আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2519

আউশ ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি নওগাঁর কৃষক

সুদাম চন্দ্র, নওগাঁ : নওগাঁ জেলার রাণী নগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আউশ ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। ৩ বারের বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এবার আউশ মৌসুমে ফলনও হয়েছে খুব ভালো। তাই ধানের এই দামের বাজার অব্যাহত থাকলে বন্যার ক্ষতি কৃষকরা অনেকটাই পুষে নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আউশ মৌসুমে উপজেলার মোট ১ হাজার ৪শ ২৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক বিঘা জমির ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। তবুও উপজেলার এক ডালা, পারইল, বড়গাছা, সদর ইউনিয়নগুলো উচু হওয়ার কারণে বন্যার পানিতে এইসব এলাকার ধান বন্যায় তেমন আক্রান্ত হয়নি। এবার হেক্টর প্রতি ৩.২টন হারে আউশ ধানের ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪শ ৫০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই কৃষকরা আউশ ধান কর্তন করে রোপা আমন ধান রোপণ করা শুরু করবেন। সম্প্রতি উপজেলা কৃষি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে আউশ ধান কর্তন করেছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ আউশ ধান ৯৫০-১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
একডালা গ্রামের কৃষক ফেরদৌস হোসেন, ভেটি গ্রামের আলীসহ অনেক কৃষকরাই জানান যে- আউশ ধান চাষে খরচ একবারেই নেই বললেই চলে। পানি সেচ দিতে হয় না, বালাইনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। তাই আউশ ধান চাষ করে কৃষকরা অনেকটাই লাভবান হন। এছাড়াও বর্তমানে বাজারে ধানের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা কৃষকরা আউশ ধানের ফলন ও দামে অনেক খুশি।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমন ধানে কিছুটা সেচ দিতে হলেও আউশ ধানে তেমন একটা পানি সেচ দিতে হয় না। এবার উপজেলার অধিকাংশ জমিতে ব্রিডধান ৪৮,৮২ জাতের ধান চাষ করায় কৃষকরা অধিক ফলন পেয়েছে। কারণ এই জাত উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত। তবে বন্যার কারণে যেসব জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকরা এখন সেসব জমিতে আমন ধান রোপণ করতে শুরু করেছে। এছাড়াও আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব সময় কৃষকদের নানা রকমের পরামর্শ প্রদানে কাজ করছি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট-২০২০/জেডএন

ফুলবাড়ীতে ক্ষেতের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার

মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধানক্ষেতের পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে দিনে দিনে বাড়ছে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে একেবারে ব্যয়হীন এ পদ্ধতিতে ঝুঁকে পড়েছেন অধিকাংশ কৃষক।
পোকাদমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারকারী কৃষক রোস্তম আলী, জাহাঙ্গীর আলম, বাদল সরকার, শাহজাহান আলী ও মকছেদুল হক বলেন- পার্চিং একটি জৈবিক দমন ব্যবস্থা। ফসলের জমিতে বাঁশের আগা, কঞ্চি, গাছের ডাল পুঁতে দিলে এতে পাখি বসে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার মথ, বাচ্চা, ডিম খেয়ে ফেলে। ফসলের ক্ষেতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে পোকা দমনের এ পদ্ধতিকেই পার্চিং পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা বিষমুক্ত, নিরাপদ ফসল উৎপাদন করছি। একেবারে বিনা খরচে এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আমাদের ফসলে আর কোনো কীটনাশক দিতে হচ্ছে না। ফলে আমরা কম খরচেই ফসল ফলাতে পারছি। নিরাপদ ফসল উৎপানে এমন কার্যকরী পদ্ধতি ব্যবহারে তাদের উৎসাহিত করায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাবাব ফারহান জানান- উপজেলার কৃষকদের মাঝে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে ক্রমশই আগ্রহ বাড়ছে। চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ২০০হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। ৯ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেতে পার্চিং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আক্তার জানান- প্রতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ক্ষেতে লাইন, লোগো ও পার্চিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায়  অত্র উপজেলায় এবারও লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী লাইন, লোগো ও পার্চিং পদ্ধতির বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ জানান- ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা বিশেষ করে মাজরা দমনে পার্চিং একটি কার্যকর পদ্ধতি। এটি একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। বিনা খরচের এ পদ্ধতি ব্যবহারে ফসল উৎপাদন ব্যয় কম হয়। ধানের ফলনও বেশি হয়। পরিবেশ বান্ধব এ পদ্ধতি গ্রহনে এখনও অনেক কৃষক অনাগ্রহ প্রকাশ করে। তবে আমরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করার কার্যক্রম চলমান রেখেছি।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট-২০২০/জেডএন

বিষ মুক্ত আসল স্বাদে ফিরেছে মধুপুরের আনারস

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইল : বিষাক্ত রাসায়নিক আর হরমোনের ব্যবহারের কারণে টাঙ্গাইলের মধুপরের ঐতিহ্যবাহী আনারসের উপর থেকে দিন দিন ভোক্তাদের আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় কয়েকজন শিক্ষিত ও সমাজের উপর প্রতিশ্রæতিশীল যুবক এগিয়ে এসে রাসায়নিক ও হরমোনবিহীন আনারস চাষ করে আনারসের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চেষ্টারত আছেন। ফলে মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু জলডুগি ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষে এক বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে। দাম একটু বেশি হলেও ক্রেতারা এখন সচেতন। উৎপাদক-ভোক্তা সচেতনায় মধুপুরের আনারস তার হারোনো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সমাজের সচেতন মহল।

আর এই বিপ্লবের অগ্রদূত হলেন, মধুপুর উপজেলার গারোবাজারের ছানোয়ার হোসেন ও মহিষমারা ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের আনারস চাষী মো. নজরুল ইসলাম। তারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পৌঁছে দিচ্ছেন বিষ ও রাসায়নিক মুক্ত আনারস।  আনারস চাষী নজরুল ইসলাম মনে করেন, এই ধরনের চাষাবাদ অনৈতিক, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকী এবং পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংসকারী। তাই চাকুরির পাশাপাশি নিজের জমিতে তিনি চাষ করেছেন জৈব সার প্রয়োগ করে দুই জাতের আনারস। তিনি আনারসের অকাল বৃদ্ধি ও অতি মুনাফার লোভে হরমোনের প্রয়োগ করেন নাই, আবার দ্রæত পাকানো ও ভাল রঙের জন্য রাইপেন নামক বিষাক্ত কেমিক্যালও ব্যবহার করেন নাই। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মধুপুরের আনারস চাষীরা কখনও লোভে বা অসাধু ব্যবসায়ী বেপারীদের খপ্পরে পড়ে একাধিক জাতের আনারস চাষে বিবিধ রাসায়নিক ব্যবহার করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, এবছর কেমিকেল বিহীন আনারস চাষে বিনিয়োগ করেছেন তিন লাখ টাকা। আশা করছেন তার বাগানের ফল ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। আগামী বছরে আনারসের এই চাষ আরও বৃদ্ধি করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। মধুপুরে কেমিকেল মুক্ত আনারস চাষের অগ্রদূত ছানোয়ার হোসেন। তিনি একজন উচ্চ শিক্ষিত আনারস চাষী। তিনি বলেন, আমার চাষাবাদ দেখে ও চাহিদার কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই এ আবাদে উৎসাহিত হয়েছে। এতে ভাল দামও পাচ্ছেন তারা।  নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের তরুণ শিক্ষিত কর্মী ও নিরাপদ খাদ্য বিপণনের পথিকৃৎ টাঙ্গাইলের আওয়াল মাহমুদ জানান, কেমিকেল মুক্ত আনারসের চাহিদা ব্যাপক। এতে আমি যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি অন্যান্য চাষীরাও লাভবান হচ্ছেন। আর ভোক্তারা পাচ্ছেন নিরাপদ ফল। তিনি আরো জানান, আমি এবার ৫০ হাজার জলডুগি এবং ২০ হাজার ক্যালেন্ডার জাতের আনারস ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেছি। হরমোন ও রাইপেন মুক্ত আনারস যেখানে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে বিষমুক্ত জলডুগি আনারস ৫০ টাকা এবং ক্যালেন্ডার আনারস ৭০-৮০ টাকায় নির্দ্ধিধায় বিক্রি করা যায়।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, মধুপুর অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ টন বিভিন্ন জাতের আনারস চাষ হয়। সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বৎসর আনারস চাষ হয়। এছাড়া পাশর্^বর্তী উপজেলা ঘাটাইলের কিছু এলাকায় আনারস চাষ হয়। তিনি বলেন, আগের চেয়ে বর্তমানে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার অনেক কমে আসছে। মধুপুর অঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের উদ্যোগে আনারস ভিত্তিক খাদ্য শিল্প স্থাপনের কার্যক্রম গৃহীত হলে চাষী এবং জনগন ব্যাপক উপকৃত হবে। এছাড়াও অবকাঠামোমূলক উন্নয়ন আনারস চাষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন/২৪আগস্ট-২০২০ইং/জেডএন

কালিহাতীতে ইজি বাইকের নিচে পড়ে শিশু নিহত

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকের নিচে পড়ে চার বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার মালতী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই গ্রামের আঃ লতিফের মেয়ে তানহা (৪)। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ বলেন, নিহত শিশুটির মা মালতী ব্রীজ পাড় থেকে একটু সামনে রাস্তার পাশে বসে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলো। এসময় শিশুটি রাস্তার অন্য পাশ থেকে দৌড়ে তার মায়ের কাছে যাওয়ার সময় চলমান ইজিবাইকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা আইনি সহায়তা না নেওয়ার কথা জানালে লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন/২৪আগস্ট-২০২০ইং/জেডএন

নোয়াখালী হাতিয়ায় নিখোঁজ ডুবুরির লাশ উদ্ধার

মোঃ ইব্রাহিম নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদী থেকে মো. মামুন (৪০) নামে এক ডুবুরির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন ডুবুরিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ওই ডুবুরি জাহাজের পাখায় আটকে যাওয়া জাল কাটার জন্য নদীতে নেমে নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার সকালে নলচিরাঘাটের পশ্চিম পাশের মেঘনা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মো. মামুন বরিশাল জেলার বানারীপারা উপজেলার বিশালকান্দি এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে মেঘনা নদীর নলচিরাঘাট এলাকায় পণ্যবাহী এমভি মিথিলা সালমান-৩ নামে একটি জাহাজের ইঞ্জিনের পাখায় জেলেদের মাছের জাল আটকা পড়ে। এতে জাহাজটি বিকল হয়ে যায়। পরবর্তীতে জাল কাটার জন্য ঢাকা থেকে মামুনসহ দুইজন ডুবুরিকে আনেন জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ। বিকালে মামুনসহ দুইজন ডুবুরি ইঞ্জিনে আটকা জাল কাটার জন্য নদীতে নামেন। কিছুক্ষণ পর একজন ডুবুরি জীবিত উঠে আসলেও মামুন নিখোঁজ ছিল। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আসা অপর একটি ডুবুরি দল নদীতে নেমে এমভি মিথিলা সালমান-৩ এর নিচ থেকে মামুনের লাশ উদ্ধার করে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন/২৪আগস্ট-২০২০ইং/জেডএন

কালকিনিতে ইউপি চেয়ারম্যানের কারামুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

নাবিলা ওয়ালিজা মাদারীপুরঃ  মাদারীপুরের কালকিনিতে মোস্তাফিজুর রহমান সুমন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে দুইটি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে ও তার কারামুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুরে আউলিয়ারচর গ্রামের প্রধান সড়কে তিনঘন্টা ব্যাপী প্রায় ১ হাজার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের অংশ গ্রহনে এ কর্মসুচি পালন করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউপি পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য খবির মৃধা প্রায় ১বছর আগে খুন হন। পরে নিহতের বাবা নুরুল মৃধা বাদী হয়ে মাদারীপুর কোর্টে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ছাড়া ৮নং ওয়ার্ডের আরেক ইউপি সদস্য আকতার শিকদারকে গত ৩১/০৭/২০ ইং তারিখ রাতে তার বাড়িতে বসে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহতের বাবা মতিন শিকদার বাদী হয়ে ষড়যন্ত্রের আশ্রায় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ দুটি মামলায় বাঁশগাড়ি ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে কালকিনি থানা পুলিশ গ্রেফতার করে মাদারীপুর জেল হাজতে প্রেরন করেন। এ দুটি মামলা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে বিনাকারনে ফাঁসানো প্রতিবাদে ও তার দ্রুত করামুক্তির দাবিতে বাশগাড়ী ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করা হয়। এদিকে কর্মসুচি চলাকালীন সময় ওইএলাকায় কয়েকটি ফাঁকা বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটনায় দুর্বৃত্তরা। এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পরে খবর পেয়ে খাশেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজাদ আবুল কালাম, শিকিম আলী, ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদ শিপাহী ও মজিবর রহমান মাল বক্তব্যকালে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে বিনাকারনে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। কারন দুটি ঘটনার সময় সে দেশের বাহিরে ছিল। তাকে মুক্তি দেয়া না হলে আমরা আগামীতে কঠোর কর্মসুচি পালন করবো। এ বিষয় জানতে চাইলে দুটি মামলার বাদী নুরুল মৃধা ও মতিন শিকদার এড়িয়ে যান। খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি আলআমিন বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা শুনেছি। তবে কারা ঘটিয়েছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে। আর শুনেছি মানববন্ধন উভয় পক্ষই করেছে।

 

 

দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন/২৪আগস্ট-২০২০ইং/জেডএন

টাঙ্গাইল জেলা আ.লীগ সভাপতির সহধর্মিনীর ইন্তেকাল

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের সহধর্মিনী সুরাইয়া বেগম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি……রাজিউন)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট-২০২০/জেডএন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আ.লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি

সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের আয়োজনে জেলা আ.লীগ কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দলীয় কার্যালয় হতে একটি শোকর‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালী শেষে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ও ২১ আগষ্টে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। শেষে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। পৌর আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক, জেলা যুবলীগের সভাপতি সামিউল হক লিটন,  পৌর আ.লীগের সদস্য ডা. গোলাম রাব্বানী, গ্রামীণ ট্র্যাভেলসের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ বাবু, জেলা মহিলালীগের সভাপতি সাকিনা খাতুন পারুল, জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি অ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা, সাধারণ সম্পাদক শান্তনা হক, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আসাফুদ্দৌলা দোলা, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম রানা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রেজা ইমন, সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফ জামান আনন্দসহ আ.লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি সবসময় আওয়ামীলীগকে এদেশ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট আ.লীগের চলমান পথসভায় গ্রেনেড হামলা চালায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এদিন আওয়ামীলীগের ২৪টি তাজা প্রাণ শাহাদাত বরণ করে এবং ৫ শতাধিক নেতাকর্মী পঙ্গু হয়। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনও তাদের অপচেষ্টা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা সতর্ক না হলে দেশের চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এসময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নীলনকশাকারী তারেক জিয়াকে বিদেশ থেকে এনে বিচারের দাবি জানান তিনি। শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, সেন্ট্রাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হুমায়ন কবীর।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

ফুলবাড়ীতে আরও ৭ জন করোনায় আক্রান্ত, মোট ৫৭

সংবাদদাতা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দিনে দিনে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১ জন পরিছন্নতা কর্মিসহ নতুন করে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে,গত ১৬ আগস্ট ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০) আগস্ট সন্ধ্যায় প্রেরিত নমুনার ফলাফলে ৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে ফুলবাড়ীতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৭ জনে। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৩৪ জন।মারা গেছেন ১ জন। নতুন ৭ জনসহ আইসোলেশনে আছেন ২২ জন। ফুলবাড়ীতে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামসুন্নাহার বেগম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পরছে তা চিহ্নিত করা কঠিন। কারণ করোনার সংক্রমণ আমাদের কমিউনিটিতে মিশে গেছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রতিরোধের দিকে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

গাইবান্ধায় আরও ৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত, মোট ৮৬৭

সংবাদদাতা,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধায় আরও ৬ জনের শরীরে নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮৬৭ জনে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪,সাদুল্লাপুরে ১ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১ জন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে এ তথ্য জানা যায়। গাইবান্ধায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ২৭৫,গাইবান্ধা সদরে ২৫২,ফুলছড়িতে ৪৯,সাঘাটায় ৬৪, পলাশবাড়ীতে ৮৬, সুন্দরগঞ্জে ৬৩ এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৭৮ জন রয়েছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫৯২ জন। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৬১ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৪ জন। তাদের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪,গাইবান্ধা সদরে ৩, সাদুল্লাপুরে ২, পলাশবাড়ীতে ৪ এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২১ আগস্ট’২০/এসএএইচ