আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2498

ফুলবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনু্ষ্ঠিত

মোস্তাফিজার রহমান, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম): হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপযাপন উপলক্ষে শাহ বাজার রংধণু পাঠাগার ও চাষী ক্লাবের যৌথ আয়োজনে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০ এর ফাইনাল খেলা অনু্ষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বিকাল ৩ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শাহ বাজার আবুল হোসেন সিনিয়র (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে অনু্ষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আহম্মদ আলী পোদ্দার রতনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ।বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নুরল হুদা দুলাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া, শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার মিয়া, সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ হারুন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মন্ডল বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক মিলন। আরো উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, মমতাজ উদ্দিন, ফুলবাড়ী ক্রিড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন সরকার, ফুলবাড়ী ফুটবল ফাইটার্স একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বাবলুর রহমান সাগর, ফুলবাড়ী ফুটবল উন্নয়ন সমিতির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম লিটন প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১২ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

ঘিওর উপজেলা আ. লীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল আলীম মিন্টু- কে দেখতে চায় এলাকাবাসী

সৈয়দ এনামুল হুদা: মানিকগঞ্জের ৭ উপজেলার একটি ঘিওর। ইতিহাস-ঐতিহ্য-শিল্পসহ নানাবিধ কারণে আলোচিত এই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন দেশখ্যাত অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। বর্তমানে স্বাধীনতায় চেতনায় উদ্ভাসিত আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম সৈনিক আব্দুল আলীম মিয়া মিন্টু। যাকে গুরু মিন্টু নামেই চেনেন সবাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এমন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের ঘিওর উপজেলা সভাপতি দেখতে চান এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল আলীম মিয়া মিন্টুর পিতা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুল লতিফ (মতি মিয়া) ছিলেন পারিবারিকভাবে বিত্তশালী এবং দানবীর। এলাকায় শিক্ষার উন্নয়ন ও সমাজসেবা করেই কেটেছে তার রাজনৈতিক জীবন। ঘিওর সরকারি কলেজ, ঘিওর নাট মন্দিরসহ বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের শুরু হয় তারই হাতে। আর মিন্টুর মা হামিদা আক্তার (হেনা) গৃহিনী। এলাকাবাসী জানান, আব্দুল আলিম মিয়া মিন্টুর পরিবার যুদ্ধের আগে থেকেই এলাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঘিওর উপজেলায় জাসদের জন্য এক সময় যখন রাজনীতি করাটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল তখন দলের দুঃসময়ে মিন্টুর মেজো বোন কোহিনুর আক্তার নারী হয়েও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘিওরে আওয়ামী রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করেন। আর জাসদের সাথে টেক্কা দিয়েই দলের দুঃসময়ে আব্দুল আলীম মিন্টু ছাত্ররাজনীতিতে যোগদান করেন।

জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেন এই নেতা। ১৯৭৮-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ঘিওর নগর ছাত্রলীগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৮৪ সালে থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে ঘিওর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং দীর্ঘ ৪ বছর জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬ ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি নিষ্ঠার সাথেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন রাজনীতিক সূত্রে জানা যায়, ১/১১ এর সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রামে দূঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। এর আগে-পরে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হলেও আওয়ামী রাজনীতি থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। রাজনীতি জীবনে হামলার শিকার হয়েছেন, রাতের পর রাত বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। সহ্য করেছেন অত্যাচার ও নির্যাতন। এলাকার রাজনীতিক ও স্বাধীনতায় চেতনায় উদ্ভাসিত নাগরিক মনে করেন, ‘এখন নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। ঘিওর উপজেলা আওয়ামী রাজনীতিতে আব্দুল আলিম মিন্টু এক বৈপ্লবিক নাম।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করার লক্ষে আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করা এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের নৌকার কান্ডারি এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনিই যোগ্য বলে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা মনে করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১২ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় মেরুদন্ডের যত্ন । ডা: মো: আহাদ হোসেন

শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় মেরুদন্ডের যত্ন
ডা: মো: আহাদ হোসেন

মেরুদন্ড আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। পুরো শরীরের নিয়ন্ত্রণ এই মেরুদন্ডের সুস্থতার উপরে নির্ভর করে। মেরুদন্ড আমাদের পুরো শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। মেরুদন্ডের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের পুরো শরীরই ব্যথাগ্রস্থ হয় এবং স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং চলাফেরা কষ্টদায়ক হয়। মেরুদন্ড সমস্যাগ্রস্ত হলে যে বিষয়টি প্রথমেই পরিলক্ষিত হয় সেটি হচ্ছে ব্যাক পেইন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অনির্দিষ্ট ব্যাকপেইন শিল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ লোকের হয়ে থাকে। এই ব্যাকপেইনের অন্যতম প্রধান কারণ মেরুদন্ডের সমস্যা। আবার এই মেরুদন্ডের মধ্যে দিয়েই আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু সারা শরীরে বিস্তৃত থাকে।মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই স্নায়ুর উপরেও চাপ পড়ে, যার কারণে আমাদের ব্যথাসহ অন্যান্য অনেক সমস্যা হতে পারে। তাই মেরুদন্ডের যত্ন নেয়া এবং যেসব কাজ করলে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দরকারি। আজকের এই লেখার মাধ্যমে আমরা মেরুদন্ডের গঠন এবং কি কি কাজ করলে মেরুদন্ড ভালো থাকে এবং রোগমুক্ত রাখা যায় সেই বিষয়গুলো জানানোর চেষ্টা করবো।

মেরুদন্ডের গঠন :
প্রথমেই মেরুদন্ডের গঠন সম্বন্ধে একটু জেনে নেয়া দরকার। মেরুদন্ড মূলত বিভিন্ন ধরনের কশেরুকা, মাংসপেশি, লিগামেন্ট এবং কশেরুকার মধ্যবর্তী নরম জেলির মতো পদার্থ বা ডিস্ক এর সমন্বয়ে গঠিত। দু’টি কশেরুকার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা দিয়ে দুই পাশ দিয়ে বের হয় আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুসমূহ। এদের কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরুদন্ড তার ভারসাম্য হারাতে পারে। আবার কশেরুকা, মাংসপেশি, লিগামেন্ট ও ডিস্ক এগুলোর সজীবতা রক্ষা করার জন্য দরকার সঠিক রক্ত চলাচল ব্যবস্থা। কোনো কারণে ডিস্ক এর উপরে চাপ পড়লে সেটা পরবর্তীতে আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর উপরে চাপ প্রয়োগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যেহেতু কশেরুকা একটি হার সেহেতু এর সঠিক গঠন বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এগুলোর অভাবেও কশেরুকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা ভঙ্গুর হতে পারে। যা ঘটে থাকে সাধারণত অস্টিওপোরোসিস এই রোগটিকে। যাদের অস্টিওপোরোসিস থাকে তাদের রক্তে ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ কম থাকে যে কারণে কশেরুকায় সঠিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকে না। এছাড়াও অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা মুভমেন্টের কারণে লিগামেন্টস ও মাংস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হঠাৎ করে অত্যাধিক ভার বহন করার কারণেও আমাদের মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যেসব কারণে মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে :

  • আঘাতজনিত কারণে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • মেরুদন্ডে কোনো টিউমার হলে অথবা অন্য জায়গার কোনো টিউমার মেরুদন্ডে আসলে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • ডিজেনারেটিভ ডিস্ক ডিজিজ হলে মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • জন্মগত অথবা অন্য কোনো কারণে মেরুদন্ড অস্বাভাবিক বাঁকা হয়ে গেলে।
  • মেরুদন্ডের কশেরুকা হাঁড় একটির ওপর আরেকটি উঠে গেলে মেরুদন্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে  পারে।
  • রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস অথবা অন্য কোনো কারণে মেরুদন্ডের স্বাভাবিক বাঁকা নষ্ট হয়ে যেতে পারে যেটাকে বলা হয় স্পনডাইলোসিস।
  • যারা দীর্ঘদিন যাবৎ অতিরিক্ত ভার বহনের কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে মেরুদন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
  • যারা দীর্ঘদিন যাবত ধূমপান করেন তাদের ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরবর্তীতে তার স্বাভাবিক জায়গা থেকে বের হয়ে এসে আমাদের শরীর নিয়ন্ত্রণকারি স্নায়ুকে চাপ দিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
  • যারা অস্টিওপোরোসিস এই সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে মেরুদন্ড যে কোনো সময় সূক্ষ্ম ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে।

সঠিক ঘুমের পদ্ধতি :
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন আমাদের মেরুদন্ড অনেক কাজ করে। মেরুদন্ডকে সজীব রাখার জন্য এর প্রয়োজনীয় উপাদান রক্তের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। আমাদের ঘুমের সময় যদি মেরুদন্ডের ও শরীরের অন্যান্য সংযোগস্থলে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় না থাকে তাহলে মেরুদন্ডের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যার ফলে মেরুদন্ডের হাঁড় কশেরুকা মাংসপেশি ও লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে একসময় শরীরে ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়। তাই সঠিক ঘুমের পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের হাত-পা খাটো হিসাবগুলো সঠিকভাবে থাকে। একটি সাধারন কৌশল হলো ঘাড়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমানো। যদি চিৎ হয়ে ঘুমানো হয় তাহলে হাঁটুর নিচে একটি বালিশ দিলে ভালো হয়। কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ বা কোলবালিশ ব্যবহার করা উত্তম। ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত শক্ত ম্যাট্রেস বা অতিরিক্ত নরম ম্যাট্রেস ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাঝারি ধরনের নরম ও স্বপ্নের মাঝে মাঝে ম্যাট্রেস ব্যবহার করা উত্তম। আমাদের সঠিক ঘুমের কৌশলের মাধ্যমে মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং সারাদিন সে যে লোড নেয় সেটি ওভারকাম করে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে পারে।

মাংসপেশির স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ :
মেরুদন্ডের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার জন্য মাংসপেশীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মাংসপেশির ব্যায়াম মেরুদন্ডের মাংসপেশিকে স্বাভাবিক রাখতে এবং অতিরিক্ত লোড নেয়ার জন্য সহনীয় করতে কাজে লাগে। এক্সারসাইজের মাধ্যমে মাংসপেশির রক্ত চলাচল বেড়ে যায় যার ফলে মেরুদন্ডে হাঁড় এবং ডিস্ক তাদের সজীব থাকার উপাদান যথাযথভাবে পেতে পারে।

সঠিক জুতা ব্যবহার করা :
আমাদের শরীরের ভার পা দিয়ে গ্রাভিটি বা পৃথিবীর কেন্দ্রে নিউট্রালাইজ হয়। সাধারণত অস্বাভাবিক ধরনের উঁচু জুতা বা সামনে-পেছনে উঁচু-নিচু জুতা ব্যবহার করার কারণে আমাদের পুরো শরীরের ভার সঠিকভাবে নিউট্রালাইজ হতে পারে না। যে কারণে মেরুদন্ডের উপরে চাপ তৈরি হতে পারে। এজন্য সঠিক মাপের নরম ও হালকা উঁচু জুতা ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে হাই হিল ব্যবহার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সঠিক নিয়মে বসে কাজ করার পদ্ধতি :
যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে বসে কাজ করার পদ্ধতি জেনে নেয়া খুবই জরুরী। চেয়ারের পেছনে সামনের বাঁকানো ব্যাক রেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘক্ষন বসে কাজ না করে মাঝে মাঝে ৫ মিনিটের জন্য একটু হেঁটে আবার বসে কাজ করা যেতে পারে। বসার জায়গা অত্যন্ত শক্ত বা অধিক নরম না করে শক্ত কাঠের চেয়ারে হালকা কুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। বসে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে নিজের শরীরকে ডানে এবং বামে ঘুরিয়ে কিছুটা stress-free করা যেতে পারে।

ধূমপান বর্জন করা :
দীর্ঘদিন ধূমপান করার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়। মেরুদন্ডে রক্তনালীগুলো এমনিতেই সরু। দীর্ঘদিন ধূমপান করার কারণে রক্তনালীগুলো আরো সরু হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের হাঁড়, মাংসপেশি, ডিস্ক এর সজীবতা রক্ষাকারী উপাদান সরবরাহ কমে যায়। যার ফলে মেরুদন্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ধূমপান বর্জন আপনার মেরুদন্ডে স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে খুবই সাহায্য করে।

মেরুদন্ডের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে কিছু কৌশল :

  • শরীরের ওজন সঠিক রাখা।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ।
  • ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা।
  • যারা বাসায় বয়োবৃদ্ধ আছেন তাদের ঘুমের সঠিক নিয়ম শেখানো ও মাঝে মাঝে বিভিন্ন জয়েন্টগুলো অন্য কাউকে দিয়ে নাড়াছাড়া করিয়ে নেয়া।
  • মাঝে মাঝে মাসাজ পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • স্বাভাবিক মাত্রায় পানি পান করা।
  • নিজের শরীরের ওজনের চার ভাগের এক ভাগের (২৫%) বেশি ওজন বহন না করা। যেমন আপনার ওজন যদি ৬০ কেজি হয় তাহলে ১৫ কেজির বেশি হয়েছে না বহন করে।

যেসব বিষয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি :

  • হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক আঘাত পাওয়ার কারণে ব্যথা অনুভূত হলে।
  • শরীরের কোনো স্থানে টিউমার দেখা দিলে।
  • অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের ওজন কমে গেলে।
  • হঠাৎ করে পা এ অবশ অনুভূত হলে।
  • পায়খানা বা প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে।
  • অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে মাজায় ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • মাজার ব্যথা পায়ের ডান পাশে বা বামা পাশ দিয়ে নিচে নেমে আসা।

পরিশেষে বলতে চাই মেরুদন্ড আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। সুরক্ষার জন্য আমাদের সতর্ক ও তৎপর হওয়া উচিত। সামান্য অসতর্কতা অনেক সময় অনেক বড় বিপদ নিয়ে আসতে পারে। যে বিষয়গুলো আমাদের জানা সেই বিষয়গুলোতে সর্তকতা অবলম্বন করতে পারি। সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।
কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন, কাটাবন , ঢাকা।)

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/১২ নভেম্বর ২০২০/জেডএন

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে মোবাইল কোর্টের অভিযান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর, ২০২০) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) -এর নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বটতলা নামক স্থানে এ অভিযান চলে।

উক্ত মোবাইল কোর্টে ০২ (দুই) টি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) অনুযায়ী মোট ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানসমূহ হলো: ১. সিয়াম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বটতলা, সদর, কিশোরগঞ্জ; জরিমানার পরিমান- ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা; ২. আপন ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতাল লিঃ, বটতলা, সদর, কিশোরগঞ্জ; জরিমানার পরিমান- ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা।

উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শফিকুল ইসলাম। এ সময় মোবাইল কোর্টে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন জনাব ডা: মো: মুজিবুর রহমান, RAB-১৪ সিপিসি-২ -এর লে: কমান্ডার শোভন খান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জ -এর সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক। উক্ত মোবাইল কোর্টে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জনাব মো: আবু সাঈদ প্রসিকিউশন প্রদান করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে RAB-১৪-এর সদস্যগণ সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১০ নভেম্বর-২০২০/জেডএন

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০

নাবিলা ওয়ালিজা, মাদারীপুর: মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাজৈরের টেকেরহাট থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস মাদারীপুরে আসতেছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার ঘটকচরে আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে নারীসহ আহত হয় অন্তত ২০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে দুইজনের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে চিকিৎসক। মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

আলোকিত প্রতিদিন/৮ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

পটুয়াখালীতে ওয়ারেন্টভুক্ত দুজন পলাতক আসামী গ্রেফতার

হেলাল আহম্মেদ (রিপন), পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জিআর-৩/১৫ এর ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) ২ টা ৪৫ ঘটিকার সময় কলাপাড়ার বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করে সহকারী পুলিশ সুপার সন্জয় কুমার সরকার এর নেতৃত্বে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) এর একটি বিশেষ অভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় হলেন- ১. মোঃ মোশারফ শিকদার (৫৯), পিতা-মৃত জয়নাল শিকদার এবং ২. রাজিব শিকদার (২৯), পিতা-মোঃ মিজানুর শিকদার, উভয় সাং- পূর্ব রজপাড়া, থানা-কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় স্বীকার করে যে, তারা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার জিআর-৩/১৫ এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ  সুপার মোঃ রবিউল  ইসলাম এর  কাছে  জানতে  চাইলে  তিনি  বলেন, আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকবে বলে  তিনি  জানান ।

আলোকিত প্রতিদিন/৮ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

সাভারে ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

আলী হোসেন, সাভার: সাভারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সাভার পৌরসভার উদ্যোগে সেভ দ্য চিলড্রেন সিপ এর সহযোগিতায় ৭নং ওয়ার্ড মজিদপুর এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন সাভার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গণি। এসময় তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগের সরকার উন্নয়ন বান্ধব সরকার।বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনপ্রতিনিধিরা দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা মেনে ইতিমধ্যে সাভার পৌর সভার প্রতিটি এলাকায় পূর্বের তুলনায় ব্যাপার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আব্বাস আলী বলেন সাভার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গনির নেতৃত্বে পৌর সভার প্রতিটি এলাকায় ন্যায় ৭নং ওয়ার্ডেও ব্যাপার উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।বিশেষ করে ৭নং ওয়ার্ডে কয়েকটি রাস্তা ব্যাতিত সকল রাস্তার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে।অসমাপ্ত বাকি কাজ গুলো অতিদ্রুত সম্পূর্ণ করা হবে বলে তিনি জানান। এসময় সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আব্বাস আলী,সাভার পৌর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুদসহ সেভ দ্য চিলড্রেন সিপ এর কর্মকর্তাদ্বয় উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/৮ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। পেনসিলভ্যানিয়ায় জয়লাভ করায় বেসরকারি ফলাফলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।

ফক্স নিউজ অনুযায়ী, জো বাইডেনের প্রাপ্ত ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ২৯০। এদিকে বিবিসির পূর্বাভাসও তাই বলছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো বাইডেন ২৭৩টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। আসছে জানুয়ারিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যদিও তা নির্ভর করবে আইনগত চ্যালেঞ্জের ফলাফলের ওপর।

ভোটের ফলাফলের হিসাবে পেনসিলভেনিয়ায় জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় জেতার মাধ্যমে বাইডেন সেখানকার ২০টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে গেলেন।

রেকর্ডসংখ্যক পপুলার ভোটঃ

মি. বাইডেন রেকর্ডসংখ্যক পপুলার ভোট বা সাধারণ মানুষের ভোট পেয়েছেন। এই নির্বাচনে যে পরিমাণ মানুষ ভোট দিয়েছেন ১৯০০ সালের পর আমেরিকার কোন নির্বাচনে এত মানুষ ভোট দেননি। মি. বাইডেন এখন পর্যন্ত পপুলার ভোট পেয়েছেন সাত কোটি ৩০ লাখের বেশি। আমেরিকায় আর কোন প্রেসিডেন্ট এত মানুষের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হননি।

মি. ট্রাম্প পেয়েছেন প্রায় সাত কোটি ভোট। সেটাও আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট।

আলোকিত প্রতিদিন/৭ নবেম্বর’২০/এসএএইচ

পায়ের গোড়ালি ব্যথায় সতর্কতা ও সমাধান । ডা: মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

পায়ের গোড়ালি ব্যথায় সতর্কতা ও সমাধান
ডা: মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘদিন পায়ের গোড়ালির ব্যথা নিয়ে ভুগছেন। আজকের লেখায় পায়ের গোড়ালির এই ব্যথা নিয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করবো। বরাবরের মতো আজকেও পায়ের গোড়ালি ব্যথার কারণ ও এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

গোড়ালি ব্যথা কী? :
চিকিৎসকদের ভাষায় এই অবস্থাটির নাম প্লান্টার ফাসাইটিস। এতে পায়ের তলায় বিশেষ করে হিল বা গোড়ালিতে খোঁচা দেয়ার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এতে সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে পা ফেললে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর ব্যথা কমে আসে।

পায়ের গোড়ালি ব্যথার কারণ :
পায়ের গোড়ালি ব্যথার কারণ জেনে নেয়ার আগে এর গঠন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। আমাদের পায়ের সামনের দিকে কিছু ছোট ছোট হাঁড় পেছনের দিকে গোড়ালি বা হিলের একটি হাঁড় এবং মাঝে কিছু হাঁড় নিয়ে গঠিত। এই হাঁড়গুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে লিগামেন্টস। সামনের এবং পেছনের হাঁড়ের সঙ্গে একটি ব্যান্ডের মতো জিনিস দিয়ে সংযুক্ত থাকে। যেটাকে বলে প্লান্টার ফাসা।

আমাদের শরীরের ওজন যেন সরাসরি আমাদের পায়ের হাঁড়ের ওপরে চাপ প্রয়োগ করতে না পারে এ জন্য এই ব্যান্ডটি আমাদের শক এবজরবারের মতো কাজ করে। এই ব্যান্ডে যদি কোনো ইনফ্লামেশন হয় তাহলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা অনুভূত হয়। আমাদের শরীরের ওজন বেশি হলে বা দীর্ঘ মেয়াদী কোনো চাপ থাকলে এই ব্যান্ড বা ফাসাতে ছোট্ট টিয়ার বা ইনজুরি হয়। প্রথমদিকে ব্যথা কম থাকায় এটা অনুভূত কম হয় এবং হাঁটাহাঁটি অব্যাহত থাকে। শুরুর ব্যথা আমলে না নিলে ইন্জুরি গভীর হয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথায় পরিণত হয়। তখন এটিকে বলে প্লান্টার ফাসাইটিস।

কারা এই গোড়ালি ব্যথার ঝুঁকিতে থাকেন? :
যদিও কারণ ছাড়াও এই ব্যথা হতে পারে। তবে বেশ কিছু ঝুকির কারণ আছে। সেগুলো হলো-
১. বয়স- সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছয় বয়েসের মানুষের মধ্যে এই গোড়ালি ব্যথার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়।
২. যেসব কাজে হিল বা গোড়ালিতে চাপ হয় যেমন- দীর্ঘ সময় দৌড়ানো, যারা নৃত্য করেন অধিক সময় ধরে। এদের এই প্লান্টার ফাসাইটিস হতে পারে।
৩. পায়ের গঠণগত সমস্যা : যাদের পা সমান বা আর্চ থাকে না বা ফ্লাট ফুট সমস্যা। আবার যাদে উঁচু আর্চ থাকে তাদের ক্ষেত্রে হিলে বা গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে। যে কারণে তাদের এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
৪. মোটা শরীর বা ওজন বেশি : এদের ক্ষেত্রে একই কারণে হিলে বা গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে প্লান্টার ফাসাইটিস হতে পারে।
৫. পেশা : কিছু কিছু পেশায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করতে হয়। গার্মেন্টস ওয়ার্কার ও ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার এদের এই সমস্যা হতে পারে।
৬. পুরুষদের থেকে নারীদের এই ব্যথার প্রবণতা বেশি থাকে। গর্ভবতী নারীদের শেষের দিকে প্লান্টার ফাসাইটিস হতে পারে।
৭. যারা আরথ্রাইটিস বা এনকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস এ ভুগছেন তাদের এই সমস্যা হতে পারে।
৮. যারা দীর্ঘ দিন শক্ত হিল বিশিষ্ট জুতা ব্যাবহার করেন।

গোড়ালি ব্যথায় করণীয় কী?
• যেহেতু এটা এক ধরনের ইনজুরি তাই যথাযথ বিশ্রাম দিতে হবে পা কে। পা কে উঁচু টুলের উপর রাখার চেষ্টা করতে হবে।
• পায়ের ব্যথাযুক্ত জায়গায় বরফ বা আইসপ্যাক রাখতে হবে ২০ মিনিট ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর।
• পা সকালে ও রাতে হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজেয়ে রাখতে পারেন ২০ মিনিট করে।
• নিজের ওজন কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা।
• প্রশস্ত আরামদায়ক নিচু হিল বিশিষ্ট নরম জুতা ব্যবহার করতে হবে।
• জুতার ভেতরে ইনসোল বা হিলপ্যাড ব্যবহার করতে হবে।
• নিয়মিত আরামদায়ক স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। পায়ের উপর চাপ পরে না এমন এক্সারসাইজ যেমন সাঁতারকাটা যেতে পারে।
• প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

যে বিষয়গুলো করা যাবে না :
• প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইবুপ্রফেন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না।
• অধিকক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।
• হাইহিল বা টাইট পয়েন্টি জুতা ব্যবহার করা যাবে না।
• শক্ত চপ্পল বা স্লিপার ব্যবহার করা যাবে না।
• খালি পায়ে বা শক্ত বা উঁচু নিচু জায়গায় হাঁটা যাবে না।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি :
মূলত ব্যথা নিয়ে যারা কাজ করেন সেসব চিকিৎসককে দেখিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারেন। তবে হাঁড় ভাঙা ও অন্যান্য কারণ অলাদা করার জন্য এক্স-রে ও এম.আর.আই করা যেতে পারে।

গোড়ালি ব্যথায় চিকিৎসা পদ্ধতি :
প্রাথমিক চিকিৎসা
RICE
R- Rest
I – Ice pack
C- Compression
E- Elevation

ওষুধ : প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে ৫-৭ দিন।

 

দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথার চিকিৎসা :
যেসব প্লান্টার ফাসাইটিসের ব্যথা প্রাথমিক চিকিৎসা ও সতর্কতা এর মাধ্যমে যায় না, তাদের ক্ষেত্রে ট্রিগার পয়েন্ট ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে স্টেরয়েড প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে ব্যথা কমানো যায়।

ফিজিওথেরাপি : বেশ কিছু ফিজিওথেরাপি এখানে কাজ করে যেমন- আল্ট্রাসাউন্ড, ESW থেরাপি ও ম্যাসেজ। এসব ক্ষেত্রে ব্যথা নিরাময়ে কিছু সময় লাগে।

তবে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পায়ে রক্ত চলাচল বাড়ে। লিগামেন্ট ও ফাসাগুলো নিউট্রিশন পায়। নিয়মিত সপ্তাহ খানিক ফিজিওথেরাপি করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

পিআরপি : দীর্ঘ মেয়াদী ও জটিল প্লান্টার ফাসাইটিস এর ক্ষেত্রে পিআরপি খুবই ভালো কাজ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিয়ে মেশিনে দিয়ে রক্ত কণিকা আলাদা করে এই পিআরপি তৈরি করা হয়। এই পিআরপিতে প্রচুর পরিমাণে গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে যা দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতপূরণে সহায়তা করে। এটি একটি স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি।

গোড়ালি ব্যথায় কার্যকরী ব্যায়াম :
যারা ঝুঁকিতে আছেন বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন তারা নিয়মিত কিছু এক্সারসাইজের মাধ্যমে গোড়ালির এই ব্যথা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।
১. ফ্লোরে বা চেয়ারে বসে হাঁটু লক করে যে কোনো এক পা সোজা রাখুন। এবার একটি বড় ফিতা পায়ের পাতার সামনের দিকে আটকে দিয়ে দুই প্রান্ত দুই হাত দিয়ে হালকা চাপে রাখুন বা টানুন ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি উভয় পায়ে করুন।
২. একটি আধা লিটার পানির বোতল পুরোপুরি বরফ জমাট করে পায়ের নিচে রেখে রোল করতে হবে ৩০ সেকেন্ড।
৩. হাত দিয়ে পায়ের পাতায় ম্যসেজ করে দিতে হবে। কেন্দ্র থেকে বাহিরের দিকে।
৪. সিঁড়িতে পায়ের পাতার সামনের দিকের অংশ রেখে বাকি অংশ বাইরে রেখে যে কোনো এক পায়ের উপর ভারসাম্য রেখে দাঁড়াতে হবে ৩০ সেকেন্ড।

ব্যথা আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে। আমাদের আশান্তির কারণগুলোর মধ্যে ব্যথা অন্যতম। তাই ব্যথামুক্ত জীবন সকলেরই প্রত্যাশা। এই ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করতে হলে ব্যথাকে জানতে হবে। চিনতে হবে। ব্যথা হওয়ার আগেই সতর্ক হতে হবে। আজকের আলোচনা থেকে সবাই গোড়ালি ব্যথা থেকে বেঁচে থাকতে পারেন এই প্রত্যাশায় শেষ করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।)

 

আলোকিত প্রতিদিন/৪ নভেম্বর ২০২০/জেডএন

রত্নগর্ভা আলহাজ্ব জাহানারা বেগমের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী

শেখ মইনুল হাসান : আগামীকাল ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের সাহেবপাড়া নিবাসী রত্নগর্ভা আলহাজ্ব জাহানারা বেগমের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার বাসভবনে (জাহানারা মঞ্জিল) সাহেবপাড়ায় শুক্রবার বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিল এবং এলাকার দুস্থদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মরহুমার নিকটাত্মিয়দের স্বাস্থ্য বিধি মেনে উপস্থিত থাকতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

পরিবারের পুত্র-কন্যাগণের পক্ষে এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ধীন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম-সচিব জনাব এ.এইচ.এম হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া (জিন্না)।

আলোকিত প্রতিদিন/৪ নভেম্বর ২০২০/জেডএন