আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 21

৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহণ চালালে লাইসেন্স বাতিলের সতর্কবার্তা বিআরটিএর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের মধ্যে ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে। এর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় চালক, সহকারী, যাত্রী ও পথচারীদের হতাহতের ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে যানবাহন চালানোর জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচলিত মোটরযান আইন অনুযায়ী কোনো চালক একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে সর্বোচ্চ আরও তিন ঘণ্টা যানবাহন চালানো যাবে। অর্থাৎ একজন চালক দিনে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের বেশি গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহণ মালিক ও চালকদের আইন মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিআরটিএ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হতে পারে।

এছাড়া, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

 

রামিসাকে ধ*র্ষণ ও হ*ত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মা*নববন্ধন

রানা ইস্কান্দার রহমান:

৭ বছরের দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী রামিসা কে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় কবিতায় প্রতিবাদ জানিয়ে গাইবান্ধায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ মে রবিবার বেলা ১১ টার দিকে জেলা শহরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সামনে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ জেলার সদস্যসহ সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। প্রগতি লেখক সংঘের সদস্য শিরিন আক্তারের সঞ্চালনয় উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সমিতির জেলার সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন, সদস্য গৌতম আশিষ গুহ, গোলাম রব্বানী মুসা, কবি সোহেল রানাসহ অন্যরা।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা রামিসা কে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কবিতার পাঠের মাধ্যমে অতিদ্রুত ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেল রানার ফাঁসির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৩ মে ২০২৬ /মওম

রামিসা হ#ত্যা মামলার বিচার শুরু ঈদের পর : আইনমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ঈদের পরপরই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসা হত্যার বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যাতে বিচার শেষে জনমনে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন না থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান নির্বাহী তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণায় তিনি বলেছেন, স্বামীর অসুস্থতার কারণে এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তুলসী বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হচ্ছে। আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর হবে। আমার স্বামী, আব্রাহাম উইলিয়ামস, সম্প্রতি হাড়ের খুবই বিরল এক প্রকার ক্যানসারে (বোন ক্যানসার) আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এই মুহুর্তে, আমি অবশ্যই সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব এবং আমার স্বামীর পাশে থাকব, যেন তিনি এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারেন।”

এক্সে তুলসী গ্যাবার্ড এই বার্তা পোস্ট করার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তাকে আশীর্বাদ জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “তুলসী খুব চমৎকারভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন, আমরা তাকে মিস করব। আগামী ৩০ জুন মার্কিন প্রশাসন থেকে তার বিদায় নেওয়া আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তার স্বামী আব্রাহাম সম্প্রতি হাড়ের বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এই অবস্থায় তুলসী তার স্বামীর পাশে থাকতেন চান, তার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে চান এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার পাশে থাকতে চান। তুলসীর স্বামী সুস্থ হয়ে উঠবেন— এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।” তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করার পর জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের পদে আসবেন অ্যারন লুকাস, বর্তমানে যিনি উপ-পরিচালকের পদে আছেন  ।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা তুলসী গ্যাবার্ড এক সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তারপর ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযান চলার সময়ে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন তুলসী।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা তুলসী গ্যাবার্ড ২০২২ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তারপর ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযান চলার সময়ে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন তুলসী। নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তুলসীকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের পদে নিয়োগ দেন ট্রাম্প।

তুলসী গ্যাবার্ড যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ছিলেন, সে সময় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সমালোচক ছিলেন তিনি; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কঠোর সমালোচনাও করেছেন। সে সময় এক এক্সবার্তায় তিনি বলেছিলেন, “বাইডেন প্রশাসন এবং ন্যাটো যদি রাশিয়ার বৈধ নিরাপত্তাগত দাবিকে স্বীকৃতি দিতো, তাহলে এই যুদ্ধ খুব সহজে এড়ানো যেতো।”

তুলসী গ্যাবার্ড যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ছিলেন, সে সময় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সমালোচক ছিলেন তিনি; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কঠোর সমালোচনাও করেছেন। সে সময় এক এক্সবার্তায় তিনি বলেছিলেন, “বাইডেন প্রশাসন এবং ন্যাটো যদি রাশিয়ার বৈধ নিরাপত্তাগত দাবিকে স্বীকৃতি দিতো, তাহলে এই যুদ্ধ খুব সহজে এড়ানো যেতো।”

মার্কিন মিডিয়ার গুঞ্জন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে আনা এবং ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষেও ছিলেন না তুলসী।

সূত্র : আরটি

আলোকিত প্রতিদিন / ২৩ মে ২০২৬ /মওম

 ঘাটাইল ৭০ বছরের বৃদ্ধা হ*ত্যা মা*মলার মূল আ*সামি গ্রে*ফতার

রাহাত সরকার:

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪২) কে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন আনোয়ারা বেগম। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত তার খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত ভিকটিমের সঙ্গে তার ছেলে-মেয়েরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন। পরদিন সকাল থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি থানাতে অবহিত করা হয় এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। একপর্যায়ে ২৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ বিকেলে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের ভেতর থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আনোয়ারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মাঝে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। ঘটনার পর থেকেই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোঃ সাইফুল ইসলামকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সাইফুল ঘটনার পর পর পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। অবশেষে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ ঘাটাইল থানা জনাব মোঃ মোকছেদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিমের সদস্য এসআই মোঃ রাজু আহমেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল এবং কনস্টেবল ওয়াজেদ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ২২ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে ডিএমপি, হাতিঝিল থানা এলাকা হতে আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, গত ২৩/০৮/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে সে ভিকটিম আনোয়ারা বেগমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিম তাকে গাছের ডাল কেটে দিতে বলেন। সে গাছের ডাল কাটার একপর্যায়ে ভিকটিমকে ঘরের ভিতরে কাপড় পরিবর্তনের সময় অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে কু-উদ্দেশ্যে গাছ থেকে নিচে নেমে আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং ভিকটিমের কানের দুল খুলে নিয়ে যায়। এরপর রাত গভীর হলে পুনরায় ঘটনাস্থলে এসে আনোয়ারার মৃতদেহের উপর থেকে ডাল পাল সরিয়ে নগ্ন অবস্থায় দেখে মৃত আনোয়ারার সাথে পুনরায় শারিরীক সম্পর্ক করে। পরবর্তীতে মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের মধ্যে ফেলে দেয়। মরদেহের উপর কাপড় ও জঙ্গল ফেলে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ সংক্রান্ত পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৩ মে ২০২৬ /মওম

মৃত‍্যুদণ্ডে#র আদেশ মাথায় নিয়ে বিচারে*র মুখোমুখি হতে চান: শেখ হাসিনা

আলোকিত ডেস্ক: মৃত‍্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে চান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান তিনি।

সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফরমে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহকারী এবং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন একাধিক আওয়ামী নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবরটি জানিয়েছে টাইমস অব বাংলাদেশ।
দলীয় প্রধানের দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও বলা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে যা-ই বলছেন না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে স্ট‍্যান্টবাজি হিসেবে দেখছেন এখন । তারা মনে করছেন, এটি দলের কর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল মাত্র। আসলে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরবেন না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও গণহত্যা মামলায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে দ্রুত সময়ে ফিরতে চান তিনি।

সে জন্য যেসব প্রক্রিয়া গ্রহণ করা দরকার, তা আমরা করছি এবং করবো। তিনি যেভাবে ভারতে গিয়েছেন সেভাবেই বীরদর্পে দেশে ফিরবেন।’ এ ধরনের বক্তব্যের আসলে বাস্তবতা আছে, নাকি কর্মীদের চাঙা করার কৌশল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উপলক্ষে বিপুল জনসমাগম করতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলের অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপ আওয়ামী লীগের এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমসকে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান। তার এই মনোভাবের কথা ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে। এমনকি তিনি আগামী ১৫ আগস্টের আগেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে ট্রাভেল পাসও চাইতে পারেন।

সম্প্রতি দলের নেতাদের সঙ্গে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপ কলে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তার এখন যে বয়স, তাতে আর সর্বোচ্চ কয়েক বছর বাঁচতে পারেন। দেশে এসে গণতন্ত্রের জন্য যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চেও যেতে হয়, তাতেও তার কোনো কষ্ট থাকবে না’, বলেন ইউরোপ আওয়ামী লীগের ওই নেতা।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলে আরো চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ।

দলটির কয়েক ধাপের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও সেখানে তিনি নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভারত সরকার তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক করারও সুযোগ করে দিচ্ছে। সেখানে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন।

দলীয় প্রধানের এমন দৃঢ় মনোভাবের পর দলের মাঠের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করতে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সারা দেশে এখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত চাই, আইনিভাবে চাই। ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে অনুরোধ করেছি শেখ হাসিনাকে ফেরত চাই। আমরা চাই তিনি মামলা ফেস করুক।’

তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রত‍্যর্পণ ইস‍্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না মিললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষমতার শেষ ১৫ বছরে মুখের জোরে শেখ হাসিনা টিকে ছিলেন। এখনো মুখের জোরে কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন তার বিশ্বাসযোগ্য কোনো উপাদান দেখছি না। দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা কবে আসতে চান সেটি বড় কথা নয়। বরং তাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, শেখ হাসিনা যেদিন দেশ ছেড়েছিলেন নিরাপত্তার শঙ্কায় তাকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। এখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তাই এখন দেশে ফিরলে তার জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তিনি আইন-আদালত ফেস করতে পারবেন। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারলে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করা সম্ভব বলেও মনে করছে দলটি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে প্রথমেই আইসিটি মামলায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম-খুন ও দুর্নীতির মামলাগুলো মোকাবেলা করতে হবে।’

দেশে ফিরলে ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা আপিল করতে পারবেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তিনি আপিল করতে পারবেন কি না সেটি সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি মামলাগুলো ফেস করলেন না অথচ এখন ফাঁসির আদেশ নিয়ে দেশে এসে মামলা ফেস করবেন, এটির সত্যতা আছে বলে মনে হয় না। এটি শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি। তিনি দেশে এসে ফেস করতে চাইলে সেটি ভালো কথা।’

সূত্র : টাইমস অব বাংলাদেশ

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে: টাঙ্গাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীতীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বামতীরে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামি অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন। যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর নদীতীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, আমরা যা বলি তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে ২০২৬ /মওম

ঈদ সামনে, টুংটাং শব্দে মুখর গোপালগঞ্জের কামারপল্লী

মোঃ শিহাব উদ্দিন:

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনের কামারপল্লীতে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়। কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারশিল্পের কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি ও চাপাতিসহ কুরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও কুরবানির ঈদকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পায় এই পুরোনো পেশা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-বটি ও ছুরিতে শান দিতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা। কামারদের হাতের নিপুণতায় তৈরি এসব সরঞ্জামের চাহিদা এখনও রয়েছে শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে।
কামারপল্লীর কারিগররা জানান, বর্তমানে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, দা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং জবাইয়ের ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। লোহা ও কয়লার দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানান তারা।
কামার সত্য রঞ্জন দাশ বলেন, “একসময় আমাদের কাজের অনেক কদর ছিল। এখন মেশিনে তৈরি সরঞ্জামের কারণে আগের মতো কাজ পাই না। তবে কুরবানির ঈদ এলেই কিছুটা ব্যস্ততা বাড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”
শহরের নবীনবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল মোল্লা বলেন, “প্রতি বছর কুরবানি দিই। তাই ঈদের আগে চাপাতি ও ছুরিতে শান দিতে এসেছি। ভালোভাবে জবাই করতে ধারালো সরঞ্জামের বিকল্প নেই।”
কুরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা মো. শাহাবুদ্দিন সুজা বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে হাতে তৈরি জিনিসের মান ভালো হওয়ায় মানুষ এখনও কামারদের কাছেই আসছে।”
প্রযুক্তির আধুনিকতায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প টিকে আছে মূলত কুরবানির ঈদকে ঘিরেই। বছরের এই সময়টুকুতে বাড়তি কাজ আর আয়ের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখেন গোপালগঞ্জের কামাররা।

আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে ২০২৬ /মওম

কাবাব তৈরির সহজ রেসিপি জেনে নেওয়া যাক

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

কাবাব খেতে সবাই পছন্দ করলেও এটি তৈরির রেসিপি সবাই জানেন না। পদ্ধতি কঠিন মনে করে অনেকেই এড়িয়ে যান। আসলে কাবাব অনেক ধরনের হয়। আপনি কোনটি খেতে চান, সেটি হলো আসল বিষয়। আজকে এমন একটি কাবাব তৈরির কথা বলবো, যেটি তৈরি করা সবচেয়ে সহজ। আপনি একবার রেসিপি শিখে নিতে পারলে সহজেই তৈরি করে সবাইকে চমকে দিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

তৈরিতে যা লাগবে:

হাড়ছাড়া গরুর মাংস- আধা কেজি,ছোলার ডাল- ১ কাপ,পেঁয়াজ কুচি- আধা কাপ,আদা বাটা- ১ চা চামচ

রসুন বাটা- ১ চা চামচ,ডিম- ১টি ,লবণ- স্বাদমতো,গরম মসলা গুঁড়া- ১ চা চামচ

শুকনা মরিচ- ৫-৬টি, তেল- ভাজার জন্য।

তৈরি করবেন যেভাবে:

মাংসের সঙ্গে ছোলার ডাল, গরম মসলা, শুকনা মরিচ, আদা-রসুন বাটা, লবণ এবং অল্প পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে পানি শুকিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এরপর মিশ্রণটি ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ব্লেন্ডার না থাকলে পাটায় বেটে নিতে পারেন। এবার মাংসের মিশ্রণের সঙ্গে ডিম এবং পেঁয়াজ কুচি মাখিয়ে নিন। সেখান থেকে কাবাবের আকৃতিতে গড়ে তেলে ভেজে নিন। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন।

আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে ২০২৬ /মওম

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক চালক নি*হত

প্রতিনিধি.টাঙ্গাইল:

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়কে হঠাৎ ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক মোটরসাইকেল চালক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের চাটিপাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মকবুল হোসেন (৩৮) উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের দোগাঙ্গী পাড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। আহত শাহ আলম (৩৮) ধনবাড়ী উপজেলার কাকনিআটা গ্রামের ওসমান গণির ছেলে। তারা দু’জনই পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন কুমার দে জানান, এলেঙ্গা থেকে কালিহাতী সদরের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ছাগল সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করে। প্রাণীটিকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন দুই আরোহী।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মকবুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শাহ আলমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই ফয়সাল জানান, নিহতের ভাতিজা কালাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / ২২ মে ২০২৬ /মওম