আজ শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 240

কক্সবাজারে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ধিত সভা কক্সবাজারের হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের হল রুমে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মোঃ সরওয়ার জাহান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক  আমিরুল হাছান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব খাঁন জুলফিকার আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, ঢাকা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মন্জুরুল ইসলাম। রাঙামাটি আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা নূরে আলম হাফিজসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বর্ধিত সভায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জারদের ফুল দিয়ে বরণ ও অভিনন্দন জানানো হয়। সভায় পদোন্নতি, বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, বন দস্যুদের হামলায় আহত/নিহত ফরেস্টার–ডেপুটি রেঞ্জারদের কল্যাণ, এবং কমিটির শূন্য পদ পূরণসহ গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে—সংগঠনের শক্তি, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিএফএ-এর কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও সদস্যবান্ধব করা হবে। এছাড়া ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জারদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের প্রশ্নে যেকোনো অপতৎপরতা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে জানান।
প্রধান আলোচক আমিরুল হাছান  বক্তব্যে বলেন, সবাইকে এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি বদ্ধপরিকর। ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জারদের সামগ্রিক স্বার্থে দেশের যেকোনো স্থানে ও যেকোনো পরিস্থিতিতে এক টেবিলে বসে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্কেল মামলার আপডেট, পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পূর্ণমিলনী আয়োজন, এবং পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভার সাফল্যসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মন্জুরুল ইসলাম  সোহেল, আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানশাহ নওশাদ, সমীর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল হক,  এমদাদুল হক, জুয়েল চৌধুরী, এমদাদুল হাসান টগর, মোঃ রোকনুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএফএ-এর অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুয়েল চৌধুরী। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে রাত ১১টায় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

তাড়াইলে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫ পালিত

মো. আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)জাতীয় সমবায় দিবসের রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়। “সাম্য ও সমতায়-দেশ গড়বে সমবায়,” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে। সমবায় দিবস পালন উপলক্ষ্যে শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে সদর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। র‌্যালী শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অতিথিবৃন্দ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। 

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগ, তাড়াইল এর আয়োজনে মেঘা সমবায় সমিতির সভাপতি আল আমিন রুবেল এর সঞ্চালনায় ও উপজেলা সমবায় অফিসার শামছুল আলম এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিসান আলী। এছাড়াও আলোচনা সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী, তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, সমবায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমবায়ীবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন। উপজেলা সমবায় অফিসার সামছুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, সমবায় শক্তি-সমবায় মুক্তি। সরকার ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। সরকার সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি জমি ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র ঋণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ ও উপকরণসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।

বক্তারা এসময় আরও বলেন, মাছের খামার, হাঁসের খামার, বিভিন্ন গবাদিপশূর খামারসহ গ্রামে-গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ গড়ার লক্ষ্যে সমবায়ের আদর্শে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করে সাধারণ মানুষের স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখি আমরা। বর্তমানে তাড়াইল প্রায় ৭০ টি সমবায় সমিতি রয়েছে। এ সব সমবায় সমিতি শেয়ার ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে পুঁজিগঠন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, বিপণন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নসহ সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। 
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাংলাদেশের সংস্কৃতি মুগ্ধতা ছড়ালো ক্যাম্পাসে 

শান্তা মারিয়া, ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিশাল চত্বরে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের স্টল। এরই মধ্যে বাংলাদেশের স্টলের সামনে দীর্ঘ লাইন। চীনের তরুণতরুণীরা সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভিতরে ঢোকার। কেউ চান হাতে মেহেদী পরতে, কেউ চান ফুচকা, দুধ-চা, বিরিয়ানির স্বাদ গ্রহণ করতে। এমন দৃশ্য দেখা গেল ৩১ অক্টোবর২০২৫, শুক্রবার । চীনের ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাংকুং ক্যাম্পাসে ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। উৎসবের প্রথমদিনে ছিল বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির পরিচয়বাহী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
চীনের ইউননান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে অবস্থিত ইউননান বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী এখানে বিভিন্ন বিভাগে পড়ছেন। পিএইচডি গবেষকও আছেন। আছেন শিক্ষকও। ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাভাষা বিভাগও রয়েছে। সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বেশ প্রশংসা পেয়েছে। বাংলাদেশের স্টলে প্রদর্শিত কারুশিল্পের নমুনা, বই, পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানে রেড কার্পেটে জোতীয় পতাকা নিয়ে অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীরাও হাঁটেন। বাংলাদেশীরা বাংলায় সংগীত পরিবেশন করেন। স্টল থেকে বাংলা গান বাজানো হয়। চীনা তরুণীদের হাতে মেহেদির নকশা এঁকে দেয়া হয়। সকল দর্শকের জন্য ছিল বাংলাদেশী খাবারের স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ। দিনব্যাপী চলা এই প্রদর্শনী বাংলাদেশী ও বিদেশিদের জন্য এক আনন্দ মিলনমেলায় রূপ নেয়।
বার্তা প্রেরক
শান্তা মারিয়া
শিক্ষক , বাংলাভাষা বিভাগ, ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়
১ নভেম্বর , ২০২৫
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নান্দাইলের হাইত উৎসবে-পলো-জালে মাছ ধরার মিলনমেলা!

তৌহিদুল ইসলাম সরকার, ময়মনসিংহের-নান্দাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলদা বিলে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের প্রাচীন “হাইতি” উৎসব। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) সকালে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে নান্দাইল, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, গফরগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছরের মতোই শরৎকালে বিলে পানি কমে এলে স্থানীয় কৃষক-জেলেরা দলবদ্ধভাবে মাছ ধরতে নামে।

স্থানীয় ভাষায় এই গণমৎস্য শিকার উৎসবটির নাম “হাইতি”। সকাল না হতেই বিলের তীরে নেমে আসে উৎসুক জনতার ঢল- কেউ এসেছে মাছ ধরতে, কেউ আবার শুধু এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আনন্দে শরিক হতে। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ নিয়ে এসেছে বাঁশের জাল, কেউ খাঁচা, পলো, ছিপ, কোচ বা চেলা। বিলের পানিতে একসঙ্গে নেমে পড়ে শত শত মানুষ। মুহূর্তেই চারদিকে পড়ে যায় সমবেত হর্ষধ্বনি ও হাসির রোল। যুবক-বৃদ্ধ সকলেই মেতে ওঠে মাছ ধরার প্রতিযোগিতায়।
ধরা পড়ে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ-বোয়াল, শোল, গজার, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, কৈ, তেলাপিয়া, কাতলা, রুই, পুঁটি ও মলা। কেউ বড় মাছ হাতে উল্লাসে চিৎকার দিচ্ছে, কেউ আবার হাসিমুখে ছোট মাছ ভর্তি ঝুড়ি নিয়ে ফিরছে। হাইতিতে অংশ নেওয়া এক শিকারি  রহমান বলেন, “বছরজুড়ে এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। ছোটবেলা থেকেই এখানে মাছ ধরি। এখন বয়স হয়েছে, তবুও আনন্দটা আগের মতোই লাগে।
অন্যদিকে তরুণ অংশগ্রহণকারী সোহেল মিয়া জানান, “বড় মাছ ধরতে পারলে মনে হয়, পরিশ্রম সার্থক। এটা শুধু মাছ ধরা না- এটা আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য, যেখানে সবাই একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করি।’
দেখা যায়- অনেকেই ধরা মাছ বিক্রির জন্য মাঠেই অস্থায়ী হাট বসিয়েছেন। দর্শনার্থীরাও সেখান থেকে তাজা দেশীয় মাছ কিনে নিচ্ছেন। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নানান পণ্যের দোকান বসিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই বলদা বিলের এই হাইতি উৎসব মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু মাছ ধরার আয়োজন নয়, বরং একটি সামাজিক মিলনমেলা- যেখানে গ্রামীণ ঐক্য, পরিশ্রম আর আনন্দের রঙে মেতে ওঠে সবাই। উৎসব শেষে অংশগ্রহণকারীরা ধরা মাছ ভাগাভাগি করে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। নান্দাইলের বলদা বিলের শতবর্ষী এই “হাইতি উৎসব” আজও ধরে রেখেছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য, ঐক্য আর আনন্দের প্রাণচিত্র।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

অসহায় তশিলা খাতুনকে ঘর নির্মাণ করে দিল আলোর দিশারী যুব সংগঠন

তৌহিদুল ইসলাম সরকার, কিশোরগঞ্জের- হোসেনপুরে সিদলা ইউনিয়নের দক্ষিণ হারেঞ্জা গ্রামের অসহায় মহিলার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন-আলোর দিশারী যুব সংগঠন।  শুক্রবার (৩১অক্টোবর) বেলা ৩ ঘটিকায় হারেঞ্জা গ্রামের অসহায় মহিলার নির্মাণাধীন টিন সেট ঘরটি উদ্বোধন করেন-আলোর দিশারী যুব সংগঠন” নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
জানা যায়, মৃত নূরু মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।  বছর খানেক আগে তিনি মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ায় বিধবা মহিলা খুব কষ্টে দিনযাপন করে আসছেন। তার ছেলের ছোট ঘরে থাকতেন কিন্ত একেই ঘরে সবাই থাকা কষ্ট হয়ে যেত,কিন্তু নিজের মাথা গোজার মতো কোন ঘর ছিলনা।  মাহিলার বসবাসের অসুবিধার কথা শুনে এগিয়ে আসে আলোর দিশারী যুব  সংগঠন।  পরবর্তীতে সংগঠনের সেচ্ছাসেবী ও অন্য সকল মানুষের আর্থিক সহোযোগিতায় ঘরটি নির্মাণে সহায়তা করা হয়। ঘর পেয়ে আসহায় মহিলা আনন্দে আত্নহারা।
তাদের ঘরটি অনেক সুন্দর হয়েছে বলে জানায় সে। তিনি বলেন, এতদিন ছেলের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হতো, এখন নিজের ঘরে থাকতে পারবো, এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।
এসময় সংগঠনের জন্য এবং এর সাথে জড়িত সকল সদস্যদের জন্য তিনি দোয়া করেন। ভবিষ্যতেও যাতে একরকম ভালো কাজ করতে পারে এই আশা করেন তিনি। ঘর হস্তান্তরের সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাব্বির আহমদ নাঈম,সমাজ কল্যান সম্পাদক  মো. ওয়াহিদ মিয়া,ধর্ম বিষয় সম্পাদক মাওলানা সারোয়ার হুসাইন,আব্দুল কদ্দূস,মজিবুর রহমান ও আব্দুল মোতালিব সহ সংগঠন সদস্য ও এলাকার গন্যমন্য ব্যাক্তিসমূহ। এসময় সংগঠনটির সভাপতি জানান, এটি তাদের গৃহ নির্মান প্রকল্প- এক আসহায় মহিলার ঘর নির্মাণে সহায়তা করতে পেরে তিনি অনেক খুশি, পাশাপাশি সংগঠনের সকল সদস্যদেরও তিনি ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে থাকার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো বলেন, সদস্যদের টাকায়  পরিচালিত হয় সংগঠনটি তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও এধরণের কাজে তেমন সহায়তা করা যাচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তশালীরা যদি সংগঠনের আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে সংগঠনটি গরীব-দুঃখীদের পাশে আরো ভালভাবে দাড়াতে পারবে। তাই বিত্তবানদেরকে সংগঠনটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান সংগঠনের প্রধান পরিচালক মোহাম্মদ শাব্বির আহমদ নাঈম । আলোর দিশারী যুবসংগঠনটি ২০২৩ সালে কয়েকজন বন্ধু, সহপাঠি ও বড় ভাইদেরকে নিয়ে গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে সংগঠনটি। এর আগেও তারা গরীর অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িছেন।তাছাড়া শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ,রমজানে ইফতার সামগ্রী, প্রতি ঈদে অসহায় পরিবারের জন্য ঈদ শুভেচ্ছা উপহার কর্মসূচি সহ উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। পরিশেষে মসজিদে ইমাম সাহেব এর দোয়ার মাধ্যমে ঘরটি’র উদ্বোধন করা হয়। এবং অসহায় তশিলা খাতুন এর কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নবীনগরে পুকুর জুড়ে লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয়রা 

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার খাল- বিল ও জলমগ্ন কৃষি জমিতে শুধুমাত্র সাদা শাপলা চোখে পড়ে ৷ সম্প্রতি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য উপজেলার শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরে লাল শাপলার চাষ করা হয়েছে। এখন সারা পুকুর লাল শাপলায় সয়লাব। পুকুর যেন শাপলা ফুলের লাল গালিচা। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল, বিভিন্ন রংয়ের শাপলা রয়েছে। যেমন- সাদা, লাল, নীল ইত্যাদি । এটি সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণের ভূমিকা রাখ।
লাল শাপলার সাথে সাদা বকের আনাগোনা এ পুকুরের সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাপলার সৌন্দর্য দৃশ্যমান থাকে। এ শাপলার পুকুর দেখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। নান্দনিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হন দর্শনার্থীরা। অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছবি তোলায়, কেউবা আবার শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুকুরের উত্তর পাশের এমফিথিয়েটারে বসে পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন।
এ ছাড়া পুকুরটির চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি সৌন্দর্য বর্ধক গাছ ও ফুলের বাগান এবং বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য এমফিথিয়েটার এর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এ সময় এলাকার সাধারণ মানুষ লাল শাপলার অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
শাপলা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা রছুল্লাবাদের মনির হোসেন বলেন-“লাল শাপলার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখার জন্য আমি সুযোগ পেলেই এখানে আসি। সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা গুলো পূর্ণ ফুটন্ত অবস্থায় থাকে। আর তখন শাপলার পাশাপাশি সাদা বকের আনাগোনা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই”।
শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো.  মোস্তাক আহাম্মদ বলেন “প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন শাপলা ফুল দেখার জন্য এখানে আসেন” ৷
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি লাল শাপলার বীজ এ পুকুরে রোপণ করেন ৷
আলোকিত প্রতিদিন/৩১অক্টোবর ২০২৫/মওম

টানা ৩০ দিন কাঁচা রসুন খেলে শরীরে যা ঘটতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আমরা সবাই খাবারে রসুনের স্বাদ এবং গন্ধ পছন্দ করি। কিন্তু এর তীব্র গন্ধ এবং ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে অনেকেই এটিকে কাঁচা খেতে পছন্দ করেন না। তবে, আপনি যদি ৩০ দিন প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খেতে পারেন, তাহলে আপনি আপনার শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখতে পারেন।

কাঁচা রসুন কেন খাবেন?

রসুন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের কোয়া থেঁতলে বা কুচি করলে সালফার-যুক্ত যৌগ তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রান্না করার চেয়ে কাঁচা খেলে এই যৌগগুলো আরও সম্পূর্ণরূপে অটুট থাকে।

প্রতিদিন কাঁচা রসুন খেলে কী হয়: কাঁচা রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রাও ঠিক করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিকারক লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল ঠিক করার ক্ষমতা আছে রসুনের। টানা ৩০ দিন কাঁচা রসুন খেলে এ দুই ক্ষেত্রে আপনি পরিবর্তন দেখতে পারেন। তবে নাটকীয়ভাবে সব ঠিক হয়ে যাবে এমন কিছু প্রত্যাশা করা যাবে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের সক্রিয় যৌগগুলো জীবাণু-রোধী, ভাইরাস-রোধী এবং ছত্রাক-রোধী হিসেবে কাজ করে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, রসুনে অ্যালিসিন রয়েছে, যা জীবাণু-রোধী এবং প্রদাহ-রোধী হিসেবে কাজ করে। এছাড় রসুন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

এছাড়া রসুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং এটি অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে পারে। যা বার্ধক্য, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগের অন্যতম কারণ

পুষ্টিবিদ ড. সিমরান সাইনির মতে, “রসুনে উচ্চ সালফার উপাদান রয়েছে যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং হজমতন্ত্রকে ঠিক রাখে।”

এছাড়া রসুন ত্বকের জন্যও উপকারী। রসুন খেলে আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

টানা ৩০ দিন কাঁচা রসুন খেলে যা হবে—

আপনার নিঃশ্বাসে তীব্র গন্ধ আসতে পারে, এবং কাঁচা রসুন খাওয়ার সময় পেটে সামান্য অস্বস্তি বা অনুভূতি হতে পারে।

২০ থেকে ৩০ দিন পরে 

যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বেশি, তাদের শরীরে উন্নতি দেখা যেতে পারে।

অসুস্থ হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করতে পারে, ফলে সর্দি-কাশি বা অসুস্থতা কম হতে পারে। প্রশান্তিদায়ক খাবারের সাথে রসুন না খেলে হজমের সমস্যাগুলো (যেমন পেটের গোলমাল) থেকে যেতে পারে। ব্রণ কম হওয়ার কারণে ত্বক আরও পরিষ্কার হতে পারে।

৩০ দিন পর:

যদি আপনি এর ফলাফল পছন্দ করেন এবং আপনার শরীর ভালোভাবে সহ্য করে, তবে আপনি এটি চালিয়ে যেতে পারেন।

যদি আপনি কোনো সুবিধা না পান এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি বিরক্তিকর মনে হয়, তবে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কাঁচা রসুন আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। রসুন থেঁতলে বা কুচি করুন, তারপর মূল উপাদান অ্যালিসিন তৈরি হওয়ার জন্য ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

এর তীব্রতা কমাতে কাঁচা রসুন সালাদ, দইয়ের চাটনি, বা সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

যদি কাঁচা রসুনে অভ্যস্ত না হন, তবে অর্ধেক কোয়া দিয়ে শুরু করুন। শরীর সহ্য করলে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণ কোয়া পর্যন্ত বাড়ান। নিঃশ্বাসে ও শরীরে তীব্র গন্ধ আসা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে খালি পেটে বা সংবেদনশীল হজমতন্ত্র থাকলে পেটে গোলমাল, বুকজ্বালা, গ্যাস বা পেট ফোলা হতে পারে।

রক্তপাতের ঝুঁকি— রসুনকে রক্ত পাতলা করে। আপনি যদি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এমন ওষুধ খান বা আপনার অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা থাকে, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

 প্রতিদিন কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত-প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন এক মাস ধরে খেলে বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি হৃদপিণ্ড ও রক্তনালী সংক্রান্ত ঝুঁকির উপাদানগুলো এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য সামান্য উপকার এনে দিতে পারে। তবে এটি কোনো অলৌকিক সমাধান নয় এবং নির্ধারিত ওষুধ বা অন্যান্য স্বাস্থ্য অভ্যাসকে (ব্যায়াম, খাবার, ঘুম) বিপরীত হতে পারে না।

আপনি যদি রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, হজমের সমস্যা থাকে বা গর্ভবতী বা শিশুকে দুধ পান করান, তবে আপনার অবশ্যই প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুত্র: এনডিটিভি

আলোকিত প্রতিদিন/৩১অক্টোবর ২০২৫/মওম

নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

আলোকিত প্রতিবেদক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ এখন আর নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। দুটি ব্যালট থাকবে, একটি গণভোটের জন্য, আরেকটি জাতীয় সংসদের জন্য। এ বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।

৩১ অক্টোবর শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করবো, নির্বাচন করতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু আজ সেই নির্বাচন বানচালের জন্য একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা এ নিয়ে রাস্তায় নেমে গোলমাল করছেন, তাদের অনুরোধ করবো, জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। এক সময় আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আজ জনগণ যে নির্বাচন চায়, তার বিরোধিতা করবেন না। এই দেশের মানুষ দেশ বিক্রির রাজনীতিকে ক্ষমা করে না।’

মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা যে কমিশন তৈরি করেছেন, সেই কমিশন ঐকমত্যের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলাম। কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেই। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও মূল বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, এটাই নিয়ম। যখন আমরা নির্বাচনে যাবো, তখন ম্যানিফেস্টোতে এই বিষয়গুলো থাকবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা সেসব বিষয় সামনে আনবো, পার্লামেন্টে পাস করে দেশের পরিবর্তন ঘটাবো। আর যদি ভোট না দেয়, তাহলে সেটি বাদ পড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন ঐকমত্যের নথি জমা দেওয়া হলো, সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল– ১৭ অক্টোবর। তার আগে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আমরা ঠিকঠাক করে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে সই করলাম। কিন্তু যখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটা উপস্থাপন করা হলো, তখন দেখা গেলো অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে আমরা যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলাম, সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। আমরা যে বিশ্বাসযোগ্যতা আশা করেছিলাম, তারা তা রাখেনি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের।’  ‘যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। আগে ১০ দফা, পরে ২৭ দফা, এরপর ৩১ দফা দিয়েছে– সবই সংস্কারের জন্য। আমরা প্রত্যেকটি সভায় উপস্থিত থেকেছি, আলোচনা করেছি, শেষ পর্যন্ত ঐক্যমতের সনদে সই করেছি। বিভ্রান্তি যদি আসে, সেটা ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লড়েছি, একসঙ্গে কাজ করেছি, তাদের নিয়েই আমরা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট– আসুন, সবাইমিলে নির্বাচনের সুযোগকে কাজে লাগাই। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের পার্লামেন্ট, জনগণের সরকার গঠন করি।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশের বর্তমান সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধারের সক্ষমতা ড. ইউনূসের নেই। বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ নির্বাচন।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত। তারা কেন নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার সংবিধান সংশোধনের কোনও এখতিয়ার রাখে না। বিদ্যমান সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা নিজেদেরই বিপদে ফেলছে। সরকার দেশকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনও রাস্তা দেখানো হয়নি।’

সাইফুল হক আরও বলেন, ‘গণভোটের ঝুঁকি নেওয়ার মতো অবস্থানে দেশ নেই। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন বিভেদ সৃষ্টি হবে। ঐকমত্য কমিশন শেখ হাসিনার মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়লে অন্তর্বর্তী সরকারও ঝুঁকিতে পড়বে, দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যেতে পারে।’

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের দুর্ভাগ্য– স্বৈরাচারকে সরিয়ে আবার নিজেদের মধ্য থেকেই স্বৈরাচার জন্ম নেয়। গণতন্ত্রের কথা বলি, অথচ বারবার কেন স্বৈরাচারের রাজনীতি ফিরে আসে? বিএনপির দুর্বলতার কারণেই নির্বাচন নিয়ে আজ জটিলতা দেখা দিয়েছে।’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশন চাইলে তিন মাস আগেই গণভোটের আলোচনা শেষ করতে পারতো। জুলাই মাসেই সনদ ও ঘোষণাপত্র হয়ে গেছে– এখন আর নির্বাচন নিয়ে বাধা নেই। কিন্তু রাজনৈতিক পর্দার আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেকেই প্রকাশ্যে ঝামেলা করছে।’

জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণ-ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১অক্টোবর ২০২৫/মওম

 

 

নিউইয়র্কে রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ২জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারী বৃষ্টিপাতে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক শহরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র এরিক অ্যাডামস। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বন্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর দিয়েছে। অন্যদিকে, শহরের জেএফকে, লাগার্ডিয়া এবং নিউয়ার্ক বিমানবন্দরগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান উড্ডয়ন সূচিতে ব্যাঘাত ঘটেছে।

মেয়র অ্যাডামস ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, কয়েক ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, তার বেশিরভাগই বিকেলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হয়েছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল পার্কে ১.৮৫ ইঞ্চি (৪.৭ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা রেকর্ড। এ ছাড়া, লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ২.০৯ ইঞ্চি (৫.৩১ সেন্টিমিটার) এবং নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১.৯৯ ইঞ্চি (৫.০৫ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন এবং কুইন্সের কিছু অংশে উপকূলীয় বন্যার সতর্কতাও জারি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স।  

আলোকিত প্রতিদিন/৩১অক্টোবর ২০২৫/মওম

লাহোরের বাতাস দূষণের শীর্ষে, আজ ‘সহনীয়’ ঢাকার বাতাস

আলোকিত ডেস্ক:

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। তবে, ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’। আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) এ সময় ৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ২৭তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। তালিকায় প্রথম ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা দুটি শহরই পাকিস্তানের।

৩১ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান নির্ধারণ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ থেকে এ তথ্য নেওয়া হয়েছে। আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, স্কোর ৪৬৭। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বায়ুর মানের স্কোর ১৭৬, তৃতীয় স্থানে রয়েছে কুয়েতের কুয়েত সিটি, স্কোর ১৫৭। একইসঙ্গে ১৫২ ও ১৫১ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কাতারের দোহা ও পাকিস্তানের করাচি শহর।

দূষিত বাতাসে শীর্ষ দশে থাকা অপর শহরগুলোর বাতাসের মানের স্কোর ১৪৪ থেকে ১২২-এর মধ্যে।আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠী’র (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচনা করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১অক্টোবর ২০২৫/মওম