গাজীপুরে অভিযোগের তিন ঘণ্টার মাথায় অপহরণকারী যুবক আটক, স্কুলছাত্রী উদ্ধার
তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পের নতুন আইনে তাইপে খুশি হলেও বেজার চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের নির্দেশিকা নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার বিধানযুক্ত একটি আইন স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়েছে তাইওয়ান। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বেজার হয়েছে চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না তারাই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র। গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত দ্বীপটির ওপর দখলদারত্বের দাবি নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপড়েন লেগেই থাকে।
২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তাইওয়ান এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, যা ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর আরোপ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আইনে পরিণত হওয়া তাইওয়ান অ্যাশুর্যান্স ইমপ্লেমেন্টেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ নির্দেশিকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরকে অন্তত পাঁচ বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে।
ক্যারেন কুও এক বিবৃতিতে বলেন, আইনটি তাইওয়ানের সঙ্গে মার্কিন যোগাযোগের মূল্যকে পুনর্ব্যক্ত করে, তাইওয়ান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের প্রতি আমাদের যৌথ মূল্যবোধের দৃঢ় প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সাংবাদিকদের বলেন, নির্দেশিকা ঘন ঘন পর্যালোচনা করা হলে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থাগুলোতে বৈঠকের জন্য প্রবেশ করতে পারবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “চীনের তাইওয়ান অঞ্চল”-এর মধ্যে যেকোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে বেইজিং দৃঢ় বিরোধিতা করে। তাইওয়ান প্রশ্ন চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রথম লাল রেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত “তাইওয়ান প্রশ্নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সমস্ত সরকারি যোগাযোগ বন্ধ করা।
এদিকে, তাইওয়ানের সরকার চীনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলে, তারা বিশ্বব্যাপী যে কোনও দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করার অধিকার রাখে।
সূত্র: রয়টার্স
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম
শিবালয়ে নবনিযুক্ত ইউএনওর সাথে মতবিনিময় সভা
ইমরান নাজির, শিবালয় (মানিগকঞ্জ) সংবাদদাতা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকারের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। সভায় শিবালয় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষাব্যবস্থা, জনসেবামূলক কার্যক্রম, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন ইউএনওর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কাজ আরও গতিশীল হবে এবং সেবার মান বাড়বে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিবালয় সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিয়া সাবরিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, রফিক খান, ডা. জালাল উদ্দিন, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমত আলী বাবলু, জামায়াতে ইসলামী আমির মো: হাতেম আলী, বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, যুবদল আহ্বায়ক হোসেন আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীরা। সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা বিভিন্ন সমস্যার দিক তুলে ধরে সমাধানের প্রত্যাশা জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে ওসিকে বিদায় সংবর্ধনা!
আমিনুল ইসলাম লিপু: সিরাজদিখান প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় বদলি জনিত কারণে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের সম্মানে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম লিংকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—সিরাজদিখান থানার সেকেন্ড অফিসার মাসুদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি জমিরুল হক, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল বেপারী, দপ্তর সম্পাদক মোরসালিন রহমান, সদস্য আমিনুল ইসলাম লিপু, রানা, আল রাফি, প্রান্তোষ দেবনাথ, আরাফাত রহমান শান্তসহ ইউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবর্ধিত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সিরাজদিখানের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক। এখানে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও এ জনপদের মানুষের কল্যাণে পাশে থাকার চেষ্টা করব। অনুষ্ঠানের শেষে ওসিকে ক্রেস্ট ও স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের দোয়া মাহফিল
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম
যমুনা ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে বাম জোটের ১২ নেতাকর্মী আহত
আলোকিত ডেস্ক
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দেশের বন্দর নিয়ে করা রাষ্ট্রীয় চুক্তির প্রতিবাদে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে বাম সংগঠনের ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আহতরা হলেন– সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রুহুল আমিন (৪৫), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জহুর লাল রায় (৩৫), ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য অন্ত অবিন্দম (২৫), খিলগাঁও থানার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন (২৫), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য রাসেল আহমেদ (২৪), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য সোয়াইব আহমেদ আসিফ (২৪), বাসদ ও মার্কসবাদী নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত (৫২), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি শাহিনুর আক্তার সুমি (২৮), গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী (৩০), গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক স্বাকাই ইসলাম (২৫), ঢাকা মহানগর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সদস্য রাকিব আহমেদ ও ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রিজম ফকির।সিপিবি নেতা ইকবাল হোসেন জানান, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দেশের বন্দর নিয়ে করা রাষ্ট্রীয় চুক্তির প্রতিবাদে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি ছিল আমাদের। আমরা যমুনা অভিমুখে রওনা দিলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এতে আমাদের ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, কাকরাইল মোড় থেকে আহত অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম
রূপগঞ্জে ৭০কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
লন্ডনে নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছেন কাতার
বিশেষ প্রতিনিধি: উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (০৪) দুপুরে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে বিবিসি বাংলা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন থেকে রওয়ানা হবেন তিনি। তিনি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে নিয়ে লন্ডন যাত্রা করবেন। এর আগে সকালে কাতার জানায়, তারা খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে প্রস্তুত। গত ২৯ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশটির কাছে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর অনুরোধ করেন। তখনই কাতার তাদের ‘ইতিবাচক মনোভাবের’ কথা জানায়। আজ সেই সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থান করছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রিচার্ড বিল খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। গত বুধবার যুক্তরাজ্য থেকে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল ঢাকায় পৌঁছায়। রিচার্ড বিউলের নেতৃত্বে দলটি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন বেগম জিয়া।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মবিরতি: ওষুধ-পরীক্ষা বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা!
ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি*র অভিযোগ!
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক: অসাধুদের অনিয়ম দুর্নীতির ভারে ডুবছে জুলাই বিপ্লব। সেবাশুন্য হয়ে পড়েছে ডিপিডিসি। ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি নামে বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র মুগদাপাড়া ডিপিডিসিতে কর্মরত কেউ বিশ্বাস করতে নারাজ,জুলাই বিপ্লবীদের অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্চতার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। নতুন বাংলা বিনির্মানে সরকার কাজ করলেও ডিপিডিসি মুগদাপাড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরদের মতো অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে নানা ভাবে সরকার সমালোচিত হচ্ছে। অরাজনৈতিক সরকার সততা নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি জনগণের বিশ্বাসের ঘরে জায়গা করতে পারেনি।
ডিপিডিসি বিগত সরকারের আমলে যেমন চলেছে এখনো তেমনি চলছে। টানা দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, এখানে সেবা পেতে হলে দরকার টাকা, বিনা টাকায় সেবা চিন্তা করা যায় না। আবেদনের পর একটি আবাসিক মিটারের বিপরীতে একজন গ্রাহককে খরচ করতে হয় ৮০ হাজার থেকে একলাখ টাকা। একটি সাধারণ বানিজ্যিক মিটারের জন্য খরচ করতে হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। মুগদাপাড়া ডিপিডিসির আওতাধীন চোরাই লাইনগুলো চলে অফিসের মর্জির ওপর। চোরাই লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে যে বিদ্যুৎ ঘাটতি হয় তার দায়ভার কর্তৃপক্ষকে বহণ করতে হয়। অথচ লাভের অংশটি ভাগবাটোরা করে নেয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিরা। নাম গোপন রাখার শর্তে মুগদা ডিপিডিসির একটি সূত্র জানান, বিভিন্ন খাত থেকে প্রতিমাসে ৮০ লাখ টাকা বাড়তি আয় আসে। উপরি ইনকামের একটি মোটা অংশ চলে যায় উপরে, বাকি অংশের বেশিটা পায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর, পদ অনুসারে হয় টাকা বন্টন।
গ্রাহক সেজে একটি মিটারে আবাসিক সংযোগ পেতে মোট কত টাকা খরচ হয় এমন প্রশ্নে উত্তরে, ডিপিডিসি মুগদপাড়া শাখার সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, সঠিক ভাবে আমি বলতে পারবো না। হিসাব রক্ষকের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদুল জানান, কিসের বিপ্লব টিপ্লব, আমরা যা করবো সেটা হবে। সরকার আবার কারা, আমরাই তো সরকার। উল্টো প্রশ্নছুড়ে বলেন, সরকারি লোক না হলে কি চেয়ারে বসেছি। তিনি আরও জানান, চেয়ার পেতে ঘাটে ঘাটে টাকা ব্যয় করতে হয়, নতুন বাংলা হবে না পুরান বাংলা হবে এটা আমার জানার বিষয় না। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিতের বিষয়ে জানতে চাইলে, অনেকটা ক্ষেপে গিয়ে রাশেদুল হক বলেন, সেবা দিচ্ছি না তো অফিস কি এমনি চলছে না কি? একটি গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছেন, স্বল্প সময়ে সহকারি প্রকৌশলী রাশেদুল হক নামে বেনামে কয়েক কোটি টাকার সহায় সম্পদের মালিক হয়েছেন। মুগদাপাড়া ডিপিডিসির কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরকে। অফিসিয়াল মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন ধরে অফিসে গেলেও এই কর্মকর্তার পিও পরিচয়ে তামজিম জানান স্যার অফিসের বাহিরে আছেন আবার কখনো জানান, স্যার মিটিংএ আছেন।
ডিপিডিসি মুগদাপাড়া বিশেষ সূত্রে জানা গেছে নির্বাহী স্যার সাংবাদিক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। অবশেষে পাওয়া গেলো নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরকে, অনিয়মের বিষয়ে জানানো হলে এই কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিষয় জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা অনেকটাই চুপ থাকেন। ডিপিডিসির অনিয়ম দূর্নীতির শীর্ষে কোটি কোটি টাকা লুটের সাথে জড়িয়ে পড়া নির্বাহী প্রকৌশলী তালিকার সাত মহারতির অন্যতম আবুল মনসুর। অভিযোগের অন্ত নেই ডিপিডিসি মুগদাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে- কর্মজীবনের ২২ বছরে হয়েছেন নামে বেনামে বিপুল সহায় সম্পদের মালিক। যেখানেই দায়িত্ব পালন করেন সেখানেই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে অর্থের লোভে দেশের বিরুদ্ধেও কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, আবুল মনসুর রং পাল্টিয়ে সব সময়েই সরকারের সুবিধাভোগী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে যোগ্য ঠিকাদারের পরিবর্তে অযোগ্যদের দিয়ে কাজ করিয়ে হাতিয়ে নেন বিপুল টাকা। অভিযোগে আরও জানা যায়, গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ, হয়রানি এবং নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে করে নানা টালবাহানা। ঘুষ না দিলে মিলে না বিদ্যুৎ সংযোগ। শুধু তাই নয়, বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কিস্তি করাতে গেলে সেখানেও তিনি উৎকোচ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলে নামে বেনামে আবুল মনসুর কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার অভিজাত পল্লীতে নামে বেনামে ক্রয় করেছেন অঢেল সম্পদ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল আবাসন। ফুটপাত থেকে বড় ভাইকে তুলে এনে বানিয়েছেন শিল্পপতি। বেনামে বিদেশে পাচার করেছেন কোটি কোটি টাকা।
নিজ ছত্রছায়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই কর্মকর্তা। স্ত্রীর নামে দিয়েছেন ফ্ল্যাট, চলেন দামি প্রাইভেট গাড়ি হাকিয়ে। ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী পদে থাকা আবুল মনসুরদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। আবুল মনসুরের দুর্নীতির ভীত অনেক শক্ত মজবুত হবার কারণে সহজে তার বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবুল মনসুর বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার মতো দায়িত্বশীল ব্যাক্তির নিকটতম আত্মীয় পরিচয় দেয়ার কারণে তার সকল অপরাধ অনিয়ম হালাল করতে তেমন বেগ পেতে হয় না। বিগত সময়ের কথা, এসব কর্মকর্তারা ডিপিডিসিতে অনিয়ম দুর্নীতি করলে শাস্তি হয়নি। স্বৈরাচার সরকারের মদতপুষ্ট হয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, যা বর্তমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পরিপন্থি এবং শহীদদের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
দ্রুততম সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ডিপিডিসির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অপসারণ, দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা, শাস্তি নিশ্চিতকরণ ও লোপাটকৃত অর্থ যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করেন ডিপিডিসির গ্রাহক ও সাধারণ মানুষেরা। সরকারের লাভজনক প্রতিষ্ঠান আবুল মনসুরদের কারণে বিদ্যুৎ খাত, লোকসানের ভারে নুয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোদ বাজেটের টাকা বিনোয়োগ করে চলছে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সেক্টর। তবুও পিছু ছাড়ছে না বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আবুল মনসুরের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি। দেশ জাতির স্বার্থে আবুল মনসুরের নামে বেনামে অনিয়মে অর্জিত সম্পদের ব্যাংক হিসাব তলব করে তদন্ত করলে সকল রহস্য বেরিয়ে আসবে। অসাধু কর্মকর্তা মুগদাপাড়া ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিদ্যুৎ গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন ভুক্তভোগীরা। ইঞ্জিনিয়ার আবুল মনসুরের সাথে এ প্রতিবেদক সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সংবাদটি সম্পুর্ন সত্য নয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

