে প্রতি বর্ষায় ওই গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গ্রামের জমিতে এক সময় তিন ফসল হতো। এখন কোনো ফসল হয় না। পানি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠানে পানি জমে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই গ্রামের হাজার পরিবার। পানি বন্দি বাড়ীর মালিক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এই গ্রামের নিচু জমিতে এক সময়ে তিন ফসল হতো। এখানকার পানি সরকারি খাল দিয়ে নদীতে গিয়ে পড়তো। জৈনা বাজার-বাশঁবাড়ী সংযোগ সড়কের ব্রীজ ভরাট করায় পানি জমে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরে। প্রায় ১০ বছর আগে জলাবদ্ধতা ছিল না, পানি চলে যেত পাথার এলাকায়। গাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল আজিজ বলেন, চারপাশে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় গ্রামের নিচু জমি ভরাট হয়ে গেছে। এতে বর্ষার সময় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা কমে গেলে ওই গ্রামে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ জুন ‘২০/এসএএইচ