আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2480

রাজধানীর কোম্পানীঘাট এলাকা হতে ৪৭ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন কোম্পানীঘাট এলাকা হতে ৪৭ কেজি গাঁজাসহ ০৩ (তিন) মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ।  আজ ভোর আনুমানিক ০৪.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কুমিল্লা হতে ০১ টি হলুদ ও নীল রংয়ের ট্রাক যোগে বিপুল পরিমান গাঁজা (মাদক) নিয়ে হাজারীবাগ থানা এলাকায় হাস্তান্তরের জন্য আসছে । উক্ত সংবাদ এর সত্যতা যাচায়ে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল অনুমান ভোর ০৪.৫০ ঘটিকার সময় রাজধানী হাজারীবাগ থানাধীন কোম্পানী ঘাট মসজিদ সংলগ্ন শেখ কালিমের চায়ের দোকানের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর উপস্থিত হয়ে উক্ত ট্রাকটি আটকের অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে। অতপর ০৫.১৫ ঘটিকায় ট্রাকটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে থামার জন্য সংকেত দেওয়া মাত্র, র‌্যাবের উপস্থিত টের পেয়ে ট্রাক টি থামিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কালে (১) মোঃ ইব্রাহিম শেখ ও সোনামিয়া শেখ(২৮) (২) মোঃ সোহেল মোল্লা(৩৫), (৩) মোঃ আল হাজ মোল্লা(২০) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে গাঁজার চালান সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদের ট্রাকটি তল্লাশি করে ট্রাকের উপরে খালি ক্যারেটের নিচে ৩টি বস্তার ভিতর হতে পলিথিনে মোড়ানো ৪৭ কেজি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য (গাঁজা) পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান যে, তারা পরস্পর যোগসাজোসে দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রাক যোগে বিভিন্ন মালামালের অন্তরালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসা গাঁজা (মাদক) ক্রয় করে রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে আসছিল। তাদের ব্যবহৃত ট্রাক এবং মোবাইল সেটগুলি মাদকদ্রব্য ব্যবসার কাজে ব্যবহার করে বলিয়া জানায়। ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই বাছাই করে ভবিষ্যতে র‌্যাব-২ এ ধরনের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আলোকিত প্রতিদিন/৯ জানুয়ারি’২১/এমজ

পারমাণবিক বোমার চাবি ট্রাম্পের হাতে, বাড়ছে টেনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর পরাজয় মেনে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথাও বলেছেন।কিন্তু তাকে নিয়ে টেনমনের শেষ নেই মার্কিন প্রশাসনে। কারণ ট্রাম্প এই মুহূর্তে মানসিকভাবে খুবই অস্থির। যে কোনো ধরনের বিধ্বংসী কাজ তিনি করে বসতে পারেন।

বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অনুধাবন করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি ট্রাম্পের হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্রের কোড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেনাপ্রধান মার্ক মিলির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।  ন্যান্সি মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুহূর্তে খুবই অস্থির অবস্থায় আছেন। তার কাছে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের কোড থাকা ঠিক নয়। তিনি সেনাপ্রধানকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাতে কোন যুদ্ধের সূচনা করতে না পারেন সে ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন ন্যান্সি পেলোসি।  তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন তার একক ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু কিংবা পরমাণু বোমা হামলার নির্দেশ দিতে না পারেন, সে বিষয়েই সেনাপ্রধান মার্ক মিলির সঙ্গে আলোচনা করেছি।  ন্যান্সি পেলোসি এরই মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি চিঠিও দিয়েছেন। ট্রাম্প যদি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা না ছাড়েন তাহলে কংগ্রেস তাকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেও জানিয়েছেন ন্যান্সি।  মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সমালোচিত সপ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ক্যাপিটল হিলে তার সমর্থকদের তাণ্ডবের কারণে ট্রাম্প খুবই বাজেভাবে সমালোচিত হচ্ছেন বিশ্বব্যাপী।ভোটে বাইডেনের কাছে হেরে গেলেও তিনি পরাজয় স্বীকার করছিলেন না। অবশেষে হার স্বীকার করে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। তবে ক্ষোভ শেষ হয়নি তার। বলেছেন, বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান তিনি যাবেন না।

আলোকিত প্রতিদিন/৯ জানুয়ারি’২১/এমজ

সাভারে বাসের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী নিহত

শহিদুল্লাহ সরকার : সাভারে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় কাওসার বিন হাসান (১৯) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাওসার বিন হাসান সাভারের আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ঢাকামুখী লেন থেকে আরিচামুখী লেনে যাওয়ার চেষ্টা করে হাসান। এ সময় ঢাকামুখী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। হানিফ পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হলেও এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
সাভার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/৮ জানুয়ারি ২০২১/জেডএন

নোয়াখালীতে হতদরিদ্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি: ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালী জেলা কবিরহাট উপজেলায় ১নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের নরোত্তমপুর গ্রামে নবসৃষ্ট হতদরিদ্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে আসলাম হাজী বাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটি সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীক এর সভাপতিত্বে ও ফিরোজ আলম, নূর আলম চৌধুরী হিরন, আনোয়ার হোসেন টিটু, মনির হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হতদরিদ্র ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা কেবিএম সহিদ উল্যা।

এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে হতদরিদ্র ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন আজাদ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এনামুল হক মাসুদ, রুহুল আমিন মেম্বার, মো: সোলায়মান সহ অন্যান্য উপদেষ্টা ও এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বক্তারা মানবতার কল্যাণে এলাকার যুব-সমাজের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সমাজে এ রকম মহতি কার্যক্রম আরো বেগবান করে এগিয়ে যাওয়ার উপর উৎসাহ প্রদান করা সহ হতদরিদ্র ফাউন্ডেশনের সফল্য কামনা করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/৮ জানুয়ারি ২০২১/জেডএন

প্রকাশিত সংবাদে ভাইস চেয়ারম্যান শাহদাদ হোসেন খানের প্রতিবাদ

আজ বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) আশুলিয়া বাইপাইল এলাকায় ভাইস চেয়ারম্যান শাহদাদ হোসেন খান নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন-
প্রিয় সাভার ও আশুলিয়াবাসী আসসালামু আলাইকুম।
আমি মো: শাহদাদ হোসেন খান, সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং আশুলিয়া থানা আওয়ামীলীগ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
অবৈধভাবে জমি দখল করতে বাধা দেওয়ায় একটি কুচক্রী মহল আমার সন্মান ক্ষুন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়াকর্মীর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করছেন। বাইপাইল বসুন্ধরা এলাকার শীর্ষ ভূমি দস্যু এমএ মতিন অস্ত্র ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে আসছিল। পরে তিনি জমি দখল করতে বাধা প্রদান করলে এমএ মতিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে মিত্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করায় সন্মান ক্ষুন্ন করে। আমি কোনো ভূমি দস্যু বা চাঁদাবাজ নই। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে প্রতিনিয়ত হয়রানী করে যাচ্ছেন। আমি যদি কোনো অপরাধ করি তাহলে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিবেন আমি সেটা মেনে নিবো। আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা আদৌ সত্য নয়। আমার জনপ্রিয়তার কারণে ও দলীয়ভাবে বহুবার বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায়, বর্তমান এলাকায় জনপ্রিয়তায় শীর্ষ স্থান দখল করায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়, আামার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন কাল্পনিক কাহিনীর অবতারণা ঘটিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে যেটা খুবই দুঃখজনক। এলাকাবাসী এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কিছু গণমাধ্যমকর্মীরা উক্ত সংবাদ এর তথ্য যাচাই না করে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন কাহিনী দিয়ে সাজিয়ে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এবং দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পরিশেষে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
– মো: শাহদাদ হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান, সাভার উপজেলা।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)।
আলোকিত প্রতিদিন/৭ জানুয়ারি ২০২১/জেডএন

আদালত না বসলেও আসামির জামিন,আসামি পক্ষের আইনজীবি বহিষ্কার

সবুজ সরকার, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলে আদালত না বসলেও শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে রহস্যজনকভাবে জামিন দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি এই জামিনের আদেশ দেন। আদালত না বসলেও আসামির জামিন হওয়ার খবরটি বুধবার সকালে আদালত চত্বরে ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনসহ আসামি পক্ষের আইনজীবিকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি উঠে। পরে টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতির এক জরুরি সভায় আসামি পক্ষের আইনজীবীকে একমাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেন। নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামের মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকালে জেলা জজ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওই দিনের জন্য জেলার সকল আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম মূলতবী ঘোষণা করেন জেলা জজ ফাহমিদা কাদের। অথচ আদালত না বসলেও মঙ্গলবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এক ধর্ষণ মামলার আসামিকে শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে জামিন দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপিকেও জামিন শুনানির বিষয়টি জানানো হয়নি। আসামির জন্য জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু। আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার দিনে এভাবে আসামী পক্ষে জামিনের আবেদন করে তিনি নিজেও এখন তোপের মুখে পড়েছেন।জামিনপ্রাপ্ত আসামির নাম মোহাম্মদ রকিব (১৬)। সে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় কালামাঝি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি রোববার বিকেলে মধুপুরের রক্তিপাড়া গ্রামের চার বছরের এক শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে রকিব। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার সকালে ভিকটিমের পিতা বাদি হয়ে মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরই আসামি রকিবকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে মধুপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে রকিবকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (মধুপুর থানা আমলী আদালত) আদালতে হাজির করা হয়। আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম তাকে নথিসহ শিশু আদালতে প্রেরন করেন। কিন্তু আদালত না বসলেও সেখান থেকে আসামি জামিন পাওয়ায় দেখা দেয় বিপত্তি।
অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিম মঙ্গলবার আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। তবে রহস্যজনকভাবে ধর্ষণ মামলার আসামিকে এভাবে জামিন দেয়ায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে বাদি পক্ষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়েছে ভিকটিমের পরিবার।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ জানান, মামলাটির জামিন শুনানীর বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী বা কোর্ট থেকে তাকে অবহিত না করেই এই জামিন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে বার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় সংশ্লিষ্ট মামলার আসামীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল আলম টিটুকে একমাসের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে বৃহস্পতিবার বার সমিতির পক্ষ থেকে জেলা ও দায়রা জজের সাথে সাক্ষাত করে শিশু আদালতের বিচারকের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/৬ জানুয়ারি’২১/এমজ

জামালপুরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা,পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সর্দারপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।জামালপুর শহরের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এ কে এম শফিকুল ইসলাম জুলহাস আজ বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) সকালে তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গতকাল বুধবার বিকালে চাঁদা না পেয়ে জামালপুর পৌর কাউন্সিলর শাহরিয়ার আলম ইদু’র নেতৃত্বে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন খসরু, জিয়াউর রহমান এবং ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম তৌফিকুল ইসলাম প্রমূখ।অপরদিকে ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার আলম ইদু আজ দুপুরে জামালপুর পৌরসভা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,শহরের সরদারপাড়ায় জনৈক শাহজাহান আলী সরকারি রাস্তার উপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। সরকারি রাস্তা বাদ দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেওয়ায় ভূমিদস্যু ও ঋণ খেলাপী শফিকুল ইসলাম জুলহাসের নেতৃত্বে তার উপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুর করা হয়। কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকের পুত্র হওয়ায় রাজাকার পরিবারটি তাকে নানাভাবে হয়রানী করছে।এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/৭ জানুয়ারি’২১/এমজ

ফেলানী হত্যার ১০ বছর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: আজ ৭ জানুয়ারি। সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার দশ বছর। ২০১১ সালের এই দিনে ভারতীয় রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-র গুলিতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টা কাটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর মৃত দেহ। গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। পরে বিএসএফ এর বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারীক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বি এস এফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাক্ষান করে ভারতীয় মানবাধীকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রীট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার।

ঘটনার দিনটি ছিলো শুক্রবার। ভোর ৬টা ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত টপকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলি বিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এর পর সকাল পৌনে ৭টা থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরের উপর ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা। এঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ এর এ কোর্টে স্বাক্ষীদেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ এর বিশেষ কোর্ট। পরে রায় প্রত্যাক্ষান করে পুন:বিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ০২ জুলাই এ আদালত পুনরায় আত্মস্বীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ ‘মাসুম’ ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানী শুরু হয়। ২০১৬ এবং ১৭ সালে কয়েক দফা শুনানী পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারী শুনানী দিন ধার্য হলেও শুনানী হয়নি । এরপর ২০১৯ এবং ২০২০ সালে কয়েকবার শুনানীর তারিখ ধার্য্য হলেও শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি আজও।
এদিকে মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা-মা। ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম জানান, ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে অনেক ঘুরেছি, মানবাধীকার সংস্থাসহ বহু জনের কাছে গেছি, বিচার পেলাম না। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনার পূর্বে শুনানীর তারিখ থাকলে তা হয়নি। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, ফেলানী হত্যার দশ বছর হয়ে গেছে আজও বিচার পাইনি। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে সঠিক বিচার দাবী করছি। সীমান্তের অধিবাসীরা জানান, ফেলানী হত্যার বিচার হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যেত।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিটর এস এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতের সুপ্রিমকোর্টে ফেলানী হত্যার রীটটি কার্যতালিকার তিন নম্বরে ছিলো। কয়েকদফা শুনানীর তারিখ পিছিয়ে গেছে। বর্তমান কোভিট -১৯ এর জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। পরিস্থিতি ভালো হলে রীটটি শুনানী হবে। আশা করছি ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে ।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাঁও গ্রামে। মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। তাই ২০১১সালের ৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে রওনা হয় দেশের উদ্দেশ্যে। ৭জানুয়ারী ভোরে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের উপর মই বেয়ে আসার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ফেলানীর।

আলোকিত প্রতিদিন/৭ জানুয়ারি’২১/এমজ

ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন

মাসুদ রানা (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন।সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কর্মর্তাদের ফুল দিয়ে বরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়। 

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের ১৫সদস্য বিশিষ্ট এক কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়েছে। আহ্বায়ক ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খানকে সভাপতি এবং যুগ্ম আহবায়ক, মোহনা টেলিভিশনের  ধামরাই প্রতিনিধি মেহেদী ইমাম জান কায়সারকে সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের ধামরাই প্রতিনিধি মাসুদ রানাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে এ-কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পৌরশহরের মোকামটোলা মাজার রোডস্থ প্রেসক্লাব ভবনে এশিয়ান টেলিভিশনের ঢাকা উত্তর প্রতিনিধি ও যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ নিয়ে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী ঝটঝামেলা এড়াতে ও করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সাধারণ সভায় প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিলেকশনের মাধ্যমে এ কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কার্যকরি কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম (এশিয়ান টিভি), সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুর রহমান (চ্যানেল এস), সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার পাল (দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার), অর্থ সম্পাদক মোঃ আমির হামজা (দৈনিক দিনকাল), দপ্তর ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ ইমরান খান (দৈনিক বাংলাদেশের আলো), আইন বিষয়ক সম্পাদক জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ ইউসুফ আলী (দৈনিক খবর বাংলাদেশ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম (দৈনিক দেশের কন্ঠ), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা (দৈনিক ডেল্টা টাইম) গ্রন্থাগার ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রওনাকজান কথা (দৈনিক খোলা কাগজ), কার্যকরি সদস্য মোঃ কাজী মিজানুর রহমান মিজান (দৈনিক লাখো কন্ঠ) ও কার্যকরি সদস মোঃ সাদিকুল ইসলাম খান সাদিক (দৈনিক ভোরের সময়)।কার্যকরি কমিটি গঠন শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ঢাকা-২০, ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও বায়রার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ, নবনির্বাচিত পৌর মেয়র (২য় বার) ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ সিরাজ উদ্দিন, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সামিউল হক, সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা হালধার, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীপক চন্দ্র সাহা, ওসি তদন্ত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন ও কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রাসেল মোল্লাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/৭ জানুয়ারি’২১/এমজ

কাদের মির্জার বক্তব‌্যে সমালোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের থেকে মেয়র প্রার্থী।  এবার নিয়ে কাদের মির্জা টানা ৩ বার মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন।  আগামী ১৬ জানুয়ারি পৌরনির্বাচনের ভোটগ্রহণ।  সম্প্রতি তার দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। এসব বক্তব‌্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।এদিকে, আবদুল কাদের মির্জার যেসব বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, তা ‘বিকৃত প্রচার’ বলে দাবি করেছেন তিনি।  মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার কথা নিয়ে একটি ‘কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে’।প্রসঙ্গত, কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের নোয়াখালী জেলা কমিটির সহ-সভাপতিও।  দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

যেসব বক্তব‌্যে সমালোচনার ঝড়: আসন্ন পৌর নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী কাদের মির্জার কয়েকটি বক্তব্য সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়। এর একটিতে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চার আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা দরজা টোয়াই পাইতো ন (খুঁজে পাবে না)।  এটাই হলো সত্য কথা।’আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি সাহস করে সত্য কথা বলছি।  নোয়াখালীর মানুষজন বলে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে, এটা সত্য।  কিন্তু আপনাদের (দলীয় কিছু নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে)  জনপ্রিয়তা বাড়েনি।  আপনারা প্রতিদিন ভোট কমান। টাকা দিয়ে জেলা শহর মাইজদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় জনসভা করা, কোনো ব্যাপার নয়।  টাকা দিলে, গাড়ি দিলে আমিও অনেক লোক জড়ো করতে পারবো, বিশাল সমাবেশ করতে পারবো।  না হয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেবো।’সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তিনি তার পাশ্ববর্তী জেলা ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দলীয় কয়েকজন এমপিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে দিবালোকে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেন, তারা হচ্ছেন নেতা। টেন্ডারবাজি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট যারা করেন, তারা হচ্ছেন নেতা।  পুলিশের, প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি দিয়ে যারা পাঁচ লাখ টাকা নেন, তারা হচ্ছেন নেতা।  গরিব পিয়নের চাকরি দিয়ে তিন লাখ টাকা যারা নেন, তারা হচ্ছেন নেতা।’উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় কাদের মির্জা তার ভাবি (ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মিনি) সম্পর্কে মন্তব্য করেন।  ভাইরাল হওয়া সে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, গত উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মিণীর (ইশরাতুন্নেসা কাদের) সঙ্গে চরম দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।  কয়েকজন নেতা ষড়যন্ত্র করে আমার এখানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য অস্ত্র পাঠিয়েছেন।’  বক্তব্যের এই পর্যায়ে নোয়াখালীল জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আর কিছু বলবেন কি না?’ এ সময় ডিসি বক্তব্যে বাধা দিয়েছেন, অভিযোগ তুলে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান কাদের মির্জা। ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে উত্তোলন করা যে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যায়, তা আগে আমাদের দিতে হবে। এটি জাতীয় নির্বাচনের সময় নেতার (ওবায়দুল কাদের) ওয়াদা ছিল। আমরা এখনো গ্যাস পাওয়ার কোনো আলামত দেখছি না।  আমি আপনাদের বলছি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা কে জানেন? তওফিক এলাহী।  তিনি কে জানেন? মওদুদ আহমদের ভাইয়রা ভাই। তাহলে বোঝেন আমরা গ্যাস পাবো কি না? আগে আমাদের দিতে হবে, তারপর জাতীয় গ্রিডে যাবে।’বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বসুরহাট পৌরসভায় এক পথসভায় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘ষড়যন্ত্র চলছে বসুরহাট পৌরসভার ভোট নিয়ে।  আমি আবারও বলছি বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য।  শেখ হাসিনা ভাতের অধিকার প্রতিষ্টা করেছেন। এখন ভাতের অভাব নাই। কিন্তু ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় নাই।  আমি বলেছি ভোটের অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।  আমি বলিনি শেখ হাসিনা ভোটের হরণ করেছেন।  ২০০৮ সালের  নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার উঠেছিল।  কিন্তু বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ৩ আসন পেয়েছিল। এখন যদি আমরা নেত্রীকে এখন থেকে না বলি তাহলে কে বলবে।  তাই আমি সাহস করে বলছি।  কিন্তু দু-একজন সাংবাদিক লিখেছেন আমি নাকি বলছি শেখ হাসিনা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে নাই।  তারা টাউট, চামচা।’নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করার পর থেকে বিভিন্ন পথসভায় প্রতিদিনই বক্তব্য দিযে যাচ্ছেন কাদের মির্জা। যা প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/৭ জানুয়ারি’২১/এমজ