আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 225

নকলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ চালু

বিশেষ প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীর মাঝে ‘মিড ডে মিল’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘মিড ডে মিল’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফখরুল আলম-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোমান হাসান, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর শাহিনুর সিদ্দিকী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নাহিদ ও রুজিনা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লূৎফর রহমান উজ্জলসহ নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, স্থানীয় গণমাধ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফখরুল আলম জানান, উদ্বোধনী দিনে তাঁর বিদ্যালয়ের ৫৬৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৪৭২ জনের মাঝে ইউএইচটি দুধের প্যাকেট বিতরণ কার হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীর মাঝে ‘মিড ডে মিল’ বিতরণ কার্যক্রম একযুগে শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে পাঠদানের দিন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার হিসেবে একটি করে বনরুটি, ইউএইচটি দুধ, ফরটিফাইড বিস্কুট, সপ্তাহে ২দিন সেদ্ধ ডিম ও দেশীয় মৌসুমি ফল বা কলা সরবরাহ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

এবারের নির্বাচন দেশ রক্ষার নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত ডেস্ক:
আগামী নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন গতানুগতিক কোনও নির্বাচন নয়; বরং এটি দেশ রক্ষার নির্বাচন।’
আজ ১৭ নভেম্বর সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সদ্য পদায়নকৃত ৫০ জেলা প্রশাসকসহ ৬৪ জেলার প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনকে শুধু পাঁচ বছরের সরকার গঠনের একটি নির্বাচন নয়; বরং গণভোট যুক্ত হওয়ায় এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি নির্বাচন। জাতি বহু প্রহসনের নির্বাচন দেখেছে, সেই স্মৃতি ছাপিয়ে যেতে আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন; এই নির্বাচন গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতির জন্য নির্ধারিত হবে শতাব্দীর গতিপথ।’
এই নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘কোনোভাবেই ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি নবজন্ম লাভ করবে এবং জেলা প্রশাসকরা থাকবেন ধাত্রীর ভূমিকায়।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যা যা জানা প্রয়োজন, সব জেনে নেবেন। নির্বাচনকে একইসঙ্গে উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ করতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বিপুল সংখ্যক তরুণ এবং নারী ভোটার রয়েছেন, যারা ভোট দেওয়ার উপযুক্ত হলেও গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে গভীর উৎসাহ দেখাচ্ছেন। তারা দেখতে চান কেমন নির্বাচন হচ্ছে—এটা নিয়ে তাদের গভীর আগ্রহ।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনকে সার্থক করা গণঅভ্যুত্থানের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি। এই নির্বাচন একটি বিরাট অভিযান, এ অভিযানে আমাদের জিততেই হবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে এ লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল।
অনুষ্ঠানে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

রূপগঞ্জে শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের দাবিতে ও লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রিপন পাল:  
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের দাবিতে এবং আওয়ামীলীগের লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা, তারাবো, তারাবো বিশ্বরোড, যাত্রামুড়া, রূপসী, বরপা, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও পূর্বাচল উপশহরসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিবাদ সভা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। নারয়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর নির্দেশে গতকাল ১৭নভেম্বর সোমবার ভোর থেকে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের তারাবো বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাবো পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক ফারহান।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা কেএম মাহমুদ হাসান সিয়াম, তারাবো পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন প্রধান, আনিসুর রহমান ভুঁইয়া, সদস্য আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, শামিম সাউদ, তারাবো পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন কমিশনার, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর মফিজুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম লেলিন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের জানমাল নিরাপত্তায় বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ধ। নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিএনপিতে ঠাঁই নেই। আওয়ামীলীগের অবৈধ লকডাউনের নামে আগুন সন্ত্রাসসহ কোন রকম নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা বাইপাস সড়ক ও কুড়িল-কাঞ্চন সেতু সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কের পরিবহন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিয়োজিত রয়েছে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড থেকে রূপসী প্রদক্ষিণ করে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

জুলাই গণহত্যা : শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আলোকিত প্রতিবেদক:

বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই অপরাধের মামলায় মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 ১৭ নভেম্বর সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় প্রসিকিউশন এবং আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য শেষ করেন। সে দিন ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রসিকিউশন পক্ষে মামলার সমাপনী বক্তব্য রাখেন। এ সময় আসামিদের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন ট্রাইব্যুনালের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, এবিএম সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করার দিন নির্ধারণ রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে বিগত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ের জন্য ১৭ নভেম্বর সোমবার দিন নির্ধারণ করে দেন।

গত ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) এবং উপস্থিত রাজসাক্ষী (আসামি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মামলার আসামিদের চরম দণ্ড প্রত্যাশা করে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। টানা তিনদিনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে নিজের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে আসামিদের খালাসের আবেদন করেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়েও যুক্তি খণ্ডন করেন আমির হোসেন। বিশেষত রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের সাক্ষ্য সামনে আনেন। একইসঙ্গে তাদের দেওয়া সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এ মামলার রাজসাক্ষী মামুন বাঁচতে চাইছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া মাহমুদুর রহমান ভিন্ন মতাদর্শী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে দেখতে পারেন না বলেই জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তার সাক্ষ্য এ মামলায় প্রভাব পড়বে না বলেও যুক্তি দেখিয়েছেন এই আইনজীবী। পরে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাজসাক্ষী মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

গত ১০ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ওই দিন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। এ ঘটনায় আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। আমি রাজসাক্ষী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।’

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠনের সময় মামুন এসব কথা বলেন। একইদিন এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

এ মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ রয়েছে দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

জুলাই হত্যা: ‘মানবতাবিরোধী অ*পরাধে’ শেখ হাসিনার ফাঁসি!

বিশেষ প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। অপর আসামী ও পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগে তার মৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা দ্বিতীয় অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তারা।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলার রায়।      গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক।  একমাত্র আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

প্রথমবার দিল্লি বিস্ফোরণকে ‘আত্মঘাতী বোমাহামলা’ বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত ১০ নভেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে ‘আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই প্রথমবার এ ঘটনাকে ‘আত্মঘাতী হামলা’ তকমা দিলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন কোনো তদন্ত সংস্থা।

হামলার ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতকাল রবিবার দিল্লি থেকে আমির রাশিদ আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে এনআইএ।

গত ১০ নভেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে নয়াদিল্লির পর্যটন এলাকা লাল কিল্লার একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই গাড়ির চালক উমর নবীসহ ১৩ জন এবং আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন। প্রাথমিক তদন্ত এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ফুটেজ দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে বিস্ফোরণকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইডি বোমা এবং এটি ফিট করা হয়েছিল হুন্দাই আই ২০ সিরিজের সেই গাড়িতে।

ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা উমর নবী হরিয়ানার ফরিদাবাদ শহরের আল ফালাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পুলওয়ামায় তার বসতবাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জম্মু-কাশ্মির পুলিশ, তার দুই ভাই এবং মা’-কে আটকও করা হয়েছে।

এনআইএ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আমির রাশিদ আলীর বাড়ি পুলওয়ামা জেলার সামবুরা জেলায়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, গত ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণ ছিল একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা এবং সে এই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। বিস্ফোরণে যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির মালিক ছিল আমির। গাড়িটি তার নামেই নিবন্ধিত ছিলো।”

বিবৃতিতে বলা হয়, আমিরের দায়িত্ব ছিল হামলার আগ পর্যন্ত উমরের সঙ্গে থাকা এবং তাকে সহযোগিতা করা। গাড়িটি কেনা থেকে শুরু করে সেটিতে বোমা ফিট করা পর্যন্ত প্রতিটি কাজে অংশ ‍নিয়েছেন আমির। এমনকি যে সন্ধ্যায় হামলা ঘটে, সেই সন্ধ্যায়ও উমরের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন আমির। বিস্ফোরণের কিছু সময় আগে গাড়ি থেকে নেমে যান তিনি।

এ ঘটনায় আরও অভিযুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে এনআইএ। বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নেটওয়ার্ক অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলে ধারণা করছে এনআইএ। তাছাড়া হামলাকারীরা কোথা থেকে অর্থ পেলো এবং বিদেশের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না তা ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এনআইএ তাদের মতো অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।”

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

ফ্যাসিস্ট আমলে যারা অপরাধ করেছে; তারাই ককটেল কিনে নাশকতা চালাচ্ছে : রিজভী

আলোকিত ডেস্ক:  

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লুট করা টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ ককটেল কিনে নাশকতা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

১৭ নভেম্বর সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটি শান্তিময় বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব মতের মানুষ তাদের মতামত সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারবে এবং ভোট হবে নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও ইনক্লুসিভ।’

শেখ হাসিনার অপরাধের শাস্তি যথাযথ হলে সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। শেখ হাসিনা আমলের মতো নির্দেশিত আদালত এখন হবে না, সেটাই জনগণের বিশ্বাস। সেই ন্যায্য বিচার জনগণ প্রত্যক্ষ করছে, প্রত্যক্ষ করবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই দেশেরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামকে কি নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। শিশু সন্তানদেরকে নির্বিচারে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা যে বিভীষিকা দেখিয়েছিল সেগুলো এখনও আমাদের মনে পড়ে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যারা অপরাধ করেছে; নির্দেশ দিয়েছে- তারাই লজ্জাহীনভাবে বাসে আগুন দিচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লুটের টাকায় ককটেল কেনা হচ্ছে। পদ্মা সেতু আর মেট্রোরেলের আত্মসাৎ করা টাকা থেকেই নাশকতার টাকার যোগান আসছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লুটের টাকায় ককটেল কেনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তখনও আমরা বারবার বলেছি এই আগুনের সঙ্গে গণতন্ত্রকামী মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণও দিয়েছি তখন। আগুনের সঙ্গে গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিএনপির কোনও সম্পর্ক নেই। আগুন সন্ত্রাস কারা করে তার নমুনা এখন দৃশ্যমান।’

শেখ হাসিনার ভারতে বসে নির্দেশনা আইনসম্মত নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ভারত কেন তা হতে দিচ্ছে? অপরাধীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নাশকতার সুযোগ দিয়ে আইনের লঙ্ঘন করছে ভারত। বাংলাদেশের মানুষ এটি ভালোভাবে দেখছে না; এমন আচরণ কাম্য নয়।’

এ সময় রিজভী আরও জানান, গত বছরের মত এবারও আগামী  ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ অনুষ্ঠানের কথা  চিন্তা করলে সেই অর্থ দান করে দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

শীতের মৌসুমে শরীর উষ্ণ রাখবে যেসব খাবার

আলোকিত ডেস্ক: হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। প্রতিদিন নামছে তাপমাত্রার পারদ। শীত পড়তেই অনেকের আতঙ্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণই প্রায় গরম জামাকাপড় পরে থাকছেন। সব সময় গরম পোশাক পরে থাকার ফলে পেটগরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গরম পোশাক পরা ছাড়াও শীতের হাত থেকে বাঁচার আরও একটি অস্ত্র হল কিছু খাবার। যেগুলো খেলে ভিতর থেকে সুস্থ থাকা সম্ভব।

মুলা : অনেকেরই অপছন্দের এই সবজি। শীতকালীন এই সবজির উপকারিতা কিন্তু কম নয়। ফাইবার-সমৃদ্ধ মুলা শীতের দিনে শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। শীতের হাতে কাবু হতে না চাইলে রোজ না হলেও মুলার দিকে থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না।

বাদাম ও খেজুর : শীত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও কমে যায়। এই সময় সুস্থ থাকতে যে খাবারগুলো বেশি পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন তার মধ্যে অন্যতম বাদাম ও খেজুর। প্রাকৃতিক উপায়ে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে এগুলি। এ ছাড়াও শরীর চনমনে রাখতেও বাদাম ও খেজুর বেশ উপকারী।

আপেল : শীতকালে আপেলের উৎপাদন হয় বেশি। এই সুস্বাদু ফলটিতে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, নানা ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি। এসব উপাদান হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে।

ডার্ক চকোলেট : ডার্ক কোকোয়া পাউডার থেকে তৈরি এক গ্লাস গরম চকোলেট খেতে পারলে শীতকালে আপনার বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এবং দেহের তাপমাত্রাও বাড়াবে। প্রতিদিন আপনি এক টুকরো খাঁটি ডার্ক চিনিহীন চকোলেটও খেতে পারেন।

টমেটো : একবাটি ধোঁয়া ওঠা টমেটো স্যুপ বা সুরুয়া খেলে শীতকালে আপনি দারুন উপকার পাবেন। টমেটোতে আছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন উপাদান যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং শীতকালীন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখবে।

সবুজ শাক-সবজি : বছরের যে কোনো সময়ই সবুজ শাক-সবজি খাওয়া ভালো। তবে শীতকালে দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতোকে শক্তিশালী করতে সবুজ শাক-সবজি বেশ কার্যকর।

গুড় : প্রচুর আয়রন, এনার্জির উৎস ছাড়াও গুড় কিন্তু হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে। যাদের ডায়াবিটিস রয়েছে তারাও কিন্তু নির্ভয়ে গুড় খেতে পারেন। শীতে শরীরকে গরম রাখতে জুড়ি নেই গুড়ের।

মাংস : খাসি, গরু বা হাঁস, যেকোনো মাংস শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। শীতকালে প্রতিদিন যেকোনো বেলাতে রাখতে পারেন মাংসের পদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পরিমাণে বেশি খাওয়া হয়ে না যায়।

মধু : মধু শরীরের ভেতর তাপ উৎপাদনে সাহায্য করে। মধুতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও আন্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের ইমিউনিটি বজায় রাখে। ঠান্ডাজনিত অসুখ থেকে রক্ষা করে। সর্বোপরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ঘি : যদিও অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে তথাপি সীমিত পরিমাণে ঘি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ঘি দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ ঘি-তে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড।

কিসমিস : কিসমিস একটি স্বাস্থ্যগুণ সম্পন্ন খাবার। কিসমিস ভেজানো পানি শরীরের পক্ষে বিশেষ উপকারী। কিসমিসে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে অতিরিক্ত শক্তির জোগান দেয়। শুধু স্বাদেই অতুলনীয় নয় ছোট এই ড্রাই ফ্রুট শীতে শরীরের ভেতর গরম রাখে।

ডিম : পুরুষের ক্ষেত্রে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে ডিম। এটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৫, বি১২, বি৬, ডি, ই, কে, ফোলেট, ফসফরাস, সেলিনিয়াম, ক্যালিয়াম ও জিংক। প্রতিটি ডিমের মধ্যে রয়েছে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন।

তুলসী ও আদা : শীতের সকালে তুলসী পাতা আর আদা দেওয়া চায়ের স্বাদই আলাদা। এছাড়াও আদা ও তুলসী দেহে থার্মোজেনেসিস প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে, হজমশক্তি বাড়ায়, ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায়, তাই শীতকালে তুলসী-আদা চা যেন বাদ না যায় প্রতিদিনের ডায়েট থেকে।

দারুচিনি : প্রতিদিন দারুচিনি খেলে দেহে মেটাবলিজম বাড়ে। গরম জল বা রান্নায় মশলা হিসাবে যে কোনো ভাবেই খাওয়া যেতে পারে দারুচিনি।

গরম স্যুপ : মিনারেল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ যে কোনো গরম স্যুপ কিন্তু শীতের সন্ধ্যার স্ন্যাকস হতেই পারে। এমনকী ডিনারের জন্যেও খুবই ভালো। এতে চিকেন বা সয়াবিন যোগ করলেই একটা কমপ্লিট নিউট্রিশন ব্যাংক পেয়ে যাবেন।

আদা চা : শীতকালে নিজেকে গরম রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এক কাপ আদা চা। থার্মোজেনিক উপাদানের কারণে আদা শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমে সহায়তা করে এবং রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

রসুন : শরীরের ভেতর গরম রাখার জন্য খাবারের তালিকায় অবশ্যই রাখুন রসুন। রান্নার সঙ্গে উপকরণ তো বটেই, খেতে পারেন গার্লিক ব্রেড বা রসুনের আচারও।

মরিচ : শরীরে উষ্ণতা ধরে রাখতে শুকনো মরিচের জুড়ি নেই৷ শুকনা মরিচে আছে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপকারী উপাদান, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাটে ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

১৭ নভেম্বর সোমবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাটে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পেয়েছি। আমাদের একটি টিম গেছে। তারা কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার দক্ষিণ পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ছবির হাটে দুষ্কৃতকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এতে কোনো হতাহত ঘটনা হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭নভেম্বর ২০২৫/মওম

ঢুলিভিটায় পার্কিং করা বাসে রহস্যজনক আগুন

মামুন আহমেদ জয়-ঢাকার ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পার্কিং করে রাখা ডি-লিংক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে ধামরাই উপজেলামুখী সড়কের শত গজ দূরে বিদ্যুৎ অফিসের বিপরীত পাশে এ আগুন লাগে। স্থানীয়দের দ্রুত উদ্যোগে ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ১০টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুইজন লোক এসে প্রথমে বাসের জানালায় ইট ছোড়ে। পরক্ষণেই জানালা ভেঙে ভেতরে গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে তারা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এরপর আশপাশের লোকজন পানি ও বালুর সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করে।

ডি-লিংক বাসের নৈশপ্রহরী ফারুক বলেন, “ঢুলিভিটার দিক থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে কিছু লোক এসে জানালা ভেঙে প্রথমে ইট মারে, পরে গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগায়। আমরা চিৎকার শুনে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দিই।”

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সোহেল রানা জানান, “ঘটনাস্থলে গানপাউডারের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। ১৫ মিনিটের ভেতর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “পার্কিং করা একটি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

আলোকিত প্রতিদিন/এপি