আজ শনিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2532

লেবাননের বৈরুত বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তুপের নিচে অনেকে আটকা থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বৈরুত বিস্ফোরণের ব্যাপারে এ তথ্য দিয়েছেন লেবাননের রেড ক্রসের প্রধান জর্জ কিত্তানেহ। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এলবিসিআই টিভিকে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জর্জ বলেন, হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ায় লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মর্গে মরদেহ সমন্বয় করছে রেডক্রস। এক বিবৃতিতে লেবানিজ রেড ক্রস বলছে, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত এবং শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। আমাদের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এখনও বিস্ফোরণস্থল ও আশপাশের ধ্বংসস্তুপে তল্লাশি এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার পর বৈরুতের বন্দরের পাশের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শতাধিক নিহত ও আরও চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তুপে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে লড়াইরত লেবাননে গত কয়েকবছরের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এক বিবৃতিতে বলেছেন, কোনও ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বৈরুতের বন্দরের গুদামে ছয় বছর ধরে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বৈরুত বিস্ফোরণের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, সন্ধ্যা ৬টার কিছুটা পরের ঘটনা। হঠাৎ করেই বৈরুতের বন্দরের পাশে গোলাপী রঙয়ের ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। গম্বুজের মতো বিশালাকার ধোঁয়ার কুন্ডলী কিছুক্ষণ ওড়ার পর প্রলয়ঙ্করী শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো নগরী। অনেকেই মনে করেছিলেন, সম্ভবত ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণের পর দেখা যায়, রাস্তায় অসংখ্য গ্লাস পড়ে আছে। কিছু গাড়ি উল্টে গেছে। গাছপালা পুড়ে গেছে। রাস্তায় লেগে আছে রক্তের দাগ। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনের পর বৈরুতের মেয়র জামাল ইতানি বলেন, এটা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আমি নির্বাক। বিস্ফোরণে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। ইতানি বলেন, এটি লেবানন এবং বৈরুতের জন্য এক বিপর্যয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৫ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

দেশে করোনায় প্রাণ হারালো আরও ৩৩ জন, শনাক্ত ২৬৫৪

সৈয়দ এনামুল হুদাঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৩ জনের মৃত্যুর হয়েছে। ফলে এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩ হাজার ২৬৭ জনে। একই সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৫৪ জন। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ জনে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে করোনা ভাইরাস বিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বুলেটিনে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে তিনি জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৯৬৪টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১১ হাজার ১৬০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১২ হাজার ৪১৬। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৯০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৪১ হাজা ৭৫০ জনে। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বুলেটিনে আরও জানানো হয়, আজ যে ৩৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন ও নারী ৮ জন। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণকারী ৩ হাজার ২৬৭ জনের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৫৭৪ জন (৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ) এবং নারী ৬৯৩ জন (২১ দশমিক ২১ শতাংশ)। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৩৩ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব আটজন, ষাটোর্ধ্ব ১০ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন, আশির বেশি বয়সী একজন এবং নব্বোই বছরের বেশি বয়সী দুইজন রয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় মোট করোনায় মৃত ৩৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন, খুলনা বিভাগে একজন, রাজশাহী বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৫ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

সংবাদদাতা, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম ছামিউল ইসলাম (১৮)। সে উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নগরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমানের ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩আগস্ট) রাতে বাড়ীর পাশে সেচ পাম্পের সংযোগের তার খুলতে গিয়ে অসাবধানতা বসতঃ বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় ছামিউল। সেখানেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রাজীব কুমার রায় ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নৌকাডুবিতে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু  

প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নৌকাডুবিতে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চর মাস্তল চরপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ওই পরিবারের আরো দুইজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাযোগে চরমাস্তল চরপাড়া বিল দিয়ে জিয়নপুর গ্রাম থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাশের চরপাড়া গ্রামের বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন হনুফা (৩৭)। পথিমধ্যে তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রাবিল থেকে হনুফা, তার বোন রোকসানা (২৮) ও ভাইরিয়াজুলের (১৩) লাশ উদ্ধার করে। এ সময় নৌকার মাঝি হনুফার বোনের ছেলে মনির ও হনুফার স্বামী আব্দুল হক জীবিত উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছে হনুফার মেয়ে মিথিলা (১২) ও রোকসানার ছেলে শান্ত (১১)। ৩ জনের লাশ উদ্ধার হলেও ২জনের উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনায় পরপরই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম রাজা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা মোস্তারী ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ঘটনা স্থলে অবস্থান করে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) হাসমত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোন ধরণের অভিযোগ না থাকায় নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

 

মহেশখালীতে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের 

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের মহেশখালীতে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ তিন বনকর্মীর উপর হামলার ঘটনায় জড়িত ৫জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মহেশখালী কেরুনতলি বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবির। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ, সরকারী কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কর্তব্যপালনে বাধাসহ গুরুতর জখম করার অপরাধে বাদী হয়ে ১ আগষ্ট রাতে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন কক্সবাজারের মহেশখালী রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল বনকর্মী গত ৩০ জুলাই বিকালে মহেশখালীর কেরুনতলি করইবুনিয়ায় সংরক্ষিত বনভুমিতে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় সেখানে দখলবাজদের হামলায় গুরুতর আহত হন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবির (৪৫) এবং বন বিভাগের নৌকা চালক জিয়া রহমান সহ আরো কয়েকজন বন কর্মকর্মী। আহতদের মধ্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউছুপ উদ্দিনের অবস্থা খুবই  সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে   ইউছুপের মাথায় অস্ত্রোপচারের পর তারঁ অবস্থা গুরুতর  হওয়ায়  লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় । গত তিনদিন যাবত তিনি লাইফ সার্পোটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী বলেন, বন কর্মীদের উপর বনদস্যু ও  দখলবাজদের হামলার ঘটনায় কেরুনতলি বিটের বনবিট কর্মকর্তা আহত আহসানুল কবির বাদী হয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনধিকার প্রবেশ করে সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্যপালনে বাধা, বেআইনি জনতা গঠন করে সরকারী কর্মচারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করার অপরাধে ১ আগষ্ট রাতে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত নামা ২৫ জনকে আসামী করা হয়। মহেশখালী থানায়  জিআর-১৭৪। আসামীরা হলেন, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের লম্বাইয়াকাটা গ্রামের কলিম উল্লাহ প্রকাশ কালাইয়্যার ছেলে মো.আনোয়ার হোসেন, আক্কেল আলীর ছেলে কলিম উল্লাহ প্রকাশ কালাইয়্যা,তার ছেলে আক্তার হোসেন, মো. হোসেন প্রকাশ ধলাইয়া, মৃত বসো আলী সিকদারের ছেলে মো. নাছির। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ফেরদৌস জানান, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হামলার ঘটনায় জড়িত কলিম উল্লাহ নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ  

কোমরে ব্যথা : কারণ ও প্রতিকার । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

কোমরে ব্যথা : কারণ ও প্রতিকার
ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

 

ব্যথার অভিজ্ঞতা হয় নাই এমন কেউ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আবার তা যদি হয় কোমরে ব্যথা তা হলে তো কথাই নাই। আমরা যে সকল ব্যথায় ভুগী তার মধ্যে কোমরে ব্যথা একটি অন্যতম কারণ। কারণভেদে সকল বয়েসের মানুষের মধ্যে কোমরে ব্যথা দেখা যায়। তবে মধ্যম ও অধিক বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাই আজ কোমরে ব্যথার আদ্যপান্ত নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

কোমর ব্যথার কারণ :
যে কোনো ধরনের ব্যথার জন্য নিচের যে কোনো একটির উপর অস্বাভাবিক চাপ বা ভেঙ্গে যাওয়া বা ইনজুরিই প্রধান কারণ।
১. মাংসপেশী
২. হাঁড়
৩. জোড়া
৪. লিগামেন্ট
৫. জোড়ার আবরণ
৬. শীড়দাড়া বা ভার্টিব্রাল কলাম
৭. ডিস্ক (দুই কশেরুকার মধ্যে থাকে) ও
৮. স্নায়ুর রোগ বা ইনজুরি।
তাই কোমরে ব্যথাও এর ব্যাতিক্রম নয়। আসুন কী কী কারণে এ সকল কারণ তৈরি হতে পারে জেনে নেয়া যাক।

বুক, পেট ও তলপেটের মধ্যকার বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যার জন্য কোমর ব্যথা হতে পারে-
১. যারা অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে একই ভঙ্গিতে কাজ করেন। এতে দেখা যায়, কোমরের মাংসপেশি, কোমরের বিভিন্ন জোড়া বা জয়েন্টস ও স্নায়ুতে চাপ তৈরি হয়। এ রকম কিছু দিন চলতে থাকলে সেটা ব্যথায় রূপ নেয় ও পরবর্তীতে ব্যথা প্রচণ্ড হয়ে থাকে।
২. বসার চেয়ার টেবিল ঠিক মতো না হলে বা ঠিক মতো না বসলে বা সামনে-পেছনে ঝুঁকে বসলে একই কারণে কোনো সময় কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
৩. দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিং করলে বা বেশি সামনে ঝুঁকে গাড়ি চালালে কোমর ব্যথা হতে পারে।
৪. যারা শুয়ে বা কাত হয়ে বই পড়েন বা সোফায় শুয়ে টিভি দেখেন বা অন্য কাজ করেন, তাদের মেরুদণ্ড বা ভারটিব্রাল কলাম দীর্ঘ সময় তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ব্যাতিক্রম অবস্থানে থাকেন। যে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়।
৫. অনেকেই আছেন যারা কোনো ভারী জিনিস সঠিক নিয়মে তোলেন না। ফলে মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথা হয়।
৬. অস্বাভাবিক পজিশনে ঘুমানোর কারণে অনেকেই ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।
৭. আঘাতজনিত কারণে উপরে উল্লেখিত যে কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যথা হতে পারে।
৮. যারা বয়োবৃদ্ধ আছেন তাদের দীর্ঘদিন ধরে শরীর নাড়াচাড়া বা জয়েন্টস একই অবস্থায় থাকতে থাকতে মাংশপেশী শিকিয়ে যায়, জয়েন্টসগুলো শক্ত হয়ে স্নায়ুর উপর চাপ বৃদ্ধি করে ফলে ব্যথা হয়।
৯. এছাড়াও অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ। যাতে আমাদের শরীরের হাড়্গুলো ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে পারে না। যে কারণে হাড়গুলো নরম ও ভঙ্গুর হয়। আবার এতে আমাদের দুই কশেরুকার মাঝে যেন রমজেলির মতো পদার্থ থাকে বা ইন্টারভারটিব্রাল ডিস্ক থাকে তার উপর চাপ পড়ে। সেটা আবার আমাদের শরীরের দুই পাশের ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ায় এবং কোমরে ব্যথা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সবসময় ধরে বা জমে আছে— এ ধরনের ব্যথা।
ভারী ওজন তোলা বা অতিরিক্ত কাজের পর তীক্ষ্ণ ব্যথা।
কোমর থেকে নিতম্ব, ঊরু ও পায়ের আঙুল পর্যন্ত ব্যথা বিস্তৃত হলে।
পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব হলে।
হাঁচি, কাশি দিলে বা সামনে ঝুঁকলে ব্যথা বেড়ে যায়।
প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ না থাকলে।
শোয়া অবস্থায় বা শোয়া থেকে ওঠার সময় ব্যথা হলে।

চিকিৎসা :
চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা দু’টি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারি
১. প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা
২. ব্যথা পরবর্তী চিকিৎসা

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা :
১. দীর্ঘক্ষণ আমরা একইভাবে বসে না থেকে ৫-১০ মিনিট বিরতি নিতে পারি। এই সময়ে আমি নিজ অবস্থানে বসে শারীরিক কিছু হালকা ব্যায়াম করে নিতে পারি যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যেমন- মাংশপেশী, জয়েন্টস ও মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল বাড়বে ও এদের অতিরিক্ত চাপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।
২. নিয়োমিতভাবে আমাদের বিভিন্ন জায়গার মাংশপেশির জন্য নির্ধারিত কিছু ব্যায়াম আছে যা করতে পারি। এ সকল ব্যায়ামে বেশি সময় প্রয়োজন হয় না। নিয়োমিতভাবে ৫-১০ মিনিট সময় দেয়ার মাধ্যমে আমরা এ সকল ব্যায়াম করতে পারি। এতে আমাদের শরীরের মাংশপেশী ও জয়েন্টস অতিরিক্ত চাপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবে।
৩. ঘুমানোর ক্ষেত্রে খুব সুন্দর কিছু নিয়ম আছে যা মেনে আমরা খুব সহজেই শরীরের ঘাড়, মাথা ও কোমরের ব্যথা থেকে বেঁচে থাকতে পারি।
৪. আমাদের বাসায় যারা খুবই বয়োবৃদ্ধ তাদের দিনের কোনো এক সময় অন্য কেউ একজন শরীরের বিভিন্ন মাংশপেশী ম্যাসেজ ও জয়েন্টসগুলো নাড়াচাড়া করিয়ে দিতে পারি। এতে করে তাদের স্নায়ুর উপর চাপ কম হয় এবং ব্যথা কম থাকে বা আসে না।
৫. অভ্যাস না থাকলে মাত্রাতিরিক্ত ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আমাদের মাংশপেশী, লিগামেন্টস, জয়েন্টস ও মেরুদন্ডের উপর অতিরিক্ত চাপের কারণে ইনজুরি থেকে ভালো থাকতে পারি।
৬. অস্টিওপোরোসিস রোগের জন্য যারা ঝুকিতে থাকেন যেমন- মাঝ বয়েসী মহিলা, ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাদের ওজন অতিরিক্ত তারা যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জীবন যাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে পারেন।

ব্যথা পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি :
কোমরে ব্যথায় যারা ভুগেন তারা অধিকাংশ সময় মানসিক চাপে থাকেন এই ভেবে যে আমার মনে হয় বড় কিছু হয়েছে অথবা আমি আর কখোনো সম্পূর্ণ ভালো বা সুস্থ্য হবো না এমন। কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল। কোমরে ব্যথার অনেক ধরনের আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে এবং এগুলো নিয়েও কিছু অভ্যাস মেনে সম্পূর্ণ সুস্থ্য থাকা যায়। এই চিকিৎসা পদ্ধতি আমরা কয়েকটি স্তরে নিতে পারি।

১. মেডিক্যাল চিকিৎসা ও ব্যায়াম।
২. ইন্টারভেনশনাল থেরাপি।
৩. কগনিটিভ বিহ্যভিয়রাল থেরাপি বা জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তনমূলক কাউন্সেলিং।
৪. অপারেশন।

কগনিটিভ বিহ্যভিয়রাল থেরাপি বা জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তনমূলক কাউন্সেলিং :
কোমরে ব্যথার রুগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী চিকিৎসা। এতে এ সকল রুগীদের মানসিক অবস্থা উন্নতি করা হয়, চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বোঝানো হয় জীবন যাপন পদ্ধতি নিয়ে বোঝানো হয় ও বিভিন্ন ব্যায়াম শিক্ষা দেয়া হয়। বিভিন্ন পেইন সেন্টারে এই ধরনের চিকিৎসার ব্যাবস্থা থাকে।

মেডিক্যাল চিকিৎসা :
মেডিক্যালচিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি কথা বলে নেয়া খুবই জরুরী। ব্যথার জন্য অনেকেই বিভিন্ন সময় নিজেদের ইচ্ছা মতো ঔষধ কিনে খান। ব্যথার জন্য ব্যাবহার হয় এমন অনেক ঔষধ (NSAID) দীর্ঘদিন ধরে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে খেলে কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রেশার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা হতে পারে। সে জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ ঔষধ খাওয়া উচিত। আর চিকিৎসা নেয়ার সময় অবশ্যই আপনার পূর্বে থেকে কোনো অসুখ বা ঔষধ খেয়ে থাকলে বলতে ভুল করবেন না।

ব্যায়াম :
কোমর ব্যথার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা নিরাময় করা এবং কোমরের নড়াচড়া স্বাভাবিক করা। পূর্ণ বিশ্রাম কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্রাম নিলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তীব্র ব্যথা কমে গেলেও ওজন তোলা, মোচড়ানো পজিশন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও সামনে ঝুঁকে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। সঠিক উপায়ে বসার অভ্যাস করতে হবে এবং প্রয়োজনে ব্যাক সাপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। গরম সেঁক (গরমপ্যাড, গরম পানির বোতল বা উষ্ণ পানিতে গোসল) নিতে হবে। পেশি নমনীয় ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে। কিছু ব্যায়াম কোমর ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে, এমনকি ওষুধের চেয়েও ভালো ফল দেয়। এই ব্যায়াম প্রতিদিন রাতেও সকালে বিছানায় শুয়ে শুয়ে করতে পারেন। সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭ মিনিট।

১. সমতল হালকা নরম বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে দুই হাত শরীরের দুই পাশে রেখে দুই পা সোজা করে শুতে হবে। হাঁটু ভাঁজ

না করে এক পা ওপরের দিকে তুলুন যত দূর সম্ভব। ১০ সেকেন্ড পা তুলে রাখতে হবে। একইভাবে অপর পা ওপরে তুলুন এবং একই সময় নিন।
২. এবার একইভাবে হাঁটু ভাঁজ না করে এক সঙ্গে দুই পা তুলুন এবং একই সময় নিন।
৩. এবার এক হাঁটু ভাঁজ করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হাঁটুকে বুকে লাগানোর চেষ্টা করুন। ১০ সেকেন্ড থাকুন। একইভাবে অপর হাঁটু বুকে লাগাতে হবে।
৪. একসঙ্গে দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই হাতে জড়িয়ে বুকে লাগাতে হবে।
৫. সর্বশেষ দুই পা সোজা করে পায়ের পাতার দিকে সটান করে ১০ সেকেন্ড রাখতে হবে।
প্রতিটি ধাপ ১০ সেকেন্ড দীর্ঘায়িত হবে বা ১০ গোনা পর্যন্ত করতে হবে।

ইন্টারভেনশন বা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা :
মেডিক্যাল চিকিৎসা ও ব্যায়াম যদি কার্যকারী না হয় বা অনেক ক্ষেত্রে ব্যথার কারণ যদি নির্ণয় করা সম্ভব হয় তাহলে ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করে ভালো উন্নতি পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যথার চিকিৎসায় অনেক ধরনের ইন্টারভেনশন প্রচলিত রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন ব্যথায় কার্যকারী। অনেকেই ইনজেকশন নিয়ে ভীত হন। তাদের জন্য তথ্য হচ্ছে এই সকল ইন্টারভেনশনগুলো ব্যথামুক্তভাবে করা হয় এবং রুগীরা দিনে দিনেই বাসায় চলে যেতে পারেন। এতে অপারেশন এড়ানো যায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যথা কমাতে ইন্টারভেনশন চিকিৎসা খুবই কার্যকারী। নিচে কিছু ইন্টারভেনশন নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু বলবো।

১. ইপিডুরাল ইঞ্জেকশন : আমাদের মাজায় ব্যথা যদি মেরুদন্ডের স্নায়ুতে চাপজনিত কোনো কারণে হয়ে থাকে তাহলে এর প্রাথমিক অবস্থায় এই ইনজেকশন দেয়া হয়। এতে বেশ কিছু দিন ভালো থাকা সম্ভব। আর এর সাথে অবশ্যই উপদেশসমূহ মেনে চলতে হয়। উপদেশগুলো মেনে চললে অনেক দিন ভালো থাকা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যথা আর আসে না। এই ইঞ্জেকশনের তেমন কোনো সাইড ইফেক্ট নেই। তবে অবশ্যই যারা এতে সিদ্ধ হস্ত তাদের নিকট থেকেই নিতে হবে। আনাড়ী কেউ বা যাদের এই বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষন নেই তারা দিতে গেলে অনেক সময় ক্ষতি হতে পারে। যেমন- ভুল জায়গায় ইঞ্জেকশন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
২. ওজন থেরাপি : ওজন একটি উপাদান যাতে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে। একটি মেশিনের সাহায্যে তৈরি করার সাথে সাথে এটি মাজার নির্দিষ্ট ডিস্ক স্পেসে দেয়া হয়। এতে নির্দিষ্ট ডিস্ক স্পেসে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং প্রদাহ কমায় ফলে ব্যথা কমে যায়। এই ইঞ্জেকশনটি দিতে অত্যাধুনিকযন্ত্র (সিআরম) ব্যাবহার করা হয়।
৩. ফেসেট ইঞ্জেকশন : এটি মেরুদন্ডের উপরের ও নিচের হাড়ের সংযোগস্থলে সমস্যা থাকলে দেয়া হয়। এটিও অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্য দেখে দেয়া হয়। ফলাফল খুব ভালো। যাদের সামনে ঝুকতে ব্যথা হয় তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪. রুট ব্লক বা SNRB( Selective Nerve Root Block): যারা ডিস্ক প্রল্যাপসড বা মেরুদন্ডের দু’টি হাড়ের মাঝে যেনরম জেলির মতো পদার্থ আছে সেটি বাইরের দিকে এসে শরীরের দুই পাশের ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুতে চাপ দেয়– এই সমস্যায় ভুগছেন। এসব ক্ষেত্রে যে স্নায়ুতে চাপ দেয় সেই সুনির্দিষ্ট স্নায়ুতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ব্লক করা হয়। এটা খুবই কার্যকারী একটি পদ্ধতি এবং এতে অপারেশন এড়ানো সম্ভব। ব্যথামুক্ত পদ্ধতিতে ইনজেকশন দেয়া হয়। রুগী সাথে সাথেই বাসায় যেতে পারেন। যারা এতে পারদর্শী বা ট্রেইনিং আছে তাদের নিকট থেকেই এটা করা উচিৎ।
৫. কডালইপিডুরাল ইনজেকশন (Caudal Epidural Injection) : যারা মাজা ব্যথার জন্য অপারেশন করিয়েছেন কিন্তু ব্যথা যাচ্ছে না তাদের ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকারী একটি পদ্ধতি।
৬. Pairiformis injection : মাজার নিচের দিক থেকে উরু বরাবর যারা ব্যথায় ভুগেন তাদের অধিকাংশেরই কারণ হতে পারে পাইরিফরমিস সিনড্রোম। যেটাতে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং মেডিক্যাল চিকিৎসায় যায় না। সে ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা উন্নত মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট জায়গায় বা পাইরিফরমিস মাংশপেশীতে ইনজেকশন দেয়া হয় এবং সাথে সাথে ব্যথা মুক্ত হয়। এটি খুবই কার্যকারী চিকিৎসা।

অপারেশন চিকিৎসা :
বেশ কিছু কারণে অপারেশনজনিত চিকিৎসা দরকার হতে পারে। যেমন-
১. আঘাতজনিত কারণে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলে।
২. ডিস্ক প্রোল্যাপ্সড বেশি হয়ে গেলে।
৩. কোমরে ব্যথার সাথে পা অবশ হওয়া শুরু হলে।
৪. মেরুদন্ডে টিউমারের কারণে কোমরে ব্যথা হলে।

কাদের বেশি হয়?
১. কোমরে ব্যথা সাধারণত বয়সের সাথে সাথে বাড়ে। বেশি দেখা যায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের পর থেকে।
২. কায়িক শ্রমের অভাব বা নিয়মিত ব্যায়ামের অভাবে পেট ও পিঠের মাংসপেশি চাপ ধরে যায়। ফলে একটু পরিশ্রমেই ব্যথা হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত ওজনের কারণে কোমরের মাংসপেশি এবং হাড়ের ওপর চাপ পড়ে। ফলে ব্যথা হতে পারে।
৪. অনেক সময় কিডনিতে পাথর হলে বা প্রস্রাবে ইনফেকশন হলেও কোমরে ব্যথা হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শুধু কোমরে ব্যথাই না, অন্য আরো অনেক উপসর্গও থাকবে। তাই কোমরে ব্যথা হলেই সেটা কিডনি স্টোন বা ইউরিন ইনফেকশন নয়।
৫. ডিপ্রেশনবাস্ট্রেস- এর কারণেও কোমরে ব্যথা হতে পারে।
৬. মদ্যপান এবং স্মোকিং- এর কারণেও কোমরে ব্যথা হয়। স্মোকিং-এর কারণে রক্তনালী চিকন হয়ে যায় এবং কোমর থেকে নিচের দিকে ঠিক মতো রক্ত প্রবাহ হয় না। যার ফলে হাড় ঠিক মতো পুষ্টি পায় না এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।
৭. অস্টিওপোরোসিস এর কারণে অনেক মাঝ বয়েসী মহিলাদেরও মাজায় ব্যথা হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?
কোমরে ব্যথার পাশাপাশি কিছু কিছু সিম্পটমস আছে যা অনেক রোগের অ্যালার্মিং সাইন। যেমন-
• যদি কোমরে ব্যথার সাথে সাথে প্রস্রাব বা পায়খানার কোনো পরিবর্তন খেয়াল করেন।
• যদি সাথে জ্বর থাকে।
• আঘাত পেলে বা কোনো প্রকার ট্রমা হলে।
• যদি ব্যথার তীব্রতা প্রচন্ড আকার ধারণ করে এবং রেস্টনিলেও না কমে।
• যদি ব্যথা এক বা দুই পায়েই নেমে যায়, বিশেষ করে হাঁটুর নিচে।
• যদি ব্যথার সাথে সাথে দুর্বলতা, অবশভাব বা পায়ে ঝিমঝিম অনুভূতি হয়।
• যদি ব্যথার সাথে সাথে ওজন কমতে থাকে।
• যে কোনো প্রকার স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়ার পর যদি ব্যথা শুরু হয়।
• যদি আপনার অতিরিক্ত মদ পান বা সিগারেট -এর বদভ্যাস থাকে।

কোমরে ব্যথা আমাদের একটি খুবই সধারণ সমস্যা। এটিকে অনেকেই সময়মতো গুরুত্ব দেন না। যে কারণে মারাত্মক পরিণতি এমনকি অপারেশনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে চলে যেতে হতে পারে। তাই কোমরে ব্যথার শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলুন। অনেক অত্যাধুনিক চিকিৎসা রয়েছে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জেনে, শুনে ও বুঝে চিকিৎসা নিতে পারেন। আর অবশ্যই চলাফেরা বা জীবনযাপন পদ্ধতিতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন নিজের অসতর্কতার জন্য কোনো সমস্যা তৈরি না হয়। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।)

আলোকিত প্রতিদিন/৪ আগস্ট-২০২০/জেডএন

গাইবান্ধায় বন্যার্তদের মাঝে মাংস বিতরণ করলেন ডিসি   

সংবাদদাতা, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ফুলছড়ি ফুডব্যাংকের উদ্যোগে চরের বানভাসি মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) উপজেলার কাবিলপুর চরের বানভাসি তিনশত পরিবারকে এক কেজি করে মাংস বিতরণ করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন,ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওছার আলী, মেডিকেল অফিসার ইলতুতমিশ পিন্টু, ফুলছড়ি ভলান্টিয়ার্স গ্র“পের আহবায়ক আশিকুর রহমান মুন প্রমুখ। তিন দফার বন্যায় গাইবান্ধার খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষগুলো হয়েছে কর্মহীন। প্রান্তিক চাষিদের নেই আয়-রোজগার। নানা সমস্যা ও দুর্দশার শিকার গাইবান্ধার বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। ঈদ তাদের জন্য স্বপ্নের মতো। কুরবানির ঈদ হলেও তারা মাংস খেতে  পারেনি। বানভাসি মানুষগুলোর মাঝে ছিল না ঈদের আনন্দ। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা ঈদের আনন্দ বঞ্চিত। ঈদের দিন ভাল কিছু খেতে পর্যন্ত পারেন না তারা। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলনের করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গঠিত ফুলছড়ি ফুডব্যাংকের উদ্যোগে বিত্তবানদের সহায়তায় ফুলছড়ি উপজেলার কাবিলপুর চরের অতি দরিদ্র তিনশত পরিবারকে বাছাই এক কেজি করে মাংস বিতরন করা হয়। উড়িয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক প্রভাষক গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদের দিন পার্শ্ববর্তী রতনপুরের শাপলা বাজার এলাকার ১৫০টি পরিবারকে এক কেজি করে মাংস বিতরন হয়। তিনি বলেন, ঈদের দিন তার আতœীয় স্বজনের করা কুরবানির মাংস চেয়ে এনে এবং নিজের করা কুরবানির মাংস থেকে ১৫০টি পরিবারকে কুরবানির মাংস পৌঁছে দেন। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন বলেন, বিত্তবানদের সহায়তায় ফুলছড়ি ফুডব্যাংক থেকে সাড়ে পাঁচশত পরিবারের মধ্যে বাছাই করে তিনশত পরিবারের মাঝে এক কেজি করে গরুর মাংস ভলান্টিয়ার্স গ্র“পের সদস্যদের মাধ্যমে পৌঁছে দেযার ব্যবস্থা করেছি।

 

আলকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ

ফুলবাড়ীতে সেতুর উপর থেকে নদীতে লাফিয়ে আত্মহত্যা

সংবাদদাতা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শনিবার (২ আগস্ট) ১টার দিকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর উপর থেকে লাফ দিয়ে আত্ম হত্যা করেছে যুবক। নিহত ওই যুবকের নাম জোবায়ের আলম জয় (২২)। সে উপজেলার চন্দ্রখানা কলেজপাড়ার স্কুল শিক্ষক আমীর হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, দুপুরে স্ত্রীসহ অটোবাইক যোগে শ্বশুড়বাড়ী লালমনিরহাট যাচ্ছিলেন জয়। অটোবাইকটি ধরলা সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে পৌছিলে তিনি আকষ্মিকভাবে অটো থেকে নেমে দৌড়ে রেলিংয়ের উপর উঠে নদীতে লাফ দেয়। তীব্র স্রোতের সাথে গভীর পানিতে সাথে সাথেই ডুবে মারা যান তিনি। চোখের সামনে স্বামীকে নদীতে লাফিয়ে পড়তে দেখে আহাজারী করতে থাকে  স্ত্রী শিউলি বেগম। পরে পরিবারের লোকজন  পেয়ে এসে শিউলিকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ও নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বিকাল ৩টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, জয় মাদক সেবন করত। একারনে স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিলনা। ফুলবাড়ী থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, যদিও নদীর গভীরতা ও স্রোত বেশি তারপরও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় খুব দ্রুত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান, জোবায়ের আলম জয় নামে যুবক শেখ হাসিনা ধরলা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের মরদেহ ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

বীরগঞ্জে হিউম্যানিটি ফার্স্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ

শাহিনুর ইসলাম, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর): দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১-০০ টায় ইয়াদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে হিউম্যানিটি ফার্স্ট বাংলাদেশ এর সৌজন্যে গরু কোরবানি করতঃ হত দরিদ্র মানুষের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।  বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ পৌরসভার সম্মানিত মেয়র মোঃ মোশারফ হোসেন বাবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেহেদী হাসান, পূর্ব্ব মল্লিকপুর কলেজের প্রভাষক মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ আব্দুল হাকিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এক প্রশ্নের জবাবে হিউম্যানিটি ফার্স্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানান এই সংস্থাটি কানাডার মুসলমানদের সহায়তায় পরিচালিত। সম্পুর্ন ভলান্টারি সার্ভিসের মাধ্যমে এই সংস্থার কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। আজকের এই বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে অত্র পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ হিউম্যানিটি ফার্স্ট বাংলাদেশ এর স্থানীয় ভলান্টিয়ারগন সার্ব্বিকভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। এই মহতি উদ্যোগকে বিজ্ঞ সুধীমহল স্বাগত জানিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

৩০ এতিমখানায় ঈদুল আজহার উপহার পৌঁছে দিলেন- কউক চেয়ারম্যান   

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা হিসেবে ১লা আগষ্ট মুসলমান ধর্মাবলম্বীগণ যথারীতি পালন করেন এদিনটি। ঈদুল আযহায় এতিম সন্তানরা যাতে কোন ধরনের অনাহারে না থাকে সেজন্য কউক চেয়ারম্যান ৩০ এতিমখানায় ঈদুল আযহার যাবতীয়  খাদ্য সামগ্রি পৌঁছে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও তিনি এতিমদের খবর নিলেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ালেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল অবঃ ফোরকান আহমদ যিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার ৫ ইউনিয়ন ঈদগাঁও, জালালাবাদ, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, পোকখালী ও রামু উপজেলাধীন ঈদগড় ইউনিয়নে ৩০ এতিমখানায় গরীব ও অসহায়দের মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাংস, চাল, তেল ও পিয়াজ বিতরণ করেন। মহামারি করোনা ভাইরাসে সাধারণ মানুষ অনেক দুঃখে কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এবার ঈদে অনেকেই  অর্থসংকটের কারণে কোরবানি দিতে পারেনি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এসব মানবিক দিক বিবেচনা করে ঢাকা থেকে ফিরে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে মা বাাবা ছাড়া সন্তানদের কথা চিন্তা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। ৩য় বারের মতো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়ে তিনি সকলের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন  এবং কক্সবাজারের ৩০ এতিমখানার পাশে দাঁড়িয়ে করোনা সংকটে মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অবঃ)  ফোরকান আহমেদ করোনা সংকটে সাধারণ অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হক সুষ্টুভাবে পৌঁছে দিয়েছেন।  আধুনিক কক্সবাজার বিনির্মানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তাঁর বিচক্ষণ গুণাবলির মাধ্যমে যাবতীয় সৃজনশীল এবং মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ