আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 192

টাঙ্গাইলের মধুপুরে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন উদযাপিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব বড়দিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

২৪ ডিসেম্বর বুধবার রাতে মধুপুর গড় এলাকার জলছত্র খ্রীস্ট দেহ ধর্মপল্লী ও পীরগাছা সেন্টপৌল ধর্ম পল্লী, উত্তর মমিনপুরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে কেক কাটা, গির্জা করা হয়। শেষে শিশু কিশোরসহ সব বয়সী নারী পুরুষরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে কীর্তন পরিবেশন করে।

খ্রীস্টানদের ধর্মপল্লী, উপসনালয় এবং বাড়ীঘর সাজানো হয়েছে বর্ণীল সাজে। এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার সময় জলছত্র খ্রীস্ট দেহ ধর্মপল্লী চার্চে এলাকার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দেন।

মধুপুরের মমিনপুর,জলছত্র, ইদিলপুর,পীরগাছা, সাইনামারি, ধরাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে চলছে পিঠা উৎসব।

  আলোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ঢাকায় উচ্ছ্বসিত জনতার ঢল

আলমগীর মতিন চৌধুরীঃ

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে মাটিতে ফিরেছেন আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন তিনি। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে প্রতীক্ষার পালা শেষ হয়েছে বিএনপির কোটি কোটি নেতাকর্মী ও ভক্ত-সমর্থকের। নেতার এ প্রত্যাবর্তন নেতাকর্মীদের প্রতীক্ষার অবসানই শুধু নয়, বিএনপির রাজনীতির নতুন পথের সূচনা ও দেশের জনগণ নয়া আলোর দিশা খুঁজে পেয়েছে। আগামীর সুখ শান্তির সংকল্পেরও বার্তা বয়ে এনেছে। তারেক রহমান এখন ঢাকায়। ধীরে এগোচ্ছে গাড়িবহর, হাত নেড়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ বাসে করে ৩০০ ফিট এলাকার গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠেই হাত নেড়ে দলের নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রিয় নেতার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত সড়কের দুপাশে জড়ো হয়েছেন লাখ লাখ নেতাকর্মী ও দেশের সাধারণ মানুষ। আসলে তারেক রহমানের গাড়িবহর বিমানবন্দর থেকে রাজলক্ষ্মী ঘুরে ৩০০ ফিটে নির্মিত মঞ্চের দিকে গাড়িবহরটি ধীরগতিতে আসে, যেন অপেক্ষমাণ মানুষ তাকে এক পলক দেখতে পারেন। তিনিও যেন মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেন। এই পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমানকে মঞ্চে আসতে প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লেগেছে। মঞ্চে দেশবাসি ও দলের পক্ষথেকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সবাই মিলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হলে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। তিনি বক্তব্যে আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে সকলের চাওয়া পাওয়া ও শহীদ ওসমান হাদির প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সকলে ঐক্যবদ্ধ হবারও আহবান জানান। তারেক রহমান উপস্থিত জনসমুদ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, আমরা ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে উন্নয়ন সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। এসময়ে তিনি খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, খালেদা জিয়া নিজের জীবনের থেকে তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসেন। তারেক রহমান সবাইকে দেশ গড়তে কাজ করার আহবান জানান। তৎকালীন ওয়ান/ইলেভেন সরকারের আমলে দেশের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর দেশের রাজনীতিতে গড়িয়েছে অনেক জল। একে একে কেটে গেছে ১৭টি বছর। দেশের আকাশে প্রবেশ করেই আবেগঘন স্ট্যাটাসে তারেক রহমান লিখেছেন- ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে! ১৭ বছর আগে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান যখন দেশ ছেড়েছিলেন তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তো বটেই, দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতাও তিনি। তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নির্ধারিত সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর সকালে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।

 

সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এসময় তিনি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুলাকুলি ও কুশলবিনিময় করেন এবং উপস্থিত সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত সোয়া ১২টা) তাকে বহনকারী বিমান ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে রাজধানীর পথে পথে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন। তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা প্রতিটি প্রবেশমুখে ছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর। তাদের চোখেমুখে ছিল উল্লাস আর কণ্ঠে ছিল নেতার ফিরে আসার আগমনী স্লোগান। এদিকে, তারেক রহমানের গণসংবর্ধনা ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও গত কয়েকদিন ঘরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দলটি। সমাবেশ শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি যাবেন গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায়। তিনি এ বাসায়ই থাকবেন। ২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা যৌক্তিক কারণেই খুবই গুরুত্ব পেয়েছে। সর্বশেষ তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার মারাত্মক অসুস্থতার সময় তিনি তাঁর দেশে না ফেরা নিয়ে যে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন, সেটা কিছু প্রশ্নের জবাব দিলেও তৈরি করেছিল আরও নতুন কিছু প্রশ্ন। কিন্তু ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন তাঁর দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে নির্বাচন নিয়ে কারও মনে কিছুটা শঙ্কা যদি তৈরি হয়েও থাকে, সেটা একেবারে দূর করে দিয়েছে। এমন এক সময়ে তারেক রহমান বাংলাদেশে আসছেন, যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। নানা জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। তাঁর এই দেশে ফেরা তাঁর দিক থেকে খুব বেশি উদ্যাপনের সুযোগ নেই। কারণ, তাঁর সামনে আছে অকল্পনীয় বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ যেমন আছে নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রধান হিসেবে, তেমনি এই চ্যালেঞ্জ আছে তিনি যদি বিজয়ী হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। বাংলাদেশ যে আবার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে যাচ্ছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্বের দাবিদার তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপি। এদিকে ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে এখানে থাকবেন বলে দলীয় বিশেষ সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাসভবনের আশপাশের সব সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাসভবনের প্রবেশমুখসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তল্লাশি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদেরই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের কারণে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। এছাড়া, তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের অপেক্ষায় থাকতে দেখাগেছে। তারেক রহমানের দেশে আগমনে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও সংস্থা স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কিছু রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ২৫ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম! জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও সুপ্রিম কোর্ট শাখার সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তারেক রহমান দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।

লোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে যা বলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার খবর উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে এই খবর তুলে ধরেছে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমানটি।

তারেক রহমানের এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, “বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ নেতা ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন।”

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের শিরোনামে লিখেছে, “১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিরোধী দলীয় নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন।”

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমস লিখেছে, “প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের নেতা নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের ফেরার খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্লেষণ চলছে। তারা দাবি করছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা ভারতের জন্য ভালো খবর। দ্য উইক তাদের শিরোনামে লিখেছে, “তারেক রহমানের ফেরা কি ভারতের জন্য ভালো খবর?” তারা এ নিয়ে আরও নিজেদের বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামে লিখেছে, “খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। কেন এটি ভারতের জন্য ভালো খরব?” তারাও তাদের মতো করে খবরের বিশ্লেষণ করেছে।

এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এক সুবিশাল মঞ্চ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মঞ্চ এলাকায় লাখ লাখ নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ঢাকার তাপমাত্রা নামলো ১৪ ডিগ্রিতে, আরও কমার আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকায় শীতের দাপট আরও জোরালো হচ্ছে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইতে থাকা ঠান্ডা বাতাসের কারণে রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে,২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিকেল নাগাদ হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩৯ মিনিটে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

বাসে চড়ে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা স্থলের পথে তারেক রহমান

আলোকিত ডেস্ক:

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাসে চড়ে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা স্থলে রওনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩৫মিনিটে তিনি সড়ক পথে একটি বিশেষ বাসে করে রওনা দেন। একই বাসে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। অন্য একটি গাড়িতে করে বিমানবন্দর থেকে বের হন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং একমাত্র সন্তান জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। তার গুলশানের বাসভবেন গেছেন।

দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে প্রথমে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মির্জা ফখরুল এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন করেন। এছাড়া উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।এরপর তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ দেশে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা।

বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে ৩০০ ফিটে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন তিনি।

সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসামানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে এক ঘণ্টা বিরতির পর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানকে বহনকারী বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিজি-২০২ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

দেশে এসেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বললেন তারেক রহমান

আলোকিত প্রতিবেদক:

দেশে নেমেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই তিনি ফোনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা গ্রহণের পর তিনি দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।

তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। যাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন হত্যা ও গণমাধ্যম অফিসে হামলা অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন

মো: মহিদ:

সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন হামলাসহ দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। আজ বুধবার দুপুরে জেলা শহরে ভাষাশহীদ রফিক চত্বরে মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি (টিআরইউ) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টিআরইউ জেলা শাখার সভাপতি বিএম খোরশেদ সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, সাবেক সহসভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি মানবেন্দ্র চক্রবর্তী, স্থানীয় আল-আযান পত্রিকার সম্পাদক আমিনুল হক আকবর, ৭১ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মিহির, প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন , টিআরইউ’র জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক মঞ্জুর রহমান, টিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেন, এখন টিভির মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আসাদ জামান , সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা প্রমুখ। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকেরা বলেন, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে , উদীচী, ছায়ানটসহ সারা দেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। সরককার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের উপর হামলা , মামলার কেনো পরিবর্তন হয়নি। সন্ত্রাসী হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ওপর চরম আঘাত। এই হামলা কেবল দুটি পত্রিকার ওপর নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনে কারা হামলা করেছে, তা স্পষ্ট। এই হামলাকারীদের সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। সাংবাদিক নেতা গোলাম ছারোয়ার ছানু বলেন, গণমাধ্যমকে ধ্বংস করে কোনো রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না এবং গণতন্ত্র ও অধিকার নিশ্চিত করা যাবে না। সাংবাদিক নির্যাতন ও গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে অতীতে কোনো বিচার হয়নি। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো গণমাধ্যম আক্রান্ত ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা যেন না ঘটে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। সাংবাদিক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা নির্যাতন ও হত্যা হলে আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়। আমরা আর এনিয়ে রাজপথে দাঁড়াতে চাই না। আমরা চাই আমাদের মতপ্রকাশে শতভাগ স্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তা। সামনে জাতীয় নির্বাচন, দেশকে অস্থিতিশীল করে একটি গোষ্টি আজ বহিঃবিশ্বের কাছে জঙ্গী রাষ্ট্র বানাতে যাচ্ছে। এরা কারা, কাদের ইন্দনে দেশে আজ এসব হচ্ছে তার সব তথ্য সরকারের কাছে আছে কিন্ত সরকার এসব বিষয়ে আজ নিরব। এদের গ্রেপ্তর করে আইনে আওতায় নিয়ে আসলে দেশের পরিবেশ ভালো হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের চরম অবনতি: হুমকির মুখে আকাশসীমা

আলমগীর মতিন চৌধুরীঃ

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের চরম অবনতি। নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে বাংলার আকাশ। যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন জনগণ। কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ! সীমান্তের এপার- ওপারে ক্রমাগত জেগে উঠছে বাংলাদেশ ও ভারত বিরোধী স্লোগান। একের পর এক হুমকি পাল্টা হুমকি ভেসে আসছে দুই দেশ থেকে। ভারতের অভিযোগ বাংলাদেশের কট্টরপন্থী আন্দোলনকারীদের অত্যাচারে একেবারে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে সংখ্যালঘু হিন্দুরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতকে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভারত যদি এভাবে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে তাহলে ভারতের যত সেপারিস্টদের আশ্রয় দিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করে দেব। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন ও ‘সেভেন সিস্টার্স’ ইস্যু আলোচনায় আসায় নড়েচড়ে বসেছে ভারত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মিজোরাম-বাংলাদেশ সীমান্তসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ বড় বড় কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামকে ঘিরে তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি তৈরির পর এবার মিজোরামে চতুর্থ একটি স্টেশন তৈরির সিন্ধান্ত নিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সদ্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ মাউন্টেন স্ট্রাইক কর্পসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিজোরামে প্রস্তাবিত স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। এটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন হিসাবে দেখছে ভারত। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) শিলচরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরির কাজ করছে। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আধুনিক ও শক্তিশালী বাঙ্কার এবং বিস্ফোরণরোধী আশ্রয়স্থল তৈরি, শিলচর ও মিজোরাম ফ্রন্টিয়ারের অধীনে তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে মাটির নিচে অস্ত্র মজুত করার সুবিধা তৈরি করা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যেকোনো পরিস্থিতিতে বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। মিজোরামের পশ্চিম ফাইলেং ব্লকের শিলসুরি গ্রাম ও দক্ষিণ মিজোরামের লংতলাই জেলার পারভা বর্ডার আউটপোস্ট এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পারভা আউটপোস্টটি ভারত-মিয়ানমার এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬.৭০ কিলোমিটার। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩,২৩৯.৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে ভারত। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বেড়া দেওয়ার কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওই নেতার মন্তব্যকে অপমানজনক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে, তিপরা মোথারা যুব শাখা ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারের অফিসের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। এদিন একেবারে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী এবং ভারত বিরোধী মনোভাবাপন্ন নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন ত্রিপুরা ইয়ুথ ফেডারেশন এর সদস্যরা। শুধু তাই নয়, ওপার বাংলায় ভারত বিরোধী একাধিক মন্তব্যের জেরে এবার কঠিন কূটনৈতিক পদক্ষেপেরও আর্জি জানান তারা। ফলে বর্তমানে দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ধারা উঠে আসছে তা কূটনীতির আলোচনার পথ ক্ষীণ হয় আসছে। সরকার ও নেতাদের মনেরাখা দরকার কূটনীতি সব সময় আস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভারসাম্যের জায়গা। জবাব পাল্টা জবাবের প্রতিযোগিতার কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটেই চলেছে। অথচ সংলাপ ও ধৈর্যশীলতার সাথে উভয় দেশের আলোচনাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারতো। চলমান কালে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের অবনতি উদ্বেগের। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এমনিতেই দীর্ঘকাল থেকে দুর্বল। এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বাণিজ্য জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও ভারত বড় একটি বাজার এবং অংশীদার। সম্পর্ক খারাপ হলে ক্ষতি শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষেরই। ত্রিপুরা ইউথ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সুরজ দেববর্মা এক বক্তব্যে বলেন, ভুললে চলবে না ভারত সরকার এবং ভারতের সেনাবাহিনীর জন্যই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। এখন সেই দেশের লোকজন আমাদের শত্রু আখ্যা দিচ্ছে। আমাদের সর্বভৌমত্বকে অপমান করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা আরও অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। দুই দেশই এখন নিজেদের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে ঢাকা ও দিল্লি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার প্রতিবাদে শনিবার ২০-২৫ জন যুবক বিক্ষোভ করেছেন। তারা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেননি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেননি। পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদেরকে সরিয়ে দেয়। এ নিয়ে তিনি বাংলাদেশি গণমাধ্যমের একাংশের ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’র সমালোচনা করেন। তবে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে বাংলাদেশ মিশনের অবস্থান খুবই নিরাপদ স্থানে, সেখানে হিন্দু চরমপন্থীরা ওই এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন? তাহলে তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। রাতে নজিরবিহীন ভাবে দিল্লির নিরাপদ কূটনৈতিক জোনের বাংলাদেশ হাউজের গেটে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল উগ্রপন্থি। ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনা, পারস্পরিক অভিযোগ এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্থগিত, উভয় দেশের মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তলব এসব ঘটনায় স্পষ্ট যে সম্পর্ক এখন কেবল নীতিগত মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আস্থার গভীর সংকটে রূপ নিয়েছে। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যাখ্যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারত বলছে, এটি ছিল সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিবাদ। ঢাকা বলছে, কূটনৈতিক এলাকার গভীরে প্রবেশ, হুমকি ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতির লঙ্ঘন। ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত ভিসা ও বাণিজ্যে কড়াকড়ি আরোপ করে। অন্যদিকে ঢাকাও স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ দেয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা বারবার আপত্তি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দুবার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে এখনই ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা কম। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ নিয়ে উদ্বেগ জানায়। হাদি হত্যায় জড়িতরা ভারতে ঢুকলে তাদের গ্রেপ্তার ও ফেরত দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। ভারত সেদিনই ঢাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে ব্যবহার করতে দেয় না। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশে ‘নিরাপত্তার অবনতি’ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। ভারতের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা অর্থবহ কোনো প্রমাণ ভারতের সঙ্গে শেয়ার করেনি। দিল্লির ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের কাছ থেকে এ বিষয়ে পরামর্শের প্রয়োজন নেই, কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা নির্বাচনের কথা বলেনি। ওই দিনই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ভিসা আবেদন কেন্দ্র দুপুরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফেরত দেওয়ার দাবিতে ‘জুলাই ঐক্য’ এর ব্যানারে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ অবশ্য রামপুরায় ওই মিছিল আটকে দেয়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে। দুই প্রান্তে সাম্প্রতিক নানা ঘটনা পরিস্থিতিকেই বিষিয়ে তুলেছে। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি যেকোন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে। হতেপারে হামলা পাল্টা হামলা। এখন যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের জনগণ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

 টুকুর নেতৃত্বে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন বিএনপির অর্ধলক্ষ নেতাকর্মী

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনাকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টাঙ্গাইল সদরসহ জেলার ১২টি উপজেলা থেকে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইল সদর এলাকার নেতাকর্মীদের জন্য একটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, হাইস ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, শুধু টাঙ্গাইল শহর থেকেই অন্তত ১০০টি বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। পুরো জেলা থেকে দুই শতাধিক বাস, শতাধিক মাইক্রোবাস ও অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়িতে করে নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাবেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলার বহু নেতাকর্মী নিজ উদ্যোগে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরে বাকিরা রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীসহ আপামর জনতার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। টুকু ভাইয়ের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে আলাদাভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ বলেন, টাঙ্গাইল সদর থেকে তিন হাজার নেতাকর্মী যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় মোট ৬ থেকে ৭ হাজার যুবদলের নেতাকর্মী অংশ নেবেন। সদরের জন্য একটি পূর্ণ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুবদলের পাশাপাশি কৃষক দল ও মহিলা দলের নেত্রীরাও নিজ নিজ উদ্যোগে ঢাকায় যাচ্ছেন। জেলা শহরের নেতাকর্মীদের জন্য টি-শার্ট ও মাথার টুপি প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুল হক (ডিপি মনির) বলেন, তারেক রহমানের আগমন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য টাঙ্গাইল সদর থেকে আমাদের জন্য একটি ট্রেন রিজার্ভ করা হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জেলা, শহর ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ওই ট্রেনসহ অন্যান্য পরিবহনে ঢাকায় যাবেন। আমরা ন্যূনতম ১০ হাজার শ্রমিক দলের নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ আশা করছি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেবেন। টাঙ্গাইল থেকেও বিশালসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকায় যাবেন। এ জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি জানান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যবস্থাপনায় রিজার্ভ করা ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ঘারিন্দা রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে ফিরবে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। আজকের মধ্যেই প্রায় অর্ধেক নেতাকর্মী রওনা দেবেন। সদরের জন্য একটি ট্রেন, শতাধিক বাস এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে ৮-১০টি বাস নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে শুধু টাঙ্গাইল নয়, সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস রয়েছে। আমদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ ঢাকায় যাবেন ইনশাল্লাহ। শুধু টাঙ্গাইল সদর থেকেই ১০ থেকে ১২ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে স্পেশাল ট্রেনসহ সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো ঢাকার দিকে ছুটে আসছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

 

ঈদগাঁওয়ে অবৈধ ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান,২ লাখ টাকা জরিমানা

আবু সায়েম:

ঈদগাঁওয়ে অবৈধ ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঈদগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ ) আইন, ২০১৩ ( সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে মাটি সংগ্রহের দায়ে ঈদগাঁওর মেসার্স আরকেসি ব্রিকসকেককে ৫০ হাজার টাকা ও ইসলামাবাদের মেসার্স তাজ ব্রিক্সকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার সদর ও অতিরিক্ত ( ঈদগাঁও) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা। এসময় প্রসিকিউটর হিসেবে ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী আবদুল লতিফ।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা বলেন,অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে মাটি সংগ্রহ করলে এটি কৃষি জমি ধ্বংস করে এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায়। এমনকি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং ফসলি জমি নষ্ট হয়, যা আইনের পরিপন্থী। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে ইটভাটা পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয়। সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে দুই ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এধরণের অপরাধ না করে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সদরে যোগদানের পর থেকে এবং ঈদগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছেন। সেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নামজারি, জমা-ভাগ, খাস জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ইত্যাদি কাজে গতিশীলতা এনেছেন। এমনকি জনকল্যাণমূলক কাজ তথা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করছেন। এসব সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের গতিকে তরান্বিতকরণ, দখলদারিত্ব উচ্ছেদ এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে সুনাম অর্জন করেছেন। কক্সবাজার সদর ও ঈদগাঁও উপজেলার জনগণ সহকারী কমিশনার ( ভূমি ‘র) এমন কর্মদক্ষতাকে স্বাগত জানান এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ভূমি সংক্রান্ত কাজে দক্ষতা, সততা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের ফলে তিনি বর্তমানে দুই উপজেলায় বেশ প্রশংসিত।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম