টাঙ্গাইলে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
গণভোটের ব্যালট পেপার রঙিন হবে: ইসি সচিব
আলোকিত ডেস্ক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হলেও গণভোটের ব্যালট পেপার ‘রঙিন হবে’ বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উভয় ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট থাকবে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা কাগজের ওপর কালো প্রতীক। আর গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন কাগজের ওপর দৃশ্যমান যেকোনো কালি।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের পাঁচ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকা কমপ্লিট হয়ে যাবে। ৫ তারিখের আগেই যে ভোটার তালিকা পাব, সেই তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাব। আর অন্যান্য যে দ্রব্যাদি, যেমন— আমাদের লোগো, ব্যালট বক্স, আঙুলের অমোচনীয় কালি, স্টাম্পপ্যাড এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে। শেষ যে স্টক আমরা পেয়েছি, সেটাও এখন আমাদের দখলে আছে। আমরা এটা ক্রমাগতভাবে আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেব, যাতে শেষের দিকে চাপ না পড়ে।
ইসি সচিব আরও বলেন, প্রথাগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা পৃষ্ঠার ওপরে কালো প্রিন্টের ব্যালট পেপার হয়। এক্ষেত্রে আমরা একটা রঙিন কাগজ ব্যবহার করব গণভোটের জন্য। রঙিন কাগজের ওপরে যেটা দৃশ্যমান হয়,সেই দৃশ্যমানতা অনুযায়ী আমরা ব্যালট পেপারটা করব।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম
শীতকালে প্রতিদিন বাদাম খেলে কী হয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক:
শীতের ঠান্ডা বাতাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বেশিরভাগ সময় এমন খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি যা কেবল আরামদায়কই নয় বরং উষ্ণও। তেমনই একটি খাবার হলো বাদাম। শীতের দিনগুলোতে আমাদের বিকেলের নাস্তার অংশ হতে পারে এই পুষ্টিকর খাবার। শীতকালে আপনার খাদ্যতালিকায় এক মুঠো বাদাম যোগ করে নিন। এতে পাওয়া যাবে নানা উপকার।
বাদামের পুষ্টিগুন
বাদাম হলো সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে একটি। এটি প্রোটিন, হেলদি ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং রেসভেরাট্রলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি চমৎকার উৎস। বাদাম শরীরে উষ্ণতা তৈরি করে, যে কারণে এটি শীতকালের বিকেলগুলোতে নাস্তা হিসেবে অনন্য। মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রোটিন শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে নিয়াসিন এবং ফোলেট স্বাস্থ্যকর বিপাকক্রিয়ায় অবদান রাখে। বাদামে আর্জিনিনও থাকে, যা সেই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে একটি, যা রক্ত প্রবাহকে সহজ করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। বাদামের ফাইবার হজমে সাহায্য করে । চিনিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে সন্ধ্যার নাস্তার জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
শীতকালে শরীরের বিপাক ধীর হয়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত কম থাকে। এসময় নিয়মিত বাদাম খেলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করবে। বাদামে জিঙ্ক এবং ভিটামিন ই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি এমন শক্তি দেয় যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
বাদাম শরীরের অনেক সাহায্য করে, বিশেষ করে সন্ধ্যায় খাওয়া হলে। কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে এবং দেরিতে রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত রাখে। দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখার কারণে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে বা ক্যালোরি ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
ত্বক এবং চুল ভালো রাখে
ঠান্ডা আবহাওয়া ত্বককে শুষ্ক এবং খসখসে করে তুলতে পারে। বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ভিটামিন ই ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্ট করতে সাহায্য করে। বাদাম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের মতো কাজ করে। এর বায়োটিন চুলকে শক্তিশালী করে এবং ভাঙা রোধ করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে (প্রায় ২৫-৩০ গ্রাম) বাদাম খেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং শুষ্ক মাসগুলোতে চুল সুস্থ থাকে।
লবণ ছাড়া বা হালকা ভাজা বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ভাজা বা মসলাযুক্ত বাদামে অতিরিক্ত সোডিয়াম এবং তেল যোগ হয়। তাই এ ধরনের বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো। পুষ্টির শোষণের জন্য কাঁচা বাদাম ভাজার আগে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে পিনাট বার তৈরি করেও খেতে পারেন। এটি আয়রন এবং প্রোটিন একত্রিত করার একটি স্মার্ট উপায়।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম
পার্লামেন্টে বোরকাকে অসম্মান করায় অস্ট্রেলিয়ার নারী সিনেটর পওলিন হানসন বহিষ্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পার্লামেন্টে বোরকাকে অসম্মান করায় অস্ট্রিলিয়ার উগ্রডানপন্থি নারী সিনেটর পওলিন হানসনকে সাত কর্মদিবসের জন্য বহিষ্কার করেছে দেশটির সিনেট। প্রকাশ্যে বোরকা পরাকে নিষিদ্ধ করতে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংসদে বোরকা পরে আসেন তিনি। যা খুবই দৃষ্টিকটু ছিল। দেশটির আইন প্রণেতারাই এ ঘটনার নিন্দা জানান।
এই উগ্রপন্থি সিনেটর প্রকাশ্যে বোরকা নিষিদ্ধ করতে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বোরকা পরে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন। পরে তিনি সেটি খুলে ফেলেন। তার এ কর্মকাণ্ড মুসলিম আইনপ্রণেতাদের জন্য বর্ণবিদ্বেষী হিসেবে সমালোচনা শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি অং, যিনি সিনেটে মধ্য-ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি বলেছেন, “সিনেটর হ্যানসনের বিদ্বেষপূর্ণ লোক দেখানো কাজ আমাদের সমাজের বন্ধনীকে ছিন্নভিন্ন করেছে। আমি বিশ্বাস করি তার এ কাজ (বিশ্বব্যাপী) অস্ট্রেলিয়াকে দুর্বল করেছে। তার এ কাজের জন্য অন্যদের খারাপ পরিণতির মধ্যে পড়তে হবে।”
তিনি আরও বলেছেন, “সিনেটর হ্যানসনের এ কাজ একটি বিশ্বাসকে (ইসলাম) তাচ্ছিল্য ও অপমান করেছে। যে বিশ্বাস পালন করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ লাখ মানুষ। পার্লামেন্টে কাউকে এতটা এতটা অসম্মানজনক হতে কাউকে আমরা দেখিনি।”
পার্লামেন্টে বোরকাকে অপমান করা এই নারী সিনেটর তার কাজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি আপনি ব্যাংক বা অন্য কোনো ভেন্যুতে হেলমেট পরেন, এটি যদি আপনাকে খুলে ফেলতে বলা হয়। তাহলে বোরকা কেন ভিন্ন হবে?”
এই মুসলিম বিদ্বেষী বলেছেন, বোরকা নিয়ে তার যে দৃষ্টিভঙ্গি আছে সেটিই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া পার্লামেন্টে যেহেতু কোনো ড্রেসকোড নেই। তাই তিনি চাইলেই যে কোনো কিছু পরে এখানে আসতে পারেন।
কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের এ সিনেটর ১৯৯০ সালের দিকে প্রথম পরিচিতি পান। তিনি দক্ষিণ এশিয়া থেকে অভিবাসী আসা এবং মুসলিম পোশাক পরিধানের বিরুদ্ধে ছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম
সেনবাগে অবৈধ ইট ভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দিল প্রশাসন,জরিমানা ৫ লক্ষ টাকা
জাবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ,যান চলাচল বন্ধ
আজ থেকে ঘরে বসেই করা যাবে মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ, করবেন যেভাবে
আলোকিত প্রতিবেদক: ঢাকা মেট্রোরেল ব্যবহারে যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে চালু হলো অনলাইন রিচার্জ সেবা। এর ফলে স্টেশনের লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছাড়াই মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে ঘরে বসে র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস রিচার্জ করা যাবে।
বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী।
ডিটিসিএর নতুন এই ব্যবস্থায় ঘরে বসে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ যেকোনো অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করা যাবে। এজন্য ডিটিসিএর ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। এরপর র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট সফল হলেও স্টেশনে স্থাপিত নতুন এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ না করা পর্যন্ত রিচার্জ কার্যকর হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। অনলাইন রিচার্জ করা টাকা তিন মাস পর্যন্ত ‘অপেক্ষমাণ’ অবস্থায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ না করলে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে রাখা হবে। গ্রাহক চাইলে রিচার্জের সাত দিনের মধ্যে ফেরত নিতে পারবেন, সেক্ষেত্রেও একই পরিমাণ ফি প্রযোজ্য হবে। অনলাইন
বর্তমানে মেট্রোরেলের রিচার্জ করা টাকা ও গ্রাহকের তথ্য কার্ডের ভেতরে সংরক্ষিত থাকে এবং গেটে থাকা যন্ত্র তা পড়ে নেয়। তবে অনলাইন রিচার্জে তথ্য সফটওয়্যারে থাকবে বলে সাধারণ গেটে টাচ করলেই তা দেখা যাবে না। তাই যাত্রাপূর্বে নির্দিষ্ট এভিএম যন্ত্রে কার্ড স্পর্শ করে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে গেটে টাচ করে যাতায়াত করা যাবে।
এমআরটি বা র্যাপিড পাস ব্যবহারকারীরা নিয়মিত ১০ শতাংশ ভাড়া ছাড় পান। বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী এই কার্ড ব্যবহার করছেন, বাকি ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন।
অক্টোবরে সময়সূচি পরিবর্তন করে প্রথম ও শেষ ট্রেনের সময় আরও আগানো হয়। বর্তমানে সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন এবং রাত সাড়ে ৯টায় শেষ ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায় এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
আখাউড়ায় সরকারি মূল্যে আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু
মোঃ নিশাদুল ইসলাম:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ” আগে আসলে আগে সংগ্রহ ” এমন নীতি ও স্লোগানকে সামনে রেখে তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে এ অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া প্রান্তিক কৃষক হেবজু মিয়ার কাছ থেকে ধান সংগ্রহের মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তাপসী রাবেয়া তার বক্তব্যে বলেন, যারা প্রকৃত কৃষক তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ সর্তকতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ধান সংগ্রহ করা হবে। কোনো ভাবেই যেন কোন কৃষক কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হন প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ সম্পাদন করবে এবং তা নজরদারী করবে। এ ব্যাপারে
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মাধ্যমে জানা যায় যে চলতি মৌসুমে আখাউড়ায় ৪১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ প্রক্রিয়ায় একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করতে পারবেন। ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) তাছলিমা বেগম, গুদাম কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাজেদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রান্তিক কৃষকরা উপস্হিত ছিলেন।
সরকারি ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ শুরু অভিযান শুরু হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের চোখেমুখে স্বস্তি লক্ষ করা গেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম
দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন: রাজনাথকে সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
তিনি বলেছেন, সিন্ধ পাকিস্তানেরই অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। ভারতকে দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে। ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ বলেন, “সিন্ধ পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ছিল, আছে এবং থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনাথ সিং “ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ”। তার ব্যাখ্যা, ১৯৩৬ সালেই সিন্ধ তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে আলাদা হয়েছিল। যা পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগের ঘটনা। সিন্ধের মানুষের কাছে সবসময়ই তাদের নিজস্ব মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অন্য দেশের বিষয়ে দিবাস্বপ্ন না দেখে ভারতের মন্ত্রীর উচিত নিজেদের ভেতরের বিভাজন নিয়ে ভাবা।
প্রসঙ্গত, রাজনাথ সিং সম্প্রতি বলেছেন, “আজ সিন্ধ ভারতের অংশ না হলেও সভ্যতার দিক থেকে তা ভারতেরই অংশ। আর সীমান্ত তো বদলাতে পারে—কে জানে, হয়তো কোনো একদিন সিন্ধ আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রজন্মের সিন্ধি হিন্দুরা নাকি কখনোই পাকিস্তানের সঙ্গে প্রদেশটির যুক্ত হওয়াকে মেনে নেননি।
পরে গত রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতীয় মন্ত্রীর মন্তব্যকে “বিভ্রান্তিকর, ইতিহাস বিকৃতকারী এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” বলে নিন্দা জানায়। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য “সম্প্রসারণবাদী হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার” প্রতিফলন।
পাকিস্তান আরও বলেছে, ভারতকে উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকে মনোযোগী হতে হবে— বিশেষত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং ইতিহাস বিকৃতির কারণে যে বৈষম্য চলছে তা বন্ধ করতে হবে।
কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এফও জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরিদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারতকে ‘বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ’ নিতে হবে। পাকিস্তান ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানে অটল থাকলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।
সূত্র: জিও নিউজ
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম
অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর বা এলডিসি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনির্বাচিত সরকারের বন্দর বা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।’
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ পরিচালনা এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে দুটি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার প্রতিক্রিয়াটি শুরু করেন এভাবে– ‘গাজীপুরের ছোট একটি পোশাক কারখানার মালিকের গল্প এটা। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তার ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। কয়েকশ শ্রমিক রয়েছে। সীমিত আয়ে চলছে কারখানাটি। কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে নির্মম বিশ্ববাজারের সঙ্গে। একদিন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার জন্য যেসব শুল্ক সুবিধা একসময় তিনি পেতেন, তা নীরবে উঠে যায়। এর ফলে তার ক্রয়াদেশ ক্রমেই কমে যায়। বিপরীতে কারখানা খোলা রাখা, কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখার জন্য চাপ বেড়ে যায়।’
‘এখন নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ স্নাতকের দিকে দেখি। তিনি তার পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে দেখেছেন। তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। পরিবার চালাতে ওভারটাইমের ওপর নির্ভর করতে হয়। যখন রপ্তানির চাপ কমতে থাকে, শুরুতে ওভারটাইম উঠে যায়। এরপর শিফটে কাটছাঁট করা হয়। শেষে ছাঁটাই। এসব গল্প সংবাদের শিরোনাম হয় না। এগুলো সাধারণ ঘরের ভেতরকার নীরব সংকট।’
তারেক রহমান আরও লেখেন, ‘যে সিদ্ধান্তের কারণে তাদের এমন দশা, সেই সিদ্ধান্ত নিতে তারা ভোট দেননি। এমনকি তাদের কখনো জিজ্ঞেসও করা হয়নি। তাদের কখনো আসল সংখ্যাটাও দেখানো হয়নি। এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমরা যেমনটা দেখেছি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়েও তা-ই দেখছি। সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনগণের সমালোচনাকে ভালোভাবে নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততা ও অনিবার্যতার অজুহাত দেখিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে সরকারি বিবৃতি নিয়ে বিতর্ক যতটা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে এটা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেখেন, ‘বিএনপি আগেও বলেছে, সময় নেওয়ার বিকল্পের পথে না গিয়ে ২০২৬ সালে উত্তরণের সময়সূচি এগিয়ে নেওয়া পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অথচ তা নিচ্ছে এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তারপরও তারা এমন দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে বহু দশক ধরে প্রভাবিত করবে।’
‘আমাদের বলা হয়েছে, দেরি করাটা অসম্ভব। এমনকি এটা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করাটাও অপমানজনক হবে। জাতিসংঘ বিবেচনা করবে না। কিন্তু আমরা সবাই যদি নিবিড়ভাবে দেখি– দেখব, ইতিহাস আরও জটিল গল্প বলছে।’
অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশগুলোর জন্য উত্তরণের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, জাতিসংঘের নিয়মও বলছে– কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা খেলে সময়সীমা নিয়ে নমনীয়তা দেখানো যায়। অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বাড়তি সময় চাওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। তাহলে আমরা কেন বিকল্প না থাকার ভান করছি? কেন আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করছি?
‘আসলে বিকল্পটি প্রকাশ্যে বাতিল করে আমরা আমাদের নিজস্ব আলোচনার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই আমরা আমাদের অবস্থান প্রকাশ করে দিচ্ছি।
বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘সরকারি নথিপত্রে বলা হয়েছে– দেশের ব্যবসায়ীরা এরই মধ্যে ব্যাংকিং খাতে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি বৃদ্ধি, রপ্তানি শ্লথ হয়ে আসার চাপ মোকাবিলা করছেন। এটা উত্তরণবিরোধী কোনো যুক্তি নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু উত্তরণে ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া এক জিনিস নয়। আমি মনে করি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত জাতীয় শক্তিমত্তা নিয়ে সংশয়ে ভোগা উচিত নয়। আসল জাতীয় শক্তি হলো মূল্য অপরিবর্তনীয় হয়ে ওঠার আগেই কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার শৃঙ্খলা থাকা।’
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘এবার আসি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে। সেখানে যা ঘটে, সেটা লাখ লাখ মানুষের জীবনে রাজনৈতিক বোলচালের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। বন্দরের বিষয়ে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিত কাজের (রুটিন ওয়ার্ক) অংশ নয়। এগুলো একটি জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে ফেলার এসব সিদ্ধান্ত এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, যাদের কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।’
‘এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমরা যেমনটা দেখেছি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়েও তা-ই দেখছি। সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনগণের সমালোচনাকে ভালোভাবে নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততা ও অনিবার্যতার অজুহাত দেখিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা কথা স্পষ্ট করা দরকার– এটা কারো প্রতি ব্যক্তিগত সমালোচনা নয় কিংবা কাউকে আক্রমণ করার বিষয়ও নয়। বিষয়টা হলো– প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া। সেসব নীতি রক্ষা করা, যা দেশের ভবিষ্যৎ কয়েক দশকের জন্য নির্ধারণ করে দেয়। এসব সিদ্ধান্ত সেই সরকারের নেওয়া উচিত, জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহি রয়েছে।’
তারেক রহমান লেখেন, ‘কেউ বলছে না যে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে না কিংবা বন্দর সংস্কার করা উচিত নয়। যুক্তিটা আরও সহজ ও মৌলিক। একটি দেশ যে সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। কৌশলগত ধৈর্য কখনোই দুর্বলতা নয়। জনগণের মতামত কোনো বাধা নয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা মানে বিলম্ব নয়। আমার মতে, হয়ত এটাই এ পুরো আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।’
বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সবসময় নিজেদের মর্যাদা রক্ষা, মতপ্রকাশ আর পছন্দ বেছে নেওয়ার বিষয়ে কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে। দেশের মানুষের চাওয়াটা সহজ– তাদের কথা শোনা হোক, তারা অংশ নিতে পারুক এবং তাদের সম্মান জানানো হোক। আমাদের অনেকেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। দেশের মানুষের কথা বলার, বেছে নেওয়ার এবং একটি সহজ সত্য নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ এটা। যারা এখানে বসবাস করেন এবং বিশ্বাস করেন সবার আগে বাংলাদেশ।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ নভেম্বর ২০২৫/মওম

