আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2511

মধুখালীতে দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উৎসব আমেজে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা

সংবাদদাতা, মধুখালী(ফরিদপুর): ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারন নির্বাচন ও একটি ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১টি ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে আনন্দ উৎসব আমেজে  প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল ইসলামের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত মধুখালী উপজেলার গাজনা ও কোরকদি দুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারন নির্বাচন ও রায়পুর ইউনিয়নের একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের উপনির্বানে প্রার্থীগণ উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে  দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ মনোয়নপত্র জমা দেন। গাজনা ইউনিয়নে জমা দিয়েছেন পিতা পুত্রসহ ৮জন। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী সুখেন মজুমদার, বিএনপির প্রার্থী হলেন মোঃ সুমন মোল্লা, অন্যান্য প্রার্থী হলেন, মোঃ গোলাম কিবরিয়া, বিশোকা কুন্ডু, আব্দুল  মান্নান মোল্যা, মোঃ আসাদুল ইসলাম, মোঃ হায়দার আলী খান এবং মেহেদী হাসান কামাল মোল্লা। কোরকদিতে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মুকুল হোসেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মোঃ মেহেদী হাসান। অন্যান্যরা হলেন- বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ তারিকুল ইসলাম এনামুল, মুক্তি  আরিফ, ওমর ফারুক। রায়পুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের  সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাাঁর হলেন মোসাঃ  রুমা  বেগম , মোসাঃ সামিরা  খাতুন, সাম্মী আক্তার সোহাগী এবং রাশিদা বেগম। দুটি ইউনিয়নের সাধারন সদস্য কোরকদি ২৯ সংরক্ষিত নারী সদস্য ১৫ এবং গাজনা সাধারন সদস্য ৩৮ এবং  সংরক্ষিত নারী সদস্য -১৫। উল্লেখ্য ২০ অক্টোবর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

 

 

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সংবাদদাতা, গাইবান্ধাঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৪ তলা বিশিষ্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজের শুরু করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি নতুন ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবির, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ সরোয়ার কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রষূন কুমার চক্রবর্তী সহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে দূর্বার গতিতে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। আ.লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই জনগন কিছু পায় ও উন্নয়ন হয়। তিনি বলেন, বন্যা ও করোনা মোকাবেলা করে সরকার বিশ্ব দরবারে খ্যাতি অর্জন করেছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

ফুলবাড়ীতে বড়ভিটা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের মাঝে রোটারি ক্লাবের ত্রাণ বিতরণ

মোস্তাফিজার রহমান(জাহাঙ্গীর), ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ৪ শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ” রোটারি ক্লাব ধানমন্ডি ঢাকা ” এর জরুরি ভিত্তিতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচীর আওতায় ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়নটির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। প্যাকেটে ছিল -চাল ৮ কেজি, ডাল ১ কেজি, আলু ৩ কেজি, পিঁয়াজ ১কেজি, সায়াবিন তেল ১লিটার ও চিড়া ১ কেজি। বিতরণ কালে নাগেশ্বরী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি লুৎফর রহমান, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রাজীব কুমার রায়, বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া, রোটারি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রফিকুর রহমান, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট সাইফুল আমিন সিয়াম, সদস্য এসএম মামুন ও খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

 

সাভারে শিক্ষার্থী নিলা রায় হত্যার ঘটনায় আটক সেলিমের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর  

আলী হোসেন, সাভারঃ সাভারে শিক্ষার্থী নিলা রায় হত্যাকান্ডের আলোচিত ঘটনায় প্রধান সহযোগী সেলিম পালোয়ান (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। তবে প্রধান আসামি মিজানুরকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জের আরিচায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক সেলিম পালোয়ান সাভারের পালপাড়া এলাকার হাফিজ পালোয়ানের ছেলে। সে হত্যাকান্ডের সময় মিজানুরের সাথেই ছিল বলে দাবি পুলিশের। এদিকে তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির একটি টিম। এসময় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন তারা। পুলিশ জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর নিলা রায় নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করা হয়।  পরে তার বাবা নারায়ন রায় বাদি হয়ে মিজানুর রহমানকে আসামি করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে সাবার থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে সেলিম পালোয়ান  এজাহারভুক্ত আসামি নয়। প্রসঙ্গত, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করায় গত ২১ সেপ্টেম্বর নিলা রায় নামের এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতাল রিকশাযোগে বাসায় ফেরার পথে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করে মিজানুর চৌধুরী। নিহত নিলা মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ন রায়ের মেয়ে। সে তার পরিবার নিয়ে পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়া এলাকার একটি বাড়ীতে ভাড়া থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলে লেখাপড়া করত। অন্য দিকে আসামি বখাটে মিজানুর রহমান চৌধুরী একই এলাকার বাসিন্দা। সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।  এক পর্যায়ে গত রাতে আরিচা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

সোনারগাঁয়ে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রতিনিধি, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নুরী বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুরী বেগম পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর গ্রামের নায়েব আলীর স্ত্রী। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করেছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার মেঘনা টোলপ্লাজার সামনে রাস্তার ডিভাইডারের উপর দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দ্র্রুতগামী একটি বাস বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২২ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

গাজীপুরে জনবহুল বাংলাবাজার-মির্জাপুর সড়কের বেহালদশা, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আলমগীর হোসেন, শ্রীপুর(গাজীপুর): গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর থেকে বাংলাবাজার হয়ে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার পথ চলাচল অনুপযোগী। খনা-খন্দ আর জলাবদ্ধতায় সয়লাব সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ। সাত কিলোমিটার সড়কের ওই অংশের জন্য ভাল অংশটুকু ব্যবহারের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে, মাস্টারবাড়ী-মির্জাপুর রোডের সাগর মার্কেট থেকে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার চলাচল অনুপযোগী রাস্তার জন্য ৭ কিলোমিটারের ভাল পথ ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা। গত প্রায় সাত বছর যাবত সড়ক দুটির ওইসব অংশ চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক দুটি পাকা করে নির্মাণ হলেও বর্তমানে খনা-খন্দ, কর্দমাক্ত, জলাবদ্ধতা আর ধুলোবালিতে একাকার হয়ে থাকে সারা বছর। পিচ ঢালাই ও পাকা রাস্তার উপকরণের অস্তিত্ব বিলীণ হয়ে পড়েছে আরও আগেই। রাজেন্দ্রপুর-মির্জাপুর রোডে চলাচলকারী ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা চালক সফিকুল ইসলাম জানান, সড়কের মেম্বারবাড়ী থেকে বটতলা মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার চলাচলে একবারেই অনুপযোগী। সপ্তাহে একাধিকবার যাত্রী নিয়ে পানির নিচে গর্তে পড়ে অটোরিক্সা উল্টে যায়। দুই শতাধিক অটোরিক্সা চলাচাল করে এ সড়কে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পর্যন্ত যেতে বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই। কাভার্ডভ্যান চালক নাজমুল হাসান বলেন, কারখানার পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও মেশিনপত্র বহনকারী কন্টেইনারগুলো প্রায়ই সড়কের গর্তে আটকে পড়ে দীর্ঘ সময়ের যানজটের সৃষ্টি করে। স্থানীয় একটি রপ্তানীমুখী কারখানার জ্যৈষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম জানান, বাসা থেকে ভাল কাপড় পড়ে বের হয়ে রাস্তাটুকু পার হলে আবার কাপড় বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। অফিস থেকে ফেরার পর বাসায় গেলে আবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সড়কের যাতায়াতে কাদা-পানিতে কাপড় চোপর ময়লা হওয়া বাধ্যতামূলক ঘটনা। বটতলা মোড়ের কনফেকশনারী ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, আট বছর হলো ব্যবসা করছেন। এর মধ্যে বর্ষকালে দোকান খুলে বসে থাকতে হয়। খুব বিপদে না পড়লে কেই তার দোকান পর্যন্ত আসে না। যেসব যানবাহন রাস্তার গর্তে আটকে যায় এমন যানবাহনের যাত্রী বা চালক তার দোকানের ভোক্তা হয়। এমন আরেক সাইকেল পার্টসের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওমর আলী বলেন, আট বছরের মধ্যে এক বছর ভালভাবে ব্যবসা করেছেন। কিন্তু গত সাত বছরের মধ্যে বিশেষ করে বর্ষাকালে ভোক্তার সংখ্যা কমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ত এখন বন্ধ কিন্তু এমন ছুটি আমাদের সন্তানদের প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কাটাতে হয় শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা আর কাদা-পানি রাস্তার জন্য। অথচ গ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার পথ বা অন্যদিকে তিন কিলোমিটার পথ পার হলেই পাকা সড়ক। সামান্য অচল সড়কের জন্য ভাল পাকা সড়কের সুফল অঅমরা ভোগ করতে পারছি না। নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেডের রিবন শাখার শ্রমিক মোক্তার হোসেন বলেন, মাস্টারবাড়ি-মির্জাপুর সড়কের সাগর মার্কেট থেকে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথ পুরোটাই জলাবদ্ধতা আর কাদা পানির পথ। এ সড়কে পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দেয়ার জো নেই। সুইং শাখার শ্রমিক আহাম্মদ আলী বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় যানবাহনে বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। সুইং অপারেটর হালিমা খাতুন ও ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, শ্রমিক-কর্মচারী বা তার মতো অন্য কোথাও কর্মরত ব্যাক্তিরা সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারেন না। এতে সাধারণ শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস, ওভারটাইম থেকে টাকা কাটা যাচ্ছে। শুধুমাত্র সড়ক চলাচল অনুপযোগীতার কারণে তারা শ্রম বিক্রি করেও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেডের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক বলেন, সড়ক অচলাবস্থার কারণে বায়াররা গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে চায় না। একই প্রতিষ্ঠানের মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ খান বলেন, পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও কন্টেইনার সড়কের গর্তে আটকে পড়ায় কোনো কোনো সময় রপ্তানী করা পণ্যের শিপমেন্ট মিসিং হয়। এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বারেক জানান, সড়ক দুটি সাত বছর যাবত চলাচাল অনুপযোগী নয়। তিন বছর আগে সংষ্কার করা হয়েছিল। সংষ্কারের কিছুদিন পরই সিটি করপোরেশন তুরাগ নদী পর্যন্ত তাদের ড্রেন নির্মাণকাজের খনন শুরু করে। এরপর থেকে চলাচাল সমস্যা দেখা দেয়। এ বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন সড়কটি মেরামত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মেম্বারবাড়ী থেকে বটতলা পর্যন্ত ওই সড়কের সাড়ে তিন’শ মিটার সড়ক সংষ্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন জোন-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিবুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটুকু সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে। যেহেতু সিটি করপোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেহেতু, রাস্তার মেরামত কাজ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেই করে দেয়া হবে। ড্রেনের কিছু পয়েন্ট কানেক্টিং বাকি রয়েছে। তা শেষ করে মেরামত খুব শীঘ্রই শুরু হবে। ইতোমধ্যে সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২২ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

মানিকগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে ভূয়া ডাক্তারকে জরিমানা

প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পল্লী চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও নামের সাথে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগে ভূয়া ডাক্তার গিয়াজ উদ্দিনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টম্বর) বিকেলে উপজেলার ঝিটকা বাজারে পল্লী চিকিৎসক মোঃ গিয়াস উদ্দিন ভূইয়াকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড (অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড) প্রদান ও মেডিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বিল্লাল হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই অর্থদন্ড প্রদান ও মেডিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেন। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জানা যায়, সম্প্রতি পল্লী চিকিৎসক মোঃ গিয়াস উদ্দিন ভূইয়ার ভূল চিকিসায় উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা সিকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নয়ন মিয়ার ছেলে শাহজাহানের (৩৫) মৃত্যু হয়। পরে ওই চিকিৎসক ঝিটকা বাজার কমিটির মাধ্যমে নিহত শাহজাহানের পরিবারকে ষাট হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন /২২ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবকলীগের দোয়া মাহফিল

প্রতিনিধি, সাভারঃ সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আওয়ামী লীগ তথা দলীয় সকল নেতাকর্মী’র রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর নির্দিষ্ট সামাজিক দূরূত্ব বজায় রেখে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সায়েম মোল্লার পরিচালায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মনঞ্জুরুল আলম রাজীব। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আশিষ কুমার মজুমদার, ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী ইমতিয়াজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন মাদবর, মাহবুবা পারভীন, রণজিৎ সাহা, রঞ্জন দাস রুনু, নূর হোসেন মিন্টু, আব্দুর রউফ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ন‚র হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান, সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রতন সাহা, সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ লিটন, আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহিদুল্লাহ মুন্সী, ধামরাই থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোঃ শুকরানা প্রমুখ সহ ঢাকা জেলা উত্তর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং এর অন্তর্গত সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ সকল সহযোগী এবং অঙ্গসংগঠনের করোনা আক্রান্ত সকল নেতাকর্মীদের রোগ মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দেশব্যাপী করোনা সম্পর্কীয় বিভিন্ন সচেতনতা বৃদ্ধিম‚লক প্রোগ্রামে এবং ত্রাণ বিতরণ ও বন্যার্তদের সাহায্যার্থে নিজে উপস্থিত থেকেছেন। এই সময়ে তিনি নিজে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হন। সারাদেশব্যাপী তাঁর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার অংশ হিসেবেই সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই উদ্যোগ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২২ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

অনুশোচনা । সাদিয়া জামান হিরা

গল্প

অনুশোচনা
সাদিয়া জামান হিরা

       আজ বহুদিনের পুরনো একটা কথা মনে পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো নীলাদ্রির, প্রায়ই হয়। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির শব্দ ছাড়া কোনো শব্দই শুনা যাচ্ছিলো না। বৃষ্টির এক টানা ঝমঝম শব্দ তার মনকে আরও বিচলিত করে তুলছিলো। বহুদিন চাপা পড়ে থাকা কথাটা ভিতরে আলোড়ন তৈরি করছিলো। কথাটা কাউকে বলা দরকার। কিন্তু এমন জঘন্য কথাটা কাকে বলা যায় সেটা ভেবে পেলো না সে। তাই ড্রয়ার থেকে তালা খুলে ডায়রীটা তুলে নিয়ে লিখতে বসলো।

২০.০৬.২০২০
      হঠাৎ করেই কোত্থেকে একটা সাদা-কালো বিড়ালের বাচ্চা এসেছে বাড়িতে। বাচ্চাটা দেখতে খুবই কিউট কিন্তু তার একটা চোখ কেউ তুলে নিয়েছে। বিড়ালের বাচ্চাটাকে দেখে খুবই মায়া লেগেছিলো আমার। পেটটা একদম ভেতর দিকে ঢুকে গেছে। তাকে মাছ দিয়ে ভাত মেখে দিলাম। খেতে পারলো না। মাছের কাঁটা দিলাম তাও খেতে পারলো না। বাচ্চাটার জন্য কেনো জানি আরও বেশি মায়া লাগতে লাগলো। বয়স বেশি হলে দেড় থেকে দুই মাস হবে। মা-কে ডেকে এনে বিড়ালছানাটাকে দেখালাম। মা আদর করে কোলে তুলে নিলো। তাকে ভালো করে গোসল করিয়ে এনে বাটিতে করে দুধ খেতে দিলো। রাতে বাবা এলে তাকেও দেখালাম বিড়ালটাকে। সেও পছন্দ করলো খুব। এভাবে বেশ কয়েকদিন খুব ভালোই যাচ্ছিলো। আমার অবসরের বেশিরভাগ সময়টাই বিড়ালটাকে নিয়ে কাটছিলো।

      দিন পনেরো পরের কথা। বিড়ালছানাটাকে আমি এখন ভীষণ অপছন্দ করি। এর কারণটা হলো ওর প্রতি সবার ভালোবাসা। আমি যেহেতু বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তাই সবার ভালোবাসা আর প্রশ্রয় পেয়ে পেয়ে আহ্লাদী হয়ে উঠেছিলাম। আর বাড়ির সবাইকেও আমার সব কাজ বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হতো। কারণ আমি ভীষন জেদিও ছিলাম! কিন্তু এই বিড়ালছানাটার প্রতি সবার এতো ভালোবাসা দেখে আমি ভিতরে ভিতরে জ্বলে যেতে লাগলাম। মনে হয়েছিলো আমার প্রতি এতো দিন যে ভালোবাসাটা ছিলো সেটা আর নেই। আর এরকম মনে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিলো। কারণ এই কয়েকটা দিনে আমি সবকিছুতে বড্ড অনিয়ম করতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু একসময় যে মা আমার মাথায় একটা চুল এলোমেলো থাকলেও হায় হায় করে ছুটে আসতো, সেই মা আমার অনিয়ম লক্ষ্যই করলো না! যেই বাবা প্রতিদিন ফেরার আগে আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতো কী কী আনবে, সে এখন আমাকে ফোন দেয়ার আগে মা-কে ফোন দেয় এটা জানতে যে, বিড়ালের জন্য কী আনবে?

      একদিন তো আমার চকোলেট আনতে ভুলেই গেল, কিন্তু বিড়ালের জন্য ঠিকই বল নিয়ে এসেছিলো। অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবার আদর আবার পেতে হলে এই বিড়ালটিকে বাড়ি থেকে তাড়াতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আমার এক ফ্রেন্ডকে ফোন করে বললাম বিড়ালছানাটাকে যেন দূরে কোথাও রেখে আসে। সে আমার কথা মতোই বিড়ালটাকে পাশের এলাকায় ছেড়ে দিয়ে এলো। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক বাবা! আপদ দূর হলো। এখন আমার আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রইলো না। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন মিথ্যে হয়ে গেল যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বিড়ালটার গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে মা বলছে “কী রে! কাল সারারাত কই ছিলি? হ্যাঁ?” ভাগ্যিস বিড়ালটা কথা বলতে পারে না। এরপর আমার ফ্রেন্ডকে বললাম আরও দূরে ফেলে দিয়ে আসতে। সে আমার কথামতোই কাজ করলো। এবার বিড়ালটি আর ফিরলো না। দুই দিন পার হয়ে গেল, তা ও না। মনে মনে আমি ভীষণ খুশি হলাম। কিন্তু বাসার সবার ভীষণ মন খারাপ। ৩ দিনের দিন রাতের বেলা বাবা ফোন দিয়ে বললো, ” তোদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। রেডি থাকিস।” আমি খুশিতে তাধিন তাধিন করে নাচতে লাগলাম! সারপ্রাইজটা কী হতে পারে আর কী উপলক্ষে তা ভাবতে লাগলাম! চকোলেট/ কেক/ টেডি বিয়ার/ ড্রেস নাকি দামী জুয়েলারি? এসব ভাবতে ভাবতেই কলিং বেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললাম। কিন্তু দরজা খুলেই আমার হাসি মুখটা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেলো। বাবার কোলে সেই বিড়ালটা! যাকে আমি আমার ফ্রেন্ডকে দিয়ে আজিমপুর এতিমখানার পাশে ফেলে এসেছিলাম। বাবা একে কোথায় পেলো? বাবা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, আমার শুনতে ইচ্ছে হলো না। দ্রুত নিজের রুমে এসে দরজা লক করে দিলাম।

      প্রতিদিন বিড়ালটাকে দেখে দেখে আমি অতিষ্ট। কিছুতেই কি এ আমার জীবন থেকে দূর হবে না? প্রতিদিন আমি নানা রকম পরিকল্পনা করি কিন্তু প্রত্যেকটাই বাতিল করে দেই। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? সেই উপায়ও পেয়ে গেলাম। পরদিন বিড়ালটাকে নিয়ে গেলাম ছাদের উপর। ফেলে দিতে গিয়ে ভাবলাম এর মৃত্যুটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাচ্ছে। তারচেয়ে একটু ধীরে ধীরে মারা যাক একে। রুমে নিয়ে গিয়ে কাঁটা কম্পাসটা তুলে নিলাম জ্যামিতি বক্স থেকে। সেটা দিয়ে খুঁচিয়ে ওর আরেকটা চোখ ও নষ্ট করে দিলাম। এরপর ছাদ থেকে আসার সময় নিয়ে আসা লেবু কাঁটাগুলো ঢুকিয়ে দিলাম ওর শরীরে এখানে-সেখানে। বিড়ালটার মিউমিউ ডাক শুনে আমার ভিতরের পশুটার মায়াতো হলোই না বরং সে আরো হিংস্র হয়ে উঠলো। কিন্তু এক দিনের জন্য যথেষ্ট হয়েছে, তাই এখানেই থামলাম। কিন্তু ছেড়ে দিলাম না। বেঁধে রাখলাম ওকে আমার ঘরেই। সারাদিন খাবার দিলাম না। শেষে বিকেলে সুযোগ বুঝে রেখে এলাম ছাদে লেবুগাছের টবটার পাশে। বিড়ালটা খুবই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো আর এখন পুরোপুরি অন্ধও। তাই মনে হয় চুপচাপ সেভাবেই পড়ে রইলো। সন্ধ্যায় মা কাপড় নিতে গিয়ে ওকে নিয়ে এলো। সেদিন মায়ের চোখে পানি টলমল করতে দেখেছিলাম আমি। কিন্তু সেটা অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয়ার মতোই আমার মনের আগুনকে আরো জ্বালিয়ে দিলো। এর একদিন পর আবার নিয়ে এলাম বিড়ালটাকে। এর একটা কান আর শরীরের একটা সাইড কেরোসিন ঢেলে ভিজিয়ে নিলাম। এরপর আগুন জ্বালিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণ সেভাবে রেখে আগুনটা নিভিয়ে দিলাম। এরপর কিচেনে গিয়ে আগেই চুলায় বসানো দুধের পাতিলটা উল্টে দিলাম আর তার উপর বসিয়ে দিলাম বিড়ালটাকে। ব্যাস! আমার কাজ প্রায় শেষ। এবার কিচেনের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে মা-কে ডাকলাম আর এমন অভিনয় করলাম যেন আমি কিছুই জানি না। গ্যাসে দুধ বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম, এসে দেখি এই অবস্থা! সেদিনও সব চুকে বুকে গেল। সেদিন মা ওকে পশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করিয়ে আানলো। এর ৩ দিন পর। আজ আসল কাজটা করবো। একটা বালতিতে পানি নিয়ে বিড়ালটাকে নিয়ে এলাম বাবা-মায়ের ঘরের সাথে লাগোয়া ওয়াশরুমে। বাসায় কেউ নেই।

       বাবা অফিসে, মা গেছে ঠাম্মাকে নিয়ে হাসপাতালে। কাল থেকে এটাকে খেতে দেইনি আমি। এমনি আধ মরা হয়ে আছে। মরতে বেশিক্ষণ লাগবে না। এরপর বিড়ালটাকে ছেড়ে দিলাম সেই বালতির পানিতে। ওকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে আমার কী যে শান্তি লাগছিলো তখন সেটা বলার মতো না। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে উঠলো বিড়ালের দেহটা। এটাকে এভাবে রেখেই আমি চলে গেলাম আমার কাজে। সন্ধ্যায় মা বাড়ি এসে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলো বিড়ালটাকে খেতে দিয়েছি কি না? আমি সহজভাবেই উত্তর দিলাম, “সারাদিন ওকে দেখিনি। হয়তো কোথাও চলে গেছে আবার।” সেদিন রাতে আমাদের বাড়িতে মরা কান্নার রোল উঠলো। বিড়ালটার এই অবস্থা দেখে মা সেদিন খুব কান্না করেছিলো, বাবা নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলো না।
      সেদিন কী করে যেন মা-বাবা দু’জনই বুঝেছিলো কাজটা আমার। মা এরপর আমার সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিলো। বাবা শুধু বলেছিলো, “তুমি আমার মেয়ে, ভাবতেই ঘৃণা হয়।” কিন্তু তবুও আমি নির্বিকার ছিলাম। এই ঘটনার ২-৩ মাস পরে এক কার এক্সিডেন্টে আমি আমার বাবা-মা দু’জনকেই হারিয়ে ফেলি। হয়তো এটা দৈব ঘটনা। কিন্তু তবু আজও আমি আমার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হই নিজের কাছেই।
কী হয়ে গিয়েছিলো আমার, যে আমি এতোটা নিচে নেমে গেলাম!
সেটা আমি নিজেও জানি না!
আলোকিত প্রতিদিন/২১ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

পটুয়াখালীতে ৪ অক্টোবর হতে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু    

মু. হেলাল আহম্মেদ (রিপন), পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে  আগামী ৪ অক্টোবর হতে দুই সপ্তাহ ব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে অবহিতকরন ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই ভবনের সভা কক্ষে সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার ডা: রেজাউর রহমানের উপস্থাপনায় অবহিতকরন ও কর্মপরিকল্পনা সভায়  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো: মতিউল ইসলাম চৌধুরী।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাহফুজুর রহমান, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা: তৈয়ুবুর রহমান,  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলাম এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুর রহমান ইকবাল, সদর উপজেলার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো: শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস,  কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: চিন্ময় হাওলাদার প্রমুখ।
উক্ত সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: সুমন কুমার বালা।
এছাড়াও সভায় জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/২১ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন