আজ শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 239

জাতিকে আশার আলো দেখাচ্ছেন তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল!

আলোকিত প্রতিবেদক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমানও সুদূর প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছিল, সেটিই আজ অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান। তিনি জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন।

রোববার (২ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমাদের কাছে এবং গোটা জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন মানুষ অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে রয়েছে, তখন আবারও দেশের শত্রুরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, এ অবস্থায় ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর এই দিনটি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা শহীদ প্রেসিডেন্টকে বন্দী করে রেখেছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এরপরই ইতিহাসে শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।’

ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অকুতোভয় সেই সামরিক কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, “I hereby declare the independence of Bangladesh.”। এরপরের পাঁচ বছর ছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তখন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা-বাকশাল। সেই সময় বাংলাদেশে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে ১৯৭৪ সালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। তৎকালীন অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বলেছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে অবস্থার পরিবর্তন ঘটান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি প্রথম রাজনৈতিক সংস্কারের হাত দেন একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে নিয়ে আসেন বহুদলীয় গণতন্ত্রে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, নিষিদ্ধ হওয়া পত্রিকা পুনরায় চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন, গঠন করেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। অর্থনীতিতে তিনি সূচনা করেন নতুন যুগের। তার হাত ধরে গড়ে ওঠে গার্মেন্টস শিল্প, বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার মাধ্যমে রেমিট্যান্স আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তিনি নেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিতে বিপ্লব ঘটে তার খাল খনন কর্মসূচি, উচ্চফলনশীল বীজের আমদানি এবং সার ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে। শিল্পে তিন শিফটে উৎপাদন শুরু হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়, দেশ তখন এক কর্মযজ্ঞে মেতে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘সবশেষে আবারও বলি, ৭ নভেম্বর আমাদের রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমরা এই দিনটিকে স্মরণ করি, কারণ এর মধ্য দিয়েই জেগে ওঠে জাতির চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই দর্শনকে সামনে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যশোরের কেশবপুরে হুনুমানের সংখ্যা বাড়ছে

রুহুল আমিন:
যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী কালোমুখ হনুমানের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু ‘নিজেদের মধ্যে দলাদলি’, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য সংকটের কারণে ইতোমধ্যে অনেক হনুমান স্থান ত্যাগ করেছে। তারা আশপাশের জেলা-উপজেলাতে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
কেশবপুরে ২০১৬ সালের দিকে বিলুপ্তপ্রায় এ প্রাণীটির সংখ্যা ছিল প্রায় তিনশ। ইতোমধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে চার শতাধিক হয়েছে বলে জানান কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস। তার দাবি, উপজেলা পরিষদ চত্বরেই দেখা মিলবে বাচ্চাসহ শতাধিক কালোমুখ বানর। এছাড়া পাশেই উপজেলা হাসপাতাল চত্বর, বালিয়াডাঙ্গা মন্দির ও হরিহর নদীর ধারের মহাশ্মশান এলাকা, খতিয়াখালী ও পুলেরহাট বাজার এলাকায় একটু বেশি চলাচল।
কালোমুখ হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Semnopithecus entellus। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রজাতির হনুমান প্রায় ২০০ বছর ধরে যশোরের কেশবপুর ও মণিরামপুর অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। এদের গড় আয়ু ১৮-৩০ বছর। সাধারণত জুলাই-অক্টোবর বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর সাধারণত ১-২টি বাচ্চা প্রসব করে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন)-২০১২ অনুযায়ী হনুমানের এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। কেশবপুর পৌরএলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, কালোমুখ হনুমান আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু তাদের থাকার নিরাপদ জায়গা, প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবারের কারণে এখন এই হনমুানগুলো স্থান ছেড়ে যাচ্ছে। তারপরও কেশবপুর পৌরশহরে বিশেষ করে উপজেলা চত্বর, হাসপাতাল চত্বরে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সরকারের উচিৎ বিলুপ্তপ্রায় এ প্রজাতির প্রাণীটি সংরক্ষণে আরও বেশি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বালিয়াডাঙ্গা মোড়ের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, হনুমানের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ হয় না। প্রায়ই তারা এই বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে খাবার নিয়ে পালায়। আমার দোকান থেকেও দুদিন আগে পটেটো চিপসের ২০-২৫টি প্যাকেট নিয়ে চলে যায়।
একই কথা বললেন সুজাপুরের কৃষক আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে পাড়ার লোকজনের ঘরে প্রবেশ করে হনুমানগুলো তাণ্ডব চালায়। তারা আমার ঘরের টালি ভেঙেছে, ঘরের ভেতর ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করেছে। খুব অত্যাচার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর দশেক আগে একটি বেসরকারি সংস্থা কেশবপুরের হনুমানদের জন্য প্রয়োজনীয় ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করে। কিন্তু দুই-তিন বছরের মধ্যে অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। কালোমুখ হনুমান এখানকার জনজীবনের সঙ্গেই মিশে আছে। কিন্তু খাদ্যের অভাব, থাকার জায়গার সমস্যা, বৈদ্যুতিক ক্যাবলে জড়িয়ে অপমৃত্যু এবং কিছু দুষ্ট লোকের নির্যাতনে হনুমানের অপমৃত্যু হচ্ছে। আবার খাদ্যের সন্ধানে অনেক হনুমান এলাকা ছেড়েও চলে যায়।
কথিত আছে, ব্রিটিশ আমলে দক্ষিণ ভারতের কয়েকজন মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেশবপুরে আসেন। তারা কয়েকটি কালোমুখ হনুমান সঙ্গে এনেছিলেন। সেগুলোই বংশবৃদ্ধি করে এ অঞ্চলে নিজেদের ‘হনুমান সাম্রাজ্য’ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে এখানে দুই হাজারের মতো কালোমুখ হনুমান ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে বন উজাড়করণ, গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, খাদ্যাভাব এবং মানুষের অত্যাচারে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে।
 সরেজমিন দেখা যায়, খাদ্য প্রদানের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কর্মচারী আতিয়ার রহমান নতুনহাট এলাকায় হনুমানগুলোর জন্য এনেছেন পাকাকলা, বাদাম, বনরুটি আর আলু। সেগুলো নিয়ে হনুমানদের একাংশ চলে গেলেও কয়েকটি খাচ্ছিল। তিনি জানান, পাঁচটি স্পটে সকাল ও বিকালে দুই দফায় খাবার দেওয়া হয়। খাবারের মধ্যে প্রতিদিনের জন্যে ৪৭ কেজি পাকা কলা, বনরুটি ৬ কেজি ৭০০ গ্রাম, বাদাম ৭ কেজি ৩০০ গ্রাম, আলু ৬ কেজি ৮০০ গ্রাম। সবজি প্রতিদিন একইরকম হয় না। হনুমানগুলো একই সবজি বারবার খায়ও না। সেক্ষেত্রে আলু, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স বদল করে দিতে হয়। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি হনুমানগুলোর খাবার দিয়ে আসছেন বলে জানান।
খাবার সরবরাহকারী তুহিন এন্টারপ্রাইজের মালিক ইয়াসির আরাফাত সান বলেন, গত দুই বছর টেন্ডারের মাধ্যমে আমি খাবার সরবরাহ করে আসছি। প্রতিদিন সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে খাবার অফিসের স্টাফের সামনে মেপে আনা হয়। সেকারণে ওজনে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। টেন্ডার অনুযায়ীই খাবার সরবরাহ করে আসছি।
সামাজিক বন বিভাগ যশোরের রেঞ্জ অফিসার এমএম মিজানুর রহমান বলেন, কেশবপুরে চার শতাধিক হনুমান রয়েছে। এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সবাই থাকে না। কেননা হনুমানগুলো এক জায়গায় স্থির নয়। আর একেকটি দলে দুটির বেশি পুরুষ হনুমানও থাকে না। সংখ্যায় বেশি হলে নিজেরাই মারামারি করে আরেকটি গ্রুপ করে অন্যত্র চলে যায়। তাই অভয়ারণ্য তৈরি করে এদের এক জায়গায় আটকে রাখা কঠিন।
সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হনুমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে যশোরের কেশবপুর ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে হনুমানদের খাবারের জন্য টেন্ডার করা হয়। সামনের মাসেই টেন্ডার আহ্বান করার কথা রয়েছে। তাদের খাবারের জন্য ২০ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ থাকে। সেক্ষেত্রে কেশবপুরে ১৩-১৪ লাখ টাকার মতো বরাদ্দ হতে পারে।
আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর চালু মিসরে, আয়তন ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি- মিসরের ‘দ্য গ্রেট পিরামিড অফ খুফুর’ কাছেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ‘দ্য গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম বা জিইএম’-এর।

এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর বলা হচ্ছে, যেখানে এক লাখেরও বেশি প্রত্নসামগ্রী রাখা হয়েছে। প্রাক-রাজবংশীয় সময় থেকে গ্রীক এবং রোমান যুগ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বছরের ইতিহাস সেখানে ঠাঁই পেয়েছে।

বিখ্যাত মিসরবিদরা বলছেন, এই জাদুঘর চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে থাকা মিসরের প্রত্নসামগ্রী ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হবে। তার মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা ‘রোসেট্টা স্টোন’ও রয়েছে। তবে দ্য গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সবচেয়ে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো প্রাচীন মিসরের বালক সম্রাট তুতেনখামুনের অক্ষত সমাধি থেকে পাওয়া পুরো সংগ্রহের একসঙ্গে প্রদর্শন। ব্রিটিশ মিসরবিদ হাওয়ার্ড কার্টার এটি আবিষ্কারের পর এই প্রথম এটি প্রদর্শিত হচ্ছে।

এই পুরো সংগ্রহের মধ্যে আছে তুতেনখামুনের দর্শনীয় সোনার মুখোশ, সিংহাসন এবং রথসহ মূল্যবান সব সামগ্রী।

“কিভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হয়েছে। কারণ সমাধিটি ১৯২২ সালে আবিষ্কারের পর এর সাড়ে ৫ হাজার সামগ্রীর মধ্যে ১ হাজার ৮০০র বেশি প্রদর্শন করা হয়েছে,” বলছিলেন আন্তর্জাতিক মিসরবিদ সমিতির সভাপতি এবং গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সাবেক প্রধান ড. তারেক তওফিক।

তিনি বলছেন, “আমার ধারণায় ছিল পুরো সমাধি সংগ্রহ প্রদর্শন। অর্থাৎ কিছুই আর গুদামে বা অন্য জাদুঘরে থাকবে না। যাতে শত বছর আগে হাওয়ার্ড কার্টার যেভাবে পেয়েছিলেন আপনি সেভাবেই তা দেখতে পারেন”।

প্রায় বারশ কোটি ডলার (১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে তৈরি করা এই জাদুঘর বছরে অন্তত আশি লাখ দর্শনার্থী দেখতে পারবেন। এটি মিসরের পর্যটনকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

“দ্য গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম মিসরবিদ্যা ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের নতুন সোনালী যুগের সূচনা করবে বলে আমরা আশা করি,” বলছিলেন গিজা পিরামিডের গাইড আহমেদ সেদ্দিক।

তুতেনখামুনের প্রদর্শনী আর খুফুর সাড়ে চার হাজার বছরের পুরোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকা বাদ দিয়ে গ্যালারীর বেশিরভাগ সামগ্রী গত বছর থেকেই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা আছে।

আহমেদ সেদ্দিক বলছেন, “আংশিক খোলা সত্ত্বেও আমি জাদুঘরে অনেকগুলো ট্যুরের আয়োজন করেছি। এখন এটি গৌরবের চূড়ায় পৌঁছাবে। যখন তুতেনখামুনের সংগ্রহ খোলা হবে তখন আপনি কল্পনা করতে পারবেন যে পুরো পৃথিবী ফিরে এসেছে। কারণ এটা একটি আইকনিক ফারাও, সবচেয়ে বিখ্যাত রাজা।”

লন্ডন থেকে ভ্রমণে আসা স্যাম বলছিলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে মিসরের প্রত্নসামগ্রী দেখার জন্য অপেক্ষা করছি”। আরেকজন ব্রিটিশ পর্যটক বলছিলেন, তিনি এর আগে তাহরির স্কোয়ারে নিওক্লাসিক্যাল মিসরীয় জাদুঘরে তুতেনখামুনের প্রদর্শনী দেখেছিলেন।

নতুন তৈরি হওয়া জাদুঘর প্রায় ৫ লাখ বর্গমিটারের, যা ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান। দেয়ালে খোদাই করা হয়েছে প্রাচীন মিসরীয় লিপি। অ্যালাবাস্টার পাথরের ত্রিভুজাকার নকশা আর প্রবেশদ্বার করা হয়েছে পিরামিড আকৃতির।

এই জাদুঘরে ৩২০০ বছরের পুরোনো ও ১১ মিটার লম্বা সবচেয়ে বিখ্যাত ফারাও (সম্রাট) রামেসিস দ্য গ্রেটের মূর্তি আছে। এটি ২০০৬ সালে কায়রো রেল স্টেশনের কাছ থেকে নতুন জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

বিশাল সিড়ির কাছে প্রাচীন রাজা রাণীদের মূর্তি এবং উপরের তলায় বিশাল জানালা থেকে দেখা যাবে গিজা পিরামিড। নতুন এই জাদুঘরটির প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। আর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৫ সালে। ধারণা করা হয়, এটি নির্মাণ শেষ করতে পিরামিড নির্মাণের মতো সময় লেগেছে।

তবে এই প্রকল্প বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় ও পরে কোভিড মহামারি এবং আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর সময়েও। মিসরে দীর্ঘদিন পর্যটনমন্ত্রী ছিলেন ড. জাহিদ হাওয়াস। তিনি বলেন, “এটা ছিল আমার স্বপ্ন। জাদুঘর পুরোপুরি চালু হয়েছে দেখে আমি সত্যিই খুশি।”

তিনি বলেন, “এখন আমি দুটি জিনিস চাই: প্রথমত, জাদুঘরগুলো চুরি করা প্রত্নবস্তু কেনা বন্ধ করুক; দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ মিউজিয়াম থাকা রোসেট্টা স্টোন, লুভর জাদুঘরে থাকা ডেনডেরা জোডিয়াক এবং বার্লিন থেকে নেফারতিতির আবক্ষ মূর্তি ফিরে আসুক।”

দ্য রোসেট্টা স্টোন ১৯৯৯ সালে পাওয়া গিয়েছিল। এটি হায়ারোগ্লিফিকস পাঠোদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। ফরাসি সেনারা এটি আবিস্কার করে। তবে পরে ব্রিটিশরা যুদ্ধের পর দখল করে নেয়।

অন্যদিকে ডেনডেরা জোডিয়াক একটি প্রাচীন মিসরীয় আকাশ মানচিত্র। ১৮২১ সালে ফরাসিরা একটি মন্দির থেকে এটি কেটে নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া মিসরের অভিযোগ, জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদরা মিসরের ফারাও আখেনাতেনের স্ত্রী নেফারতিরির মূর্তি পাচার করে নিয়ে গিয়েছিল।

ড. জাহিদ হাওয়াস বলছেন, “ওই তিন দেশ থেকে এগুলো ফিরিয়ে আনা দরকার উপহার হিসেবে। মিসর বিশ্বকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছে”। তবে ব্রিটিশ জাদুঘর বিবিসিকে বলেছে, তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাননি।

সূত্র:  বিবিসি বাংলা

আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে : ধর্ম উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

২ নভেম্বর রবিবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তাবলিগের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন নিয়ে এখন ব্যস্ত। নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। ইজতেমা করতে গেলে অনেক মানুষের সমাগম, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয় আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইজতেমা হবে নির্বাচনের পর।

ইজতেমা পেছানোর বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে এত বড় একটা সমাবেশ, যেখানে বিদেশি মেহমানরাও থাকেন। এই ঝুঁকিটা সরকারের জন্য নেওয়া উচিত হবে না মনে করে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, এ বিষয়ে তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষ তিন উপদেষ্টার সামনে সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন যদি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে হয়, এরপর রমজানে তো আর হচ্ছে না, হয়তো রমজানের পর (ইজতেমা) হবে। তবে দুই পক্ষ কবে ইজতেমা করবে, সে সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের সঙ্গে বসে নিতে হবে। সুবিধাজনক সময়ে তারিখ নির্ধারিত হবে।

দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমা করবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে ইজতেমা একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,নির্বাচন পেছানোর এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই। যদি এ রকম কোনো পরিস্থিতি দেখা দেয়, তবে আমরা আবার বসব, কথা বলব—কী করা যায় তখন দেখব। নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে, সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি।

আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

 সারিয়াকান্দিতে কালিতলা নৌঘাটে মিলছে মরুর দেশের গারলের মাংস 

মাইনুল হাসান মজনু:
বগুড়া সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাটে এখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে মরুর দেশের রান্না করা গারলের মাংস। রান্না করা মরুর দেশের গারলের মাংস খেতে এ নৌঘাটে ভোজন রসিকদের উপচেপড়া ভীড়। দুপুরের খাবারেই পুরো একটি গারলের মাংসের সবগুলোই বিক্রি হয়েছে।
বগুড়া সারিয়াকান্দির বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে মরুর দেশের গারলের খামার। যারা প্রাকৃতিকভাবেই যমুনাচরের সবুজ ঘাস খেয়ে বেড়ে উঠেছে। গত কয়েকবছর ধরেই এসব গারলগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বগুড়া শহরের বিভিন্ন অভিযাত হোটেলগুলোতে বিক্রি হতো। এবার যমুনাপাড়ের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কালিতলা নৌঘাটে বিক্রি শুরু হয়েছে রান্না করা মরুর দেশের গারলের মাংস। গত শুক্রবার সকালে এ নৌঘাটে একটি ৪০ কেজি ওজনের গারল জবাই করে উদ্বোধন করা হয়েছে গারলের মাংস বিক্রি। নৌঘাটের হাজী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে পাওয়া যাচ্ছে এই গারলের মাংস। যমুনাপাড়ের মানুষের কথা চিন্তা করে প্রতি বাটি ভুনা মাংসের দাম ধরা হচ্ছে ১৪০ টাকা। এদিকে মরুর দেশের গারলের মাংস খেতে শুক্রবার দুপুরে এ নৌঘাটে ভোজন রসিকদের উপচেপড়া ভীড়ের সৃষ্টি হয়েছিল। দুপুরের খাবারেই পুরো একটি গারলের মাংসের সবগুলোই বিক্রি হয়েছে। অনেকেই পার্সেল করে নিজেদের পরিজনের খাওয়ার জন্য নিয়ে গেছেন। এটি সাধারণত প্রথম অবস্থায় শুধুমাত্র প্রতি শুক্রবার  পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন হোটেলের সত্তাধিকারী।
যমুনা গারল খামারের সত্তাধিকারী আশরাফ আলী বলেন, গারলের মাংসের এতো চাহিদা যে আমি খামার থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারি না। গারলের মাংসে চর্বি নেই বললেই চলে। এটি খাওয়ার পরে সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার কোনও প্রয়োজন পরে না। এ মাংস আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপযোগী। আমাদের যমুনাপাড়ের এলাকাবাসী যাতে স্বল্প দামে গারলের মাংস খেতে পারেন তার জন্যই রান্না করা গারলের মাংস বিক্রি শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের খাবারের সাথে একটি গারলের সবগুলো মাংস বিক্রি হয়েছে। পরে অনেকেই গারলের মাংস খেতে এসে ফিরে গেছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল, ইতিহাসের হাতছানি দুই দলের!

ক্রিকেট, আজ মুম্বাইয়ে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল। এবারই প্রথম মেয়েদের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে প্রোটিয়ারা। ভারতের অবশ্য এটি তৃতীয় ফাইনাল। তবে আগের দুইবার শিরোপার মঞ্চ থেকে দলটিকে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই।

ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক লরা উল্ভার্ট দু’জনই এই ম্যাচে কোনো অতীত চাপ বা ব্যর্থতা নিয়ে না আসার কথা বলেছেন। লিগ পর্বে নাদিন দে ক্লার্কের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ মুহূর্তে হারলেও ভারত নিজের ভুলগুলো বুঝতে পেরেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ম্যাচ শেষ করতে না পারা ভারতীয় দলের পুরোনো দুর্বলতাও আছে। ভারতীয় দলের ব্যাটিং লাইনআপ যথেষ্ট শক্তিশালী। স্মৃতি মন্ধানা, জেমিমাহ রদ্রিগেজ ও হরমনপ্রীতের ধারাবাহিক রান তাদের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। বোলিংয়ে রেনুকা সিংহ ও তরুণ ক্রান্তি গৌড়ের সমন্বয় ভারসাম্য বজায় রাখছে।

প্রোটিয়াদের ভরসা উল্ভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসের ওপেনিং জুটি। শেষের দিকে নাদিন দে ক্লার্ক ও ক্লোয়ি ট্রায়নের ঝড়ো পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ চেজে সাহায্য করেছে। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি হবে চূড়ান্ত পরীক্ষার। ভারত ঘরের মাঠের সুবিধা এবং দর্শকদের সমর্থনে আত্মবিশ্বাসী, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিলে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নান্দাইলে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন 

 তৌহিদুল ইসলাম সরকার,‎ময়মনসিংহের- নান্দাইলে প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ‎কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‍্যালী ও আলোচনা সভা। দিবসে এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো”সাম্য ও সমতায় দেশ গড়বে সমবায়”দিনটি উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে  এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নান্দাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)- রেবেকা সুলতানা ডলি- এবং সভাপতিত্ব করেন- উপজেলা সমাজ সমবায় অফিসার সাবিরা খান। সকাল ১১ টায় উপজেলা চত্বরে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তারপর এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি নিয়ে উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করেন।
উপজেলা হলরুমে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয়। অনুষ্ঠান স্বাগত বক্তব্য রাখেন- উপজেলা সমবায় অফিসার সাবিরা খান। তিনি বলেন- নান্দাইল উপজেলা সমবায় অফিসের আওতায় ৪২ টি নিবন্ধনকৃত সমিতি আছে, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০০০। সমিতির মাধ্যমে সমাজে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে কুটির শিল্প, মৎস্য চাষের মাধ্যমে অনেক যুবক-যুবতীরা নিজেদেরকে আত্ম-কর্মশানে সৃষ্টি করছে এবং নিজেদেরকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে স্বনির্ভর করে তুলছেন।
বিভিন্ন সমিতির পক্ষ থেকে কনকচাঁপা সমিতির কোষাধ্যক্ষ আফরোজা শিউলি বলেন- সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সমিতির সদস্যরা আত্মনির্ভর হচ্ছে। তিনি বলেন- আমরা করোনার সময়ে মাস্ক বিতরণ, ত্রাণ বিতরণ গাছের চারা বিতরণ করে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকি। তিনি আরো বলেন- আর্থিক সহায়তা পেলে উদ্যোক্তাগণ সমাজে কাঙ্খিত অবস্থায় পৌঁছতে পারবে। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল বলেন- সমবায়ের মাধ্যমে বিআরডিপির সমিতি গুলো সচল করা গেলে নিজেদের এবং সমষ্টিগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- এই বছর সমবায়ের প্রতিপাদ্য হলো সাম্য ও সমতায় , দেশ গড়বে সমবায়। তিনি বলেন- সবাই মিলে মিশে কাজ করলে এই কাজে সফলতা বেশি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা, কুটির শিল্প মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ নিয়ে সমবায়ের মধ্যে সংগঠন তৈরি করা গেলে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া সহজ। আমরা যেন আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারি,সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিশেষ উপজেলা সমবায় অফিসার সকল মিডিয়া সাংবাদিক ও বিভিন্ন সমবায় সমিতির থেকে আগত সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

‎হোসেনপুরে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

তৌহিদুল ইসলাম সরকার,‎কিশোরগঞ্জের- হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ‎কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‍্যালী ও আলোচনা সভা। দিবসে এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো”সাম্য ও সমতায় দেশ গড়বে সমবায়”দিনটি উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে  এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ বলেন, দারিদ্র‍্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সমবায়ই শক্তি সমবায় মুক্তি সমবায়ীদের ভূমিকা রাখতে হবে।”‎উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মাদ গোলাম মোর্শেদ মৃধার সভাপতিত্বে  আরো বক্তব্য রাখেন,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, হোসেনপুর থানা ওসি(তদন্ত)লিমন বোস,হাজী আফতাব উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের পরিচালক ও নিউ অগ্রণী মাল্টিপারপাসের সভাপতি  তাজুল ইসলাম বুলবুল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিন প্রমূখ।

‎এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মৎস্যজীবিদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম অর্জুনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সুশিল সমাজ,সমবায়ীবৃন্দ ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। ‎উল্লেখ্য, হোসেনপুরে মোট সমবায় সমিতির সংখ্যা ১২৭টি, নারী-পুরুষ মিলিয়ে এসব সমিতিতে সদস্য প্রায় ১৪,০৪২ জন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

কক্সবাজারে উত্তরা ভালুকা সমিতির পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আলোকিত ডেস্ক, ১ নভেম্বর ২০২৫ রোজ শনিবার সকাল ১১ টা সুগন্ধ থেকে শুরু হয় উত্তরায় ভালুকা সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে ভিন্ন ধর্মীয় এক কর্মসূচি পালন করলেন ১২০ সদস্য টিম বিভক্ত হয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা প্লাস্টিক নিজ হাতে পরিষ্কার করে জনসচেতনতা ও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এতে সমিতির সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহিম বলেন উত্তরা ভালুকা সমিতি সব সময় দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজার থেকে শুরু করে দেশ বাঁচাও পরিবেশ বাঁচাও এই স্লোগান নিয়ে আমরা শুধু কক্সবাজারে নয় দেশে এবং বিদেশে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা কর্মসূচি পালন করে যাব সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ মন্ত্রণালয় তারা উত্তরায় ভালুকা সমিতির পাশে থেকে পরামর্শ এবং সহযোগিতা করবে তাহলে উত্তরা ভালুকা সমিতি আরো ভালোভাবে দেশের পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে সক্ষম হবে। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আতিক গোল্লা বাহার সোহেল সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল করিম দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন কায়ছার আহমেদ কাজল রফিম নিজাম সহ সমিতির সকল নেতৃবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রংপুরে বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে নি*হত হলেন ছেলে

শফিউল মণ্ডল, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকায় বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন আব্দুল খালেক (৩৬) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারতের সময় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল খালেক নিয়মিতভাবে প্রতি শুক্রবার বাবার কবর জিয়ারত করতেন। ঘটনার দিন কবর জিয়ারতের সময় তিনি দেখতে পান, কেউ তার বাবার কবরের পাশে মাটি খুঁড়ে নিয়ে গেছে। এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করলে প্রতিবেশী লাবু মিয়া, বাবু মিয়া, চাঁন মিয়া ও দুলাল মিয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা আব্দুল খালেককে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং বাবু মিয়া খন্তি জাতীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকারে বড় ভাই আব্দুস সালেক ও মহুবুল এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে আব্দুল খালেক মারা যান। নিহতের পরিবার জানায়, আব্দুল খালেকের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন এবং হামলাকারীদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। স্থানীয় ডাঙ্গীরহাট এলাকায় হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম মাস্টার বলেন,আমাদের এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা সবাই হতবাক। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।
হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আমির আলী বলেন,নিহত খালেক একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত কবর জিয়ারতে আসতেন। কবরের পাশে মাটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তার দুই ভাইও আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী নুরন্নাহার নামে এক দোকানদার জানান,আমি দোকান খোলার পর দেখি বাবু ও লাবু খালেককে মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছে। বাবু খন্তি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রংপুরের এএসপি(এ সার্কেল)সঞ্জিত কুমার সরকার বলেন,ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয় সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পোস্টমর্টেম শেষে নিহতের মরদেহ নিজ বাড়িতে আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি