আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 233

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন

খেলাধুলা ডেস্ক, দুই ম্যাচের টেস্ট আর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা।

টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে আজ সিলেটে সুরমা নদীর তীরবর্তী ১৫১ বছর পুরনো ঐতিহাসিক আলী আমজদের ঘড়ি ঘরের সামনে ও ঐতিহাসিক ক্বিন ব্রিজের পাশে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের আসন্ন টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন করা হলো। রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরীর ক্বিন ব্রিজের পাশে ট্রফি উন্মোচন করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক এন্ডু বার্লবির্নি।

ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়াও সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে শহরের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোই মূল উদ্দেশ্য। ট্যুরিজমের সাথে ক্রিকেটকে পরিচয় করিয়ে দিতে এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

১৮৭৪ সালে নির্মিত এই ঘড়িঘর সিলেটের প্রবেশদ্বার, কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে অবস্থিত। সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান তার ছেলে আলী আমজদের নামে ঘড়িটি নির্মাণ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে মিছিলের শহরে পরিণত টাঙ্গাইল

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে টাঙ্গাইল এখন এক প্রাণচঞ্চল রাজনৈতিক শহরে পরিনত। প্রায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল মিছিল, শোভাযাত্রা, পথসভা আর মোটরসাইকেল শোডাউনে সরব হয়ে উঠেছে পুরো শহর। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট, মোড়, দোকানের ছাউনি, এমনকি গৃহস্থ বাড়ির দেয়ালও। স্থানীয়দের ভাষায়- ‘টাঙ্গাইল এখন মিছিলের শহর’।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল। এ তিন নেতার পক্ষেই প্রতিদিন শহরজুড়ে চলছে কর্মী-সমর্থকদের শোডাউন। মিছিল, মানববন্ধন, দোয়া মাহফিল ও পথসভা এখন টাঙ্গাইলের নিত্যদিনের চিত্র।

টাঙ্গাইল শহরের নিরালার মোড়, শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান, প্রেসক্লাব চত্তর, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কলেজপাড়া, বেবি স্ট্যান্ড ও জেলা সদর মসজিদ রোড এলাকা এখন কার্যত রাজনীতির পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রতি রাতে দলীয় কর্মীরা পোস্টার লাগাচ্ছে, সকালে আবার অন্য প্রার্থীর সমর্থকরা নতুন পোস্টার সাটাচ্ছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘দেওয়ালই এখন ভোট চায়!’
শহরের বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেল মিছিল প্রতিদিনই চলছে। পোস্টার-ব্যানারে লেখা হচ্ছে ‘টাঙ্গাইলের প্রিয় মুখ টুকু ভাই- ধানের শীষের টিকিট চাই’, ‘মাঠের নেতা ফরহাদ ভাই- ত্যাগী নেতার মনোনয়ন চাই’, ‘যুবশক্তির বিকল্প নাই- সাতিল ভাইয়ের যোগ্য কেউ নাই’ ইত্যাদি ইত্যাদি নানা স্লোগান।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে টাঙ্গাইলে বিএনপির রাজনীতিতে এখন তিনটি শিবির স্পষ্ট। এরমধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তিনি জাতীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি। পরে কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি হন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তাঁর অনুসারীরা প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, দোয়া মাহফিল ও পথসভা আয়োজন করছেন। সদর উপজেলার ১২টি ইউনিনের একই সঙ্গে নানা স্থানে কর্মসূচি পালন করছেন। টুকুর সমর্থকদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অভিজ্ঞ এবং জনবান্ধব হিসেবে টুকুই এখন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের যোগ্য প্রার্থী।

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ছাত্র জীবন থেকে তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির ধারক-বাহক। তাঁর পক্ষে শহরে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। আইনজীবী হিসেবে পেশাগত পরিচিতির পাশাপাশি দলের দীর্ঘ সংগঠনিক ভূমিকার কারণে তিনি মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন। শহর ছাড়াও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বিশেষ করে চরাঞ্চলে তাঁর জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়। এরআগেও তিনি একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কিন্তু দলের প্রার্থীর পক্ষে সরব থেকেছেন। বিগত ১৭ বছরে হামলা-মামলা ও শত নির্যাতন-কারাভোগ করেও তিনি দলীয় কর্মসূচি থেকে বিচ্যূত হননি। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সমর্থকরা প্রতিদিন মিছিল, ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করছেন। তাঁদের দাবি, ‘যাঁর ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্ন জাতীয়তাবাদী ঘরাণার রাজনীতি, তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেলে মানুষ রাজনীতি করবে কেন? এবার ফরহাদ ইকবালই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম পছন্দ বলে বিবেচিত হয়ে দলের মনোনয়ন পাবেন’।
এদিকে, খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তাঁর নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন শহরের মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। বিগত সময়ে তিনি জীবন বাঁচাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ‘সাতিল ভাই তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক, তিনিই পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর’।

টাঙ্গাইল শহর ঘুরে দেখা গেছে, এ তিন প্রার্থীর পক্ষে তাদের অনুসারীরা প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন এলাকায় শোভাযাত্রা, পথসভা ও মিছিল করছে। শহরের প্রতিটি এলাকায় এ তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীর পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। দোকানের টিনের ছাউনি, দেয়াল, সেতু, এমনকি বৈদ্যুতিক খুঁটিও বাদ পড়েনি। শহরের বেবি স্ট্যান্ড মোড় থেকে নিরালার মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় টানা ব্যানার-ফেস্টুনে অনেক দোনের সাইনবোর্ডও আড়াল হয়ে গেছে। ব্যানার টানানো এবং মোটরসাইকেল শোডাউন এখন নিত্যদিনের চিত্র। শুধু শহরই নয় সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলেও শোভা পাচ্ছে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন। এসব এলাকার প্রায় চা-স্টলেই চলছে বক্সে পছন্দের প্রার্থীর গান আর সামাজ মাধ্যমে প্রচারিত মিছিল-সমাবেশে প্রিয় নেতার দেওয়া বক্তৃতা।
টাঙ্গাইল শহরের কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রতিদিন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে ব্যবসার কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদেরও তো রাজনীতিটা করতে হবে- তাই তারা কিছু মনে করেন না। তবে রাস্তা আটকে কর্মসূচি পালনের কড়া সমালোচনা করেন তারা। তাদের মতে, ব্যস্ততম সড়ক আটকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুন বেড়ে যায়। টাঙ্গাইল শহরটি জনবসতির তুলনায় অত্যন্ত ছোট। প্রধান প্রধান সড়কে এমনিতেই প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। তার উপর রাস্তা আটকে বা রাস্তার উপর কর্মসূচি পালন করলে ভোগান্তির অন্ত থাকেনা- এতে সাধারণ মানুষ আগ্রহী হওয়ার বদলে বিরক্ত হন। তবে শহরটা রাজনীতি মুখর হয়ে উঠেছে- এ আনন্দও আছে।

অন্যদিকে, কলেজছাত্র শামীম হোসেন, ইশতিয়াক আল মামুন, রাজিব বড়ুয়া, গৌতম কর্মকার, রাজিয়া আক্তার, মৌসুমী খন্দকার, দীপলী চক্রবর্তী, বর্ষা রাণী দাস সহ অনেকেই জানান, তারা যারা নতুন ভোটার তাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা শিহরণ জাগাচ্ছে। কবে তারা ভোট দিতে পারবেন- এই আশায় আগ্রহ নিয়ে প্রহর গুণছেন। তাদের কাছেও বিএনপির দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি আগ্রহের। তারা তীক্ষ্মদৃষ্টিতে প্রার্থীদের কর্মসূচিগুলো বিশ্লেষণ করছেন এবং দৃষ্টি রাখছেন। কে মনোনয়ন পাবেন- সেটা দেখার অপেক্ষা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি এখনো টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণা করেনি। তবে প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থীই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। টাঙ্গাইল বিএনপির এই তিন শীর্ষ নেতাই দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কেন্দ্র থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না এলেও, সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছেন। এরই অংশ হিসেবে শহরে চলছে প্রার্থীদের শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। মনোনয়ন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

জেলা বিএনপির ৩-৪ জন সিনিয়র বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি এখন অনেক সক্রিয়। কেন্দ্র যদি সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে প্রার্থী ঠিক করে- তাহলে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি এমন প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছে। একদিকে এটি সংগঠনের পুনর্জাগরণ ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে ভেতরে বিভক্তির ঝুঁঁকিও তৈরি করতে পারে।
জেলার এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তবে নেতারা যদি সেটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখেন- সেটি বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক হবে।
টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষে মধ্যে এই রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে ‘গণতন্ত্রের উচ্ছ্বাস’ বলে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ শহরের যানজট, শব্দদূষণ ও ব্যানারে ভরা রাস্তাকে বিরক্তিকর বলছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা নাজমা বেগম, খাদিজা আক্তার, ইশরাত জাহান সহ অনেকেই জানান, আগে শহরটা শান্ত ছিল। এখন প্রতিদিন হর্ন, স্লোগান- কখনও ভালো লাগে, কখনও বিরক্তিও লাগে। তবে তরুণ সমাজের একাংশ মনে করছে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি কর্মীদের আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে

এনেছে। টাঙ্গাইলের রাজনীতি এখন আগের মতো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মিছিল মানেই এখন তাদের শক্তির প্রদর্শন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে টাঙ্গাইল এখন এক ব্যস্ত, উচ্ছ্বসিত ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। কে পাবেন দলীয় প্রতীক ধানের শীষ- এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মানুষ। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আগে শহরের প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি স্লোগান যেন সাক্ষী হয়ে থাকছে- টাঙ্গাইল বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রাণচাঞ্চল্যের।
দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে- মিছিলের এই শহর শেষ পর্যন্ত কার বিজয়ের হাসিতে মুখর হবে।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, পুলিশের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে- সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রকাশ, গত ৬ নভেম্বর(সোমবার) বিকালে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। শুধুমাত্র টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

এমনভাবে আঘাত করেছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না!

বিনোধন প্রতিবেদক, ভারতের দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার তেলেগু ছবি ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছে তিনি। মুক্তির প্রথম দিনে ১.৩ কোটি রুপি আয়ের পর, দ্বিতীয় দিনে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবসা করেছে ছবিটি। দ্বিতীয় দিনে আয় হয়েছে প্রায় ২.৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে প্রথম দুই দিনে ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩.৮ কোটি রুপির বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, দর্শকদের ‘ওয়ার্ড-অফ-মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচার এবং রাশমিকার আবেগঘন অভিনয়ের কারণেই এমন সাফল্য পেয়েছে ছবিটি।

মুক্তির দ্বিতীয় দিনে হলগুলোতে ৩০.৭৯ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড করেছে ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’। সকালের শো কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হলেও, দিনের সঙ্গে সঙ্গে গতি বেড়েছে। সকালে উপস্থিতি ছিল ১৭.৩২ শতাংশ, যা দুপুরে বেড়ে হয় ৩৩.৪৪ শতাংশ। সন্ধ্যায় এটি আরও সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩.৮৪ শতাংশে। তবে ছবিটি বক্স অফিসে তার আসল ঝলক দেখিয়েছে রাতের শো-গুলোতে, যেখানে দর্শক উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ ৩৮.৫৫ শতাংশ। সপ্তাহের শেষে দর্শক সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে এখন।

ছবিটির সাফল্য ও দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত রাশমিকা মান্দানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘যখন রাহুল (পরিচালক) প্রথমে আমাকে এই গল্পটি শুনিয়েছিলেন, আমার মনে আছে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম তখন। তিনি আরও বলেন, ‘গল্পে এমন অনেক মুহূর্ত ছিল যা আমার মনে এমনভাবে আঘাত করেছিল যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সেই মিটিং থেকে আমি দুটি জিনিস নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম একটি চিত্রনাট্য, যা আমার কাছে ছিল ‘না করলে পাপ হবে’ এমন কিছু, আর একজন বন্ধু।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

পদত্যাগ করে ঢাকার ১০ আসনে নির্বাচন করবো: উপদেষ্টা আসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা থেকেই নির্বাচন করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ৯ নভেম্বর রবিবার কুমিল্লা-৩ আসনের বদলে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হতে ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যেহেতু ঢাকা থেকে নির্বাচন করবো এটা মোটামুটি নিশ্চিত, সেই জায়গা থেকেই নিজের ভোটটা ঢাকায় নিয়ে আসা। কারণ, ভোটটা যাতে অপচয় না হয়। আমি যদিও ভোটার হয়েছি আগে, কিন্তু কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। আমি ভোটার হওয়ার পর দু’টি নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে। আপনারা সবাই জানেন এই সময়ে কেউ ভোট দিতে পারেনি। এই নির্বাচনে যাতে ভোট দিতে পারি, সেটি নিশ্চিত করালাম।

ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করার গুঞ্জন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কোথা থেকে করবো এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ঢাকা থেকেই করবো ইনশাআল্লাহ। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা স্বতন্ত্র নির্বাচন করার, তারপরও দেখা যাক কী হয়। আমার কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। কোন রাজনৈতিক দল কোন আসন ফাঁকা রাখলো কি রাখলো না, সেটি আমার দেখার বিষয় না। আমি আমার সিদ্ধান্ত এককভাবেই নেবো।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সরকার থেকে পদত্যাগ করে ধানমন্ডি এলাকায় থাকার পরিকল্পনা আছে। সেই জায়গা থেকেই যেখানে থাকব, সেখানেই ভোটার হওয়া। নির্বাচন করার জন্য কোথায় ভোটার হলেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ না, দেশের নাগরিক ও ভোটার হলেই যথেষ্ট। এই জায়গা থেকেই ঢাকায় ভোটার হওয়া, যাতে নির্বাচনের সময় আমার ভোটটা অপচয় না হয়।

কবে নাগাদ পদত্যাগ করতে পারেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই বলছি আমি নির্বাচন করবো। তবে কবে নাগাদ পদত্যাগ করবো সেটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নিভর করছে। সে বিষয়ে দ্রুতই জানাবো।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সরকার জনগণকে নিয়েই ভাবছে। বিচার, সংস্কার, গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে সমানভাবেই এগিয়ে চলছে। বিচারের বিষয়ে এ মাসের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। আর সংস্কার কার্যক্রম চলমান। নির্বাচন নিয়ে সরকার খুব স্পষ্ট।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

কালিয়াকৈরে চৌধুরী ইরাদ আহম্মেদ সিদ্দিকীর সংবাদ সম্মেলন

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে  রোজ রবিবার   (০৯/১১/২০২৫ ইং)  সকাল এগারটায় কালিয়াকৈর উপজেলার  হাইটেক রেলস্টেশনে  সংবাদ সম্মেলন করেন গাজীপুর ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব চৌধুরী ইরাদ আহম্মেদ সিদ্দিকী, কালিয়াকৈরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে  গাজীপুর ১ এ বিভিন্ন সমসাময়ীক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।” রাজনীতিঃ তুমি কি পথ হারাইয়াছ?”
শিরোনামের  ব্যাখ্যা করে বিশদ আলোচনা করেন। রাজনীতি এবং  গাজীপুর ১ এর রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্য দিয়ে  নিজেকে সবচেয়ে বেশিই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে আরও বলেন আমাকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কুলে নিয়েছেন, আদর করেছেন, এবং দোয়া করেছেন, আমাদের চৌধুরী পরিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের সাথে সবসময়ই পারিবারিক, রাজনৈতিক  সুসম্পর্ক রয়েছে, তাই আমাদের জমিদার পরিবারেই মনোনয়ন পাবে বলে আশাব্যাক্ত করেন, ওনি ( চৌধুরী ইরাদ আহম্মেদ সিদ্দিকী)  নিজের ভাইয়ের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা করে   দীর্ঘ সময়  আলোচনা করে সাংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি করেন ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আইএমএফের প্রতিনিধি দলের সাথে বিএনপির বৈঠক

আলোকিত ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৯ নভেম্বর রবিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাডভাইজার টু দ্য বাংলাদেশ মিশন চিফ ক্রিস পাপাজর্জিউ। বিএনপি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপি প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো.ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

শায়রুল কবির জানান, বৈঠকে আইএমএফের চলমান মিশনের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনের প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল, মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হরমোনাইজেশন এবং ছাড় হ্রাস বা বিলোপের নতুন টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (টিএ), কর্পোরেট কর বৃদ্ধি করে জিডিপি-টু-ট্যাক্স রেভিনিউ অনুপাত উন্নত করা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং সামাজিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। যা বিএনপির নীতি অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে বৈঠকে বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়।

বিএনপি প্রতিনিধিদল জোর দিয়ে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আর্থিক খাত, কর ব্যবস্থা এবং সামাজিক খাতের সংস্কার জরুরি। তারা বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে একটি জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।

আইএমএফ প্রতিনিধি দল বিএনপির প্রস্তাবিত নীতি-অগ্রাধিকার এবং সংস্কারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

পুতিনের নির্দেশে পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে : ল্যাভরভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে সম্ভাব্য রুশ পারমাণবিক পরীক্ষার বিষয়ে প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। ৮ নভেম্বর শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এ খবর জানিয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এখনও তার পদে বহাল আছেন। লাভরভ তার পদে আছেন কিনা, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে জোর জল্পনা চলছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মাকিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

তাসের প্রতিবেদনে ল্যাভরভ বলেন, ‘৫ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর ওপর কাজ চলছে। ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে।’

এই নির্দেশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণার পর, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও পারমাণবিক পরীক্ষা চালু করবে।

তাস আরও জানিয়েছে, ল্যাভরভ বলেছেন, রাশিয়া এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই নির্দেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনও ব্যাখ্যা পায়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার পথে অগ্রগতি না হওয়ায়, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন এবং জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

গত বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ল্যাভরভ। এর পর থেকেই তার পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে শুক্রবার ল্যাভরভের অনুপস্থিতি ঘিরে চলা জল্পনাকে কিছুটা শান্ত করতে চেষ্টা করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব প্রতিবেদনের কোনও সত্যতা নেই। ল্যাভরভ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন,কোনও সন্দেহ নেই।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের সচিবালয় মুখী মিছিলে পুলিশের বাধা

আলোকিত  প্রতিবেদক: 

৯ নভেম্বর রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় ঘুরে এসে সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের সচিবালয়ের ৫ নং গেটের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

বাধা দেওয়ার পর শিক্ষকদের ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয় যান। সদস্যরা হলেন— বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইলিয়াস রাজ, মুখ্য সমন্বয়ক গাউসুল আজম শীমু, সাধারণ সম্পাদক মোছা. রিমা খাতুন, সমন্বয়ক এম এ সালাম, মো. আসাদুজ্জামান, অ্যাড. আনোয়ার হোসাইন।

শিক্ষকদের দাবিগুলো নিম্নরূপ:

১. অনতিবিলম্বে সব বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি এবং এমপিওভুক্তি সুনিশ্চিত করতে হবে।

২. সব বিশেষ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী বান্ধব অবকাঠামো সুনিশ্চিত করতে হবে।

৩. বিশেষ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃদ্ধি ৩ হাজার টাকা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. শিক্ষার্থীদের মিডডে মিলসহ উচ্চ উপকরণ, খেলাধুলা সরঞ্জাম প্রদান এবং থেরাপি সেন্টার বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫. ছাত্র-ছাত্রীদের ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামের আওতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করতে হবে এবং চাকরি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ধারিত কোটা সুনিশ্চিত করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার 

রাহাত সরকার:
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল  উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৫ আগস্টের আগে বৈষম্য  বিরোধী আন্দোলনের সময় মধুপুর উপজেলার ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও হত্যা চেষ্টা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর আলম খান, ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবিদ হাসান, রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, ধলাপাড়া ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, মধুপুর থানার পুলিশ মামলার আসামিদের ধরতে আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা আসামি ধরতে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করি।
আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম

বিএনপি ক্ষমতায় এলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্মানী প্রদান করা হবে: কাজী কায়কোবাদ

নাজমুল হাসান:

বিএনপি ক্ষমতায় এলে যারা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের সম্মানী প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

৮ নভেম্বর শনিবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ইউনিয়ন বিএনপির এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়কোবাদ বলেন, “আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে আজকের শ্রীকাইলের মানুষের উপস্থিতি দেখে। আমি আপনাদের কামলা হয়ে কাজ করতে চাই। মুরাদনগরের গরিব মানুষই আমার নেতা।”

তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন,২০০৮ সালে আমি হজে গিয়েও জয়ী হয়েছিলাম— কারণ আল্লাহ আমার পক্ষে ছিলেন। এবারও আপনাদের ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

জামায়াতের উদ্দেশে কায়কোবাদ বলেন, “যখন শেখ মুজিব বাকশাল করে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। অথচ আজ আপনারা সেই বিএনপিকেই নিয়ে মোনাফেকি করছেন। এটা ঠিক নয়।”

তিনি বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জামায়াতকে ১৮টি আসন দিয়েছিল। কিন্তু তারা এখন বিএনপিকে ভুলে গেছে। আমরা যদি আবার ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের যথাযথ সম্মান এবং সম্মানী প্রদান করা হবে।”

মুরাদনগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মুরাদনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা কিছুই করেনি। সব টাকা চোরের দল মেরে দিয়েছে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। সঞ্চালনা করেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান ও শ্রীকাইল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুনসি, ব্যবসায়ী কাজী জুননুন বসরীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী।

সভায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে শ্রীকাইল কলেজ মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর ২০২৫/মওম