নেত্রকোনায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত
হোটেলের রুমে গোপনে চিঠি রেখে গেলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দেখেই আপ্লুত দীঘি
বিনোদন ডেস্ক:
বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থান করছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। সেখানে হোটেলের রুমে দীঘির অনুপস্থিতিতে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী একটি চিঠি লিখে রেখে যান। প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে লেখা সেই চিঠিটি দেখে রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে চলমান ষষ্ঠ ‘রিয়াদ সিজন’-এর অংশ হিসেবে গত ১১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ কালচার’ পর্ব। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে মঞ্চ মাতানোর কথা রয়েছে দীঘির। এছাড়াও শিল্পী আসিফ আকবর এবং মনির খানও সেখানে অংশগ্রহণ করছেন।
গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দীঘি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর লেখা চিঠিটি প্রকাশ করেন। চিঠিতে শুধু একটি লাইন লেখা ছিল— ‘আপু আপনার সাথে দেখা করতে পারব?’
সামাজিক মাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশ করে দীঘি তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় রিসেপশনে বলে গিয়েছিলাম আমার রুমটা পরিষ্কার করে রাখতে। অনেক কেনাকাটা করে রুমে ঢুকে দেখি আমার টেবিলে একটা ছোট চিরকুট রাখা। সম্ভবত যিনি রুম ক্লিন করেছিলেন, তিনি বাঙালি। এই ডিজিটাল আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কেউ এভাবে একটু দেখা করতে চাচ্ছে, ব্যাপারটা খুব মিষ্টি লাগলো।’
দীঘি আরও বলেন, ‘এই নোটের মাধ্যমে আবারও নতুন করে উপলব্ধি করলাম, ভালোবাসা এখনও চিঠিতে বসবাস করে। আর আমার এমন ভক্তদের জন্য এখনও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাদের এই ভালোবাসাটা আজীবন চলমান থাকুক।’
দীঘির এই পোস্টে মডেল এবং অভিনেত্রী বারিশা হক মন্তব্য করেছেন, ‘অবশ্যই দেখা করা উচিত’।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০২৫/মওম
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা
আলোকিত ডেস্ক:
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিমান এবং নৌ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ইস্যু বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সময় মতোই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গত ১৬ বছরের স্বৈরতন্ত্রের সময়ে টানা তিনটি ‘কাটাছেঁড়া’ নির্বাচনের কারণে তারা ভোট দিতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এবং পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে একটি ‘নতুন সূচনা’ করেছে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী চ্যাপম্যান অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপকেও ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের অপব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আরও বেশি বাংলাদেশিকে বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে উৎসাহিত করছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই নেতা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ক্যাম্পের তরুণেরা আশা-আকাঙ্ক্ষা হারিয়ে ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বঙ্গোপসাগরে গবেষণার জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা জাহাজ কিনছে।
মন্ত্রী চ্যাপম্যান দুদেশের বিমান যোগাযোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক।
সূত্র: বাসস
আলোকিত প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০২৫/মওম
পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করাতে পারছেন না কেন ট্রাম্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুত উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
অপরদিকে ক্রেমলিন তাদের নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোন পরীক্ষা করেছে।
উভয় দেশই বলেছে তারা পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে পারে। উভয় দেশ যে কেবল হুমকি দিচ্ছে এমন না, বরং স্থলভাগেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। বছরের শুরুতে সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও এখন পাল্টে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ ও ‘ভ্লাদিমিরের সঙ্গে শান্তি স্থাপন’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধ এখনো অব্যহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া শান্তি প্রস্তাবের বদলে হুমকি দেয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত কূটনীতিতে ট্রাম্পের বাজি এখনো কেন কাজ করেনি?
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে কিছুটা অগ্রগতির আংশিক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর প্রথমবার ওয়াশিংটন ও মস্কো সরাসরি আলোচনা করে। দুই প্রেসিডেন্ট নিয়মিত ফোনে কথা বলেন এবং গত আগস্টে আলাস্কায় বৈঠক করেন। এ মুহূর্তে উভয় পক্ষের একমাত্র সাফল্য হলো যে সংলাপ অন্তত চলছে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ইউরোপ ও রাশিয়া বিষয়ক সাবেক সিনিয়র ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু পিক বলছেন, “আমরা অন্তত শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলছি—এটাই বড় অগ্রগতি। অবস্থান তুলে ধরা, মত বিনিময় করা, এটাই কূটনীতির ভিত্তি।”
বিশেষ দূত উইটকফ!
ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপরই বেশি ভরসা করেছেন। তিনি তার পুরনো নিউ ইয়র্ক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভ উইটকফকে বিশেষ দূত হিসেবে পুতিনের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেশ কয়েকবার পাঠিয়েছেন। প্রতিটি সফরের পর দুই পক্ষই জানায় তারা সমঝোতার কাছাকাছি চলে এসেছেন।
কিন্তু পররাষ্ট্র নিয়ে যারা কাজ করেন সেসব মহলে উইটকফের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্দেহ আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউরোপের দুই কূটনীতিক বিবিসিকে জানান, উইটকফ প্রায়ই পুতিন ছাড় দেবেন এমন ভুল ধারণা ধরে নিয়ে মস্কো যেতেন কিন্তু পরে হোয়াইট হাউস দেখতো বাস্তবতা তার উল্টো।
রাশিয়ার একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, উইটকফ রাশিয়ার অবস্থানের সূক্ষ্মতা বুঝতে পারতেন না এবং ক্রেমলিনকে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও অসংগত ছিলেন। ফলে উভয় পক্ষই বিপরীত উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছিল।
এ বিভ্রাট আলাস্কার পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সবার সামনেই প্রকাশ পায়। সম্মেলন হঠাৎ সংক্ষিপ্ত করা হয়, কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই। পরে ট্রাম্প এবং পুতিন যখন একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন, তখন তারা যুদ্ধ শেষের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি।
পুতিনের দিক থেকে ন্যূনতম প্রতিশ্রুতিও না পাওয়া ট্রাম্পকে বৈঠকের আয়োজক হিসেবে কঠিন অবস্থায় ফেলে। পর্দার আড়ালে কী হয়েছে তা দুই পক্ষই স্পষ্ট করেনি; ফলে সাংবাদিকরা গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায় ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও বাণিজ্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। পুতিন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ ও পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন এবং একটি “ঐতিহাসিক বক্তৃতা” দেন, যা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করে, বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
ইউরোপের এক কূটনীতিক বিবিসিকে বলেন, “আমেরিকানরা আলাস্কায় অগ্রগতির ঘাটতি দেখে সত্যিই হতাশ হয়েছিল।”
আরেকজন বলেন, তারা ভুল বুঝেছিল রাশিয়ার জন্য যুদ্ধ আসলে কী অর্থ বহন করে। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক রাশিয়া উপদেষ্টা এরিক গ্রিন বলেন, “সম্ভাব্য ছাড় ও বিনিময় নিয়ে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ছিল। অঞ্চল ছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয় ছিল, আর ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু মানুষ বুঝতে পারেনি পুতিন ‘যুদ্ধের মূল কারণ’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন।”
পুতিন কী চান?
মস্কোতে রাশিয়ার সরকারি অবস্থান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খুব একটা বদলায়নি। যুদ্ধ শেষের পুতিনের শর্তগুলো হলো:
♦ পাঁচটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলে রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি
♦ ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থান
♦ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী কমানো
♦ রুশ ভাষার সাংবিধানিক সুরক্ষা
♦ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
রাশিয়া বলছে, একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক চুক্তির পরই যুদ্ধ থামবে। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের কাছে এটি অগ্রহণযোগ্য। তাদের মতে, আগে যুদ্ধবিরতি হতে হবে। অ্যান্ড্রু পিক বলেন, অগ্রগতি করতে হলে তিন বিষয়ে সমঝোতা জরুরি—
♦ ভূখণ্ড
♦ ইউক্রেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
♦ ইউক্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তার মতে, এসব বিষয়গুলির কোনোটিতেই প্রায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ট্রাম্প শুরুতে ভূখণ্ডের বিষয়ে আপোষের ক্ষেত্রে নমনীয় ছিলেন। এপ্রিলেই তিনি বলেন, “ক্রিমিয়া রাশিয়ার মতোই থাকবে,” এবং তার দল ২০১৪ সালে এ অঞ্চলের অধিগ্রহণের স্বীকৃতির সম্ভাবনাও পরখ করেছিল বলে মিডিয়া রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
অক্টোবরে ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠকেও ট্রাম্প ‘অঞ্চল বিনিময়’ প্রস্তাব তোলেন বলে রয়টার্স জানায়। রাশিয়াও কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, দক্ষিণ ইউক্রেনের বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে মস্কো হয়তো সমঝোতা করতে পারে।
তবে তিনি এটাও বলেন, রাশিয়া এখনো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ডনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় যেখানে তারা আংশিক হামলা করেছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, চলমান আলোচনার মধ্যে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়সহ কোনো বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করবে না। কিন্তু কূটনীতিকরা জোর দিয়ে বলেন যে ইউক্রেনের ভূমির উপর নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে জটিল বিষয় নয়।
ইউরোপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্প তার ব্যবসায়িক মানসিকতায় “রিয়েল এস্টেট ডিল” চেয়েছিলেন। কিন্তু পুতিনের কাছে বিষয়টি শুধু ভূখণ্ডের বিষয় নয়—এটা ইউক্রেনের ওপর সার্বভৌমত্বের বিষয়।
অর্থাৎ কিয়েভের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও সামরিক সক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ। মস্কো যথাযথ “নিরপেক্ষতা” এবং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক হ্রাস চায়।
অন্যদিকে কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছ থেকে পোক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে। পিক বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় রাশিয়া একেবারেই নমনীয় না, ২০২২ সালেও, এখনো। এখানে ব্যবধান ভূখণ্ডের প্রশ্নের চেয়ে অনেক বড়।”
‘সময় কেনা’
এই শরতে বুদাপেস্টে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা অচলাবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ফোনালাপের পর ট্রাম্প ও পুতিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে প্রস্তুতির দায়িত্ব দেন।
তারা একবার কথা বলেছিলেন, কিন্তু কোনও বৈঠক হয়নি। ব্লুমবার্গ জানায়, রুবিও বুঝতে পারছেন মস্কোর অবস্থান বদলায়নি।
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায়, রাশিয়া আবারও তাদের বিশাল দাবিগুলো পুনরাবৃত্তি করে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে – যা মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও হতাশ করেছে। ১২ নভেম্বর রুবিও বলেন, “আমরা কেবল বৈঠকের জন্য বৈঠক চালিয়ে যেতে পারি না”।
পরদিন ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া আলোচনায় অনিচ্ছুক—এই অভিযোগ ‘স্পষ্ট মিথ্যা’। তিনি বলেন, মস্কো দ্বিতীয় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের জন্য প্রস্তুত, যদি তা “আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলনের সুপরিকল্পিত ফলাফলের” উপর ভিত্তি করে হয়।
এদিকে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে বেশ জোরেশোরেই চেষ্টা চালিয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প সরাসরি পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছিলেন কিয়েভকে পাশ কাটিয়ে, যা ইউক্রেন ও ইউরোপকে উদ্বিগ্ন করে।
এরপর ট্রাম্প ইউক্রেন বিষয়ে স্বর নরম করেন।
রাশিয়ার বিপরীতে, ইউক্রেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে নমনীয় থেকেছে, যুদ্ধবিরতি ও মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার মার্কিন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। কিয়েভ এবং তার মিত্রদের জন্য, লক্ষ্য ছিল সহজ: ট্রাম্পকে বোঝানো যে পুতিনের কাছে আত্মসমর্পণ ইউরোপীয় এবং মার্কিন নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বিবিসিকে বলেছেন, “আমরা জানতাম যে তিনি অবশেষে বুঝতে পারবেন রাশিয়া সৎ বিশ্বাসে আলোচনা করছে না। আমাদের কাজ ছিল সময় কেনা – এবং এটি কাজ করেছে।”
মস্কো অবশ্য ইউরোপকে দোষারোপ করছে। ল্যাভরভ বলেন, “ইউরোপীয়রা ঘুমোচ্ছে না, তারা এই প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে।”
আলাস্কা সামিটের তিন মাস পরও ক্রেমলিন ও হোয়াইট হাউস কোনো সমঝোতার কাছাকাছি নেই। অক্টোবরে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে প্রথম বড় নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, রাশিয়ার বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বিবিসি পার্টনার সিবিএসকে বলেন, “আমরা যা করছি সবই পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনবে।”
পুতিন নিষেধাজ্ঞাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন, তবে বলেন রাশিয়া চাপের মুখে নীতি বদলাবে না। কিছুদিন পরই মস্কো একটি পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় যা ইঙ্গিত দেয় আলোচনা নয়, বরং নতুন করে শক্তির প্রদর্শন চলছে।
বিবিসি বাংলা
আলোকিত প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০২৫/মওম
স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ইনিংস ও ৪৭ রানে প্রথম টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক:
টেস্টে দ্বিতীয়বার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে মিরপুরে হওয়া প্রথম ম্যাচে সাকিব-মুশফিকরা ৭ উইকেটে জিতেছিল। এবার সিলেট টেস্টে বড় জয়ের ভিত গড়ে তৃতীয় দিনেই। বাংলাদেশ ৩০১ রানের লিড নেওয়ার পর দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৮৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় আইরিশরা। বাকি ৫ উইকেট নিতে টাইগারদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে। ২৫৪ রানে অলআউট হয়ে পরাজিত হতে হলো ইনিংস ও ৪৭ রানে। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
ইনিংস এবং রানের হিসাবে টেস্টে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম জয়। এখন পর্যন্ত টেস্টে তারা চারবার ইনিংস ব্যবধানে জিতেছে। এর আগে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের স্পিন-পেস উভয় বিভাগের দাপটে আয়ারল্যান্ড ২৮৬ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর নিজেদের ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত’র ১০০ এবং সাদমান-মুমিনুল-লিটনের হাফসেঞ্চুরিতে ৫৮৭ রানের বড় পুঁজি দাঁড়ায়।
আইরিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশ লিড নেয় ৩০১ রানের। বড় লিড পার হওয়াই চ্যালেঞ্জ ছিল আইরিশদের জন্য। তৃতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সেটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। আগেরদিন যত দ্রুত খেলা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল চতুর্থ দিনে সেরকম কিছু হয়নি। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার সময় আইরিশরা ৭ উইকেট তোলে ১৯৮ রান। বিরতি থেকে ফিরে আগ্রাসী হয়ে উঠলেও, তাইজুল-মুরাদদের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নেইল-ম্যাককার্থিরা। ২৫৪ রানে গুটিয়ে গেছে আয়ারল্যান্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে আসার পরপরই তিনি নাহিদ রানার কোমরের কিছুটা ওপরের বলে পুল খেলতে গিয়ে শর্ট মিডে মুরাদকে ক্যাচ দিয়েছেন। নবম উইকেট জুটিতে একের পর এক বাউন্ডারিতে ৫৬ বলে ৫৪ রান তোলেন ব্যারি ম্যাককার্থি ও জর্ডান নেইল মিলে। মুরাদের বলে নেইল ফিরতেই সেই জুটি ভাঙে। ৪ বলের ব্যবধানে ম্যাককার্থিও আউট হলে শেষ হয় আয়ারল্যান্ডের রানের দৌড়।
বালবার্নি ৩৮, নেইল ৩৬ ও ম্যাককার্থির ব্যাটে ২৫ রান এসেছে। আগেরদিন পল স্টার্লিং করেন ৪৩ রান। এই ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হওয়া মুরাদ প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেওয়ার পর এবার ৪ উইকেট শিকার করেছেন। এ ছাড়া তাইজুল ২ এবং রানা নিয়েছেন এক উইকেট।
১৭১ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন জয়। যদিও তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি মিসের হতাশা প্রকাশ করেছিলেন গতকাল।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪নভেম্বর ২০২৫/মওম
মানিকগঞ্জে শিবালয়ে স্কুলের বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন, চালক দগ্ধ
নকলায় কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার-১
আওয়ামীলীগের লকডাউনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দেবিদ্বার অংশে কড়া পুলিশি তল্লাশি
নাজমুল হাসান:
আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অরাজকতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।
১৩ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা (মুরাদনগর সার্কেল) এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিন। অভিযান চলাকালে মহাসড়কের পান্নারপুল, বাগুর, ভিরাল্লাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহনে অবৈধ মালামাল বহন রোধ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে কঠোর নজরদারি চালান। প্রতিটি যানবাহন সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয় এবং সন্দেহজনক যাত্রী ও মালামালের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, লকডাউনকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যেন সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের তল্লাশি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।
বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ১৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ অক্টোবর অভিযোগ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদের পিতা, স্বজনহারা পরিবারের সদস্যসহ ৫৪ জন সাক্ষী। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
এর আগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮ হাজার ৭৪৭, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। তদন্ত প্রতিবেদন গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
আলোকিত প্রতিদিন/১৩নভেম্বর ২০২৫/মওম

