আজ শুক্রবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2527

কক্সবাজারে জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমে ওসি শাহজাহান কবির ছিলেন প্রশংসিত

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত কিছু পুলিশ সদস্য তাদের ইতিবাচক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মনিকোঠায় স্থান পেয়েছেন ।তেমনই একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাঃ শাহজাহান কবির। বিগত ১০ মাস আগে তিনি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যোগদান করেছিলেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় থাকাকালীন তিনি জনগণের সেবার দ্বার উন্মোচন করেছেন। রাত দিন এক করে কক্সবাজার সদর বাসীর জন্য কাজ করেছেন। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুলিয়ায় জনগণের গণপিটুনিতে আহত হয়ে একজন ইয়াবা কারবারি থানা হেফাজতে নিহত হন। সেই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্তের নির্দেশ দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার। অথচ ঐ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির কোনো দায়িত্ব অবহেলা পরিলক্ষণ করা যাচ্ছে না। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহা: শাহজাহান কবির বিগত ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সদর মডেল থানাকে জনগণের সেবা কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। এমনকি জনশ্রুতি আছে তিনি সারা রাত তথা ভোর হওয়া পর্যন্ত সেবা প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে কাজ করেছেন একাগ্রচিত্তে। থানা সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি থাকাকালীন তিনি অফিসার ফোর্সে দারুণ সমন্বয় এনেছিলেন। যার কারণে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ছিলো চেইন অব কমান্ডের একটি চিত্র। রাত দিন কাজ করার কারণে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সেবা গ্রহীতাদের ভীড় পরিলক্ষণ করা যেতো প্রতিনিয়ত।  জনগণকে প্রত্যক্ষ সেবা এবং দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে করেছেন গতিশীল। মাদক অস্ত্র উদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।
ছিনতাই রোধে গ্রেপ্তারকৃত আাসামীদের প্রোফাইল তৈরী করে ডকুমেন্ট লিপিবদ্ধ করেছেন যাতে ভবিষ্যতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা না ঘটে।  কক্সবাজারে মূল সমস্যা হচ্ছে, জমি দখল এবং হোটেল দখল। কিন্তু তিনি শক্ত হাতে তা দমন করে হোটেল দখল বাণিজ্য নির্মূল এবং প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করেছেন। করোনাকালে তিনি কক্সবাজার সদরবাসীকে চমৎকার সেবা প্রদান করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাকালীন তিনি বিবিধ সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। থানা সূত্রে আরো জানা যায়, স্কুল কলেজে মাদক বিরোধী সমাবেশ করে তিনি স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে সচেতনতা সৃষ্টি সহ বিভিন্ন সৃজনশীল সভা সমাবেশ করে সচেতনতামূলক কাজ করেছেন।  বীচ এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে বিশেষ বিশেষ ফোর্সদের সমন্বয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকতো। বিভিন্ন জটিল মামলার রহস্য উদঘাটনে তিনি সক্ষম হয়েছেন।  জনবান্ধন পুলিশিং কার্যক্রমকে করেছেন বেগবান। থানা রেকর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, বিগত ১০ মাসে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে । মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা ৪০২ টি। গ্রেফতার হয়েছে ৬০২ জন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের অভিযানে তিনি ওসি থাকাকালীন ৬ হাজার ১১০ লিটার মদ এবং ৪৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হন। গাঁজা ১৪ কেজি এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে ১৩৪ বোতল।
থানা রেকর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, বিগত ১০ মাসে ৫৩ টি এলজি, ২ টি পিস্তল, ১ টি পাইপগান, ৭৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৭ টি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।  অস্ত্র আইনে মামলা হয় ৫৫ টি এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১২৬ জন।
ডাকাত এবং ছিনতাইকারী ১২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।  কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার ২৭২১ জন এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার ৮৭ জন। সামগ্রিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত ১০ মাসে তিনি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন। সেবাগ্রহীতা এবং সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে উপচেপড়া ভীড় ছিলো সুষ্ঠু বিচার এবং সমাধানের আশায়।  কক্সবাজার সদরের কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, ‘অদম্য পরিশ্রমী বিচক্ষণ গুণাবলির একজন অফিসার ইনচার্জ ছিলেন তিনি। যেকোনো কাজে এবং বিভিন্ন সমস্যায় গেলে তিনি তড়িৎ সমাধান দিতেন। একজন শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সৈয়দ আবু মোহা: শাহজাহান কবির নিজেকে দাঁড় করাতে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন’। তারা থানা হেফাজতে আসামীর মৃত্যু পুনঃতদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। তাকে এভাবে প্রত্যাহার করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হলে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভালো অফিসাররা হারিয়ে যাবেন। কেউ আর কোন দিন আগ্রহ এবং ভালোবাসা নিয়ে কাজ করবে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। জনপ্রতিনিধি, কক্সবাজারের সচেতন মহল এবং সুশীল সমাজ কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহা: শাহজাহান কবিরের বিষয়টি পুনঃ তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার সদর মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান,বিগত চাকরি জীবনে অনেক অফিসারের আন্ডারে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু ওসি সৈয়দ আবু মোহাঃ শাহজাহান কবির অত্যন্ত অমায়িক এবং মানবিক কর্মকর্তা ছিলেন।অধস্তন কর্মীদের তিনি প্রতিনিয়ত মোটিভেটেড করে কাজ আদায়,করে নিতেন। আজ এমন পরিস্থিতি খুবই কষ্ট এবং দুঃখ অনুভব হচ্ছে। বিষয়টি তিনি সঠিক পুনঃতদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ আগস্ট-২০২০/জেডএন

বিজেএমসির কাছে ২৬৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোর কাছে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত পাট সরবরাহ বাবদ দেশের প্রান্তিক চাষী ও পাট ব্যবসায়ীদের প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অথচ সেই টাকা পরিশোধের ব্যাপারে দুঃখজনকভাবে উদাসীন হয়ে আছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। পরিণতিতে, ব্যবসা হারিয়ে পুঁজি শূন্য ও সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম ঘটেছে এই মানুষগুলো ও তাদের পরিবারের। মরিয়া হয়ে তাই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এর আশু প্রতিকার ও পাওনা টাকা আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

আজ (১৬ আগস্ট) সকাল ১১-০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পাট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবন্দের বক্তব্য থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির আহ্বায়ক শামীম আহমেদ মোড়ল এবং কার্যকরী সদস্য মো. সিয়াম হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে ছিলেন মো. টিপু সুলতান, আবদুল হাই, আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোস্তাক ভুঁইয়া, আলহাজ্ব এহতেসাম খান, হাসান আলি, মুজিব হোসেন চৌধুরী তুরান, নাদেম দত্ত, মধুসূদন দে, মো. সোহেল মিয়া এবং শামিনুল ইসলাম শাওন।

পাট ব্যবসায়ী নেতারা জানান, সরকার সম্প্রতি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও পাট ব্যবসায়ীদের সাথে কোনোরূপ আলোচনা করা হয়নি। অথচ দেশের সুসময় ও দুঃসময়ে বিজেএমসির পাটকলগুলোতে নিয়মিত পাট সরবরাহ করে তারাই কিন্তু মিলের চাকা সচল রেখেছেন।

পাট সরবরাহকারী এসব প্রন্তিক চাষী ও ব্যবসায়ীরা অধিকাংশই বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণগ্রস্ত। ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেনার চাপে তারা আজ দিশেহারা। উল্লেখ্য, ব্যবসায়ীদের সরবরাহকৃত পাট থেকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেই বিজেএমসি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন পরিশোধসহ শ্রমিকের মঞ্জুরি ব্যয় মোটনো হলেও ব্যবসায়ীদের কাছে দেনা পরিশোধের বিষয়ে দুঃখজনকভাবে উদাসীন হয়ে আছে বিজেএমসি।

জাতীয় সংসদে শাজাহান খান এমপি প্রশ্নোত্তরপর্বে মাননীয় পাটমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন- পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা কবে পরিশোধ হবে। উত্তরে পাটমন্ত্রী বলেন- পাটকলগুলোতে পাটপণ্য মজুত রয়েছে। সেগুলি বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করা হবে। কিছুদিন আগেই ৩৩২ কোটি টাকায় এসব পাটপণ্য বিক্রিও করেছে বিজেএমসি, যা দিয়ে পাট ব্যবসায়ীদের এই পাওনা টাকা পরিশোধ করা সম্ভব। অথচ এই পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বিজেএমসির কাছ থেকে আজ অবধি কোনো ধরনের আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ী নেতারা দুঃখ করে বলেন- ‘চিরকাল তারা দেশের পাটকলে পাট সরবরাহকারী হিসেবে এসব কল চালু রাখার মূল ইন্ধন জুগিয়ে এলেও এ সংক্রান্ত নীতি-মালায় ব্যবসায়ীদের কাছে কর্তৃপক্ষের দেনার ব্যপারেই সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা রাখা হয়নি। আজ বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য সরকার যখন বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের একের পর এক প্রণোদনা ঘোষণা করছেন, আমরা পাট ব্যবসায়ীরা তখন বিজেএমসির কাছে শুধু পাওনা টাকাটুকুই ফেরত না পাওয়ার পরিণতিতে ব্যবসাহারা, পুঁজিহারা ও সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসতে চলেছি’।

এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী ১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার, সকাল ১০-০০টায় রাজধানীর মতিঝিলে বিজেএমসি প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি হাতে নেবেন বলে জানান পাট ব্যবসায়ীরা।

সবশেষে, বিজেএমসির কাছে পাওনা টাকা আদায়ের মাধ্যমে দেশের সংকটাপন্ন প্রান্তিক পাট চাষী ও ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয় হস্তক্ষেপ ও আশু নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি, ব্যবসায়ী নেতারা আরো বলেন- ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে বাংলার সোনালি আঁশ পাটের সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশে পাটের গৌরবময় ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর বর্তমান সরকারের সাথে সব সময়ই সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবেন দেশের পাট ব্যবসায়ীরা’।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ আগস্ট-২০২০/জেডএন

সোনারগাঁয়ে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁ (নারয়ণগঞ্জ) : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগষ্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সাবেক সাংসদ আব্দুলাহ আল কায়সার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদুর রহমান মাসুম, ডা: আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ডালিয়া লিয়াকত, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামসহ সোনারাগাঁয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, সোনারগাঁও পৌরসভা, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, জনপ্রতিনিধি ঐক্যফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ, জাতিয় পার্টি ও বিভিন্ন সংগঠন দোয়া মাহফিল, কোরান তেলোয়াত, খাবার বিতরণ ও নানা কর্মসূচি পালন করে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়ামে শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে, যুব ঋণ চেক, সেলাই মেশিন, মাস্ক ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি বিতরণ করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ আগস্ট-২০২০/জেডএন

ধূমপান! নাকি মরণ টান? । ডা. মুহাম্মদ আজিজুর রহমান

ধূমপান! নাকি মরণ টান?
ডা. মুহাম্মদ আজিজুর রহমান

 

ধূমপান! নাকি মরণ টান?
আপনি জানেন কি বর্তমান বিশ্বে জীবিত মানুষের ৫০০ মিলিয়ন মারা যাবে শুধুমাত্র একটা কারণজনিত রোগে? বর্তমানে প্রতিবছর চার মিলিয়নের বেশি মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র এই জিনিসটার কারণে? শুধুমাত্র এই কারণে প্রতিবছর সর্বাধিক মানুষ রোগে আক্রান্ত হয়?

ভাবছেন পারমাণবিক বোমা? নাকি জীবণু অস্ত্র প্রয়োগ! নাকি এটা আইএস? অথবা আল-কায়দা! না না এমন কিছুই না! তবে হ্যাঁ, সত্যিই এটা পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি প্রাণহানিকর, স্লো পয়জন! এটাই সেই অমোঘ স্বর্গীয় শুধা যার মাধ্যমে বহুজাতিক কম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে আর ধীরে ধীরে মানুষের রক্তে বিষ পুস করছে!

এটা অন্য কিছু নয়, হাতের পাশেই পাওয়া যায় অল্প খরচেই! আর তা হলো- তামাক জাত দ্রব্য তথা বিড়ি-সিগারেট!

বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র ১০টি দেশেই দুই তৃতীয়াংশ বিড়িখোর রয়েছে! আর এই দশ শীর্ষ দেশের তালিকাতে বাংলাদেশও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ী বাস করে চীনে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০% আর ১০% বাস করে ইন্ডিয়াতে!

বিড়ি-সিগারেট কেন ক্ষতিকর?
প্রতিটি সিগারেট থেকে প্রায় ২০০০ থেকে ৪০০০ ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরিত হয়! যার ভেতর ৬০টির উপর রয়েছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারক পদার্থ!

ধূমপানে কীভাবে আসক্তি আসে?
তামাকের রয়েছে নিকোটিন নামক এক ধরনের এলকোলয়েড। যেটা ব্রেইনের নিকোটিনিক রিসিভটারের সাথে বাইন্ড করে ফলে নেশার উদ্বেগ হয়! যদিও নিকোটিন সরাসরি কোনো ক্ষতি করে না কিন্তু নেশা সৃষ্টির মাধ্যমে শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়!

ধূমপান করলে কী কী রোগ হয়?
আমার ধারনা শরীরে এমন কোনো রোগ নেই যার সাথে ধূমপানের সম্পর্ক নেই। তার পরেও বিশেষ করে হয়ে থাকে-
১। সিওপিডি
২। ক্যান্সার
৩। হার্ট অ্যাটাক
৪। ব্রেইন স্টোক
৫। পেপটিক আলসারেসন
৬। এজমা
ইত্যাদি ইত্যাদি!

ধূমপান করলে কী কী ক্যান্সার হতে পারে?
১। ফুসফুস ক্যান্সার
২। ঠোটের ক্যানসার
৩। মুখের ক্যান্সার
৪। জিহ্বার ক্যান্সার
৫। শ্বাসনালীর ক্যান্সার
৬। খাদ্যনালীর ক্যান্সার
৭। অগ্নাশয়ের ক্যান্সার
৮। কিডনিতে ক্যান্সার
৯। পস্রাবের থলিতে ক্যান্সার
১০। জরায়ুতে ক্যান্সার

কীভাবে ক্যান্সার করে?
সাধারণত সিগারেটে পলিসাইক্লিক হাইড্রোকার্বন এবং নাইট্রোস্যামাইন বেশি পরিমাণ থাকে! আর এটা কোষের ক্যান্সার প্রতিরোধকারী জিন k-ras এবং p53 কে ডিএ্যাক্টিভ করে ফেলে। ফলে কোষের স্বাভাবিক গ্রোথ নষ্ট হয়ে অস্বাভাবিক গ্রোথ হয়। ফলে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়!

গর্ভবতী মা যদি সিগারেট খায়?
যদি গর্ভবতী মা সিগারেট খায় তাহলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে! এছাড়া যদি নষ্ট না হয়, তাহলে বাচ্চা জন্মের সময় আসার আগেই ডেলিভারী হয়ে যেতে পারে! অপুষ্ট বাচ্চা হতে পারে! বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি থাকতে পারে! আর সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো-
★★গর্ভবতী মহিলার স্বামী যদি ধূমপায়ী হয় তাহলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি★★

তবে বাচ্চা গর্ভে আসার আগে ধূমপান বন্ধ করে দিলে বাচ্চার আর কোনো রিক্স থাকে না!

এখন নিজেই ভাবুন ধূমপান করবেন, নাকি করবেন না?

সবাই ভালো থাকবেন।
সুস্থ থাকবেন।

(লেখক :  এমবিবিএস, বিসিএস
ডি-অর্থো (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিকস সার্জন
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।)

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ আগস্ট ২০২০/জেডএন

হরিরামপুরে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে করোনাকালীন ক্রান্তিকালে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলার বন্যা দুর্গত ধুলশুড়া ইউনিয়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো ১০ কেজি চাল, এক কেজি মসুর ডাল, এক কেজি লবণ, এক কেজি চিনি, দুই কেজি চিড়া, এক লিটার সয়াবিন তেল, এক প্যাকেট নুডলস ও ১০টি করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন’, “বন্যার কারণে কেউ যেন খাবারে কষ্ট না পায়। এটা ত্রাণ নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপহার। তিনি আরও জানান, নদী ভাঙনে যাদের বাড়ি ঘর ভেঙে গেছে তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে এ সময় নদীভাঙনে বসতবাড়ি হারানো পরিবারের তালিকা তৈরি করারও নির্দেশনা দেন তিনি। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলী, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বিল্লাল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মানিকুজ্জামান, ধুলশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জায়েদ খান ও ওয়ার্ড সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোকিত প্রতিনিধি/১৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ

কলাপাড়ায় গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সংবাদদাতা,  কলাপাড়া(পটুয়াখালী):  কলাপাড়ায় গাঁজাসহ মো: কাইউম হাওলাদার (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচশ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত কাইউম শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সে বিক্রির উদ্দিশ্য বাড়ি থেকে ওই পরিমান গাঁজা নিয়ে বের হয়। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে কলাপাড়া থানার এস আই আবুল হোসেন, এ এস আই তাওহীদ হোসেন এবংএ এস অই জামান তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা গাঁজা জব্দ করা হয়। কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো: আসাদুজ্জামান বলেন, কাইউম দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন  আইনে একটি মামলার প্রস্ততি চলছে। আটককৃতকে আদলতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ

আশুলিয়ায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল

প্রতিনিধি, সাভারঃ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়ার দোসাইদ কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক হাজী মোঃ মোশাররফ খাঁন। এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎবরণকারীদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও এলাকাবাসী এবং অসহায় মানুষের মাঝে ৪’শত প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

করোনায় দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যু

:: প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা::
করোনার আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামানের (৪২) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে  তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বদরুজ্জামান (৪২) সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জাহাপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। এনিয়ে, সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন  ২৫ জন।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, করোনা সনাক্ত হওয়ার পর কোভিড নিউমোনিয়া নিয়ে বদরুজ্জামান গত ২৫ জুলাই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বাস্থ্য বিধি মেনে তার মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তার বাড়ি লকডাউন করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

লোহা কেন খাবেন? । ডা: সুমাইয়া আক্তার

লোহা কেন খাবেন?
ডা: সুমাইয়া আক্তার

অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠছেন! তাই বলে- লোহা??
হুম, লোহা। ইংরেজিতে যাকে বলে আয়রণ। রাসায়নিক সংকেত (Fe)। ফেরাস আর ফেরিক এই দুই ধরনের লোহা আছে।
লোহা শুধু মানুষই না, সকল মেরুদন্ডী প্রাণীর দেহ গঠণের একটি অন্যতম মৌলিক উপাদান। খ্রীস্টপূর্ব যুগ থেকেই লোহা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রিক, মিশরীয় ইতিহাসে গ্রীন ডিজিজ নামের একটি রোগে লোহা ব্যবহারের কথা জানা যায়। এছাড়া ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাসেও চিকিৎসায় লোহা ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। তবে লোহার সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয়তাটি আবিষ্কার হয় গত শতাব্দীর শেষের দিকে ১৮৭০ সালে।
আমাদের রক্তের ৩ ধরনের কনিকার মধ্যে একটি হলো লোহিত রক্ত কনিকা। যার মূল অংশের নাম হিমোগ্লোবিন। এর হিম আর গ্লোবিন দু’টি অংশ। হিম অংশের মূল উপাদান হলো আয়রণ বা লোহা। এর সবচেয়ে বড় কাজটি হলো- আমরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যে অক্সিজেন টেনে নেই তা বহন করে শরীরের সব কোষে কোষে পৌঁছে দেওয়া। আর অক্সিজেন ছাড়া কোনো কোষ বাঁচতে পারে না, মানে কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না।
লোহা আমাদের শরীরে ফেরিটিন আর হিমোসিডারিন হিসেবে লিভার, প্লীহা, বোন ম্যারো, মাংসপেশীর মায়োগ্লোবিনে জমা থাকে।
খাবারের মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় লোহা পাই।
এর ঘাটতিজনিত রোগের নাম এনিমিয়া বা রক্তশুন্যতা।

রক্তশূন্যতা কখন কাদের হয়?
১. খাদ্যে ঘাটতি থাকলে অর্থাৎ আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার না খেলে।
২. বয়ঃসন্ধি বা growing time -এ চাহিদা বেশি থাকে। তখন চাহিদা পূরণ না হলে।
৩. মেয়েদের প্রতি মাসের মাসিক চক্রের কারণে যে রক্তক্ষরণ হয় তা পূরণ করতে তাদের পুরুষের চেয়ে বেশি চাহিদা থাকে।
৪. গর্ভাবস্থায় ও প্রসূতি মায়েদের।
৫. কৃমির সংক্রমণ, কোনাে কারণে রক্তক্ষরণ।
৬. কিছু রোগের জন্য।

রক্তশূন্যতার লক্ষণ কী?

  • দুর্বলতা।
  • অল্প কাজেই হাপিয়ে ওঠা।
  • palpitation বা বুক ধড়ফড় করা।
  • ফ্যাকাশে ত্বক।
  • খাবারে অরুচি।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নানান রোগের সংক্রমণ।
  • শ্বাসকষ্ট।
  • শিশু ও টিন-এজদের বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
  • অতিরিক্ত রক্তশুন্য হলে সারা শরীরে পানি আসা বা ফুলে যাওয়া (oedema)।

প্রতিরোধ কীভাবে করা যায়?
১. প্রতিদিন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ।
২. যাদের বাড়তি চাহিদা রয়েছে, যেমন: টিনএজ ছেলে-মেয়ে বিশেষ করে মেয়ে বাচ্চা, মাসিক হয় এমন মহিলা (menstruating woman) গর্ভবতী  (pregnant) ও দুগ্ধদানকারী মা (lactating mother) দেরকে আয়রণ সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনে supplement দিতে হবে।

কোন খাবারে কতো আয়রণ?
আয়রণ আমাদেরকে দৈনন্দিন খাবার থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার দুই ধরনের রয়েছে– হিম (heme) এবং নন-হিম (non heme)। হিম সাধারণত প্রাণীজাতীয় পণ্য বিশেষত পোলট্রিজাত জিনিস ও মাংসে পাওয়া যায়। হিম-আয়রণ নন-হিম আয়রণের চেয়ে দ্রুত শরীরে শোষিত (absorption) হয়।

১. মাংস : (red meat)- ১০০ গ্রামে প্রায় ২.৭ মিলিগ্রাম; মুরগির মাংস- ৫ আউন্সে প্রায় ৫ মিলিগ্রাম
২. ডাল : আধা কাপ ডাল এ ৬.২৫ মিলিগ্রাম
৩. কলিজা : ১০০ গ্রামে ৬.৫ মিলিগ্রাম
৪.পালংশাক : ১০০ গ্রামে ৩.৬ মিলিগ্রাম
৫. শিম ও মটরশুঁটি : ১০০ গ্রামে ৩.৩ মিলিগ্রাম
৬. ডার্ক চকলেট : ২৮ গ্রামে ৩.৩ মিলিগ্রাম
৭. সামুদ্রিক মাছ : ১০০ গ্রামে ২৮ মিলিগ্রাম
এছাড়াও ডিমের কুসুম, আনার, আপেল, খেজুর, বাদাম, কুমড়ার বীজ, কচু, কাঁচাকলার তরকারি, ফুলকপি ইত্যাদিতেও প্রচুর আয়রণ রয়েছে।

কার কতোটা আয়রণ প্রয়োজন?
(Recommended Dietary Allowances (RDAs) for Iron) প্রতিদিনের চাহিদা :
বয়স                 –             পুরুষ                –              মহিলা
১–৩ বছর         –             ৭ মিলিগ্রাম        –             ৭ মিলিগ্রাম
৪-৮বছর           –             ১০ মিলিগ্রাম      –             ১০ মিলিগ্রাম
৯–১৩ বছর       –              ৮ মিলিগ্রাম       –              ৮ মিলিগ্রাম
১৪–১৮ বছর     –             ১১ মিলিগ্রাম      –             ১৫ মিলিগ্রাম
১৯–৫০বছর      –             ৮ মিলিগ্রাম       –              ১৮ মিলিগ্রাম
৫১+                  –             ৮ মিলিগ্রাম      –               ৮ মিলিগ্রাম

গর্ভবতী            –          দুগ্ধ দানকারী
২৭ মিলিগ্রাম      –          ১০ মিলিগ্রাম

যদি দেহে আয়রণের অভাব খুব বেশি থাকে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রণ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

কিছু জরুরি কথা :
খাবার থেকে আয়রণ শোষন কিছু বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। এগুলোও আমাদের জানা থাকা দরকার।

  • ভিটামিন সি আয়রণ শোষণে সাহায্য করে। তাই সাইট্রাস জাতীয় ফল (টক ফল) সবুজ শাকসবজী ও নিয়মিত খাওয়া উচিত।
  • খালিপেটে আয়রণ শোষণ ভালো হয়। তবে এতে প্রচুর এসিডিটি হয় বলে অনেকেই খেতে পারেন না। তাই নিয়মিত, অন্য খাবারের সাথে খাওয়া যায়।
  • আয়রণ সাপ্লিমেন্ট বা মেডিসিন খাবারের মাঝে খেতে পারেন।
  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (দুধ) আয়রণ শোষণ বাধাগ্রস্ত করে। এগুলো একসাথে খাওয়া উচিত নয়।
  • এন্টাসিড জাতীয় ঔষধের ক্ষেত্রেও একই কথা।

পৃথিবী জুড়ে মানুষের যেসব রোগ হয় তার ২০% এর কারণ রক্তশুন্যতা। তাছাড়া ৫০% মাতৃ মৃত্যুর পরোক্ষ কারণও এটি। রক্ত শূন্যতার প্রতিরোধ প্রতিকারে তাই আয়রণের বিকল্প নাই।
‘এবং আমি লোহা দিয়েছি যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বিবিধ কল্যাণ’। -(সুরা হাদিদ/৫৭:২৫)।
নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় কল্যাণটি আমরা বুঝতে পারছি।
যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। লোহার বানানো হিমোগ্লোবিন আপনার নিঃশ্বাসে টেনে নেয়া অক্সিজেন সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। স্রষ্টার চেয়ে সৃষ্টিকে আর কে-ই বা ভালো জানে?

(লেখক :
এফসিপিএস (অবস অ্যাড গাইনী)
রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি এণ্ড ইনফার্টিলিটি
বিএসএমএমইউ)

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ আগস্ট-২০২০/জেডএন

গাইবান্ধায় ৫ দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের পথসভা

সংবাদদাতা, গাইবান্ধাঃ করোনাকালিন সময়ে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি-ফি মওকুফ, পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাস বাতিলসহ ৫ দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের বিভিন্ন মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি পরমানন্দ দাস। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মাহবুব আলম মিলন, সাধারণ সম্পাদক রাহেলা সিদ্দিকা, অর্থ স¤পাদক মাছুদা আক্তার, কলি রানী বর্মন, উম্মে নিলুফা তিন্নি প্রমুখ। বক্তারা করোনাকালিন সময়ে শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া মওকুফে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে সরকারের পক্ষ থেকে এবং স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষের উদ্যোগে তাদেরকে এককালিন আর্থিক সহযোগী প্রদান, একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভর্তি-ফি ও শিক্ষার্থীদের এক বছরের বেতন-ফি মওকুফের দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস বাতিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বাতিল, গাইবান্ধা জেলায় করোনা ল্যাব স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতসহ সকল প্রকার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সেবাসমূহ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৩ আগস্ট’২০/এসএএইচ