আস্তিক্য ও নাস্তিক্যবাদের দর্শন গ্রন্থের প্রসঙ্গ কথা। সৈয়দ রনো
খোজা পুরুষ। ড. সৈয়দ রনো
রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেট : পলিনড্রম অথবা সনেটের নতুন দিগন্ত
মৃধা আলাউদ্দিন
কবিতা নদীর মতো নিত্য তার বাঁক বদলায়। গতি নেয় দিক থেকে দিগন্তে। সাগর পাড়ি দিয়ে চলে যায় মহাসাগরে। আকাশের ওপারে, আকাশে। অথবা কবিতা ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায়। বিমূর্ত জীবন বীক্ষণের দশদিকে যাত্রা করে কবিতা। যাত্রাই পৃথিবীর সব আলোর মধ্যে একটা ষড়ৈশ্বর্য-সুন্দর আলো। এই আলোই অবশেষে একটা করণকৌশল ও স্বতন্ত্র ডিকশনে কবিকে কবিতা নির্মাণে সহায়তা করে। নীড়ে ফেরা পাখির মতো ব্যাকুল হয়ে ওঠেন কবি। কবিতা বা কবিতার রূপ নির্মাণে তার ভেতরে একটা প্রচণ্ড অস্থিরতা, ব্যাকুলতা তৈরি করে। বিষয় যেমন রূপকে নির্মাণ করে তেমনি রূপকেও নিয়ন্ত্রণ করতে কবিকে সাহায্য করে। আর তখনই কবিতা সাধারণ থেকে জৈব-অজৈব সত্ত¡ার দার্শনিকতার দিকে, সবুজ আলোর দিকে, সুন্দরের যাত্রা করে। কবিতা বহু বিষয়ের পরিধিকে স্পর্শ করে বিষয়ীগত আনন্দকে রূপ-লাবণ্যের মধ্য দিয়ে নতুন চিন্তা-চেতনাকে উসকে দেয়। কবিতা পরিপাশির্^কতাকে, পরিবেশ-পরিস্থিতিকে সঙ্গে নিয়ে যুক্ত হয় এক বিরাট-বিশাল আশা-আকাক্সক্ষার তাজমহলে। সুন্দর-সাবলীল স্বপ্নের শহরে। অবশ্য খুব কম কবিই তার কবিতায় নতুন স্বপ্ন নির্মাণে পারঙ্গমতা দেখাতে পারেন। বর্তমানে ছন্দ-গন্ধ না জানা, শুধু গদ্যে লেখা অধিকাংশ কবিতা নিছক কতোগুলো শব্দের তাল-গোল মাখানো মাংসের পিণ্ড, যেখানে বহুস্বরের সম্মিলন বা কাব্য-সৌন্দর্য নেই। শুধু সংকীর্ণ এক মনোবৃত্তিসহ কবিতার নগ্ন রূপ নির্মাণ ছাড়া আমরা সেখানে আর তেমন কিছুই পাই না। জীবনযাত্রার, চিন্তা, অভ্যাস ও রুচির ক্ষেত্রে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করছি প্রবাসী কবি রাজুব ভৌমিকের ‘আয়না সনেট’-এর এই চতুর্দশপদী কবিতাগুলোর মধ্যে। তার স্বাভাবিক কবিতাগুলোও দেখা (পৃথিবীর একাংশ দেখে ফেলেছেন এই কবি) ও সময়ের বিবর্তনে অতীতের মতো সীমাবদ্ধ বা সীমিত নয়। প্রেমিক-প্রেমিকার পারস্পরিক কামনা-বাসনাতে সীমিত নয় রাজুব ভৌমিকের কবিতা। তার কবিতা পাঠকের সামনে সত্যকে অনুসন্ধানের এবং উপলব্ধির অবিরাম ভালোবাসা। রাজুবের কবিতা নতুন মানুষের জীবনে নতুন চাহিদা তৈরি এবং পরিপূর্ণ হবার বারবার তাগিদ দেয়। কবিতার এই দুর্ভিক্ষের সময় রাজুব ভৌমিক তার আয়না সনেট নিয়ে আমাদের চেতনায় ভিন্নস্বরের গান শোনালেন বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। রাজুব আমাদের দিলেন নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ভিন্ন স্বাদ, যুদ্ধের দামামা-
পেতে শুধু অবহেলা জন্মায় গরিব,
ক্ষেতে করে শ্রম বন্ধ্য, ফসলে মুনিব;
নিষ্ফল কপাল তার, শোষিত জীবন,
বলহীন বুকে সর্ব, লাথিতে মরণ।
ক্লেশ দুঃখ নিয়ে, অতিবাহিত সংসার,
বেশ হলো ভাবে, ধনাঢ্য যে পরিবার;
করুণ কাহিনি তার, ভূতেও না শুনে,
তরুণ আত্মা ঝরে, রাখে না কেউ মনে।
মহাকাব্য হয়নি কভু, কথা নিঃস্বরে,
অদ্রাব্য তাহার গল্প, করুণা ভবের;
ডরে নাহি চলে, ভবে দিন গরিবের,
মরে সে অযথা, নিয়ে বোঝা সংসারের।
গরিবের জন্ম ভবে, জন্য ভুলিবার;
পাপের কুদৃষ্টি যে, সারা জনম তার।
– গরিবের জন্ম
রাজুব ভৌমিক কবিতার এই পারঙ্গমতার দুয়ারে, নিত্য-নতুনের আখড়ায় ব্যথার পিরামিডসহ কাহারবা তালে কড়া নাড়ছেন। সমাজ-বাস্তবতা, শিল্পের সুন্দর-ষড়ৈশ্বর্য বয়ান ছাড়া তার কবিতায় সংকীর্ণ ও বোধহীনতা, সমাজের উদাসীনতা, প্রাপ্তির লোলুপতা, মেরুদণ্ডহীনতা, দালালি মনোবৃত্তির তেমন কিছুই নেই। রাজুব ভৌমিকের কবিতা প্রেম-ভালোবাসা, সমাজ বিপ্লবের, বিদ্রোহের, মনো-বিকাশের, রাষ্ট্র পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে আমাদের চাহিদাকে শিল্পের নান্দনিক মোড়কে উপস্থাপন করেছে। রাজুব আমাদের দিচ্ছেন পলিনড্রম কবিতার ঘ্রাণ, রমাকান্তকামার- বাংলা কবিতায় এ সত্যিই বিরল। সঙ্গত কারণেই রাজুব ভৌমিকের কবিতা ভাষাহীন অবস্থান থেকে ভাষাসূত্রশিল্পকে অবলম্বন করে নতুন দিগন্তে উপনীত হয়েছে। তাই তার কবিতা যেমন তার নিজের সৃষ্টি তেমনই পাঠকেরও। কারণ পাঠোদ্ধারের মধ্য দিয়ে পাঠক কবিতাকে নতুন করে, নতুন ভাবে রচনা করেন-
সামনে সে বলে মধুতুল্য মিষ্ট কথা
পিছনে ঘটায় বিঘ্ন, বলিয়া অযথা
সারাদিনে বসিয়া ইন্দ্রিয় সুখাসনে
আশ্বিনে দেয় পুজা, শারদা উপাসনে।
দুঃসাধ্যকরণ বলিয়া জগতে নাই
সান্ধ্য হইলে করে কুকর্মের লড়াই
যত সহজে জ্ঞাত হয় পাখির গতি
তত কঠিন মনুর, ব্যগ্র অনুভূতি।
সৎসঙ্গ বিমুখতা ঈর্ষায় কাটে দিন
অঙ্গ জ্বলে পর সুখে কাঁদে সে কঠিন
মিথ্যাই শক্তি তার, শিশুর শক্তি কান্না।
– মানুষ
কবি রাজুব ভৌমিকের কবিতায় আছে বহুমাত্রিকতা। এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে তিনি লেখেননি। বহু দেশ ভ্রমণ করা এই কবি-পুরুষটি যখন যেখানে যা দেখেছেন, যা তার মনকে কষ্ট বা ভালোবাসার আগুনে পুড়িয়েছে- তিনি তাই নিয়েই লিখেছেন। বিদেশে থাকলেও তার মন সব সময় পড়ে রয়েছে আমাদের এই বাংলায়। তার নিজের জন্মভূমিতে। বাংলাদেশে। জন্মভূমির মায়া তিনি কখনো ত্যাগ করতে পারেননি। বাংলার আকাশ বাতাস, তেপান্তর, নীল জোছনা, কাশবন, ধানক্ষেত, রৌদ্র-মেঘের লুকোচুরি, মুক্তিযুদ্ধ, অসহায় সমাজের কথা, ধনী-গরিবের কথা- দেশের মানুষের সফলতা-অসফলতার কথা তার আয়না সনেটে উঠে এসেছে নিপুণতা এবং বেশ মুন্সীয়ানার সাথে-
নয়নের অশ্রু ঝরে, ভাবিলে আশায়,
বিরহের জলে ভেসে বুঝি প্রাণ যায়;
সখির লাগিয়া নয়ন, স্বপ্নতে ভাসে,
শিশির কাঁদে নীরবে, কত বিলাসে।
আশাতে জীবন বাঁচে, মৃত্যু সখি বিনে,
তোমাতে স্বয়ং সমর্পিত, প্রেম গো মনে;
যত শিশুর আশা, হবে অনেক বড়,
তত মোর প্রাণ, চাহিবে প্রেম খগড়।
– নয়নের আশা
রুপালি মাছেরা, আনন্দে মাতায় নদী
অলি গানে গানে, নাচে দ্রৌপদী;
সবুজ-শ্যামল স্বিগ্ধতা, রূপসী বাংলা,
অবুজ মনখানি, নাহি বুঝে গো জ্বালা
যতদিন না দেশে ফিরে আসিব শেষে
কঠিন মৃত্যু, বঙ্গ চিন্তায় পরিশেষে।
-হৃদয়ে বাংলাদেশ
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষা ও সাহিত্যের প্রথম সার্থক সনেট রচয়িতা। বাংলায় তিনিই প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। চতুর্দশপদী কবিতা লিখতে গিয়ে মধুসূদন কবি ইতালীয় কবি পেত্রার্ক, মিল্টন, শেকসপিয়র ও ফরাসি কবিতার কাব্যরীতি অনুসরণ করেছিলেন। স্যার ফিলিপ সিডনি, এডমন্ড স্পেন্সার, মাইকেল ড্রাইটনসহ আরো অনেকেই সরেটকে ভেঙেচুরে নতুন ধারায় এনে দিয়েছিলেন। সনেট বা এই চতুর্দশপদী কবিতার বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন আছে। কালে কালে কবিরা এ নিয়মের ব্যত্যয়ও ঘটিয়েছেন। সচেতনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই তারা কাব্য প্রয়াসের এ বিধিবদ্ধতা ভেঙে চুরমার করেছেন। বাংলা সনেটেও ছন্দ-গন্ধ ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এনেছেন কেউ কেউ। অনেকেই পঙ্ক্তি বিন্যাসে এনেছেন নতুনত্ব। মধুসূদনের সেই চতুর্দশপদী কবিতা পরিবর্তিত হয়ে নানাভাবে উপস্থাপিত হয়েছে পাঠকের কাছে। উপস্থাপনের এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেই আমাদের ধারণা। আমাদের আজকের আলোচিত কবি রাজুব ভৌমিকও বাংলা সনেটে বেশকিছু বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘বাংলা-সাহিত্য ভাণ্ডারে নতুন কিছু জমা দিব বলে আমার এই ছোট্ট সৃষ্টি- আয়না সনেট। আয়না সনেট লেখার পূর্বে আমি বিশ্ব সাহিত্যের বিভিন্ন ধরনের সনেট নিয়ে প্রচুর গবেষণা করার চেষ্টা করেছি। আমার গবষেণার উদ্দশ্যে ছিল একটাই- বিশ্বের সব ধরনের সনেট সম্বন্ধে জানা এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করা। ইতালীয় ভাষায় পের্ত্রাকের হাতেই সনেট কবিতা পূর্ণতা লাভ করার পর শেকসপিয়রীয় রীতির সনেট বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত- বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারে প্রথম তার রচিত ‘কবি-মাতৃভাষা’ এর মাধ্যমে সনেট জমা দেন এবং বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রচলন তিনিই শুরু করনে। তারপর আবুল হোসেন, ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদের সনেট আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। আমি তাদের কবিতা পড়ে মোহাবিষ্ট হই। সুকান্ত ভট্টাচার্য, যতীন্দ্রমোহন বাগচীর লেখায়ও আমাকে বেশ আকর্ষণ করে। আমার আয়না সনেটগুলো ঠিক আয়নার মতো- দুই দিক থেকেই পড়া যাবে। আমার আয়না সনেটগুলো সাধারণত পর্ব বিন্যাস-রীতি মেনে চলে না।
নিচের লাইন দুটো একটু পড়ার চেষ্টা করুন।
পেতে শুধু অবহেলা জন্মায় গরিব;
২+২+৪+৩+৩=১৪
ক্ষেতে করে শ্রম বন্ধ্য, ফসলে মুনিব।
২+২+২+২+৩+৩=১৪
শেষ দিক থেকে পড়লে হবে-
গরিব জন্মায়, অবহলো শুধু পেতে;
৩+৩+৪+২+২= ১৪
মুনিব ফসলে, বন্ধ্য শ্রম করে ক্ষেতে।
৩+৩+২+২+২+২= ১৪
ঠিক আয়নার মতো।
আয়না সনেট- যে সনেটগুলো দুই দিক থেকেই পড়া যাবে। এই কবিতাগুলোর অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে- প্রত্যেক কবিতার ভেতরে আরেকটি কবিতা আছে। এই কবিতাগুলো দুই দিক থেকেই চৌদ্দ অক্ষরের, চৌদ্দ লাইন বিশিষ্ট- ক ক খ খ, গ গ ঘ ঘ, ঙ ঙ চ চ এবং ছ ছ অন্তমিল নিয়ে সাজানো। আয়না সনেটগুলো কোনো মাত্রা (৮, ৬) নিয়ম মানে না। আয়না সনেটগুলো আবার নিচের লাইন থেকে উপরের লাইন পর্যন্ত পড়া যাবে। আয়না সনেট লেখার পদ্ধতি একটু ভিন্ন ধরনের। সম্ভবত আয়না সনেটগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ধরনের সনেট। এই ধরনের সনেট পূর্বে কখনো লেখা হয়নি। আয়না সনেটের সাথে পলিনড্রম কবিতার সামান্য মিল আছে। পূর্বে পলিনড্রম বা চধষরহফৎড়সব পদ্ধতিতে সাধারণ কবিতা লেখা হয়েছে। কিন্তু কখনো সনেট লেখা হয়নি। ঐবহৎু চবধপযধস র্সবপ্রথম ১৬৩৮ সালে পলিনড্রম পদ্ধতিতে লেখা তার বই ঞযব ঞৎঁঃয ড়ভ ঙঁৎ ঞরসবং প্রকাশ করছেনে। চীনের বিখ্যাত কবি ঝঁ ঐঁর সবচেয়ে জটিল একটি পলিনড্রম কবিতা লিখেছেন- তিনি একটিই পলিনড্রম কবিতা লিখেছেন কিন্তু এ পর্যন্ত, মনে হয় আমি ছাড়া আর কেউ পলিনড্রম সনেট লেখেনি। আশা করি আপনাদের এই কবিতাগুলো ভালো লাগবে।’
পৃথিবীতে নতুনকে মেনে নেয়ার প্রবণতা আমাদের খুব কমই আছে। মানসুর হেল্লাজের সময়ের মানুষরা তাকে মেনে না নিয়ে শূলে চড়িয়েছিলেন। ইংরেজরা সাদা চামড়ার ‘কুইন’-কে মেনে নেয়নি। কেননা, কোনো এক বলিষ্ঠ সুন্দর যুবা নিগ্রোর পৌরুষে তার জন্ম হয়েছিল। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইরেজিতে কবিতা লিখত বলে তাকে অনেক নিন্দা সইতে হয়েছে। সোনালি কাবিনসহ কবি আল মাহমুদের সাহিত্যসম্ভারকে কোনো কোনো অতি পণ্ডিত বলে বেড়ায়, তার সাহিত্য থেকে ‘সেক্স’ ফেলে দিলে সেখানে আর কোনো কবিতাই থাকবে না। আরে কমবোধ আর অর্বাচিন তোর এতো ক্ষমতা থাকলে সোনালি কাবিনের সনেটের মতো একটা সনেট লিখে দেখা। তোর যদি ‘না’ বলার এতোই বাতিক তো পারলে নজরুলের মতো একটা ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখে দেখা। পৃথিবীতে না বলার হিরিক এতো বেশি, যা লিখে শেষ করা যাবে না। জে কে ব্রাউনিংয়ের বিখ্যাত হ্যারিপটার সিরিজও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশের স্কুলগুলোতে নিষিদ্ধ হয়েছিল। কেনো জানি না, আমার বোধে আসে না, ওই যুক্তরাষ্ট্রসহ তার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নিষিদ্ধ হয়েছিল ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’। এই বই পড়ে শিশু-কিশোর, মানুষরা অবাধ্যতা আর দুষ্টুমি ছাড়া কিছুই শিখতে পারবে না- এই কথা বলে নিষিদ্ধ হয়েছিল বিখ্যাত কথাশিল্পী মার্ক টোয়েনের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব টম সসার’। অনেকটা আমাদের দেশের সেই প্রবাদের মতো- ভাত দেয়ার মরদ নাই, কিল মারা গোসাই। আমরা হচ্ছি সেই লোক। যাক, কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। রাজুব ভৌমিককে আমি শুধু সাদুবাদই না, যাক সে কথা, আমরা রীতিমতো স্যালুট জানাই তার আয়না সনেটের রাজুব ভৌমিককে তার এই ভিন্নতার জন্য। ভিন্নস্বরেভেজা কাব্যের জন্য। তবে রাজুব ভৌমিকের এই আয়না সনেটে যদি জোড়ে জোড়, বেজোড়ে গাঁথো বেজোড় নিয়মটুকু মানা হতো (আমার কোনো সনেটই মাত্রার নিয়ম মানে না। অর্থাৎ আমার সব সনেটগুলো মাত্রাহীন- রাজুব ভৌমিক) তাহলে আয়না সনেটগ্রন্থটি সোনায় সোহাগা হতো বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আবার এ কথা না বলেও পারছি না, সৈয়দ শামসুল হককে যখন তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘ফির মিলেঙ্গ হাম দোনো’ (প্রথম মুক্তি-১৯৭৮) নিয়ে জানতে চাইলাম, তিনি আমাকে কিছুই বললেন না। বরঞ্চ দ্বিতীয়বার জানতে চাইলে, তিনি ধমকের সুরে বললেন, ‘তুমি এ বিষয়ে আমাকে আর প্রশ্ন করো না।’
আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি কবি রাজুব ভৌমিকের কাছে। তার শেষ প্রেমপত্রের কাছে। প্রেম-ভালোবাসা পবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ। প্রেম হলো একজনের কাছে আরেকজনের ভালোবাসার দৃঢ় অনুভূতির প্রকাশ। যদিও প্রেম-ভালোবাসার অনুভূতিগুলো যৌন আকর্ষণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু কবি রাজুব ভৌমিকের কাছে এই প্রেম হলো- আমৃত্যু ভালোবেসে তোমার স্বর্গের দুয়ার হবো। যেখানে কোনো কাম-ক্রোধ নেই। বরঞ্চ আমার কাছে শেষের দুটো লাইনকে কাপলেটই মনে হয়েছে। তিনি তার শেষ প্রেমপত্রে লিখেছেন-
হয়তো তোমার আর হবে নাহি দেখা
অনন্ত মোর প্রেম, তাই পত্রটি লেখা।
রক্তাক্ত মোর বুক, খুনি তোমার চোখ
অশান্ত জ্বলে হিয়া, তোমার প্রেমের রোখ।
দোষ কী ছিল আমার করিলে তাবিজ
তোষ বিনে ব্যথা নিয়ে দুঃখের প্রাণীজ
চেয়েছি আমি তোরে, ভোর-সন্ধ্যা-বলিতে
কাছি গলায় দিয়ে প্রেম তব সহিতে।
করিলে অবজ্ঞা মোরে দেখিলে না দেখে
জ্বলে কলিজা জ্বলে, পত্র তোমায় লেখে।
মৃত্যু যদি হয় প্রেয়সী তোমার পূর্বে
আমৃত্যু ভালোবেসে হবো দুয়ার স্বর্গে।
-শেষ প্রেমপত্র
কবি রাজুব ভৌমিকের ‘আয়না সনেটে’র আবাসিক সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণ ইব্রাহীম চৌধুরীর কিছু কথা এখানে আমরা তুলে ধরতে চাই। তিনি যথার্থই বলেছেন- ‘কবি রাজুব ভৌমিক শুরুতেই তার চতুর্দশপদী নিয়ে ব্যাখ্যার অবতারণা করেছেন। এ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে কাব্য প্রয়াসের এক বিধিবদ্ধতাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। কবিতাকে তো অনেক সময়ই কোনো সংজ্ঞায় ধারণ করা যায় না, কারণ, ভাব আর হৃদয় কাতরতা সব সংজ্ঞাকে চুরমার করে বেরিয়ে আসে। মধু কবি সনেট লিখেছিলেন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে। এর উত্তরাধিকার হিসেবে কবি রাজুব ভৌমিক ইস্ট রিভার বা হাডসন পারের কোলাহলময় নগরী থেকে তার হৃদয়কাতরতাকে উপস্থাপনা করেছেন আয়না সনেট, চতুর্দশপদী কবিতাবলীতে। কবিতার বিষয়বস্তুতে কবি উপস্থাপনার ভিন্ন কলাকৌশল আরোপ করার প্রয়াস পেয়েছেন। চেষ্টা করেছেন ভাবকে ব্যঙ্ময় করে তুলবার। প্রেম-প্রকৃতি থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়কে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে তার এ গ্রন্থের চতুর্দশপদীগুলো। এইসব নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাপিত জীবনের কাব্যময় উপস্থাপনা কতটা পাওয়া যাবে রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেট, চতুর্দশপদী কবিতাবলী কবিতাগ্রন্থে সে বিচার তার পাঠকরাই করবেন। কারণ কবিতার রস বিতরণের জন্য যেমন কবিকে প্রস্তুতি নিতে হয়, রস আস্বাদনের জন্য কাব্যরসিকের প্রস্তুতিও অনিবার্য হয়ে ওঠে। এমন প্রস্তুত কাব্যবোদ্ধাদের কাছে রাজুব ভৌমিকের চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রশ্রয় পাবে বা আদৃত হবে কিনা তাকে কালের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে আমাদের। রসিক পাঠকের ভরসায় থেকে আমরা কেবল তার জন্য শুভকামনা জানাতে পারি, সেই শুভেচ্ছাই রইল আমাদের পক্ষ থেকে।
কবি ও লেখক, অধ্যাপক ড. রাজুব ভৌমিকের জন্ম নোয়াখালী জেলার শ্রীনদ্দি গ্রামে, জন্মসাল ১৯৮৮। ওটার হাট সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু। যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্নাতক ডিগ্রি, চারটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং দুটি ডক্টরেট ডিগ্রি (একটি পিএইচডি আর একটি ডক্টরেট অব সাইকোলোজি) সম্পূর্ণ করেন। বর্তমানে তিনি আরো দুইটি ডক্টরেট ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত। গত পাঁচ বছর ধরে জন জে কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তিনি অপরাধবিদ্যা, আইন ও বিচার বিভাগে অধ্যাপনা করছেন এবং হসটস কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তিনি মনস্তাত্তিক বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। অধিকন্তু, গত সাত বছর ধরে পেশায় একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি), কাউন্টার টেরোরিজম অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে সাংবাদিকতার পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাতে সাংবাদিকতা করেন।
রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেটের আরো কিছু অসাধারণ পঙ্ক্তিমালা; যা অনেকটা কাপলেটে পরিনথ হয়েছে-
১. নিপীড়িত নিয়ে সুর বলিষ্ঠ তোমার
জাগ্রত করিলে কত ঘুমন্ত প্রহরী।
২. মোরা প্রতিবন্ধী ভবে, থেকে সবকিছু
ওরা শুদ্ধ বলে, শান্তি চলে পিছু পিছু।
৩ .করিলে কেনো তাবিজ, প্রাণ মোর যায়
সহিলে শুধু মানুষ, ভারোবাসা পায়।
৪. টাকার পিছু পিছু দৌড়াই সর্বক্ষণ।
৫. লেখার ইচ্ছে তোমায় ছিল একরাশ
সবার না হয় প্রেম, হয় অভিলাষ।
৬. কেবল দিও সখি মালাখানি প্রেমের
উজ্জ্বল করো হে, আয়ুষ্কাল বিরহের।
৭. সখি কহে মোরে, প্রেম কেনো দুঃসময়
রাখি বুকে সর্ব, শুধু হারানোর ভয়।
৮. মন লহো কৃষ্ণ নাম, করো গুন-গান।
ভণ্ড মানুষ, হৃদয়ে বাংলাদেশ, সখি কহে, অনন্য নজরুল, প্রেম কেনো দুঃখময়, রাখি বুকে সর্ব, সখি কহে মোরে, প্রেমাশে, এরাই ধর্ষক, সাঁইয়ের ঘরে, সখিতে কালা, আমার হৃদয় গলে, বঙ্গবন্ধু, লজ্জাহীন পুলিশ, জননী, দূরে যদি থাকিবে ও এখন সময় কবিতাগুলো কবিতাপ্রেমী মানুষদের মনে দাগ না কেটে পারবে না বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। রাজুব ভৌমিকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টির ও বেশি। সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তার প্রকাশিত তিনটি বই পাঠ্যপুস্তক নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। আয়না সনেট তার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সনেটগ্রন্থ। আমরা রাজুব ভৌমিকের এ গ্রন্থটির বহুল প্রচার, প্রসার ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। বইটি আপনার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে।
আফ্রিকায় মদ্যপায়ী সেনা সদস্যের গুলিতে নিহত- ১২
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর সেনাবাহিনীর এক সদস্য মদ্যপ অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হত্যা করেছেন। মাতাল এই সৈন্যের গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির সাউথ কিভু প্রদেশের গভর্নর থিও কাসি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বুরুন্ডি সীমান্ত থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরের সাংগি শহরে সেনাবাহিনীর ওই সদস্য মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। ওই বন্দুকধারীকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি ওই হামলাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করে হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মধ্য আফ্রিকার দারিদ্রপীড়িত এই দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রায়ই সৈন্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন। স্বল্প প্রশিক্ষিত এবং অপেশাদারি আচরণ ও নিপীড়নের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীকে নিয়ে নেতিবাচক নানা ধারণা রয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়নের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কঙ্গোর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধী গোষ্ঠী ও বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহেরও অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ।
আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আজহা অর্থ কোরবানি বা উৎসর্গ করা। করোনা মোকাবিলায় সকলকে সচেতন হতে হবে এবং জীবনযাপনে ও চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজে সুস্থ থাকি, অন্যকেও সুস্থ রাখি- এটাই হোক এবারের ঈদুল আজহার সকলের অঙ্গীকার।’ আবদুল হামিদ বলেন, ‘মহান আল্লাহর নিকট কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধনিয়ত ও উপার্জন থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি সকলেই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়া ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ পশুক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি কার্যক্রম করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে করতে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা রাখি। পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ- মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মহামারি করোনার ছোবলে সারাবিশ্ব বিপর্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষই মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজহা উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয়পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।’ আবদুল হামিদ বলেন, ‘কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।’
আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ
কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ – ১
সংবাদদাতা, কলাপাড়া(পটুয়াখালী): কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় তিন জেলে নিয়ে একটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এঘটনায় অন্য জেলেদের সহায়তায় দুইজেলে উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছে জেলে মহিউদ্দিন হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) শেষ বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পাযরা বন্দর কোষ্টগার্ড নিখোঁজ জেলের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার আসাদুর রহমান জানান, প্যানওয়ার্ল্ড নামের কয়লাবাহী জাহাজটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আনলোড করে ফেরার পথে রাবনাবাদ নদীর পশরবুনিয়া মোহনায় নামবিহীন মাছ ধরা ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা জেলে বাচ্চু প্যাদা ও রোমান প্যাদা অন্য জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার হলেও স্রোতের টানে ভেসে যায় মহিউদ্দিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অন্য জেলেদের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কোস্টগার্ড সদস্যরা খবর পেয়ে ফাইবার বোট নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কোষ্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরাও তার সন্ধানে নদীর বিভিন্ন মোহনায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ মহিউদ্দিন টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে। কোষ্টগার্ড সদস্যরা জানান, নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে। কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জাহাজের ধাক্কায় ট্রলার ডুবিতে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে প্রশাসন।
আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন
কক্সবাজার, প্রতিনিধিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক জাতির জনকের স্মরণে বিশেষ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে বেলাভূমিতে বৃক্ষরোপনের মাধ্যেমে জিওসি ১০ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কক্সবাজার এরিয়া মেজর জেনারেল মো: মাঈন উল্লাহ চৌধুরী বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় রামু সেনানিবাসে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনাসদস্যরা কক্সবাজার এর মেরিন ড্রাইভে উপস্থিত ছিলেন। “সবুজ বৃক্ষ নির্মল পরিবেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে কক্সবাজারে অবস্হিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সবুজ শ্যামল সৈকতে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতকে সবুজায়ন করার লক্ষে সমুদ্রতীরে ঝাউবাগান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় সেনাবাহিনী প্রধানের সার্বিক দিক নির্দেশনায় জিওসি ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মেরিন ড্রাইভের দুপাশে এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রামু সেনানিবাস সূত্রে জানা যায় যে,জাতির জনকের জন্মশতার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ও সমুদ্রতীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেনানিবাস সূত্রে আরও জানা যায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুপাশে অধিক পরিমাণে ঝাউগাছ ও অন্যান্য গাছ লাগানোর নির্দেশ প্রদান করেন এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ১০ পদাতিক ডিভিশন , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সমুদ্রতটে ১৫০০০ (পনেরো হাজার) ফলজ, ১৫০০০ (পনেরো হাজার) বনজ, ২০০০০ (বিশ হাজার) ওষধি ও ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) ঝাউগাছ এর চারা রোপণ করা হবে। উদ্বোধনের পর ২৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাস এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং আগস্ট মাসের মধ্যে সকল চারা রোপন সম্পন্ন করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ
দেশে করোনায় মারা গেলেন আরও ২৮ জন, শনাক্ত ২৭৭২
সৈয়দ এনামুল হুদাঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে আরও ২ হাজার ৭৭২ জন শনাক্ত হয়েছে। ফলে এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জনে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৮ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩ হাজার ১১১ জনে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে করোনা ভাইরাস বিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ১৭০টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৬১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৯ জনে। দেশে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ১৭৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৬ জনে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব দুইজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭জন, ষাটোর্ধ্ব ১০ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব ৪জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে দুইজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন, বরিশাল বিভাগে একজন ও রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ
কক্সবাজারে আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ দুর্জয় আওয়ামীলীগ অনলাইন প্লাটফর্ম কর্তৃক কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই ( বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪ টায় আপন টাওয়ার ২য় তলায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরনসভা অনুষ্ঠানে বক্তারা আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন বৃত্তান্ত এবং রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযুদ্বা মোহাঃ কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, নজরল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন ৬০ এর দশকে একজন সফল ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে ৮০’র দশকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। নেতৃত্ব দিয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাঃ হোসাইন বিএ বলেন, মা যেমন তার বাচ্চাকে আগলে রাখেন ঠিক তেমনি নজরুল ইসলাম চৌধুরী তারঁ, কর্মীদের আগলে রেখেছেন, ভালোবাসা দিয়ে সবসময় কর্মীদের বিপদ আপদে এগিয়ে গেছেন। আজকের এ স্মরণসভা অনুষ্ঠানে আমি তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাপস রক্ষিত বলেন, তিনি একজন সফল আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগ দুঃসময়ে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দিয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর বলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগকে তিনি যখন দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন কর্মীদের খবর নিতেন। বিপদে আপদে সুখে দুঃখে সবসময় এগিয়ে আসতেন। বিভিন্ন ছাত্রনেতাদের পড়ালেখার খরচ সহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন। কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ আজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সুসংগঠিত দল হিসেবে রুপান্তরিত হয়েছে। তারঁ আদর্শ লালন করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ আরো এগিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায় আরোহন করবে আজকেরএ স্নরণ সভায় মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ যেন আমার প্রিয় নেতাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুলাই’২০/এসএএইচ
মধুখালীতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিসভা
সংবাদদাতা, মধুখালী(ফরিদপুর): ফরিদপুরের মধুখালীতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী র্ককর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. রেজাউল ইসলাম রেজা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) মোরশেদা আক্তার মিনা, সরকারী আইন উদ্দিন কলেজের প্রভাষক মো.শওকত আহম্মদ, মধুখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো.আমিনুল ইসলাম,উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আতিয়ার রহমান মিয়া,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি মোহাম্মাদ আলী মিয়া,উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মির্জা আলী আহম্মদসহ প্রমুখ। এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুলাই’২০/এসএএইচ

