আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 226

বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মানিকগঞ্জ ইউনিট কমিটি গঠিত

মো: মহিদ:
বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মানিকগঞ্জ ইউনিট কমিটি গঠিত হয়েছে। রবিবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে রয়েছেন-ভাইস- চেয়ারম্যান: আব্দুস সালাম বাদল, সেক্রেটারি: মির্জা রবিউল আওয়াল, নির্বাহী সদস্য- খন্দকার মোঃ আতিক, সোলায়মান খান তুহিন, তানিভ ইকবাল রাসেল, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম ও মোঃ আরিফুর রহমান। এর আগে, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি মানিকগঞ্জ ইউনিটের আহবায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার মোঃ আতিকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মো. ফরহাদ আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন  জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মহিয়ার খান শিপার, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি খবিরুল আলম চৌধুরী, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য বাদল, জাতীয় মহিলা সংস্থা মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রহমানসহ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য মানবিক সংস্থা যা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের নীতিমালা অনুসরণ করে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করা এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করা সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতি আদেশের ২৬ নং ধারা অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জন কর্তৃপক্ষের একটি সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। এর জাতীয় সদর দপ্তর ঢাকাতে অবস্থিত এবং সারাদেশে এর শাখা ইউনিট রয়েছে। সংস্থাটি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান করে। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। যুব রেড ক্রিসেন্ট-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, শান্তি এবং সেবার মানসিকতা তৈরি করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

ইডেন গার্ডেনে টেস্ট: ৯৩ রানে অল-আউট ভারত, নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই পড়ল ধরা!

খেলা ডেস্ক, কলকাতা টেস্টের রোমাঞ্চ যেন শেষ মুহূর্তে গিয়েও থামছিল না। ভারতের জিততে তখনও দরকার ৪৭ রান আর খাতা-কলমে হাতে আছে ৩ উইকেট। তবে আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ উইকেট কারণ চোট পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে শুবমান গিলকে। ইডেন গার্ডেনে ভারতের সব ভরসা তখন অক্ষর প্যাটেল, সঙ্গে যশপ্রীত বুমরা ছিলেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে টেম্বা বাভুমার লড়াকু ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৫৩ রান করে প্রোটিয়ারা। ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রানের। কিন্তু হার্মার, মহারাজদের স্পিনে ধরা পড়ে নিজেদের চেনা আঙিনায় একশ রানও করতে পারেনি ভারত।

ভারতের মাঠে এর চেয়ে কম রান তাড়ায় হেরে যাওয়ার ঘটনা আছে আর মাত্র একটি। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ে ১০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের বিপক্ষে ৯৩ রানেই অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের মাঠে তাদের সবশেষ টেস্ট জয় ছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ১৫ বছরের বেশি সময় পর পাওয়া এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ অনুষ্ঠিত

রিপন পাল : 
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর শনিবার কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ি শালবন বিহার, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি যাদুঘরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে কাশবন রিসোর্টে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিক এম এ মোমেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, আরটিভির ও মানবকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক এসএম রোবেল মাহমুদ, দৈনিক সংবাদচর্চা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং  জিটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মুন্না খাঁন, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও মুড়াপাড়া বাজার কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক ইমদাদুল হক দুলাল, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক মীর শফিকুল ইসলাম,  দৈনিক আজকের বাংলা’র প্রকাশক ও সম্পাদক শেখ সুমন আহম্মেদ, গ্লোবাল টেলিভিশনের সাংবাদিক এনামুল হক, দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক শরিফ ভুঁইয়া, দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার সাংবাদিক এস এম আবু কাউসার  প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, মনজুর এলাহী, এআর ইব্রাহীম, টি.আই.আরিফ, নওয়াব ভুঁইয়া, মিজানুর রহমান, অনুপম হাসান ফরিদ, আবু কাউসার মিঠু, রাসেল মোল্লা, দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার সাংবাদিক এনবি আকাশ, সোহেল কবির, রোমান মিয়া, মোমেন মিয়া, শাহিন মিয়া, রনি আহম্মেদ, রিপন পাল, ফাহিম বাদশা, সাজেন আনান রহমান, এনএএন টিভির সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সাগর, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ মীর, বিএম আবুল হাসনাত বাপ্পী, ফাহিম ইসলাম,  সোহরাব হোসেন সাজিদ, এস এম রনি, নূর নবী প্রমুখ।
পরে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সমন্বয়ে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

মওলানা ভাসানীর ৪৯তম ওফাত বার্ষিকী আজ

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

আফ্রো, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মেহনতি বুভুক্ষ মানুষের অধিকার আদায়ের পথিকৃৎ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম ওফাতবার্ষিকী আজ ১৭ নভেম্বর সোমবার। বঙ্গীয় এ দ্বীপে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মরহুমের মাজার প্রাঙ্গণে তার পরিবার, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মুরিদান, ভক্ত, রাজনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। এদিন টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এছাড়া এ উপলক্ষে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে সাত দিনব্যাপী মেলা চলছে।

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকার বঞ্চিত, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। বুজুর্গ পীর মওলানা ভাসানী সবসময় ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ক্ষমতার কাছে থাকলেও তাকে কখনো ক্ষমতার মোহ আবিষ্ট করেনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলা বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার সয়া-ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হাজী শরাফত আলী এবং মজিরন বিবি বা মাজিরান্নেসা বিবির তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ও একমাত্র জীবিত সন্তান। ছেলে-মেয়ে বেশ ছোটো থাকা অবস্থায় হাজী শারাফত আলী মারা যান। কিছুদিন পর এক মহামারীতে মজিরন বিবি বা মাজিরান্নেসা বিবি ও দুই ছেলে মারা যায়। বেঁচে থাকেন ছোট্ট শিশু আব্দুল হামিদ খান। তাকে ছোটবেলায় ‘চেগা মিয়া’ নামে ডাকা হতো। কারণ তার পিতা হাজী শরাফত আলী এই নামে ডাকতেন।
‘চেগা’ শব্দটি এসেছে প্রমিত অসমিয়া-বাংলা উপভাষা থেকে। এর অর্থ- ফাটা কাপড় পরা বালক বা ছেঁড়া জামা পরা শিশু। কারণ, ছোটবেলায় আব্দুল হামিদ খানের পরনের কাপড় প্রায়ই ছিল ছেঁড়া, পুরনো ও জোড়াতালি দেওয়া। তিনি ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন

না বরং এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন। সেই কারণে গ্রামবাসীও স্নেহভরে ও কখনো কখনো মজা করে তাঁকে ‘চেগা মিয়া’ বলে ডাকতেন।
পিতৃ-মাতৃহীন আব্দুল হামিদ প্রথমে কিছুদিন চাচা ইব্রাহিমের আশ্রয়ে থাকেন। বাল্যকালে মক্তব হতে শিক্ষাগ্রহণ করে কিছুদিন মক্তবেই শিক্ষকতা করেন আব্দুল হামিদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছুদিন পূর্বে ১৮৯৩ সালে তিনি পাঁচবিবির জমিদার শামসুদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি মাদ্রাসার মোদাররেসের কাজ করেন এবং জমিদারের ছেলে-মেয়েকে পড়ানোর দায়িত্ব নেন। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে পীর সৈয়দ নাসিরুদ্দিনের সাথে আসাম গমন করেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ইসলামি শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে দেওবন্দ যান। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে আব্দুল হামিদ অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ‘স্বরাজ্য পার্টি’ গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৬ সালে আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯২৯-এ আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন। সেখানেই সর্বপ্রথম তাঁর নামের শেষে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।
দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৫৭ সালের ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইলের কাগমারী নামক স্থানে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক ‘কাগমারী’ সম্মেলনে তিনি ‘ওয়াআলাইকুম আসসালাম’ বলে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে

পূর্বপাকিস্তানের সম্পর্কচ্ছেদের ইঙ্গিত দেন এবং পাকিদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ‘খামোশ’ বলে হুঙ্কার ছাড়েন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীর সভাপতি ছিলেন।
সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও তার জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জীবদ্দশায় মওলানা ভাসানী তিনটি বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি জমিদার কন্যা আলেমা খাতুন ভাসানীকে। প্রথম ঘরে ৪ সন্তান দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ে করেন, টাঙ্গাইলের কাগমারী এলাকার আকলিমা খান ভাসানীকে। আকলিমা খান ভাসানীর দাম্পত্য জীবন মাত্র ছয় মাস স্থায়ী হওয়ার পর তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তৃতীয় বিয়ে করেন বগুড়া জেলার আদমদীঘির হামিদা খান ভাসানীকে। হামিদা খান ভাসনীর প্রকৃত নাম ছিল উসিলা খাতুন। বাসর রাতে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আদর করে তার নাম রাখেন হামিদা খান ভাসানী। হামিদা খান ভাসানীর ঘরের ৩ সন্তান বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
মওলানা ভাসানীর ৪৯তম ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার(১৭ নভেম্বর) সকালে তাঁর মাজারে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। কিছুদিন আগে থেকেই মওলানা ভাসানীর ভক্ত-অনুসারী ও মুরিদানরা সন্তোষে এসেছেন। এদিকে ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’ চলছে। মঙ্গলবার(১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের পৌর এলাকার সন্তোষ মাজার প্রাঙ্গনে সাত দিনব্যাপী ভাসানী মেলা-২০২৫ এর উদ্বোধন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

এ উপলক্ষে এদিন টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সভাপতিত্ব করবেন, জেলা শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান রেজা ও সঞ্চালনা করবেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বহ্নিশিখা জামালী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও খোদা-ই-খেদমতগার এর আয়োজনে মওলানা ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরশ, স্মরণ সভা, গণভোজসহ সাত দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

শেখ হাসিনার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আতঙ্ক বিরাজ করছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৬ নভেম্বর রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যে ট্রায়াল হয়েছে তার রায় বের হবে—এটা নিয়ে সারাদেশে এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তা, এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, একটি মহল আবারও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে “বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক” আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশের রাজনীতি এক ধরনের কনফিউজ পলিটিক্সের মধ্যে চলে গেছে। এমন সব ঘটনা ঘটছে, এমন সব উপাদান ঢুকছে—যা বাংলাদেশের মানুষ আগে কোনোদিন চিন্তাই করেনি। দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ এক জটিল সংকটের মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নামে যারা এসেছে, তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে একটা জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করেছে—কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না, তা এখনো বলা যায় না।বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি— নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ, যা দিয়ে ট্রানজিশন করে গণতন্ত্রে যাওয়া সম্ভব। হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখন একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তার অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাইছে। নানা দাবি তুলে তারা নির্বাচনকে ব্যাহত, বিলম্বিত বা বন্ধ করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ এখন চায়—একটি নির্বাচিত সরকার, যার পেছনে জনগণের সমর্থন থাকবে।

ফখরুল বলেন, অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছে, নির্বাচন ছাড়া এটি আরও খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও খারাপ—নির্বাচিত সরকার না থাকলে তা আরও অবনতির দিকে যাবে।

আগামীকালের রায়কে ঘিরে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে—তা যেন নষ্ট না হয়। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে—এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি সব রাজনৈতিক দলকে বলব আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামনে এগিয়ে যাই। মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যেন এই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি।

মওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানসহ প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

২০২৬ সালের ২০ মার্চ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, রমজান বা প্রথম রোজা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার শুরু হতে পারে। চলতে পারে ৩০ দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন এবং রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য এসব তারিখের কথা জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, রমজান মাসের শেষ দিন চিহ্নিত করে ইসলামিক উৎসব ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ উদ্‌যাপিত হতে পারে।

আল জারওয়ান বলেন, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দেখা যেতে পারে। তবে সেদিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কঠিন হতে পারে।

যদি রোজা ৩০ দিন পূর্ণ হয়, যেমনটা ধারণা করা হচ্ছে; তবে আরব আমিরাতের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে পবিত্র রমজানের ৩০তম দিনটি যুক্ত হবে। ফলে দেশটির বাসিন্দারা চার দিনের ছুটি পেতে পারেন—১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ মার্চ রবিবার পর্যন্ত। এরপর ২৩ মার্চ সোমবার আবার অফিস শুরু হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর ইসলামিক বর্ষপঞ্জির অন্যতম বড় উৎসব। ঈদের নামাজ দিয়ে এদিনের সূচনা হয়। এরপর দেশে–বিদেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে সময় কাটানো, দান–খয়রাত করা এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

যদি পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিদদের হিসাবের সঙ্গে মিলে যায়, তবে প্রথম শাওয়াল, অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি, নির্ধারিত সময়ে গিয়ে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য: সিইসি

আলোকিত ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে, তাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।” ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৬ নভেম্বর রবিবার নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
সিইসি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কমিশনকে অনেকগুলো বড় ও চ্যালেঞ্জিং কাজে হাত দিতে হয়েছে। কাজের চাপের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

কমিশনের কয়েকটি প্রধান কাজ ও সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা হালনাগাদ ছিল একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রায় ৭৭ হাজার লোক মাঠে কাজ করেছে। এছাড়া প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৪০ লক্ষেরও অধিক লেফট আউট ভোটারকে (যারা ভোটের যোগ্য কিন্তু তালিকায় নাম ছিল না) শনাক্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

নতুন উদ্যোগ এবং ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে তিনি বলেন, “ডায়াসপোরাদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত জটিল ও নতুন একটি উদ্যোগ।”

তিনি জানান, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ লোক (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার) যাতে নিজেরা ভোট দিতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে পোস্টেড সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সিইসি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, আচরণ বিধিমালা তৈরির পর তা দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত নিয়ে এতে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের ওপরেই একটি সুন্দর নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মনোযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালাটি পড়ে দেখতে এবং তাদের দলের কর্মীদের কাছে প্রচারের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন তিনি।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম দফার সংলাপে গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি- বিএসপি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সঙ্গে।

এছাড়াও দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংলাপ হবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে ।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। সেদিন সকালে ও দুপুরে ১২টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ হয়। আজ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপের দ্বিতীয় দিন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম

সারাদেশে সব ধরনের গাড়ি চলবে, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে প্রতিহত করা হবে: সড়ক পরিবহন ফেডারেশন

 ১৬ নভেম্বর রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দেশের সব ধরনের গাড়ি চলবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমরা তা প্রতিহত করবো। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দেশব্যাপী দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় পতিত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ সারা দেশে লকডাউন কর্মসূচির ডাক দেয়। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচন বানচাল এবং দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। ওই লকডাউন চলাকালে সারা দেশে প্রায় ২০টি পরিবহন অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয় এবং ময়মনসিংহে একটি বাসে আগুন দিয়ে পরিবহন শ্রমিক জুলহাস ড্রাইভারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর প্রতিবাদে ঢাকার মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং একই কর্মসূচি সারাদেশে পালিত হয়। ১৮ কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে যখন অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে, তখন আওয়ামী লীগ পর্দার আড়াল থেকে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে আবারও ১৬ ও ১৭ নভেম্বর নতুন করে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এসব লকডাউন, অগ্নিসন্ত্রাস এবং নাশকতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।  আওয়ামী লীগের কর্মসূচি জনগণও প্রত্যাখ্যান করেছে।

হুমায়ূন কবির খান ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং গাড়ির মালিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর ২০২৫/মওম 

বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে শেখ হাসিনার মামলার রায়!

বিশেষ প্রতিনিধি: জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। রায় সরসারি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। এছাড়া বিদেশি একটি বার্তাসংস্থা সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, হাসিনা-কামালের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশা করছে তারা।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রেয়ার হচ্ছে যে, এই অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়।’

প্রসঙ্গত: গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। গত ১২ মে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে।

এর ভিত্তিতে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন। এরপর ১০ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এক পর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটনে (অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের করা আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন তিনি।

গত ২৩ অক্টোবর মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনিও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।

অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের জবাব দেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের খালাস প্রার্থনা করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় কবে দেওয়া হবে, তা আগামী ১৩ নভেম্বর জানানো হবে বলে জানান। সে অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ (১৭ নভেম্বর) ধার্য করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে  রাজবাড়ীতে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ম অবমাননা ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের  বিভিন্ন লেখকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর রাজবাড়ীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কালীখুলী থানার অধীন আমলি আদালত ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত) আইনের ২৯৫, ২৯৫ক ও ৩৪ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করেন। মামলাটি দায়ের করেন মোঃ আব্দুল হান্নান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লেখকেরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য, লেখা ও মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, এসব প্রকাশনা মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

মামলা গ্রহণের পর আদালত কালীখুলী থানার অফিসার ইন চার্জকে তদন্ত করে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটির নম্বর সি.আর.-৩৬৮/২০২৫। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬।
মামলায় মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন  গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ, গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।