আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 219

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

২৩ নভেম্বর রবিবার সচিবালয়ে সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো শঙ্কা নেই। ‘আজকে দেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, সেই সময়ে বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ-মিছিলের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সভা-সমিতির সংখ্যাও বেড়ে যাবে।’ ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। দেড় বছরের চেষ্টায় উন্নতির দিকে গেছে,’ যোগ করেন তিনি।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, দেশে যে পরিমাণ অপরাধ চলছে, তাতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা ক্রান্তিকাল পার করছি কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্য। আর সে কীভাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক হলো, সেটাও আমি জানি না। এখন আমাদের দেশে সবাই বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষক। কিন্তু কে কোন যোগ্যতায় হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।’

ভূমিকম্প নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে ভূমিকম্প নিয়ে কোনো আগাম সতর্কতা আছে কি না, আমার জানা নেই। তবে আমাদের দেশে নেই। অনেক দেশে নাকি একটা অ্যাপ আছে, যে দশ সেকেন্ড আগে সতর্কতা দেওয়া যায়। এমন একটা অ্যাপ খোলা যায় কি না, আমরাও সেই চিন্তা করছি।’

‘অনেকে বলে, একটা ভূমিকম্প হওয়ার পরে এক–দেড় ঘণ্টা পর আরেকটা হওয়ার শঙ্কা থাকে। এক–দেড় ঘণ্টা পর সেই শঙ্কা কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তো একটা হওয়ার পর ছোট আকারে আরেকটা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। পরবর্তীতে আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলবো।’

পাশাপাশি সবার প্রতি বিল্ডিং কোড মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘জলাশয় ভরাট করে ভবন করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি বেশি থাকে। ভূমিকম্প হলে লোকজন গিয়ে কোথাও দাঁড়াবে, তেমন কোনো মাঠও নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

মধ্যরাতে এক সাংবাদিককে ডিবি তুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি যে কাজটি করেছেন, সেটা সাংবাদিক হিসেবে না, সেটা  অন্য ধরনের কাজ ছিল।’

আলোকিত প্রতিদিন/২৩নভেম্বর ২০২৫/মওম

হোসেনপুরে ছিঁড়ে পড়া তারে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে ২ ভাইয়ের মৃ*ত্যু

তৌহিদুল ইসলাম সরকার,‎ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু খান (৬০) ও ফজলু খান (৫৫) নামের আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
‎শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা আজিজ খান সরকার বাড়ী এলাকার মৃত. আবুল হাসেন খানের ছেলে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে গরুর জন্য খড় আনতে যান নুরুল ইসলাম (নুরু খান) এ সময় আগে থেকে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে অসাবধানতাবশত স্পৃষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ভাই শামছুল ইসলাম(ফজলু খান) ও একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। ‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা ‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে ২২ নভেম্বর শনিবার আদালতের সম্মেলনকক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জাামানের সভাপতিত্বে এবং ফোকাল পার্সন ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, আইনজীবী সমিতির সভাপতি জহুর আজহার খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), বিদ্যুৎ আদালত সহ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল

ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পারিবারিক আদালতের বিচারক, বন আদালতের বিচারক, জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, কোর্ট ইন্সপেক্টর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সিএসআই ও জিআরও উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে বক্তারা ফৌজদার মামলার দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত, যথাসময়ে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা, মরদেহের ময়নাতদন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ভারী ও বড় আলামত

সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে মামলার যথাযথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবন্ধকতা নিরসন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ তার বক্তব্যে সঠিক তদন্ত, সঠিক বিচার প্রক্রিয়া ও সময়মতো বিচার হলে ওই এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে। এসময় তিনি বলেন, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স হলো পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি সভা। এসময় তিনি- সঠিক তদন্ত, যথাযথ ধারা দিয়ে মামলা লিপিবদ্ধ করা, আলামত সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন, সময়মতো আলামত আদালতে উপস্থাপনের উপর গুরুত্ব আরোপ এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

ঢাকায় সন্ধ্যায় ফের ভূমিকম্প

আলোকিত ডেস্ক:

ঢাকায় ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।  ২২ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড নাগাদ এ কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা জানা যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন,ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে উত্তর ও উত্তর-দক্ষিণ দিকে ৮ কিলোমিটার দূরে।

এদিকে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, এই ভূমিকম্পটা আফটার শক হতে পারে। রিখটার স্কেলে ৩.৫ থেকে ৩.৮ মাত্রার হওয়ার সম্ভাবনা। এটা নিশ্চিত করে আবহাওয়া অফিস বলতে পারবে।

এর আগে আজ সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ঢাকা ও এর আশপাশে ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের এ তথ্য জানিয়েছে। ইএমএসসি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের বিষয়ে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তর উত্তর পূর্বে।

ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ২৯ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর পলাশে এর উৎপত্তিস্থল।

গতকাল নরসিংদীতে উৎপত্তি হওয়া দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ১০ জন মারা যান। সারাদেশে আহত হন কয়েকশ মানুষ।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের পাশে চলছে অবৈধ ইট ভাটা,হুমকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা 

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাটের পশ্চিম লাউতলী গ্রামে লাউতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে চলছে আমানিয়া, ও সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামে সোনালী ব্রিকস নামের অবৈধ দুইটি ইট ভাটা।তামান্না নামের ইট ভাটার কার্যক্রম মালিক পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে এবার তাঁরা বন্ধ রেখেছে।
এসব অবৈধ  ইট ভাটার দাপটে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে গ্রামটি। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, অবৈধ  ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণী কক্ষ। শিক্ষকরা শ্রেণী কক্ষের দরজা জানালাগুলো বন্ধ করে ক্লাস নিলেও মিলছে না নিস্তার।শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধোঁয়া এবং গন্ধের কারণে সবসময় শিক্ষার্থীদের হাঁচি, কাশি লেগে থাকে।ফেব্রুয়ারি মার্চের দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন,ইট ভাটার জন্য মাটির ট্রাকগুলো গণহারে আসা যাওয়ার কারণে পুরো গ্রাম তখন ধুলোয় আচ্ছন্ন থাকে।রাস্তাঘাটে চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়ে।তখন বাচ্চারা আর ক্লাসে আসতে পারে না।
শিক্ষা লাভের আশায় ভর্তি হওয়া গ্রামের শিশুদের বিকল্প বিদ্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন,বিগত বছরগুলোতে এসব বিষয় নিয়ে বিদ্যালয় থেকে উপজেলা প্রশাসনে লেখালেখি হলেও কার্যকর কোনো ফল মেলেনি।নাম না প্রকাশ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন,’তাঁরা খুবই প্রভাবশালী মানুষ।’ যদি জানতে পারে আমার নাম তাহলে জানে মেরে ফেলবে’।এ নিয়ে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: সালাউদ্দিন প্রতিবেদকের কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অসহায়ত্ব সামনে এনে বলেন,”যা কিছু ঘটছে সেটা তো আপনারা দেখছেন”।
স্হানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বেপরোয়া মাটির গাড়ি,ধুলায় দূষণের শিকার হয়ে কয়েকবার সবাই মিলে সোনালী ব্রিকসের মালিক ওই গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান ভূইয়াকে জানালে তিনি আমাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন।বেশি কথা বললে অসুবিধা হবে বলে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন।অথচ পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাচাতে তিনি তাঁর পরিবারকে ঢাকায় রাখেন।এছাড়া তিনি ইট ভাটার লাভের অর্থ দিয়ে জেলা শহর মাইজদী নোয়াখালী ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি গাড়ির মালিক বনে যান।নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়,
এখানে হাফেজা ব্রিকস নামে একটি অবৈধ ইট ভাটা আছে।কিন্তু বাস্তবে আমানিয়া ব্রিকস নাম দিয়ে ২০২১ সাল থেকে জমিদার হাটের তারেক ও সাইফুল দুই ভাই বৈধ কোনো কাগজ পত্র ছাড়া  ইট ভাটাটি চালিয়ে আসছেন।কাগজ পত্রে মেসার্স হাফেজা ব্রিকস উল্লেখ থাকলেও আমানিয়া নামে ইট ভাটার কোনো কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি।এসময় ওই ভাটার মালিক সাইফুল মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদককে বিভ্রান্ত করার জোর চেষ্টা চালান। ইট ভাটা থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব আনুমানিক ২০০ মিটার।যেটা পরিবেশ আইন (২০১৩) সংশোধিত (২০১৯) স্পষ্ট লঙ্ঘন। বরং এতে আছে  ১হাজার মিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় থাকলে ইট ভাটা স্হাপন করা যায় না।এসব আইনকানুন ও নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের কোনোরূপ হস্তক্ষেপ ছাড়া বছরের পর বছর চলছে অবৈধ পরিবেশ বিধ্বংসী এসব ভাটা।এখানে উল্লেখ্য পশ্চিম লাউতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ ইংরেজিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, অবৈধ ইট ভাটাগুলো গত ১০ বছরেরও অধিকাল ধরে চলছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: মরিয়ম সিমি বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ইট ভাটা স্হাপন অপরাধ। তিনি জানান,ইট ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় মারাত্মক বায়ু দূষণ ঘটায়।এতে রয়েছে ক্ষুদ্র কণা পদার্থ PM 2.5,PM 10, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড,ক্যাডমিন,পারদ,বেনজিন,ফর্মালডিহাইড,ডাইঅক্সিন ইত্যাদি। এসব পদার্থ শিশু শিক্ষার্থীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, কাশি,গলা ও চোখে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি ব্রংকাইটিস,শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে ক্যানসার তৈরি করে। ক্ষুদ্র কণা PM 2.5 রক্তের সাথে মিশে গিয়ে রক্তচাপ বাড়ায়।যার ফলে হার্ট এ্যাটাক,স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।সীসা ও পারদের মতো ভারী ধাতু শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও স্নায়ুবিক কার্যকারিতা হ্রাস করে। রক্তশূন্যতা, কিডনি রোগ,ত্বকের সমস্যা এবং প্রজনন ব্যবস্হায় সমস্যা হতে পারে।
এবিষয়ে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন,’বিষয়টি অতীব দু:খজনক।এতোদিন ধরে  অবৈধ ইট ভাটাগুলো চলছে সেটা তো কেউই লিখিতভাবে জানায়নি”।তবে আমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।ইতোমধ্যে আমরা অবৈধ ইট ভাটা  মেঘনা ব্রিকস ভেঙে দিয়েছি।অন্যান্য অবৈধদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
বেগমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) মো: আরিফুর রহমান বলেন,আমানিয়া নামের ইট ভাটার কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হবে। অবৈধ হলে ভেঙে দেয়া হবে। এর আগে গত বছর আমরা একাধিক অবৈধ ইট ভাটা ভেঙে দিয়েছি।…চলবে

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলের পৌর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশায় সয়লাব, স্থবির নাগরিক জীবন 

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ভাবে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে পৌর এলাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে শহরে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে অফিস টাইমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট। ঘন্টার পর ঘণ্টা যান জটের কবলে আটকা পড়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অফিস যাত্রী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, বিগত মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সময়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিটি লাইসেন্স বাবদ ফি নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। এই লাইসেন্স প্যাডেল চালিত রিকশার জন্য দেওয়া হলেও পৌরসভার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বর্তমানে লাইসেন্স গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশায়। এটা পৌরসভার আইন অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত। বিগত সময়ের মেয়র দায়িত্ব থাকাকালীন সময় থেকেই এভাবে চলছে বলে জানা যায়। কিছু কিছু রিকশার মালিকরা একই নামে দশের অধিক লাইসেন্স নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ক্রয় করে চালকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।
পৌরসভার তালিকাভূক্ত ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এই রিকশাগুলো টাঙ্গাইলের অননুমোদিত মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ আরো নামে-বেনামে ৩০টির অধিক অবৈধ কারখানা থেকে তৈরি হচ্ছে।
এইসব কারখানার অধিকাংশ মিস্ত্রিদের কোন ধরনের কারিগরি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। ফলে শহরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এইসব রিকশা গুলোর ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের দরকার হচ্ছে।‌ এর ফলে দিনদিন শহরে লোডশেডিং বাড়ছে।
সরজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের টাঙ্গাইল-বাঘিল আঞ্চলিক সড়কের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, তিনজন কারিগর ব্যাটারিচালিত রিকশার নতুন অনেক গুলো বডি তৈরি করছে। এদের দুইজনকে মালিক রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভাড়া করে এনেছে। এছাড়া একজন ১২ বছরের কিশোর কোনরকম নিরাপত্তা পোশাক না পড়েই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছে। তারা জানায়, প্রতিটি বডি তৈরি করলে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২শত টাকা ও অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা করে মুজুরি পান। এছাড়া থাকা-খাওয়া মালিকের মধ্যে। চিলাবাড়িতেই রয়েছে মা-মটরসের বিক্রয়ের শোরুম। শো রুমের সমানেই সড়কের অপর পাশে ঢাকা থেকে কারিগর এনেছেন রিকশার সিট ও সৌন্দর্য বর্ধনের হুড তৈরির জন্য। এছাড়া রিকশার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজ করছেন স্থানীয় একজন কারিগর।
মা-মটরসের মালিক দুলাল মিয়া এক সময় রিকশার মেকার হিসেবে টাঙ্গাইল শহরে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন ধরনের বৈধ অনুমোদন পত্র তার নেই এবং কোন ধরনের কারিগরি জ্ঞানও নেই। তিনি দীর্ঘদিন রিকশা মেরামত অথাৎ মেকারের কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই রিকশা তৈরির কারখানা করেছেন।
এমনকি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) টাঙ্গাইলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করার কোন অনুমোদন আছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সে ব্যাপারেও না করেন। কোন ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা করেন না বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন জানান, মা-মটরস নামের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা আমার ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে তাদের এই রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কোন কাগজপত্র আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। প্রয়োজনে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, জুয়েল রানা, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া, শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন জানান, শহরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। এর সাথে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম্বার বিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে ব্যস্ততম সময়ে শহর এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া এই ধরনের রিকশা চালকদের কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র রিকশা পার্কিং ও যাত্রী তোলার ফলে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তাহলে শহরে কিছুটা হলেও যানজট কমবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (উএনও) শাহীন মিয়া জানান, আমি টাঙ্গাইলে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাই এই ধরনের কোন রিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মো. শিহাব রায়হান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোন ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। আর টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা মুক্ত শহর করতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও এই অবৈধ রিকশা গুলো আটক করে ডাম্পিং করা যায় কিনা সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এইসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

 

– Advertisement –

সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার বিষয়ে তার দল অবিচল : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার বিষয়ে তার দল অবিচল। গণভোটে ৪টি প্রশ্ন রাখলে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত জনগণ সেটির অর্থ বুঝবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

২২ নভেম্বর শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেয়ারটেকারদের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কিছু আলেম-ওলামা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলন; সেটি দুঃখজনক ছিল বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “একদল মুখে ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে তারা তা পালন করে না।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে দলীয় লোক বসালে তা সঠিকভাবে চলবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।

বিএনপি নেতা বলেন, “সংবিধানে মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপিই প্রথম দিয়েছিল। দেশে যে পরিবর্তনের সুযোগ আসছে, তা আমরা কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থায়ী করতে চাই।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “বড় বড় পণ্ডিতরা দেশ-বিদেশ থেকে এসে সংস্কারের প্রস্তাব দেন। শেষে যে পিআরের কথা বললেন তা জনগণ বোঝে না। বিএনপি সংস্কার চায় বলেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। একটি রাজনৈতিক মহল এতদিন পিআরের জন্য সমানে চিৎকার করলেও এখন সুর নরম করেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্র থাকলে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।”

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জোটগঠন বিষয়ে তিনি বলেন, “একসময় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি জোটবদ্ধ থাকলেও শেষ ১০ বছর তাদের সঙ্গে আমরা ছিলাম না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের দৃশ্যমান কিছু দেখা যায়নি। শোনা যায় বিগত দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সেজে অবস্থান করেছিল তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা মেনে নেবেন না: মীর সরফত আলী সপু

মুন্সীগঞ্জ  প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দেওয়া মনোনয়ন স্থানীয় নেতাকর্মীরা কখনোই মেনে নেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে যে খসড়া মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা শতভাগ পরিবর্তন হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন জনগণ যাকে নেতা বলবে সেই-ই প্রকৃত নেতা। সুতরাং এলাকার নেতাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা না থাকা কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি মনোনয়ন পেতে পারে না।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আয়োজিত এ জনসভায় মীর সরফত আলী সপুর পাশাপাশি আরও দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মমিন আলী এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই শ্রীনগর স্টেডিয়াম এলাকায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হয়। প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশ শেষে বেলা ১টার দিকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় কিছু নেতাকর্মী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধের চেষ্টা করলে মীর সরফত আলী সপুর অনুরোধে তারা সরে গিয়ে পাশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের দূর সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলন-সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন- এমন যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই তারা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মীর সরফত আলী সপু ও আলহাজ্ব মমিন আলী আশা প্রকাশ করেন যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইউক্রেনে শান্তির ভিত্তি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা : পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যে শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে, তা দেশটিতে স্থায়ীভাবে শান্তি স্থাপনের ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

যদি ইউক্রেন এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় সায় না দেয়, তাহলে একসময় পুরো ইউক্রেন রাশিয়ার কব্জায় চলে আসবে বলে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। গতকাল রাজধানী মস্কোতে রাশিয়ার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়া সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে এ সম্পর্কে কথা বলেছেন পুতিন। তিনি বলেছেন, “আমার বিশ্বাস, এটি (ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা) ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হতে পারে। মার্কিন প্রশাসন অবশ্য এখন পর্যন্ত এ পরিকল্পনার ব্যাপারে ইউক্রেনের সম্মতি আদায় করতে পারেনি। কারণ ইউক্রেন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে।”

“যদি কিয়েভ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে না চায় কিংবা প্রত্যাখ্যান করে—সেক্ষেত্রে ইউক্রেন এবং তার যুদ্ধবাজ ইউরোপীয় মিত্রদের এটা বোঝা উচিত যে সম্প্রতি আমরা পূর্ব ইউক্রেনের প্রধান শহর কুপিয়ানস্ক দখল করেছি এবং যুদ্ধবিরতি না ঘটলে একসময় পুরো ইউক্রেন আমাদের কব্জায় আসবে।”

উল্লেখ্য, কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ২০১৪ সাগরে দখল করে নিজেদের মানচিত্রভুক্ত করে রাশিয়া। এর আগ পর্যন্ত এটি ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছিল। পরে ২০১৫ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে মেনে নেয় ইউক্রেন এবং এ বিষয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেয়।

কিন্তু পরে এই শর্ত না মেনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য তদবির শুরু করে ইউক্রেন। এই নিয়ে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনও চলছে। গত প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেনের দনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন— এই চার প্রদেশ রাশিয়া। এই প্রদেশগুলোর সম্মিলিত আয়তন ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ডের ১৯ শতাংশ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চিরতরে বন্ধের অবসানে সম্প্রতি ২৮টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবের এক জায়গায় বলা হয়েছে, ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ঝাপোরিজ্জিয়া এবং খেরসনের দখল ছেড়ে দিলেও ঝাপোরিজ্জিয়ায় অবস্থিত ইউক্রেনের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেক মালিকানা পাবে রাশিয়া।

এছাড়া যুদ্ধের সময় রাশিয়া, প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং তার অনুগত রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্ব যেসব নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, সেগুলো সব তুলে নেওয়া হবে। প্রত্যাহার করা হবে পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।

রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে পুতিন জানান, গত আগস্টে যখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তিনি, সেই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে এই পরিকল্পনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল তার।

সূত্র : রয়টার্স

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম

হোয়াইট হাউজে মামদানিকে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং দপ্তর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে মামদানির। সাক্ষাতের পর মামদানির ব্যাপারে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি আপনাদের বলতে পারি যে (মামদানি ইস্যুতে) আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস (নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে) মামদানি তার দায়িত্বগুলো খুব ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারবেন। এমনকি আমি এ-ও মনে করি যে তিনি তার কাজ, পারফরম্যান্স দিয়ে অনেক রক্ষণশীল লোকজনকে চমকে দেবেন।”

আগামী ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের মেয়রের শপথ নেবেন মামদানি। শপথ গ্রহণের পর ৩৪ বছর বয়সী মামদানি হবেন নিউইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং প্রথম মুসলিম মেয়র।

নির্বাচনের সময় অবশ্য জোহরান মামদানিকে আটকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প নিজে মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আটকে দেবেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, মামদানির বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণাবাবদ ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টি।

তবে শুক্রবারের সাক্ষাৎ এবং বৈঠকের পর ট্রাম্পের মধ্যে আগের সেই মনোভাবের লেশমাত্র উপাস্থিতি দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, “বিভিন্ন ইস্যুতে আমি যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি একমত হয়েছি আমরা। একটা ব্যাপার কমন আছে আমাদের মধ্যে, আর তা হালো আমরা দু’জনই নিউইয়র্ক সিটিকে ভালবাসি এবং উভয়েই এই শহরের সর্বাঙ্গীন উন্নতি চাই।”

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, “আমরা নিউইয়র্ক সিটি এবং সেখানকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন ইস্যু এবং সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। এটা ছিল একটি ফলপ্রসূ, শ্রদ্ধা ও ভালবাসাপূর্ণ বৈঠক।”

সূত্র : আরটি

আলোকিত প্রতিদিন/২২নভেম্বর ২০২৫/মওম