আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2491

সাভারে ভবনে হঠাৎ বিস্ফোরণ

সাভার প্রতিনিধি : সাভারে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ভবন হেলে পড়ার আশঙ্কায় প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন পৌরসভার প্রকৌশলী শরিফুল ঈমাম। পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়া ভবনটি ব্যবহার না করার আহবান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের বাজাররোড এলাকার বিলাস সিনেমা হল সংলগ্ন শাহ আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ঝুকিপূর্ণ দাবি করেন পৌরসভার প্রকৌশলী।
তিনি বলেন, কী কারণে ভবনে বিস্ফোরণ হয়েছে তার যথাযথ কারণ এখনো জানা যায়নি। ভবনটি অন্য ভবনের দেয়ালের সাথে নির্মান করা। তাই পরীক্ষা ছাড়া ভবনটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাহফুজুর রহমান  জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভবনটি হেলে পড়া কিংবা, দেবে যাওয়ার কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি। তবে ভবনে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে তা তদন্ত করে জানানো হবে।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে হঠাৎ করে পাঁচতলা ভবনের নিচ তলার দোকানের শাটার খুলতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আশেপাশের উৎসুক জনতা জমিয়েছে ভীড়। ভবন হেলে পড়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এখানকার ভাড়াটিয়াসহ এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে বাড়িওয়ালা শাহ আলম বলেন, ওই দোকানটি স্যানেটারীর মালামালের দোকান। সকালে সাটার খুলতে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গনি বলেন, প্রাথমিকভাবে খবরটি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পৌরসভার প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহ আগে সাভারের ওয়াবদা রোডে আরও একটি ভবন হেলে পড়ার ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষার কোনো ভুমিকা দেখা যায়নি। ভবনের নিতলার ব্যবসায়ীরা দিন কাটাচ্ছেন খেয়ে না খেয়ে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচন : ভোটারদের সাথে মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার : সাভার পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ডের ভোটারদের সাথে বর্তমান কাউন্সিল ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সেলিম মিয়া তার নিজ বাস ভবনের পাশে এক উঠান বৈঠক করেন। সোমবার (১৪ই ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার  ভোটারদের সাথে নির্বাচনি  ইশতেহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় এলাকার গান্যমান্য লোকজনসহ নানা শ্রেণির ভোটার উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় হাজী সেলিম মিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা মেনে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে বিগত দিনে সাভার পৌর সভার প্রতিটি ওয়ার্ডের ন্যায় ৮নং ওয়ার্ডেও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমি আপনাদের পাশে বিগত দিনে যেভাবে ছিলাম ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতে পাশে থাকবো। ৮নং ওয়ার্ড রাজাশন এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত এলাকা গড়তে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমার যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা বিবেচনা করে আমাকে ভোট দিবেন। সাভার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে রুপান্তরতি করার প্রত্যয়ে আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতার কামনা করছি। আমি যোগ্য ব্যক্তি হলে আমাকে ভোট দিবেন।’
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

ধামরাইয়ে এনজিও কর্মীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে ইসমাইল হোসেন(২৪)নামে এক এনজিও কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপোরি কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোমগ্রাম বাজারের নিকটে এ নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এনজিওর সদস্যদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় শেষে অফিসে ফেরার পথিমধ্যে তাকে খুন করা হয়। খুন হওয়া ওই এনজিও কর্মী যাদবপুর ইউনিয়নের আমড়াইল গ্রামের মোঃ আব্দুল আলীমের ছেলে ও সন্ধিমানব এনজিওর মাঠকর্মী বলে জানা গেছে।

এসময় স্থানীয় জনতা রাজীব হোসেন (৩০) নামে এক খুনিকে হাতেনাতে আটক করলেও তার আরও দুই সহযোগি খুনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।জনতার হাতে আটক ওই খুনি একই এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে।
তাকে উপর্যুপোরি গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খুন হওয়া ওই এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ। এব্যাপারে ধামরাই থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে খুন হওয়া এনজিও কর্মী মো: ইসমাইল হোসেন (২৪) দুপুরে বনেরচর এলাকায় সন্ধিমানব এনজিওর সদস্যদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় শেষে অফিসে ফেরার পথিমধ্যে রাজীবসহ ৩ জন ইসমাইল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে ও উপর্যুপোরি কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তবে কি কারণে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীপক চন্দ্র সাহা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ৩ খুনি এক এনজিওকর্মীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এসময় উপস্থিত জনতা এক খুনিকে হাতেনাতে আটক করে। জনতার হাতেনাতে আটক ওই খুনিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আটক ওই খুনিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাকী আসামীদের অতি দ্রæত গ্রেফতার করা হবে। খুনিরা পালিয়ে গিয়ে কোনমতেই শেষ রক্ষা পাবে না।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

আমি মরি নাই, বেঁচে আছি স্যার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : তরতাজা একজন মানুষ পায়ে হেঁটে নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি বেঁচে নেই। নিজ কানে নিজের মৃত্যুর সংবাদ শুনে হতভম্ব গাইবান্ধা সদরের বল্লমঝাড় ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের ব্যবসায়ী বাবুল চন্দ্র বর্মণ। জাতীয় পরিচয়পত্রে একজন জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর পর অভিযোগ করেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাকে জীবিত করার উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিচয়পত্রে এমন ভুলের কারণে ব্যাংক ঋণ এমনকি ভিসা করতে না পারায় বাবুল চন্দ্র বর্মণের চিকিৎসা পর্যন্ত আটকে আছে। বাবুল চন্দ্র বর্মণের অভিযোগ, সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যাংকে ঋণ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটি আছে। যার কারণে তাকে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়।

এরপর পরিচয়পত্র নিয়ে বাবুল ছুটে যান গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে। সেখানে সার্ভারে সার্চ করার পর সংশ্লিষ্ট জানান, পরিচয়পত্রে স্ট্যাটাস অপশনে তিনি মৃত। নিজের কানে নিজের মৃত্যুর সংবাদ শুনে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার চান বাবুল। এরপর সপ্তাহ পার হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে এখনও তিনি মৃত। বাবুলের অভিযোগ, গত ১৪ ডিসেম্বর সোমবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের কাছে গেলে সময় লাগবে জানিয়ে তিনি দুর্ব্যবহার করে বাবুলকে তাড়িয়ে দেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিবের কাছে গিয়ে বাবুল আক্ষেপ করে বলেন, আমি বেঁচে আছি স্যার মরি নাই।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটির ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কেন এই ত্রুটি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

বিজয় দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর অলিগলিতে পতাকা কেনার ধুম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলেই বেড়ে যায় জাতীয় পতাকা বেচাকেনার ধুম। সারাদেশের মতো পটুয়াখালীতেও জাতীয় পতাকা বিক্রির ধুম লেগেছে। ডিসেম্বর মাসে মূলত বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করেই এ পতাকা বিক্রির হিড়িক লেগে যায়। অফিস-আদালত, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ যানবাহনে বিজয় দিবসে উড়বে লাল-সবুজের পতাকা। ১৬ ডিসেম্বর বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, সব ধরনের ছোট বড় গনপরিবহন এমনকি ছোট ছোট শিশুদের হাতেও শোভা পাবে লাল সবুজের পতাকা। পটুয়াখালীর সড়কে সড়কে দেখা যায়, বাঁশের সাথে ছোট বড় জাতীয় পতাকা বেঁধে বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পতাকা কিনছেনও অনেকেই। সারা বছর অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করলেও ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে অনেকেই পতাকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সাধারনত এ মাস গুলোতে জাতীয় পতাকা বেশি বিক্রি হয়। পটুয়াখালীর চৌরাস্তায় কথা হয় পতাকা বিক্রেতা লতিফ মিয়ার (৫৫) সাথে। তিনি বলেন, করোনার জন্য এ বছর বিগত বছরের তুলনায় বিক্রি কম হচ্ছে। এসময় তিনি আরো জানান, ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা দামের পতাকা তার কাছে রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি করতে পারেন। এর মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হয়। বিজয় দিবস যত ঘনিয়ে আসছে ততই পতাকা বিক্রি বাড়ছে বলে জানান এ বিক্রেতা।

পটুয়াখালীর নিউমার্কেটে এক পতাকা বিক্রেতা জানান, বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ৬ ফুট থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাপের কাপড়ের পতাকার পাশাপাশি কাগজ দিয়ে তৈরি পতাকাও বেচাকেনা হচ্ছে। এছাড়া পতাকার পাশাপাশি লাল সবুজ রঙের কাগজের ক্যাপ, রাবারের ব্যান্ড, ব্রেসলেট ও বুকে লাগানো ব্যাজ বিক্রি করছেন তারা। ৬ ফুট আকৃতির কাপড়ের পতাকা ২০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাগজের ১০০ পিস পতাকার বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়, ব্রেসলেট ২০ টাকা আর মাথা বন্ধনি ৩০ টাকা। ক্রেতা স্কুল ছাত্র ইশতিয়াক জানায়,কাগজের জাতীয় পতাকা কিনেছি। বন্ধুদের দেবো আর ঘর সাজাবো লাল সবুজের এ জাতীয় পতাকা দিয়ে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

কলাপাড়ায় মুজিববর্ষে ভলিবল লীগের চুড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়ায় মুজিববর্ষে ক্রীড়া দপ্তরের আয়োজনে ভলিবল ২০২০ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর ক্ষেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

পটুয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মোহাম্মদ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪, কলাপাড়া-১১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিববুর রহমান মহিব, বিষেশ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো: সাইদুল ইসলাম, ক্ষেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বরযাত্রীসহ ট্রলারডুবি । নববধূসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ক্যারিংচর থেকে ভোলার মনপুরা যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে বরযাত্রীসহ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নববধূ-শিশুসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। তবে এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের সঠিক কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চানন্দী ঘাট থেকে আনুমানিক ৮০-৮৫ জন যাত্রী নিয়ে কেয়ারিংচর এলাকার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাকবলিত হয় ট্রলারটি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাঞ্চন কান্তি দাস ও মোর্শেদ বাজার তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল হালিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁরা আরো জানান, তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীরা বিভিন্ন ঘাট দিয়ে কূলে উঠছে। তবে সঠিকভাবে জানা যায়নি এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

বিজয়ের লাল-সবুজ সাজে সেজেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জবি প্রতিনিধি: বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা এই মাসে লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়িয়েছি। এই দিনকে ঘিরে বাঙালী জাতীর এক অন্যরকম আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। তাই বিশেষ করে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে সারাদেশব্যাপী নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজয়ের পতাকার লাল সবুজ আলোকসজ্জায় সেজেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
লাল সবুজের রঙের আলোকসজ্জায় সেজেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা প্রাঙ্গন। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দুই পাশ থেকে শুরু করে নতুন বিল্ডিং, গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ভাষ্কর্য (শান্ত চত্বর), ভাষা শহীদ রফিক ভবন, ভিসি ভবন, শহীদ মিনার ও অবকাশ ভবন বিজয় দিবস উপলক্ষে সাজানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস না সাজানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার যেহেতু ক্লাস বন্ধ, শিক্ষার্থীরা নেই তাই যতটুকু সাজালে সুন্দর হবে সেটুকুই করা হয়েছে।’
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

স্বপ্নের সেতু, আক্ষেপের সেতু । ঊর্মি ইসলাম ইমা

স্বপ্নের সেতু, আক্ষেপের সেতু
ঊর্মি ইসলাম ইমা
        লঞ্চ যোগে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছি। ইতিমধ্যে দু-চারবার আব্বার সতর্কবাণী পৌঁছে গেছে। লঞ্চে ওঠার মিনিট পাঁচেক আগেই ফোনের স্ক্রিনে আব্বার নম্বর দেখেই বুঝলাম কি বলবেন, পুরোনো সুরে সে একই কথা ‘পদ্মার অবস্থা কী?’ আমি আশ্বস্ত করে বললাম এখন ঢেউ নাই আব্বা। নদী শান্ত। পানি কম। আব্বার বরাবরের মতো এক কথা-আল্লাহ ভরসা! তাও সাবধানে আইসো। এই পাড়ে এসে কল দিও।’ আমাদের দক্ষিনবঙ্গের মানুষের জন্য পদ্মা পার হওয়া মানেই বিপদ কেটে যাওয়া।
       সেতুর স্প্যানের নিচ দিয়ে কুয়াশা কেটে কেটে ধীর গতিতে লঞ্চ এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ যে স্প্যানটি বাকি ছিল সেটাও  গতকালকে বসানো হয়েছে। এই স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত  পদ্মাসেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে। তাই মানুষের আবেগমিশ্রিত স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতাজুড়ে ঘুরপাক যাচ্ছে। নদীর বুক চিরে গাঁথা পিলারগুলোর উপরে বসানো এক একটি স্প্যান জোড়া দিয়ে যেন বিশাল একটা রুপকথার গল্প তৈরি হচ্ছে। যে গল্প দক্ষিনবঙ্গের মানুষের দুঃখ ঘোচানোর কথা বলবে, যে গল্প দেশের উন্নয়নের প্রতীক হবে। সবাই দেখছে দৃশ্যমান স্বপের সেতু আমি দেখছি  আক্ষেপ। স্বজনহারাদের আক্ষেপ। জোড়া দেওয়া স্প্যানগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমার স্মৃতিতে ভাসে ৪ আগষ্ট ২০১৪ । দমকা হাওয়া, মেঘলা আকাশ, রুদ্রমূর্তিতে ফণা তুলে ফুঁপিয়ে ওঠা পদ্মা, বাতাসে ভেসে আসা বাচ্চাদের চিৎকার, কাঁপা কাঁপা নারী কণ্ঠের আহাজারি তারপর হঠাৎ নিস্তব্ধতা!
        কোরবানি ঈদের তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দিন হবে। সকাল থেকে হু হু করে বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে দুই-একটা দমকা হাওয়া গাছের অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাতাগুলোকেও যেন অকারণ আঘাতে ঝরিয়ে দিচ্ছে। বাড়ি থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে খরস্রোতা পদ্মা আজ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। আমি তখন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করি। কেউ না গেলেও অন্তত আমাকে ঢাকায় ফিরতেই হবে। বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বার বার আমাদের সতর্ক করা হয়েছে কিছুতেই লঞ্চে পারাপার না হতে। কাওড়াকান্দি ঘাটে ঈদে গ্রামে আসা ঢাকামুখী মানুষের ঢল। পরিবারের সদস্যের কথা রাখতে যেয়ে সেদিন ঘাটে এসে দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফেরিতেই উঠেছিলাম। ফেরির গতি লঞ্চের থেকে তুলনামূলক কম তাই বেশির ভাগ মানুষ হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে লঞ্চেই পার হয়। ঈদের সময়টাতে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কখনো চার-পাঁচগুণ কিংবা তারচেয়েও বেশি  যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলোকে দোল খেতে খেতে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিতে দেখা যেত। যাইহোক, চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভীড়, ট্রাক-বাস-প্রাইভেটকার, মাথার উপরে গনগনে সূর্য, সম্মুখে পাহাড়সম ঢেউ নিয়ে ফেরিতে দাঁড়িয়ে পদ্মা পার হচ্ছি। দুপাশ দিয়ে অনেক গুলো লঞ্চ আমাদেরকে পেছনে ফেলে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে। আমরা তখন মাওয়া ঘাটের কাছাকাছি। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং। ওই দিকটায় পদ্মা সবচেয়ে ভয়াবহ। যৌবনের সমস্ত শক্তি নিয়ে যেমন দামাল ছেলেরা প্রতিপক্ষের উপর হুংকার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে তেমনি এক একটি ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে। আমার দৃষ্টি আটকে আছে অনতিদূরে দোদুল্যমান অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি লঞ্চের দিকে। ঢেউয়ের সাথে যাথে যেন কয়েক হাত উপর থেকে আছড়ে পড়ছে। কখনো ডানে হেলে যাচ্ছে কখনো আবার বাঁয়ে। দেখতে দেখতেই সকলকে হতবাক করে চোখের পলকে লঞ্চটি পদ্মার বুঁকে হারিয়ে গেল। আমার শরীর কাঁপছে। একদৃষ্টিতে সেদিক তাকিয়ে আছি। ফেরির লোকজন সব হা-হুতাশ করছে। মিনিট দশেক এভাবেই চললো। মায়ের নম্বর থেকে কল আসতেই আমার ঘোর ভাঙলো। ওপাশ থেকে ভয়ার্ত উত্তেজিত কন্ঠস্বর। চ্যানেলে চ্যানেলে নাকি ব্রেকিং নিউজ চলছে। শান্তস্বরে বললাম আমরা ঠিক আছি। পনেরো-বিশ মিনিট পর আবার মায়ের কল। এবার ফোন কানে নিতেই মা আর্তনাদ করে উঠলো। ডুবে যাওয়া লঞ্চে আছে আমাদের এলাকার অনেকেই। আছে প্রতিবেশী চাচাতো বোন দুই সন্তানসহ। ঈদে বেড়াতে এসেছিল ওরা। আমরা একসাথে ছিলাম চারজন। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থেকেও কেউ কারো সাথে কথা বলছি না কিংবা বলার শক্তি পাচ্ছি না। ততক্ষণে আমাদের ফেরি ঘাটের কাছাকাছি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো চারজনই ঘটনাস্থলে যাবো৷ কিন্তু আমাদের সাথে দশ-এগারোটি ব্যাগ। বাড়ি থেকে যত্ন করে গুছিয়ে দেওয়া খাবারের ব্যাগগুলো ফেলে ছুটে চললাম লৌহজং এর দিকে…
       স্পিডবোট নিয়ে ঢেউয়ের কারণে ডুবে যাওয়া স্থানে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে  পারছে না। ট্রলার দিয়ে এক একে কয়েকজনকে তুলে আনা হয়েছে। আমরা খুঁজে পেলাম আমাদের চাচাতো বোনকে। কিন্তু একা। গলাকাটা মুরগীকে প্রাণ যাওয়ার আগে যেমন ছটফট করতে দেখা যায় তেমনি সদ্য সন্তানহারা এই জননী পদ্মা পাড়ে বালুর মধ্যে ছটফট করছে। দুই সন্তানকেই কেঁড়ে নিয়েছে সর্বনাশা পদ্মা। স্বজনহারানো অসংখ্য মানুষকে সেদিন পদ্মা পাড়ের বালুতে ছটফট করতে দেখেছি। আমি আমরা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
           আজ সেতু হওয়ার আনন্দে সবাই যখন উল্লাস করে, আমি করি আক্ষেপ। সেতুটা সাত বছর আগে না হওয়ার আক্ষেপ। পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার আক্ষেপ। সন্তানহারা প্রতিবেশী বোনের জন্য আক্ষেপ…
(লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

সাভার আকরান এলাকায় ৯টি গাঁজা গাছসহ আটক ৩

স্টাফ রির্পোটার : সাভার আকরান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ টি তাজা গাঁজা গাছ উদ্ধার করেন র‌্যাব-৪। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আক্রানের বউবাজার এলাকার সিরু মিয়ার জমিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সিরু মিয়া ওই জমিটি ভাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আটকরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার আব্দুর রাজ্জাক (৭০), নেত্রকোনা জেলার বকুল (৬০) ও ফেনী জেলার নুর আলম (৬৫)। তারা সবাই  বাগান পরিচর্যা করতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা কর্মী দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে সিরু মিয়া ২ একরের বেশি পরিমান জমি ভাড়া দেন। এই জমিতে কোম্পানীর নিরাপত্তা কর্মীরা প্রায় ১ বছর আগে এই গাছ গুলো লাগান। ফুলের গাছের কথা বলে আমাদের পরিচর্যা করতে বলতো সুপারভাইজার রাজ্জাক। আমরা তার কথামত গাছে পানি দিতাম। পরে আজ দুপুরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গাঁজার ৯ টি গাছসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বিরুলিয়া আক্রান পুকুরপাড়া এলাকায় ২ একর জমির মালিক সিরু মিয়া, নজরুল ইসলামসহ ৪ ভাই, নজরুল ইসলাম বলেন ওই ২ একর জমির মালিক আমরা ৪ ভাই মিলে একটি কোম্পানির কাছে ২০১৬ সালে ভাড়া দেই। আজ র‍্যাব -৪ অভিযান চালিয়ে গাজা গাছসহ তিনজনকে আটক করেছে শুনেছি। এই গাজা গাছকে লাগিয়েছে তা আমার জানা নেই। তিনি আরো বলেন যারাই এই কাজের সাথে যুক্ত তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি।
গাঁজাগাছ উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি রবিবার ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন সিপিসি-২, র‌্যাব-৪ এর উপ-পরিচালক ও কোম্পানি কমান্ডার এএইচএম আদনান তফাদার।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪ ডিসেম্বর-২০২০/জেডএন