আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 185

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

৩১ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এসে পৌঁছান তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন জানাজা স্থলে।

সংসদ এলাকায় জায়গা না পেয়ে বিভিন্ন সড়কে হাজারো মানুষ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে হেঁটে আসছেন মানুষ কারওয়ান বাজার থেকে যানচলাচল বন্ধ, হেঁটেই জানাজায় যাচ্ছে মানুষ এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি পৌঁছে। এর আগে বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ছেলে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে।

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মরদেহটি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে নেওয়া হয় গুলশানে। শুরুতে নিজের দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়ার কথা থাকলেও গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

পুতুল থেকে খালেদা জিয়া, গৃহিনী থেকে দেশনেত্রী!

বিশেষ প্রতিনিধি: জীবনের অনিবার্য গন্তব্যে চলে গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। যাবার বেলায় তিনি রেখে গেছেন সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম উত্তরবঙ্গের ছায়াঘেরা শহর— দিনাজপুরে। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বেগম জিয়ার জীবনীগ্রন্থ ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’–এ লিখেছেন, বেগম জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট বলে প্রকাশিত হয়। সেই সময় জন্ম তারিখ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। পরে একটি মহল তার জন্মতারিখ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে।

খালেদা জিয়ার আদিবাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। তার বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন (খুরশিদ জাহান হক চকলেট, সেলিনা ইসলাম বিউটি ও খালেদা খানম পুতুল) ও দুই ভাইয়ের (মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর) মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। এদের মধ্যে এক বোন সেলিনা রহমান, ভাই শামীম ইস্কান্দর জীবিত আছেন। দুই সন্তান তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী তিনি।

১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন, তখন তাদের বিয়ে হয়। তিনি বিয়ের পরই স্বামীর নামের সাথে মিলিয়ে খালেদা জিয়া নাম নিয়েছিলেন বলে তার বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন।

১৯৮১ সালে ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামেএকদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন।

 খালেদা জিয়ার বয়স তখন মাত্র ৩৬।তখন তিনি একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন। তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান-দুই সন্তান নিয়েই ছিল তার সংসার।

সংসারের বাইরে খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে কোন চিন্তাই ছিল না। এর আগে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময়ও তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হনঅল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর খালেদা জিয়া পুরুষ শাসিত সমাজে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এসে যোগ্যতা দিয়ে নিজের আসন তৈরি করে নেন।

১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

গভীর শোক এবং রাজনৈতিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে দ্বিধায় থাকার কারণে খালেদা জিয়া প্রথমে রাজনীতিতে আসতে চাননি। কিন্তু তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন।

রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়া এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন।

মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘আজকে আমরা যে বিএনপি দেখি, তা খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া।’

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার দায়িত্বকাল ছিল এক মাস।

১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়।

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, গোলাম আজমের (একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত) নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি তার দল।

ওয়ান-ইলেভেনের আলোচিত মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করা হয়। পরে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

প্রায় দুই বছর পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর দফা-দফায় ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সাবেক সরকার। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরদিন (৬ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া।

এর আগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর কারারুদ্ধ হন তিনি। পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে কারাগারে যাওয়ার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া শেষবার সংবাদ সম্মেলন করেন। শায়রুল কবির খান উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া সর্বশেষ সমাবেশ করেন ২০১৭ সালে।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম সরকারের শেষদিকে সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

সেই আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি এক দলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ষষ্ঠ সংসদ গঠন করে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য ষষ্ঠ সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল পাস করা হয়। তবে সেই সংসদ টিকে ছিল মাত্র ১২দিন। সংসদ ভেঙে দিয়ে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে খালেদা জিয়া বিএনপিসহ তাদের জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাতে সফলতা আসেনি।

তখন ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি সংসদে প্রতিনিধিত্ব হারিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে তাঁকে জেলেও যেতে হয়। খালেদা জিয়া বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামী সহ কয়েকটি দলকে নিয়ে চার দলীয় জোট করেছিলেন ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে।

সেই জোট পরে ২০ দলীয় জোট পরিণত হয়। জোটে ইসলামপন্থী দলের সংখ্যা বেশি ছিল। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন সময় অনেক সমালোচনাও হয়েছে।তবে এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার একক দায় নেই বলে মনে করেন লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ।

এরশাদের শাসনামল ছাড়াও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০১৮ সালের আটই ফেব্রুয়ারি। তখন তার ১৭ বছরের সাজা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সম্পর্কিত দুর্নীতির দু’টি মামলায়। তবে দুই বছরের বেশি সময় জেল খেটে অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন। শর্তগুলো ছিল – এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। পরবর্তীতে কয়েক দফায় তার সেই মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এরপর খালেদা জিয়া দৃশ্যমান কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি। গুলশানের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

একপর্যায়ে চিকিৎসকরা জানান, তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছেন। এছাড়া তার ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিস, কিডনি ও হৃদরোগের জটিল সমস্যা রয়েছে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার আবেদন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ায় আইনগত কারণে এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই।

পরে ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে। গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টেই নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখন তাকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে নেয়া হয়েছিলো যাতে ভেন্টিলেটর, ডিফিব্রিলেটর, ইনফিউশন পাম্প ও উন্নত কার্ডিয়াক মনিটরসহ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিলো।

লন্ডনে চার মাস থেকে দেশে ফেরার পরেও খালেদা জিয়াকে কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর তিনি গুলশানের বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর তাকে সীমিত পরিসরে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে যােগ দিতে দেখা গেছে।সবশেষ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। পরে শ্বাসকষ্ট হলে ২২ নভেম্বের তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয়।য়।

বয়স ও অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় নিস্ক্রিয় থাকলেও পাঁচ অগাষ্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা গেলেও, খালেদা জিয়াকে আন্দোলনে যুক্ত সব পক্ষই তাকে সম্মানের চোখে দেখেছে।

দলের ভেতরে বিএনপি তাকে রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবেই সামনে এনেছে সব সময়। সবশেষ নভেম্বেরর শুরুতে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে খালেদা জিয়াকে তিনটি আসন থেকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মমতাময়ী খালেদা জিয়ার বিদায়

আলমগীর মতিন চৌধুরীঃ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন মমতাময়ী বেগম খালেদা জিয়ার চির বিদায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও রাজনীতির এক দীর্ঘ প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান হলো আজ। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন। ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা তাকে রাজনীতির মূলস্রোতে নিয়ে আসে। তার রাজনীতিতে আগমন কোনো পরিকল্পিত প্রস্তুতির ফল ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর দল ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধই তাকে এই পথে নিয়ে আসে। সেটাও এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ নিজেই ভিন্নমত ও গণতন্ত্র পরিচালনার ভাষা শিখছিল। পুরুষ প্রধান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী নেতৃত্ব যখন ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হতো, তখন খালেদা জিয়া কেবল লোক দেখানো প্রতীক হয়ে থাকেননি। তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, শাসন করেছেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সময়ে দেশের ভার বহন করেছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল বিকাশমান এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র ও দৃশ্যমান। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন ভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো তার সময়েই দৃশ্যমান হয়। সবসময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল অটুট থেকেছে, বিরোধী অবস্থায় পুনর্গঠিত হয়েছে। নিপীড়নের মুখেও তিনি ছিলেন দৃঢ়। খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা যুগিয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি আজ গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা যুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তার অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়। বিশেষ করে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বাড়ি থেকে উৎখাত করেছে, গৃহবন্দি রেখেছে, এমনকি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত করেছে। যা তার দল ও দেশের মানুষ সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেছেন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি চলে যাবেন। কিন্তু তিনি যাননি। তিনি দেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, এটি ছিল তার ঘর। দেশের মানুষ ছিল তার আপন মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন, এখান থেকেই তার সবকিছু শুরু এবং প্রয়োজনে এখানেই শেষ হবে। নীতিনির্ধারণ ও ক্ষমতার বাইরেও তার জীবনের শেষ অধ্যায় বহন করে গভীর বার্তা। দীর্ঘ অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতায় কাটানো সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কঠোর বাস্তবতাকে সামনে আনে। তিনি দশকের পর দশক সংঘাতের ভেতর দাঁড়িয়ে থেকেছেন। নিজের কাঁধে একসঙ্গে বহন করেছেন প্রশংসা ও নিন্দা, আনুগত্য ও অভিযোগ। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। সারাদিনের ভোট শেষে রাস্তার চারপাশে উত্তেজনার ঢেউ। একটি ঘোষণার অপেক্ষায় সারা দেশের মানুষ। তাদের চোখ টেলিভিশনের পর্দায়, মনোযোগ রেডিওর স্পিকারে। অপেক্ষা শেষে এলো সেই ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী। বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া, যিনি মাত্র সাত বছর আগে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রতিযোগিতা মূলত ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। দুটি দলই দীর্ঘ এক দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল। সেই আন্দোলনের ফলেই মাত্র কয়েক মাস আগে সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রপতিতে রূপান্তরিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার মতো তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেননি। আর সেই সিদ্ধান্তই তাকে প্রতিষ্ঠিত করে আপসহীন নেত্রী হিসেবে এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে। রাজনীতি খালেদা জিয়া সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ, তারপর সংকট, কারাবাস, অসুস্থতা পেরিয়ে তিনি দল-মত নির্বিশেষে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান অর্জন করেছেন। ইতিহাস তার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করবে। ইতিহাস কখনোই সর্বসম্মত হয় না। কিন্তু, কখনোই অস্বীকার করা যাবে না আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক নির্মাণে খালেদা জিয়ার ভূমিকা, নেতৃত্বে তার অবদান এবং শিক্ষা, শাসন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় খালেদা জিয়ার উন্নয়নের স্থায়ী ছাপ। বাংলাদেশ বহু শাসক দেখেছে, কিন্তু খুব কম নেতাই ছিলেন যারা রাষ্ট্রের সঙ্গে এত গভীরভাবে একাকার হয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তাদের একজন। তার জীবন ও নেতৃত্ব আরাম-আয়েশ বা ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে নয়, গড়ে উঠেছে সংঘাত, সহনশীলতা, পরিপক্বতা ও পরিণতির ভেতর দিয়ে। পরিকল্পনা সেবার বিস্তারে খালেদা জিয়ার কথা ভুলবার নয়। অর্থনৈতিক শাসনে খালেদা জিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানগুলোর একটি ছিল মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন ও বিস্তার। তার সরকারের সময়েই ভ্যাট আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ কাঠামোয় নিয়ে আসে। তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির সম্প্রসারণে তার সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে পোশাক খাতের অবস্থান সুদৃঢ় হয় ও দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়। দারিদ্র্য বিমোচন খালেদা জিয়ার সরকারের অবদানও উল্লেখযোগ্য। নব্বইয়ের দশকে দারিদ্র্যকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ করে দেন তিনি। ক্ষুদ্রঋণ, আয়বর্ধক জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাষ্ট্র ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার সুযোগ তার সময়ই সৃষ্টি হয়। ইতিহাস যখন তাকে স্মরণ করবে, একটি সত্য উজ্জ্বল হয়ে উঠবে প্রকৃত নেতৃত্ব ভয়, বলপ্রয়োগে গড়ে ওঠে না, বরং মানুষের প্রতি বিশ্বাসে গড়ে ওঠে। যখন আপনি তাদের শক্তি, স্বপ্ন ও মর্যাদায় বিশ্বাস রাখেন, তখন দেশের জনগণও আপনাকে বিশ্বাস করে। এটাই একজন অসাধারণ নেতাকে আলাদা করে তোলে। বেগম ব্যক্তি চরিত্র বিশ্লেষণে খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিখুঁত ছিল না, বিতর্ক অভিযোগ ও ভুল ছিল। তবুও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্ব মানে অধ্যবসায়, অভিযোজন ও প্রতিকূলতার মুখেও মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মজীবন আপসহীন নীতির গুরুত্বও চরিত্রের বিশেষ দিক। ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে তিনি রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারের আপসহীন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন। খালেদা জিয়া অন্যান্য শাসকদের থেকে আলাদা। কারণ, তাকে কখনো স্বৈরাচার বলা হয়নি। তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি যে আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেখানে কখনো পরাজিত হননি। বগুড়া থেকে ঢাকা, খুলনা থেকে ফেনী বিভিন্ন আসনে তার জয় প্রমাণ করে দেশের সর্বত্র তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা। তিনি গ্রেপ্তার, অসুস্থতা, কারাবাস ও নির্বাসনের প্রচেষ্টা সহ্য করেছেন, তবুও বারবার দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে ফিরে এসেছেন। দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। সর্বপরি বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ দেশ জাতি ও রাজনীতির কাছে অনুকরণীয় অনুস্মরনীয় হয়ে থাকবে। হে, বঙ্গ জননী, ব্যথা ভরা হৃদয়ে-
ঝরছে শোক অশ্রুধারা। তোমার বিদায় বেলা, কাতরে হাসেনি রবি- তাই আকাশ মেঘলা। জগতজুড়ে তুমি মহান, তুমি ছিলে আছো থাকবে-তুমি চির অম্লান।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তা*য় থাকবে ১০ হাজার পুলিশ!

বিশেষ প্রতিনিধি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার দুপুরে জানাজার আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে নেওয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে নেওয়ার সময় মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় ১০ হাজার পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মাঠে থাকবেন বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনীর সদস্যও দায়িত্বে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও কূটনীতিকেরা উপস্থিত থাকবেন। কিছু দিন আগে সংসদ ভবন এলাকায় বড় একটি জানাজা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জানাজা আরও অনেক বড় আকারে হবে। সে আলোকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। বেশিরভাগ বিশ্ব মিডিয়ায় প্রধান খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে খবরটি। কোন কোন সংবাদমাধ্যম একাধিক প্রতিবেদন করেছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখন পর্যন্ত দুইটা প্রতিবেদন করেছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে। একটির শিরোনাম-‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ আরেকটি খবরের শিরোনাম- ‘খালেদা জিয়া : নিহত এক নেতার বিধবা স্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।’

প্রতিবেদন দুটিতে বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি তার জন্ম, রাজনীতিতে প্রবেশ ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বলা হয়েছে, বেগম জিয়া প্রথমবার জনসমক্ষে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে। ১৯৮১ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার স্বামী নিহত হওয়ার পর, খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে উঠে আসেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুইটি প্রতিবেদন করেছে। একটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ অপরটির শিরোনাম-‘খালেদা জিয়া : বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী— ক্ষমতা ও প্রতিরোধে ভরা এক জীবন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে—যা তখন ছিল ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ; বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল।

তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি এর আগে বর্তমান ভারতের জলপাইগুড়িতে চা ব্যাবসা করতেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পরিবারসহ পূর্ববঙ্গে চলে আসেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হয়।

রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ কোনও আগাম উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয় বরং একটি গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েই ঘটে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক বিদ্রোহের সময় তার স্বামী এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং পরে নির্বাচনে বিজয়ী হন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই, ১৯৮২ সালের মার্চে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কোনও রক্তপাত ছাড়াই এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশে সামরিক আইন জারি করেন।

এই অস্থির প্রেক্ষাপটেই—যখন আবারও সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হয়— খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো অন্যতম প্রধান বেসামরিক নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি তিনবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিলো। আরও বলা হয়, ২০০৬ সালের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এবং কয়েক বছর কারাবন্দি বা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটালেও খালেদা জিয়া ও তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন ধরে রেখেছিল।

এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকেই সম্ভাব্য বিজয়ী এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত সপ্তাহে দেশে ফেরার বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুইটি প্রতিবেদন করেছে। একটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।’ অন্যটির শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জন্ম থেকেই। কারণ তিনি ১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য সেসময় জলপাইগুড়ি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি -অবিভাজ্য দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত ছিল। দেশ ভাগের পর, তার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থানান্তরিত হন। তিনি প্রথমে দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে ১৯৬০ সালে দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের শিরোনাম-‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ হাসিনার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।

সিএনএনের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।’

এছাড়া পাকিস্তানের জিও নিউজ, ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমসসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদটি।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

আশুলিয়া ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি রাজু আহমেদ আটক

শহিদুল্লাহ সরকার:

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি রাজু আহমেদ কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯শে ডিসেম্বর অভিযান চালিয়ে তাকে রাজধানী দারুসসালাম থেকে আশুলিয়া থানার পুলিশ ও ঢাকা উত্তর ডিবি পুলিশ
তাকে আটক করেন ! আটককৃত রাজু আহমেদ (৪২) আশুলিয়ার গৌরীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামরে ছেলে! অভিযুক্ত রাজু আহমেদ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতা! এই
রাজু আহমেদ এর বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে! আসামী রাজুকে ৩০শে ডিসেম্বর দুপুরে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়!

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া, দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত

নুরুজ্জামান সবুজ:

বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার ভোরে যখন কুয়াশাভেজা প্রকৃতিতে ফজরের আজান ধ্বনিত হচ্ছিল, এর ঠিক কিছু পরেই মুত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ছিল এক যুগ-নির্ধারণী বাস্তবতা। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেন দলের নেতা-কর্মীরা।

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর বাজারে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদের পর থেকেই কার্যালয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র কোরআন খতম। এতে দলের নেতা-কর্মীরাসহ স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, আজ আমরা আমাদের মাকে হারিয়েছি। তিনিই একমাত্র আপসহীন নেত্রী ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা, অবরোধ এবং দীর্ঘ কারাবন্দী জীবনের মধ্য দিয়েও খালেদা জিয়া দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়ে গেছেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তাকে যেন তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। এই শোক আমরা সইতে পারছি না। দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা নানা কর্মসূচি পালন করছি। খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

খালেদা জিয়ার মৃ*ত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ শাকিব খানের

বিনোদন: মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় মৃত্যু হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার। শোকে মুহ্যমান দেশ। বেগম জিয়াকে হারানোর বেদনা নাড়িয়েছে ঢালিউড শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকেও।

সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন শাকিব খান। বেগম জিয়ার একটি ছবি শেয়ার করে নিজের ফেসবুকে এক শোকবার্তা দিয়েছেন শাকিব খান।

নিজের ওই ফেসবুক পোস্টে শাকিব লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

এর আগে বেগম জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে অপু বিশ্বাস লেখেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় যেন মহাকালের সাক্ষী হয়ে রইলো। একজন মহিয়সী নারীর প্রস্থান যেন যুগে যুগে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় লেখা থাকবে। বিনম্র শ্রদ্ধা।’

অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন খালেদা জিয়া। ভুগছিলেন শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায়। এভার কেয়ার হাসপাতালে ছিলেন চিকিৎসাধীন। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এ নেত্রী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারেক রহমানকে শোক প্রকাশ করে চীনা রাষ্ট্রদূতের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তারেক রহমানকে পাঠানো চিঠিতে ইয়াও ওয়েন বলেন, গভীর দুঃখ এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি বিএনপির চেয়ারপারসন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার প্রিয় মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যথাক্রমে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করেছেন এবং স্বাধীনতার একজন অবিচল সমর্থক হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তার নেতৃত্ব জাতির ইতিহাস গঠনে সাহায্য এবং জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি চীনা জনগণের একজন প্রিয় বন্ধুও, যার অবদান আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর স্থায়ী চিহ্ন রেখে গেছে। চীনা জনগণ সর্বদা তাকে গভীর কৃতজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আপনার নেতৃত্বে বিএনপির সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘস্থায়ী এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। অনুগ্রহ করে আবারও আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার চির শান্তি কামনা করি। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রতি তার অবদান চিরস্মরণীয় হোক।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রশংসায় ভাসছেন ডাঃ লুসিখান

মো: জহির উদ্দিন বাবর: চট্টগ্ৰাম মহানগর বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সহ সম্পাদিকা ডাঃ লুসিখান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ব্যানারে ধানের শিষ প্রতিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬–এর চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচন করবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্ৰহ করে ছিলেন। নারী নেত্রিত্বের তুমুল জনপ্রিয়তায় থাকা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র এই নেত্রী হঠাৎ কেন তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে ফিরে আসলেন এমনটা তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি জানান বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চূড়ান্তভাবে দল মনোনয়ন প্রদান করেছেন তাই আমি, ডাঃ লুসি খান, দলের প্রতি গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও ঐক্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছি এবং আমার সকল শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা সবাই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি এবং দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে তারেক জিয়ার হাতকে আরো শক্তিশালী এবং বেগবান করি।নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এক থাকি। ধানের শীষে ভোট দেই। সময়ের ক্রান্তিলগ্নে এসে আজ জাতীয় দূর্ভোগ লাঘবে দেশ গঠনে ধানের শীষ প্রতীকে অধিকার বঞ্চিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ নিজেকে নিয়োজিত রেখে জনগণের পাশে দাড়াই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি