আজ শনিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2533

আস্তিক্য ও নাস্তিক্যবাদের দর্শন গ্রন্থের প্রসঙ্গ কথা। সৈয়দ রনো

আস্তিক্য ও নাস্তিক্যবাদের দর্শন গ্রন্থের প্রসঙ্গ কথা
সৈয়দ রনো
সারাজীবন মৌলিক লেখনিই ছিলো আমার অন্যতম প্রণিধানযোগ্য কাজ। ভাবকে ভাবনায় রূপান্তর ঘটিয়ে বাস্তবতার ইজেলে পুড়িয়ে ভাইরাসমুক্ত বিষয়ের উপস্থাপন ঘটিয়েছি অনায়াসে। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া, পদ্য, উপন্যাস, রম্যরচনা, ভ্রমন কাহিনী, নাটক লিখেছি নিজস্ব আঙ্গিকে ও নিজস্ব শব্দের বুনটে। যে লেখনি ছিলো আমার নিজস্ব মতা-দর্শন। লেখনির যবনিকায় নিজস্ব চিন্তাচেতনা চাপিয়ে দিয়েছি স্ব-চেতন পাঠক মহলে-কিন্তু এ গ্রন্থ সম্পূর্ন ব্যতিক্রম। নিজস্ব ভাবনার কোন প্রতিফলন না ঘটিয়ে বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে সে প্রসঙ্গে দালিলিক উপস্থাপন ঘটানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। যেহেতু আমার নিজস্ব বক্তব্য গ্রন্থটিতে তেমন একটা প্রতিফলন ঘটছে না, শুধুমাত্র অন্যান্য গ্রন্থের আলোচনা মাত্র, সেহেতু এ গ্রন্থটিকে মৌলিক গ্রন্থ বলতে নারাজ। পৃথিবীতে সাড়ে সাত শত কোটি মানুষের ধর্ম সংখ্যা চার হাজারের উপরে। এতো এতো ধর্মীয় মূল্যবোধ এর কারণ বিশ্লেষনের প্রচেষ্টাধর্মী গ্রন্থ এটি, যেখানে মিথ প্রধান উপজীব্য। এতো ধর্ম থাকার পরেও কেনো মানুষ নাস্তিক্যবাদে ভোগেন- এ বিষয়টিই মূলত গ্রন্থটিতে আলোচ্য বিষয়।
বিজ্ঞানের পরিভাষায় প্রত্যেকটি প্রাণী বা বস্তুর একটি মৌলিকত্ব থাকে, যা থেকে বিচ্যুতি ঘটলে প্রাণী বা বস্তু তার নিজস্ব সত্ত্বা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানের এই থিওরী থেকে বোঝা যায়, মানুষ তার মূলকে আকড়ে না থাকতে পারলে তার ধর্মের পরিবর্তন ঘটে। বিজ্ঞানের ফর্মুলা অনুযায়ি প্রত্যেক বস্তুরই একটি নিজস্ব ধর্ম থাকে, যা অপরিবর্তিত কিন্তু ধর্মের পরিবর্তন ঘটলে অন্য বস্তুর সাথে মিশে বস্তুর নিজস্বতা হারিয়ে ফেলে। এ তত্ত্বের আলোকে মানুষ প্রতিনিয়ত তার মৌলিকত্ব বা নিজস্বতার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। কাজেই অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিয়ে তত্ত্ব-উপাত্তের গবেষণালব্ধ ফসলই হচ্ছে এ গ্রন্থের প্রধান বিষয়বস্তু। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি, অপার বাসনা, অজানা সম্পর্কে জানার ব্যপক কৌতুহল থাকলেও সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে পরিমিত শক্তির কারণেই যতো বিপর্যয়। চাহিদা এবং বাস্তবতার মধ্যে আশাহীন দুরত্ব মানুষকে ভাবনায় নিপতিত করে। জানার অদম্য কৌতুহল খুবলে খুবলে খেলেও মানুষ সুনির্দিষ্ট গন্ডি অতিক্রম করতে পারে না। এটা সৃষ্টির রহস্য আবৃত ঘটনা।
মিমাংসিত একটি বিষয়কে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে বিতর্ক সৃষ্টির করার নাম দর্শন শাস্ত্র নয় বরং প্রশ্ন তৈরী হলে সেই উত্থিত প্রশ্নকে সমাধানের রাস্তা তৈরি করার নাম দর্শন। এ যুক্তিতে আরজ আলী মাতুব্বর এর রচনা সমগ্র আমার দৃষ্টিতে কোন নতুন মত বা পথের দিক নির্দেশনা দেয়নি যে বিষয় সম্পর্কে এ গ্রন্থে মোটা দাগে আলোচনা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, আরজ আলী মাতুব্বর এর রচনা সমগ্র কোনো দর্শন নয়। মানুষের জীবন ধারণের কোন বিধি-বিধান তিনি উত্থাপিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং ধর্ম-দর্শন-বিজ্ঞান সম্পর্কে তার অন্তরআত্মার জানার তীব্র বাসনার প্রতিফলন ঘটেছে সমগ্র গ্রন্থে।
পাশাপাশি, আরিফ আজাদ এর ‘‘আরজ আলী সমিপে’’ গ্রন্থটি আরজ আলীর উত্থাপিত প্রশ্ন সমূহ খন্ডন করার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক দালিলিক উপস্থাপন ঘটাতে সক্ষম হলেও আমার কাছে মনে হয়- মৃত ব্যক্তির কাছে জানার কৌশল অবলম্বনের প্রক্রিয়াও শতভাগ প্রণিধানযোগ্য নয়। মরহুম আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের ‘‘সত্যের সন্ধ্যান’’ গ্রন্থের যুক্তিসম্মত তাত্তি¡ক বিশ্লেষণ হলেও আর একটু অভিনব কৌশল অবলম্বন হলে আমাদের অন্তর- আত্মার খোরাক জুটতো নিঃসন্দেহে। যাক, কোন প্রচেষ্টাকে অবজ্ঞা করার মতো যথেষ্ট সামর্থ আমার আছে বলে মনে করি না। এ গ্রন্থে আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবের মতো পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম কিংবা ইসলাম ধর্মকে প্রশ্নবানে জর্জরিত,, করার মতো ইচ্ছা বা মনোবাসনা কোনটাই আমার নেই। পাশাপাশি, আরিফ আজাদ সাহেবের খেয়াল- ইসলাম ধর্মকে সঠিক উপস্থাপন করার জন্য আটঘাট বেঁধে নামার মধ্যেও সার্থকতা দেখছি না।,, কারন ইসলাম ঐতিহাসিক ভাবে পরিক্ষিত একটি শান্তির পথ। আমি,,এ গ্রন্থ লেখার ক্ষেত্রে শুধু বিভিন্ন বেফারেন্স বা উদ্ধৃতি ব্যবহার করবো, এতে সচেতন পাঠক তার নিজের মতো করে বুঝে নিবেন।
কুর’আন, পুরান, ত্রিপিটক, গীতা, ইঞ্জিল, যাবুর, তাওরাত, আরজ আলী সমীপে, আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র-১,২,৩ উল্লেখিত শাস্ত্রসমূহ পাঠান্তে অত্র গ্রন্থ রচনার প্রেরণা পেলাম।
কোন ধর্মকে ছোট বা বড় করবার অভিলাসে এ রচনার কাজে মনোনিবেশ করিনি। আস্তিক্য ও নাস্তিক্যবাদের মতাদর্শে কোন পক্ষ অবলম্বনও এ গ্রন্থের দর্শন নয়। কাউকে ব্যথিত করার জন্য কিংবা কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করাও আমার মানষিকতার মধ্যে পড়ে না। মূলত আমার জানা বিষয়টি অন্যের সাথে শেয়ার করতেই হাতে কলম তুলে নিলাম। এ গ্রন্থে হয়তো বা পাঠকের মনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করতে পারবে না কিন্তু যেহেতু ঈশ্বর ও নিরশ্বরবাদ সম্পর্কে কিছুটা পঠন পাঠন করেছি সেহেতু কিছু লেখা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রশ্ন জাগতে পারে, কেনো এ গ্রন্থটি পাঠকের মনে তেমন একটা রেখাপাত করবে না? উত্তরে বলবো, বিষয়টি অতিব প্রাচীন, এ বিষয় নিয়ে শতশত হাজার হাজার পণ্ডিতজনেরা ইতিমধ্যে লিখেছেন, তাই আমার এ লেখা তেমন একটা নতুন কিছু নয়। ধর্ম নিয়ে যুক্তিতর্ক, বিভিন্ন প্রশ্ন আজ নতুন করে উত্থাপিত হচ্ছে তাও নয়, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবার যেমন সুযোগ রয়েছে তদ্রুপ যৌক্তিকভাবে সমাধানের রাস্তাও কিন্তু দার্শনিক মতোবাদের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
সবকিছুই মূলত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির সাথে, মানুষের বাস্তব সম্মত সীমাবদ্ধতার বিস্তর,, ফারাগই হচ্ছে ভ্রান্ত মতাদর্শের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
অনেকেই মনে করতে পারেন এ গ্রন্থ আস্তিক ও নাস্তিকদের মধ্যে মতোপার্থক্য বাড়াবে, আমি বলবো হয়তো না বরং কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
নাস্তিকতার দর্শন এবং বিজ্ঞান মনষ্ক ভাবনাকে গুলিয়ে ফেলার যে মতাদর্শ এটা কতোটুকু যৌক্তিক সে সম্পর্কে তাত্তি¡ক বিশ্লেষন করবার অনন্ত চেষ্টার ফসল এ গ্রন্থ। পৃথিবী মহাশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা দ্বারা পৃথিবী পরিচালিত হয়, সৃষ্টিকর্তা দ্বারা পৃর্থিবী পরিচালিত হয়,,এই তিনটি বিষয় হচ্ছে বিভ্রান্তির কিংবা বিভাজনের মূল উৎস, যা সম্পর্কে যৌক্তিক একটি ধারণার মধ্যে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বিভ্রান্তি, বিভাজন সৃষ্টি করা কোন সফল কাজ নয়, বরং সত্য, সুন্দর সর্বজন স্বীকৃত একটি পথের আবিষ্কার করাই গবেষকের কাজ। বিভাজনের প্রশ্নবাদক চিহ্ন পাশ কাটিয়ে যাওয়া মূর্খতা বা অজ্ঞতা। সকল প্রশ্নের দালিলিক ইতিহাস সমৃদ্ধ উত্তর দেয়াটাই দার্শনিক মতোবাদ। দর্শন শাস্ত্র একপেশি মনোভাবাপন্ন কোন বিষয় নয়। দর্শন শাস্ত্র হচ্ছে অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপস্থাপন।
সকল মতাদর্শের মানুষের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা রেখেই এ গ্রন্থের প্রতিটি বাক্য গঠন করা হয়েছে। কারো না কারো নিকট গ্রন্থের নিরপেক্ষতার মান ক্ষুন্ন হবে কারণ এ মতোপার্থক্য কিন্তু আজকের নতুন নয়, সবার কাছে একটি মতাদর্শ বা ধর্ম যদি গ্রহনযোগ্যই হতো তাহলে এতো এতো ধর্মের উদ্ভব হতো না। কার্যত যা বলতে চাই, সে বিষয়ের সার্বিক গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে ভেবে চিন্তে বলাই শ্রেয়। আমি নিজেই সব বুঝি, এ পৃথিবীর আর কোনো মানুষ আমার মতো বুঝে না, এমন ভাবনাতেই হচ্ছে মূল সমস্যা।
সমস্যা যদি চিহ্নিত করা যায় তাহলে সমাধানের রাস্তা বের করা তুলনামূলক সহজ। ধর্মীয় মতোপার্থক্যের মূল সমস্যা চিহ্নিত করে বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের বর্ণনা মতে তা সমাধানের চেষ্টা করলে মতোভেদ অনেকাংশে কমে আসবে, এরপর নাস্তিকতা এবং আস্তিকতা সম্পর্কে বিশ্লেষন করে সমাধানের যৌক্তিক রাস্তা বের করা। ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। ১.আসমানী ধর্মগ্রন্থ অনুসারি ২. মানব রচিত ধর্মগ্রন্থ ৩. অলিখিত ধর্মীয় অনুশাষনে বিশ্বাসী। প্রচলিত প্রথা, উৎসব পালন বা বংশ পরম্পরায় পালনীয় ঐতিহ্যে বিশ্বাস স্থাপনকারী। আল্লাহ, খোদা, ভগবান, সৃষ্টিকর্তা বা স্রষ্টা, গড ঈশ্বর কিংবা অদৃশ্য বা দৃশ্যমান কোন মূর্তি, শক্তি, বস্তু, আগুন, পানি, মাটি, পাহাড়-পর্বত, দেব-দেবী ইত্যাদির প্রতি অন্ধবিশ্বাস স্থাপনকারীগণ আস্তিক। সৃষ্টিকর্তা বা মহান কোনো শক্তির অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা না করে অবজ্ঞা পোষনকারীরাই হচ্ছেন নাস্তিক। অন্যভাবে বললে বলা যায়, পরকাল সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন করে পাপ পুন্যের বিচারের ভয়ে কোন শক্তির কাছে নতো হওয়াই হচ্ছে আস্তিক্যবাদ। নাস্তিক্যবাদ হচ্ছে, মানুষের মৃত্যুরপর অন্য কোন জীবন নেই, মহাশক্তির কোন অস্তিত্ব নেই, পৃথিবী প্রাকৃতিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে এরূপ মতাদর্শন পোষনকারী। তবে একথা কিন্তু সত্য যে, সকল ধর্মই কিন্তু সত্য ও সুন্দরের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে। সকল ধর্মই মিথ্যাচার পরিহারের কথা বলে। অধিকাংশ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ। তবে নাস্তিকতাও কিন্তু অমানবিকতার চর্চা করে না। ধর্মীয় অনুশাষন মানুষকে লোভ লালসা হতে পরিত্রাণের রাস্তা দেখায়। নাস্তিক্যবাদ বলে মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ। মানুষই মহান।,, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।
গুরুত্বসহকারে আলোচনা প্রয়োজন হলো, সংখ্যা বিচারে অধিক জনগোষ্ঠীর পালনীয় বড় বড় ধর্ম ব্যাতিরেকে ছোট ছোট নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি দ্বারা পালনীয় ধর্মের সত্য, সুন্দর, ন্যায়নিষ্ঠা এবং মানবিক দিকগুলো নিয়ে বিশ্লেষন ধর্মী মূল্যায়ন করন, নাস্তিক্যবাদ অমানবিকতার পক্ষে নয়, সত্য সুন্দর এবং ন্যায়পরায়ণতার কথা বলে।
মানুষকে প্রথমত হিংস্রতার পথ পরিহার করে সভ্যতার দিকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে হতে হবে মানবিক, ন্যায়পরায়ণ, সত্য সুন্দর সভ্যতার উৎকৃষ্ট উদাহরন। ধর্ম, কর্ম কিংবা অধর্মের নাশে হিংস্রতার পথ পরিহার করার মূলমন্ত্রে এ গ্রন্থ রচনার চেষ্টা করবো। মানুষের কাম, ক্রোধ, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ইত্যাদি পরিহারের চর্চা প্রকৃত মানুষ হবার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ভূমিকা আর নাতিদীর্ঘ করা অচিবেচ্য হবে। পক্ষপাতিত্বের ে উর্ধ্বে উঠে লেখনিকে কতোটুকু সার্বজনীন করা যায় সেরূপ অলিখিত একটি চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রতিনিয়ত নিজের সাথেই নিজের,, মনোযুদ্ধে লিপ্ত হলাম। গ্রন্থের সঠিক মূল্যায়নের ভার সুচিন্তিত পাঠকের উপর ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর উচ্চমার্গীয়,, শব্দ আমার জানা নেই। সকলের তাত্ত্বিক পরামর্শ আগামি দিনে,, গ্রন্থের সাফল্যের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হবে।,, সুচিন্তিত মতামত হোক চলার ও বলার পাথেয়।
আলোকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ

খোজা পুরুষ। ড. সৈয়দ রনো

খোজা পুরুষ
ড.সৈয়দ রনো
নামি-দামী একটি ঔষুধ কোম্পানীতে চাকরি করে সালমান। চলতি মাসে তার টার্গেট ফিলাপ হয়নি। আর মাত্র পাঁচদিন বাকি, টার্গেট ফিলাপ করতে না পারলে এ মাসের বেতন বন্ধ। বাড়ি ভাড়া, দোকান বাকি, নতুন মাসের বাজার সদাই, হাত খরচ ইত্যাদি কীভাবে চলবে এরূপ নানা দুঃশ্চিন্তা তাকে পেয়ে বসেছে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার সাহেবেরা বদলি হওযায় এ মাসে বিপত্তি ঘটেছে।
এসেছে নতুন ডাক্তার, যারা ভিজিটরদের পাত্তাই দিতে চায় না। বলে রাখা ভালো, মার্কেটিং এ যারা কাজ করে তারা স্মার্ট, সুশ্রী, হ্যান্ডসাম এবং বাকপটু হয়ে থাকে। সকলগুণাবলীর একচুলও ঘাটতি নেই সালমানের বেলায়। বেশ কয়েকদিন চেষ্টার পর সোজা ঢুকে পড়ে ডাক্তার ডায়নার কক্ষে। তারুণ্যে উদীপ্ত নারী। দেহের গড়ন হালকা-পাতলা। ছিমছাম বডি। নাকটা কামরাঙ্গার সীরের মতো তীক্ষ্ম। উজ্জ্বল ফর্সা। মাথার চুল তো নয় যেনো একরাশ ঘন কালো মেঘ। সারাশরীরে একটুও মেদ নেই। এক কথায় অপরূপ রূপের বাহার। ডাক্তার টেবিলে ঝুকে মনোযোগ সহকারে কী যেনো লিখছেন। সালমান বুঝে উঠতে পারছে না, দাড়িয়ে থাকবে নাকি বসে পড়বে। ডাক্তারও দেখে না দেখার ভান করে বসে আছেন। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর সামনের চেয়ারে বসে সালমান। এতক্ষণে ডাক্তার খানিকটা নড়ে চড়ে বসে, দরাজ কন্ঠে বললেন- অনুমতি ছাড়াই রুমের ভেতর ঢুকে আয়েস করে বসে পড়লেন? আপনার পরিচয়?
-জ্বি ম্যাডাম আমি একটি ঔষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভ।
-হুম, আপনাদের অত্যাচারে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিতে হবে। রোগীর লাগবে এক কোম্পানীর ঔষুধ আর আপনাদের তদবীরে লিখতে হবে আপনাদের কোম্পানীর ঔষুধ। আপনারা কী জানেন না, সবমানুষের পাকস্থলীতে সব ঔষুধ কাজ করে না। এই সহজ বিষয়টি আপনারা কেন বুঝতে পারেন না? আমরা ইচ্ছা করলেই পেশাদারিত্বের খাতিরে সব রোগীর জন্য সব কোম্পানীর ঔষুধ লিখতে পারি না। সব কোম্পানীর একই ঔষুধ সব রোগীর পাকস্থলিতে এ্যাডজাস্ট করতে পারে না।
একদমে হীত উপদেশ দিলেন ডাক্তার ডায়না। কিছুটা ঝাঁঝালো কন্ঠ ছিলো তার বক্তব্যের মধ্যে।
-এবার আপনি আসতে পারেন বলে ডায়না চেয়ার থেকে উঠে দাড়ায়। মাথা নিচু করে সালমানও দাড়ায়। মাঘি-পূর্ণিমার মতো কালো হয়ে যায় তার মুখমন্ডল। অনেক আশা নিয়ে ঢুকেছিলো সে। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কিছু একটা বলতে গিয়ে আবার থেমে যায় । মুখের আকৃতি পুরো বদলে গেছে তার । মুখ যে মনের কথা বলে, তা এই মুহূর্তের সালমানকে দেখেই বুঝা যায়। কাজের চিন্তা মাথায় এসে ভর করেছে তার। কীভাবে এখন কি করবে তাও বুঝে উঠতে পারছে না। কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ায়। দরজার লক ধরে টান দেয়ার শক্তিও যেনো হারিয়ে ফেলেছে সে। থর থর করে হাত দুটো কাঁপছে অবিরাম। ডাক্তার ডায়না সবকিছু দেখে এবং বোঝার চেষ্টা করে। তার মনের জমিনে করুনার উদ্রেগ হয়। হঠাৎ ডাক্তারের চোখ পড়ে সালমানের কপালের উপর।
মৃদু কন্ঠে ডাক্তার ডাকেন- শুনুন। সালমান পিছু ফিরে তাকায়।
বসুন বলতেই তন্দ্রাচ্ছন্ন রোবটের মতো এসে পুনরায় চেয়ারে বসে সালমান।
-বলেন তো আপনার সম্যাসা কী? কোম্পানীর ঔষুধ বিক্রি না হলে কোম্পানীর সমস্যা, তাতে আপনার কী? আপনার ডাক্তার ভিজিট করা প্রয়োজন করছেন।
এতোক্ষণে চোখে মুখে কৃত্রিম হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে সালমান বলে-
ম্যাডাম কোম্পানী আমাদের মাসে একটি টার্গেট দেয়, যা ফিলাপ করতে না পারলে সেলারি নিয়ে সমস্যা হয়। এ মাসে আমার টার্গেট ফিলাপ হয়নি, তাই এতো দুশ্চিন্তা। হয়তো এ মাসের বেতনটা পাবো না। ঘরভাড়া, দোকান বাকি,পকেট খরচ ইত্যাদি ইত্যাদি বলতেই মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ডাক্তার বললেনÑ বুঝেছি, বাসায় কে কে আছে আপনার?
– কেউ নেই ম্যাডাম। আমি একা।
– আপনার স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা এরা কী গ্রামের বাড়ি থাকেন?
– না। ম্যাডাম। আমি বিয়ে করিনি আর বাবা-মাও এ পৃথিবীতে নেই।
– একা মানুষ, তার আবার এতো চিন্তা? বয়স তো কম হয়নি বিয়ে করেননি কেন ?
কোন উওর দেয়না সালমান। শুধু মাথা নিচু করে বসে থাকে।
ডাক্তার বলেন- ঠিক আছে, আপনাদের কোম্পানীর একটি ঔষুধের প্রসপ্রেক্টাস দিন আর ভিজিটিং কার্ডটি রেখে যান। আপনার মাসিক টার্গেট ফিলাপ হতে কতো বাকি?
– বিশ হাজার টাকা।
-বাহিরে দাড়ান, রোগিদের প্রেসক্রিপশনের ফটো কপি নিয়ে যাবেন। প্রতিদিন আসবেন, আমি ফ্রি থাকলে রুমে ঢুকে দেখা করে যাবেন। ওকে?
-ওকে বলে মনের খুশিতে বাইরে বেরিয়ে আসে সালমান। আনন্দে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের তালুতে ঘষা মারে। ফুরফুরা মেজাজ নিয়ে ক্যান্টিনে যায়। রুটি আর ডালভাজি সাথে এককাপ চা পান করে দ্রুত বেরিয়ে আসে। ডায়না ম্যাডামের রুমের সামনে দাড়াতেই একজন মধ্যবয়সী রোগী বেরিয়ে আসে। হাতে প্রেসক্রিপশন, প্রেসক্রিপশনটা হাত থেকে ছো মেরে নিতেই দেখে সেখানে তাদের কোম্পানির তিনটা ঔষুধ লিখেছে। পকেটে থাকা এনডোয়েট ফোন দিয়ে ছবি তোলে। দাড়িয়ে থাকতে থাকতে এভাবে বেশকয়েকটি প্রেসক্রিপশনে সালমানদের কোম্পানীর ঔষুধ লিখেছে ডাঃ ডায়না। একের পর এক সবগুলোর ছবি তোলে সে। একদিনেই তার টার্গেট ফিলাপ। বাহিরে দাড়িয়ে সালমান ভাবে এখনো এই নশ্বর পৃথিবীতে ভালো মানুষ আছে? এখনো মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। এখনো বেঁচে থাকার আশা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। ম্যাডামের সাথে আর একবার দেখা করার জন্য ভেতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে। পরক্ষণেই মনকে বোঝায়; না, এটা ঠিক হবে না, এরা ব্যস্ত মানুষ, খেয়ালি মানুষ, বড় মানুষ, কাজেই হীতে বিপরীত হতে পারে।
ভানুদেবীর ঘুম ভাঙ্গার আগেই ঘুম ভাঙ্গলো সালমানের। ইতোপূর্বে এ রকম ঘটনা তেমন একটা ঘটেনি। ক্ষিপ্ততার সাথে ফ্রেস হয়ে সকালের নাস্তা সেরে ব্রিফকেস হাতে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। রাস্তা ধরে আনমনে হাটছে। মানিব্যাগের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। রিক্সা ডেকে ওঠার ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখে। পাবলিক গাড়িতে ওঠা সালমানের একেবারেই অপছন্দ। অফিস টাইমে ঠেলাঠেলি গুতোগুতিতে মোটেই অভ্যস্ত নয় সে। বেশকিছু সময় হাঁটার পর সে হাসপাতালের গেটে এসে উপস্থিত। ব্রিফকেস হতে পারফিউমটা ঘর্মাক্ত শরীরে মাখিয়ে নেয়। ডাক্তার এখনো আসেনি। অগত্যা অপেক্ষমান আসনে বসে প্রতীক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই সালমানের। বেশিক্ষণ অপেক্ষার বিড়ম্বনা পোহাতে হলো না। ডাক্তার ম্যাডাম এসে উপস্থিত। রুমে ঢুকছেন। সালমানও দাড়িয়ে গেলো সিট থেকে। ডাক্তার ঘাড়টা হালকা ঘুড়িয়ে হয়তো আড় চোখে একবার দেখে নিলেন সালমানকে। তর তর করে ভেতরে ঢুকে গেলেন। রোগীর লম্বা লাইন। সালমানের মনে হলো বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই রোগী। এমনি মনে হয় হাসপাতালে গেলে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে মনে হয় সবাই শ্রেণি বৈষম্যহীনভাবে পড়ালেখার জন্য শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছে। আদালত পাড়ায় গেলে মনে হবে সবাই মামলার আসামি।
একজনের পর একজন রোগী বেরুচ্ছেন, প্রত্যেকটি প্রেসক্রিপশনেই সালমানদের কোম্পানীর কম বেশি ঔষুধ লেখা আছে। ছবি তুলতে তুলতে ক্লান্ত সে। ডাক্তার ম্যাডামের প্রতি কৃতজ্ঞতার মাত্রা ক্রমাম্বয়ে বেড়েই চলেছে। রোগীর ভীড় একটু কমতেই সালমান সিরিয়ালম্যানের নিকট তার ভিজিটিং কার্ডটি দিয়ে অধির আগ্রহে দাঁড়িয়ে থাকলো। এই বুঝি ম্যাডাম ডেকে নিয়ে দু’একটি আদর্শিক কথা শুনাবেন। না, সময় গড়িয়ে যাচ্ছে ভেতর থেকে কোন ডাক এলো না। পুনরায় আর একটি কার্ড সিরিয়ালম্যানকে দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝিয়ে বললেন- আমি একটু ডাক্তার ম্যাডামের সাথে দেখা করতে চাই। সিরিয়ালম্যান কক্ষের ভেতর থেকে ফেরত এসে বললো- আজ কারো সাথে দেখা হবে না। আপনাকে সে চিনতে পারছে না, পারলে 4R সাইজের একটি রঙ্গিন ছবি আমার কাছে রেখে যেতে বলেছেন। কী আর করা, উঠিতো পরি পরিতো উঠি করে সালমান দৌড়ে বাহিরে এসে 4R সাইজের একটি রঙ্গিন ছবি তুলে এনে লাইনম্যানের হাতে দিয়ে আবার অপেক্ষা করতে লাগলো। যথারীতি লাইনম্যান বাইরে এসে বললো- আপনাকে চিনতে পারছে না, অতত্রব; দেখা হবে না।
সালমান পুরোপুরি হোঁচট খেলো। সে সুস্থ্য আছে কী না। ডান হাত দিয়ে বাম হাতে চিমটি কাটে। হ্যাঁ, ব্যাথা অনুভব হচ্ছে অতত্রব সে সুস্থ্য। কৌতুহলবশত সদ্য বেরিয়ে আসা রোগীর হাতের প্রেসক্রিপশন দেখলো, হ্যাঁ সেখানেও তাদের কোম্পানির ঔষুধ লেখা আছে।
ততক্ষণে বেলা ৪ টার ঘর ছুই ছুই। গতানুগতিকভাবে দুটো রুটি, ডালভাজি আর চা। মনটা একেবারেই বিষিয়ে উঠলো সালমানের। কোথাও কিছু না কিছু তো একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছেই, ঘাপলাটা কোথায়? ম্যাডাম সকালে যখন রুমে ঢুকে ছিলেন, তখনতো তাকে হাস্যজ্জ্বল এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ট সুন্দরী বলেই মনে হচ্ছিলো। কোন ধরণের দুশ্চিন্তা, রোগ, শোক কোনকিছুই তাকে স্পর্শ করতে পেরেছে বলেতো মনে হচ্ছে না, তা হলে সমস্যাটা কোথায়? আপন মনে ভাবতে ভাবতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সারারাত ঘুমাতে পারেনি সালমান। চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে কেটেছে রাত। রাতভর মাথার মধ্যে ঘুরেছে ডাক্তার ম্যাডাম এমন করলো কেন?
পরের দিন যথারীতি হাজির হলো চেম্বারের সামনে। ঢুকতে দেখলো ম্যাডামকে। হয়তো ম্যাডাম ও সালমানকে দেখেছে চুপিচুপি। সালমানের অন্যমন বলছে হয়তো নাও দেখতে পারে। পূর্বের মতো আবার ভিজিটিং কার্ড নিয়ে হাজির। সিরিয়ালম্যান ভেতর থেকে এসে রাগত কন্ঠে বললো- ডাক্তার ম্যাডাম আপনাকে চেনেন না। আর আপনাকে কার্ড পাঠাতেও নিষেধ করেছে। এরপর যদি দেখা করতে একান্ত ইচ্ছা হয় তাহলে আগামীকাল আপনার বড় একটি ছবি ফ্রেমে বাঁধিয়ে আমার নিকট দিয়ে যেতে বলেছে। আপনাকে নাকি সে চিনতে পারছে না। তার ইদানিং সময়ে চোখের একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার হোঁচট খেল সালমান। বেশ কয়েকজন রোগীর হাতের প্রেসক্রিপশনের লেখা তাদের কোম্পানীর ঔষুধের নাম। ঔষুধ লেখার কথা ঠিকই মনে রেখেছে কিন্তু আমাকে চিনতে পারছে না বিষয়টি রহস্যজনক। জল্পনা কল্পনা করতে করতে বড় একটি ছবি তুলে রাত ৮টার মধ্যে বাঁধাই করে ফেললো সালমান। নিজের ছবির দিকে তাকিয়ে একবুক দীর্ঘশ্বাস ফেললো। শান্তনায় বুক বাঁধলো এই ভেবে, বড় লোকদের বিরাট কারবার। তাদের মতিগতি বোঝা দায়।
পরের দিন ছবি নিয়ে হাজির। যথা সময়ে ছবি পিয়নের মাধ্যমে ভেতরে পাঠিয়ে দিলো। কলিং বেল বাজিয়ে সিরিয়ালম্যানকে ভেতরে ডেকে নিলো। খানিকটা আশায় বুক বাঁধলো সালমান। এই বুঝি তাকে ভেতরে ডেকে নিবে ডাক্তার ম্যাডাম, কারণ আজকে প্রত্যেকটি রোগীকে তাদের কোম্পানীর ঔষুধের প্রেসক্রাইভড করেছেন। বলা বাহুল্য সালমান প্রেসক্রাইভড করা সবগুলো কপি মেইল করে হেড অফিসে পাঠিয়ে দেয়। এরপর অপেক্ষার পালা। না, ভালো কোন খবর নিয়ে হাজির হলো না সিরিয়ালম্যান এবং দারোয়ান। চুপিসারে পিয়ন আর সিরিয়ালম্যান সালমানকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললো- আপনিতো নামি-দামী ঔষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। দেখতে শুনতে চেহারাও মাশাআল্লাহ্ নায়কের মতো, অনারগল ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন অর্থাৎ, শিক্ষিত মানুষ। আপনাকে ম্যাডাম তার রুমের সামনে কোনদিন আসতে বারণ করেছে। আমাদের বলেছেন, প্রয়োজনে অপমান করে অপনাকে বের করে দিতে। সে কোন কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভকে একদম সহ্য করতে পারেন না।
সালমান বললো- ঠিক আছে ভাই আমি বুঝেছি, আপনাদের আর বিরক্ত করবো না।
পকেটে টাকা নেই বললেই চলে। টাকার অভাবে দুপুরে দুটো রুটি আর চা কপালে জুটলো না। হঠাৎ মনে পড়লো আজ সেলারি দেয়ার ডেট। উর্ধ্বশ্বাসে হেড অফিসের দিকে ছুটলো। হেড অফিসে পৌঁছা মাত্র বেতনের খামটি হাতে ধরিয়ে সেলারী সিটে স্বাক্ষর নিলেন। সাথে ধরিয়ে দিলেন একটি চিঠি। চিঠি না খুলেই ব্রিফকেচে রেখে দিলো সালমান। শুধুই সেলারির টাকাটা গুনে নিচে নেমে এলো। প্রচন্ড খিদে পেয়েছে। খিদের জ্বালায় পেটের নাড়ি-ভূড়ি পচে যাবার উপক্রম। হোটেলে বসে খাবার অর্ডার দেয়। খাবার সামনে আসলে গো-গ্রাসে গিলতে থাকে সালমান ।
রাতে বাসায় ফিরে পোষাক না খুলেই ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ করে থাকে। না কোন অবস্থাতেই শরীরের ক্লান্তি কমছে না। অনেক সময় পর বিছানায় উঠে বসে। পরনের কাপড় বদলিয়ে ওয়াস রুমে ঢুকে পরে। অনেক সময় ধরে গোসল করে রাতের পোষাক পরে ব্রিফকেস খুলে হেড অফিসের চিঠি মেলে ধরে চোখের সামনে। অবাক হয় সালমান। এও কি সত্য, ভুল দেখছে না তো সালমান। তার প্রমোশন হয়েছে। মার্কেটিং অফিসার পদ থেকে প্রমোশন পেয়ে অনেক গুলো ধাপ ডিঙ্গিয়ে সালমান হয়েছে মার্কেটিং ইনচার্জ। চিঠিটি দু’তিন বার উলট-পালট করে পড়ে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। বেতন বেড়ে এক লাফে দিগুন হয়েছে।
এতো বড় কোম্পানী। হাজার হাজার লোক এখানে কর্মরত। সবাইকে ডিঙ্গিয়ে এতবড় প্রমোশন ভাবতেই পারছে না সালমান। অতি খুশিতে চোখের জল ঝড়তে থাকে অবিরাম। এমুহুর্তে এ বিষয়ে কারো সাথে কোন শেয়ার করবে এমন কেউ নেই এই ত্রিভ‚বনে। বুক ফেটে প্রবাহমান নদীর মতো বইতে থাকে আর্তনাদের উত্তাল ঢেউ। কাল হতে আর কোনো ডাক্তারের দরজায় গিয়ে ধন্না ধরতে হবে না। আর হয়তো গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চাইবে না। এরকম নানাবিদ চিন্তার সাগরে ভাসতে ভাসতে কখন যেনো ঘুমিয়ে পরে সালমান।
আজ ঘুম ভাঙ্গতে খানিকটা বিলম্ব হয়েছে সালমানের। দরপড় করে বিছানায় উঠে বসে ঘড়ির দিকে তাকায়। অনেক বেলা হয়ে গেছে। আজকে হাতে অনেক কাজ। তড়িঘড়ি করে রেড়ি হয় সে। এরপর ল্যাপটপে বসে কোম্পানী বরাবর একটি আবেদন লেখে। পেনড্রাইভে আবেদনটি ভরে সোজা নিলক্ষেতে গিয়ে দু’কপি প্রিন্ট করিয়ে নেয়। সাথে যুক্ত করে প্রমোশনের কপি। তারপর রিক্সায় উঠে চলে যায় মার্কেটে, সেখান থেকে জীবনের প্রথম অনেকগুলো গিফ্ট কেনে। এরপর এসে হাজির হয় ডাক্তার ম্যাডামের কক্ষের সামনে। ডাক্তার দেখাবার জন্য একটি টিকেট কিনে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। আধঘন্টার মধ্যেই সালমান ডঃ ডায়নার কক্ষে রোগী হিসেবে প্রবেশ করে। এক হাতে টিকেট অন্য হাতে ব্রিফকেস এবং অনেক গুলো গিফ্টের বক্স। অন্যান্য রোগীরা যেমন বিনা অনুমতিতেই সামনের চেয়ারে বসে ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটালো সালমান। মাথা নিচু করে কাচু মাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। ডাক্তার ম্যাডাম নিজের টেবিলের দিকে ঝুকে একান্ত মনোযোগ সহকারে কী যেনো লিখছেন। এক ফাঁকে জিজ্ঞেস করলেন- আপনার সিরিয়াল নাম্বার কতো? প্রতি উত্তরে ক্ষীণকণ্ঠে সালমান বললো-৪৫৫।
-ও আচ্ছা বসুন।
ধীরে ধীরে সালমান বিনীতভাবে বসলো। ডাক্তার মাথা না তুলেই বললেন- পূর্বে কাউকে দেখিয়েছিলেন কী-না? সে কাগজপত্রগুলো দিন। সালমান প্রমোশন লেটার আর কম্পোজ করা কোম্পানী বরাবর আবেদন, সিরিয়ালের টিকেট কাঁপা কাঁপা হাতে ডাক্তারের সামনে ঠেলে দিলেন। ডাক্তার সালমানের আবেদন, প্রমোশন লেটার খুটিয়ে খুটিয়ে পড়লেন। মুখ তুলে তাকিয়ে এরপর জিজ্ঞেস করলেন- আপনার হাতের ঐ গিফ্টগুলো কার জন্য কিনেছেন? তাকে দিয়ে আসলেই পারতেন। সালমান বিড় বিড় করে বললো- দেবার জন্যই তো এনেছি। এতো নিচু স্বরের কথা যে, ডাক্তার শুনতে পাবেন সালমান ভাবেনি। ঝাঁঝালো কণ্ঠে ডাক্তার বললো- এটা চেম্বার, দিতে চাইলে, দেন। বলা মাত্র সকল গিফ্ট সালমান টেবিলের উপর নামিয়ে রাখলো। ডাক্তার পুনরায় বললো- আবেদন পত্র এবং প্রমোশনের অর্জিনাল কপি দিন। বিলম্ব না করে তাও হাতে তুলে দিলো। এরপর ডাক্তার বললো- আমার মাথার উপর দিয়ে পিছন দিকের ওয়ালে তাকান। ডাক্তারের মাথার উপর সালমানের ছবি ঝুলছে। বিস্ময়ভাবে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো সালমান। তারপর বললো- আমার টেবিলের দিকে তাকান। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো সালমান।
এরপর ডাক্তার বললেন- ছবির হাট চিনেন।
কোন বাক্য বিনিময় না করে সালমমান বললো- চিনি।
সন্ধ্যা সাত টায় ওখানে আপনার সাথে আমার দেখা হবে ওকে? তার আগে কোনকিছু করা চলবে না। আপনার সাথে অনেক কথা আছে আমার। ওকে?
-ওকে বলে উঠে দাড়ালো সালামন।
ততক্ষণে বাংলার আকাশের সূর্যটা গিলে খেয়েছে গোধুলীর মিসকালো অন্ধকার। কৃতিমত্তার সোডিয়াম বাতির হলুদ বর্ণের আলো আধারিতে ছেয়ে গেছে চারপাশ। কাটায় কাটায় সন্ধ্যা সাতটা। সাদা বর্ণের একটি প্রাইভেট কার এসে থামলো ছবির হাটে। গাড়ির দরজা খুলে নামলো ডাঃ ডায়না। এদিক সেদিক হাটা-হাটি করছে সে। না, কোথাও সালমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আধঘন্টা পার হয়ে যায় সালমানের খবর নেই। ভাবতে ভাবতে শরীর দিয়ে দর দর করে ঘাম বেরুচ্ছে। হাটতে হাটতে ডায়না একটু সামনের দিকে এগুতেই অন্ধকারের মধ্যে কেউ একজন বসে আছে বলে মনে হলো। ডায়না উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করলো- কে ওখানে?
ক্ষীণকণ্ঠে উত্তর এলো- আমি সালমান।
-তুমি ওখানে কি করছো?
-না মানে তেমন কিছু না। এমনেই বসে আছি
-কখন এসেছো?
-ছয়টা ত্রিশ মিনিটে।
-এদিকে আসো।
সালমান ধীরে ধীরে আলোর দিকে আসে। চেহারায় বিমর্ষতার ছাপ।
-কি হয়েছে সালমান।
-না, তেমন কিছু হয়নি ম্যাডাম। ভালো লাগছিলো না, তাই বসেছিলাম। আপনি যে সত্যি সত্যি আসবেন, আমি ভাবতে পারিনি। আমার অবাক লাগছে আপনি এসেছেন? সবই বড় মানুষদের মেজাজ মর্জি।
-আমি আসবো না যদি ভেবে থাক, তাহলে তুমি কেন এসেছো?
-বাইচাঞ্চ যদি আপনি আসেন, আর আমি যদি না আসি তাহলে আপনার অসম্মান হবে।
-হুম, বুঝেছি। আচ্ছা সত্যি করে বলোতো, কোম্পানিতে তোমার প্রমোশন হবার পরেও তুমি কেন চাকরিটা ছেড়ে দিতে চাচ্ছ?
-আমি নিজেকে এ পদের যোগ্য বলে মনে করি না। আমার মনে হয়েছে এটা আমার কর্মফল নয়, এটা অনুগ্রহ।
-বুঝলাম। তোমার কপালের বাম অংশে যে কাটা দাগ জ্বল জ্বল করে জ্বলছে ওটা কীভাবে কাটলো?
-ম্যাডাম আপনি আমার শ্রদ্ধার পাত্র। অনেক অনেক সম্মান করি আপনাকে। আপনি অনেক ভালো মানুষ। অল্পতে মানুষকে আপন করে নেন। আপনার এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। আমাকে মাফ করবেন, বলে সালমান ডুকরে কেঁদে ফেললো।
-শোনো সালমান, পুরুষ মানুষদের এভাবে কাঁদতে নেই। আমি তোমার কাঁন্না দেখতে এখানে আসিনি। আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এখানে এসেছি। এখানে বসো বলে হ্যাচকা টানে সালমানকে পাশে বসালেন ডাঃ ডায়না। এবার বলো- তোমার কপাল কীভাবে কেটেছে?
-ম্যাডাম, সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। আপনার মতো মানুষের ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে যাবে তবু এ করুন কাহিনী শেষ হবে না। রাত শেষ হয়ে যাবে তবু আমার ইতিবৃত্ত শেষ হবার নয়।
-যতো সময় লাগে লাগুক। তুমি সমস্ত ঘটনা আমার কাছে খুলে বলো। রাতভর আমি তোমার কাহিনী শুনতে চাই।
-সত্যি বলছেন?
-হ্যাঁ, বলো সালমান।
-আমাদের গ্রামের বাড়ি টাংগাইল জেলার নাগরপুরে। জন্মের আগেই আমার বাবা মারা জান। আমাদের একই গ্রামে অনেক ধর্ণাঢ্য একটি পরিবার ছিলো। তাকে গ্রামের সবাই সম্মান করতেন। তার নাম ছিলো সৈয়দ আহমদ আলী। তার এক ছেলে এক মেয়ে ছিলো। আমার মা সেই বাড়িতে ঝি এর কাজ করে আমাকে লেখা পড়া শিখাতেন। আমি এসএসসিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করি। এরপর অর্থকষ্টে গ্রামের কলেজেই ভর্তি হই। হঠাৎ একদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে ডালিয়া নামে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন মেয়ের সাথে দেখা হয়। আমি নিজের অজান্তেই মেয়েটিকে প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলি। আমার ক্লাশমেট হাবিবা তখন প্রেম করে সোহেল নামের এক ছেলের সাথে। ওরা দু’জনই আমার ভালো বন্ধু ছিলো। ওদের নিকট সব খুলে বলি। আমি ছোট বেলা থেকেই খুব বেশি আবেগপ্রবন ছিলাম। আমার কী থেকে যে কী হয়ে গেল। ঐ মেয়েকে অর্থাৎ, ডালিয়াকে আর কোনদিন দেখতে পাইনি। নিরুপায় হয়ে হাবিবার স্বরণাপন্ন হই। হাবিবাদের বাড়ির পাশেই মেয়েটির বাড়ি বলে আমাকে জানায়। আমি তখন ভয়ে ভয়ে চিঠি লিখে হাবিবার হাতে দেই। ডালিয়া চিঠি লিখে আমার এক কপি ছবি দেখতে চায়। আমি পুনরায় ছবিসহ চিঠি পাঠাই। এভাবে চিঠির মাধ্যমে আমাদের প্রেম গভীর হতে থাকে। এক পর্যায়ে জানতে পারি ডালিয়া সৈয়দ বাড়ির মেয়ে। যে বাড়িতে আমার মা ঝি এর কাজ করে। তখন আমি অনুশোচনার আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকি। নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করি। হঠাৎ একদিন হাবিবার মাধ্যমে ডালিয়ার চিঠি পেলাম। সে সাফ সাফ জানিয়ে দেয়, আমাকে না পেলে সে জীবনে বিয়ে করবে না। আমি যদি চিঠির উত্তর না দেই তাহলে আত্মহত্যা করবে। ইতোমধ্যে সৈয়দ সাহেব আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আমি ভয়ে ভয়ে ডালিয়ার চিঠির উত্তর দেই। ডালিয়াদের পরিবার ছিলো অত্যন্ত রক্ষণশীল, পর্দানিশীন এবং আমাদের এলাকার মধ্যে ভিষন প্রতাপ ও প্রভাবশালী। সৈয়দ সাহেবের আদেশে শত শত লোক উঠতো আর বসতো। ডালিয়া চিঠিটি পড়ে টেবিলে রেখে ওয়াশ রুমে ঢুকতেই তার বাবা কী কারণে যেনো তার রুমে ঢুকেছে। টেবিলের উপর রাখা চিঠি পড়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গেছেন। এরপর রাতের আধারে আমাকে ঘর থেকে বের করে নির্জন জায়গায় নিয়ে বেদম প্রহার করে। মাথা এবং কপাল ফেটে যায়। আরো অনেক ধরনের অমানবিক নির্যাতন করে। আমার মৃত্যু নিশ্চিত করে তার বাহিনীর লোকজন চলে যায়। পরের দিন সকালে রাস্তার পাশে মৃত প্রায় অবস্থায় দেখে সহপাঠিরা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার মা পরের দিন যথারীতি কাজে গেলে তাকেও অমানবিক নির্যাতন করা হয়। মা সমস্ত ঘটনা শুনে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আমি একটু সুস্থ্য হলে হাবিবা জানায় বোরকা পড়ে ডালিয়া এসে আমাকে এক নজর দেখে সমস্ত ঘটনা জেনে গেছে। আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসি। ততোদিনে অবশ্য বিএ পাশ করেছিলাম। ঢাকায় এসে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে এম.এ পাশ করি। এরপর ঢুকে পরি এই চাকরিতে। কোন দিকে খেয়াল না করে সালমানের করুণ কাহিনী শুনে ডাক্তার অঝোর ধারায় কাঁদছে। এতোক্ষণ সেদিকে খেয়াল করেনি সালমান। সালমান ডাক্তারকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে অবাক হয়ে যায়।
-আপনি কাঁদছেন কেন?
শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে নিজের অজান্তেই সালমানের হাত ধরে ডায়না।
-চলো
-কোথায়?
-আমার বাসায়।
-এতো রাতে যাব না। প্রয়োজনে কাল আসবো ম্যাডাম।
-আমি কোন কথা শুনতে চাই না।
-তুমি যাবে কী-না আমি জানতে চাই। না হলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করে মানুষ জড়ো করবো।
-এতো রাতে আপনার বাসায় গিয়ে কী হবে ম্যাডাম? আপনার অমঙ্গল হবে।
-আমি তোমাকে বিয়ে করবো। বাসায় কাজী অপেক্ষা করছে।
বিয়ের কথা শুনে ভেতরে ভেতরে আতকে ওঠে সালমান।
-না ম্যাডাম না, এটা হতে পারে না, এ হবার নয়। আমার মতো পোড়া কপালের সাথে যুক্ত হয়ে আপনি আপনার জীবন নষ্ট করতে পারেন না। আমাকে মেরে ফেললেও আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না।
-শোন সালমান আমাকে আর ম্যাডাম বলো না। আমি তোমার সেই ডালিয়া।
অনেকক্ষণ বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে পলকহীন নেত্রে তাকিয়ে থাকে সালমান। নিজের বুকের ভেতরের দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রেখে বলেÑ আপনি ডালিয়া হন আর যেই হন আমি আপনাকে বিয়ে করবো না।
-আমি জানি কেন তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছ না। সেটা আমার মুখ দিয়ে প্রকাশ করে তোমাকে ছোট করতে চাই না। তুমি আমার যৌবিক চাহিদা মেটাতে পারবে না, এই তো তোমার সমস্যা? এটার জন্যও আমিই দায়ী ।
-তাই বলে আপনি আপনার সুখের জীবন নষ্ট করতে পারেন না।
-সুখ? কীসের সুখ? আমার সুখ তো কেড়ে নিয়েছে আমার পরিবার। তোমার পুরুষত্বকে নষ্ট করে দিয়েছে আমার পরম শ্রদ্বেয় পিতা। আমি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।
-তাই বলে আপনি একজন খোজা পুরুষকে জীবন সঙ্গী করবেন? এটা হতে পারে না। কশ্নিন কালেও না।
-শোনো, সালমান মানুষের শরীরিক চাহিদা আছে মানছি কিন্তু সেটা মনের উপর ডিপেন্ট করে। মনের চাহিদার উপর আর কোন চাহিদা নেই।
-তাই বলে…
-কোন কথা আমি শুনতে চাই না। আমার মন পাগলের মতো এতোদিন তোমাকে খুঁজেছে। আজ পেয়ে হাতছারা হতে দিবো না। এভাবে ওদের দু’জনের যুক্তিতর্কে আশেপাশের বাতাস ভাড়ি হতে থাকে। প্রকৃতির বৈরি বাতাসে ভেসে একে অপরের তপ্তআত্মা একাকার হতে থাকে। দুরে অনেক দুরে মসজিদ থেকে ভেসে আসে …. আস্সালাতু খইরুম মিনার নাওম………..। ততক্ষণেও দু’জন দু’জনার পাশাপাশি হাত ধরে বসা। হো হো করে হেসে উঠে সালমান, সে হাসির সাথে মিশ্রিত হয় কান্নার রোল।
আলোকিত প্রতিদিন/২ আগস্ট’২০/এসএএইচ

রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেট :  পলিনড্রম অথবা সনেটের নতুন দিগন্ত

মৃধা আলাউদ্দিন

কবিতা নদীর মতো নিত্য তার বাঁক বদলায়। গতি নেয় দিক থেকে দিগন্তে। সাগর পাড়ি দিয়ে চলে যায় মহাসাগরে। আকাশের ওপারে, আকাশে। অথবা কবিতা ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায়। বিমূর্ত জীবন বীক্ষণের দশদিকে যাত্রা করে কবিতা। যাত্রাই পৃথিবীর সব আলোর মধ্যে একটা ষড়ৈশ্বর্য-সুন্দর আলো। এই আলোই অবশেষে একটা করণকৌশল ও স্বতন্ত্র ডিকশনে কবিকে কবিতা নির্মাণে সহায়তা করে। নীড়ে ফেরা পাখির মতো ব্যাকুল হয়ে ওঠেন কবি। কবিতা বা কবিতার রূপ নির্মাণে তার ভেতরে একটা প্রচণ্ড অস্থিরতা, ব্যাকুলতা তৈরি করে। বিষয় যেমন রূপকে নির্মাণ করে তেমনি রূপকেও নিয়ন্ত্রণ করতে কবিকে সাহায্য করে। আর তখনই কবিতা সাধারণ থেকে জৈব-অজৈব সত্ত¡ার দার্শনিকতার দিকে, সবুজ আলোর দিকে, সুন্দরের যাত্রা করে। কবিতা বহু বিষয়ের পরিধিকে স্পর্শ করে বিষয়ীগত আনন্দকে রূপ-লাবণ্যের মধ্য দিয়ে নতুন চিন্তা-চেতনাকে উসকে দেয়। কবিতা পরিপাশির্^কতাকে, পরিবেশ-পরিস্থিতিকে সঙ্গে নিয়ে যুক্ত হয় এক বিরাট-বিশাল আশা-আকাক্সক্ষার তাজমহলে। সুন্দর-সাবলীল স্বপ্নের শহরে। অবশ্য খুব কম কবিই তার কবিতায় নতুন স্বপ্ন নির্মাণে পারঙ্গমতা দেখাতে পারেন। বর্তমানে ছন্দ-গন্ধ না জানা, শুধু গদ্যে লেখা অধিকাংশ কবিতা নিছক কতোগুলো শব্দের তাল-গোল মাখানো মাংসের পিণ্ড, যেখানে বহুস্বরের সম্মিলন বা কাব্য-সৌন্দর্য নেই। শুধু সংকীর্ণ এক মনোবৃত্তিসহ কবিতার নগ্ন রূপ নির্মাণ ছাড়া আমরা সেখানে আর তেমন কিছুই পাই না। জীবনযাত্রার, চিন্তা, অভ্যাস ও রুচির ক্ষেত্রে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করছি প্রবাসী কবি রাজুব ভৌমিকের ‘আয়না সনেট’-এর এই চতুর্দশপদী কবিতাগুলোর মধ্যে। তার স্বাভাবিক কবিতাগুলোও দেখা (পৃথিবীর একাংশ দেখে ফেলেছেন এই কবি) ও সময়ের বিবর্তনে অতীতের মতো সীমাবদ্ধ বা সীমিত নয়। প্রেমিক-প্রেমিকার পারস্পরিক কামনা-বাসনাতে সীমিত নয় রাজুব ভৌমিকের কবিতা। তার কবিতা পাঠকের সামনে সত্যকে অনুসন্ধানের এবং উপলব্ধির অবিরাম ভালোবাসা। রাজুবের কবিতা নতুন মানুষের জীবনে নতুন চাহিদা তৈরি এবং পরিপূর্ণ হবার বারবার তাগিদ দেয়। কবিতার এই দুর্ভিক্ষের সময় রাজুব ভৌমিক তার আয়না সনেট নিয়ে আমাদের চেতনায় ভিন্নস্বরের গান শোনালেন বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। রাজুব আমাদের দিলেন নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ভিন্ন স্বাদ, যুদ্ধের দামামা-

পেতে শুধু অবহেলা জন্মায় গরিব,

ক্ষেতে করে শ্রম বন্ধ্য, ফসলে মুনিব;

নিষ্ফল কপাল তার, শোষিত জীবন,

বলহীন বুকে সর্ব, লাথিতে মরণ।

ক্লেশ দুঃখ নিয়ে, অতিবাহিত সংসার,

বেশ হলো ভাবে, ধনাঢ্য যে পরিবার;

করুণ কাহিনি তার, ভূতেও না শুনে,

তরুণ আত্মা ঝরে, রাখে না কেউ মনে।

মহাকাব্য হয়নি কভু, কথা নিঃস্বরে,

অদ্রাব্য তাহার গল্প, করুণা ভবের;

ডরে নাহি চলে, ভবে দিন গরিবের,

মরে সে অযথা, নিয়ে বোঝা সংসারের।

গরিবের জন্ম ভবে, জন্য ভুলিবার;

পাপের কুদৃষ্টি যে, সারা জনম তার।

– গরিবের জন্ম

রাজুব ভৌমিক কবিতার এই পারঙ্গমতার দুয়ারে, নিত্য-নতুনের আখড়ায় ব্যথার পিরামিডসহ কাহারবা তালে কড়া নাড়ছেন। সমাজ-বাস্তবতা, শিল্পের সুন্দর-ষড়ৈশ্বর্য বয়ান ছাড়া তার কবিতায় সংকীর্ণ ও বোধহীনতা, সমাজের উদাসীনতা, প্রাপ্তির লোলুপতা, মেরুদণ্ডহীনতা, দালালি মনোবৃত্তির তেমন কিছুই নেই। রাজুব ভৌমিকের কবিতা প্রেম-ভালোবাসা, সমাজ বিপ্লবের, বিদ্রোহের, মনো-বিকাশের, রাষ্ট্র পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে আমাদের চাহিদাকে শিল্পের নান্দনিক মোড়কে উপস্থাপন করেছে। রাজুব আমাদের দিচ্ছেন পলিনড্রম কবিতার ঘ্রাণ, রমাকান্তকামার- বাংলা কবিতায় এ সত্যিই বিরল। সঙ্গত কারণেই রাজুব ভৌমিকের কবিতা ভাষাহীন অবস্থান থেকে ভাষাসূত্রশিল্পকে অবলম্বন করে নতুন দিগন্তে উপনীত হয়েছে। তাই তার কবিতা যেমন তার নিজের সৃষ্টি তেমনই পাঠকেরও। কারণ পাঠোদ্ধারের মধ্য দিয়ে পাঠক কবিতাকে নতুন করে, নতুন ভাবে রচনা করেন-

সামনে সে বলে মধুতুল্য মিষ্ট কথা

পিছনে ঘটায় বিঘ্ন, বলিয়া অযথা

সারাদিনে বসিয়া ইন্দ্রিয় সুখাসনে

আশ্বিনে দেয় পুজা, শারদা উপাসনে।

দুঃসাধ্যকরণ বলিয়া জগতে নাই

সান্ধ্য হইলে করে কুকর্মের লড়াই

যত সহজে জ্ঞাত হয় পাখির গতি

তত কঠিন মনুর, ব্যগ্র অনুভূতি।

সৎসঙ্গ বিমুখতা ঈর্ষায় কাটে দিন

অঙ্গ জ্বলে পর সুখে কাঁদে সে কঠিন

মিথ্যাই শক্তি তার, শিশুর শক্তি কান্না।

– মানুষ

কবি রাজুব ভৌমিকের কবিতায় আছে বহুমাত্রিকতা। এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে তিনি লেখেননি। বহু দেশ ভ্রমণ করা এই কবি-পুরুষটি যখন যেখানে যা দেখেছেন, যা তার মনকে কষ্ট বা ভালোবাসার আগুনে পুড়িয়েছে- তিনি তাই নিয়েই লিখেছেন। বিদেশে থাকলেও তার মন সব সময় পড়ে রয়েছে আমাদের এই বাংলায়। তার নিজের জন্মভূমিতে। বাংলাদেশে। জন্মভূমির মায়া তিনি কখনো ত্যাগ করতে পারেননি। বাংলার আকাশ বাতাস, তেপান্তর, নীল জোছনা, কাশবন, ধানক্ষেত, রৌদ্র-মেঘের লুকোচুরি, মুক্তিযুদ্ধ, অসহায় সমাজের কথা, ধনী-গরিবের কথা- দেশের মানুষের সফলতা-অসফলতার কথা তার আয়না সনেটে উঠে এসেছে নিপুণতা এবং বেশ মুন্সীয়ানার সাথে-

নয়নের অশ্রু ঝরে, ভাবিলে আশায়,

বিরহের জলে ভেসে বুঝি প্রাণ যায়;

সখির লাগিয়া নয়ন, স্বপ্নতে ভাসে,

শিশির কাঁদে নীরবে, কত বিলাসে।

আশাতে জীবন বাঁচে, মৃত্যু সখি বিনে,

তোমাতে স্বয়ং সমর্পিত, প্রেম গো মনে;

যত শিশুর আশা, হবে অনেক বড়,

তত মোর প্রাণ, চাহিবে প্রেম খগড়।

– নয়নের আশা

রুপালি মাছেরা, আনন্দে মাতায় নদী

অলি গানে গানে, নাচে দ্রৌপদী;

সবুজ-শ্যামল স্বিগ্ধতা, রূপসী বাংলা,

অবুজ মনখানি, নাহি বুঝে গো জ্বালা

যতদিন না দেশে ফিরে আসিব শেষে

কঠিন মৃত্যু, বঙ্গ চিন্তায় পরিশেষে।

-হৃদয়ে বাংলাদেশ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষা ও সাহিত্যের প্রথম সার্থক সনেট রচয়িতা। বাংলায় তিনিই প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। চতুর্দশপদী কবিতা লিখতে গিয়ে মধুসূদন কবি ইতালীয় কবি পেত্রার্ক, মিল্টন, শেকসপিয়র ও ফরাসি কবিতার কাব্যরীতি অনুসরণ করেছিলেন। স্যার ফিলিপ সিডনি, এডমন্ড স্পেন্সার, মাইকেল ড্রাইটনসহ আরো অনেকেই সরেটকে ভেঙেচুরে নতুন ধারায় এনে দিয়েছিলেন। সনেট বা এই চতুর্দশপদী কবিতার বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন আছে। কালে কালে কবিরা এ নিয়মের ব্যত্যয়ও ঘটিয়েছেন। সচেতনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই তারা কাব্য প্রয়াসের এ বিধিবদ্ধতা ভেঙে চুরমার করেছেন। বাংলা সনেটেও ছন্দ-গন্ধ ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এনেছেন কেউ কেউ। অনেকেই পঙ্ক্তি বিন্যাসে এনেছেন নতুনত্ব। মধুসূদনের সেই চতুর্দশপদী কবিতা পরিবর্তিত হয়ে নানাভাবে উপস্থাপিত হয়েছে পাঠকের কাছে। উপস্থাপনের এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেই আমাদের ধারণা। আমাদের আজকের আলোচিত কবি রাজুব ভৌমিকও বাংলা সনেটে বেশকিছু বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘বাংলা-সাহিত্য ভাণ্ডারে নতুন কিছু জমা দিব বলে আমার এই ছোট্ট সৃষ্টি- আয়না সনেট। আয়না সনেট লেখার পূর্বে আমি বিশ্ব সাহিত্যের বিভিন্ন ধরনের সনেট নিয়ে প্রচুর গবেষণা করার চেষ্টা করেছি। আমার গবষেণার উদ্দশ্যে ছিল একটাই- বিশ্বের সব ধরনের সনেট সম্বন্ধে জানা এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করা। ইতালীয় ভাষায় পের্ত্রাকের হাতেই সনেট কবিতা পূর্ণতা লাভ করার পর শেকসপিয়রীয় রীতির সনেট বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত- বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারে প্রথম তার রচিত ‘কবি-মাতৃভাষা’ এর মাধ্যমে সনেট জমা দেন এবং বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রচলন তিনিই শুরু করনে। তারপর আবুল হোসেন, ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদের সনেট আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। আমি তাদের কবিতা পড়ে মোহাবিষ্ট হই। সুকান্ত ভট্টাচার্য, যতীন্দ্রমোহন বাগচীর লেখায়ও আমাকে বেশ আকর্ষণ করে। আমার আয়না সনেটগুলো ঠিক আয়নার মতো- দুই দিক থেকেই পড়া যাবে। আমার আয়না সনেটগুলো সাধারণত পর্ব বিন্যাস-রীতি মেনে চলে না।

নিচের লাইন দুটো একটু পড়ার চেষ্টা করুন।

পেতে শুধু অবহেলা জন্মায় গরিব;

২+২+৪+৩+৩=১৪

ক্ষেতে করে শ্রম বন্ধ্য, ফসলে মুনিব।

২+২+২+২+৩+৩=১৪

শেষ দিক থেকে পড়লে হবে-

গরিব জন্মায়, অবহলো শুধু পেতে;

৩+৩+৪+২+২= ১৪

মুনিব ফসলে, বন্ধ্য শ্রম করে ক্ষেতে।

৩+৩+২+২+২+২= ১৪

ঠিক আয়নার মতো।

আয়না সনেট- যে সনেটগুলো দুই দিক থেকেই পড়া যাবে। এই কবিতাগুলোর অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে- প্রত্যেক কবিতার ভেতরে আরেকটি কবিতা আছে। এই কবিতাগুলো দুই দিক থেকেই চৌদ্দ অক্ষরের, চৌদ্দ লাইন বিশিষ্ট- ক ক খ খ, গ গ ঘ ঘ, ঙ ঙ চ চ এবং ছ ছ অন্তমিল নিয়ে সাজানো। আয়না সনেটগুলো কোনো মাত্রা (৮, ৬) নিয়ম মানে না। আয়না সনেটগুলো আবার নিচের লাইন থেকে উপরের লাইন পর্যন্ত পড়া যাবে। আয়না সনেট লেখার পদ্ধতি একটু ভিন্ন ধরনের। সম্ভবত আয়না সনেটগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ধরনের সনেট। এই ধরনের সনেট পূর্বে কখনো লেখা হয়নি। আয়না সনেটের সাথে পলিনড্রম কবিতার সামান্য মিল আছে। পূর্বে পলিনড্রম বা চধষরহফৎড়সব পদ্ধতিতে সাধারণ কবিতা লেখা হয়েছে। কিন্তু কখনো সনেট লেখা হয়নি। ঐবহৎু চবধপযধস র্সবপ্রথম ১৬৩৮ সালে পলিনড্রম পদ্ধতিতে লেখা তার বই ঞযব ঞৎঁঃয ড়ভ ঙঁৎ ঞরসবং প্রকাশ করছেনে। চীনের বিখ্যাত কবি ঝঁ ঐঁর সবচেয়ে জটিল একটি পলিনড্রম কবিতা লিখেছেন- তিনি একটিই পলিনড্রম কবিতা লিখেছেন কিন্তু এ পর্যন্ত, মনে হয় আমি ছাড়া আর কেউ পলিনড্রম সনেট লেখেনি। আশা করি আপনাদের এই কবিতাগুলো ভালো লাগবে।’

পৃথিবীতে নতুনকে মেনে নেয়ার প্রবণতা আমাদের খুব কমই আছে। মানসুর হেল্লাজের সময়ের মানুষরা তাকে মেনে না নিয়ে শূলে চড়িয়েছিলেন। ইংরেজরা সাদা চামড়ার ‘কুইন’-কে মেনে নেয়নি। কেননা, কোনো এক বলিষ্ঠ সুন্দর যুবা নিগ্রোর পৌরুষে তার জন্ম হয়েছিল। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইরেজিতে কবিতা লিখত বলে তাকে অনেক নিন্দা সইতে হয়েছে। সোনালি কাবিনসহ কবি আল মাহমুদের সাহিত্যসম্ভারকে কোনো কোনো অতি পণ্ডিত বলে বেড়ায়, তার সাহিত্য থেকে ‘সেক্স’ ফেলে দিলে সেখানে আর কোনো কবিতাই থাকবে না। আরে কমবোধ আর অর্বাচিন তোর এতো ক্ষমতা থাকলে সোনালি কাবিনের সনেটের মতো একটা সনেট লিখে দেখা। তোর যদি ‘না’ বলার এতোই বাতিক তো পারলে নজরুলের মতো একটা ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখে দেখা। পৃথিবীতে না বলার হিরিক এতো বেশি, যা লিখে শেষ করা যাবে না। জে কে ব্রাউনিংয়ের বিখ্যাত হ্যারিপটার সিরিজও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশের স্কুলগুলোতে নিষিদ্ধ হয়েছিল। কেনো জানি না, আমার বোধে আসে না, ওই যুক্তরাষ্ট্রসহ তার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নিষিদ্ধ হয়েছিল ‘আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি’। এই বই পড়ে শিশু-কিশোর, মানুষরা অবাধ্যতা আর দুষ্টুমি ছাড়া কিছুই শিখতে পারবে না- এই কথা বলে নিষিদ্ধ হয়েছিল বিখ্যাত কথাশিল্পী মার্ক টোয়েনের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব টম সসার’। অনেকটা আমাদের দেশের সেই প্রবাদের মতো- ভাত দেয়ার মরদ নাই, কিল মারা গোসাই। আমরা হচ্ছি সেই লোক। যাক, কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। রাজুব ভৌমিককে আমি শুধু সাদুবাদই না, যাক সে কথা, আমরা রীতিমতো স্যালুট জানাই তার আয়না সনেটের রাজুব ভৌমিককে তার এই ভিন্নতার জন্য। ভিন্নস্বরেভেজা কাব্যের জন্য। তবে রাজুব ভৌমিকের এই আয়না সনেটে যদি জোড়ে জোড়, বেজোড়ে গাঁথো বেজোড় নিয়মটুকু মানা হতো (আমার কোনো সনেটই মাত্রার নিয়ম মানে না। অর্থাৎ আমার সব সনেটগুলো মাত্রাহীন- রাজুব ভৌমিক) তাহলে আয়না সনেটগ্রন্থটি সোনায় সোহাগা হতো বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আবার এ কথা না বলেও পারছি না, সৈয়দ শামসুল হককে যখন তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘ফির মিলেঙ্গ হাম দোনো’ (প্রথম মুক্তি-১৯৭৮) নিয়ে জানতে চাইলাম, তিনি আমাকে কিছুই বললেন না। বরঞ্চ দ্বিতীয়বার জানতে চাইলে, তিনি ধমকের সুরে বললেন, ‘তুমি এ বিষয়ে আমাকে আর প্রশ্ন করো না।’

আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি কবি রাজুব ভৌমিকের কাছে। তার শেষ প্রেমপত্রের কাছে। প্রেম-ভালোবাসা পবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ। প্রেম হলো একজনের কাছে আরেকজনের ভালোবাসার দৃঢ় অনুভূতির প্রকাশ। যদিও প্রেম-ভালোবাসার অনুভূতিগুলো যৌন আকর্ষণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু কবি রাজুব ভৌমিকের কাছে এই প্রেম হলো- আমৃত্যু ভালোবেসে তোমার স্বর্গের দুয়ার হবো। যেখানে কোনো কাম-ক্রোধ নেই। বরঞ্চ আমার কাছে শেষের দুটো লাইনকে কাপলেটই মনে হয়েছে। তিনি তার শেষ প্রেমপত্রে লিখেছেন-

হয়তো তোমার আর হবে নাহি দেখা

অনন্ত মোর প্রেম, তাই পত্রটি লেখা।

রক্তাক্ত মোর বুক, খুনি তোমার চোখ

অশান্ত জ্বলে হিয়া, তোমার প্রেমের রোখ।

দোষ কী ছিল আমার করিলে তাবিজ

তোষ বিনে ব্যথা নিয়ে দুঃখের প্রাণীজ

চেয়েছি আমি তোরে, ভোর-সন্ধ্যা-বলিতে

কাছি গলায় দিয়ে প্রেম তব সহিতে।

করিলে অবজ্ঞা মোরে দেখিলে না দেখে

জ্বলে কলিজা জ্বলে, পত্র তোমায় লেখে।

মৃত্যু যদি হয় প্রেয়সী তোমার পূর্বে

আমৃত্যু ভালোবেসে হবো দুয়ার স্বর্গে।

-শেষ প্রেমপত্র

কবি রাজুব ভৌমিকের ‘আয়না সনেটে’র আবাসিক সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণ ইব্রাহীম চৌধুরীর কিছু কথা এখানে আমরা তুলে ধরতে চাই। তিনি যথার্থই বলেছেন- ‘কবি রাজুব ভৌমিক শুরুতেই তার চতুর্দশপদী নিয়ে ব্যাখ্যার অবতারণা করেছেন। এ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে কাব্য প্রয়াসের এক বিধিবদ্ধতাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। কবিতাকে তো অনেক সময়ই কোনো সংজ্ঞায় ধারণ করা যায় না, কারণ, ভাব আর হৃদয় কাতরতা সব সংজ্ঞাকে চুরমার করে বেরিয়ে আসে। মধু কবি সনেট লিখেছিলেন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে। এর উত্তরাধিকার হিসেবে কবি রাজুব ভৌমিক ইস্ট রিভার বা হাডসন পারের কোলাহলময় নগরী থেকে তার হৃদয়কাতরতাকে উপস্থাপনা করেছেন আয়না সনেট, চতুর্দশপদী কবিতাবলীতে। কবিতার বিষয়বস্তুতে কবি উপস্থাপনার ভিন্ন কলাকৌশল আরোপ করার প্রয়াস পেয়েছেন। চেষ্টা করেছেন ভাবকে ব্যঙ্ময় করে তুলবার। প্রেম-প্রকৃতি থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়কে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে তার এ গ্রন্থের চতুর্দশপদীগুলো। এইসব নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাপিত জীবনের কাব্যময় উপস্থাপনা কতটা পাওয়া যাবে রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেট, চতুর্দশপদী কবিতাবলী কবিতাগ্রন্থে সে বিচার তার পাঠকরাই করবেন। কারণ কবিতার রস বিতরণের জন্য যেমন কবিকে প্রস্তুতি নিতে হয়, রস আস্বাদনের জন্য কাব্যরসিকের প্রস্তুতিও অনিবার্য হয়ে ওঠে। এমন প্রস্তুত কাব্যবোদ্ধাদের কাছে রাজুব ভৌমিকের চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রশ্রয় পাবে বা আদৃত হবে কিনা তাকে কালের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে আমাদের। রসিক পাঠকের ভরসায় থেকে আমরা কেবল তার জন্য শুভকামনা জানাতে পারি, সেই শুভেচ্ছাই রইল আমাদের পক্ষ থেকে।

কবি ও লেখক, অধ্যাপক ড. রাজুব ভৌমিকের জন্ম নোয়াখালী জেলার শ্রীনদ্দি গ্রামে, জন্মসাল ১৯৮৮। ওটার হাট সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু। যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্নাতক ডিগ্রি, চারটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং দুটি ডক্টরেট ডিগ্রি (একটি পিএইচডি আর একটি  ডক্টরেট অব সাইকোলোজি) সম্পূর্ণ করেন। বর্তমানে তিনি আরো দুইটি ডক্টরেট ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত। গত পাঁচ বছর ধরে জন জে কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তিনি অপরাধবিদ্যা, আইন ও বিচার বিভাগে অধ্যাপনা করছেন এবং হসটস কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তিনি মনস্তাত্তিক বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। অধিকন্তু, গত সাত বছর ধরে পেশায় একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি), কাউন্টার টেরোরিজম অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে সাংবাদিকতার পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাতে সাংবাদিকতা করেন।

রাজুব ভৌমিকের আয়না সনেটের আরো কিছু অসাধারণ পঙ্ক্তিমালা; যা অনেকটা কাপলেটে পরিনথ হয়েছে-

১.            নিপীড়িত নিয়ে সুর বলিষ্ঠ তোমার

জাগ্রত করিলে কত ঘুমন্ত প্রহরী।

২.           মোরা প্রতিবন্ধী ভবে, থেকে সবকিছু

ওরা শুদ্ধ বলে, শান্তি চলে পিছু পিছু।

৩ .করিলে কেনো তাবিজ, প্রাণ মোর যায়

সহিলে শুধু মানুষ, ভারোবাসা পায়।

৪.           টাকার পিছু পিছু দৌড়াই সর্বক্ষণ।

৫.           লেখার ইচ্ছে তোমায় ছিল একরাশ

             সবার না হয় প্রেম, হয় অভিলাষ।

৬.           কেবল দিও সখি মালাখানি প্রেমের

উজ্জ্বল করো হে, আয়ুষ্কাল বিরহের।

৭.           সখি কহে মোরে, প্রেম কেনো দুঃসময়

রাখি বুকে সর্ব, শুধু হারানোর ভয়।

৮.           মন লহো কৃষ্ণ নাম, করো গুন-গান।

ভণ্ড মানুষ, হৃদয়ে বাংলাদেশ, সখি কহে, অনন্য নজরুল, প্রেম কেনো দুঃখময়, রাখি বুকে সর্ব, সখি কহে মোরে, প্রেমাশে, এরাই ধর্ষক, সাঁইয়ের ঘরে, সখিতে কালা, আমার হৃদয় গলে, বঙ্গবন্ধু, লজ্জাহীন পুলিশ, জননী, দূরে যদি থাকিবে ও এখন সময় কবিতাগুলো কবিতাপ্রেমী মানুষদের মনে দাগ না কেটে পারবে না বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। রাজুব ভৌমিকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টির ও বেশি। সিটি ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্কে তার প্রকাশিত তিনটি বই পাঠ্যপুস্তক নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। আয়না সনেট তার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সনেটগ্রন্থ। আমরা রাজুব ভৌমিকের এ গ্রন্থটির বহুল প্রচার, প্রসার ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। বইটি আপনার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে।

আফ্রিকায় মদ্যপায়ী সেনা সদস্যের গুলিতে নিহত- ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর সেনাবাহিনীর এক সদস্য মদ্যপ অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হত্যা করেছেন। মাতাল এই সৈন্যের গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির সাউথ কিভু প্রদেশের গভর্নর থিও কাসি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বুরুন্ডি সীমান্ত থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরের সাংগি শহরে সেনাবাহিনীর ওই সদস্য মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। ওই বন্দুকধারীকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি ওই হামলাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করে হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মধ্য আফ্রিকার দারিদ্রপীড়িত এই দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রায়ই সৈন্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন। স্বল্প প্রশিক্ষিত এবং অপেশাদারি আচরণ ও নিপীড়নের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীকে নিয়ে নেতিবাচক নানা ধারণা রয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়নের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কঙ্গোর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধী গোষ্ঠী ও বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহেরও অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আজহা অর্থ কোরবানি বা উৎসর্গ করা। করোনা মোকাবিলায় সকলকে সচেতন হতে হবে এবং জীবনযাপনে ও চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজে সুস্থ থাকি, অন্যকেও সুস্থ রাখি- এটাই হোক এবারের ঈদুল আজহার সকলের অঙ্গীকার।’ আবদুল হামিদ বলেন, ‘মহান আল্লাহর নিকট কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধনিয়ত ও উপার্জন থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি সকলেই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়া ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ পশুক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি কার্যক্রম করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে করতে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা রাখি। পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ- মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মহামারি করোনার ছোবলে সারাবিশ্ব বিপর্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষই মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজহা উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয়পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।’ আবদুল হামিদ বলেন, ‘কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।’

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ

 

 

 

কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ – ১

সংবাদদাতা, কলাপাড়া(পটুয়াখালী): কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদীতে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় তিন জেলে নিয়ে একটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এঘটনায় অন্য জেলেদের সহায়তায় দুইজেলে উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছে জেলে মহিউদ্দিন হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) শেষ বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পাযরা বন্দর কোষ্টগার্ড নিখোঁজ জেলের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার আসাদুর রহমান জানান, প্যানওয়ার্ল্ড নামের কয়লাবাহী জাহাজটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আনলোড করে ফেরার পথে রাবনাবাদ নদীর পশরবুনিয়া মোহনায় নামবিহীন মাছ ধরা ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা জেলে বাচ্চু প্যাদা ও রোমান প্যাদা অন্য জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার হলেও স্রোতের টানে ভেসে যায় মহিউদ্দিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর অন্য জেলেদের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কোস্টগার্ড সদস্যরা খবর পেয়ে ফাইবার বোট নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কোষ্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরাও তার সন্ধানে নদীর বিভিন্ন মোহনায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ মহিউদ্দিন টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে। কোষ্টগার্ড সদস্যরা জানান, নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে। কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জাহাজের ধাক্কায় ট্রলার ডুবিতে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে প্রশাসন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন 

কক্সবাজার, প্রতিনিধিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক জাতির জনকের স্মরণে বিশেষ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে বেলাভূমিতে বৃক্ষরোপনের মাধ্যেমে জিওসি ১০ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কক্সবাজার এরিয়া মেজর জেনারেল মো: মাঈন উল্লাহ চৌধুরী বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় রামু সেনানিবাসে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনাসদস্যরা কক্সবাজার এর মেরিন ড্রাইভে উপস্থিত ছিলেন। “সবুজ বৃক্ষ নির্মল পরিবেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে কক্সবাজারে অবস্হিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সবুজ শ্যামল সৈকতে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতকে সবুজায়ন করার লক্ষে সমুদ্রতীরে ঝাউবাগান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় সেনাবাহিনী প্রধানের সার্বিক দিক নির্দেশনায় জিওসি ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মেরিন ড্রাইভের দুপাশে এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রামু সেনানিবাস সূত্রে জানা যায় যে,জাতির  জনকের জন্মশতার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ও সমুদ্রতীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেনানিবাস সূত্রে আরও জানা যায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুপাশে অধিক পরিমাণে ঝাউগাছ ও অন্যান্য গাছ লাগানোর নির্দেশ প্রদান করেন এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ১০ পদাতিক ডিভিশন , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সমুদ্রতটে ১৫০০০ (পনেরো হাজার) ফলজ, ১৫০০০ (পনেরো হাজার) বনজ, ২০০০০ (বিশ হাজার) ওষধি ও ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) ঝাউগাছ এর চারা রোপণ করা হবে। উদ্বোধনের পর ২৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাস এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং আগস্ট মাসের মধ্যে সকল চারা রোপন সম্পন্ন করা হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ

 

দেশে করোনায় মারা গেলেন আরও ২৮ জন, শনাক্ত ২৭৭২

সৈয়দ এনামুল হুদাঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে আরও ২ হাজার ৭৭২ জন শনাক্ত হয়েছে। ফলে এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জনে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২৮ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩ হাজার ১১১ জনে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে করোনা ভাইরাস বিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ১৭০টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৬১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৯ জনে। দেশে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ১৭৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৬ জনে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব দুইজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭জন, ষাটোর্ধ্ব ১০ জন এবং সত্তরোর্ধ্ব ৪জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে দুইজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন, বরিশাল বিভাগে একজন ও রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জুলাই’২০/এসএএইচ

 

কক্সবাজারে আ.লীগ নেতা নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ দুর্জয় আওয়ামীলীগ অনলাইন প্লাটফর্ম কর্তৃক কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই ( বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪ টায় আপন টাওয়ার ২য় তলায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরনসভা অনুষ্ঠানে বক্তারা আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন বৃত্তান্ত এবং রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন।  কক্সবাজার জেলা  আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায়  কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযুদ্বা মোহাঃ কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, নজরল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন ৬০ এর দশকে একজন সফল ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে ৮০’র দশকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। নেতৃত্ব দিয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাঃ হোসাইন বিএ বলেন,  মা যেমন তার বাচ্চাকে আগলে  রাখেন ঠিক তেমনি নজরুল ইসলাম চৌধুরী তারঁ, কর্মীদের আগলে রেখেছেন, ভালোবাসা দিয়ে সবসময় কর্মীদের বিপদ আপদে  এগিয়ে গেছেন। আজকের এ স্মরণসভা অনুষ্ঠানে আমি তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাপস রক্ষিত বলেন, তিনি একজন সফল আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন।  আওয়ামী লীগ দুঃসময়ে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দিয়ে  কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের  অনন্য  দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের  সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর বলেন,  কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগকে  তিনি যখন   দীর্ঘদিন নেতৃত্ব  দিয়েছিলেন,  তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন কর্মীদের খবর নিতেন। বিপদে আপদে সুখে দুঃখে সবসময় এগিয়ে আসতেন। বিভিন্ন ছাত্রনেতাদের  পড়ালেখার খরচ সহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন। কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ আজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর  সুসংগঠিত দল হিসেবে রুপান্তরিত হয়েছে। তারঁ আদর্শ লালন করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ আরো এগিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায় আরোহন করবে আজকেরএ স্নরণ সভায় মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ যেন আমার প্রিয় নেতাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। স্মরণসভা অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণে এক মিনিট  নিরবতা পালন করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুলাই’২০/এসএএইচ  

মধুখালীতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিসভা

সংবাদদাতা, মধুখালী(ফরিদপুর): ফরিদপুরের মধুখালীতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী র্ককর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. রেজাউল ইসলাম রেজা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) মোরশেদা আক্তার মিনা, সরকারী আইন উদ্দিন কলেজের প্রভাষক মো.শওকত আহম্মদ, মধুখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো.আমিনুল ইসলাম,উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আতিয়ার রহমান মিয়া,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি মোহাম্মাদ আলী মিয়া,উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মির্জা আলী আহম্মদসহ প্রমুখ। এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুলাই’২০/এসএএইচ