আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 186

দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রশংসায় ভাসছেন ডাঃ লুসিখান

মো: জহির উদ্দিন বাবর: চট্টগ্ৰাম মহানগর বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সহ সম্পাদিকা ডাঃ লুসিখান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ব্যানারে ধানের শিষ প্রতিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬–এর চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচন করবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্ৰহ করে ছিলেন। নারী নেত্রিত্বের তুমুল জনপ্রিয়তায় থাকা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র এই নেত্রী হঠাৎ কেন তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে ফিরে আসলেন এমনটা তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি জানান বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চূড়ান্তভাবে দল মনোনয়ন প্রদান করেছেন তাই আমি, ডাঃ লুসি খান, দলের প্রতি গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও ঐক্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছি এবং আমার সকল শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা সবাই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি এবং দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে তারেক জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী এবং বেগবান করি।নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এক থাকি। ধানের শীষে ভোট দেই। সময়ের ক্রান্তিলগ্নে এসে আজ জাতীয় দূর্ভোগ লাঘবে দেশ গঠনে ধানের শীষ প্রতীকে অধিকার বঞ্চিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ নিজেকে নিয়োজিত রেখে জনগণের পাশে দাড়াই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খালেদা জিয়ার মৃত্যু: এভারকেয়ারের সামনে নেতাকর্মীদের বেদনাময় প্রতিক্রিয়া

আলোকিত ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে নেতাকর্মীদের। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে। হাসপাতালের সামনের দুই পাশের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।

৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের পর সরেজমিন দেখা গেছে, ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেতাকর্মীরা । অনেকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের ছবি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন। অনেকে আহাজারি করছেন। এতে সৃষ্টি হয়েছে বেদনাবিধূর পরিবেশ।  বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও হাসপাতালে ছুটে আসছেন।

এরই মধ্যে সেখানে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক। অন্যায়ের কাছে তারা কখনও মাথা নত করেননি। তারা তার জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন। এছাড়াও দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দলীয় চেয়ারপারসনের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন। যুবদল কর্মী আনিসুর রহমান আযাদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাই মনটা ভালো নেই।

এভারকেয়ার হাসতাপালের সমানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মি. খান বলেন, রাজনীতির কঠিন সময়ে চলে গেলেন আমাদের অভিভাবক। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা মহিলা দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেত্রী বিলকিস বেগম বলেন, আমাদের শেষ আশ্রয় ছিলেন বেগম জিয়া। তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এমন অসংখ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শোকাবহ এবং বেদনাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এভার কেয়ারের সামনে।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেন ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর সোমবার এই হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নভগোরোদ অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে কিয়েভ। এই হামলার কারণে যুদ্ধ অবসানে ক্রেমলিনের আলোচনার অবস্থান এখন বদলাবে।

ল্যাভরভ বলেছেন, ২৮ এবং ২৯ ডিসেম্বর ইউক্রেন ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে হামলা চালায়। তবে এ দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলেছে, ‌‌‘‘ইউক্রেনের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে। ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ছোড়া সব ড্রোন রাশিয়ার আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।’’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হামলার পরও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা মস্কোর রয়েছে।

অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে কিয়েভ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ক্রেমলিন যে দাবি করেছে, তাকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভে নতুন হামলার যুক্তি দাঁড় করাতেই এই দাবি করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘‘এটি রুশ ফেডারেশনের আরেকটি মিথ্যাচার।’’ তিনি বলেন, তারা মূলত রাজধানী কিয়েভ এবং সম্ভবত সরকারি ভবনগুলোতে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করছে।’’

জেলেনস্কি বলেন, ‘‘এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে—একেবারে সবাইকে। রাজধানীতে হামলা চালানো হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু ওই ব্যক্তি (পুতিন) বলেছেন, তারা উপযুক্ত লক্ষ্য বেছে নেবে।’’

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা,বাংলা‌দেশ-ভারত সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হ‌য়ে থাক‌বে

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় নরেন্দ্র মো‌দি খালেদা জিয়ার পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে মো‌দি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং দেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন।

২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে মো‌দি ব‌লে‌ছেন, বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও দুই দেশের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মোদি শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া কা*রারুদ্ধ হন ৫ বার!

বিশেষ প্রতিবেদক: একজন সাধারণ গৃহিনী থেকে দেশকান্ডারি হয়ে ওঠার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে চলে গেলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে নেমে দশ বছরের মধ্যেই বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়েছিলেন।

১৯৮১ সালের মে মাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যখন হত্যা করা হয়, খালেদা জিয়া তখন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। রাজনীতি নিয়ে চিন্তাধারা তো দূরের কথা, রাজনৈতিক কোন অনুষ্ঠানেও তাকে খুব একটা দেখা যেতো না।

প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে তাার আগেই বিএনপির নেতাকর্র্মীরা বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ জানান। কিন্ত তিনি তাতে সায় দেননি।

এক পর্যায়ে বিচারপতি সাত্তারকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একদিকে দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে বিএনপির অনেক নেতার এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগদান – এই দুই পরিস্থিতিতে বিএনপি তখন অনেকটা ছত্রভঙ্গ, বিপর্যস্ত এবং দিশেহারা।

দল টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতার পরামর্শ এবং অনুরোধে ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। এরশাদ বিরোধ আন্দোলনে তিনি হয়ে ওঠেন আপসহীন নেত্রী। তার নেতৃ্ত্বেই ক্ষমতা হারানো ৯ বছরের মধ্যে বিতর্কমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে জনতার রায়ে ফের বিএনপি সরকার গঠন করে।

রাজনৈতিক জীবনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার মোট ৫ বার আটক হয়েছেন। এরমধ্যে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ৩ বার, ২০০৭ সালে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের শাসনামলে একবার এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনামলে একবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া।

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি তিন দফায় গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। তবে এই সময় তাকে বেশিদিন আটক থাকতে হয়নি।

 ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তা র করা হয়। তখন এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকতে হয় খালেদা জিয়াকে। ২০০৬ সালে তার সরকারের নির্ধারিত শাসনকাল শেষ হওয়ার পর, ২০০৭ সালে নির্ধারিত নির্বাচন রাজনৈতিক সহিংসতা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বিলম্বিত হলে, সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সেই সরকারের সময়কালে, খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানসহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন।

খালেদা জিয়াকে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় তার তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হক রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাসা থেকে তাকে সরাসরি সিএমএম আদালতে নিয়ে গিয়ে খালেদার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জাতীয় সংসদ ভবন এলকার স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে আটক করে রাখা হয় বেগম জিয়াকে। জেলে থাকার সময় ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর মাসে তিনি ঈদুল ফিতর জেলেই পালন করেন। ঈদের দিন তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও সন্তানরাসহ পরিবারের ১০ সদস্য খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। দেখা করার সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ঈদের জন্য নতুন কাপড়, উন্নত খাবার ও ফুল দেয়া হয় তাকে। উল্লেখ্য, এই সময় তার দুই সন্তান তারেক রহমান ও প্রায়াত আরাফাত রহমানও জেলে ছিলেন।

এরপর ২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাব জেলেই পালন করার পর ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মা দিনাজপুরের বাসায় মৃত্যুবরণ করলে পরের দিন ১৮ জানুয়ারি তার লাশ হেলিকপ্টারে করে মইনুল রোডের বাসায় নিয়ে আসা হয়। ৬ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের লাশ দেখতে বাসায় যান খালেদা জিয়া।। তারপর প্রায় ৯ মাস পর ২০০৮ সালের ১ জুন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই সাব জেলে ৩৭২ দিন কাটানোর পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা এবং ২০জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে২০১৮ সালে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রথমে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। পরে স্বাস্থ্যগত কারণে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রাখা হয়। প্রায় দীর্ঘ ২ বছরেরও বেশি সময় তিনি কার্যত কারাগারে ছিলেন। ২৫ মার্চ ২০২০-এ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয় (কারাগারের সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি দেয়)। তবে এটিও পুরোপুরি মুক্তি নয়, আইনি শর্তে গৃহবন্দিত্বের মতো অবস্থা ছিল।

পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে খালেদার দণ্ড মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেন। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

 খালেদা জিয়ার মৃত্যু,এভারকেয়ারের সামনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কোরআন তেলাওয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কোরআন তেলাওয়াত করছেন মাদরাসার শিক্ষক এবং শিশু শিক্ষার্থীরা।

৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে তারা হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকে ফুটপাতে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এভারকেয়ারের সামনে এসেছেন তাদরিবুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক ক্বারি মাওলানা মো. বেলাল হোসেন এবং মুফতি আসাদুল্লাহ। তারা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখানে এসেছি। কোরআন খতম শেষে মোনাজাত করে আমরা চলে যাব।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানার পর থেকেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। এখানে কেউ কেউ অঝড়ে কাঁদছে, কেউবা চোখের পানি মুছছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সামনে মানুষের ভিড় আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রা*মে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা

বিশেষ প্রতিনিধি: জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার অবদান, তার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তার প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।’

তিনি বলেন, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তার আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।’

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খালেদা জিয়ার মৃ*ত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীর শোক, ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দা*ফনের পরিকল্পনা!

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এর আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

 ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই!

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন ওতিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং বিএনপির অফিসিয়াল ও দলের মিডিয়া সেলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টেলেখা হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টেও একই কথা লেখা হয়। অন্যদিকে, মিডিয়া সেলের অফিসিয়াল পেজে লেখা হয়, ‘আমাদের সকলের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

বেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মান ভূষিত করে।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান খালেদা জিয়া।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি