আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2510

সাভারে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী নীলা রায়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে- প্রতিমন্ত্রী

আলী হোসেন, সাভারঃ সাভারে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী নীলা রায়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নীলা রায় হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে সাভার নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসুচীতে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি ব্যাংক কলোনী এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের লিডার শাকিলের বাবা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরুকে দ্রুত বহিস্কারের জন্য নির্দেশ দেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গনি,পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম মনিক মোল্লা,নাগরিক কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা,তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সুশিল সমাজের লোকজন অংশ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য গতকাল রাতে নিলা রায় হত্যাকারী আসামী মিজানুর রহমান মিজানকে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার কর্নেল ব্রিকস ফিল্ডের পাশে পারভেজ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি  থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ ।এসময় পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মিজানুরের বাবা আবদুর রহমান (৬৯) ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে (৪৯)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। নীলার পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২০ সেপ্টেম্বর সাভারের পালপাড়া এলাকায় স্থানীয় ব্যাংক কলোনী এলাকার অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নীলা রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে মিজানুর রহমান মিজান নামের এক কিশোর গ্যাং লিডার। ঘটনার পর থেকে তিনি এতদিন পলাতক ছিলো। এ ঘটনায় নীলার বাবা নারায়ণ রায় গত সোমবার রাতে সাভার মডেল থানায় মিজানুর, তাঁর বাবা আবদুর রহমান, মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাভার উপজেলাবাসী।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

বন্যায় টাঙ্গাইলে সড়ক বিভাগের ৬০ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইলঃ চলতি বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৭টি সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন এগুলো মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অফিস সূত্র জানায়, জেলায় তাদের অধীনে ৬’শ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ১৪টি সড়কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নষ্ট হয়ে গেছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ৭টি সড়ক হচ্ছে মির্জাপুর-ঊয়ার্শী-বালিয়া সড়ক, আরিচা-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর সড়ক, কালিহাতী-রতনগঞ্জ-সখিপুর সড়ক, লাউহাটি-দেলদুয়ার-সাটুরিয়া সড়ক, বাউশী-গোপালপুর সড়ক, ডুমুরিয়া-সলিমাবাদ, ভাতকুড়া-বাসাইল-সখিপুর সড়ক। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার ৭টি সেতু ও এ্যাপ্রোচ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ও পানির নিচে দীর্ঘদিন সড়ক তলিয়ে থাকায় এ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলোয় ভারী যানবাহন চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা দেখা দিয়েছে। যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি চরমে। রতনগঞ্জ থেকে সখিপুর ও কালিহাতীতে যাতায়াতকারী সিএনজি চালিত অটোরিক্সার চালক সোহেল রানা, রুবেল মিয়া বলেন বন্যায় কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে। গাড়ী নিয়ে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। লাট মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন রতনগঞ্জ সখিপুর রাস্তার দুই তিনটি স্থানের অবস্থা খুব খারাপ। বড় যানবাহন চলাচলের সময় চাকা ডেবে যায়। সড়কে যাতায়াতকারী ভোগান্তির শিকার মানুষেরা বলেন চলাচলে আমাদের যে কতটুকু অসুবিধা হয় সেটা আমরাই জানি। কবে রাস্তা ঠিক হবে? এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন,  ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী মেরামতের জন্য দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বিভাগীয় মেরামতের মাধ্যমে সাময়িকভাবে যান চলাচল সচল রাখা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর’২০/এসএএইচ

শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সামাজিক দায়বদ্বতা মাথায় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে

আলমগীর হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর) : শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন “শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমতির” মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী শ্রীপুর পৌর শহরের বনলতা সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমতির উপদেষ্টা ও ডেইলী স্টার’র গাজীপুর প্রতিনিধি প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ তার বক্তব্য বলেন, বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশন এবং সামাজিক দায়বদ্বতা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আকন্দের (যুগান্তর) সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন খানের (আজকালের খবর) পরিচালনায় সভায় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা আলমগীর হোসেন (আলোকিত প্রতিদিন), কাজী আকতার হোসেন (ভোরের ডাক), মাহবুবুর রহমান আকন্দ (বাংলাদেশ প্রতিদিন), সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম সানি (একুশে সংবাদ), সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক (ভোরের দর্পণ), যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন (খোলা কাগজ), কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম সুমন (আমার বার্তা), ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম (নবচেতনা), দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা (আমার সংবাদ) এবং সদস্য সাদেক মিয়া (সবুজ নিশান)। সভায় আকস্মিক উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকেদর সাথে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহন করেন শ্রীপুর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার।

সাংবাদিকেরা সাধারণ সভায় তাদের বক্তব্য বিগত বছরের সাংগঠনিক কর্মকান্ড, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সদস্যদের পেশাদারিত্ব অর্জনে সমিতির ভূমিকা এবং অর্জন নিয়ে কথা বলেন। আয়-ব্যয় বিবরণী, গঠণতন্ত্র, আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। পরে বিগত বছরের সকল কর্মকান্ড কন্ঠভোটে অনুমোদন করা হয়। এসময় সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা বক্তব্য তুলে ধরেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

সুনামগঞ্জ সীমান্তে চালু হয়েছে রাজস্ব বিহীন বাংলা কয়লা

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, হাওরাঞ্চল (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আবার চালু হয়েছে সরকারের রাজস্ব বিহীন বাংলা কয়লা। প্রায় ৬ মাস এই কয়লা বিক্রি বন্ধ থাকার পর আবার শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের পাশে অবস্থিত সমসার হাওর ও পার্শ্ববর্তী কলাগাঁও নদীতে ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করা শুরু হয়। আগামী ৩ দিন যাবত চলবে এই বাংলা কয়লা পরিবহণ। তারপর আবার বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলা কয়লা আসলে কী? কেন এই কয়লা এতদিন বন্ধ ছিলো? আবার কেনই বা হঠাৎ করে চালু হলো? এ নিয়ে বৈধ কয়লা ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- আইনগত জটিলতার কারণে জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, বাগলী ও চাঁরাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ভারত থেকে বৈধ পথে কয়লা আমদানী বন্ধ রয়েছে। আর এই সুযোগে সীমান্তের চাঁরাগাঁও ও কলাগাঁও সীমান্ত এলাকাতে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা গত ৬ মাসে মজুত করেছে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। কিন্তু সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত ও আইনগত বৈধতা না থাকার কারণে বিজিবি কয়লাগুলো আটক করে রাখে। প্রথমত- এই কয়লা সংগ্রহ করা হয় ভারত থেকে ট্রাক দিয়ে পরিবহণের সময়, রাস্তায় পরে যাওয়া কয়লা শ্রমিকরা কুড়িয়ে জমা করে। কিন্তু ভারত থেকে বৈধ পথে কয়লা আমদানী বন্ধ রয়েছে ১ বছর যাবৎ। দ্বিতীয়ত- ভারতে অবস্থিত কয়লার ডিপোতে মজুত রাখা কয়লা বৃষ্টির পানির সাথে পাহাড়ী ছড়া দিয়ে ভেসে আসে। আর সেই কয়লা বালির মাঝ থেকে ঠেলা জাল ও বাঁশের তৈরি চালুন দিয়ে উত্তোলন করে শ্রমিকরা। তৃতীয়ত- নৌকায় পরিবহণের সময় ও শুল্ক স্টেশনের ডিপো থেকে একদল চোর কয়লা চুরি করে চোরাচালানীদের কাছে বিক্রি করে। চতুর্থত- সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানীরা অবৈধভাবে প্রতি রাতে ভারত থেকে কয়লা পাঁচার করে। এই ৪ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা কয়লাগুলোকে একত্রে মিশ্রণ করা হয়। তাই স্থানীয়ভাবে এই কয়লাকে বাংলা কয়লা বলা হয়। তবে মূলত বাংলা কয়লা হচ্ছে- নদী ও ছড়া থেকে শ্রমিকদের উত্তোলনকৃত কয়লা। কিন্তু সারা বছরে ৫শ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করতে পারে না এলাকার শ্রমিকরা। তাহলে হাজার হাজার মেট্রিক টন কয়লা আসে কোথায় থেকে? এছাড়া বাংলা কয়লা বৈধ কয়লার তুলনায় মূল্য কম এবং তার গুণগত মানও খুবই নিম্ন মানের। কারণ বাংলা কয়লায় থাকে বালি, পাথর ও কাল মাটির মিশ্রণ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড়ছড়া ও চাঁরাগাঁও শুল্ক স্টেশনের বৈধ কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর অবৈধ বাংলা কয়লা থেকে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে ১ মেট্রিক টন বাংলা কয়লা থেকে ৩শত টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো। আর চাঁদার টাকা উত্তোলন করার জন্য নিয়োজিত করা হতো কয়েকজন সোর্স। এসব বিষয় নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চাঁরাগাঁও, বাগলী ও বড়ছড়া শুল্কস্টেশন এলাকায় বাংলা কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেয় বিজিবি। এরপর থেকে চাঁরাগাঁও শুল্ক স্টেশন ও কলাগাঁওসহ বাগলী ও বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের এলাকার আশেপাশে স্তুপ আকারে হাজার হাজার মেট্রিক টন অবৈধ বাংলা কয়লা মজুত করে রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়কের কাছ থেকে ৩ দিনের অনুমতি নিয়ে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে কলাগাঁও ও চাঁরাগাঁও সীমান্তে আটক থাকা প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন অবৈধ বাংলা কয়লা আবার চালু করা হয়। তবে আগের মতো প্রকাশে চাঁদা নেওয়া হবে না। কিন্তু বাংলা কয়লাগুলো এলাকা ছড়া হওয়ার পর বিজিবি সোর্স পরিচয়ধারী কয়েকজন লোক দিয়ে গোপনে বাংলা কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিটন কয়লা থেকে ৫শত টাকা করে চাঁদা নেওয়া হবে বলে আলোচনা হচ্ছে। ১ মেট্রিক টন বাংলা কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য হচ্ছে ৮ হাজার টাকা। আর বৈধ কয়লার মূল্য সাড়ে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু অবৈধ বাংলা কয়লা থেকে কখনোই সরকারের রাজস্ব নেওয়া হয় না। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সিন্ডিকেড তৈরি করে এবং অবৈধ বাংলা কয়লার ব্যবসা করে প্রত্যেককেই হয়ে গেছে কোটিপতি।

বাংলা কয়লার ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুল আলমের বক্তব্য জানার জন্য তার সরকারীর মোবাইল নাম্বারে কল করার পর প্রথমে ব্যস্ত তারপর নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার নির্মল বলেন, ‘বাংলা কয়লার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। এ বিয়ষে কিছু বলতে পারবো না’। সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা অবৈধ ভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা কামনা করছেন তাহিপুর উপজেলার সর্বস্থরের জনসাধারণ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

গাইবান্ধায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত সচিব নীলিমা

এস.এম শাহাদৎ হোসাইন, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা শহরের ফোর লেন প্রকল্প ও গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি এসব উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপুর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্থতায় উন্নীতকরণ (রংপুর জোন) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা শহরাংশের ফোর লেন কাজ ও গাইবান্ধা সড়ক বিভাগের গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট সড়ক প্রশস্থকরণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব উন্নয়নমুলক কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।

অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতার বলেন, গাইবান্ধার সার্বিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া প্রয়োজন। সে লক্ষে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

মাদারীপুরে গেমস খেলতে না দেয়ায় স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

নাবিলা ওয়ালিজা, মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনিতে মোবাইলে ভিডিও গেমস খেলতে না দেয়ায় ও মা বকুনি দেয়ায় অভিমানে রাতে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেয় ১৬ বছরের স্কুলছাত্র নীরব বেপারী। ঘটনাটি শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঠেংগামাড়া গ্রামে ঘটে। নীরব কালকিনি সরকারীপাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্র। সে কাতার প্রবাসী আ: কাশেম বেপারীর ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলে ভিডিও গেমস খেলা নিয়ে ছেলে নীরবকে বকা ছকা ও মারধর করে তার মা। মার খেয়ে নীরব পাশের ঘড়ে অভিমান করে চলে যায় পরক্ষণে তার দাদি ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া শব্দ করে না পেয়ে মানুষ নিয়ে দরজা খুলে দেখে নীরব গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস নিয়ে ঝুলে আছে।

রাতে থানয় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠান। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটস্থলে লোক পাঠিয়ে ঝুলত লাশ উদ্ধার করেছি। পোস্টমর্টেম করার জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

বরিশাল আর্যলক্ষ্মী সমবায় সমিতি লি: নির্বাচনে সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল, সম্পাদক পঙ্কজ

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশাল আর্যলক্ষ্মী সমবায় সমিতি লি: এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে মানবেন্দ্র বটব্যাল সভাপতি ও পঙ্কজ কুমার গুপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার সিটি কলেজে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে মানবেন্দ্র বটব্যাল ১৯০ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: শাহজাহান হাওলাদারকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ১৪২ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুকুল চন্দ্র মুখার্জিকে পরাজিত করেন। এছাড়া পুষ্প রানী চক্রবর্তী ১৬৫ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে শিউলি দে (১৮০ ভোট), সদস্য পদে ফনি ভূষণ দাস (১৭১ ভোট), অমর কুমার পুষিলাল (১৫৫ ভোট), মোঃ কবীর হোসেন (১৭৭ ভোট), সুভাষ চন্দ্র দাস (১৮৪ ভোট), সঞ্জীব নারায়ণ কবি শেখর (১৫৪ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে মোট ৩৩৩ জন ভোটারের মধ্যে ২৫১ জন ভোটার ভোট প্রদান করে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

পূজায় তিন দিনের ছুটিসহ সংখ্যালঘু আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইল : শারদীয় দূর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটিসহ সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করেছে হিন্দু পরিষদ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সুমন দত্ত, সমন্বয়কারী প্রীতিশ পন্ডিত, আহ্বায়ক ঝন্টু পন্ডিত প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট শারদীয় দূর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও সংখ্যালঘু সরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করছি।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

মিথ্যা সংবাদ নিয়ে বদর মোকাম মসজিদ কমিটির প্রতিবাদ

বদর মোকাম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে মানহানিকর সংবাদ সম্পর্কে মসজিদ কমিটির প্রতিবাদ বিবৃতি

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বদর মোকাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মানহানিকর সংবাদ সম্পর্কে মসজিদ কমিটির প্রতিবাদ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিটি নিম্নে তুলে ধরা হলো–
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ভয়েচ ওয়াল্ড ২৪ ডট কম নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ‘বদর মোকামের দানবাক্সের টাকায় হান্নানের রাজকীয় জীবন’ শীর্ষক সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবাস্তব ও মানহানিকর। আমরা এহেন ভূয়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের জোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

সংবাদে আবদুল হান্নান সাউদকে ভবঘুরে উল্লেখ করা হয়েছে। যা চরম আপত্তিকর। আবদুল হান্নান সাউদ কক্সবাজারের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ছোটকাল থেকেই হান্নান সাউদ একজন সৌখিন ও উন্নত রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। যারা তাকে বেকার ও ভবঘুরে বলে তার আয়ের উৎস নিয়ে কথা বলছেন, তাদের জানা উচিত, তিনি মসজিদ কমিটির দায়িত্ব নেয়ার আগেই সৌদি আরব, ব্যাংকক, ইন্ডিয়া ভ্রমণ করেছেন। ২০০৭ সালে লালদিঘীতে সুইপ্ট টেক নামে কম্পিউটার দোকান, ইডেন গার্ডেনে অঙ্গনা বুটিকস্ ও অঙ্গনা কিডস কর্ণার, একই নামে কোরাল লীফে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো।

তিনি কক্সবাজার-টেকনাফ রোডে স্পেশাল সার্ভিস গাড়ীর (চট্ট মেট্রো ১১-০-১২৬) মালিক ছিলেন। বদরমোকামে তাদের পৈত্রিক জমির উপর ১৫টি দোকান রয়েছে। তিনি প্রাইভেট কার গাড়ী, ডায়াং মটর সাইকেল, বাজাজ কেলিভার, বেনলি হোন্ডা ব্যবহার করেছেন। এমনকি তার মরহুম পিতাও ইতিলিয়ান ভেসপা গাড়ী ব্যবহার করতেন। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের সুপ্রতিষ্ঠিত, ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত পরিবারবর্গের সাথে হান্নান সাউদ পরিবারের আত্মেীয়তার সম্পর্ক। রাজকীয় চালচলন তার রক্তে রয়েছে। রাজকীয় চালচলন ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হান্নান সাউদ এর আয়ের উৎস নিয়ে কথা বলা চরম অজ্ঞতা ও হাস্যকর। তারা নিজেরাও নিজেদের অবস্থান একবারও ভেবে দেখেনি।

আবদুল হান্নান সাউদ মসজিদের টাকা তছরুপ করছেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাও মনগড়া ও চরম আপত্তিকর। মূলত হান্নান সাউদ ২০১৬ সালে বদর মোকাম জামে মসজিদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হান্নান সাউদের নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় মসজিদের পূর্বে মসজিদের দৃশ্যও পরে নজরকাড়া কারুকাজ, শৈল্পিক সৌন্দর্য দেখলে সচেতন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবেন, তাদের নেতৃত্বাধীন বদর মোকাম মসজিদ কমিটি মসজিদের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। মসজিদের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ শুধু কক্সবাজারে নয়, দেশ-বিদেশেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বদরমোকাম জামে মসজিদকে কমপ্লেক্সে রুপান্তর করা হয়েছে।

এই মসজিদ কমিটি প্রতিনিয়ত জেলার অনাচে কানাচে অনুন্নত অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, হেফজখানায় আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

মসজিদের কর্মপরিধি বাড়ানোর জন্য তুলাবাগানের কেচুবনিয়ায় মসজিদের নামে ৪ কানি সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছে। সেখানে বদরমোকাম মসজিদের আদলে একটি উন্নত মসজিদ ও হেফজখানা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বর্তমানে ওই জমিতে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বদরমোকাম মসজিদ প্রতিষ্ঠার আড়াইশো বছরের ইতিহাসে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করে মসজিদ প্রতিষ্ঠার করার জন্য উন্নয়ন কাজ চালানোর অনন্য রেকর্ড বর্তমান এই মসজিদ কমিটিই সৃষ্টি করেছেন।
এছাড়া প্রতিসপ্তাহে দানবাক্সে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয়, জেলা ব্যাপী ৭০/৮০ টি দানবাক্স থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আয় ও লুটপাট করার তথ্য সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট ও সাজানো গল্প।

এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, বদর মোকাম জামে মসজিদের দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসেবে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে আমাদের হিসাব বহিতে লিপিবদ্ধ করা আছে। মসজিদ কমিটির মাধ্যমে বদরমোকাম জামে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত আপডেট রাখা হয়। এখানে টাকা নয়ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি চেকে সই করেন না, তার অগোচরে বা অজ্ঞাতসারে মসজিদ পরিচালনা কার্যক্রম চলছে দাবী করে আমাদের সম্মানিত সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী মসজিদের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা মিথ্যাচার, অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। মসজিদের প্রতিটি চেক বইতে স্বাক্ষরসহ মসজিদের যাবতীয় কাজে তিনি তদারকি করেন এবং তার পরামর্শক্রমে মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।

এছাড়া মসজিদের অফিসসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, মসজিদের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করার জন্যই আমাদের উপর গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তাই কোনো অপপ্রচার বা সমালোচনায় আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড থেকে এক ইঞ্চিও পিছ পা হবো না। মসজিদের স্বার্থে কাজ করা ও মসজিদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।

পরিশেষে বলতে চাই, বদরমোকাম জামে মসজিদ একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশবিদেশে এই মসজিদের ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। এই বদর মোকাম মসজিদ কক্সবাজারের সম্পদ। তাই কারও প্ররোচনায় পড়ে একটি স্বনামখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদকে সংবাদের খোরাক বানানো খুবই বেদনাদায়ক।

আমরা বদরমোকাম জামে মসজিদ কমিটির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান সাউদ ও মসজিদের নামে নানা প্রপাগান্ডা ছাড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংস্থাকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মসজিদ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে শীঘ্রই ঐতিহ্যবাহী বদরমোকাম জামে মসজিদ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মনগড়া, মিথ্যা গল্প লিখে মসজিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবাদকারী–
মসজিদ পরিচালনা কমিটি,
বদর মোকাম, কক্সবাজার।

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

ভিটামিন-ডি : কোভিড-১৯ থেকে রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

ভিটামিন-ডি
কোভিড-১৯ থেকে রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার
ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

 

ভিটামিন-ডি সৌর লোকের ভিটামিন নামে পরিচিত। কারণ এটা সূর্যের আলো থেকে আমরা পাই। ক্যালসিয়ামের মাধ্যমে শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত শরীর গঠনে এর ভূমিকার কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুর দিকে শরীরে ভিটামিন-ডি এর অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এবং এখনো গবেষণা চলছে। এরকমই কিছু গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার চেষ্টা করছি আজকের লেখায়, যা আমাদের কোভিড-১৯ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে যে বিষয়গুলো তুলে ধরবো তা সবই আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল।

বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা এখনো স্বীকৃত হয়নি। বরং কিছু চিকিৎসা যা আগে কার্যকর বলে ধরা হতো তা পরবর্তীতে ক্ষতিকর বলে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে কাজে লাগতে পারে। বেশ কিছু ভিটামিন ও Trace elements আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে যা আমাদের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সম্পূরক ভিটামিন-ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও Respiratory infection বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমন থেকে রক্ষা করে। আর কোভিডের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রই মূলত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ভিটামিন-ডি কীভাবে কোভিড ১৯ থেকে রক্ষা করতে পারে :
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে শ্বাসতন্ত্রের কোষের উপর ভিটামিন-ডি এর প্রভাব রয়েছে যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন রোধে ভূমিকা রাখে। যে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে ঢুকলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপাদান ম্যক্রোফেজ যাকে আমরা পুলিশ বাহিনীর সাথে তুলনা করতে পারি, তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ভিটামিন-ডি এই ম্যাক্রোফেজকে আরো সক্রিয় করে দেয়, যাতে তারা দ্রুত রেস্পন্স করে। ভিটামিন-ডি ম্যাক্রোফেজ এর পরিপূর্ণ গঠনেও সাহায্য করে ভিটামিন-ডি।

ভিটামিন-ডি আমাদের শরীরে ক্যাথেলিসিডিন নামক একটি প্রোটিন এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে যক্ষার জীবাণু, বিভিন্ন গ্রাম পজিটিভ, গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ডি এর অভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এ জাতীয় অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যা পরবর্তীতে এজমা এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যদি সম্পূরকভাবে ভিটামিন-ডি দেয়া হয় তাহলে Acute Respiratory Infectin বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমনের হার কমিয়ে দেয়।

বয়স্কদের উপর ভিটামিন-ডি এর প্রভাব :
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ডি বয়স্কদের মৃত্যু হার কমিয়ে দেয়, যারা সাধারণত কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।

তবে এটা মনে রাখতে হবে এ রকম কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই যে ভিটামিন-ডি আপনাকে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু ভিটামিন-ডি এর অভাবে আপনার যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

শিশুদের উপর ভিটামিন-ডি এর প্রভাব :
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে দুগ্ধ পোষ্য শিশু থেকে বাড়ন্ত শিশু সকল পর্যায়ে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সকল শিশু মায়ের দুধ খায়, তাদের ভিটামিন-ডি এর দৈনিক চাহিদা ৪০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট (আইইউ)। কিন্তু তারা যে পরিমান মায়ের দুধ খায় তাতে তাদের ঘাটতি থেকে যায়। এসকল শিশুদের ভিটামিন-ডি এর চাহিদা পূরণের জন্য ছয় মাস পর ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ ফরমূলা দুধ দেয়ার কথাও বলেছে গবেষণাটি। এছাড়া বাড়ন্ত শিশুর দৈনিক চাহিদা ৬০০ আইইউ যা পূরণ করতে হলে তাদের দৈনিক ১০০০ মিলি দুধ খেতে হবে। একারণে তাদেরও ঘাটতি রয়ে যায়। এ কারণে গবেষণা বলছে তাদেরও ভিটামিন-ডি সম্পূরক ডোজ দরকার রয়েছে।

গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন-ডি এর প্রভাব :
গর্ভবতী মায়েদের উপর ভিটামিন-ডি এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। একারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ সংক্রমনের ঝুঁকিতে থাকেন তারা। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-ডি এর দরকার। এছাড়া এদের প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম দরকার। আর ক্যালসিয়াম শরীরে প্রবেশের জন্য ভিটামিন-ডি এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল গর্ভবতী মায়েরা ভিটামিন-ডি এর অভাবে থাকেন তাদের সন্তানদের জন্মের পর শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার :
স্যামন ফিস, টুনা ফিস ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ, মাশরুম, দুধ, ডিম, চিজ, ইয়োগারট ইত্যাদি।

কী পরিমান ভিটামিন-ডি দরকার প্রতিদিন :
কী পরিমান ভিটামিন-ডি দরকার সেটা নির্ভর করে রক্তে কী পরিমান ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে আমাদের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি ১০০০ থেকে ৪০০০ আইইউ ভিটামিন-ডি সম্পূরকভাবে দৈনিক খাওয়ার কথা গবেষণায় প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যাদের রক্তে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি রয়েছে ও তাদের আগে ঘাটতি পূরণ করা জরুরী। সেক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণের জন্য কিছুদিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-ডি খেতে পারি। বাজারে একাধিক কম্পানির ভিটামিন-ডি রয়েছে। যেমন Vital D, D-Cap, D-Rise. এগুলো ক্যাপসুল হিসাবে পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এগুলোর মাত্রা ঠিক করে খাওয়া যেতে পারে। এর সাথে অনেক সময় ক্যালসিয়ামও অনেক সময় দরকার হতে পারে। চিকৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো সেবন করা ঠিক হবে না। যার যেটা দরকার, সে অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করে দেবেন।

পরিশেষে বলতে চাই কোভিড-১৯ থেকে রক্ষার সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নাই। সেক্ষেত্রে আমাদের এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা গড়ে তোলাই, এতে আক্রান্ত হওয়ার আগে এর থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার। আর এজন্য আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা বাড়াতে ভিটামিন-ডি কে আমরা বেছে নিতে পারি, যার বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরলাম।

সবাই সুস্থ্য থাকুন, ভালো থাকুন -এই প্রত্যাশা।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।
ফেসবুক পেইজ : Dr. Ahad1980)

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন