আজ শনিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2558

বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সংবাদদাতা,বগুড়াঃ বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা আষাঢ়ের ঢলে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কাজলা, কামালপুর, রহদহ ও সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো এবং পাট, ধানসহ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, যমুনা নদীতে বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৬ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকাল ৬টার হিসেব অনুযায়ী নদীর পানি ১৭.৩৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুন’২০/এসএএইচ

 

গাইবান্ধায় শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের তালিকাভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন 

সংবাদদাতা,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা বার এসোসিয়েশনের সকল শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের বার কাউন্সিলে সরাসরি তালিকাভুক্ত করে সনদ প্রদানের দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) শহরের ডিবি রোডে জেলা আইনজীবি সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা নবীশ আইনজীবী আব্দুল জলিল, শাহীন প্রধান, রায়হানুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, খন্দকার জাকারিয়া জিম, লুৎফুন্নাহার সবিতা, সাজ্জাদ বিন রহমান প্রমূখ। এসময় বক্তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের থাবায় পৃথিবী আজ মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের সব পেশার মানুষ আজ এই ক্রান্তিলগ্নে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। শুধুমাত্র শিক্ষা নবীশ আইনজীবী ছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার ৬ মাসের ভেতর আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির বিধান থাকলেও আমাদের দেশে একবার তালিকাভুক্তি হওয়ারপর আরো ৩ থেকে ৪ বছরে ও আরেকটি তালিকাভুক্তির কার্যক্রম শেষ হয়না। করোনা ভাইরাসে জর্জরিত বিশ্বের চলমান দুর্যোগকালীন মুহূর্তে পরীক্ষা কখন হবে তালিকাভুক্তি কখন হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বক্তারা অবিলম্বে ২০২০ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল আইনজীবীদের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক সরাসরি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি করে আদালতে সরাসরি প্রাকটিস করার অনুমতি এবং গেজেটের মাধ্যমে সনদ প্রদানের দাবি জানান।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুন’২০/এসএএইচ

 

দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর রেকর্ড, আক্রান্ত ৩৬৮২

সৈয়দ এনামুল হুদাঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৮৪৭ জনে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৮২ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জনে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ৬৬ টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৮৬৩ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ৪২৬টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬০টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৬৮২ জনের মাঝে।এতে করে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে আরও ৬৪ জন। ফলে এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হলো ১ হাজার ৮৪৭ জনের। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৯ হাজার ৬২৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় যে ৬৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৫২ জন এবং নারী ১২ জন। এদের মধ্যে ২১ থে‌কে ৩০ বছ‌রের ৭ জন, ত্রিশোর্ধ্ব ৬ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২১ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৬ জন, সত্তরোর্ধ্ব ১১ জন, আশি বছরের বেশি বয়সী ৩ জন রয়েছেন। ৩১ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৭ জন খুলনা বিভাগের এবং দুজন করে সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫১ জন হাসপাতালে এবং ১৩ জন বাসায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুন’২০/এসএএইচ

 

 

 

সৈয়দ রনো’র বৃষ্টিমাখা রোদ প্রাসঙ্গিক কথা

নূরুজ্জামান: শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ঘাট মাড়িয়ে জ্ঞান ও বোধে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা সৈয়দ রনো’র ‘বৃষ্টিমাখা রোদ’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ঐতিহ্যের পোড়ামাটি থেকে নির্যাস নিয়ে এঁকেবেঁকে চলেছে সমকালিন সমাজবাস্তবতার নিষ্ঠুর রেখচিত্র,রাজনৈতিক স্খলনের নির্মম কষাঘাত,বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈচিত্র নিয়ে। উচ্চাভিলাসী স্বপ্নদ্রষ্টা কবির বিচিত্র ভাবনাগুলো নিয়ত বিবর্তনশীল বিশ্বজগতের গ্রহ-নক্ষত্রের মতো বৈচিত্রময় বিবর্তনশীল হয়ে ধরা দিয়েছে ‘বৃষ্টিমাখা রোদ’ গ্রন্থে।সেই বৈচিত্রের রহস্য ভেদ করে তাঁকে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে অনুসন্ধান করে নিত্য নতুন রূপে খুঁজে অত্যাধুনিক শিল্পবোদ্ধারা,
‘কাব্যিক চিত্রকল্পে সাজাই
আকাশ বসতি
ইউরেনাস নেপচুন প্লেটোর
ধর্মযাজক আমি
প্রতিনিয়ত নাসা’র বিজ্ঞানীরা
মেরামত করে আমার চিন্তার জগত’ (কাব্যকলায় বিজ্ঞান)।
আবার পারস্যের সুফী কবি হাফিজের সাকি-শরাবের লিলাকীর্তনকে ভিন্ন মাত্রায় ধরতে দেখি ‘রুবাইয়াতে আকুতি’ কাব্যে- ‘শেষ বিকেলে সাকি-শরাব
আনন্দ সুখ কিচ্ছু নাই
খোদার শানে ধন্য হলো
জলসা ঘরের তুচ্ছ বাঁঈ—’
জীবনসায়াহ্নে এসে মানুষের জৈবিক প্রেম যখন সুখ দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সে আধ্যাত্মিক আরাধনায় শান্তি খোঁজে।খোদার প্রেমে আত্মনিবেদন করে তখন তুচ্ছ বাঁঈজিও তুষ্ট হন।কারণ মহাপাপী বাঁঈজিও জানেন যে সৃষ্টিকর্তা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার সৃষ্টির দিকে ক্ষমা ও নৈকট্যের হাত বাড়িয়ে দেন।তাই শরীয়তের মূল চেতনাকে ছাপিয়ে কবির ভাবনা এখানে হাফিজের প্রেমময় শ্রষ্টায় সমর্পণ করে প্রশান্তি পেয়েছে।এখানে কবির ধর্মবিশ্বাস ইসলামের শরীয়তের শরীর ঘেঁষে মারিফতে প্রবেশের চেষ্টায় নিবিষ্ট হতে দেখি। আধ্যাত্মিক জগতে পরিভ্রমণে সচেষ্ট কবি কিন্তু সমকালিন ধনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দৈন্যতাকে ভুলে যান নি।রাজনৈতিক শোষণে বিভক্ত সমাজের নিম্নবিত্তের টিকে থাকার লড়াই ধরা পড়েছে ‘ভাতের খোঁজে লাশ’ কবিতায়,
‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়
ভাতের খোঁজে লাশ
রাজনীতিতে ধরছে পচন
বললে কথা নাশ।’

ধনতান্ত্রিক রাজনীতির বৈষম্যের শিকার মেহনতি মানুষ যখন অধিকার আদায়ের লড়াই করতে যায় তখন দেশে দেশের স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠা সরকারগুলো মিছিলে চালায় বুলেট,গলা টিপে ধরে বাকস্বাধীনতার।গণতন্ত্রের আড়ালে নিভৃতে বেড়ে উঠা স্বৈরতান্ত্রিক সমাজের এই করুণ চিত্র মনে করিয়ে দেয় অন্নদা শঙ্কর রায়ের দেওয়া বীরত্বের সংজ্ঞাকে।তিনি বলেছেন,”বীরত্ব হল দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার”।শ্রেণিবিভক্ত সমাজের কান্না দেখেও রাষ্ট্র যেন না দেখার ভান করে নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। তেমনই বৈষম্যের শিকার রাজনৈতিক সমাজের শোষক আর শোষিতের দিনপুঞ্জি ধরা পড়েছে নিম্নের স্তবকে,
‘খাট ছাড়াই শ্রমিক ঘুমায়
কৃষক ঘুমায় মাঠে
শোষক যারা সুখেই আছে
রাষ্ট্র ঘুমায় খাটে।'(ভাতের খোঁজে লাশ)।
নিপিড়ীত মানুষের কষ্টের পাহাড়ে গেঁথে আছে কান্নার জল।সেই কান্নার ঝর্ণাকে পাথর চাপা দিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত সংসার ধর্মের জালে বন্দি অভাবি মানুষকে মিথ্যে ভালোবাসা ও সুখের চাতুর্যের ছলনা করতে হয়।
‘নিশি দিন কতো ঋণ
কাঁদে কতো লোক
ছলনার গান ধরে
কামনার শোক।’ (ভাবের পদাবলী)।
শত অভাব অভিযোগের মধ্যেও মায়ার বাঁধনে বন্দি জীবনে প্রেম আসে স্বর্গীয় সুখ নিয়ে।কখনো বা সেই সুখে থাকে মধুর খুনসুটি,বাদবিবাদ।আবার কখনো বা সেই প্রেমই বিরহের আগুন পুড়িয়ে খাক করে।এসবই সমাজবদ্ধ জীবনের চিরকালীন বৈচিত্র।সেই মায়ার বাঁধনে জড়ানো স্বর্গীয় সুখ ও বিরহের ফাঁদে কাঁদা সমাচিত্র উঠে এসেছে ‘ভাবের পদাবলী’র অন্য স্তবকে- ‘মায়ার বাঁধনে প্রেম
স্বর্গের সুখ
বিরহের জ্বালায় কাঁদে
অভাগার বুক।’
কাব্যের কবিতাগুলো কখনও ভাবছন্দে,কখনো স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্তের হাত ধরে নাচতে নাচতে গতিময় বৈশিষ্ট্য ধারণ করে মানুষের সমকালীন ও ভবিষ্যত ভাবনার ছবি এঁকেছে।কবিতার বৈশিষ্ট্যে আছে নর্তকীর নৃত্যের ঝংকার,আছে গ্রামের মেঠোপথ ধরে কলশি কাঁখে কোমর দুলিয়ে ছুটে চলা কিশোরীর ঢং,আছে ধানের আইল ধরে হেঁটে চলা কৃষাণীর বাতাসে উড়া শাড়ির রঙিন আঁচল।এমন বিচিত্র শৈল্পিক বাঁক ধরে সৈয়দ রনোর কবিতা ছুটে চলেছে কৃষক-শ্রমিকের নিরন্ন কঠিন কঠোর শরীর ও জীর্ণ কুঠির থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অতল রহস্যে।তাই তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে রবি ঠাকুরের কবিতার শৃংখলমুক্তির অভিপ্রায়ে প্রদত্ত ’কবিতা এখন স্বর্গে গেলেও সঙ্গের কুকুরটিকেও ছাড়ে না” বক্তব্যের নিগুঢ় সত্যের সন্ধান মিলে।‘বৃষ্টিমাখা রোদ’কাব্যের কবিতাগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুন ‘২০/এসএএইচ

লঞ্চডুবি উদ্ধার কাজের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সার্বক্ষণিক উদ্ধার কাজের খোঁজ-খবর রাখছেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর থেকে আসা ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায় মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা সদরঘাটের দিকে আসা লঞ্চ এমভি মর্নিং বার্ড। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বেলা ২টা পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সরকারপ্রধান লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঢামেকে ২০ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক’ খাবারের বিল দেখা হচ্ছে খতিয়ে

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ঠিকই বলেছেন, ২০ কোটি টাকা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এটা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এর আগে আলোচনায় সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা চার হাজার নার্স নিয়োগ দেব। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। তাদের শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে থাকা-খাওয়ায় একমাত্র মেডিকেল কলেজের (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) হিসাব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেটা বলেছেন, এটা স্বাভাবিকভাবে অস্বাভাবিক মনে হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হলো? এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব।’ সংসদ নেতা বলেন, ‘যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, সরঞ্জামাদি কেনাসহ চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা দ্রুততম সময়ে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরও একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে করোনা মোকাবিলায় আমাদের সামর্থ্য আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’

ত্যাছড়া ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় ডুবেছে লঞ্চডুবি, বললেন যাত্রী মাসুদ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কীভাবে লঞ্চটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল- তা নিয়ে জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন। জীবিত উদ্ধারকৃত অনেকেই জানিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনী। ডুবে যাওয়া লঞ্চ মর্নিং বার্ড উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়।
ওই লঞ্চের যাত্রী মো. মাসুদ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ঘাটে ভেড়ার জন্য আমাদের লঞ্চ সোজা আসছিল। অন্য একটা লঞ্চ ত্যাছড়াভাবে রওনা দিয়েছে। ত্যাছড়াভাবে রওনা দেয়াতে ওই লঞ্চটা ধাক্কা দিয়েছে আমাদের লঞ্চের মাঝে। ধাক্কা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটা কাইত হয়ে ডুবে গেছে। তলায় যেতে ১০ সেকেন্ডও সময় নেয়নি।’
নিজের অবস্থান বর্ণনা দিয়ে ওই যাত্রী বলেন, ‘আমি কেবিনে ছিলাম। গ্লাস খুলে আমি বের হইছি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা ছিলেন। তারা তো বের হতে পারেননি। তাদের খোঁজ করছি।’ তার নিখোঁজ থাকা দুই মামা হলেন- আফজাল শেখ ও বাচ্চু শেখ।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর লঞ্চে থাকা প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী আমরা সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারছি। বাকি যাত্রী কেউ উঠতে পারেনি। তারা লঞ্চের ভেতরেই ছিলেন। আমরা প্রায় ১৫০ জনের মতো লোক ছিলাম।’লঞ্চডুবির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দোতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ নামের লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড ডুবে যায়।

অন্যদিকে, রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ। একই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌমন্ত্রণালয়।

গাজীপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর প্রবাসীর লাশ উদ্ধার

সংবাদদাতা,গাজীপুরঃ  গাজীপুরের টঙ্গীতে নিখোঁজের তিনদিন পর সৌদি প্রবাসীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে হোসেন মার্কেট এলাকার ডেসকো গোডাউনের পাশে গলায় রশি লাগানো অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইউনুস মোহাম্মদ শফিক মুন্সি (৫০) এর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার সফিপুর গ্রামে। পুলিশ জানায়, নিহত ইউনুস সৌদি আরব থেকে গত ৩ মার্চ দেশে ফিরে খাঁপাড়া এলাকায় বন্ধু ইসমাইলের বাড়িতে বসবাস করেন। এরই এক পর্যায়ে গত শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। তিনদিন পর স্থানীয়রা তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দেয়ালের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার জানান, আমার স্বামী শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন। টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৯ জুন’২০/এসএএইচ

 

গাইবান্ধায় বন্যার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত, ব্যাপকভাবে নদী ভাঙ্গন

সংবাদদাতা,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙ্গনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকায় করে আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচুস্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা ও নামাপাড়া গ্রামের ৫৭টি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আলগারচর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচন্ডি, পাগলারচর, তিনথোপা গ্রামে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ৮৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় বালাসীঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর ও কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৯ জুন’২০/এসএএইচ

 

বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত আরও ৬৯ জন, মোট ২৭৮২

সংবাদদাতা,বগুড়াঃ বগুড়ায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৬৯ জন করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২ হাজার ৭৮২ জনে। বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সোমবার সকাল ১১ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় ২৮ জুন সরকারী বে-সরকারি পিসিআর ল্যাব থেকে ৩৩৫টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা ১৮৮টি নমুনায় ১৫ জনের পজিটিভ এসেছে। বে-সরকারী টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে ১৩৭টি নমুনার মধ্যে ৫৪টি পজিটিভ এসেছে। নতুন করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৬৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ, ২২ নারী ৪ জন শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ১৭ জন, ৫১ থেকে ৭০ বছর বয়সী রয়েছেন ১৬ জন এবং ৭০ বছরের উর্ধ্বে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শজিমেক ও টিএমএসএস এর ফলাফলে পজিটিভ ৬৯ জনের মধ্যে সদরে ৫৫ জন, গাবতলীতে ৬ জন, শাজাহানপুরে ৩ জন, শিবগঞ্জে ৩ জন এবং দুপচাঁচিয়ায় ২ জন নতুন করে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য মোট ১৭ হাজার ৭১৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলাফল পাওয়া গেছে ১৫ হাজার ২২১ জনের। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৮২ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৮জন। এছাড়া জেলায় সর্বোচ্চ ৯১ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। ফলে জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৪৪৩ জন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৯ জুন’২০/এসএএইচ