আজ বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 199

একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু 

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
১৬ ডিসেম্বর সমঙ্গলবার কাল সাড়ে ৯টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিজয় র‍্যালি বের করা হয়, যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর উদ্যানে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আজ আমরা দেখছি একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গতকাল বিভিন্ন জায়গায় তারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যারা ঘাতক, তারাই আবার আলোচনা করে।
আগামী দিনের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যে স্লোগান দিয়েছেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি বীরের বেশে দেশে ফিরবেন ইনশাল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষ বিজয় দিবস উদযাপন করবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। হাদিকে গুলি করা হয়েছে, এরশাদ উল্লাহকে গুলি করা হয়েছে।যারা গুপ্ত সংগঠন, তারাই এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আশরাফ পাহেলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইথেনসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

রাশিয়ার সাবমেরিনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার একটি সাবমেরিনে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। সাবমেরিনটি নভোরোসিয়েস্ক বন্দরে ছিল। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ জানিয়েছে, তাদের হামলায় সাবমেরিনটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গতকাল ১৫ ডিসেম্বর সোমবার এক বিবৃতিতে এসবিইউ বলেছে, ইতিহাসে প্রথমবার সামুদ্রিক বেবি ড্রোন ব্যবহার করে সাবমেরিনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কিলো ক্লাসের এ ডুবন্ত জাহাজটি অকার্যকর হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তারা।

সাবমেরিনটিতে চারটি কালিবার ক্রুজ মিসাইল লঞ্চার রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এসব লঞ্চার দিয়ে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হতো।

ইউক্রেনের এ দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাশিয়া।

দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধ বন্ধে জার্মানির বার্লিনে বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। এরমধ্যেই রুশ নৌবাহিনীর সাবমেরিনে হামলার তথ্য জানাল ইউক্রেন।

আলোচনার মধ্যে এ হামলা চালিয়ে ইউক্রেন মূলত বার্তা দিতে চাচ্ছে তারা এখনো রাশিয়ার বিশাল ক্ষতি করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকদিন আগে মন্তব্য করেন আলোচনায় ‘জেলেনস্কির কোনো কার্ড নেই’। এরপর থেকেই হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কিয়েভ।

এরআগে রুশ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজেও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এর জবাবে রাশিয়াও পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেটেনচুক জানিয়েছেন, রাশিয়ার সাবমেরিনে হামলার মাধ্যমে নৌ যুদ্ধে তারা নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। কারণ সমুদ্রের মধ্যে সাবমেরিনে হামলা চালানোই সবচেয়ে বেশি কঠিন।

এদিকে গত তিন বছরের মতো এবারও শীতকাল শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করেছে রাশিয়া। এছাড়া ইউক্রেনের পূর্ব দিকে আরও ভূখণ্ড দখলের দাবিও করছে তারা।

সূত্র: আলজাজিরা

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন!

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম আমরা করছি সেটা অব্যাহত রাখবো : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। আমরা শপথ নিয়েছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যে সংগ্রাম করছি সেটা অব্যাহত রাখবো। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করবো।

১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ৭১রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এ জন্য এ দিনটি আমাদের কাছে বিএনপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ঘোষকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা আজ শপথ নিয়েছি, স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখার সংগ্রাম সব সময় অব্যাহত রাখবো।

তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের পক্ষ থেকে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা।

তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন এবং দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। আমরা তার রোগমুক্তির জন্য পরম করুনাময় আল্লাহতালার কাছে দোয়া চাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আশা করছি, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসবেন। তিনি এসে গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও বেগবান করবেন।

এ সময় আরও  উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব  তানভীর আহমেদ রবিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের সহযোগী সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা দল, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ড্যাব এবং ছাত্র দলের পক্ষ থেকেও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

৫৫তম মহান বিজয় দিবস আজ

আলোকিত ডেস্ক:

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয়ের দিন। আজ ৫৫তম মহান বিজয় দিবস। পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে মুক্ত পাখির মতো মুক্ত আকাশে ওড়ার দিন আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ।

১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন এবং সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন এবং গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি।

অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তার মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন।

পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

স্বাধীনতা আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা ও সংগ্রামের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা অর্জন করি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। বিজয়ের এই দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদ, যুদ্ধাহতসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোন, শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রাখা সব সংগ্রামী যোদ্ধাদের, যাদের ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে নবযাত্রা সূচিত হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে আমরা পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বাদ। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাই একটি স্বাধীন জাতিসত্তা আর এই লাল-সবুজের পতাকা।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শহরের তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও, ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষ্যে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হবে, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা একই রকম ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। সমস্ত অনুষ্ঠান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করবে। তবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান এবারও হবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে  ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী বিএনপির সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে গমন এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৯টায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সূরা ফাতেহা পাঠ করবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের উদ্যোগে যুব ম্যারাথন বা যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের উদ্যোগে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিতব্য এই র‍্যালি শাহবাগ, কাঁটাবন, সায়েন্সল্যাব ও কলাবাগান হয়ে ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে মিলিত হবে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এই র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন।

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতা-কর্মীরা। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা করবে দলটি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

বিজয় দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর এই আয়োজনে অংশ নেন তিনি।

বিজয় দিবসটিকে মহিমান্বিত ও আকর্ষণীয় করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে একটি মনোজ্ঞ ফ্লাই পাস্ট, প্যারাজাম্প এবং বিশেষ এ্যারোবেটিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক এই অনুষ্ঠানে একটি সমন্বিত ব্যান্ড পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল কর্তৃক বাদ্য পরিবেশন করে এবং ঢাকার বাহিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনীর সেনানিবাস বা ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় সীমিত আকারে ব্যান্ড পরিবেশন করা হয়। এছাড়া, বিমান বাহিনী কর্তৃক সীমিত আকারে ফ্লাই পাস্ট (খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর, বগুড়া, চট্টগ্রাম শহর এবং ফৌজদারহাট এলাকা, কক্সবাজার এবং মাতারবাড়ী এলাকায়) পরিচালিত হয়েছে।

বিজয়ের ৫৪তম বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুর রহমান এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৫৩ জনসহ সর্বমোট ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের মাধ্যমে আকাশ হতে ভূমিতে অবতরণ করেন, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং অদ্যাবধি এ রেকর্ডটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে লিপিবদ্ধ হয়নি। সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের এই উদ্যোগটি সফল হলে প্রথম বারের মতো এতো সংখ্যক পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের রেকর্ডটি বাংলাদেশের পক্ষে লিপিবদ্ধ হবে, যা, নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় এবং ভাবমূর্তি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এই আয়োজন দেশে-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় গৌরব এবং আত্ম পরিচয়ের অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরাসহ আমন্ত্রিতরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উদযাপনে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) এবং বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজসমূহ সকাল ১২০০ ঘটিকা হতে ১৬০০ ঘটিকা পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এছাড়া, সামরিক জাদুঘরসহ তিন বাহিনীর অন্যান্য জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

টংগিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাসিক স্টাফ ও নিরাপত্তা সভা অনুষ্ঠিত

সিরাজদিখান মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাসিক স্টাফ ও নিরাপত্তা সভা অনুষ্ঠিতঅনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে ৫টায় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সভাকক্ষে এ মিটিং হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মো. হামিদুল ইসলাম লিংকন। মিটিং পরিচালনা করেন টংগিবাড়ী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আসদুস সালাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোষাধ্যক্ষ নাছির উদ্দীন, এলাকা পরিচালক আবুল কাদির, এজিএম ফাহিম ফয়সালসহ সমিতির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। সভায় বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়ন, গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি এবং কার্যালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে ভেজাল জিরা বিক্রির দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

সাইফুল ইসলাম সবুজ: 
টাঙ্গাইলের উপশহর এলেঙ্গা কলেজ রোডে অবস্থিত মালেক এন্টারপ্রাইজকে  ভেজাল জিরা বিক্রি  করার  দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয়  ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ  অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের  সহকারী পরিচালক ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করেন।

 জানা যায়,এলেঙ্গার  মালেক এন্টারপ্রাইজ আমদানিকৃত ভারতীয়,মিশরীয় জিরা ও দেশের বিভিন্ন জেলার জিরার মাঝে নিম্ন মানের জিরা মিশিয়ে  নতুন করে  ডায়মন্ড জিরা নামে মোড়কে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছিল।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয়  ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের  সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিষয়টি সত্যতা পেয়ে মালেক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল বারেককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।  সহকারী পরিচালক   বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভেজাল ও অবৈধ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পরিহার করার জন্য ওই  প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে  সতর্ক করা হয়। এসময় জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহযোগীতা করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ভারতের নাগাল্যান্ডে দাবানলে জ্বলছে জুকো উপত্যকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের সুদৃশ্য জুকো উপত্যকায় দাবানল শুরু হয়েছে। আজ তিন দিন ধরে জ্বলছে উপত্যকার বিশাল অংশ।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ভারতের জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু জানিয়েছে, গত শুক্রবার জুকো উপত্যকায় ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন চার জন স্থানীয় ট্রেকার। তাদের অসাবধানতার জেরেই ছড়িয়ে পড়েছে আগুন।

জুকোতে ট্রেকিংয়ে গিয়ে উপত্যকার একটি এলাকায় তাঁবু খাটিয়েছিলেন তারা, তারপর তাঁবুর সামনে আগুন (ক্যাম্পফায়ার) জ্বালিয়ে পানির খোঁজে বের হয়েছিলেন।

পানি নিয়ে ফিরে আসার পর তারা দেখেন, সেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের মধ্যেই আটকা পড়েন তারা। শনিবার তাদের উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে উপত্যকার ১ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রেকাররা তাঁবুর সামনে আগুন জ্বালানোর কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে কতখানি এলাকাজুড়ে দাবানল ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না; তবে শুষ্ক আবহওয়া ও জোর বাতাসের কারণে প্রতি মূহূর্তে বাড়ছে আগুন।

জুকো উপত্যকার নিকটবর্তী কোহিমা জেলার দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী আগুন নেভাতে এসেছিল, কিন্তু জুকো উপত্যকার যে জঙ্গলে আগুন লেগেছে, তা দুর্গম। খাড়া ঢালের কারণে সেখানে সড়কপথ নেই। ফলে দমকলের গাড়ি দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।

নাগাল্যান্ড রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক পথ না থাকায় দাবানল নেভাতে রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর ভারতের বিমান বাহিনীর একটি  হেলিকপ্টার নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো হবে দাবানলপীড়িত অঞ্চলে।

এরমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং ট্রেকার, পর্যটকদের ওই জঙ্গল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে নাগাল্যান্ডের রাজ্য সরকার।

সূত্র : দ্য হিন্দু

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

‘গার্লফ্রেন্ড’ নিয়োগের বিজ্ঞা*পন, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়!

আলোকিত ডেস্ক: চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত লিংকডইনে নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই পেশাদার প্ল্যাটফর্মেই একেবারে ভিন্নধর্মী বিজ্ঞাপন দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের নাগরিক দিনেশ। তিনি সেখানে পূর্ণকালীন ‘গার্লফ্রেন্ড’ নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে।

দিনেশ এর আগে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রাতে ‘সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লিংকডইনে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, এটি একটি হাইব্রিড জব অফার। পূর্ণকালীন হলেও প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে দূর থেকে কাজ করার সুযোগ থাকবে। চাকরিটি হবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বড় শহর গুরগাঁওকেন্দ্রিক।

বিজ্ঞাপনে দিনেশ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন, নির্বাচিত প্রার্থীকে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি ও তা ধরে রাখা, অর্থবহ ও খোলামেলা আলাপ, সঙ্গ দেওয়া, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একসঙ্গে বিভিন্ন কাজ বা শখে অংশ নেওয়া।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো নিয়েও তিনি স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ভূমিকার ভিত্তি হবে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া। পাশাপাশি যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং একটি ইতিবাচক, সহায়ক সম্পর্কের পরিবেশ গড়ে তোলাও এ দায়িত্বের অংশ।

যোগ্যতার তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। আবেদনকারীকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হতে হবে, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে জানতে হবে এবং সহমর্মিতা ও মানবিক যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি হাসিখুশি, সদয় ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ হওয়াকেও গুরুত্ব দিয়েছেন দিনেশ।

তবে এত সব যোগ্যতা ও দক্ষতার কথা উল্লেখ করা হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেছেন তিনি। বেতন কত? এই প্রশ্নটিই এখন নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই মজার ছলে মন্তব্য করছেন, ‘চাকরির দায়িত্ব এত, কিন্তু বেতনের খবর নেই কেন?’

ব্যতিক্রমী এই বিজ্ঞাপন যে নিছক রসিকতা, নাকি সত্যিকারের উদ্যোগ—তা স্পষ্ট না হলেও, লিংকডইনের মতো প্ল্যাটফর্মে এমন পোস্ট নিঃসন্দেহে আলোচনা আর কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি