আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2490

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবস-২০২০ উপলক্ষে জেলা পুলিশ পটুয়াখালী কর্তৃক বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাগন ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণের পরিবারের সদস্যদের মাঝে বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ লাইন্সে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এ সময় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার জনাব মইনুল হাসান (পিপিএম) সহ সকল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ এবং পুলিশের অন্যান্য সহকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপিএম তার বক্তব্যে পুলিশ বীর সেনানীদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তাদের অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান জাতি চিরদিন অম্লান রাখার মর্মে উল্লেখ করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার শ্রীপুরে পালিত হয়েছে। মহান বিজয় দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।

সকাল সাড়ে ৭টায় শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্মৃতিসৌধ-৭১ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করা হয়। পরে শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা শ্রীপুর পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এসময় শ্রীপুর প্রেসক্লাব ও শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা শোভাযাত্রায় যোগ দেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রীপুর প্রেসক্লাব মাঠে এসে শোভাযাত্রাসহ কর্মসুচীসমূহের সমাপ্তি ঘটে। পওে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন খান প্রমুখ।

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডেইলী স্টার’র সাংবাদিক প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ বলেন, ১৯৯৭ সনের ১৬ ডিসেম্বর তথা মহান বিজয় দিবসের দিনটিতে দলমত ও রাজনীতির বাইরে পেশাদারিত্বের একটি ভিন্নধর্মী প্লাটফরমের সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি তথ্যসেবা দিতে একটি জবাবদিহিমুলক স্বচ্ছ গঠণতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। অদ্যবধি সেই নীতিতে অটল থেকে শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের ডাক’র সাংবাদিক কাজী আকতার হোসেন বলেন, পঙ্কিলতামুক্ত সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা বজায় রাখতে সুনামের সাথে সংগঠনটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আহসান কবির বলেন, গণমানুষের কাছে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদ থেকেই এ সংগঠন যাত্রা করে। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, উদ্দেশ্য ও আদর্শকে ধারণ করে সংগঠনটি দিনের পর দিন মানুষের কল্যানে তথ্য সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সংগঠন তার অগ্রযাত্রাকে পঙ্কিলমুক্তভাবেই এগিয়ে নেবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

ভালুকায় বিএনপি’র বিজয় দিবস উদযাপন

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা বিএনপি,পৌর বিএনপি ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেল ভালুকা পৌর এলাকায় নতুন বাসস্ট্যন্ডে অবস্থিত দলীয় কার্যলয়ে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম এর পক্ষ থেকে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক রুহুল আমিন। এ সময় আন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম ও সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম সোহাগ মাষ্টার, উথুরা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী কমান্ডার, বিরুনীয়া ইউনিয়ন বিএনপি সাধারন সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন সরকার, উপজেলা শ্রমিকদল আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির, জেলা ওলামা দল সাধারন সম্পাদক মাওলানা এসফাকুর রহমান সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, পৌর শ্রমিক দল আহবায়ক সৌমিক হাসান সোহাগ, যুবদল নেতা নূরুল হক মন্ডল, আবু ছাইদ জুয়েল, আতিকুল ইসলাম মোল্লা, সেচ্ছাসেবক দল নেতা হাজি আব্দুর রউফ, ছাত্রনেতা শরিফ আহম্মদ, আব্দুল কাদির প্রমূখ।

পরে মহান সাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভালুকা উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে ময়মনসিংহ জেলা সেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শহিদুল আমিন খসরুর সুস্থতা কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

কলাপাড়ায় মহান বিজয় দিবস পালিত

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলপাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সূর্যদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনীর মাধ্যমে বিজয় দিবসের সুচনা করা হয়। পরে শুরু হয় জাতির সুর্য সন্তান, বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। বুধবার সকালে আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কলাপাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সকাল ৬ টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলোন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে একে একে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে বীর শহীদদের স্মরনে পুষ্প মাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ অধ্যক্ষ মহিববুর রহমান মহিব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: মোতালেব তালুকদার, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ্য সৈসয়দ নাসির উদ্দিন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বন্দর র‌্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাছুম, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল, লো পরিষদ সদস্য, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীপ সভাপতি ও বন্দর র‌্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফিরোজ সিকদার, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক্ কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক্ এ্যাডভেভাকেট সাইদুর রহমান, উপজেলা যুবণীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম প্রমুখ ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৭টায় কলাপাড়া উপজেলা, পৌর বিএনপি ও তার সহযোগি সংগঠনগুলো শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্এিনপি কার্যালয় থেকে রেলী বের করে স্থানীয় শিশুপার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পেীর বিএনপি‘র সাধারন সম্পাদক এ্যাডভেভাকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, উপজেলা বিএনপি‘র সিনিয়র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক গাজী মো: ফারুক, যুগ্ন-সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, যুগ্ন-সম্পাদক এ্যাডভেভাকেট সাজাহান পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক্ এ্যাডভেভাকেট খন্দকার নাসির উদ্দিন, ছাত্রনেতা রুহুল আমিন গাজী, কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার, মাকছুদ প্রমুখ।

এর আগে রাত ১২ টা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর শহীদদের স্মরনে পুষ্প মাল্য অর্পণ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান, কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দরা।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

ফুলবাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর মুরালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরণ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। সূর্যদয়ের সাথে সাথে তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করে উপজেলা প্রশাসন। সকাল ৭ টায় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করে প্রশাসন।তার পরপরই উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ এর নেতৃত্বে পৃথক পৃথক পুষ্পস্তবক অর্পণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম মন্ডল বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিলনের নেতৃত্বে বিশাল একটি র‍্যালী উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ধারাবাহিকভাবে উপজেলা বিএনপি, উপজেলা জাতীয় পার্টি, উপজেলা বাসদ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
সকাল ৮ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান। এরপর ওই চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুরালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এদিন দু’জন মুক্তিযোদ্ধার নামে দু’টি সড়কের নামকরণের ফলক উন্মোচন করা হয়। কদমতলা থেকে শিমুলবাড়ী সড়কের নামকরণ করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুজ্জামান মিয়া, বীর প্রতীক সরণী। ফুলবাড়ী বাজার থেকে ফুলসাগর সড়কটির নামকরণ করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ লুৎফর রহমান সরণী।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপির মরদেহ উদ্ধার

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলমের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাপাসিয়ার ভূবনেরচালা এলাকার নিজস্ব পোল্ট্রি খামার থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পোল্ট্রি কারখানার শ্রমিক রামিম ও আলফাজ জানান, সকাল সাতটার দিকে তাঁর মরদেহ গুদাম ঘরের আড়ার সাথে মাফলার পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে দ্রæত কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিতসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই মঞ্জুর হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলম খামারের গুদাম ঘরে রাত্রিযাপন করতেন। আজ (বুধবার) ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজও আদায় করেছেন। তার গলায় পেঁচানো মাফলারটি অপরিচিত। তাকে কেউ শ্বাসরোধে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখেছে। তার সাথে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের এক ব্যাক্তির আর্থিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা চলমান বলেও জানান তিনি। মামলা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে দাবী করেন তিনি।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম চাঁদ বলেন, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

স্মৃতিসৌধে জবির শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন

জবি প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবস-২০২০ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কর্তৃপক্ষ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর, ২০২০) ‘মহান বিজয় দিবস-২০২০’ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান-এর পক্ষে পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল। এর আগে সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পুস্প স্তবক অর্পনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ নূরে আলম আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ জাকারিয়া মিয়া, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক প্রতিনিধি ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পাসে প্রত্যাবর্তনের পর দিনব্যাপী বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্ববোধক গান পরিবেশিত হয়। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবনসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
এছাড়াও শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ যোহর কোরআন খানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, এ বছর মহামারী করোনা ভাইরাস (কেভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

সাভার প্রতিনিধি : আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। সকাল থেকেই কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিলো জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। এরই মধ্যে ফুল দিয়ে জাতীর বীর শহীদদের শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করেছেন বাঙ্গালী জাতি।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর পরে স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে ফুলের পুষ্পস্তবক ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা, সহকারী ভূমি কমিশনার মাহফুজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজু আহমেদ, পৌর যুবলীগ নেতা শেখ সাঈদসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি দফতর ও সাধারণ মানুষ।
প্রসঙ্গত, এবার স্বাস্থ্য বিধি মেনে ২০০ জন করে স্মৃতিসৌধে সাধারণ মানুষদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

তারুণ্যের বিজয় ভাবনা

তারুণ্যের বিজয় ভাবনা

 

     ইতিহাসের শত বছরের শোষিত জাতির নাম বাঙালি জাতি। যুগে যুগে নানা শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শোষণের পর ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে বাঙালির নবজীবনের সূচনা হয়। আমরা পাই লাল সবুজের এই পতাকা। আর এই স্বাধীন দেশ। আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। বিশ্বের বুকে আবির্ভূত হয় একটি জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন, আছে নানা চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল দেশের তরুণ সমাজ। বিজয়ের প্রায় অর্ধশত বছরের দ্বার প্রান্তে এসে তরুণরা কী ভাবছে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার এই বিজয় নিয়ে? বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভাবনা ও মতামত নিয়ে লিখেছেন আলোকিত প্রতিদিন -এর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

বিজয়ের পরিপূর্ণ সুফল কাম্য

     বিজয়ের ৪৯ বছর পরও আমরা পরিপূর্ণ সুফল পাচ্ছি না। আমাদের এই বিজয় কেবল একটি জাতীয় পতাকা বা স্বাধীন একটি ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং বৈষম্যহীন দেশ গঠনের প্রেরণা এই বিজয়। মুক্তিযুদ্বের মূলনীতি ছিলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সুদীর্ঘ ৪৯ বছর একটি জাতির জন্য কম সময় নয়, কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই বাক স্বাধীনতা, সেই ভোটাধিকার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, জন নিরাপত্তা আজও সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। প্রতিষ্ঠিত হয়নি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের শাসকরা এখনো পর্যন্ত জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় মতের উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা নেতার শাসন এখনো অধরাই রয়ে গেল। ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য ও প্রশ্ন ফাঁস শিক্ষাখাতে কাক্সিক্ষত অর্জনকে বাধাগ্রস্থ করছে। দেশজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে অন্ধাকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বোপরি স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুফল পেতে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হতে হবে।

 আমজাদ হোসেন হৃদয়
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

.  .  .

অর্ধশত বছরেও ধমকে আছে বিজয়

     বিজয়ের আজ অর্ধশত বছর। এ যেন প্রতিটি বাঙালির নিকট বাধভাঙ্গা বিজয়োল্লাস। বিজয় মানে সম্পূর্ণরূপে জয়, পূর্ণ অধিকার। আর সেই বিজয় লাভের সুখটা তখনই অনুভব করা যায় যখন বহু কষ্টে কোনোকিছু অর্জিত হয়। লাখো শহীদ তাদের রক্তের বিনিময়ে বিজয় করে নিয়েছিলো আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশকে। পরাধীনতার হাত থেকে দেশমাতৃকাকে বাঁচাতে নিজের সম্মান বিলিয়ে দিতে হয়েছে লাখো নারীকে। এই বিজয় গৌরবের, আনন্দের। কিন্তু আজ ৫০ বছরেও আদৌ কি সেই বিজয় পেয়েছে দেশের মানুষ? দেশ বিজয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষগুলো আজও সেই বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনি। আজও প্রিয় জন্মভূমি দুর্নীতি, চোরাবাজারি, রাজনৈতিক কলহ, দারিদ্র্যতার কালোছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। পদানত হোক অপশক্তি, মুছে যাক দারিদ্রতা, দূর হোক রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব-কলহ, হাসি ফুটুক বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে। এগিয়ে যাক প্রাণের দেশ বাংলাদেশ।

সানজানা আলম নির্জনা
শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

.  .  .

আলোকিত বাংলাদেশ দেখতে চাই

     বিজয় মানে কখনো অর্জন, কখনো উল্লাস, কখনো বা নিজেদের অবস্থান তৈরি করা। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। বিশ্বের বুকে নিজেদের মানচিত্রের নকশা গড়েছি। তার উল্লাসেই আমরা বিজয় দিবস পালন করি। ৩০ লক্ষ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় পেয়েছি সেটা রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। কেননা স্বাধীনতা অর্জন এর চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা কঠিন। দেশের নাগরিক হিসেবে বিজয় দিবস পালন যেমন আমাদের অধিকার তেমনি দেশের প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব-কর্তব্যও রয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থানকে মজবুত করে দেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার মাধ্যমে সে দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূর্ণ করতে হবে। এ দেশে সুশাসন, নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন, গুণগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া ও তরুণ প্রজন্মকে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব। আয়নায় যেমন নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ঠিক সেভাবে নিজেদের সামাজিক কাজ করার ইচ্ছা, দেশ এবং মা-বাবাকে গর্বিত করার অদম্য ইচ্ছাকে জাগ্রত করে বাস্তবায়িত করলেই আমাদের বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এই প্রত্যাশা।

রওশন জাহান সুমাইয়া
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

.  .  .

দেশমাতৃকার সেবাই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

     বিজয় দিবসের জমকালো আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আমরা কি পেরেছি বিজয়ের উদ্দেশ্যকে হৃদয়ে লালন করতে? দীর্ঘ ৪৯ বছরেও কি যোগ্যতা অর্জন করেছি মাথা উঁচু করে গর্ব করতে পারার? অথচ দ্বায়িত্বগুলো আমাদের তরুণদের উপরেই অধিক পরিমাণে বর্তায়। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যেককে দেশের একেকজন সেচ্ছাসেবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সে চেষ্টার শুরুটা হওয়া উচিৎ ব্যক্তি পর্যায় থেকেই। তরুণরাই পারে এ দেশের হাল ধরতে। দেশে সুশাসন, নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন, গুণগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া ও তরুণ প্রজন্মকে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব। আর এতেই স্বার্থকতা লাভ করবে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত। সার্থকতা লাভ করবে স্বাধীনতা। অন্যথায় এ বিজয় অর্থহীন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিজয়ের স্বরূপ তুলে ধরতে দেশমাতৃকার সেবাই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গিকার।

রোকনুজ্জামান
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

.  .  .

বিজয়ের চেতনাই হোক পথ চলার শক্তি

     বিজয় মানে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদের জীবনাবসান, ২লক্ষ ৭৬ হাজার মা-বোনের ইজ্জতের সংমিশ্রণ আমাদের বিজয়। যেই পথ পরিক্রমায় সামনের সারিতে অগ্রণী ভূমিকা ছিলো তরুণদের। জীবনের বিশাল সময় রয়েছে পড়ে, সোনালী ভবিষ্যৎতের আছে হাতছানি তাও দমে যাননি তরুণেরা। অন্যায়, অবিচার তথা পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন অবিরাম। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে জনতার সাথে, গড়ে তুলেছে ‘মুজিব বাহিনী’। ধ্বংস করেছে হানাদার বাহিনীর একের পর এক পরিকল্পনা। কষ্টার্জিত এই বিজয় তাই আমাদের অস্তিত্ব, এগিয়ে যাবার প্রেরণা। কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই মহান মুক্তিযুদ্ধের। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়–ক সেই চেতনা বা দেশাত্মবোধ এটাই চির প্রত্যাশা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের করা হোক অপসারণ, অপশক্তিকে করা হোক পদানত, সৃষ্টি হোক ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর বাংলাদেশ। এগিয়ে যাক প্রিয় মাতৃভূমি।

মিথিলা দেবনাথ ঝিলিক
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

.  .  .

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হোক

     বিজয় শব্দটা শুনলেই আনন্দ লাগে ভিতরে। যে কোনো বিজয়ই সাধারণভাবে আনন্দের হয়। তবে বিজয়ের পিছনে থাকে বৃহৎ সংগ্রামের ইতিহাস। ডিসেম্বর আসলেই মনের ভেতরে বিজয় দিবসের আনন্দের বাতাস বইতে থাকে। এই আনন্দের জন্য প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। যার মধ্যে অনেক শিশু আছে। অনেকে তাদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। তাদের এই প্রতিদানের ফলে আমরা পেয়েছি এই সবুজ-শ্যামল ভূখন্ড। এই বিজয়ের জন্য যারা জীবন দিয়েছে সবাই পাকিস্তানের অন্যায়, অত্যাচার, দুশাসন থেকে মুক্তির জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের আকাক্সক্ষা ছিলো ধর্ম নিরপেক্ষ, ক্ষুধা ও বৈষম্যহীন একটি সুন্দর দেশের। তাদের আকাক্সক্ষা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আমরা সেই বীরদের আত্মত্যাগের কথা কোনো দিন ভুলব না। গভীর শ্রদ্ধায় আমরা তাদের স্মরণ করবো। সারাজীবন আমরা যেন তাদের আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ সম্মান করতে পারি সেদিকে সকলের সচেষ্ট হতে হবে। সেই সাথে দ্রæতই মুক্তিযুদ্ধাদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত হোক এদেশে এটাই চাই।

আব্দুস সবুর লোটাস
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন

শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আলী হোসেন, সাভার : ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দিনটি। টানা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এসেছে এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার স্বাদ নিতে ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে। এই স্বাদ নিতেই লাখ লাখ মায়ের খালি হয়েছে কোল ও বুক। বাবা হারিয়েছেন সন্তান, সন্তান হারিয়েছেন বাবা-মামা। সেই বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ধুয়ে মুছে রঙ তুলির আঁচরে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বিজয়কে ৪৯তম বারের মতো বরণ করবে সমগ্র জাতি।

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে এ বছর ২৬ মার্চে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ কেউই। এ বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে না এলে তাদের পক্ষ থেকে তাদের সামরিক বাহিনীর সচিবরা শ্রদ্ধা জানাবেন বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক বাহিনীর সচিবসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

করোনার প্রভাব একটু কমে আসায় সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে খোলা থাকবে বীর শহীদদের রক্তে গাঁথা এই স্মৃতিস্তম্ভ। ভিআইপিরা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চলে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০০ জনকে গ্রুপ করে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য নিবেদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে সাধারণ জনগণ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) হারুনুর রশিদ বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আশপাশের সব বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছি। সেই সঙ্গে নতুন করে কেউ স্মৃতিসৌধের আশপাশ এলাকায় আশ্রয় নিতে পারবে না। নিরাপত্তার জন্য এবার স্মৃতিসৌধ এলাকার ৩২টি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গণপূর্ত বিভাগের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, মহান বিজয় উদযাপনের জন্য দুই সপ্তাহ ধরে অর্ধ শতাধিক পরিছন্নকর্মী স্মৃতিসৌধে নিয়োজিত রয়েছে। ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে এখন সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। এজন্য ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করা হচ্ছে। এখন শুধুই মূল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি। সাভারের আমিনবাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত কয়েকটি স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সৌধ এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের সামরিক বাহিনীর সচিবরা শ্রদ্ধা জানানোর পর সকাল পৌনে ৭টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ ডিসেম্বর ২০২০/জেডএন