আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2496

সংসদে ধর্ষণে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ বসিয়ে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আনা বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল- ২০০০’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে বিলটি গত ৮ নভেম্বর সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। গত সোমবার সেই প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি। ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি লিঙ্গ বৈষম্যের পরিচায়ক বলে বিভিন্ন সময় মত আসার প্রেক্ষাপটে বিলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ দিয়ে শব্দটি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। মূল আইনের ৯ (২) ধারাসহ কয়েক জায়গায় ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি বসছে। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার আইনটি সংশোধনের পদক্ষেপ নেয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইন কার্যকর করতে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০০০’ জারি করেন। পরে ৮ নভেম্বর নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একই দিন সেটি বিল আকারে সংসদে তোলা হয়। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপধারায় বলা ছিল, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। বিলে মূল আইনের খসড়ায় ৯(১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আইনের ৯(৪) (ক) উপধারায় ছিল, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’ এই উপধারা সংশোধন করে পাস হওয়া বিলে ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’- এর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ষণ ছাড়া সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে ‘শিশু আইন- ২০১৩’।

২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া মেডিকেল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে।’

বিলে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২(ক) শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বিলে। সেখানে বলা হয়, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রসরমান ধারা আজ বিশ্বব্যাপাী নন্দিত ও প্রশংসিত। বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ঊর্ধ্বগামী পরিক্রমণের মধ্যে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ সংঘটন, সামাজিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব রাখাসহ সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের হীন অপরাধ দমনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণার্থে দণ্ডারোপের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ-সময় ও পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় অত্যাবশ্যক।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

সেনবাগে আইনশৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- নোয়াখালী -২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন,সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আহম্মদ চৌধুরী,সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার,বেগমগঞ্জ সার্কেল শাহ ইমরান,সেনবাগ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা। এসময় বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন- উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলী আক্কাছ রতন,বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আমান উল্যাহ্,মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওহাব,কেশারপাড় ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল ভূঁইয়া,ছাতারপাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য রেজিয়া আক্তার বকুল,সাংবাদিক এম.এ আউয়াল,ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম,ইউপি সদস্য আবদুল হাকিম,আবু বক্কর ছিদ্দিক জসিম প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নামে মামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধা জেলা যুবদলের বিক্ষোভ

সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান উদ্দিন টুকুসহ যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও যুবদল রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধা জেলা যুবদলের উদ্যোগে মঙ্গলবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি কিছুদুর এগিয়ে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল, সদর থানা বিএনপির আহবায়ক খন্দকার ওমর ফারুক সেলু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সেলিম, উপদেষ্টা আলমগীর সাদুল্যা দুদু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুটটু, সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ সেকেতুর রব অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার জাহেদুন্নবী তিমু, সহ-সভাপতি মোশফেকুর রহমান রিপন, সহ-সভাপতি আহমেদ কবীর শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক ইউনুছ আলী দুখু, সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন, আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক খন্দকার ফরিদুল ইসলাম, যুবনেতা মাহমুদার রহমান রতন, সাদুল্যাপুর উপজেলা যুবদল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতোয়ার রহমান, গোবিন্দগঞ্জ যুবদল সাধারণ  সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম, ফুলছড়ি যুবদল সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নান্টু প্রমুখ। বক্তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান উদ্দিন টুকুসহ যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও যুবদল রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে সকল নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রতাহারের দাবি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

ফুলবাড়ীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন অনু্ষ্ঠিত

মোস্তাফিজার রহমান, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম): মাদককে না বলুন, রক্ত দানে এগিয়ে আসুন ” এই স্লোগানে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন অনু্ষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইনের আয়োজনে উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোলারহাট বাজারে দিনব্যাপী দ্বিতীয়বার ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন অনু্ষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইন চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, আল মামুন সুজন, অব:খাদ্য পরির্দশক মাহফুজার রহমান শেখ, ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক চঞ্চল চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন, ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পইনের সভাপতি এনামুল হক বসুনিয়াসহ সংগঠণটির সজল, জিকরুল বারী লিমন, মেহেদি, আরিফ, জয় তৃতীয় মাত্রার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি মাহফুজ সহ ইউনিয়নটির বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ নভেম্বর’২০/এসএএইচ

সেনবাগে পালাতে গিয়ে এক ওয়ারেন্টের আসামীর মৃত্যু

মোঃ ইব্রাহিম, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ১নং ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে মোঃ কবির (৫০) নামের এক ওয়ারেন্টের আসামি মৃত্যুর হয়েছে। নিহত কবির ওই গ্রামের ৬নং ওয়ার্ড চৌকিদার বাড়ির মৃত মোকলেসুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে একটি মারামারির মামলায় ছিল। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সেনবাগ থানার এসআই মোঃ আল আমিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করতে বসন্তপুর বাজারে গিয়ে কবিরের চায়ের দোকানের সামনে সিএনজি দাঁড় করিয়ে কবিরকে তাকে নাম জিজ্ঞাসা করে। এ সময় কবির নিজেকে মাইন উদ্দিন বলে জানান। তবে পুলিশের সন্দেহ হলে তারা বাজারের নাইটগাডর্ (চৌকিদার) আবদুল জলিলকে জিজ্ঞাসা করলে সে কবিরকে মাইন উদ্দিন হিসাবে সনাক্ত করে। পরে কবির (মাইন উদ্দিন নামধারী) বাজারের পাশে^র কবিরের বাড়ি পুলিশকে দেখিয়ে দিয়ে সে দ্রুত পাশ্ববর্তী আবদুল ওহাবের বাড়ির সুপারী বাগানে পালিয়ে আশ্রায় নেয় এবং সেখানে সে স্ট্রোক করে মারা যায়।সোমবার সকালে ওই বাড়ির ছেলেরা বাগারে সুপারী পাড়তে গিয়ে কবিরের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে ঘটনাার জানাজানি হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী সেনবাগ থানার এসআই মোঃ আল আমিন জানায়, সোমবার রাতে মারামারির মামলায় ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেন সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে কবিরকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে যান। তবে, ওই সময় সে বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তাকে কোর্টে আত্মসমার্পন করার জন্য স্ত্রীসহ পরিবারের নিকট বলে চলে আসে। পরে সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে তার মৃতদেহ স্থানীয় বসন্তপুর গ্রামের আবদুল ওহাবের সুপারী বাগানে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী সেনবাগ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি নিহত কবিরের পরিবারের সদতস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, কবির কয়েক বার স্ট্রোক করেছিল।গতকালও হয়তো স্ট্রোক জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।এব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ(ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, কবিরের মৃতদেহ পাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পরপরই সেনবাগ থানার এসআই গৌরসাহা ও এসআই নুর হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের ময়নাতদন্তর জন্য উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পারিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত করাতে অপারগতা প্রকাশ করায় এবং কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর’২০/এসএএএইচ

গাইবান্ধায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন সেমিনারের উদ্বোধন করেন। এবারের সেমিনারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, সুরক্ষিত ভোক্তা অধিকার’। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, ক্যাব ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, ডিবির ইন্সপেক্টর মানসরঞ্জন দাস, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ প্রমুখ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. লোকমান হোসেন।  প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের উপর বর্তমান সরকার সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি প্রণীত হয়েছে। ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুন্ন হলে বা লংঘিত হলে এই আইনে যে কোন ভোক্তাই অভিযোগ করে অতিসহজেই আইনানুগ প্রতিকার পেতে পারে। তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রণীত এই আইন ও ভোক্তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর’২০/এসএএএইচ

শ্রীপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী শহীদুল্লাহ্ শহিদ

আলমগীর হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরে শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একক প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ শহীদকে মনোনীত করেছে স্থানীয় বিএনপি। রবিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর পৌরসভার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাষ্টার টাওয়ারের তৃতীয় তলায় শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত নেন। শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা মাওলানা এস এম রুহুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন কাঁইয়া, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, গাজীপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা: শফিকুল ইসলাম আকন্দ, হুমায়ুন কবির সরকার, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, আবুল মুনসুর মন্ডল, নাহিন আহমেদ মোমতাজী, ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মন্ডল জুয়েল, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল কবির মন্ডল আজাদ, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মৃধা, শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত একমাত্র প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপি’র যুগ্ন-সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীবৃন্দ। শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, শ্রীপুরে বিএনপিতে কোনো বিভেদ বা গ্রæপিং নেই। শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা একক প্রার্থী মনোনীত করেছি। প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ শহীদ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে এবং জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এম শামসুজ্জামান জানান, গত পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। আগামী বছরের ২১ জানুয়ারী এ পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। পৌরসভা আইন ২০০৯ অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভায় মোট ভোটর ৭১ হাজার ৪১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটরি ৩৫ হাজার ৯৫৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৩৫ হাজার ৪২৬ জন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর’২০/এসএএএইচ

আতিক যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ায় ফুলবাড়ীতে আনন্দ মিছিল

মোস্তাফিজার রহমান, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ফুলবাড়ীর কৃতি সন্তান ডাক্তার মোঃ আতিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। সোমবার ১৬ নভেম্বর সকাল ১১ টায় ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মিলনের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে ফুলবাড়ী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গেটে এসে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এ সময়  যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ডাক্তার আতিককে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ডাঃ আতিকুর রহমানের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা গ্রামে। তিনি শাহ বাজার আবুল হোসেন সিনিয়র (ডিগ্রি)  মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কাশেম সরকারের ছোট ছেলে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর’২০/এসএএএইচ

‘ইয়াং পেইন ফিজিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ডা: আহাদ

জাকারিয়া নূরী : বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেসথেসিওলজিস্টস (বিএসএ) -এর উদ্যোগে ‘১ম আন্তর্জাতিক ই-কনফারেন্স অন পেইন-২০২০’ থেকে ‘ ইয়াং পেইন ফিজিশিয়ান অ্যাওয়ার্ড ’ পেলেন কুর্মিটোলা জেনোরেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান ডা: মোহাম্মদ আহাদ হোসেন। আজ (১৪ নভেম্বর) দুপুর ৩ টায় ঢাকাস্থ হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে তিন দিন ব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে দু’টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৭ জন ডাক্তারকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

ডা: মোহাম্মদ আহাদ হোসেন কোরনাকালিন পুরোটা সময় ধরে অধিকাংশ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক ‍মিডিয়ায় দেশবাসীর জন্য কোরনা থেকে বেঁচে থাকার উপায়সমূহ তুলে ধরে আসছেন। এছাড়াও মানব দেহের নানাবিধ ব্যথা নিবারণের নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

‘১ম আন্তর্জাতিক ই-কনফারেন্স অন পেইন-২০২০’ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ লিখিত শুভেচ্ছা প্রেরণ করেছেন। বিএসএ -এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিকের সভাপতিত্বে ও বিএসএ -এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কাওছার সরদারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব জাহেদ মালেক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জনাব মো. আলী নূর; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জনাব মো. আব্দুল মান্নান; বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া; স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সনাল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশিদ আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সম্মেলনটিতে বিদেশী ফ্যাকাল্টিগণসহ প্রায় ১০০০ জন বিশেষজ্ঞ এ্যানেসথেসিওলজিস্ট অনলাইনে সংযুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেসথেসিওলজিস্টস ‘১ম আন্তর্জাতিক ই-কনফারেন্স অন পেইন-২০২০’ এর এ আয়েজনে ১৪-১৬ নভেম্বর ২০২০ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতিদিন ই-কনফারেন্স অনলাইনে (জুম মিটিং) চলবে।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে-  Prof. Susilo Chandra, CHAIR of Asian Australian Regional Section of WFSA, Professor Kris C. P. Vissers, Chair, FIPP Board of Examination, WIP, Dr Wayne Morriss, President Elect, WFSA, Dr Jannicke Mellin Olsen, Past President, WFSA সহ বিশ্বের প্রায় ৬০ জন পেইন বিশেষজ্ঞ এই ই-কনফারেন্সে যোগদানের সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

জটিল ব্যাথা রোগীর চিকিৎসার জন্য এনেসথেসিওলজিস্টের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ব্যাথা চিকিৎসার সর্বোচ্চ মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রয়াসে বৈজ্ঞানিক সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কনফারেন্সটিতে আর্ন্তজাতিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বরেণ্য চিকিৎসকগণ সংযুক্ত থেকে উল্লেখিত বিষয়ে অর্জিত উৎকর্ষতা তথা দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময় করবেন যা এ দেশের এ্যানেসথেসিওলজিস্টগণ চিকিৎসা সেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ নভেম্বর ২০২০/জেডএন

রবি’র সেবায় ভোগান্তিতে জবির শিক্ষার্থীরা

প্রতিনিধি, জবি: মহামারি করোনায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহারের শর্তাবলী সাপেক্ষে ১৯৯ টাকার ৩০ জিবি ডাটা প্যাকেজের মধ্যে- শিক্ষার্থীরা ৯৯ টাকা প্রদান করবে এবং বাকী ১০০ টাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবি’কে সরাসরি প্রদান করবে বলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রবি’র মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহারের শর্তাবলী সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর ‘রবি’ রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বরে ডাটা প্যাকেজে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কনফার্মেশন ম্যাসেজ প্রদান করবে। অতঃপর শিক্ষার্থীরা ১৯৯ টাকা রিচার্জ করবে এবং ইউএসএসডি কোড (*১২৩*৭৭৩৩#) ডায়েল করে বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘রবি’ প্রদত্ত সুবিধাটি উপভোগ করা যাবে। কিন্তু রবির সাশ্রয়ী মূল্যে ডাটা প্যাক ও সিম নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, এই ডাটা প্যাকেজের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পোর্টাল, ই-লাইব্রেরি পোর্টাল, বিডিরেন জুম, গুগল ড্রাইভ, হোয়াটসঅ্যাপ, জি-মেইল, হট-মেইল, ইয়াহু মেইল এ সমস্ত সেবাগুলো গ্রহণ করা যাবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসের জুম লিংক গুলো গুগল ক্লাসরুম এপসের মাধ্যমে অথবা কেউ কেউ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমেও দেয়া হয়ে থাকে। সেজন্য শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়েই অন্য একটি ডাটা প্যাক ক্রয় করতে হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমেনা খাতুন জানায়, রবির ডাটা প্যাকেজটি পেতে প্রদও লিংকে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করার সময় রবি/এয়ার্টেল ফোন নাম্বারের ইনপুটে ভুলবশত রবি লিখে সাবমিট করে ফেলেন। পরবর্তীতে নাম ও আইডি দিয়ে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে আউটপুট আসে। এজন্য তিনি প্যাকটি আর ব্যবহার করতে পারেননি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অভিজিৎ জানায়, বিজ্ঞপ্তি দেয়ার প্রথমদিনই তিনি সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু নিয়মানুসারে কনফার্মেশন এসএমএস না আসায় তিনি রিচার্জ করতে পারছিলেন না। যেখানে বলা হয়েছিলো সাথে সাথেই এসএমএস আসবে সেখানে একদিন দুইদিন তিনদিন পরও এসএমএস আসেনি। অতঃপর প্রায় সাত (৭) দিন পর তার ফোনে এসএমএস আসে। কিন্তু রবির এই সেবার প্রতি একপ্রকার মনক্ষুন্ন হয়েই তিনি আর প্যাকেজটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন শুধুমাত্র বিডিরেন জুম এপসের জন্য এই ডাটা প্যাকটি কিনে শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না। কেননা ক্লাসের জুম লিংক তারা গুগল ক্লাসরুম এপসের মাধ্যমে অথবা কেউ কেউ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমেও পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে তাদের অন্য একটি ডাটা প্যাক কিনতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিজ আলম চয়ন জানান, তিনিও বিজ্ঞপ্তি দেয়ার প্রথম দিনই সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্ত এসএমএস না আসার ভোগান্তিতে ডাটা প্যাকটি ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। তিনি আরো জানান, রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও অন্য যেকোনো রবি/এয়ারটেল নাম্বারেও (*১২৩*৭৭৩৩#) ইউএসএসডি কোডটি ডায়েল করলেও এই অফারটি দেখাচ্ছে এবং তিনি তার মায়ের নাম্বারেও চেক করে অফারটি দেখতে পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ ও সেই এসএমএসের সমস্যার কথাই জানান। রবি সিম ব্যতীত তার অন্য কোনো সিম না থাকায় এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করে সে দুইদিনের ক্লাস মিস করেছেন। এসএমএস পাওয়ার পর ডাটা প্যাক ক্রয় করতে পারলেও সে ডাটা প্যাক দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা করেও ক্লাসে কানেক্টেড হতে পারেনি তিনি। বাধ্য হয়েই তাকে অন্য ডাটা প্যাক ক্রয় করতে হয়েছে। রবির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে জানতে পারা যায় নির্দিষ্ট গ্রাহক ব্যতীত অন্য কোনো গ্রাহক এই ডাটা প্যাকটি ব্যবহার করতে পারবেন না। অসুবিধাগুলোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানানো হয়। অন্যদিকে ক্যাম্পাসে রবির সিম সরবারাহকারীরা জানান, রবি/এয়ারটেলের নতুন সিম ব্যতীত এই সুবিধা পাবে না। তারা এসব বলে ক্যাম্পাসে সিম বিক্রি করছেন বলে জানা যায়। নতুন সিম ক্রয়ের জন্য নির্দেশাবলি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও পুরনো সিমে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না এমন কোনো কিছু বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসব বলে সিম বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। সমস্যা গুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক ও আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য বলেন, রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা আইটি দপ্তর থেকে সমাধান করা সম্ভব। তবে রবির কোনো সমস্যার (সিম, নেটওয়ার্ক) সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা সম্ভব নয়। রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার পর প্রথম সাত দিনে ৩৩২ জন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দও ১৯৯ টাকার বিনিময়ে রবির এই সুবিধা পাবেন। তবে তারা কোন ভতুর্কি সুবিধা পাবেন না।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ নভেম্বর’২০/এসএএইচ