শরতের কাশফুলে সেজেছে বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
প্রতিনিধি, সাটুরিয়া : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জনৈক তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, গত ১১ সেপ্টেম্বর শক্রবার রাত সাড়ে এগারোটার পরে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ তালার মহিলা ওয়ার্ডের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে জ্বর ও ব্যাথা নিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের উঠতি বয়সের ১৩/১৪ বয়সের জনৈক তরুণী চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসার উন্নতি হলে গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তার আগের রাতেই হাসপাতালের ভিতরে এ ঘটনা গঠল। বিষয়টি সারা এলাকায় নানা কাঁনাঘোষাসহ গুঞ্জন ছড়ালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো নজরে আনেনি। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ৮ দিন ধরে গোপনে একটি মহল বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়া জন্য জোড় পায়তাড়া করে আসছিল বলে একটি সূত্র জানায়। কিন্ত অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না। সুতরাং এ ঘটনায় ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার রাতে ওই হাসপাতালে যারা ডিউটি করেছেন তারা হলেন, ডাঃ স্বপন কুমার সুর, নার্স দুলালী, নার্স সুমি আক্তার ও ওয়ার্ড বয় আঃ মাজেদ আলী। সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর জনৈক তরুণী মেয়েকে জ্বর ও শরীর ব্যাথা নিয়ে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসায় তার শরীরের উন্নতি হলে তাকে গত ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (ছুটি) দিবে বলে এগার সেপ্টেম্বর রাতে নার্সেরা জানিয়ে ছিল। কিন্ত তার আগেই গত ১১সেপ্টেম্বর রাত আনমানিক সাড়ে এগার টার দিকে হাসপাতালের কর্মচারী জনৈক যুবক বেড থেকে তাকে ধরে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি এক পর্যায়ে সংঘাহীন হয়ে পরলে তাকে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে ধর্ষক পলিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অপর দিকে ধর্ষিতার মা মেয়েকে বেডে না পেয়ে সামনে গিয়ে দেখেন বারান্দায় অচৈতন্ন অবস্হায় মেয়ে পরে আছে। তখন তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে দেখে ধর্ষিতার মা ডাক্তার ও নার্সকে ঢাকলে তারা তার শরীরের অবনতি দেখে চিকিৎসক ধর্ষিতাকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, ওই সময়ে ডিউটিরত ডাক্তার এবং নার্সদের উপস্হিতে ও মহিলা ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা থাকা সত্তেও কীভাবে এ ঘটনা গঠেছে, জনগণ তা জানতে চায় ? রোগীদের জান-মাল ও নিরাপদের দায়-দায়িত্ব কার ? ঘটনার পরপরই দ্রুত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে হয়তো বা তাৎক্ষণিক ধর্ষককে সনাক্ত করা যেতো, তবে তা দেখতে কেন এত বিলম্ব করা হলো ? এর রহস্য কী ? হাসপাতালের ভিতরে ধর্ষণের ঘটনা গঠেছে অথচ এখনো হাসপাতালের কেউ মুখ খুলছে না কেন এবং কার স্বার্থে ? তাই এ বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদসহ জোড় নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এর দায় হাসপাতাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দসহ কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না ? এ ব্যাপারে সিনিয়র এ প্রতিবেদক মোঃ ইউনুছ আলী গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুনুর রশীদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, এ ঘটনা আমি শুনেছি তবে কেউ এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করে নি। তারপরও আমি নিজের থেকেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। এরিই ধারা বাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জানান যে, এ ঘটনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ সাদিককে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে ২ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে, সঠিক তদন্তে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/২১ সেপ্টেম্বর ‘২০/এসএএইচ
টেনিস এলবো : অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সমাধানের উপায় । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন
টেনিস এলবো
অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সমাধানের উপায়
ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন
টেনিস এলবো মূলত হাতে ব্যথার একটি অবস্থা। যারা হাতে ব্যথায় ভুগছেন তাদরে অনকেরেই এই সমস্যা থাকতে পারে। ‘টেনিস এলবো’ শব্দটা দিয়ে মনে হতে পারে যারা লং-টেনিস খেলে তাদরে ক্ষেত্রে হয়। কিন্তু আসলে কথাটি সঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে টেনিস এলবো হতে পারে। টেনিস এলবো এই বিষয়টি লেখার আগে আমি আপনাদের এলবো সম্বন্ধে একটা ধারণা দিতে চাই।
এলবো বা কনুইয়ের গঠন :
এলবো মূলত আমাদের হাতের একটি জয়েন্ট এবং এটি হাতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়েন্ট। হাতের সব ধরনের নাড়াচাড়া বা মুভমেন্ট এই এলবোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। গঠনগতভাবে এলবো তিনটি হাঁড়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি জয়েন্ট। একটি বাহুর হাঁড় যাকে বলা হয় হিউমেরাস এবং দু’টি হাতের হাঁড় যাকে বলে রেডিয়াস ও আলনা। বাহুর হাঁড়ের বাহিরের দিকে একটি উঁচু অংশে থাকে। আমাদের হাতের নাড়াচাড়া বা মুভমেন্টের সঙ্গে যেই মাংসপেশিগুলো জড়িত, তারা বাহিরের দিকে উঁচু অংশে এসে সংযুক্ত হয় এবং আমাদের হাতের নাড়াচাড়ায় অংশগ্রহণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদি কোনো কারণে এই জায়গাটাতে ইনজুরি হয় বা বারবার চাপ লাগে সে ক্ষেত্রে ছোট্ট টিয়ার হতে পারে। টেনডন হচ্ছে আমাদের মাংসপেশির একটি শেষের দিকের অংশ যা আমাদের হাঁড়ের সাথে মাংসপেশীকে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। এই টেনডন অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে বলে টেন্ডিনাইটিস। টেনিস এলবোতে মূলত এই টেনডন বা মাংসপেশিতে টিয়ার হয়।
টেনিস এলবোতে ব্যথা কেন হয় :
এবার জানাবো কীভাবে টেনিস এলবোতে ব্যথা হয়। যারা বারবার এই এলবোটাকে ব্যবহার করেন, বিশেষ করে টেনিস খেলায় আমরা দেখেছি খেলোয়াড়রা হাত শক্ত অবস্থায় বারবার মুভমেন্ট করে যেটাতে কনুইয়ের বাইরের দিকে হাতের যে মাংসপেশিগুলো সংযুক্ত থাকে সেখানে চাপের তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে বা দীর্ঘদিন এই চাপ অনুভূত হওয়ার কারণে কোনো কোনো সময় এটাতে টিয়ার হয় বা ছোট্ট ফাইবারগুলো ইনজুরি হয়।
প্রথম দিকে এই ব্যথাটা অল্প থাকে যেটা সহনীয় মাত্রায় থাকে। কিন্তু যদি এই অবস্থায় বারবার একই ধরনের মুভমেন্ট করা হয় তাহলে বড় ধরনের টিয়ার হয় এবং তা ক্রনিক ব্যথায় রূপান্তরিত হয়। শুধু টেনিস খেলায় না অন্যান্যভাবেও ব্যথা হতে পারে। যেমন- যারা রংয়ের কাজ করেন, যারা কাঠমিস্ত্রি বা যারা অধিক সময় কাপড় চিপরান বা সাংসারিক কাজ খুব বেশি করেন। কোনো রেস্ট পান না তাদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের টেনিস এলবোর সমস্যা হতে পারে।
কারা ঝুঁকিতে থাকেন :
- সাধারণত সব বয়সের মানুষেরই টেনিস এলবো হতে পারে। তবে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মানুষের মধ্যেই এই টেনিস এলবো সমস্যা দেখা দেয়া।
- যারা টেনিস ও স্কোয়াশ খেলায় সাথে সংযুক্ত থাকেন।
- যারা কারপেন্টার বা কাঠের কাজ করেন।
- যারা রংয়ের কাজ করেন।
- যারা রন্ধনশালায় কাজ করেন।
- যারা ভারী জিনিস তোলার কাজে যুক্ত থাকেন।
- যাদের হাত খুব বেশি নাড়াচাড়া করতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে এই টেনিস এলবো সমস্যা হতে পারে।
টেনিস এলবো সমস্যার লক্ষণগুলো কী কী :
মূল লক্ষণ হচ্ছে ব্যথা। এই ব্যথা অনেক সময় আমাদের কব্জির ডান এবং বাম পাশে নাড়াচাড়া করলে বেশি অনুভূত হয়। কোনো কোনো সময় কোনুই ভাঁজ করা বা সোজা করার সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং হাত মুষ্টিবদ্ধ করার সময় এই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যখন এই সমস্যাটি গভীর হয় তখন অল্প নড়াচড়াতেই ব্যথা অনুভূত হয়।
কীভাবে এই টেনিস এলবো সমস্যাটি শনাক্ত করা যায় :
টেনিস এলবো শনাক্তকরণের জন্য মূলত চিকিৎসকের দেখা এবং শরীরে কিছু পরীক্ষা করা জরুরি। তারপরও বেশ কিছু পরীক্ষা আমরা করাতে পারি। যেমন- অন্যান্য সমস্যা আছে কিনা সেগুলো দেখার জন্য আমরা এক্ষেত্রে এক্স-রে এলবো জয়েন্ট করতে পারি। এটাতে কোনো অস্টিওআর্থারাইটিস বা জয়েন্টে কোনো সমস্যা আছে কিনা। হাড়ভাঙা সমস্যা আছে কিনা এগুলো দেখার জন্য এক্স-রে খুবই সহায়ক। মাংসপেশির ছোট্ট টিয়ার দেখার জন্য এমআরআই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। এছাড়াও মাস্কুলোস্কেলিটাল আল্ট্রাসনোগ্রাম এক্ষেত্রে খুব দরকারী একটি পরীক্ষা।
চিকিৎসা পদ্ধতি :
প্রথমেই বরাবরের মতো যে কথাটি বলবো সেটি হচ্ছে আক্রান্ত হওয়ার আগেই চিকিৎসা এবং ব্যথায় বা টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী চিকিৎসা। আর চিকিৎসা ব্যবস্থা সঠিকভাবে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে ভুল চিকিৎসা অনেক সময় রোগীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসা করার আগে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়টা খুবই জরুরি।
টেনিস এলবো প্রতিরোধে এক্সারসাইজ :
প্রথমেই আসি আক্রান্ত হওয়ার আগে আমাদের করণীয় কী? প্রথমে আমি বলবো- এক্সারসাইজ। এক্সারসাইজের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এক্ষেত্রে ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমরা মাংসপেশী ও টেন্ডনের প্রসারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। তাতে হঠাৎ করে যদি কোনো চাপ লাগে সেটার সহনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমাদের জয়েন্টের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ কোনো চাপ পড়লে তার সহনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামক একটি কেমিক্যাল রিলিজ হয় যা ন্যাচারালী আমাদের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এক্সারসাইজের মাধ্যমে এনকেফলিন নামক একটি পদার্থ রিলিজ হয় যেটা আমাদের মানসিকভাবে চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই ব্যথা কমানোর জন্য এক্সারসাইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে মাংসপেশিগুলোতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং মাংসপেশির রক্ত চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে টেন্ডনগুলোতে ও নিউট্রিশন উপাদানগুলো সরবরাহ করতে পারে এবং টেন্ডন ও লিগামেন্টস ভালো থাকে। তাই টেনিস এলবো প্রতিরোধে এক্সারসাইজের ভূমিকা অপরিসীম। এখন জেনে নেয়া যাক কী কী এক্সারসাইজ টেনিস এলবো করার জন্য করা যেতে পারে। খুবই সাধারণ দু’টি এক্সারসাইজ আমাদের টেনিস এলবো থেকে রক্ষা করতে পারে।
- ১. প্রথম যে এক্সারসাইজটির কথা বলেছি, সেটি হচ্ছে- আপনার হাত, কনুই এবং কব্জি সোজা করে বুক বরাবর রাখুন। এবার কব্জি বরাবর হাতের তালু নিচের দিকে নামান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে আবার সোজা করুন এবং কব্জি বরাবর হাতের তালু উপরের দিকে উঠে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি পাঁচ থেকে দশ বার করার চেষ্টা করুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে ব্যথা হলে এক্সারসাইজ করা যাবে না। এবার আপনার হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বুক বরাবর উঠিয়ে এখন কব্জি বরাবর হাতের মুষ্টি নিচের দিকে নামান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। একইভাবে কব্জি বরাবর মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরের দিকে ঘুরান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এবার হাত সোজা করুন। কব্জি বরাবর ডান ও বাম দিকে ঘোরান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি পাঁচ থেকে দশ বার করার চেষ্টা করুন।
- ২. আরেকটি এক্সারসাইজ হচ্ছে- আপনার হাতে এক কেজি পরিমাণ একটি ভার রাখুন। হাতের ভার রাখা অবস্থায় হাত সোজা করে কব্জি বরাবর হাত নিচের দিকে নামান এবং পাঁচ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এরপর উপরের দিকে উঠিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি সাবধানতার সাথে পাঁচ থেকে দশ বার করতে পারেন। এক্সারসাইজের সময় মনে রাখতে হবে ব্যথা হলে এক্সারসাইজ করা যাবে না। কারণ যদি ব্যথা অবস্থায় এক্সারসাইজ করা হয় তাহলে ব্যথার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং যে ইনজুরিটি আছে সেটিও আরও গভীর হতে পারে।
টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রথমেই আমরা যেটি করি সেটি হচ্ছে রেস্ট দেওয়া বা আপনার এই এলবোকে বিশ্রাম দেওয়া। এ কাজটি আপনি যেভাবে করতে পারেন সেটি হচ্ছে- আপনার এলবোতে নাড়াচাড়া বা মুভমেন্ট হয় এমন কাজ বন্ধ রাখা। যারা খেলাধুলা করেন বা টেনিস খেলেন তারা এ খেলা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন। যারা ঘরের কাজ করেন তারা কাপড় পরানো বা নাড়াচাড়ার কাজ বন্ধ রাখুন। যারা রংয়ের কাজ করেন সেই কাজগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে। যারা কাঠের কাজ করেন সেই কাজগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে।
এবার আসি এই ব্যথায় কী ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। প্রথমেই যেটা বলে নেয়া দরকার সেটি হচ্ছে, আপনি ব্যথার জন্য মূল কারণের চিকিৎসা না করে ব্যথার ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে সাময়িক ব্যথা কমাতে পারে। কিন্তু ব্যথার মূল কারণ থেকেই যাবে। যে কারণে আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথার ওষুধ খেতে হবে। এছাড়াও আপনার সমস্যাটি যাবে না। আবার দীর্ঘমেয়াদি যারা ব্যথার ওষুধ খান তাদের ক্ষেত্রে প্রেশার বেড়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যা ও আলসার জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
তাই আমাদের পরামর্শ- ব্যথার জন্য দীর্ঘমেয়াদি NSAID জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি না খাওয়া। ব্যথার চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ হচ্ছে প্যারাসিটামল। তবে প্যারাসিটামল একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কিছু নির্দিষ্ট দিনের জন্য আপনাকে খেতে হবে। তা না হলে সাময়িক প্যারাসিটামল খেলে বা অনিয়মিতভাবে প্যারাসিটামল খেলে ব্যথার কোনো কাজ হবে না। কারণ আমরা ব্যথার চিকিৎসার জন্য ব্যথার যে চক্র সেটিকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কিছু দিনের জন্য ব্যথার ওষুধ প্যারাসিটামল দিয়ে থাকি, যা খেলে কার্যকরী হয়। তবে সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকের নিকট যাওয়া খুবই জরুরি।
টেনিস এলবো চিকিৎসায় ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা :
এবার বলবো টেনিস এলবোর ব্যথার সর্বাধুনিক চিকিৎসার কথা। টেনিস এলবোর ব্যথার জন্য বর্তমান সময়ে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা খুবই জনপ্রিয় ও কার্যকরী। বেশ কয়েকভাবে এই টেনিস এলবো চিকিৎসা করা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে একজন চিকিৎসক সেখানে ট্রিগার পয়েন্ট ইঞ্জেকশন নামে একটি পদ্ধতিতে আক্রান্ত জায়গায় ইনজেকশন দিতে পারেন এবং সেখানে ব্যথা নিরাময় হয় এবং কিছু দিনের বিশ্রামে আরো উন্নতি লাভ হতে পারে ।
টেনিস এলবো চিকিৎসায় পিআরপি :
এবার আলোচনা করবো- টেনিস এলবোর ব্যথার চিকিৎসায় পিআরপি বা প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা এর ভূমিকা। শুরুতেই বলে নেই, প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি হচ্ছে আমাদের শরীরের থেকেই নেয়া রক্তের একটি অংশ। এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত নেয়া হয় এবং সেটাকে একটি মেশিনের মধ্যে দিয়ে রক্ত কণিকাগুলোকে আলাদা করা হয় এবং প্লাজমাকে আলাদা করা হয়। এই প্লাজমার ভিতরে প্লাটিলেট ও অন্যান্য অনেক গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। যেগুলো আমরা আক্রান্ত জায়গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেই। খুবই ছোট্ট সুইয়ের মাধ্যমে আমরা ব্যথামুক্তভাবে দিতে পারি। এই পিআরপি আক্রান্ত জায়গায় গ্রোথ ফ্যাক্টর রিলিজ করে এবং সেখানে ক্ষত পূরণে সাহায্য করে। পিআরপি চিকিৎসায় কোনো ধরনের সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এ জন্য এটি নিরাপদভাবে যে কেউ নিতে পারেন। পিআরপির বিভিন্ন চিকিৎসা আছে। তার মধ্যে আমরা টেনিস এলবোতে টিআরপির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থায়ী চিকিৎসা হয়।
টেনিস এলবো চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি :
ফিজিওথেরাপির বিভিন্ন চিকিৎসা টেনিস এলব’র ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটি আপনার ব্যথা নিরাময়ে এবং টেনডনের ক্ষত পূরণে সাহায্য করতে পারে। ফিজিওথেরাপির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আল্ট্রাসাউন্ড, আইস মেসেজ, মাসেল হিটিং এই বিষয়গুলো অন্যতম। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইঞ্জুরি গভীর হওয়ার কারণে ফিজিওথেরাপি দীর্ঘমেয়াদি বা কখনো কখনো ব্যর্থ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পিআরপি খুবই ভালো একটি অপশন হিসেবে কাজ করে।
শেষ কথা :
ব্যথা আমাদের সুন্দর ও হাসিখুশি জীবন যাপনকে ব্যহত করে। হাত আমাদের সার্বক্ষণিক কাজের একটি অঙ্গ। এই হাত যদি ব্যথায় আক্রান্ত হয় তবে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তাই বলবো সতর্ক হোন ও সুস্থ থাকুন। অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থতার গুরুত্ব বুঝুন।
সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করুন এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।
(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা)
আলোকিত প্রতিদিন/১৭ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন
সিলেটের প্রখ্যাত আলেম আ.ফ.ম আব্দুর রহমান সাহেব কিডনী রোগে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি
সিলেট সংবাদদাতা : সিলেটের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, শাহজালাল জামেয়া ইসলামীয়া পাঠানটুলা মাদ্রাসার সদ্য অবসর প্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শায়খুল হাদিস আল্লামা আবুল ফজল মুহাম্মদ আব্দুর রহমান (আ.ফ.ম আব্দুর রহমান) সাহেব কিডনি রোগ ও অন্যান্য অসুস্থতা নিয়ে প্রফেসর ডা: মুজিবুল হক মোল্লাহ’র তত্ত্বাবধানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
তিনি গত ১২ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে সিলেটের মাউন্ট এ্যাডোরা ও আল হারামাইন হাসপাতালে কয়েকজন ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা নেয়ার পরও শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় ২৩ আগস্ট ঢাকায় ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে প্রফেসর ডা: মো: ফখরুল ইসলাম ও সহ-প্রফেসর ডা: হুমায়ুন কবির সেলিম এর অধীনে ভর্তি হন। তাদের তত্ত্বাবধানে ২৮ আগস্ট কিডনিতে “পিসিএনএল” অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর কিডনিতে ক্রিটিনাইন এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে গত ৭ আগস্ট রাতে হুজুরকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে ডায়ালাইসিস দেয়া হয়।
মোঠোফোনে হুজুরের বড় ছেলে জানিয়েছেন – “আলহামদুলিল্লাহ! বাবা এখন অনেক ভালো আছেন, ডায়ালাইসিসের পর ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।”
হুজুরের রোগমুক্তির জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে হুজুরের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী, বন্ধু, ভক্ত ও আত্মীয় -স্বজন রয়েছেন সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
জনাব আ.ফ.ম আব্দুর রহমান ১৯৭৭ইং থেকে ১৯৮৪ইং পর্যন্ত হাকালুকি দারুসসুন্নাহ মুহাম্মদীয়া মাদ্রাসার মুহতামীম ছিলেন। ১৯৮৪ইং থেকে ১৯৮৭ইং পর্যন্ত হাড়িকান্দি দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন।
১৯৮৮ইং তে ফতেহপুর মাদ্রাসায় যোগদান করেন। এরপর ১৯৯০ তে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সর্বশেষ ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে অত্র মাদ্রাসা থেকেই তিনি অবসর গ্রহন করেন।
এছাড়া তিনি ১৯৯০ সাল থেকে সিলেট জালালাবাদ জামে মসজিদে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এবং শেখঘাট জামে মসজিদে ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দ্বীনের এ দা’য়ী।
মহান আল্লাহ তার এই বান্দাহকে, দ্বীন ইসলামের খাদিমকে নেক হায়াত ও সুস্থতা দান করুন -এই প্রার্থনা করছেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ আগস্ট-২০২০/জেডএন
গাইবান্ধায় ফুটপাতের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ
সংবাদদাতা, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের পৌরসভা অংশে কলেজরোডে ফুটপাত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ ও গণস্বাক্ষর সম্বলিত গণআবেদন প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় এ কর্মসুচি পালন করা হয়। স্থানীয় নাগিরিক সংগঠন সচেতন গাইবান্ধাবাসীর উদ্যোগে জেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আমিনুল আসলাম গোলাপের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক রোকেয়া খাতুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন, সাবেক এমপি আব্দুর রশিদ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল হোসেন রাজা, সমাজকর্মী জাহাঙ্গীর কবীর তনু, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ মনা, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের জেলা সভাপতি মোস্তফা মনিরুজ্জান, বাসদ মার্কসবাদী জেলা সদস্য সচিব মনজুর আলম মিঠু, আবু রাহেন শফিউল্য্যাহ খোকন, গাইবান্ধা পৌর কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম সুমন, জাতীয় শ্রমিক জোট জেলা সভাপতি নুর মোহাম্মদ বাবু, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহ আহসান হাবিব রাজিব, জেলা যুবজোট সভাপতি সুজন প্রসাদ, খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, কলেজ রোডে জেলার সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই যাতায়ত করে। গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকের রোগী এবং তাদের স্বজনদের চলাচলের একমাত্র সড়কও এটাই। সম্প্রতি নতুন করে প্রশস্থ করাসহ এই সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই সড়কের দু’পাশে কোন ফুটপাত নেই। সড়ক প্রশস্থকরণের ফলে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাবে। সেইসাথে ব্যস্ততম এই সড়কে ফুটপাত না থাকলে দূর্ঘটনার শঙ্কাও বাড়বে। বক্তারা এই সড়কে ফুটপাত নির্মাণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। অন্যথায় আগামী ৫ অক্টোবর জেলা সড়ক ও জনপথ কার্যালয় ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচির আল্টিমেটাম দেন। সমাবেশ শেষে কর্মসূচিতে অংশগ্রহকারীরা গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কটি অবরোধ করে। এসময় দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আয়োজকদের একটি প্রতিনিধি দল কয়েক সহস্রাধিক মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি গণআবেদন গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে প্রদান করে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ
দিনাজপুরে দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ১
পি,সি দাস, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরের ২টি উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক হেলিপোর্ট এলাকায় ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাপলা খাতুন (৩৭) নামে একজন নারী নিহত হয়েছে। নিহত শাপলা খাতুন চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার শাহাপাড়ার শামীম সরকারের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, স্বামী সন্তানসহ মোটরসাইকেল যোগে শাপলা খাতুন কারেন্ট-হাট যাওয়ার পথে আঞ্চলিক সড়ক হেলিপোর্ট এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক্টর মোটর সাইকেলটিকে সজোড়ে ধাক্কা দিলে শাপলা খাতুন ট্রাক্টরের চাকার নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে। চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে সকাল ১১ টায় বিরলে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১ জন। দিনাজপুর -বিরল-বোচাগঞ্জ-কাহারোল সড়কের বিরল উপজেলার ধামইর ইউপি’র বাজনাহার (তনয় ব্রিক্স) নামক স্থানে স্যালো চালিত ভটভটির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দূর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভান্ডারা ইউপি’র ভারাডাঙ্গী গ্রামের মহির উদ্দীনের পুত্র ফিরোজ জামাল (৪০) নামের মোটরসাইকেল চালক নিহত হয় এবং অপর আরোহী ডেকোরেশন ব্যবসায়ী হরিশ চন্দ্র গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ফিরোজ জামাল ইউপি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভান্ডারা ইউপি’র বেতুড়া বাজার আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ
অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে বশেমুরবিপ্রবির সোয়া কোটি টাকার বেড
প্রতিনিধি, বশেমুরবিপ্রবিঃ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আবাসিক হলের প্রায় ৮০০টি স্টিলের বেড খোলা আকাশের নীচে বছরের পর বছর পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে। যার মূল্য সোয়া কোটি টাকারও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র ক্রয় করায় এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় মূলত স্টিলের এই বেডগুলোসহ অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের অংশে প্রায় ৫০০টি এবং পেছনের অংশে প্রায় ৩০০টি স্টিলের বেড ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রোদ, বৃষ্টি এবং ধুলোবালির প্রভাবে এসব বেডে একদিকে যেমন মরিচা পড়তে শুরু করেছে অন্যদিকে বেডগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঝোপঝাড়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কস দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বশেমুরবিপ্রবির অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই বছরে এ সব বেড ক্রয় করা হয়েছে। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ও খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে ১১টি ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৪ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬২৫ টাকায় দুই হাজার ৬৭০টি বেড ক্রয় করা হয়েছিল। প্রতিটি বেডের গড় মূল্য ১৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। এর মধ্যে শুধু ২০১৯ এর ২৮ মে এবং ২৬ জুন দুই দিনেই এক হাজার ৯৪৫টি বেডের অর্ডার দেয়া হয়েছিল। তবে এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ৪০০ আসনবিশিষ্ট মাত্র দুটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত পূর্বনির্মিত হলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস হল থেকে ২০টি বেডের চাহিদা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বেড ক্রয় করায় এখন প্রায় ৮০০ বেড নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য এক কোটি ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্মিত হলগুলোর জন্য ১০০০-১৫০০টি বেড যথেষ্ট ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বেড অর্ডার করায় সেগুলো এখন নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সকল বেড জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা হয়। অবশ্যই এই টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক হাজার ৯৪৫টি বেডের ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানকারী প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. এম এ সাত্তার বলেন, তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের নির্দেশেই এ সকল ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাকে ওয়ার্ক অর্ডারের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদানেরও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আমি অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে রাজি হইনি। পরে প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করি।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ
সাভারে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
আলী হোসেন, সাভারঃ সাভারের আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব ৪। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, হারুনুর রশিদ সুলতান (৩২) ও আহমেদ লতিফ (৫০)। র্যাব ৪ জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইয়াবা বিক্রি করার সময় ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। র্যাবের দাবি আটক দুই মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি মাদক বিক্রি করে যুব সমাজ নষ্ট করে আসছিলো। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়েছেন র্যাব ৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ
মহিপুরে চোলাই মদ ও গাঁজাসহ গ্রেফতার – ৩
সংবাদদাতা, কলাপাড়া(পটুয়াখালী): মহিপুরে চোলাই মদ ও গাঁজাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আল-আমিন (৪৫)কে চোলাই মদ ও আরেকটি পৃথক অভিযানে মহিপুর থানার এস আই সাইদুল ইসলাম ও এস আই বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে আলিপুর থ্রি পয়েন্ট থেকে রবিন কর্মকারকে গাজা ও কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে হাসান খলিফাকে চোলাই মদসহ আটক করা হয়। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আল-আমিন পূর্ব ডালবুগঞ্জ গ্রামের মৃত ইউসুফ হাওলাদারের পুত্র, রবিন কর্মকার বরিশাল রূপাতলীর পরিমল কর্মকারের ছেলে, হাসান খলিফা কুয়াকাটা পৌরসভার শরীফপুর গ্রামের মাসুদ খলিফার ছেলে। মহিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের কলাপাড়া আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ
বশেমুরবিপ্রবিতে “ভোক্তার গল্পকথন” শীর্ষক অনলাইন গল্প প্রতিযোগিতা
যুথি সাহা, বশেমুরবিপ্রবিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও ভোক্তাদের অধিকার প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ” ভোক্তার গল্পকথন ” শীর্ষক একটি অনলাইন গল্প প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) বশেমুরবিপ্রবি শাখা। “ভোক্তার গল্পকথন ” শীর্ষক অনলাইন প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সিওয়াইবি বশেমুরবিপ্রবি শাখার সাঃ সম্পাদক বিভাষ বাইন জানান, ভোক্তার গল্পকথন প্রতিযোগিতা মূলত বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভোক্তা বিষয়ে সচেতনতা ও ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানোর জন্য তাদের এই গল্পকথনের আয়োজন। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকারের উপর একটি গল্পের প্রথম অর্ধেক প্রকাশ করা হবে ” ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” এর উপর ভিওি করে প্রতিযোগীকে বাকি অংশ সম্পন্ন করতে হবে এবং যথাযথ সময়ের মধ্যে লেখা পাঠাতে হবে। গল্পকথন অনলাইন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের আর্কষনীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। উল্লেখিত,কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) হলো কনসাস কনজুমার সোসাইটি’র (সিসিএস) একটি অঙ্গ সংগঠন। সেচ্ছাসেবী এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো- ভোক্তাকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।সিওয়াইবি বশেমুরবিপ্রবি শাখা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী, সেমিনার, অনুষ্ঠান মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হোটেলগুলোতে খাবারের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

