আজ শুক্রবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2529

টাঙ্গাইলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় শামসুল আলম তালুকদার (৭১) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ঢাকা টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  নিহত ব্যক্তি এলেঙ্গা পৌরসভা চেচুয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি কামাল হোসেন বলেন, উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রীজের নিচে পথচারী শামসুল আলম তালুকদারকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘাতক পিকআপকে জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবিষয়ে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধ রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম চালু

সংবাদদাতা,কলাপাড়া(পটুয়াখালী): কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী শুরু করেছে পানি উন্নয়নবোর্ড। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামে পুনঃখনন করা খালের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করা হয়। এ কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক ও শওকত হোসেন মিরাজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া পাউবো’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো.মিজানুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, সার্ভেয়ার রিফাত হোসেন, ইমরান হোসেন ও উচ্চমান সহকারী মোঃ আলামিন প্রমুখ। পাউবো’র ছোট নদী,খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় কলাপাড়ার তিনটি পোল্ডারে প্রায় চার হাজার গাছের চারা রোপন কার্যক্রম শুরু হয। বাঁধ রক্ষায় আগামী ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত এ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী চলবে বলে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক জানান।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

ভূরুঙ্গামারীতে ৬৬টি ঘর পেলো গৃহহীন পরিবার

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৬৬টি গৃহহীন পরিবার নতুন ঘর পেয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর “দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ” করা হয়। যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নেই তাদের জন্য ৮০০ বর্গফুট জায়গায় রান্নাঘর ও টয়লেট সহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেমিপাকা টিনসেড গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি গৃহের জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। প্রকল্পের সুবিধাভোগী জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারী গ্রামের বিপ্লব বলেন আমি একজন প্রতিবন্ধী আমার মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি ঘর আমি পেয়েছি। আমি খুব খুশি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, ঘরের কাজ শেষ, টুকিটাকি রংয়ের ফিনিশিং এর কিছু কাজ বাকী আছে। যা দুই তিন দিনের মধ্যেই শেষ হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরুজুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহতি উদ্যোগে এলাকার ৬৬টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিতে পারায় ভালো লাগছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

সাভারে পানিতে ডুবে নিখোঁজের একদিন পর দুইজনের লাশ উদ্ধার 

প্রতিনিধি, সাভারঃ সাভারে বিলের পানিতে ডুবে নিখোঁজ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এঘটনায় জুয়েল নামের আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মেডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক এএফএম সায়েদ। তাদের সকাল ১০ টার দিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বেড়াইদ দাসপাড়া এলাকার একটি বিলে বিদ্যুতের খুটির সাথে ট্রলারের ধাক্কায় বিদ্যুতের ক্যাবল ছিড়ে পড়ে।এসময় পানিতে লাফিয়ে পড়লে তারা নিখোঁজ হয়। মৃত দুই জনের নামই সুমন, বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২০ বছর। তাদের একজন ইলেকট্রিশিয়ান ও একজ ট্রাক চালক বলে জানা গেছে। আহত যুবকের নাম জুয়েল। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায় নি। পুলিশ জানায়,  ট্রলারে করে পিকনিকের জন্য ওই এলাকায় জায়গা নির্ধারনের জন্য যায় একদল যুবক। বনগাঁও ইউনিয়নের বেড়াইদ দাসপাড়া এলাকায় পৌছলে একটি বিদ্যুতের খুটির সাথে তাদের ট্রলারের ধাক্কা লাগে। এসময় উচ্চ বিদ্যুৎ পরিবাহী তাড় ছিড়ে এক যুবেকর ওর পড়লে ভয়ে ট্রলারে থাকা সবাই পানিতে লাফিয়ে পড়ে। সবাই সাঁতার দিয়ে তীরে উঠতে পারলেও সুমন নামের ওই দুই যুবক নিখোঁজ হয়। আজ সকালে ফায়ার সার্ভিসের একটু ডুবুরি দল তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার প্রিন্স হাওলাদার বলেন, মৃতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিততে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

আজ কবি জাহিদুল হক -এর শুভ জন্মদিন

অন্যধারা সাহিত্য সংসদ -এর প্রতি শুক্রবারের নিয়মিত সাহিত্য আড্ডায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি জাহিদুল হক বলেছিলেন, ‘কারো নামের আগে কবি লিখলে আর কোনো বিশেষণ যুক্ত করা সমিচিন নয়’। বক্তব্যের এই খণ্ডিত অংশ আমাকে মুগ্ধ করেছিলো। আজ প্রিয় কবি জাহিদুল হক -এর শুভ জন্মদিন জেনে আনন্দিত হলাম। অন্যধারা সাহিত্য সংসদ -এর পক্ষ হতে কবিকে জানাই অন্যধারাময় কাব্যিক অভিনন্দন ও বসরাই গোলাপের ঘ্রাণের সুগন্ধিমাখা শুভেচ্ছা।

সৈয়দ রনো, মহাপরিচালক, অন্যধারা সাহিত্য সংসদ।

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প অস্তিত্ব সঙ্কটে, ক্ষয়ক্ষতি আড়াইশত কোটি টাকা

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প করোনা ভাইরাস ও সাম্প্রতিক বন্যায় অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। তাঁত বোর্ডের ক্ষুদ্র ঋণ তাঁতিদের ভাগ্য উন্নয়নে তেমন প্রভাব ফেলছে না। ফলে জীবিকার প্রয়োজনে তাঁতিরা পৈত্রিক পেশা বদলাতে গিয়েও খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ শিল্প রক্ষায় সুদমুক্ত ঋণ ও বাজার সৃষ্টিতে সরকারি ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংশ্লিষ্টরা। জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য জেলার কালিহাতীর বল্লায় (ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলার জন্য) একটি এবং সদর উপজেলার বাজিতপুরে (দেলদুয়ার, বাসাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর, সখীপুর ও সদর উপজেলার জন্য) একটি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের দুইটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে। বাতাঁবো’র বাজিতপুর ও বল্লা এ দুইটি বেসিক সেণ্টারের ৪৯টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি এবং ৪টি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির চার হাজার ৩৯১টি তাঁত ফ্যাক্টরি মালিকের ২৭ হাজার ৯৩১টি তাঁত চালু বা সচল এবং দুই হাজার ৬৭৩টি তাঁত আগে থেকেই বন্ধ বা অচালু রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনায় কল-কারখানা-ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা করায় চালু তাঁত ফ্যাক্টরিগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলার তাঁতশিল্পে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০টাকা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে থাকে। করোনা মহামারির সঙ্গে বন্যার করাল থাবা জেলার তাঁতশিল্পকে অস্তিত্ব সঙ্কটে ফেলেছে। করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ফ্যাক্টরিতে তাঁত মালিকদের বিনিয়োগ বিনষ্ট হচ্ছিল। এর সঙ্গে বন্যার পানি এসে ফ্যাক্টরিতে চালু তাঁত, তাঁতে থাকা সুতার ভিম, কাপড় ও সরঞ্জামাদী প্রায় সবই বিনষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁতশিল্পের ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠেছে। বাতাঁবো’র টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাজিতপুর বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, এ সেণ্টারের ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি ও তিনটি মাধ্যমিক সমিতির দুই হাজার ২৬৭ তাঁত মালিকের মোট ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এরমধ্যে দুই হাজার ৬৭৩টি তাঁত আগে থেকেই বন্ধ বা অচালু এবং ৯ হাজার ৭৫৬টি তাঁত চালু ছিল। মূলত: এ বেসিক সেণ্টারের তাঁতগুলোতে মিহি সুতার ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয়। হিসাব অনুযায়ী করোনা মহামারির কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে বন্ধ রাখা প্রতি তাঁতে ৮০০ টাকা হারে প্রতিদিন গড়ে ৭৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বল্লা(কালিহাতী) বেসিক সেণ্টারের সূত্রমতে, এ সেণ্টারের ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি ও একটি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির অধীনে দুই হাজার ১২৪টি তাঁত ফ্যাক্টরি মালিকের ১৮ হাজার ১৭৫টি তাঁত রয়েছে। এ বেসিক সেণ্টারের তাঁতগুলোতে অপেক্ষাকৃত মোটা সুতার শাড়ি উৎপাদিত হয়ে থাকে। বেসিক সেণ্টারের হিসাব মতে, গত মার্চের ২৬ তারিখ থেকে করোনার কারণে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় প্রতিটি তাঁতে দৈনিক ন্যূনতম ৬০০ টাকা হারে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। দুটি বেসিক সেণ্টারের অধীনে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো সে হিসেবে করোনার কারণে বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা করে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ থেকে ৯ আগস্ট(রোববার) পর্যন্ত করোনায় টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে ২৫৬কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৬০০টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে নয়া দুর্যোগ হিসেবে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁতশিল্পে হানা দিয়েছে। বন্যা তাঁতশিল্পের তাঁত, কাপড়, তানা ও সরঞ্জামাদী সহ সবকিছু ভাসিয়ে দিয়েছে। প্রায় দেড় মাস পানি থাকায় তাঁতশিল্পের কাঁচামাল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের তাঁত মালিক, শ্রমিক, বেসিক সেণ্টারের কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, করোনা মহামারির সাথে বন্যার দুর্যোগ যোগ হয়ে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। শাড়ি ব্যবসার জন্য পয়লা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও দুর্গাপুজা প্রধান মৌসুম। পয়লা বৈশাখে কোনো শাড়ি বিক্রি হয়নি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার জন্য নতুন শাড়ি বানানো হয়নি। উৎসবের জন্য যেসব শাড়ি আগেই তৈরি করে মজুদ করা ছিল সেগুলোও বিক্রি হয়নি। বৈশাখে শাড়ি তৈরিতে ১০৭ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। শাড়ি প্রতি গড়ে ১০০টাকা লাভে বিক্রি হলে ৮ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার মত লাভ হত। ঈদুল ফিতরে সবচেয়ে দামি শাড়ি তৈরি ও বেশি শাড়ি বিক্রি হয়। ঈদুল ফিতরে শাড়ি উৎপাদনে কোন লক্ষ্যমাত্রাই নির্ধারণ করা হয়নি। একই অবস্থা ছিল ঈদুল আযহায়। আগামি দুর্গাপুজায়ও একই অবস্থা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কেউ কেউ পৈত্রিক পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় গিয়েও তেমন সুবিধা করতে না পেরে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাঁতিদের ধারণা, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় লাভ-লোকসান তো পরের হিসাব এ শিল্পের অস্তিত্ব নিয়েই তারা শঙ্কিত। টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইলের শাড়ি প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ী নীল কমল বসাক জানান, করোনা ও বন্যা তাঁত শিল্পের মহ ক্ষতি করেছে। সরকারি প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি তাঁত শাড়ির বাজার তৈরিতেও সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।  টাঙ্গাইল জেলা তাঁতি লীগের সহ-সভাপতি কালাচাদ বসাক জানান, করোনা মহামারি ও বন্যায় ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপাদন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ শিল্প আদৌ থাকবে কি-না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুদমুক্ত ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা না পেলে তাঁতিরা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেনা। টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং এর মালিক রঘুনাথ বসাক জানান, করোনা মহামারি ও বন্যার ভয়াবহ দুর্যোগে জেলার তাঁত শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সুদমুক্ত ঋণ, প্রণোদনার পাশাপাশি সরকারের কাছে পাঁচদফা সুপারিশনামা উপস্থাপন করেন তিনি। সুপারিশগুলো হচ্ছে- শাড়ির নতুন নতুন বাজার তৈরি করা, সুদমুক্ত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, বিদেশ থেকে শাড়ি আমদানী বন্ধ করা, দেশি পণ্য বিশেষ করে সালোয়ার-কামিজের পরিবর্তে শাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করা, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিণ্ট মিডিয়ায় দেশীয় শাড়ি ব্যবহারে জনমত তৈরি করা ইত্যাদি। টাঙ্গাইল সেণ্ট্রাল কো-অপারেটিভ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোফাখখারুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারিরর সাথে বন্যার ভয়াবহতা যোগ হয়ে জেলার তাঁতশিল্পকে অস্তিত্ব সঙ্কটে ফেলেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে জেলার সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ। তাঁত মালিক ও এর সাথে জড়িত প্রায় দেড় লাখ মানুষ কর্মহীন অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যারা এক সময় দান-অনুদান বিতরণ করেছে- তারাও এখন নিজেদের পরিবারের মৌলিক চাহিদা পুরণ করতে পারছেনা। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগে তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্য ঘরে থেকে বিনষ্ট হচ্ছে, কোথাও বিক্রি হচ্ছেনা। সুদমুক্ত ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা ব্যতিত এ সঙ্কট থেকে তাঁতিদের মুক্তির পথ নেই। বাতাঁবো’র বল্লা(কালিহাতী) বেসিক সেণ্টারের লিয়াজোঁ অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরানুল হক জানান, এতদাঞ্চলের তাঁতিরা সাধারণত তুলনামূলক মোটা সুতায় তৈরি শাড়ি উৎপাদন করে থাকে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হয়ে এ শিল্পে মহাদুর্যোগ সৃষ্টি করেছে। ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় একদিকে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিটি তাঁতি পরিবারে অর্থাভাব দেখা দিয়েছে। তারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদের মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছেন। কিন্তু তা এই মুহুর্তে তাঁতিদের উল্লেখযোগ্য উপকারে আসছে না। তিনি তাঁতিদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনে তালিকা পাঠিয়েছেন। টাঙ্গাইল সদরের বাজিতপুর বেসিক সেণ্টারের লিয়াজোঁ অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, তারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদের মাত্র ৫% সার্ভিস চার্জে ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনার বাইরে তাদের কাজ করার সুযোগ নেই। শাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাত করণ কিংবা নতুন বাজার সৃষ্টিতে তাঁতিদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জানান, মূলত: করোনা ও বন্যায় তাঁতশিল্পকে ধসের মুখে ফেলেছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলেও করোনা পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ শিল্প মহাসঙ্কটে পড়বে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

জীবনবোধের নামতা/ সৈয়দ রনো

জীবনবোধের নামতা

সৈয়দ রনো

দুর্বিষহ জীবন যন্ত্রণায় যখন ওষ্ঠাগত প্রাণ ঠিক তখন হাতের নাগালের খড় কুটো ধরে বেঁচে থাকার নিরন্তন প্রচেষ্টা চালায় আসিফ। বাবা মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। মা-বাবার স্নেহের ছায়াতলে তিলে তিলে বেড়ে উঠেছে সে। কিন্তু আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত নাকাল অবস্থা। ভাগ্যকেই বা সম্পূর্ণ দোষ দিয়ে কি হবে! বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক হানা-হানি, কোন্দল কিংবা অসহিষ্ণু‎‎‏‏ পরিবেশ অনেক অংশে দায়ি। গণতান্ত্রীক এই রাষ্ট্রিয় শাসন ব্যবস্থায় ভেতরে ভেতরে স্বৈরতন্ত্রের যে চর্চা, তা আজ নতুন করে বলার কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানে নির্বাচনের নামে এ দেশে কী প্রহশন হয়েছে। যা দিন দিন সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করাতে বিবেকবান মানুষের গায়ে ফুসকা পড়ার উপক্রম। রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে একদলের মানুষ অন্য দলকে ঘায়েল করতে সত্যকে মিথ্যা বানায় আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে রাষ্ট্রিয়ভাবে নির্যাতনের চিত্র সে এক করুন ইতিহাস। বিশ্বায়নের সভ্যতা যেখানে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে রাষ্ট্র বা সরকার যেখানে পৃষ্ঠ-পোষকতা করার কথা কিংবা পৃথিবীর প্রায় দেশেই করছে। সেখানে আমাদের দেশের এই বাস্তব করুণ চিত্র সত্যিই লজ্জাকর। জাতি হিসেবে আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। এরকম এক বৈরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সমাজ ব্যবস্থায় আসিফের পরিবার ভুক্তভূগীর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আসিফের পিতা মোখলেছ উদ্দিন একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। যৌবনের প্রারম্ভে যুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনতা ছিনেয়ে এনেছিলেন। এখন স্বাধীনতা শব্দটি এক ধূসর ইতিহাসের পাণ্ডুলিপি হয়ে আছে তার কাছে। পাক হানাদারদের গুলিতে হারিয়ে ছিলেন একটি পা। পচন ধরা পা কেটে ফেলে এখন এক পায়ে ক্রাচ ভর করে হাঁটেন। বেঁচে আছেন শুধু এক বুক ভয়াল যন্ত্রণাকে ঘিরে। একে বেঁচে থাকা বলে না, মৃত্যুর নামান্তর মাত্র। না ভালোভাবে সংসার চালাতে পারেন, না পুত্র আসিফ আর কন্যা আফিফার লেখাপড়ার খরচ দিতে পারেন। অনেক চেষ্টা করেছেন রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। সরকার দলের লেজুড়বৃত্তি না করলে কোনো অবস্থাতেই সরকারি পৃষ্ঠ-পোষকতা পাওয়া যায় না। ভুল ক্রমেই হোক আর শুদ্ধ ক্রমেই হোক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত হতে সংসার পরিচালনার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি চেক গ্রহণ করেছিলেন, যা এখন তার জানের কাল হিসেবে প্রতি মুহুর্তে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একটি ভাতা চালু ছিল, তাও সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। রাজনীতির কড়াল গ্রাষে নিষ্পত্তি হয়ে ধণী হচ্ছে আরো ধণী, গরীর হচ্ছে সহায় সম্বলহীন-নিঃস্ব। সেই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে মোখলেছ সাহেবের পরিবার। সরাকরি দলের লেজুড়বৃত্তি করে মানুষ অবৈধ অর্থে তরতর করে উপরের দিকে উঠে যাওয়ার রেওয়াজ বাঙালীদের অনেক পুরনো ইতিবৃত্ত। এই ভূ-খণ্ডে মানব জাতির বসবাস পৃথিবী সৃষ্টির পাক কাল থেকেই। আদিম হিংস্রতা বর্বরতাকে উপেক্ষা করে মানুষ জীবন ধারণ করেছে। মানুষের বেশ কিছু সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে তার মধ্যে আরাম, আয়েশ, বিলাস, খায়েশ মানুষের গুণকীর্তন শোনা, অপরকে আপন করে নেয়ার বাসনা উচ্চাভিলাষ, নাম, খ্যাতি, যশ কুড়ানো ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষ যেমন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী, তদরূপ অমানবিক হলে কিন্তু ক্রোধের বশে এই মানুষই পৃথিবীর সর্ব নিঃকৃষ্ঠ প্রাণী হয়। মানুষ যেমন পর-উপকারী এই মানুষই আবার পরের অমঙ্গলকারী। জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক থাকার কারণে কিংবা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়ে মানুষ ১৮ হাজার মাখলুকাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। মানব সৃষ্ট কম্পিউটার, আবার সেই কম্পিউটার যা অজান্তে প্রয়োজনীয় একটি বস্তুর কার্যক্রমকে নষ্ট করতে মানুষ ভাইরাস সৃষ্টি করেছে। মানুষকে মানুষ সংবর্ধনা দেয় আবার মানুষকে আটকে রাখতে তৈরি হয়েছে জেলখানা। ইহকাল কিংবা পরকালে বিচার হবে মানুষের। অন্য কোনো প্রাণীর বিচার হবে না। কারণ মানুষের রয়েছে মেধা, প্রজ্ঞা, বুুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তাসহ স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি। মানুষ যে কতো ভালো হতে পারে আবার এই মানুষই স্বার্থের কারনে কতো খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন। আমাদের মূল গল্পের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে রাজনীতি। এখন রাজনীতি প্রসঙ্গে দু’চারটি কথা বলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছি। এশিয়া মহাদেশ কিংবা উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে কিংবা ধর্ম, বর্ন, বংশ, গোত্র, এলাকা ভেদে একেক দেশের রাজনীতির হালচাল একেক রকম। সামন্ত প্রভুদের হাত হতে রাজনীতি মুক্তি লাভের পর আবহাওয়া, জলবায়ু, কৃষ্টি-কালচার ভেদে একেক দেশের রাজনীতির কালচার একেক রকম। মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো আমাদের রাজনীতিকে উপজীব্য করে ফুটিয়ে তুলতেই এতো আলোচনা, এতো কথার আয়োজন। রাজনৈতিক দলের পালা বদলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালা বদল ঘটে আর জীবন যন্ত্রনা বেড়ে যায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের। সরকার আসে আর সরকার যায়। অথচ মানুষের দুর্বিষহ জীবন যন্ত্রণা বেড়ে আকাশচুম্বি হয়। আসিফদের মতো শত-সহস্র পরিবার ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়। মোখলেছ উদ্দিন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হবার পরেও রাজাকারের খেতাবে ভূষিত হোন। কারণ তিনি সরকারি দলের অন্ধ সাপোর্ট করতে পারেন না কিংবা জানেন না। সাদাকে সাদা বলা আর কালোকে কালো বলা মোখলেস সাহেবের ধমনিতে প্রবাহিত। চাটুকারিতা তার একদম অপছন্দের বিষয়। সংসার চালাতে পারছেন না। না জোটে তার পরিবারে ক্ষুধার অন্ন, না জোটে সঠিক চিকিৎসা। পুরনো ভাঙ্গা একটি ক্রাচে ভর দিয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন মোখলেছ সাহেব। যৌবনের প্রারম্ভে তার দু’চোখে স্বপ্ন ছিল ছেলে-মেয়েকে পড়ালেখা শিখিয়ে এক জনকে ডাক্তার, আরেক জনকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবেন। মুক্তিযুদ্ধের ভাতা বন্ধ হবার পর তার স্বপ্ন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু সান্তনায় বুক বাঁধেন, যখন দেখেন এই দেশের ইঞ্জিনিয়াররা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে সরকারিভাবে ভবন নির্মাণ করেন। ওরকম অসৎ ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ঠিকাদার তার ছেলে-মেয়েরা না হোক, সেটাই সৃষ্টি কর্তার নিকট দু’হাত তুলে প্রার্থনা করে সান্তনায় বুক বাঁধেন। এই সমাজ সংসার রাষ্ট্র কার্যত অর্থে তাকে কিছুই দেয়নি বরং কেড়ে নিয়েছে যৌবনের উত্তাল দিন। নতুন বিবাহিত স্ত্রী খাদিজাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে গেলেন। নবজাতক শিশুর নিষ্পাপ চাহনীও সেদিন তাকে আটকাতে পারেনি। দেশের প্রতি গভীর মমতাবোধের ফসল হচ্ছে এই বৃদ্ধ বয়সে দু’বেলা দু’মুঠো পেট পুরে খাওন জোটে না। চোখের সামনে ছেলেটির লেখাপড়ার জন্য হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রম তার বেদনার ঘায়ে লবনের ছিটার মতো সারাক্ষন জ্বলতে থাকে। ছেলে আসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। পড়ালেখার খরচ ম্যানেজ করতে দুই-তিনটি টিউশনি করায়। মেয়েটিরও একই অবস্থা কলেজে পড়ালেখার অবসরে একটি সেলাই মেশিন আছে। যা দিয়ে কন্ট্রাক্টে সেলাই করে, নিজ কাধে করে মাল দিয়ে আসে দর্জির দোকানে। ছেলে-মেয়ের উপার্জনে ওদের পড়ালেখা ভালোভাবে চলতো, কিন্তু তার মধ্যে বাবা-মাকে খাবার আর ওষুধ কিনে দিতে গিয়ে ওরা ভিষণ পেরেশানির মধ্যে দিনাতিপাত করছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিস্কৃত শ্রেষ্ঠ রোগ হয়তো দুশ্চিন্তা। যে রোগের ওষুধ নেই। সেই দুশ্চিন্তা এখন মোখলেছ সাহেবের পরিবারের নিত্য সাথী। রোগে, শোকে, দুশ্চিন্তায় জড়াগ্রস্থ মোখলেছ সাহেব ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। ভর করে হাঁটা ক্রাচটিও সেদিন ভেঙ্গে গেছে। এখন বাঁশের একটি লাঠি কিংবা স্ত্রীর কাধে ভর করে হাঁটা-চলা করেন। মাঝে মধ্যেই গলা দিয়ে রক্ত বেরোয়। শ্বাস কষ্টে প্রাণপাখি উড়ে যাবার উপক্রম। শরীরটা দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবু বেঁচে আছেন মোখলেছ সাহেব এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। হঠাৎ একদিন মোখলেছ সাহেবের পঙ্গু পায়ে ঘা দেখা দেয়। ছেলে আসিফ প্রায় জোর-জবরদস্তি করে ঢাকায় নিয়ে আসে ডাক্তার দেখাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তাররা তার পায়ের ঘায়ে ক্যান্সার হয়েছে বলে জানান। মরার উপর খাড়ার ঘা। বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আসিফ। এরপর টাকা ম্যানেজ করতে ছুটে চলে গলি হতে রাজপথ, আর রাজপথ ধরে প্রাসাদসম অট্টালিকার গা ঘেষে ছুটতে থাকেন এই ব্যস্ততম ঢাকার শহরে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনিতে ভালো ইনকাম নেই বলে মনোস্থির করে- সে রিকশা চালাবে। রাতে রাতে রিকশা চালিয়ে উপার্জিত টাকা দিয়ে কোনোভাবে চলে আসিফের বাবার চিকিৎসা। হঠাৎ একদিন একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে কাধে ব্যাগ নিয়ে ওঠে আসিফের রিকশায়। তারা মিরপুর যাবে বলে ৭০ টাকা ধার্য করে। তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর কল্যানপুর বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ রিকশাটিকে আটকে দেয়। ছেলে এবং মেয়ের ব্যাগ তল্লাশ করে পায় গান পাউডার, তাজা বোমা, পিস্তল, গুলি ইত্যাদি। এগুলো দেখে আসিফের চোখ ছানাবড়া! কিংকর্তব্য বিমূঢ় আসিফ। কিন্তু পুলিশ আসিফসহ তিন জনকেই ধরে নিয়ে যায়। আসিফ অনেক ভাবেই বুঝাতে চায় সে রিকশা চালায়, এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। কিন্তু আসিফের পকেটে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র এবং ভাড়া নেয়া রিকশা মালিকের গ্যারেজের বক্তব্যে পুলিশ পুরোপুরি সন্দেহ করে আসিফকে। পুলিশের বক্তব্য হলো- তুমি যদি এদের দলের লোকই না হবে, তাহলে মাত্র তিন চার দিন যাবৎ রিকশা চালাবে কেন! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী রিকশা চালাবে তা অবাস্তব। আসিফ অনেক করে বোঝাতে চায় তার বাবা পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, হাসপাতালে ভর্তি। কোনো কথায় কর্ণগোচর করেন না পুলিশের বড় বাবু। নিরুপায় আসিফ চিৎকার চেচামি করে ছুটে পালাতে চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়। আসিফের পিঠে গুলি বিদ্ধ হয়। উপুড় হয়ে পরে যায় সে পিচ ঢালা রাজপথে। শুধু আসিফের ক্ষীণ কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- বাবা আমি আসছি ওষুধ নিয়ে। ফিন্কী দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। ক্ষণিকেই রাজপথ বয়ে চলে রক্তের নহর। গুলি চালানো সেই পুলিশটি চিৎকার করে বলে- শালা রাজাকারের বাচ্চা জামাত, এবার পরপারে গিয়ে রাজাকারী করগা…..!!!!!!

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

 

পদত্যাগ করছে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাজধানী বৈরুতকে ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পদত্যাগ করছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। তার নেতৃত্বাধীন সরকার সোমবার আরও কিছু পরের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রয়টার্সকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব নেতৃত্বাধীন সরকার শিগগিরই পদত্যাগের ঘোষণা দেবে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে পুরো সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন হাসান দিয়াব। ইরান সমর্থিত শক্তিশালী হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী এবং মিত্রদের সমর্থন নিয়ে গত জানুয়ারিতে লেবাননের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভের মাঝে সোমবার দেশটির আরও দুজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এ নিয়ে দেশটির ৯ এমপি এবং মন্ত্রিসভার অন্তত চার সদস্য পদত্যাগ করেন। ফলে দেশটির  পুরো সরকার ভাঙ্গনের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা জানান। এ দিকে, বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলে ওঠার জন্য লেবাননকে ২৫ কোটি ইউরো আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। গত ৪ আগস্টের বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ ১১০ জন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজারের বেশি মানুষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল-মারসাদ অনলাইনে বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আবুদের বরাত দিয়ে হতাহতের এই সংখ্যা জানানো হয়েছে। বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী বৈরুতের পাশে মজুদের সঙ্গে রাজনৈতিক এলিটদের দুর্নীতি, সরকারের অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন অনেক লেবানিজ। বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আবুদ বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে অনেক বিদেশি কর্মী এবং লরি চালক রয়েছেন। তাদের শনাক্ত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিস্ফোরণস্থলে জীবিত কাউকে খুঁজে না পাওয়ার পর লেবাননের সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান বাতিল করেছে। রাজধানী বৈরুতের হাজার হাজার বাসিন্দা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘরে বসবাস করছেন। অনেকের ঘরে জানালা অথবা দরজাও নেই। বৈরুতের এই বিস্ফোরণের কারণে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়া দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতির শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার 

প্রতিনিধি, সাভারঃ আশুলিয়ায় শাহিন হোসেন (২৭) নামের এক পোশাক শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের রুমমেট রাকিব নামের এক যুবক পলাতক রয়েছে। রোববার (০৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়ার মোল্লাবাড়ি এলাকার এনামুল মোল্লার টিনশেড ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহিন হোসেন সিরাজগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সে বিভিন্ন কারখানানায় সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করতো। পলাতক রাকিব কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই এলাকার এনামুল মোল্লার টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় কাজ রাকিব নামের এক যুবক। বিভিন্ন এলাকার কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করায় শাহিন মাঝেমধ্যেই রাকিব এর কক্ষে এসে থাকতেন। অন্যান্য দিনের মত কয়েক দিন ধরেই রাকিবের রুমে এসে রাত যাপন করছেন শাহিন। আজ রাতে ওই কক্ষে শাহিনের গলাকাটা মরদেহ পরে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জিয়াউল হক জানায়, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের রুমমেট রাকিব তার ফোন বন্ধ রেখে পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

সোনারগাঁয়ে র‌্যাব-১১’র হাতে দুই পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার

প্রতিনিধি, সোনারগাঁও (নারায়নগঞ্জ): নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুই পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে পরিবহনে চাঁদা আদায়কালে দুই চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া ও মোঃ বাপ্পি মিয়া। এ সময় তাদের থেকে চাঁদাবাজির নগদ ৭ হাজার ৩শত টাকা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন (পিপিএম) জানান, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় চলাচলরত যাত্রাবাহী বাস থামিয়ে চাঁদা আদায়কালে মোঃ জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া ও মোঃ বাপ্পি মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। চাঁদাবাজের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়ি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ আগস্ট’২০/এসএএইচ