আজ শনিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2563

টঙ্গীবাড়ীতে কিস্তির টাকা কম দেয়ায় হতদরিদ্র লাঞ্চিত

সংবাদদাতা,টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ): মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে গ্রামীণ ব্যাংকে কিস্তির টাকা কম দেয়ায় এক হতদরিদ্র ঋণ গ্রহিতাকে লাঞ্চিত করেছে ব্যাংক অফিসার। জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে টঙ্গিবাড়ী সদরের বিমল চন্দ্র পাল (৫০) এর বাড়িতে গ্রামীণ ব্যাংক টঙ্গিবাড়ী শাখার জুনিয়র অফিসার শামিমুর রহমান কিস্তির টাকা উত্তোলন করতে যায়। এসময় বিমল তার কিস্তির ৬১০০ টাকা না দিতে পেরে ২৬০০ টাকা দিতে চাইলে শামিমুর উত্তেজিত হয়ে উঠে। উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য বিমল কাকুতি মিনতি করে জানায় আমার নিকট আর কোন টাকা নাই। এক পর্যায় ওই কিস্তি উত্তোলনকারী পুলিশের ভয় দেখিয়ে বিমলের উপর আরো ক্ষেপে উঠে। বিমল মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে কাজ নাই জানালে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কিস্তি উত্তোলনকারী বিমলকে লাঞ্চিত করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এব্যাপারে বিমল চন্দ্র পাল জানান, করোনার কারণে কাজ না থাকায় আমাদের ঘরে চাল ডাল নাই। প্রতিবেশীদের থেকে ধারদেনা করে ২৬০০ টাকা জোগার করে কিস্তি দিতে চাইলে গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসার আমাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে লাঞ্চিত করেছে। কিস্তি উত্তোলনকারী শামিমুর জানায়, সরকারের কোন বিধিনিষেধ না থাকায় কিস্তির টাকা উঠাতে গিয়েছি। বিমল টাকা কম দেয়ায় কথা কাটাকাটি হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

 

ঘিওরে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মানিকগঞ্জের ঘিওরে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঘিওর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘিওর-বরংগাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘিওর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিলও করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ঘিওর বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। চলতি মাসের ২২ জুন, কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, কোয়াবের সভাপতি এবং বিসিবির পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে আরিচা ঘাটের কাছে নদী ভাঙ্গন ঠেকানো, বালু উত্তোলন, বালু ব্যবসা, নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির,দৌলতপুর উপজেলায় চাকরীর কথা বলে টাকা আত্তসাত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বলেন, নাঈমুর রহমান দুর্জয় সততা ও নিষ্ঠার সাথে উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। এখন যা দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে। এতে স্বার্থান্বেষী মহন তার বিরুদ্ধে হাট, বাজার ইজারা, চাকুরী দেয়াসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ আনছে যা মিথ্যা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম মিয়া মিন্টু  বলেন, কালের কন্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় যে নিউজ ছাপা হয়েছে আসলেই এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ,কি কারণে ছাপা হয়েছে তার সঠিক কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি, এছাড়াও খেয়াঘাট বরাদ্দ, খাস জমি ইজারা, ব্রিক ফিল্ডের মাটি সাপ্লাইসহ ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলণ করার কথা বলা হয়েছে কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় যা ঠিক না। আমরা তার প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই। ঘিওর উপজেলার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বাবু গৌরাঙ্গ কুমার ঘোষ বলেন, বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়া, ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত এমন সংবাদ ভিত্তিহীন । আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এমন সংবাদ প্রকাশের সাথে জড়িতদের শাস্তি কামনা করি। মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

 

দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু আরও ৩৭, আক্রান্ত ৩৪৬২

সৈয়দ এনামুল হুদাঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ হাজার ৫৮২ জনে। একই সময়ে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪৬২ জন। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জনে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন পড়েন। তিনি নতুন যুক্ত একটিসহ ৬৬ টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ২৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ৪৩৩টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৬০ জন। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যুবরণ করলেন ১ হাজার ৫৮২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৩১ জন জন।এতে করে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৪৯ হাজার ৬৬৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের ৩৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী। এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ২ জন, ত্রিশোর্ধ্ব ২ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ৩ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১২ জন, ষাটোর্ধ্ব ৯ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব ৮ জন রয়েছেন। ১০ জন ঢাকা বিভাগের, ৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৬জন রাজশাহী বিভাগের, ৭ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং ১ জন করে বরিশাল ও রংপুর বিভাগের। ৩৪ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

 

সাভারে আ.লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত 

প্রতিনিধি,সাভারঃ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভার উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলা এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  মঞ্জুরুল আলম রাজীব। এসময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নিহত সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মৃত্যুবরণকারী আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন,তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব ফখরুল আলম সমর,আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সায়েম মোল্লা,সাভার থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রতন সাহা, আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শহীদুল্লাহ মুন্সী,ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠনিক সম্পাদক শেখ উজ্জ্বল এবং বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

গাইবান্ধায় করোনায় আক্রান্ত আরও ৪, মোট ২২০

সংবাদদাতা,গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় আরও ৪ জনের শরীরে নতুন করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২২০ জনে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ২ ও পলাশবাড়ী উপজেলার ২ জন রয়েছে। গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গাইবান্ধায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৯৭ জন, গাইবান্ধা সদরে ৩১, ফুলছড়িতে ৮, সাঘাটায় ১৫, পলাশবাড়ীতে ২৪, সুন্দরগঞ্জে ১৭ এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ২৮ জন রয়েছে। গত ১৬ দিনে গাইবান্ধায় ১৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজেটিভ পাওয়া যায়। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৫৪ জন। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৬০ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬ জন। তাদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ২ জন, সাদুল্লাপুরে ১ জন,পলাশবাড়ীতে ২ এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

 

 

মানিকগঞ্জে ২টি হাইফ্লো অক্সিজেন যন্ত্র উপহার দিলেন ডাঃ রওশন আরা

প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জঃ ঢাকায় অবস্হিত মানিকগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডাঃ রওশন আরা বেগম মানব সেবায় চিন দেশ হতে আমদানিকৃত দুটি হাইফ্লো অক্সিজেন যন্ত্র করোনা (কভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উপহার হিসেবে দান করলেন। গতকাল ২২ জুন বিকেলে জেলা সদর হাসপাতালে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস এবং কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দের কাছে এই যন্ত্র ২টি উপহার হিসেবে হস্তান্তর করেন। এতদিন এ যন্ত্রটি মানিকগঞ্জের হাসপাতালে ছিল না। তাই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনেকটা সমস্যা ছিল।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডাঃ মোঃ আরশ্বাদ উল্লাহ ও ডাঃ রওশন আরার ভাই মোঃ মীর মোহাম্মদ সাঈদ । এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ জানান যে, করোনা ভাইরাসে ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ারপর ফুসফুস কাজ করার ক্ষমতা লোপ পায়। তখন রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস নিতে এ যন্ত্রটি অর্থাৎ এ হাইফ্লো অক্সিজেন যন্ত্রটি খুবই জরুরী হয়ে পরে। ডাঃ রওশন আরা বেগম নিজ অর্থায়নে জরুরী রোগীদের চিকিৎসার জন্যে এ দু’টি যন্ত্র উপহার হিসেবে এ হাসপাতালে দান করে বেশ উপকারই করলেন। করোনা ভাইরাসের আক্রান্তদের আপতকালে মানব সেবায় কৃত্রিম শ্বাস নিতে যন্ত্রটির ব্যাপারে সদাশয় সরকারসহ এলাকার বৃত্ত্ববানগণ আরো একাধিক এ যন্ত্রটি হাসপাতালে দানে এগিয়ে আসার জন্যে অনুরোধ করেন সচেতন মহল। সত্যিকার অর্থে করোনা রোগীদের বেলায় আপতকালে এ যন্ত্রটি দ্বারা মানুষের অফুরন্ত এবং অসীম উপকা

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ জুন’২০/এসএএইচ

চাঁদপুরের মতলবে কাজী মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ দখল ও অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

::চাঁদপুর সংবাদদাতা ও নিজস্ব প্রতিবেদক::
চাঁদপুর মতলব উত্তরের কাজী মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অন্যের ডিসলাইন দখল ও প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭ মাস ধরে মালিকনা ফিরে পেতে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আসল মালিক। থানায় মামলা হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি অভিযোগকারী চাঁদপুরের মোহনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. শাহীন মিয়ার। অন্যদিকে অভিযুক্তের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন কথা না শুনেই যা অভিযোগ আছে লিখে দিতে বলা হয়। যেন কোন মাথা ব্যথাই নেই তার। তাহলে কী ঘটেছে ঘটনা? কী শত্রুতা তাদের? আজ থাকছে অভিযোগ ও মামলার আলোকে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের প্রথম পর্ব। পরে আসছি অনুসন্ধানের খবরাখবর নিয়ে।
অভিযোগকারী শাহীন মিয়া বলেন, ‘ ডিস লাইনের মূল মালিক আমি। আমার কাছে ডিস ব্যবসার থেকে চাঁদা দাবি করেন কাজী মিজান। চাঁদা না দেওয়ায় ৬ মাস যাবৎ ডিস লাইন দখল করে আছেন তিনি।’ শাহীন আরও বলেন, ‘কাজী মিজানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
মামলাসূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে চাঁদপুরের মোহনপুর স্কুলের সামনে বেড়িবাঁধের ওপর মোহনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. শাহীন মিয়ার মালিকানাধীন থাকা স্বেচ্ছাসেবকলীগের অফিসে আগুন দেওয়া হয় এবং মুদাফর কো-অপারেটিভ মার্কেটে রাইয়ান চৌধুরী ক্যাবল নেটওয়ার্ক-এর অফিসে হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে, ডিস লাইনে ব্যবহৃত মডিলেটর, পে-চ্যানেল বক্স, রিসিভার, দেশি চ্যানেল বক্স, ট্রান্সমিটার, তামার তার, অপটিক্যাল ফাইভারসহ মূল্যবান বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মালামাল।
এ ঘটনায় ওই দিনই চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহীন মিয়া। পরদিন আদালতে গিয়ে কাজী মতিন, কাজী মিজান, কাজী হাবিব, কাজী মাহবুব, সাদ্দাম, হাসানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। কাজী মিজানের ছোটো ভাই কাজী মতিন মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শাহীন মিয়া জানান, ২০১৭ সালের ১৫ জুন বিটিভি থেকে ক্যাবল নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য রাইয়ান চৌধুরী ক্যাবল নেটওয়ার্কের নামে লাইসেন্স নিয়ে ডিস ব্যবসা শুরু করেন। যার মেয়াদ রয়েছে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ৬ মাস আগে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে কাজী মিজান তার দলবল নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুট করে এবং প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক দখল করে। অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করা ছাড়াও প্রতিমাসে ডিশ ভাড়ার প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে চলেছে কাজী মিজান।’
স্থানীয় কয়েকজন জানান, দখলবাজি ছাড়াও কাজী মিজানসহ তার দলবলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নিরীহ মানুষের টাকা ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। উৎকোচের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলকে হাত করে সে এই ধরণের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলেও রয়েছে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, জানান শাহীন মিয়া।
এক অভিযোগে শাহীন মিয়া বলেন, ‘শিক্ষা, মানবিক যোগ্যতা না থাকলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের টাকা দিয়ে বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা সেজে চাঁদাবাজি করেন কাজী মিজান।’ তিনি বলেন, ‘ডিশ ব্যবসার থেকে চাঁদা দাবি করার পর না দেয়ায় এই লুটপাট ও ব্যবসা দখল করেছেন মিজান।’
কাজী মিজানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু না শুনে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্রই এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই যা অভিযোগ আছে লিখে দেন। লিখে দেন। আমি কোন কথা বলবো না।’

কোভিড-১৯: ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু

::প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ ::

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত পন চন্দ্র (৫৫) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি গফরগাঁও পৌর শহরে বলে সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম জানান।
তিনি বলেন, ‘পন চন্দ্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান।’
এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হল বলে মসিউল জানান।

সালথায় দুইশত অসহায় পরিবারের মাঝে সংসদ উপনেতার পক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

সংবাদদাতা,ফরিদপুরঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ফ‌রিদপু‌রের সালথা উপ‌জেলায় ক‌রোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দুইশত  পরিবারের মাঝে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির পক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের মোঃ নজরুল তালুকদারের বাড়িতে এ খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন,  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ মাতুব্বর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ হাসিব সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক উজ্জামান ফকির মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম আসাফো’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম মোল্লা, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শওকত হোসেন মুকুল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটু, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেন, রামকান্তপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ কামাল  বিশ্বাস আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদ মাতুব্বরসহ অনেকেই  উপস্থিত ছিলেন। সালথা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ মাতুব্বর ব‌লেন, মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি ও শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর পক্ষথেকে আমরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকালে  রামকান্তপুর ইউনিয়নে দুইশত  পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। তিনি‌ আরো ব‌লেন, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বা‌ড়ি থে‌কে বের হ‌বেন না । এসময় তি‌নি সকল‌কেই নিরাপ‌দে থেকে করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনু‌রোধ জানান।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জুন’২০/এসএএইচ

 

কলাপাড়ায় কৃষকের প্রণোদনা ঋণ বিতরণে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, সরকারের উদ্দ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে

সংবাদদাতা,কলাপাড়া(পটুয়াখালী):  কলাপাড়ায় দূর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে  কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারের শতকরা ৪ টাকা সুদের ঋণ বিতরণে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সাথে তফসিলী ব্যাংক গুলোর সমন্বয়হীনতা, কৃষি ঋণ বিতরণে বেসরকারী ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ, প্রকৃত কৃষকের ঋণ পেতে হয়রানী, ব্যাংকে দালাল প্রবনতা, কৃষি বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাব, জনগুরুত্বপূর্ন স্থানে কৃষি প্রনোদনার ঋণ বিতরণের ব্যানার না টানানো, কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই ঋণ বিতরণ কৃষি প্রণোদনার এ ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, তফসিলী বেসরকারী ব্যাংকগুলো উপকূলীয় এলাকার কৃষি উৎপাদনকে সচল রাখতে কোন কৃষককে এ পর্যন্ত শতকরা ৪টা সুদের বিশেষ প্রণোদনার এ ঋণ বিতরণ করেনি। এনিয়ে তাদের কোন জবাবদিহিতাও নেই। এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলো দালাল নির্ভর হয়ে কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকা বিতরণ করছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি গত কয়েক বছরে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় গঠিত উপজেলা কৃষি কমিটির সভা কাগজে কলমে অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া কৃষিকে সচল রাখতে পানি ওঠা নামার অন্তত: ৩০০ সুইস কৃষকের স্বার্থ ভুলুন্ঠিত করে প্রভাবশালীদের মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় কৃষি ব্যবস্থা হুমকীর মুখে পড়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কৃষি খাতের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার আওতায় শষ্যঋণ ব্যতীত কৃষির অন্যান্য খাতে বিতরণের জন্য বরিশাল বিভাগে ১১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে শষ্য ও ফসল খাতে শতকরা ৪ টাকা রেয়াতি সুদ হারে কৃষকের মাঝে ঋণ বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। যার মেয়াদ ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১। কৃষককে ধান, গম, দানা শষ্য, অর্থকরী  ফসল, শাক সবজি ও কন্দাল ফসল চাষের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। এতে ব্যাংকগুলো শতকরা ৫টাকা হারে সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরন সুবিধা পাবে। এছাড়া মৎস্য ও প্রানী সম্পদ খাতেও চাষীর জন্য ৪ টাকা রেয়াতি সুদ হারে ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সম্পৃক্ততায় ’কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুন:অর্থায়ন স্কীম’ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষথেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে-উপজেলা কৃষি অফিস বিশেষ প্রণোদনার এ স্কীম বাস্তবায়নে তফসিলী ব্যাংকসমূহকে বহুল প্রচারের জন্য সহযোগীতা করবে এবং জনগুরুত্বপূর্ন স্থানে ঋণ বিতরণের ব্যানার টানানো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করবে। ঋণ গ্রহণে আগ্রহী কৃষক প্রকৃত কৃষক কিনা তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সনাক্ত করবেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সুপারিশের প্রেক্ষিতে কৃষি কর্মকর্তা প্রত্যয়ন প্রদান করবেন। এরপর ঋণ গ্রহণকারী কৃষকদের তালিকা ব্যাংকসমূহ কৃষি অফিসে পাঠাবেন যাতে ঋণ গ্রহণকারী কৃষকরা অফিস থেকে কৃষি সেবা পায়। কৃষি অফিস কৃষকদের চাষাবাদের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবেন। কৃষি অফিসের প্রতিনিধি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের ব্যবহার অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষক ঋণ পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করবেন। কৃষক যাতে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে এবং সে হিসাবের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করতে পারে সে বিষয়ে কৃষক ও তফসিলী ব্যাংকের মধ্যে কৃষি বিভাগ সমন্বয় সাধন করবেন। কৃষক যাতে ঋণ পেতে হয়রানীর স্বীকার না হয় এবং সহজে ঋণ পায় কৃষি অফিস তা নিশ্চিত করবেন। ঋণ গ্রহণেরপর কৃষক শর্ত মোতাবেক ফসল বা প্রস্তাবিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন কিনা তা কৃষিবিভাগ তদারকি করবেন এবং তাদের যথাযথ পরামর্শ প্রদান করবেন। প্রতি মাসে তফসিলী ব্যাংকগুলো কি পরিমান প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করছে সে মর্মে কৃষি বিভাগকে অবহিত করবেন। সে মোতাবেক কৃষিঅফিস ঋণ গ্রহণ ও বিতরণের অগ্রগতি প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করবেন। এদিকে কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনে দেশের এক ইঞ্চি চাষাবাদের জমিও যাতে অনাবাদী না থাকে সেজন্য সরকারের এ নির্দেশনার ছিটে ফোটারও দেখা মেলেনি বাস্তবে। শতকরা ৪টাকা হারের সরকারের এ ঋণ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কোন প্রচারনা নেই। মাঠ পর্যায়ের করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে অধিকাংশ কৃষক সরকারের বিশাল পরিসরের এ প্রণোদনার ঋণ সম্পর্কে এখনও অবগত নন। এমনকি সাধারন কৃষি ঋণ পেতে উৎকোচ বিনিময়ে দালাল নির্ভর হয়ে ব্যাংকে না গেলে নানান রকম হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন তারা এবং ঋণ পেতে জমির মূল দলিল, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, এসএ পর্চা, বিএস পর্চা, হাল দাখিলা, ট্যাক্স রশিদসহ রাষ্ট্রায়াত্ত অন্য ব্যাংকে লোন নাই মর্মে প্রত্যয়ন চাওয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছে। এতসব কাগজ সংগ্রহ করতে না পেরে অনেক কৃষক ঋণ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের যথাযথ তদারকি না থাকার সুযোগে কৃষক না হয়েও অনেকে কৃষক সেজে ঋণ সুবিধা নিচ্ছে। মোটা দাগে তফসিলী ব্যাংকগুলোর সাথে কৃষি বিভাগের কোন রকম সমন্বয় নেই। এছাড়া ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা না মেনেই ঋণ বিতরণ চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাড়ানো কিংবা ১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদী না থাকার সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষিখাতের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার আওতায় কলাপাড়ার রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকসহ বেসরকারী তফসিলী ব্যাংকসমূহ শতকরা ৪টাকা হারে ঋণ বিতরণের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। তন্মধ্যে কৃষি ব্যাংক কলাপাড়া শাখা ৮০ লক্ষ, মহিপুর শাখা ৪৫ লক্ষ, কুয়াকাটা শাখা ৪০ লক্ষ, সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া বন্দর শাখা ৩০ লক্ষ, অগ্রনী ব্যাংক খেপুপাড়া শাখা ৫ লক্ষ টাকা, রুপালী ব্যাংক ১২ লক্ষ টাকা। এ বরাদ্দের বিপরীতে কৃষি ব্যাংক কলাপাড়া শাখা ইতোমধ্যে ১৪জনকে ৯ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা, মহিপুর শাখা ৪ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা ৮ জনকে, কুয়াকাটা শাখা ১০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ১০ জনকে, সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া বন্দর শাখা প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা বিতরন করেছে ৬৬ জন কৃষকের মাঝে। অগ্রনী ব্যাংক ও রুপালী ব্যাংক শতকরা ৪টাকা সুদের কোন ঋণ বিতরণ করেনি। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি ব্যাংক কলাপাড়া শাখার ২৬ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ রয়েছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিনের ৪ কোটি টাকা খেলাপী ঋণ রয়েছে। যা আদায়ে ২৮৬টি মামলা করা হয়েছে। তন্মধ্যে ২০টি ঋণের ৭ লক্ষ টাকা আদায় করা গেছে। মহিপুর শাখার এ পর্যন্ত আড়াই হাজার কৃষকের মাঝে ১২ কোটি ৩৮ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ রয়েছে। এবছর নতুন করে ৯৮ জন কৃষককে ৬৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খেলাপী ঋণ আছে। ১৩টি মামলা করা হয়েছে। ১টি খেলাপী ঋণ ৬০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। কুয়াকাটা শাখা এ বছর ২৬৪ জন কৃষকের মাঝে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৮৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ১৫৫৭ জন কৃষকের মাঝে ঋণ দেয়া আছে। এরমধ্যে খেলাপী ঋণ রয়েছে ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার। ৮ টি মামলা করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া বন্দর শাখা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কৃষি ঋণ বরাদ্দ পায় ১ কোটি ৭১ লক্ষ। বিতরণ করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ১১০ জনের মধ্যে। ৫৮৫০ জন ঋণ গ্রহীতার খেলাপী ঋণ রয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা । অগ্রনী ব্যাংক খেপুপাড়া শাখার ২৯০৩ জন কৃষকের এ যাবৎ ঋণ রয়েছে ১২কোটি ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৪৪ টাকা। এরমধ্যে ৫৭৮ জনের খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৪৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৫১ টাকা। মামলা করা হয়েছে ১৭৬টি। ব্যাংকটি শতকরা ৪টাকা সুদের কোন ঋণ বিতরণ করেনি। এসব ব্যাংক গুলোর অগনিত কর্মকর্তা স্থানীয় এবং দীর্ঘদিন একইস্থানে বারবার চাকুরী করার সুযোগ পেয়ে নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে ঋণ বিতরণ করায় কৃষি ঋণ বিতরণ ও আদায়ে এ হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি হয়েছে একং ব্যাংকগুলোতে দালাল প্রবনতা বেড়েছে।  তবে বেসরকারী ব্যাংক প্রিমিয়ার, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, পূবালী, শাহজালাল, ইসলামী, ব্র্যাক ব্যাংকসহ অপরাপর বেসরকারী ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রের নির্দেশনার পরও কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষককে অদ্যবধি কোন ঋণ বিতরণ করেনি। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও এনিয়ে তাদের কোন আগ্রহ নেই। এ বিষয়ে ব্যাংক গুলোর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষিবিভাগের প্রত্যয়ন ছাড়া শতকরা ৪টাকা হারের কৃষি ঋণ বিতরণ নিয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংক, কলাপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন দেয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করছেন। প্রায় একই বক্তব্য মহিপুর শাখার ব্যবস্থাপক বিএম রেফায়েত উল করিম ও কুয়াকাটা শাখার ব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র শীল’র। সোনালী ব্যাংক কলাপাড়া বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক নাজমুল আহসান এর বক্তব্য, উর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া এবিষয়ে কথা বলার কোন অধিকার নেই তাঁর। অগ্রনীব্যাংক খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো: আলআমিন বলেন, ব্যাংকের কোন তথ্য জানতে হলে আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে, নতুবা কোন তথ্য দেয়া যাবেনা। অগ্রনীব্যাংক ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেলেও শতকরা  ৪টাকা সুদের ঋনের টাকা এখনও কোন কৃষককে দেয়া হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, উপকূলীয় এলাকার কৃষি উৎপাদনকে সচল রাখতে ৪ টাকা সুদের প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। যা বিতরণে অবশ্যই কৃষিবিভাগের প্রত্যয়ন থাকতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি মাসে উর্ধ্বতনদের পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষিকে সচল রাখতে পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সুইসগুলো কৃষকের স্বার্থে ব্যবহৃত হতে হবে। এ উপজেলায় প্রায় ৩০০ সুইস কৃষকের স্বার্থ ভুলুন্ঠিত করে প্রভাবশালীদের মাছ ধরার স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, সরকারের এ প্রণোদনা কৃষিকে সচল এবং কৃষককে চাষাবাদে আরও উদ্যমী করে তোলার জন্য। দেশ যাতে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে। সরকারের নির্দেশনা বহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণ করার সুযোগ নেই। এ লক্ষে জেলা, উপজেলায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সভা আহবান করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়া হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জুন’২০/এসএএইচ