আজ শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 238

সুপ্ত আকাঙ্ক্ষায় গুপ্ত স্বৈরাচার ওত পেতে আছে, ঐক্যবদ্ধ হোন : তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, প্রতি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী আপনারা যারা নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সমর্থন পেতে গণসংযোগ করছেন, আপনারা সবাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহীদ জিয়ার অনুসারী, খালেদা জিয়ার সৈনিক, বিএনপির কর্মী, ধানের শীষের সমর্থক। মনে রাখবেন, ধানের শীষ জিতলে আপনি জিতেছেন বা জিতছেন বা জিতবেন। বিজয়ী হবে দেশ এবং গণতন্ত্র।

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি অমর্যাদা হয়, দেশ এবং জনগণের জন্য মাদার অব ডেমোক্রেসির অবদান প্রশ্নবিদ্ধ হয়; আপনারা এমন কোনো আচরণ দয়া করে করবেন না। সারাদেশে বিএনপির লাখো-কোটি সমর্থক বিব্রত হয় আপনারা কেউ এমন কোনো আচরণ দয়া করে করবেন না। আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকুন। জনগণকে সঙ্গে রাখুন। আপনাদের সামনে আমি সেই স্লোগানটি উচ্চারণ করতে চাই, ‘ভোট দিলে ধানের শীষে দেশ গড়ব মিলে-মিশে।’

তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময় নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করবেন। জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভব সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের তিনশ সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কিংবা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

জনসমর্থিত দল হওয়ার কারণে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, করাটাই স্বাভাবিক। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি অবশ্যই গৌরব এবং সম্মানের। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেককে প্রতিটি মানুষকে নিশ্চয়ই মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়।

রাজপথের শরিকদেরও প্রার্থী করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে রাজপথের সঙ্গী ছিলেন এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে কিছু সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন।

বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতাটিকে মেনে নেবেন দয়া করে। দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন। আপনাদেরকে আমি আবারও স্বাধীনতার ঘোষকের সেই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’।

তারেক রহমান বলেন, শুধু বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিগত ১৫ বছরে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। উদ্বেগ এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশেও বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার এবং অপকৌশল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের শাসন আমলে জনগণের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনোই আগ্রহ ছিল না। আর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জনমনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা বাড়ছে যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে? কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে সৃষ্ট সংশয় সন্দেহ গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে হয়তোবা সংকটপূর্ণ করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে একদিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকারকেও যতটুকু সম্ভব আমাদের অবস্থান থেকে আমরা সহযোগিতা করে আসছি।

অথচ আমরা দেখছি, সমগ্র দেশবাসী দেখেছেন, প্রতিনিয়ত একের পর এক নিত্য নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে যেভাবে গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে। এর পরিণীতি সম্পর্কেও আমাদের সতর্ক থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।

কৌশল-অপকৌশলে পার্থক্য বুঝতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৌশল এবং অপকৌশলের মধ্যে আমরা পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হলে কোনো অগণতান্ত্রিক কিংবা অপশক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত বিনা শর্তে আত্মসমর্থনের পথে হাঁটতে হয় কিনা বাংলাদেশের এ মুহূর্তে মাঠে থাকা সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন বিপদের কথাও স্মরণ রাখার জন্য আমি বিনীত অনুরোধ জানাই।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রবাসী ভোট প্রক্রিয়া আরও সহজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাস থেকে এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির কারণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি কারো কারো কাছে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবুও প্রবাসীদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ চালু করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানাই।

দেশে নারীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তারেক বলেন, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিষয়টি হয়তো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে একজন মায়ের সন্তান হিসেবে, একজন নারীর স্বামী হিসেবে, একজন কন্যা সন্তানের বাবা হিসেবে বলছি। দেশে এবং বিদেশে আমাদের জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সমাজের উদাসীনতা ইদানীং মনে হয় একটু প্রকট হয়ে উঠছে অথবা কোথায় যেন কী একটা সন্দেহ দোলা দিয়ে উঠছে। গতকালকের একটি পত্রিকায় একটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে, সেই রিপোর্টে দেখলাম, গত আগস্ট মাসে সারাদেশে ৯৩ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। এর ভেতর সাতজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে ৮৯ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।

নারী এবং শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ নিশ্চয়ই সভ্য সমাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। আমি শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহিলা দল নয়, মহিলা দলসহ বাংলাদেশের সচেতন নারী সমাজসহ সবার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে আমাদের কন্যা-মা-বোনদের সঙ্গে কথা বলুন, তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রস্তাব তৈরি করুন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় রাষ্ট্র অবশ্যই উদাসীন থাকতে পারে না। সরকার এবং প্রশাসন অবশ্যই ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আজ নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গঠনে যেকোনো অবস্থান বা ভূমিকা রাখা। নারী এবং শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ নভেম্বর ২০২৫/মওম

বিসিবির ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী পরিচালক হলেন রুবাবা দৌলা!

ক্রিকেট, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদে নতুন পরিচালক হিসেবে যুক্ত হলেন করপোরেট দুনিয়ার পরিচিত মুখ ও নারী ক্রীড়া সংগঠক রুবাবা দৌলা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তাকে কাউন্সিলর মনোনীত করে সোমবার বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায়। তার অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ এখন সম্পূর্ণ হলো।

এনএসসির মনোনীত কাউন্সিলর সাধারণত দুজন থাকেন। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনের পর এনএসসি যাদের মনোনয়ন দিয়েছিল, তাদের একজন ইসফাক আহসানকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আজকের এনএসসির চিঠিতে জানানো হয়, ইসফাক আহসান পদত্যাগ করায় তার স্থলেই রুবাবাকে মনোনীত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রুবাবার কর্মস্থলের কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি এত দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। বর্তমানে রুবাবা দৌলা বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বে থাকার সময় থেকেই তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষভাবে পরিচিত।

২০০৭ সালে বিসিবির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। করপোরেট অঙ্গনের পাশাপাশি রুবাবার রয়েছে দীর্ঘ ক্রীড়া-অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন এবং একই সময়ে বাংলাদেশ স্পেশাল অলিম্পিকসের বোর্ড সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

তিন বছরের ঘুমন্ত তোহার বুকে ছুরি চালিয়ে আত্মগোপনে বাবা

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
সাহিত্যের ভাষায় শনিবার রাতটা ছিল অন্য সব রাতের মতোই শান্ত, নিশ্চুপ। মা-বাবার মাঝখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল তিন বছরের ছোট্ট তোহা খাতুন। সে জানতো না, এই ঘুমটাই হবে তার সারাজীবনের ঘুম। যে বাবা একদিন কোলে তুলে আদর করতেন, সেই বাবার হাতের ছুরিই কেটে এফোঁর-ওফোঁর করে দিলো তোহার বুক- নিভিয়ে দিলো এক নিষ্পাপ প্রাণের প্রদীপ। ২ নভেম্বর শনিবার রাত ১০ টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাইতকাই গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত তোহা ওই গ্রামের মুক্তার আলী ও রুমি আক্তার দম্পতির আদরের কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তার আলী প্রায় এক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। পরিবার থেকে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নানা জায়গায় নিয়ে গেলেও খুব একটা উন্নতি হয়নি। ঘটনার রাতে হঠাৎ তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিঃশব্দ ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত মেয়ের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুরি দিয়ে দুই জায়গায় স্বজোরে আঘাত করেন। একটি বুকে, আরেকটি পেটে। মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় ছোট্ট তোহার দেহ। তার ক্ষতবিক্ষত শরীর থেকে বেরিয়ে আসে নাড়িভুঁঁড়ি। এ এক বিভীষিকাময় দৃশ্য-যা দেখে মূর্ছা যান মা রুমি আক্তার। চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান- কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তোহা আর বেঁচে নেই। এদিকে শান্ত কাইতকাই গ্রামের মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, একজন বাবা এমন নিষ্ঠুর হতে পারেন! তোহার নিথর দেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা রুমি আক্তার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
কেউ কেউ বলছেন, তোহার মুখের হাসিটা এখনো চোখে ভাসে। কেউ আবার নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে, যেন প্রশ্ন ছুঁঁড়ে দিচ্ছে- একজন পিতা কীভাবে নিজের সন্তানের ঘাতক হতে পারে? ঘটনার পরই ঘাতক বাবা মুক্তার আলী পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। খবর পেয়ে ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) সজল খান জানান, ঘটনাটি সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তার আলী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় শিশুটিকে হত্যা করেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ নভেম্বর ২০২৫/মওম

নির্বাচনে দায়িত্বরতদের ওপর ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব এসে পড়েছে: সিইসি

আগামী নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের ওপর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব এসে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

৩ নভেম্বর সোমবার রাজধানীর ভাটারার আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নে (এজিবি) আয়োজিত বাংলাদেশ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর থানা আনসার কোম্পানি, প্লাটুন সদস্যদের আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের (চতুর্থ ধাপ) সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মূল শক্তি আনসার বাহিনীর সদস্যরা। তারাই অধিক সংখ্যায় নিয়োজিত থাকেন। আগামী নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের ওপর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব এসে পড়েছে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে গতিপথ নির্ধারণ হবে সেখানে আনসার বাহিনীর বিশাল একটি ভূমিকা থাকবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকা দশ লাখ লোক ও জেলে থাকা আসামিরাও ভোট দিতে পারবেন বলে জানান সিইসি।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে এবার প্রায় দশ লাখ লোক মোতায়েন হবে। প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রায় দশ লাখ লোক নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যারা নির্বাচনের ডিউটিতে থাকে মূলত তারা নিজেরাই ভোট দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমরা এবার উদ্যোগ নিয়েছি যারা ভোটের ডিউটিতে থাকবেন তারা যেন সবাই ভোট দিতে পারেন। একটি অ্যাপ চালু করা হবে, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন তারা সবাই রেজিস্ট্রেশন করে নেবেন। আপনাদের বাড়ির ঠিকানায় ব্যালট পৌঁছে যাবে। গাইডলাইন অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন।

আইনি হেফাজতে যারা কারাগারে রয়েছেন তারাও এদেশের নাগরিক উল্লেখ করে সিইসি বলেন, তারাও যাতে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এছাড়াও প্রবাসীও এবার ভোট দিতে পারবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার  আরও বলেন, ভবিষ্যতের জন্য কি বাংলাদেশ রেখে যাবো, কোন ধরনের বাংলাদেশ রেখে যাবো, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রেখে যাবো কিনা, কীভাবে রেখে যাবো— তা নিয়ে আমাকে সারাক্ষণ ভাবায়। এটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে রুটিন দায়িত্ব হিসেবে নেইনি, চাকরি হিসেবে নেইনি, এটাকে আমি নিজের দায়িত্বের মিশন হিসেবে নিয়েছি। আমি গতানুগতিক ধারার কাজে বিশ্বাসী নই উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিশেষ করে এই ধরনের সংকটময় মুহূর্তে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় দেশ যখন রয়েছে, এখানে গতানুগতিক ধারায় কাজ করলে হবে না। আউট অব দ্যা ওয়েতে গিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। মেসেজটা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এটা দিয়ে শুরু হোক সচেতনতা কার্যক্রম। ইসিতে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি সেল খুলেছি, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্য মিথ্যা যাচাই করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ নভেম্বর ২০২৫/মওম

ধামরাই থেকে নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের লা*শ উদ্ধার

মামুন আহমেদ জয় : ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকার অটোরিকশা চালক হুমায়ুন কবির (৪০) নিখোঁজের চার দিন পর সাভারের নদীর পাড় থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো তিনি ২৮ অক্টোবর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে তার স্ত্রী গেলাপী আক্তার ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৫৫৯) করেন।

পরে ২ নভেম্বর দুপুরে সাভার মডেল থানার পুলিশ বাশপট্টি নদীর পাড় এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে স্বজনরা গিয়ে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার থেকে জিডি করা হয়েছিল। সাভার থানা এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের পর ধামরাই থানা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ডা. জহিরুল হক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা

তৌহিদুল ইসলাম সরকার, কিশোরগঞ্জে-শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসাপতালের মেডিসিন বিভাগীয়  প্রধান  ডা. মো. জহিরুল হক সহযোগী অধ্যাপক হতে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হওয়ায় হোসেন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক হোসেন স্পেশালাইজড হসপিটালের পক্ষে থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় আভিনন্দন জানানো হয়।

রবিবার (২ নভেম্বর) বিকালে স্টেশন রোড হোসেন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক হোসেন স্পেশালাইজড হসপিটালে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে-

উপস্থিত ছিলেন- ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সাদেক মো.আরাফাত খাঁন হোসেন, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক হোসেন স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার আসাদুল হক,  ড.মাহাবুবুল অলম সুমন, ড.অতিকুর রহমান আতিক, ড.নাঈমা ইসলাম খাঁন, হোসেন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক উপদেষ্টা আতাউল হক সিদ্দিকী শামীম, জেনারেল ম্যানেজার মো. কাউসার, মারর্কেটিং  ম্যানেজার  মো. সাইফুল ইসলাম সুজন, হোসেনপুর কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি  মো. তাজুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আরও শক্তিশালীভাবে পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পারমাণবিক স্থাপনা ‘‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে’’ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির পারমাণবিক সংস্থা পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে তেহরান এবং ওয়াশিংটনকে স্থবির কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ওমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।  রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির পারমাণবিক সংস্থা পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন, তেহরান ধ্বংসপ্রাপ্ত সব স্থাপনা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে নির্মাণ করবে।

তিনি বলেন, ভবন ধ্বংস করে আমাদের অগ্রগতি রোধ করা যাবে না। ইরানি বিজ্ঞানীরা এখনও প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্ঞান এবং দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানাননি পেজেশকিয়ান।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছিলেন, যদি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়, তাহলে তেহরান সেগুলো পুনর্নির্মাণ করবে। গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার মধ্য দিয়ে চিরবৈরী ইরান-ইসরায়েলের মাঝে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সূচনা হয়। এতে পারমাণবিক এবং সামরিক স্থাপনাসহ আবাসিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ইসরায়েল। হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হন।

হামলার প্রতিশোধে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানও। পরে ইরান-ইসরায়েলের এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েলি সৈন্যরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি জানায়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।

গত জুলাইয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, ইরানে সৃষ্ট ক্ষতি ছিল গুরুতর ও ভয়াবহ।ইরানের ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী ওমান শনিবার তেহরান এবং ওয়াশিংটনকে পুনরায় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। এর মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার বাহরাইনে আয়োজিত আইআইএসএস মানামা সংলাপ সম্মেলনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি বলেছেন, আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি। রবিবার ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, তেহরান কূটনীতি পুনরায় শুরুর বিষয়ে বার্তা পেয়েছে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানাননি তিনি।

চলতি বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা আলোচনার আয়োজন করেছে ওমান। ষষ্ঠ দফা শুরু হওয়ার তিন দিন আগে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘‘স্ন্যাপব্যাক’’ প্রক্রিয়া চালু করায় এই নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসে।

সূত্র: এএফপি।

আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

বাংলাদেশের শত্রুরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষ বার বার চিন্তা করছে কী হবে, কী হতে পারে। বাংলাদেশের শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। যতই সময় যাচ্ছে ততই বাংলাদেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রোপাগান্ডা এবং মিথ্যাচার করে দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া চলছে।

২ নভেম্বর রবিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে রেখেছিল। সেই অবস্থা থেকে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। ইতিহাসে শুরু হয় বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং দ্রুতই দেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যান, যেখানে পূর্বে যেভাবে বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হতো, সেখান থেকে তিনি দেশকে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে তুলে ধরেন। তার আমলেই শুরু হয় বাংলাদেশের পুনর্জাগরণ- একটি ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অকুতোভয় সেই সামরিক কর্মকর্তা ঘোষণা দেন- ‘I hereby declare the independence of Bangladesh.’ এর পরের পাঁচ বছর ছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তখন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল। সেই সময় বাংলাদেশে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি  এবং অপশাসনের কারণে ১৯৭৪ সালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। তৎকালীন অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে অবস্থার পরিবর্তন ঘটান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি প্রথম রাজনৈতিক সংস্কারে হাত দেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে নিয়ে আসেন বহুদলীয় গণতন্ত্রে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, নিষিদ্ধ হওয়া পত্রিকা পুনরায় চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন, গঠন করেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। অর্থনীতিতে তিনি সূচনা করেন নতুন যুগের। তার হাত ধরে গড়ে ওঠে গার্মেন্টস শিল্প, বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার মাধ্যমে রেমিট্যান্স আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। নারী শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে তিনি নেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিতে বিপ্লব ঘটে তার খাল খনন কর্মসূচি, উচ্চফলনশীল বীজের আমদানি এবং সার ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে। শিল্পে তিন শিফটে উৎপাদন শুরু হয় কর্মসংস্থান বাড়ে, নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়— দেশ তখন এক কর্মযজ্ঞে মেতে ওঠে।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবুও তার দর্শন, তার আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার প্রদত্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন কখনো পরাজিত হয়নি। আর তাই বিএনপিও পরাজিত হয়নি, বার বার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, আজ তারই উত্তরসূরি তারেক রহমানও সুদূর প্রবাস থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছিল, সেটিই আজ অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান- জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমরা এ দিনটিকে স্মরণ করি। কারণ এর মধ্য দিয়েই জেগে ওঠে জাতির চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই দর্শনকে সামনে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব- গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পথে।

আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

মানিকগঞ্জে ইয়াবাসহ এক যুবক গ্রেফতার

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। ১ নভেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকার সিক্স স্টার প্লাজা সংলগ্ন সেলিনার পরিত্যক্ত টিনের ঘরের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রবিবার দুপুরে তাকে আদালতের প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত কামরুজ্জামান খান আদর (২৪),সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের পাঞ্জনখাড়া গ্রামের মৃত তারেকুজ্জামানের ছেলে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আদরকে গ্রেফতার করা হয়। তার প্যান্টের পকেট থেকে দুটি জিপার ব্যাগে রাখা ৫৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ হাজার টাকা। আদর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক মামলা রয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ জানান, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ কামরুজ্জামান খান আদরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর থানায় একটি মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম

শেষ পর্যন্ত ‘শাপলা কলি’ প্রতীক মেনে নিল এনসিপি

আলোকিত ডেস্ক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মেনে নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল হক মুসা।

০২ নভেম্বর রবিবার সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিকেল ৩টায় তার দপ্তরে প্রবেশ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জহিরুল হক মুসা।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন শাপলা কলি সহ কয়েকটি প্রতীক যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এনসিপি ইসির তালিকা থেকে প্রতীক পছন্দ করে আজকে একটা আবেদন দিয়েছে। এরমধ্যে প্রথমে আছে শাপলা, দ্বিতীয়তে আছে সাদা শাপলা এবং তৃতীয় শাপলা কলি আছে। সেক্ষেত্রে শাপলা কলি পেলে এনসিপি মেনে নেবে বলেনও জানান তিনি।

এনসিপি নেতা জহিরুল ইসলাম মুসা তাদের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা, সাদা শাপলা এবং শাপলা কলি’ বেছে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, শাপলা, সাদা শাপলা ও শাপলা কলি এখন আমাদের পছন্দ। এর জন্য আমরা আবেদন করেছি। এনসিপির প্রতীক শাপলা কলি বিবেচনায় নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এ বৈঠক হচ্ছে। বার বার দাবি করলেও ইতোমধ্যে কোনো দলকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘শাপলা’ প্রতীক ইসির নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে না থাকায় এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার  নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শাপলা কলি যুক্ত করা হয়েছে। অথচ এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে শাপলাকে দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি জানিয়ে আসছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০২নভেম্বর ২০২৫/মওম