আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 220

থাইল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পদক নিশ্চিত বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

ম্যাচের শুরুতে উজ্জ্বল ছিল থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ ছিল কিছুটা মন্থর। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গুছিয়ে উঠলো স্বাগতিকরা। লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করা বাংলাদেশ উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে নিশ্চিত করল নারী কাবাডি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট, নারী কাবাডি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশের প্রথম পদকও এটি।

ঢাকায় চলমান আসরের শুরু থেকেই পদকের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আসছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনাল এবং পদক নিশ্চিত করার পর লাল-সবুজ শিবিরে ছিল উচ্ছ্বাস।

২২ নভেম্বর শনিবার সকালে থাইল্যান্ড টস জিতে রেইড বেছে নেয়। থানিয়ালাক বেনরিথ বোনাস পয়েন্ট নিয়ে শুরু করেন। দ্বিতীয় রেইড থেকে শ্রাবণী মল্লিক বাংলাদেশকে প্রথম পয়েন্ট এনে দেন—ওটা ছিল বোনাস পয়েন্ট। পরের রেইডে শ্রাবণী একজনকে আউট করেন। শুরু থেকে এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমবারের মতো লিড এনে দেন মেইবি চাকমা। ম্যাচ চলতে থাকে সমান তালে—রেখা আক্তারি ট্যাকল করতে গিয়ে পয়েন্ট দেন, ফিরতি রেইড থেকে পয়েন্ট নিয়ে আসেন বৃষ্টি বিশ্বাস। নবম মিনিটে ইনজুরি নিয়ে ম্যাট ছাড়েন বাংলাদেশি রেইডার শ্রাবণী মল্লিক। ১১-১১ সমতা থেকে বৃষ্টি এক রেইডে দুইজনকে আউট করেন, লিড পায় বাংলাদেশ। ১৪-১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দ্রুতই প্রতিপক্ষকে অলআউট করে বাংলাদেশ, এগিয়ে যায় ১৮-১৩ পয়েন্টে। সময়ের সঙ্গে অধিপত্য বাড়তে থাকে বাংলাদেশের। এই সময় রেইড এবং ট্যাকল—দুই বিভাগেই দারুণ নৈপুণ্য দেখায় লাল-সবুজরা। দ্বিতীয়বারের মতো থাইল্যান্ডকে অলআউট করে ৩১-১৮ পয়েন্টে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষদিকে থাইল্যান্ড মরিয়া হয়ে লড়াই করলেও হারের ব্যবধানই শুধু কমাতে পেরেছে। ৪০-৩১ পয়েন্টের জয়ে  নারী কাবাডি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পদক নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আলোকিত প্রতিবেদক:

নার্সিং এবং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন।

২২ নভেম্বর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারামুখী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যানবাহনগুলোকে ডাইভারশন করে বিজয় নগর কাকরাইল সড়কের দিকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় পরিদর্শক (পেট্রোল) বুলবুল আহমেদ বলেন, নার্সদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন মোড় থেকে যানবাহনগুলোকে ডাইভার্সন করে কাকরাইল রুটের দিকে দেওয়া হয়েছে।আন্দোলনকারীরা জানান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে নার্সদের জন্য সৃজনকৃত সব পদে জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ এবং যোগ্য নার্স কর্মকর্তা পদায়ন করা হোক। ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নার্স কর্মকর্তারাই নার্সিং শিক্ষা, প্রশাসন ও নার্সিং সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডার থেকে মহাপরিচালক এবং পরিচালক নিয়োগ হওয়ার পর থেকে নার্সরা বদলি, পদোন্নতি, নার্স নিয়োগ ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার  হচ্ছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

– Advertisement –

আবারও দেশে মৃদু ভূমিকম্পের আঘাত, উৎপত্তিস্থল বাইপাইল

আলোকিত ডেস্ক:

আবারও দেশে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মৃদু এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাভারের বাইপাইল বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।

২২ নভেম্বর শনিবার সাভারের বাইপাইল এলাকায় সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পটি সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে এলাকায় আঘাত হানে।

গতকালও ২১ নভেম্বর শুক্রবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের ওই ভূমিকম্পটি সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রেকর্ড করা হয় এবং এর মাত্রা ছিল ৫.৭। নরসিংদীর মাধবদীতে এটির উৎপত্তিস্থল ছিল। যা ঢাকার আগারগাঁওয়ের সিসমিক সেন্টার থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

বড় ভূমিকম্পের পূর্বাঘা*ত, ঢাকায় বিপর্যয়ের বার্তা!

বিশেষ প্রতিনিধি, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পটি ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার এবং এর ঝাঁকুনি ছিল স্মরণকালের সর্বোচ্চ। ফলে অনেকেই মনে করতে পারেননি, সর্বশেষ কবে এমন বড় ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে দুলছিল ঢাকার বড় বড় ভবন। পরে জানা যায়, ঢাকার খুব কাছেই নরসিংদীর মাধবদীতে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। আর মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে এর মাত্রা ৫ দশমিক ৫।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও এর তীব্র ঝাঁকুনির কারণ উৎপত্তিস্থলের কম গভীরতা এবং রাজধানী ঢাকার একেবারেই কাছাকাছি হওয়া। তাদের মতে, দেশের ভূমিকম্পের সার্কেল (পুনরাবৃত্তি) এবং সাম্প্রতিক

বছরগুলোতে সংঘটিত ভূমিকম্পগুলো বলছে, গতকালের ভূমিকম্পটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাঘাত (ফোর শক) হতে পারে। কারণ ভূমিকম্পের পরাঘাত (আফটার শক) যেমন আছে, তেমনি পূর্বাঘাতও আছে।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সার্কেল : ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ধরে এর সময়কাল নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ বা এই ভূখণ্ডে বড় ভূমিকম্পের মধ্যে আছে ১৭৬২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫। এটি ‘গ্রেট আরাকান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত। এর ফলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, ফেনী, এমনকি কুমিল্লা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর পর ১৮৬৯ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যা ‘কাছাড় ভূমিকম্প নামে পরিচিত। ১৮৮৫ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প, যা বেঙ্গল আর্থকোয়েক নামে পরিচিত। যেটাকে ধরে যমুনা সেতুর নকশা করা হয়েছে। তার পর ১৮৯৭ সালে গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্প। যেটার রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ১ মাত্রার। যেটাকে বলা হয় বিশ্বের বড় ভূমিকম্পের মধ্যে একটি। তা ছাড়া ১৯১৮ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যেটাকে শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প নামকরণ করা হয়েছে। সবশেষ ১৯৩০ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, যেটাকে ‘ধুবি ভূমিকম্প’ বলা হয়। এটাই বাংলাদেশের কাছাকাছি উৎপত্তিস্থলে ঘটে যাওয়া বড় ভূমিকম্প, যেটি ৯৫ বছর আগে ঘটে গেছে। অর্থাৎ ১০০ বছরের সময়কালের কাছাকাছি সময় অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। যেটাকে অ্যালার্মিং হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী। গতকাল ঘটে যাওয়া ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পকে এই গবেষক সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, গতকালের ভূমিকম্প একটা ফোর শক (পূর্বাঘাত)। অর্থাৎ বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সার্কেলগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ১০০ থেকে ১২৫ বছর পরপর ঘটেছে। আর যেগুলো ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে সেগুলো ২৫০ বছর থেকে ৩০০ বছর পরে হয়েছে। অর্থাৎ ১৯৩০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের কাছাকাছি তেমন বড় ভূমিকম্প হয়নি। এর পর ৯৫ বছর পার হয়ে গেছে। অতীতের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছেÑ অতীতের মতো বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে এবং শুক্রবারের ভূমিকম্প ‘বড় ভূমিকম্প’ আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় তার সতর্ক বার্তা।

ঢাকার জন্য উদ্বেগ : বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার অদূরে ৭ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৩৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের শঙ্কা রয়ে গেছে। তা ছাড়া এই মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভূমিকম্পপরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা চালানো দুরূহ হয়ে যাবে। কারণ ঢাকার অধিকাংশ এলাকার রাস্তা ৩০ ফুটের কম। বাসযোগ্য শহরের মানদণ্ড অনুযায়ী ৩০ ফুটের কম রাস্তা থাকলে সেখানে ৬ তলার ওপরে ভবন করা ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে ঢাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

গতকাল শুক্রবার সাড়ে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার কয়েক জায়গায় ভবন হেলে পড়া ও ফাটল দেখা দিয়েছে। পুরান ঢাকায় ভবনের রেলিং ভেঙে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের আরও কয়েক জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে. অপরিকল্পিত শহরের মধ্যে ঢাকা প্রথম দিকেই রয়েছে। তা ছাড়া ঢাকার চারদিকের জলাভূমি দখল করে যেভাবে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে তাতে এই শহরকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ঢাকাকে রীতিমতো মৃত্যুকূপে পরিণত করা হয়েছে। এজন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সরকারের সবগুলো সংস্থার উচিত, অতি শিগগিরই ঢাকার সব ভবন পরীক্ষা করে দেখা। যেসব ভবন বিল্ডিং ভূমিকম্প সহনশীল সেগুলোকে সবুজ ভবন, যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু মজবুতিকরণ (রেট্রোফিটিং) সম্ভব, সেগুলোকে কমলা ভবন এবং যেগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণÑ সেগুলোকে লাল ভবন চিহ্নিত করে জানিয়ে দিতে হবে। লাল ভবন মানে, সেগুলো ভেঙে নতুন করে করতে হবে। তা না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ঢাকাবাসী।

রাজধানীর ঢাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ভূমিকম্পে ঢাকা শহরে ভবন দেবে গেছে, ফাটল হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে ভবন, হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ২-৩ লাখ মানুষ হতহাত হবে, ঢাকা শহরের ৩৫% ভেঙে পড়ার শঙ্কা আছে, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের কাছাকাছি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অনেক ভবন দেবে যাবে, ভেঙে পড়বে। ধারণা আছে, ঢাকার অদূরে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে যদি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প তা হলে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ হতাহতের ঘটনা ঘটবে। তাই সরকারের উচিত রাজউককে দিয়ে একটা নোটিশ করা ঢাকার সবগুলো ভবন মালিক বা সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া যে অভিজ্ঞ লোকদের দিয়ে ভবনগুলো চেক করে গ্রীন, অরেঞ্জ এবং রেড চিহ্নিত করে দেওয়া। তাতে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।

অধ্যাপক আনসারী বলেন, আমেরিকা, ভারত, জাপানে ভূমিকম্পের আগে এ ধরনের ক্যাটাগরি করা হয়েছে। আমরাও এভাবে কালার কোড করে বিল্ডিংগুলোকে ট্যাগ করে, ভবনের গায়ে রং বসিয়ে দিতে পারি প্ল্যাকার্ড দিয়ে। তিনি বলেন, রানা প্লাজার পর এ বিষয়ে আমাদের দেশে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টিম করা হয়েছে। ৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তাদের দিয়ে কাজগুলো করানো যেতে পারে।

বুয়েটের সবশেষ তথ্যমতে, ঢাকা শহরে প্রায় ২১ লাখের মতো পাকা বাড়ি আছে। তার মধ্যে ১৫ লাখ আছে একতলা থেকে দোতলার মধ্যে। আর প্রায় ৬ লাখের মতো বাড়ি রয়েছে যেগুলো ৬ তলার ঊর্ধ্বে। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ৬ তলার ওপরে সব ভবন বহুতল হিসেবে চিহ্নিত।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বিএনবিসি কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করা উচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ঢাকা শহরে যতগুলো ভবন আছে তার মাত্র ২০% রাজউকের নিয়মতান্ত্রিক অনুমোদন নেওয়া। বাকি ৮০ শতাংশে সেভাবে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। রাজউকের চোখের সামনে কীভাবে বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে সাভার, কেরানীগঞ্জ, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় রাজউকভুক্ত হলেও নিয়ন্ত্রণে নেই। সেখানে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে ভবন করা। রাজউক অনুমোদন দেওয়ায় ব্যস্ত থাকে। এই সংস্থার অনুমোদনের চাইতে বেশি দরকার নিয়ন্ত্রণ করা সেটি হচ্ছে না।

এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, একটা নিরাপদ বাসযোগ্য শহর গড়তে হলে প্রতি এক কিলোমিটার দূরত্বে একটা মাঠ থাকা দরকার। ঢাকা শহরে সে রকম খোলা জায়গা বা মাঠ নেই। তার পর যেভাবে জলাশয় ভরাট করে ভবন করা হচ্ছে তাতে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। আমরা মনে করি এলিভেটেড এক্সপ্রেসের চাইতে বেশি প্রয়োজন খোলা মাঠ করা। তিনি বলেন, এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে পারলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে দেশবাসীকে হয়তো রক্ষা করা যাবে। তা না হলে ঢাকার ধ্বংসস্তূপ সরাতেও বহু সময় লেগে যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশে সেই সক্ষমতার যান যন্ত্রপাতিও নাই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আজ কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র ৫৪ তম জন্মদিন

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ভিন্নমাত্রার কবি, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র ৫৪ত জন্মদিন। কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র পিতা: মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার ছিলেন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তি এবং প্রায় ৪০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা। মাতা- মিসেস জাহানারা সাত্তার ২০২৫ সালে রত্নগর্ভা মা হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর তিনি পৈত্রিক নিবাস- গ্রাম ও ডাক: পত্তাশী, উপজেলা: জিয়ানগর, জেলা: পিরোজপুর জন্মগ্রহণ করেন। পড়ালেখা: ডাবল এম, এ (ফার্স্ট ক্লাস)। লেখালেখি শুরু ১৯৯১ সালে ছাত্রাবস্থায়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ ১৯৯২ সালে ‘অভিব্যক্তি’। ‘অনির্বাণ’ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘদিন। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন প্রায় ৩ বছর। তৎকালীন সময়ে কুয়ালালামপুর থেকে প্রকাশিত ‘মুক্তির স্বাদ ও রেনেসাঁ’ পত্রিকার যথাক্রমে প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, পাক্ষিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনসহ শতাধিক পত্রিকায় তাঁর লেখা কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, ফিচার, ছোটগল্প, শিশুতোষ গল্প, রম্য গল্প, অনুগল্প এবং নিয়মিত কলাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। রাজনৈতিক জীবনে ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন- এর উপ নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পান এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে সফলভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ৮জন সংসদ পদপ্রার্থীর মধ্যে ৪র্থ স্থানে ছিলেন। ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখি করে আসছেন। তাঁর প্রকাশিত বই (একক ও যৌথভাবে) ৫৫টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিব্যক্তি, পাথরে ফোটানো ফুল, কার কাছে যাব, তুমি শুধু আসবে, সবই হারিয়ে যায়, বিদীর্ণ বক্ষের আহাজারি, প্রথম দিনের মতোই, ভালোবাসার সন্ধি বিচ্ছেদ, জীবন যখন যেমন, বিরহী প্রহর, ছোটদের মহানবী সা. ছোটদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম, ছোটদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , ছোট বড় তিন ভূত, ডাকাত মামা, আবাং কাকাক, চিকেন ফ্রাই ও আইসক্রিম, আমি দারোয়ান হতে চাই, শিশু নাচে তিড়িং বিড়িং, তিন ভূতের কাণ্ড ইত্যাদি। তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ এর লেখা ছড়া পড়ি জীবন গড়ি (এক, দুই, তিন) এবং প্লে-গ্রুপ ও নার্সারী শ্রেণির জন্য রচিত মোট ৯টি বই প্রায় সকল জেলায় পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। লেখালেখিতে তিনি কবি শামসুর রাহমান সাহিত্য পদক-২০১০, চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতান সাহিত্য পদক-২০১১, শেরে বাংলা স্মৃতি পদক-২০১২, কবি নজরুল সাহিত্য সম্মাননা-২০১৩, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য সম্মাননা-২০১৩, জাগো বাংলাদেশ শিশু-কিশোর ফেডারেশন কর্তৃক বিজয় দিবস সম্মাননা-২০১৪, বিশ্ব শিশুদিবস সম্মাননা স্মারক-২০১৪, ছড়ার ডাক সম্মাননা-২০১৪, কালচারাল মুভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড-২০১৫ এবং শিশু সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কিচির মিচির সাহিত্য সম্মাননা’সহ প্রায় অর্ধশত সম্মাননা স্মারক অর্জন করেন। এছাড়া কলকাতা থেকে বিশ্ববঙ্গ স্মারক সম্মাননা-২০১৪ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ছোটদের কাগজ টাপুরটুপুর ও মাসিক ভিন্নমাত্রা’র সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে এটি নিয়মিত প্রকাশ করছেন। তিনি ভিন্নমাত্রা রিসার্চ সেন্টার ও ভিন্নমাত্রা লেখক ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। তিনি মহান স্রষ্টার কল্যাণে ব্রত রেখে নিজেকে সঁপে দিতে চান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আমদানি করা সংস্কৃতিকে রুখে দিতে হবে : রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

বিশেষ প্রতিবেদক: জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম আয়োজিত ৭ নভেম্বরের আলোচনা সভা ও কবিতাপাঠ আয়োজনে বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী বলেছেন, আমদানি করা এবং অনুপ্রবেশকারী বিজাতীয় সংস্কৃতিকে যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, সবার আগে আমাদের বাংলাদেশ, আমাদের শাশ্বত সংস্কৃতি। শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ। তারা কিছুতেই বিজাতীয় সংস্কৃতিকে গ্রহণ করবে না। বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা ও কবিতাপাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্ণারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি শাহীন রেজা। উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ফিরোজ। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কবি ও শিক্ষাবিদ ড.শহিদ আজাদ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক ও গবেষক জামাল উদ্দিন জামাল। উপস্থাপনা করেন কবি কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিজন রফিকুল ইসলাম ও শাহ সিদ্দিক । অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা ও কবিতাপাঠে অংশগ্রহণ করেন কবি শামীমা চৌধুরী, কবি ও শিক্ষাবিদ তন্ময় হারিস, কবি শাওন আসগর, কবি সৈয়দ রনো, কবি সাজেদা হেলেন, কবি ফরিদ ভূইয়া, কবি হুমায়ুন কবির সিকদার, কবি ও পুথিকার জালাল খান ইউসুফী, কবি রি হোসাইন, কবি মাহমুদুন্নবী জ্যোতি, কবি কুতুবউদ্দিন, কবি নাহিন শিল্পী, চারনকবি সফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরী, এড. ইকবাল সেলিম, ফিরোজ আহমেদ রুবেল, নিয়াজ রায়হান, মিজানুর রহমান, গোলাম মাওলা শিকদার প্রমুখ। কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, আমরা শুধু বাঙালী নই আমরা বাংলাদেশী বাঙালী, এ কারণে কিছুতেই আমাদের এক করা যাবে না। এক নিরঙ্কুশ স্বাতন্ত্র্যতা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আর এই স্বাতন্ত্র্যতা আমাদের দান করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কবি শাহীন রেজা বলেন, আমাদের জাতীয়তাবাদের উৎসমূল ৭ নভেম্বর। এই একটি দিবস আমাদেরকে উপহার দিয়েছে নতুন একটি চেতনা । এরমধ্য দিয়েই জাতীয় জীবনে নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন জনতার প্রাণের মানুষ জিয়াউর রহমান। কবি ড.শহিদ আজাদ বলেন, ৭ নভেম্বর না হলে আমরা একটি দেশের পুর্নাঙ্গ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত হতাম। সিপাহী জনতার ঐক্য আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ জিয়া আমাদেরকে শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখাননি একটি স্বাধীন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। অনুষ্ঠানে জননন্দিত জননায়ক তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন কবি ও ইসলামী চিন্তক কুতুবউদ্দিন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শ্রীমঙ্গলে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে ধানের শীষ প্রার্থী হাজী মুজিবের মতবিনিময়

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি মো: আল-আমিন:  মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে সাবেক ছাত্রদল,যুবদল ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও মৌলভীবাজার ৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। আজ শুক্রবার (২১নভেম্বর) বিকালে শহরের টি ভ্যালী, রেস্টুরেন্টের হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায়মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নিয়ামুল হক তরফদারের সভাপতিত্বে ও মৌলভীবাজার জেলা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি মোবারক হাসান লুৎপার, সঞ্চালনায় মতবিনিময় সবার কার্যক্রম শুরু হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, মোছাব্বির আলী মুন্না, সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য বাদশা মিয়া কাজল, মৌলভীবাজার স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান তপন,মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুক আহমেদ,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব টিটু আহমেদ, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন,সাবেক ছাত্র নেতা মোরাদ হোসেন প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম জাহান,মৌলভীবাজার জেলা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান শিপু,আলী হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তইয়বুর রহমান,পৌর ছাত্র দলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জাহিদ, সাবেক ছাত্র নেতা জালাল আহমেদ,এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ ৫ শতাধিক কর্মীবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

 

টাঙ্গাইলে ২৭ সেকেন্ডের ভূমিকম্পে উৎকণ্ঠিত স্থানীয়রা

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন টের পান জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। হঠাৎ কাঁপুনিতে ঘরবাড়ি, দোতলা ও বহুতল ভবন ও দোকানপাট থেকে অনেকেই দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়। জেলাবাসী উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, ভূকম্পনের সময় অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ২৭ সেকেন্ডের দুলুনিতে ভবনে বাস করা অনেকেই উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছিলেন। ঘরের আসবাব-থালা-বাটি পড়ে যাচ্ছিল। অগুনসহ চুলা কেঁপে উঠায় অনেক গৃহিনী ভেবেছেন এই বুঝি ভবনটি ভেঙে পড়ছে। কম্পনের ফলে অনেকেই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর জানতে পেরে তারা বুঝতে পারেন এটি ভূমিকম্পই ছিল। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল জেলায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ঝুলন্ত তার দুলতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। জেলার বেশ কিছু এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়, ফলে অনেকে মুহূর্তকাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, আজমি খন্দকার, নাজমুল ইসলাম, আমজাদ সিদ্দিকী সহ অনেকেই জানান, হঠাৎ মনে হলো ঘরটা কাঁপছে। কয়েক সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল। তারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
ভূমিকম্পের পর সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরুরি বার্তা ছড়িয়ে দেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। তারা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে ভবনের সিঁড়ি ব্যবহার, উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান এবং জরুরি বহির্গমন পথ প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানান। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ভূকম্পনে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা ও উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণ ও দুর্যোগে পূর্বপ্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘টাঙ্গাইল স্টেশনে ভূকম্পন মাপার যন্ত্র নেই। রাজধানীর কাছের জেলা হওয়ায় সেখান থেকেই ভূকম্পন মাপা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে টাঙ্গাইলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূকম্পনের স্থায়িত্বকাল ছিল ২৭ সেকেন্ড। নিকট অতীতকালের মধ্যে এটি বৃহৎ ভূকম্পন ছিল।’
টাঙ্গাইললের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘ভূমিকম্প অনুভূতের পর পরই দ্রুত মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, টাঙ্গাইল নিরাপদ রয়েছে।’

আলোকিত প্রতিদিন/২১নভেম্বর ২০২৫/মওম

সেনানিবাসে খালেদা জিয়া, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্তে কিছু সময় আলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২১ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে তিনি রওনা হয়ে সাড়ে ৪টার পর সেনাকুঞ্জে পৌঁছান। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন।

তবে, খালেদা জিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার আলাপের বিষয়বস্তু কী ছিল তা জানাননি শায়রুল কবির খান।

dhakapost

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পারষ্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

এসময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে একই গাড়িতে সেনাকুঞ্জে গিয়েছেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইসকান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইসকান্দার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

dhakapost

শায়রুল কবির খান জানান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদও সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২১নভেম্বর ২০২৫/মওম

অস্ট্রেলিয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ ডিসেম্বরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ হবে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্করা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে এবং তাদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টও বন্ধ বা মুছে দেওয়া হয়।

সরকার বলছে, শিশুদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকি এবং চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ অনেক প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন এমন, যা শিশুদের দীর্ঘসময় স্ক্রিনে রাখতে উৎসাহিত করে— আরও খারাপ হলো, এসব প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকি থাকে।

সরকারের করা এক জরিপে দেখা গেছে,১০-১৫ বছর বয়সী ৯৬ শতাংশ শিশু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। এসব কনটেন্টের মধ্যে ছিল নারীবিদ্বেষ, মারামারির ভিডিও এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির কনটেন্ট।

সরকার আপাতত যে ১০টি প্ল্যাটফর্মকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে সেগুলো হলো: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব, রেডিট, কিক এবং টুইচ। এখন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর চাপ বাড়ছে।

সরকার জানিয়েছে, কোন প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসবে তা তিনটি মানদণ্ডে নির্ধারণ করা হবে: প্ল্যাটফর্মটির প্রধান বা উল্লেখযোগ্য উদ্দেশ্য কি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করা? প্ল্যাটফর্ম কি ব্যবহারকারীদের একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়? প্ল্যাটফর্ম কি ব্যবহারকারীদের নিজের কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ দেয়?

তবে ইউটিউব কিডস, গুগল ক্লাসরুম এবং হোয়াটসঅ্যাপ নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, কারণ এগুলো ওই মানদণ্ডে পড়েনি।

আলোকিত প্রতিদিন/২১নভেম্বর ২০২৫/মওম