আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 208

মদের দোকানে ঢুকে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রইল র‌্যাকুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি মদের দোকানে ঘটেছে অদ্ভুত ঘটনা। দোকানটিতে একটি বন্য র‌্যাকুন প্রবেশ করে মদ পান করে। প্রাণীটি এতই বেশি মদ খায় যে এটি দোকানের ভেতরই মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,গত শনিবার দোকানটির কর্মীরা এসে দেখেন কয়েকটি মদের বোতল ভাঙা। এরপর তারা দোকানের ওয়াশরুমে একটি র‌্যাকুনকে পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সামান্থা মার্টিন জানিয়েছেন, র‌্যাকুনটি দোকানের ছাদের কোনো অংশ দিয়ে প্রথমে ভেতরে পড়ে যায়। ওই সময় হয়ত কোনো বোতল ভেঙে যায়। এরপর এটির ধাক্কায় আরও কয়েকটি বোতল মাটিতে পড়ে ভাঙে। এরপর মাটিতে পড়া মদগুলো খায় এটি। আর খাওয়ার পরিমাণ এত বেশি ছিল যে এটি সম্পূর্ণ মাতাল হয়ে যায়।

দোকানের সিসি ক্যামেরা খুব বেশি স্পষ্ট ছিল না। ফলে এটি কতটুকু মদ পান করেছে সেটি নিশ্চিত নয়।

মাতাল হয়ে র‌্যাকুনটি কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘুমায়। এটিকে একটি প্রাণী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: বিবিসি

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে অফিসিয়ালি সম্মতি দিয়েছে কাতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে অফিসিয়ালি সম্মতি দিয়েছে কাতার। বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে রাজি হয়েছে দেশটি।

৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর বিষয়ে কাতার সরকার তাদের সম্মতির কথা বিএনপিকে জানিয়েছে। ঢাকায় কাতার দূতাবাসের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পাঠাতে অফিসিয়ালি সম্মতি জানিয়েছে কাতার।

খালেদা জিয়া রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ায় চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে এবং চীনা চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বর্তমান ঢাকায় রয়েছেন।  উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে, পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি অনুমোদন রাশিয়ার পার্লামেন্টে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুদিনের সফরে ভারতে যাচ্ছেন। তার আগেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরকে লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট দেবে, অর্থাৎ এক দেশের বাহিনী অপর দেশে গিয়ে সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন। এই সফরে সামরিক, বাণিজ্য এবং খনিজ তেলের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সফর শুরুর ঠিক আগেই পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন যে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে রাশিয়া কতটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, তা নির্ভর করছে ভারত কতটা এগিয়ে আসতে চায়, তার ওপরে।

দুই দেশের মধ্যে এই রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট বা ‘রেলোস’ চুক্তি অবশ্য সই হয়ে গিয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সেটি মঙ্গলবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘স্টেট ড্যুমা’র অনুমোদন পেল।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে গত সপ্তাহে চুক্তিটি ‘ড্যুমা’র কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন।

পিটিআই জানিয়েছে, ‘স্টেট ড্যুমা’র স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভোলোদিন সভার শুরুতে তার ভাষণে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘সার্বিক এবং কৌশলগত’ বলে বর্ণনা করেন এবং এই সম্পর্ককে যে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় তার দেশ, সেটাও উল্লেখ করেন।

সূত্র : বিবিসি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

অতীতের ‘তামাশার নির্বাচন’ থেকে বেরিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আলোকিত প্রতিবেদক:

অতীতের ‘তামাশার নির্বাচন’ থেকে বেরিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন বলতেই আমরা অতীতের কিছু নির্বাচনের কথা মনে রাখি, চট করে মনে আসে। প্রহসনের নির্বাচন বলে, প্রতারণার নির্বাচন বলে, তামাশার নির্বাচন বলে। এগুলো হলো তাদের বিশেষণ। সেখান থেকে আমাদের চলে যেতে হবে। এই দূরত্বটুকু আমাদের অতিক্রম করতে হবে।

আজ ৪ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঐতিহাসিক নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য দৈবচয়নের মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। নিজের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পক্ষপাতিত্ব ঢুকে পড়ে। দৈবচয়ন এসেছে যেন কারো মধ্যে কোনো রকমের পক্ষপাতিত্ব না ঢোকে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা সাধারণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এদিক থেকে সব হবে কিন্তু এটা একটা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন। এটা ইতিহাস যেন স্মরণ করে। তার মধ্যে বাইরের যারা পরিদর্শন করবে, আসবে, পর্যবেক্ষক আসবে, তারা আমাদের খুঁত ধরার চেষ্টা করবে। আমাদের এটা হয়নি, ওটা এভাবে করলে ভালো হতো, বলবে। এবারের নির্বাচনগুলো এমন নির্বাচন…. তারা স্মরণ করবে— বাংলাদেশের নির্বাচনটা আমরা দেখেছিলাম। তারা এটা দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে যাবে। তাদের মাথায় বারে বারে বলবে, এই নির্বাচনের মতো নির্বাচন আমরা কখনো দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। পাঁচ বছর পর পর একটা নির্বাচন হয়, দেশের সরকার পরিবর্তন হয়, এটা রুটিন একটা কাজ। এবারের নির্বাচনে যেটা আন্ডারলাইন করা বারে বারে দরকার— এটা হলো গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানে যারা শরিক হয়েছিল, আমরা যারা এর সঙ্গে যুক্ত আছি, এটা তাদের আদর্শ, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই কাজটা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা করে যাবো।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

প্রাথমিক শিক্ষকরা কাজে না ফিরলে কঠোর আইনি ব্যব*স্থা!

বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দের কয়েকটি সংগঠন ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি এবং পরবর্তীতে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে তথাকথিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবহিত রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে বলা হয়, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের দাবিসহ অন্য আরো দুটি দাবি, যথা ১০ ও ১৬ বছর চাকরি শেষে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অর্থ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপর্যুক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করার পরেও দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্ন ভাবে ওই পরীক্ষা গ্রহণে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি

মো.মহিদ:
মানিকগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। কর্মবিরতিতে ফার্মাসিস্ট ফুয়াদ হাসান, রবিউল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উজ্জ্বল মিস্ত্রি, ইউসুফ মিয়া, আব্দুর রহিম, আইয়ুব আলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন কর্মী অংশ নেন। একই দাবির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালেও অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীকাল থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। তারা দ্রুত তাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

গাজীপুরে আড়াই কোটি টাকার বাজার ভবন দেড় বছরেও অসম্পূর্ণ

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের হাটখোলা বাজারে গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন দুই তলা বিশিষ্ট (চারতলা ভিত্তি) বাজার ভবনটি দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। আড়াই কোটি টাকার এ উন্নয়ন প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যেখানে বাজারই বসে না, সেখানে ভবন নির্মাণ কেন?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি দুই তলা হলেও এখনো অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এছাড়াও ভবনটির পাশে রয়েছে গাজীপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) পিরুজালী ইউনিয়ন হাটখোলা বাজারে কৃষি পণ্য বিক্রয় সেড এর আরেকটি প্রকল্প। যা এটিও কোন কাজে আসছে না স্থানীয়দের।
আরও দেখা যায়—এলাকাটি মূলত জনশূন্য; সেখানে সক্রিয় কোনো বাজার নেই, নেই মানুষের আনাগোনাও। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত বাজার বসে না বলেই স্থানীয়দের দাবি।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এখানে এক সময় বাজার বসলেও এখন আর বাজার বসেনা। দোকান নেই, ক্রেতা নেই। এখানে বাজার ভবন বানানো মানে সরকারি টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছু না।
আরেকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এখানে হাতেগোনা দু একটি দোকান সেগুলো ঠিকমতো চলছে না। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনচাহিদা বিবেচনা করা হয়নি। বাজার না থাকতেই বাজার প্রকল্প—স্পষ্টতই দুর্নীতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বাস্তবায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (সি আর এম আই) এর ২ তলা বাজার ভবন (৪ তলা ভিত্তি) নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৫৩ লাখ ৩২হাজার ৬শ টাকা চুক্তি মূল্য। এম.এস.টি স্টার জেভি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে ২০২৩ সালের ১৫ মে মাসে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ১৮ জুনে। আর প্রকল্পটির তদারক কারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলার এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন।
 নির্ধারিত সময়ের বহু পরও ভবনটির কাজ শেষ হয়নি কেন? ভবনের অভ্যন্তরে স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় এখন ভবনটিতে মাদকাসক্তদের আড্ডাসহ বিভিন্ন অপরাধের স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ প্রকল্পটি বাস্তবে জনগণের উপকারে আসছে না। কারণ যেখানে বাজার বসে না, সেখানে কোটি টাকার বাজার ভবন কেন? কে বা কারা স্থান নির্বাচন করেছেন, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন এলাকার শিক্ষক বলেন, সরকারি তহবিলের টাকায় বাজার উন্নয়নের প্রকল্প হলে সেটি জনগণের কাজে লাগতে হবে। এখানে বাস্তবতা বিবেচনা না করেই কাগজে-কলমে বাজার দেখিয়ে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
এলজিইডির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এ ধরনের প্রকল্পে আগে বাজার জরিপ, জনসমাগম, স্থানীয় চাহিদা—সব কিছু যাচাই করা হয়। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা নতুন করে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কেউই কাজ বিলম্বের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
গাজীপুর সদর উপজেলার এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্পটির তদারকি কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি, পরবর্তীতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে জনশূন্য এলাকায় এ ধরনের ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই, কারণ তিনি যোগদানের আগেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি এই প্রকল্পের স্থান নির্বাচন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করা দরকার। তাদের মতে, জনশূন্য এলাকায় বাজার ভবন নির্মাণ সরকারি অর্থের চরম অপব্যবহার, এবং দুর্নীতির শামিল। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শ্রীলঙ্কায় দুর্যোগে আক্রান্তদের ত্রাণ সহায়তা পাঠালো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শ্রীলঙ্কায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বসের ফলে এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এ অবস্থায় শ্রীলঙ্কায় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।৩ ডিসেম্বর বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য মোতাবেক বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম দেশের এই মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলম্বোর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ সামগ্রী এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়।

আইএসপিআর আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে আজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৫ জন ক্রুর একটি দল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম মিশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ১০ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাঁবু, শুকনো খাবার, মশারি, টর্চ লাইট, গামবুট, ভেস্ট, হ্যান্ড গ্লাভস, রেসকিউ হেলমেট ও বিপুল পরিমাণ ওষুধ। মানবিক সহায়তা প্রদান শেষে পরিবহন বিমানটি একই দিন দেশে ফিরবে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো এই মানবিক সহায়তা শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনায় যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আত্মনিয়োগের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

হোসেনপুরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মচারীদের কর্মবিরতি

তৌহিদুল ইসলাম সরকার: কিশোরগঞ্জের- হোসেনপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার থেকে সারাদেশের ন্যায় হোসেনপুরেও এসব কর্মসূচি শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ে কর্মবিরতি দিয়ে তারা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। জানা গেছে, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি সংশোধন ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে হোসেনপুরে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন- বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মচারী সমিতি হোসেনপুর শাখার সদস্যরা।

আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা এ কর্মসূচি পালন করবেন। পাশাপাশি আগামী ৬-১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা সপ্তাহও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। হোসেনপুর পরিবার পরিকল্পনা কর্মচারী সমিতির সভাপতি অপু কুমার মোদক ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন- দীর্ঘদিনেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা চরম হতাশ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কেন্দ্রীয় যে সিদ্ধান্ত আসবে তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন-পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক শিবলী সারোয়ার, আব্দুল্লাহ আল ফারুক,পরিবার কল্যাণ সহকারী তামান্না, ফাতেমা তুজ তোহরা ও পারভীন বেগম।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

৭ ডিসেম্বরের পর সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল : ইসি আনোয়ারুল!

বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা ৭ ডিসেম্বরের পর যেকোন দিন করা হবে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগের ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের ৭ তারিখের পরে যেকোন দিন ঘোষণা হতে পারে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

গণমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার দিন-তারিখের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী কমিশন সভায়। অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দিতে সারাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। সারা বিশ্ব বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন কি হবে, সেটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অন্তর্র্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। কমিশন মনে করে-সত্যি সত্যিই একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বাসসকে বলেন, যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের জন্য ইসি শতভাগ প্রস্তুত। এ দুটি ভোট ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে, রমজানের আগে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে একসঙ্গে ভোট নেওয়ার বিষয়ে ‘মক ভোটিং’ করা হয়েছে। যেহেতু একই ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে, তাই সময় কিছুটা বেশি লাগবে। এ কারণে ভোটের সময় বাড়ানো এবং বুথের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি কমিশন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী কমিশন সভায়।

তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমি নিজে ঘুরে দেখেছি, এবার ভোটারদের আগ্রহ অনেক বেশি। রাজনৈতিক নেতারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণা আরও জোরদার হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেউ ভোট দিতে অনাগ্রহী হলেও রাজনৈতিক নেতারা নিজ প্রয়োজনে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবেন। ফলে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে এবং দু’টি ব্যালটেই ভোট দেবে। আমার ধারণা, এবার ভোটারদের উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনও বিভিন্ন পরিপত্রের মাধ্যমে প্রশাসন, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা মাঠে কাজ করার সময় শতভাগ আচরণবিধি মেনে চলবেন। এতে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হবে। তখন মানুষের মনে আশা জাগবে, ভালো ভোটের প্রত্যাশা বাড়বে। আর যখন মানুষ নিশ্চিত হবে যে ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবে। ফলে পুরো নির্বাচন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।’

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যেই আস্থা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে একটি সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার। এজন্য নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে, মাঠ প্রশাসন কাজ করছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করবে। ফলে ভোটাররা যখন কেন্দ্রে যাবে, তখন অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি, এবার জনগণের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

আচরণবিধি লঙ্ঘনে কি কি ব্যবস্থা নেবে কমিশন- এ প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের জেল অথবা দেড় লাখ টাকা জরিমানা শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপর আরপিও-এর অন্যান্য যে ধারাগুলো রয়েছে সেই ধারা অনুযায়ী বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং সাজা হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সঙ্গে থাকবে মোবাইল কোর্ট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি টিম। পর্যবেক্ষকরাও কাজ করবেন। এবার নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে বডিওর্ন ক্যামেরা। সব মিলিয়ে তফসিল ঘোষণার পর রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে কেউ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা বা বাধা দেওয়ার সাহস পাবে না। যারা দুষ্কৃতিকারী, তাদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। অতীতে নির্বাচনের কারণে সব পর্যায়ের সব ডিপার্টমেন্টই বিতর্কিত হয়েছিল। এবার তারা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে এবং আগ্রহ দেখাচ্ছে। সরকারের সব বিভাগ থেকেই আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিক।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি