আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2502

ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে আস্তিক্যবাদ: পর্ব- ৬/ সৈয়দ রনো

পর্ব- ৬

সৈয়দ রনো

ইহুদি ধর্মের আলোকে আস্তিক্যবাদ:

প্রায় ২০০০ বছরের ইতিহাসে ইহুদি জনগণ এবং ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক ছিল এর অভিযোজন এবং অবিচ্ছিন্নতা। প্রাচীন মিশর বা ব্যাবিলনিয়া সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক পশ্চিমা খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী এবং আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সাথে মিথস্ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে হয়েছে ইহুদিবাদকে। প্রতিটি গোষ্ঠী এবং মতাদর্শ থেকে বেশ কিছু জিনিস ইহুদি সমাজ-ধর্মীয় কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে। এতে করে প্রাচীন ঐতিহ্যও কখনও ক্ষূণ্ন হয়নি। এভাবেই একদিকে অভিযোজিত হয়েছে এ ধর্মটিকে নিয়ে। অন্যদিকে ধর্ম তার মৌলিক ঐতিহ্যকে অটুট রেখেছে। এ কারণে যেকোন সময়ের ইহুদি ঐতিহ্য তার পূর্বের সকল ইহুদি ঐতিহ্যের সমন্বয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। যত অভিনবত্ব বা বিবর্তনই আসুক না সকল ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে সবসময়ে প্রাচীনত্ব বজায় রেখেছে ইহুদিরা। ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা প্রায় সবসময়ই একেশ্বরবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, যে চিন্তাকে আমরা আস্তিকবাদ হিসেবে মুল্যায়ন করতে পারি। ইহুদিদের মধ্যে অনেক শ্রেণী-উপশ্রেণী থাকলেও এক ঈশ্বর ( আস্তিক্যবাদ) বিষয়ে কারও মধ্যে দ্বিমত নেই। সবাই এক বাক্যে কেবল এক ঈশ্বরকে মেনে নেয়। একেশ্বরবাদ প্রকৃতপক্ষে সার্বজনীন ধর্মের ধারণা দেয় যদিও এর সাথে কিছুটা স্বাতন্ত্র্য্যবাদ (particularism) যুক্ত রয়েছে। প্রাচীন ইসরায়েলে এই স্বাতন্ত্র্য্যবাদ নির্বাচনে রূপ নিয়েছিল। নির্বাচন বলতে ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের মধ্য থেকে কাউকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করাকে বোঝায়। সেই তখন থেকেই ইহুদিরা মনে করতো, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একটি পূর্বপরিকল্পিত চুক্তিপত্র (কোভেন্যান্ট) থাকতে বাধ্য। সবাইকে এই চুক্তিপত্র মেনে চলতে হবে। এ চিন্তা থেকে সরে গেলে পরকালে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ইহুদিদের এই চিন্তাধারার সাথে messianism এর সুন্দর সমন্বয় ঘটেছিল। পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী কাজেই ইহুদীদের আস্তিক বলা যায়।

খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে ইহুদি ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা:

ইহুদী, খ্রিস্টান ধর্মকে কখনো কখনো ইব্রাহিমীয় ধর্ম বলা হয়। কারণ তারা সকলেই এই মতবাদ গ্রহণ করেন যে, ঈশ্বর হযরত ইব্রাহীমকে তাঁর বার্তাবাহক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। একইভাবে ইব্রাহিমীয় ধর্মের ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদগুলো হিব্রু বাইবেলের ইসরায়েলীয় ঈশ্বর এবং একেশ্বরবাদ মতবাদের সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ। এই অর্থে ইব্রাহিমীয় ঈশ্বর হচ্ছে ঈশ্বর সম্পর্কে এমন একটি ধারণা যা সাধারণ বৈশিষ্ট্যে( ইসলাম)সহ মোট তিনটি ধর্মেই বজায় আছে। ঈশ্বরকে অনন্ত, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টা হিসেবে ভাবা হয় বলেই অনেক মতো পার্থক্য থাকার পরেও এ সকল ধর্মাবলম্বীদের আস্তিক বলা হয়ে থাকে। ঈশ্বরের পবিত্রতা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়াশীলতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য আছে বলে ধর্মগ্রন্হে উল্লেখ আছে। ইব্রাহিমীয় ধর্মের প্রবক্তারা বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বর এমনকি ব্রহ্মাণ্ডের নিয়মের বাইরে, যার অর্থ তিনি স্থান এবং সময়ের পরিধির বাইরে এবং সেইজন্য তার সৃষ্টির কোনকিছুর সাথে তুলনা করার বিষয় নন। একই সময় তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রার্থনা শোনেন এবং কৃতকর্ম দেখেন। এ আলোচনা যৌক্তিক ভাবে আস্তিকবাদে সমর্থন করে। ইহুদীধর্ম কঠোর একেশ্বরবাদের উপর ভিত্তি করে তৈরি। একটি দ্বৈত বা ত্রি-স্বত্তা হিসাবে ঈশ্বরের ধারণা ইহুদীধর্ম মতবিরোধী – এটা শিরক সদৃশ বলে মনে করা হয়। এরূপ ধারণাই হলো আস্তিক্যবাদের পরিচায়ক। সবকিছুর মূল এক। এর মানে এই নয় যে তিনি কোন শ্রেণির এক, অথবা কোন একটি প্রজাতির মত, বা একটি বস্তু যা অনেক উপাদান নিয়ে গঠিত, কিংবা একটি একক বস্তু যা অসীম বিভাজ্য। বরং, ঈশ্বর একটি ঐক্য যা অন্য কোন সম্ভাব্য ঐক্যের সাদৃশ নয়।” তাওরাতে এ এরূপ উল্লেখ আছে: “শোন বনি ইসরায়েল, প্রভু আমাদের ঈশ্বর, প্রভু এক”। ঈশ্বরকে অনন্ত, বিশ্বজগতের স্রষ্টা, আর নৈতিকতার উৎস হিসেবে ভাবা হয়। ঈশ্বরের ক্ষমতা রয়েছে জগতে হস্তক্ষেপ করার। ঈশ্বর শব্দটি এইভাবে একটি প্রকৃত সত্তাতাত্ত্বিক বাস্তবতা। নিছক মানুষের কল্পনাপ্রসূত নয়। মাইমোনাইডস এইরূপে ঈশ্বর বর্ণনা করেন: “সব বুনিয়াদের মূল এবং জ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে এটা জানা যে একটি আদি স্বত্তা আছে যিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন। স্বর্গ, পৃথিবী, এবং এদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, সব সৃষ্টির মূলে রয়েছে তাঁর অস্তিত্বের সত্যতা।” যা আস্তিক্যবাদের মতোবাদের ধারক বাহক।

খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে আস্তিক্যবাদ:

সেকন্ড টেম্পল ইহুদীধর্মের সময়টাতে খ্রিস্টধর্মের শুরু হয়েছিল। তাই এ ধর্মের অনুসারীরা ঈশ্বরের অসীম ক্ষমতা, সর্বজ্ঞতা, সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, ব্যক্তিত্ব, সর্বেশ্বরবাদ, উৎকর্ষ, চূড়ান্ত ঐক্য ও আধিপত্যসহ অধিকাংশ বিষয়ে ইহুদিধর্ম বিশ্বাসের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে । এক ঈশ্বরে বিশ্বাস স্হাপনই হচ্ছে আস্তিক। এ ধর্মের নতুনত্ব যীশুখৃষ্টকে বিবেচনা করা হয় প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা ধারকবাহক হিসেবে। অর্থাৎ ইসরাইলের নবীদের বিধানের সম্পূর্ণতা হিসেবে সর্বাধিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলি বিশ্বাস করে যিশু একজন মানুষ হিসেবে ঈশ্বরের পুনর্বিভাব, যা ইহুদীধর্ম এবং ইসলাম থেকে খ্রীষ্টধর্মের প্রধান পার্থক্য। যদিও ব্যক্তিগত পরিত্রাণ সম্পর্কে ইহুদীধর্মে পরোক্ষভাবে বিবৃত করা হয়েছে, অনুগ্রহ ও সঠিক বিশ্বাসের জোরে ব্যক্তিগত পরিত্রাণের কথা খ্রিস্টানধর্মেই বলা হয়েছে। মানুষ ও ঈশ্বরের মধ্যে মধ্যবর্তী কারো অস্তিত্বে বিশ্বাস নূহ আইনের সাথে বিরোধ করে এবং একেশ্বরবাদে অস্বীকার করে। অধিকাংশ খ্রিস্টানের জন্যই, ঈশ্বর সম্পর্কে বিশ্বাস ত্রি-স্বত্তা মতবাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যাতে বলা হয় যে তিনজন ঈশ্বর একসঙ্গে একজন একক ঈশ্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই মতবাদ মূলত নিসিয়া কাউন্সিলে বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং নিসিয়ান ধর্মমতে সন্নিবেশিত রয়েছে। ত্রি-স্বত্তা মতবাদ এ বিশ্বাসের উপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে , ঈশ্বরের একটি ইচ্ছা আছে, এবং ঈশ্বরপুত্রের দুইটি ইচ্ছা আছে- ঐশ্বরিক ও মানবিক এবং এরা কখনোই পরস্পর সংঘাতী নয়, বরং হাইপোস্ট্যাটিক সংঘে মিলিত। খ্রিস্টানদের একটি ছোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যারা একত্ব মতবাদের অধীনে এসেছেন। তারা ত্রি-স্বত্তা মতবাদ বিশ্বাস করেন না।

মর্মনিজম সম্পাদনা:

মর্মন সম্প্রদায়ের অধিকাংশ (পরবর্তী দিনের সাধুদের যীশু খ্রীষ্টের চার্চ সহ) প্রতিনিধিত্ব মর্মনিজমে, ঈশ্বর মানে। এলোহিম (পিতা), আর গডহেড হচ্ছে তিনজন পৃথক ঈশ্বরের একটি কাউন্সিল; এলোহিম, যিহোবা (পুত্র বা যীশু), এবং পবিত্র আত্মা। পিতা ও পুত্রের শরীর আছে এবং পবিত্র আত্মা একটি আত্মা যার কোন শরীর নেই। এই ধারণা প্রচলিত খ্রিস্টান ট্রিনিটি থেকে পৃথক। মর্মনিজম মতে ঈশ্বর তিনজন শারীরিকভাবে আলাদা স্বত্তা, বা ব্যক্তিবর্গ, কিন্তু ইচ্ছায় ও উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ। মর্মনিজমে গডহেডের সংজ্ঞা প্রচলিত খ্রিষ্টধর্ম থেকে পৃথক। ঈশ্বরের এরূপ বর্ণনা ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তী দিনের সাধুদের যীশু খ্রীষ্টের চার্চ (এলডিএস চার্চ) এ দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গাইবান্ধা পৌরসভার ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন 

প্রতিনিধি, গাইবান্ধাঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গাইবান্ধা পৌরসভার উদ্যোগে পৌর নাগরিকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় পৌরপার্কের শহীদ মিনার চত্বরে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন। এই কর্মসূচীর আওতায় পৌর এলাকার প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে দক্ষ করে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলনের সভাপতিত্বে এই ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিএম চৌধুরী মিঠু ও তানজিমুল ইসলাম পিটার, কাউন্সিলর শহীদ আহমেদ, আইটি সলিউশনের প্রশিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ। প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচে পৌর এলাকার ১ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে ৪টি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, এন.এইচ মডার্ন হাইস্কুল, আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ। গাইবান্ধা আইটি সলিউশন অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করছে। প্রতিটি ব্যাচে ১ হাজার বেকার যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ফলশ্রুতিতে এই প্রশিক্ষিণ কর্মসূচির মাধ্যমে গোটা পৌর এলাকার প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারত্ব দুরীকরণে সহায়ক হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

ফুলবাড়ীতে বঙ্গবন্ধুকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত

মোস্তাফিজার রহমান, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শাহবাজার রংধণু পাঠাগার ও চাষী ক্লাবের যৌথ আয়োজনে ” বঙ্গবন্ধু কাপ ” ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০ এর ২য় সেমিফাইনাল খেলা অনু্ষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার ঐতিহ্যবাহী  বিদ্যাপীঠ শাহবাজার আবুল হোসেন সিনিয়র (ডিগ্রী) মাদ্রাসা মাঠে অনু্ষ্ঠিত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহবাজার রংধণু পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আহম্মদ আলী পোদ্দার রতন। এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন সরকার, ফুলবাড়ী ফুটবল ফাইটার্স একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক বাবলুর রহমান সাগর, ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম, সাবেক ফুটবলার সলিমুল্ল্যাহ সেলিম প্রমুখ। খেলায় উপজেলার কুটিবাড়ী মর্ডাণ ফুটবল দল ও ফুলবাড়ী আদর্শ ফুটবল দল পরস্পরের মোকাবিলা করে। চরম উত্তেজনাপূর্ণ খেলাটি উপভোগের জন্য বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয় মাদ্রাসা মাঠ। খেলায় কুটিবাড়ী মডার্ণ ফুটবল দল ফুলবাড়ী আদর্শ ফুটবল দলকে ১ – ০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে ফার্নিচার দোকান পুড়ে ছাই 

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ফার্নিচার দোকান আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। রোববার রাতে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় লাভলী সিনেমা হলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় ক্ষতিগ্রস্ত আমানউল্লাহ বাদী হয়ে সোমবার রাতে ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আমানউল্লাহ উল্লেখ করেন, উপজেলার কাঁচপুরে লাভলী সিনেমা হলের পাশে জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ আহেদ আলীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে গত ২ অক্টোবর সকাল ১০ ঘটিকায় আহেদ আলী দোকানে এসে ভাড়াটিয়াদের দোকান ছেড়ে দিতে বলে। ভাড়াটিয়ারা দোকান ছেড়ে না দিলে দোকান আগুনে পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে গত রোববার রাতে আহেদ আলীর নেতৃত্বে কাশেম , ফারুক, হাসেম ও মেহেদী হাসানসহ ১০-১২ জনের একটি দল ফার্নিচার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে দুই দোকানের প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ফার্নিচার পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কাঁচপুর ও সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এ ঘটনা ঘটে। কলেজছাত্রী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্যাতিতার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার। নির্যাতিতা জানায়, সোমবার সন্ধ্যার সময় উপজেলার নুটুরচর এলাকার স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে। কাগুজী আটা গ্রামের ছাইফুল, এনামুল, খালেদ, জালাল ও আলতাফ তার পথরোধ করে। পরে তার মুখ চেপে ধরে পাশে থাকা একটি নৌকায় করে তুলে চরের ভেতর পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ভোরে তাকে নদীর পারে ফেলে রেখে পাঁচজন পালিয়ে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিতা বাড়ি ফিরে পরিবারকে ঘটনাটি জানালে স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

সাভারে মাদক ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

আলী হোসেন, সাভারঃ সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে মাদক ও কিশোর গ্যাং বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জামুর ঋষিপাড়া এলাকার জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে এ মাদক ও কিশোর গ্যং বিরোধী এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে জামুর ঋষিপাড়া এলাকাবাসির আয়োজনে উক্ত মাদকবিরোধী আলোচনা ও জন সচেতনতা মূলক সভায় প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তেতুঁলঝোড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল ইসলাম (বিপিএম.পিপিএম) ইনচার্জ, ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর বলেন- ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে বাস্তবে রুপ দিতে আমরা পানপাড়া এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। জামুর ঋষিপাড়া এলাকার কোথায় কোথায় মাদকের ছড়াছড়ি ইতোমধ্যে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদকের সাথে যারা জড়িত রয়েছেন আমরা আশাবাদি আপনার মাদক ছেড়ে দিবেন। তিনি আরও বলেন- আমরা শুরুতেই মাদক আসক্তদের নিয়ে মাদক ছেড়ে দিয়ে সুন্দর সমাজ গঠেনের আহবান জানাচ্ছি। তাতে কাজ না হলে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করা, তারপর যদি কাজ না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মাদক নির্মূলের জন্য ইতোমধ্যে সমাজের সচেতন নাগরিকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অচিরেই মাদক নির্মূল কমিটি মাঠে নামবে। এসময় জাহিদুল ইসলাম (বিপিএম.পিপিএম) ইনচার্জ, ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এ রোগ থেকে আমাদের সমাজকে বাচাঁতে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, তেতুলঝোড়া ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে আমারা ঘোষনা করতে চাই। এজন্য আমরা পুলিশ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। এসময় আরও উপস্তিত ছিলেন, তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, হেমায়েতপুর আন্তঃজেলা ট্রাক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ সমন, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা আবির মাসুম সহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

আস্তিক ও নাস্তিক্যবাদের দর্শন: পর্ব – ৪/ সৈয়দ রনো

পর্ব – ৪:

সৈয়দ রনো

কয়েকটি ধর্মের আলোকে আস্তিক ও নাস্তিকঃ

আস্তিক বলতে সাধারণভাবে বুঝি ঈশ্বর বিশ্বাসী এবং নাস্তিক বলতে বুঝি ঈশ্বর অবিশ্বাসী। এ বিষয়ে একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- শব্দ দুটি সবসময় একই অর্থ বহন করে না। প্রশ্ন জাগতে পারে বেশ কিছু ধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই (জৈন, প্রথম অবস্থায় বৌদ্ধ, বিভিন্ন টোটেমদের ধর্ম) সেগুলোকে নিশ্চয় নাস্তিকধর্ম বা ঐ সব ধর্ম পালনকারীদের সাধারণভাবে নাস্তিক বলার উপায়ন্তর নেই।আবার, দর্শন শাস্ত্রে বিশেষত ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রমতে আস্তিক- নাস্তিকদের সংজ্ঞা অন্যরকম, কিছুটা মজারো বটে। ভারতীয় দার্শনিক সম্প্রদায়গুলোকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা হয়- নাস্তিক ও আস্তিক।

নাস্তিক সম্প্রদায় তিন ভাগে বিভক্তঃ

১। চার্বাক

২। বৌদ্ধ

৩। জৈন

আস্তিক সম্প্রদায় ছয় ভাগে বিভক্তঃ

১। সাংখ্য

২। যোগ

৩। ন্যায়

৪। বৈশেষিক

৫। পূর্ব-মীমাংসা বা মীমাংসা

৬। উত্তর-মীমাংসা বা বেদান্ত

এখানে আস্তিক মানে বেদ-বিশ্বাসী, নাস্তিক মানে বেদ-বিরোধী। ঈশ্বরে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস প্রাসঙ্গিকই নয়। যাঁরা ঈশ্বর মানেন না তাঁরা যদি নাস্তিক হতেন, তবে মীমাংসকাচার্য ও সাংখ্যাচার্য নাস্তিক বলে অভিহিত হতেন। তাঁরা ঈশ্বর মানেন না। ঈশ্বর নেই- ইহা প্রচলিত সাংখ্য-দর্শনে যুক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। যাঁরা ঈশ্বর মানেন না, গীতাতে ভগবান তাঁদেরকে অসুর-সম্পদ-যুক্ত বলে নির্দেশ করেছেন, নাস্তিক বলেননি। মীমাংসকাচার্য ও সাংখ্যাচার্য ঈশ্বর মানেননা, কিন্তু বেদের অনুসারী। তাই তাঁরা নাস্তিক নন, অতিশয় আস্তিক। অপরদিকে, চার্বাক দর্শনে, বৌদ্ধদর্শনে বেদের প্রমান অঙ্গীকৃত হয়নি বলে তারা নাস্তিক।

ইসলাম ধর্মের আলোকে আস্তিক ও নাস্তিকের ব্যাখ্যাঃ

ইসলামে আস্তিক শব্দের ব্যাখ্যা হচ্ছে- মু’মিন বা ঈমানদার। এই ঈমান হলো সর্বশক্তিমান আল্লাহতে বিশ্বাস। আল্লাহর রাসুল হিসাবে মুহাম্মাদ সা. এর উপরও বিশ্বাস (কালেমা তাইয়েবা)। আর নাস্তিক শব্দের ব্যাখ্যা হচ্ছে-

১। কুফর

২। শিরক

৩। মোনাফেকি

নাস্তিক শব্দের সবচেয়ে কাছের শব্দটি হলো কুফর। কুফর শব্দটি সাধারণভাবে ঈশ্বরকে নির্দেশ করে না। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি অনাস্থা/অবিশ্বাস/অংশীদ্বারকে নির্দেশ করে। ‘কুফর’ হচ্ছে আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসাবে অস্বীকার করা। এ ক্ষেত্রে আল্লাহকে অস্বীকার করে অন্য কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করলেও সে কাফির। শিরক হচ্ছে অংশীদার করা- অর্থাত আল্লাহর গুনসমূহে অন্য কাউকে অংশীদার করলে তা হয় শিরক। এ বিশ্লেষণে পৌত্তলিকতা বা মূর্তি-পূজা শিরক। এই শিরককে কিন্তু ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসাবে ইসলাম ধর্মে গণ্য করা হয়েছে। অপরদিকে ‘মোনাফেকি’ও আল্লাহকে অবিশ্বাস- কিন্তু এটা হলো তাদের ক্ষেত্রে যারা মুখে বা উপরে-উপরে বিশ্বাস প্রদর্শন করে কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ধারণ করে। প্রচলিত অর্থে শব্দটিকে বিশ্লেষণ করা যাক। ধর্ম পালনকারীদের সাধারণভাবে নাস্তিক বলা হয় না। (ধর্মে ঈশ্বরকে অস্বীকার করা হলেও) অনেক সময়ই পৈত্রিক ধর্মকে অস্বীকারকারীকে নাস্তিক বলা হয়। একজন মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারী কেউ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে বা হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণকারী একজন ইসলামধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুললে, তাকে হয়তো নাস্তিক বলা হয় না। যখন কেউ তার পৈত্রিক ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাস নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলতে থাকে এবং নতুন কোন ধর্মে নিজেকে সমর্পিতও না করে- তখন তাকে কখনও কখনও নাস্তিক বলে অভিহিত করা হয়। এখন যদি কেউ বলে- সে প্রচলিত কোন ধর্মের অনুশাসন মানে না, বিশ্বাসও করে না, কিন্তু সে জগত-সংসারের সৃষ্টিকর্তা একজন কেউ আছে বলে বিশ্বাস করে- তবে তাকে কি বলে আখ্যায়িত করা হবে? আস্তিক না নাস্তিক?

পর্যালোচনাঃ

প্রশ্নের উত্তরে কেউ বলেছেন- “তাকে নাস্তিক বলতে হবে”কেউ বলেছেন “আস্তিক “আবার কেউ বলেছেন সংশয়বাদী। সংশয়বাদ নিয়ে অনেকে গঠনমূলক আলোচনাও করেছেন। সংশয়বাদীদের পক্ষে একালের দার্শনিকদের মধ্যে বার্ট্রান্ড রাসেলের কথা সর্বাগ্রে আসে। তাঁর ‘দি প্রব্লেমস অব ফিলসফি’ গ্রন্থ আরম্ভই করেছেন এভাবে, “এমন কোন সুনিশ্চিত জ্ঞান কি আছে যাকে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনও সন্দেহ করবে না?” দর্শনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “সাধারণ চোখে যাকে জ্ঞান বলে মনে হয়, তার সম্বন্ধে আমাদের মনে সংশয় জাগে এবং এ সংশয়ের উত্তর পাওয়া যেতে পারে কেবল এক বিশেষ ধরণের অনুসন্ধানের ভাবনায়। এ অনুসন্ধানের আমরা নাম দেই দর্শন”। এতো গেল হালের দার্শনিকের কথা। সে আমলে সংশয়বাদী দার্শনিকের কথাও একটু আলোচনা করা যাক। গ্রীক দার্শনিক পাইরো বলেন, “আমরা ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষ দ্বারা বস্তুর বৈশিষ্ট নয়, এর বাহ্যিক রূপটাকেই শুধু জানতে পারি”। তাঁর মতে, “হয়তো কোন যুক্তির বিপরীত আরও মজবুত প্রামান্য যুক্তি পাওয়াও সম্ভব”। “কোন বস্তুর সংজ্ঞা নির্ণয় করতে হলে প্রমান দরকার- যা কিনা নিস্ফল তর্ক; আবার তাকে খন্ডানোর জন্য নতুন প্রমান চাই”। এই পাইরো কিন্তু সেকালের স্টোয়িকদের ঈশ্বরবাদকে ক্রমাগত যুক্তি দিয়ে খন্ডন করে গেছেন। সে সময়ে আমাদের দেশের নাগার্জুনও কিন্তু পাইরোর অনুরূপ মত ধারণ করতেন।

এবার তাহলে আমাদের ভারতীয় দর্শনের দিকে একটু তাকাই। অনেকান্তবাদ ও স্যাদবাদ- খুবই চিত্তাকর্ষক ও মজার এই মতকে কি বলবেন? নিরীশ্বরবাদী জৈনধর্মের আধার হলো স্যাদবাদ। তা কিন্তু আবার এসেছে সঞ্জয় বেলঢ্বিপুত্বের অনেকান্তবাদের হাত ধরে। সঞ্জয় পরলোক, দেবতা প্রভৃতি তত্বের নিশ্চয়াত্মক রূপে কিছু বলতে অস্বীকার করেন এবং সেই অস্বীকারকেও চার স্তরে বিভক্ত করেছেন-

১। আছে? – বলা যায় না।

২। নেই? – বলা যায় না।

৩। আছেও আবার নেইও? – বলা যায় না।

৪। আছে নেই আবার নাও নেই? বলা যায় না।

এই চারের সাথে আরও তিন যুক্ত করে জৈনধর্মের সপ্তরূপ তথা তাদের স্যাদবাদঃ

১। আছে? – হতে পারে(স্যাদ আস্তি)।

২। নেই? – নাও হতে পারে( নাস্তি)।

৩। আছেও আবার নেইও? – হতেও পারে নাও পারে।

প্রাচীন ভারতের “আস্তিক” “নাস্তিক” সজ্ঞা অন্য রকম। পরলোক তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আস্তিক আর অবিশ্বাসীদের নাস্তিক বলা হত। পাণিনি রচিত ‘অষ্টাধ্যায়ী’র নাম সবারই জানা। প্রাচীন ভারতীয় ব্যাকরণের সুবিখ্যাত নির্ভুল গ্রন্থ। পাণিনি ব্যাকরণসূত্রে আমরা জানতে পারি ‘অস্তিনাস্তিদিষ্টং মতি:(৪/৪/৬০)। অর্থাৎ পরলোক আছে ধারণায় প্রভাবিত ব্যক্তিকে আস্তিক (দিষ্টং পরলোকো অস্তি) এবং ‘দিষ্টং পরলোকো নাস্তি’ অর্থাৎ পরলোক নেই ধারণায় প্রভাবিত ব্যক্তিকে নাস্তিক বলা হয়েছে। (অস্তিগতিরস্য=আস্তিকঃ পরলোকোঽস্তি ইতি যস্য গতিরস্তি স আস্তিকঃ) পাণিনি সূত্রের ব্যাখ্যাকার ব্যাকরণবিদ্ মহর্ষি পতঞ্জলির ‘মহাভাষ্য’ গ্রন্থের মতানুসারে ‘অস্তি’ (আছে) ধারণার বশবর্তী ব্যক্তিগণ আস্তিক এবং ‘ন অস্তি’ (নেই) ধারণায় বশবর্তী ব্যক্তিগণ নাস্তিক পদের দ্বারা অভিধেয় (মহাভাষ্য ৪/৪/১)।

মনুসংহিতায় পাই –

অনপেক্ষিতমর্যাদং নাস্তিকং বিপ্রলুম্পকম্‌।

অরক্ষিতারমত্তারং নৃপং বিদ্যাদধোগতিম্‌।।(মনুসংহিতা ৮/৩০৯)

মনুসংহিতার টীকাকার মেধাতিথির শ্লোকে উল্লেখ আছে ‘নাস্তিক’ শব্দটির ব্যাখ্যা করেছেন “পরলোক বলে কিছু নেই, যাগ-দান-হোম এগুলিও কিছু নয়- এইরকম কথা যিনি বলেন এবং এই বিশ্বাসে যিনি চলেন তিনি নাস্তিক।”

জৈনদের ধারণা প্রাচীন ভারতীয়দের মতই। জৈনদার্শনিক হরিভদ্র সূরীর ‘ষড়্‌দর্শনসমুচ্চয়’ গ্রন্থে ‘আস্তিকবাদিনাম্’ সূত্রের দেখা পাই। টীকাকার সোমতিলক সূরীর মতে পদটির অর্থ হল- ‘পরলোকগতিপুণ্যপাপাস্তিক্যবাদিনাম্’। অর্থাৎ আস্তিকবাদী বলতে তাঁদেরকেই বোঝায় যাঁদের পরলোক, পুণ্য, পাপ ইত্যাদিতে আস্থা আছে।

অতএব যে কোন নিরীশ্বরবাদীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বেদে বিশ্বাসী এবং বেদে অবিশ্বাসী। সুতরাং খুঁটিয়ে বিচার করলে ভারতীয় ষড়্‌ দর্শন অনুযায়ী সেমেটিকিয় মূল্যবোধে (eschatology) ইংরাজী Atheism শব্দটির ভাষান্তর “নিরীশ্বরবাদ” সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না। মনে হয় ইংরাজী এথিস্ট শব্দটির সঠিক বাঙ্গালা ভাষান্তর বা অর্থ হওয়া উচিত “বেদে অবিশ্বাসী নিরীশ্বরবাদী”।

নাস্তিকগণ ছ’টি শ্রেণীতে বিভক্ত। ১. মাধ্যমিক, ২. যোগাচার, ৩. সৌত্রান্তিক, ৪. বৈভাষিক, ৫. চার্বাক ও ৬. দিগম্বর। স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন শ্রেণীর পার্থক্য বোঝানো অসম্ভব।

ভারতীয় ষড়্‌ দর্শন যারা একটু পড়ার চেষ্টা করেছেন বা ভাল ভাবে পড়েছেন তাঁরা জানেন কি ভাবে নাস্তিকত্বর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচার করা হয়েছে।

ভারতীয় ষড়্‌ দর্শন অনুযায়ী নিজেকে নাস্তিক পরিচয় দিলে তার নাস্তিকত্বর সঠিক পরিচয় বা নাস্তিকত্বর শ্রেণী বিভাগ দিয়ে বোঝাতে হবে।

আমরা তা হলে “আস্তিক” এবং “নাস্তিক” শব্দদুটির সজ্ঞা তিনটি পেলাম।

১। পরলোক তত্ত্বে বিশ্বাসীরা আস্তিক আর অবিশ্বাসীরা নাস্তিক।

২। বেদে বিশ্বাসীগণ আস্তিক আর অবিশ্বাসীগণ নাস্তিক।

৩। যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন তাঁরা “আস্তিক” এবং যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না তাঁরা “নাস্তিক”।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

পটুয়াখালীতে ৬৬০০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সংবাদদাতা, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীতে র‌্যাব-৮ সিপিসি- ১ পটুয়াখালী  ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা চালিয়ে ৬ হাজার ৬ শত পিচ ইয়াবাসহ মো. আলমগীর হোসেন (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে । জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর কলেজ রোডের বিএডিসি এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়।  এসময় ধৃত আলমগীরের বাসার ওয়ারড্রবের গোপন চেম্বার থেকে ওই বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ তাকে আটক আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত আসামি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা গ্রামের মৃত. ইউসুফ গাজীর ছেলে। আটককৃত আসামী জিজ্ঞাসা বাদের এক পর্যায়ে স্বীকার করে পেশায় সে একজন ট্রলার ব্যবসায়ী হলেও ইয়াবাই তার প্রকৃত ব্যবসা। এলাকায় ভালো, ভদ্র মানুষের লেবাস ধারণ করে সে দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়/বিক্রয় করিয়া আসছে বলে জানান তিনি। উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটককৃত আসামিকে পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এবং র‌্যাব বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন꫰। এবিষয়ে পটুয়াখালী র‍্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইফতেখারুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর’২০/এসএএইচ 

ফেনীর লংমার্চে হামলা, বরিশালে ছাত্রফ্রন্টের প্রতিবাদ

শাকিল মাহমুদ, বরিশাল: ধর্ষণ বিরোধী প্রগতিশীল ছাত্রদের লংমার্চে হামলার প্রতিবাদে বরিশালে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জেলা ও মহানগর শাখা। রোববার (১৮ অক্টোবর) রোববার বেলা ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাগর দাশের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মনিষা চক্রবর্তী, ছাত্র ফ্রন্ট সদস্য অর্প হাসান,বিজন সিকদার, প্রতিভা রায়, লামিয়া সাইমন সাইমন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাবার পথে ফেনীতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চে সরকার দলীয়দের হামলার মাধ্যমে বুঝিয়েছে তাদের ছত্রছায়ায় থাকা ধর্ষক ও নীপিড়নকারীদের তারা রক্ষা করতে চায়। তাই হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিকার চান বক্তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর’২০/এসএএইচ

সুন্দরবন থেকে ২ চোরাকারবারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড

সংবাদদাতা, মোংলাঃ সুন্দরবনে ১০কেজি হরিণের মাংস,২ টি চামড়া, ৪০০ মিটার ফাঁদসহ ২ চোরাকারবারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১.৩০ ঘটিকায়  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিসিজি আউটপোস্ট নলিয়ান এর একটি টহল দল খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন হড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ১০ কেজি হরিণের মাংস, ২টি হরিণের চামড়া, ৪০০ মিটার হরিণ ধরা ফাঁদ ও একটি মোটর সাইকেলসহ দুইজনকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, ১. শ্রী জামিনি রায় পিতা- অরবিন্দু রায় গ্রাম- হড্ডা থানা- কয়রা জেলা- খুলনা ২. শ্রী অরুন মন্ডল পিতা- সুরিনদ্রনাথ মন্ডল গ্রাম- হড্ডা- থানা- কয়রা জেলা- খুলনা। আটককৃত ব্যাক্তিদ্বয় ও উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হড্ডা ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইমতিয়াজ আলম জানান, কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারভূক্ত এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান নিয়ন্ত্রন ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি বন্য পশু-পাখি রক্ষায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উক্ত সাফল্য এই অভিযানেরই অংশ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর’২০/এসএএইচ